শনিবার- ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সুফি মিজানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সুন্নি জনতা

সুফি মিজানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সুন্নি জনতা
print news

সলামের সুফিতাত্বিক মরমী গবেষক, বিশিষ্ট শিল্পপতি, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রামের সুন্নি জনতা মাঠে নেমেছে। তারা মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেছেন।

বুধবার (৭ মে) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুফি মিজানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ আনা হয়। মিথ্যা মামলায় বিশিষ্ট শিল্পপতিকে হয়রানি করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ সময় মিথ্যা, বানোয়াট এবং কাল্পনিক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টাসহ সরকারের সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী, মুফতি অছিয়র রহমান, পিপলস ইন্সুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল মোস্তফা, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ একরামুল করিম, শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের অর্থ সম্পদক আবদুল হাই মাসুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেস ক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়। সর্বস্তরের সুফিবাদী সুন্নি জনতা বাংলাদেশ-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে বসছে দু‘দিনের বৈশাখী মেলা, শেষের দিন জব্বারের বলীখেলা

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শিল্পবিপ্লবের পথিকৃৎ, একুশে পদকে ভূষিত শিল্পপতি সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শুধু সফল শিল্পপতি নন, তিনি সুফিবাদী ধার্মিক সুন্নি মুসলমান। সম্পদ তাকে অহংকারী করেনি বরং সম্পদ তাকে বহু গুণে করেছে সহনশীল, নম্র, পরোপকারী এবং দানশীল। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে সৎ, দুর্নীতিমুক্ত ব্যবসায়ী সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং এবং বীমা সেক্টরে পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের চেক কখনো ডিজঅনার হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, ব্যাংক ও ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর থেকে নেওয়া ঋণে এ পর্যন্ত খেলাপী গ্রাহক হওয়ার নজির নেই তার। সুফি মিজান বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে এমন বিরল নজির স্থাপন করেছেন, যা সর্বস্তরের ব্যাংকারদের মুখে মুখে সমাদৃত। তাঁর উপস্থাপিত ইসলামের আদর্শিক শিক্ষা, সংস্কৃতির প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে এবং চরিত্রমাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে দেশে এবং বিদেশে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পিএইচপি কুরআনের আলো, আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক শাহাদায়ে কারবালা মাহফিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ইসলামের শাশ্বত আদর্শ, মৌলিক ঈমান, আক্বীদাহ, নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি। তার বহুমুখী এবং বহুমাত্রিক অবদান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত।

আরও পড়ুন :  চউক চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

সুফি মিজান বহু মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, হিফযখানা, ইয়াতীমখানাসহ অসংখ্য শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, সংস্কার এবং সম্প্রসারণে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। রাজধানী ঢাকায় ইউআইটিএস এবং নারায়নগঞ্জের কাঞ্জনে দুস্থ অসহায়দের কল্যাণে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে এবং গোপনে অগণিত শিক্ষার্থীর পড়ালেখার খরচ বহন করেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, কিডনি ফাউন্ডেশনসহ জনহিতকর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার অসাধারণ অবদান রয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মিজানুস সালাম জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে তা পরিচালনায় যাবতীয় ব্যয় বহন করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় মিশর জামিউল আযহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান করেন এবং এতে ভর্তিচ্ছু বাংলাদেশী ছাত্রদের প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারসহ আরবি ভাষা ও সাহিত্যে যোগ্যতা এবং দক্ষতা অর্জনে মিজানুস সালাম আরবি ভাষা এবং ইফতাহ কোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রতি বছর অনেককে পবিত্র হজ, উমরাহ এবং মদীনাহ মুনাওওয়ারাহ যিয়ারতের ব্যবস্থা করেন এবং বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে থাকেন।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল

করোনা মহামারীকালে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং তাদের পরিবারে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করেন জানিয়ে অধ্যাপক কামাল বলেন, তখন এ নাজুক পরিস্থিতি ও প্রতিকূল অবস্থায় তিনি কাউকে তার প্রতিষ্ঠানের থেকে চাকরিচ্যুত করেননি। বন্যাদুর্গত মানুষদের নিজের কারখানায় আশ্রয় দিয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ তহবিলেও দান-অনুদান প্রদান করেন।

সুফি মিজানকে দেশের শিল্প বিপ্লবের অন্যতম পথিকৃৎ উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিল্পায়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু পুরষ্কার, সনদ এবং সম্মাননা লাভ করেছেন। দেশে-বিদেশে বহু খানকাহ-আস্তানা, দরগাহ-দরবার, উলামা-মাশায়িখ এবং সুফি-দরবেশদের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে অর্থায়নের অভিযোগে চট্টগ্রামের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমানসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ২০১ জন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিনেতা, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, অধ্যাপকসহ মোট ২০১ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ঈশান/খম/সুম

আরও পড়ুন