মঙ্গলবার- ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উপড়ে ফেলা হবে

চট্টগ্রামে র‌্যাব মহাপরিচালক

সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উপড়ে ফেলা হবে

ট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্যকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নয়। সলিমপুওে গড়ে তোলা সন্ত্রাসীদের অবৈধ আস্তানা যে কোনোমূল্যে উপড়ে ফেলা হবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদর দফতরে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এ কথা বলেন। সেখানে নিহত র‌্যাব সদস্যের নামাজে জানাজা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের একটা আড্ডাখানা, একটা আখডায় পরিণত হয়েছে। এটি আমরা খুব শিঘ্রই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, এখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আছে, তাদের আমরা নির্মূল করবো। এই অবৈধ কর্মকান্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেব। এটুকু আমরা আপনাদের কথা দিতে পারি।

তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যতগুলো বাহিনী আছে সেনাবাহিনীসহ, আপানারা জানেন সেনাবাহিনী এখন মাঠে দায়িত্বরত আছে। সুতরাং সকল বাহিনী- সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, জেলা পুলিশ সবাই মিলেৃ আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অলরেডি যোগাযোগ করেছি, এখানে এই যে একটা অভয়াশ্রম তৈরি হয়েছে সন্ত্রাসীদের, এই জায়গাগুলো যদি সরকারি জায়গা, সরকার যেন তার এই জায়গা উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সেখানে যত সময় লাগে এবং যতদিন লাগে, এই সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম সেটাকে আমরা নির্মূল করব। এ জন্য আমাদের যতদিন যে প্রক্রিয়া লাগে, যা কিছু লাগেৃ। কারণ তারা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী না, এটা আমাদের বুঝতে হবে। এতদিন এটা করা হয়নি, বাট এবার ইনশল্লাহ এই সন্ত্রাসীদের যে অভয়াশ্রম এটা আমরা নির্মূল করব ইনশাল্লাহ।

স্বল্প জনবল নিয়ে অভিযানে যাওয়া এবং কৌশলগত কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের জনবল একেবারে কম ছিল না। পঞ্চাশ জনের ওপরে সদস্য ছিল এবং আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে ওখানে আমাদের অপারেশন সফলভাবে স¤পন্ন করা যাবে, এ ধরনের একটি ধারণার বশবর্তী হয়েই কিন্তু অভিযানটা পরিচালনা করা হয়েছিল। একটা তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবে যে অভিযানে কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না। যদি কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া যায় তাহলে সেটা কারেকশন করে ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালোভাবে, আরও দৃঢ়ভাবে, আরও সফলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করব।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গারদ রাজ্য জঙ্গল সলিমপুর!

রাইট অব প্রাইভেট ডিফেন্সে আমাদের অধিকার ছিল সন্ত্রাসীদের গুলি করা। কিন্তু আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সেখানে হয়তো আরও ক্যাজুয়ালিটির আশঙ্কা ছিল, আমাদের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের দিকে গুলি ছুঁড়লে সাধারণ জনগণও আহত-নিহত হওয়ার আশঙ্কার কারণে হয়তো তারা গুলি করেনি। তবে আমরা পুরো অভিযানটি একটি এনকোয়ারি করে দেখব যে এখানে আমাদের কোনো ভুলত্রুটি আছে কী না। ভুলত্রুটি থাকলে সেগুলো সংশোধন করে ভবিষ্যতে আমরা আর সফলতার সঙ্গে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করব।

রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে মাইকে ঘোষণা এবং হামলকারীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে তিনি বলেন, র‌্যাব কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল। এই সন্ত্রাসীরাই র‌্যাবের ওপর আক্রমণ করেছে। আমরা তাদের নাম পেয়েছি এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা পুরো বিষয় তদন্ত করব। একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে এবং সেই মামলার তদন্ত হবে। তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকান্ড এবং র‌্যাবের ওপর আক্রমণ, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাদের পাওয়া যাবে, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। মামলার যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা, বিষয়টি (রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা) তারাই বলতে পারবেন যে কারা কারা স¤পৃক্ত আছে। ইনশাল্লাহ খুব শিগগিরই এটা বেরিয়ে আসবে কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন :  সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত হলো ভাসানচর

নিহত মোতালেবের পরিবারের পাশে র‌্যাব থাকবে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, শহিদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার স্ত্রী স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানরা পিতা হারিয়েছেন। আমরা সেই পিতা বা স্বামীকে এনে দিতে পারব না। তবে আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই, এই পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করলাম। এই পরিবারের সঙ্গে আমরা থাকব, মোতালেবের অবর্তমানে তার পরিবার যেন কোনো ধরনের কষ্ট স্বীকার না করে, যদিও আমরা পিতা বা স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। আমরা এই পরিবারের সঙ্গে ইনশাল্লাহ আছি।

সুবেদার মোতালেব শহিদ হলেন, এর জন্য যারা দায়ী তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। আমরা তাদের জুডিশিয়াল প্রসেসে, বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে তাদের সাজা নিশ্চিত হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করবো যে কোনো মূল্যে। আমি কথা দিতে চাই, মামলার বিচারের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন পুরো বিষয় মনিটরিং করবে। আমরা বিচারের রায় পর্যন্ত এটা মনিটর করব এবং বিচার নিশ্চিত করব। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব। আবারও আশ্বস্ত করতে চাই, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যস্ত এর পেছনে লেগে থাকবে।

তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের ৭৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। সেই সংখ্যা আজ আরও একজন বাড়ল। আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, এ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, অপরাধ দমনের জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব, আমরা সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করব। যে কোনো ঝুঁকি নিয়ে হলেও আমরা দেশবাসীর নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাব।

আরও পড়ুন :  সিএমপির তালিকার এক নম্বর সন্ত্রাসী পিচ্চি জাহেদ গ্রেফতার

আপনারা জানেন, আমরা জুলাই-আগস্টের পরে গত দেড় বছরে অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছি, অনেক অস্ত্র উদ্ধার করেছি। প্রত্যেকটা অভিযানের পেছনেই কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকিগুলোকে মোকাবিলা করেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। হয়তো দুয়েক ক্ষেত্রে দুয়েকটি ব্যতিক্রম হয়। এই ঘটনাটাও সেরকম। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, র‌্যাব এ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, এ দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য, অপরাধ দমনের জন্য অন্যান্য যে নিয়মিত বাহিনী আছে, তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে।

ভবিষ্যতে র‌্যাবের কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই, এ দেশের জনগণ এবং সাংবাদিকরা, আমাদের কার্যক্রমে সবসময় আপনারা সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে আশা করি এবং আপনাদের সহযোগিতা নিয়েই আমরা এ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার কাজে নিয়োজিত থাকব এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে স¤পন্ন হয়, আমরা সর্বশক্তি দিয়ে সেই কাজ করে যাব।

জানাজার আগে, নিহত মোতালেবের স্ত্রী এবং এক ছেলে ও দুই মেয়ে র‌্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের সান্তনা দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোতালেবের স্ত্রী-সন্তানেরা। তারা হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যাওয়া র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এতে র‌্যাব সদস্য বিজিবির নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (৪৮) নিহত হন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। একই হামলায় আরও তিনজন র‌্যাব সদস্য আহত হন। তারা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঈশান/মম/মউ

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page