শনিবার- ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসন

নোমানপুত্র সাঈদের সঙ্গে লড়াইয়ে জামায়াতের হেলালী

নোমানপুত্র সাঈদের সঙ্গে লড়াইয়ে জামায়াতের হেলালী

বিএনপির বর্ষিয়ান প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের পূত্র সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। একদিকে প্রয়াত বাবার উৎকর্ষতা, অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত তিনি।

অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট এর সাথে আছে এমফিল ডিগ্রিও। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এলাকার মানুষ যাকে বিবেচনা করছেন তিনি হলেন জামায়াতে ইসলামীর শামসুজ্জামান হেলালী। তিনি স্নাতকোত্তর স¤পন্ন করা সাবেক শিক্ষক, কিন্তু বর্তমানে ব্যাবসায়ী। সংসদ সদস্য পদে হেলালীও প্রথমবার, তবে ভোটের মাঠে নতুন নন তিনি। তিনি আগে একবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের শুলকবর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান উচ্চশিক্ষিত সাঈদ আল নোমান ভোটের মাঠে প্রথমবার। প্রথমবার হলেও নির্বাচন নিয়ে একেবারে অনভিজ্ঞ নন সাঈদ আল নোমান। চট্টগ্রামে একসময়ের বিএনপির কান্ডারি প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান তার বাবা। সন্তান হিসেবে বাবার রাজনীতি ও ভোটের মাঠে ছায়াসঙ্গী হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তার ঝুলিতে।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী আছেন আরও ৭ জন। এরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. লিয়াকত আলী, বাসদ (মাকসবাদী) আসমা আক্তার এবং স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আরমান আলী।

আরও পড়ুন :  চাপ না কাটতেই ফের লাগাতার কর্মবিরতির ডাক

তবে সমানতালে নির্বাচনি প্রচার চোখে পড়ছে চার প্রার্থীর। এরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকের সাঈদ আল নোমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শামসুজ্জামান হেলালী, হাতপাখা প্রতীকের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম এবং কাঁচি প্রতীকের আসমা আক্তার। ভোটারদের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের জান্নাতুল জামায়াতের ভোটে ভাগ বসাতে পারেন, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

গণসংযোগে, পথসভায়, বক্তব্য-বিবৃতিতে সাঈদ আল নোমানের ভাষা, শব্দচয়ন গতানুগতিক নয়। প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণ করে কিছু বলতে শোনা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও বিশ্বমানের নগরীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করছেন। পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার স্বপ্নের কথাও বলছেন।

আবার বিভিন্ন সভা বাবা আবদুল্লাহ আল নোমানের চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে বাবার পথে হাঁটার কথাও বলছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা থেকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে নিজের কাজগুলোও তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে।

সাঈদ আল নোমান বলেন, ২০০৩ সালে আমার বাবা আবদুল্লাহ আল নোমান যখন মন্ত্রী ছিলেন, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে কেবিনেট মিটিংয়ে বাণিজ্যিক রাজধানীর ১৬ দফা পেশ করেছিলেন। দেশনেত্রী চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন।

আরও পড়ুন :  পোড় খাওয়া শাহজাহানের বিপক্ষে লড়ছেন নবাগত নাজমুল

কিন্তু গত ২২ বছরে আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দেয়ার জন্য আমি কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আমার সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা আছে। আমি ভোটারদের কাছে আমার পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরছি। আশা করছি, তারা আমার পক্ষে রায় দেবেন।

সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামের বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পড়ালেখা করেছেন আমেরিকার সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। নিয়েছেন এমফিল ডিগ্রিও।

জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী জোর দিচ্ছেন এলাকার স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দিকে। বেকারত্ব দূর করা, তরুণদের জন্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টি, এলাকায় হাসপাতাল করা, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থেকে এলাকাকে মুক্ত রাখা, এসব বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে তার বক্তব্যে।

শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য মানুষ অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে একজোট হয়েছে। ইনশাল্লাহ এবার চট্টগ্রাম-১০ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় সুনিশ্চিত।

আর শামসুজ্জামান হেলালী নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় পড়ালেখা স্নাতকোত্তর উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী এবং তিনি আগে শিক্ষকতা করতেন বলেও উল্লেখ করেছেন। অবশ্য হেলালী নামের আগে অধ্যক্ষ ব্যবহার করেন।

অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট সাঈদ আল নোমান না কি সাবেক শিক্ষক শামসুজ্জামান হেলালী চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে কে যাচ্ছেন সংসদে, তা নিয়ে কৌতুহল আছে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে। নগরীর হালিশহর এলাকার ভোটার মহিউদ্দিন তালুকদার বলেন, নোমানপূত্র উঠতি তরুণ নেতা। রক্ত ফ্রেশ, কোন ভেজাল নাই। তাছাড়া বাবা আবদুল্লাহ আল নোমানও ছিলেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। চট্টগ্রামে এমন নেতা আর নেই। আমরা তার পুত্র সাঈদকে বাবার মতো দেখতে চাই। সে হিসেবে এবার তার জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন :  হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ধানের শীষ-দাঁড়িপাল্লা

তিনি বলেন, জামায়াত প্রার্থী সামশুজ্জামান হেলালীও কোন অংশে কম নয়। অতিতে কোন সময় কোনরকম খারাপ কাজে লিপ্ত হতে দেেেখনি এলাকার মানুষ। তিনিও স্বচ্ছ রাজনৈতিক। এত স্বচ্ছ প্রার্থী চট্টগ্রামের আর কোন আসনে নেই। সে হিসেবে মানুষ এলাৃকার ভোটাররা এবার সামশুজ্হামান হেরালীকেও ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে পারেন।

নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১০ আসনটি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নোমানের মৃত্যুর পর এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সেই আসনে ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন সাঈদ আল নোমান। এ আসনে ৪ লাখ ৮৬ হাজারের মতো ভোটার রয়েছে।

ঈশান/বেবি/খম

আরও পড়ুন