শনিবার- ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যায় গ্রেপ্তার ৫, বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে

ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যায় গ্রেপ্তার ৫, বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে

রাজধানীতে চাঁদা না দেওয়ায় লাল চাঁদ সোহাগ (৪৩) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে, মাথা ও বুকে পাথর মেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। সেদিনই পুলিশ যুবদল নেতা মঈনসহ দু‘জনকে আটক করে। পরে এ ঘটনায় জড়িত আরও তিন যুবদলকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে বলে জানান রাজধানীর লালবাগ থানার ওসি।

লালবাগ থানার ওসি বলেন, ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দু‘পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার পর পুলিশ মঈন ও জনিসহ পাঁচ জনকে আটক করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন :  ৩৬ বছর পর ১২ অক্টোবর চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন

নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা করতেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যবসায়ীর পরনের কাপড় খুলে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে মাথায় ও বুকে পাথর মেরে হত্যা করে অভিযুক্তরা।

এদিকে এই হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।শনিবার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন।

আসিফ নজরুল লেখেন, মিটফোর্ডের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন :  রাজপথে চুয়েট শিক্ষার্থীরাও

দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ এর ধারা ১০ এর অধীনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

নিহত সোহাগের বন্ধু মামুন বলেন, দু-তিন মাস ধরে মঈন প্রতি মাসে চাঁদা দাবি করত সোহাগের কাছে। সোহাগ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিছুদিন আগে দোকানের সামনে এসে তাকে ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দিয়ে চলে যায়। বুধবার সন্ধ্যায় সোহাগকে একা পেয়ে মঈনসহ ৪-৫ জন মিলে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আরও পড়ুন :  জাহাজে লুকিয়ে বিদেশ যাত্রার চেষ্টা, যুবক আটক

নির্যাতনের সময় তারা তার পরনের পোশাকও খুলে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমরা কেউ ভয়ে এগিয়ে যেতে পারিনি। কারণ মঈন যুবদলের চকবাজার থানার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তার বিরুদ্ধে মিটফোর্ড হাসপাতালের ফুটপাত ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগেও মোটা অঙ্কের ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাব্বি জানান, তিনি মঈনকে চিনেন। মঈন যুবদলের সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে চকবাজার থানায় যুবদলের কোনো কমিটি নেই। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মঈন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঈশান/খম/সুম

আরও পড়ুন