শুক্রবার- ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে বসছে দু‘দিনের বৈশাখী মেলা, শেষের দিন জব্বারের বলীখেলা

চট্টগ্রামে বসছে দু‘দিনের বৈশাখী মেলা, শেষের দিন জব্বারের বলীখেলা
print news

ট্টগ্রামে বসছে দু‘দিনের বৈশাখী মেলা। যার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ ও ২৫ এপৃল। আর শেষের দিন অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলা। এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী মাঠে। আর লালদিঘীর চারপাশ ঘিরে বসবে বৈশাখী মেলা।

শুক্রবার (১৭ এপৃল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, মেলা আর খেলায় আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বৃহ¯পতিবার (১৬ এপৃল) বিকেলে আমরা একটি সমন্বয় সভা করেছি।

সভায় বর্তমান জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে অস্থিরতা ও ২১ এপৃল থেকে হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে ২৪ ও ২৫ এপৃল দু‘দিনের বৈশাখী মেলা ও শেষের দিন লালদিঘীর মাঠে ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলা অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এটি হচ্ছে আব্দুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর।

তিনি বলেন, ২৬ এপৃলও এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। মেলার কাছেই চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল, কলেজিয়েট হাই স্কুল এবং খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে ২৫ এপৃল দিনগত রাতের শেষভাগে বৈশাখী মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল

সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় থাকছে ওয়াচ টাওয়ার, ফুট পেট্রোল, রুফটপ নজরদারি ও সিসিটিভি মনিটরিং। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ডগ স্কোয়াড (কে-নাইন), সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, কুইক রেসপন্স টিম এবং বিশেষ রিজার্ভ পুলিশ।

মেলা এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অশ্লীল গান-বাজনা কিংবা জুয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেলার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সিএমপি সদর দপ্তর থেকে জেলা পরিষদ মার্কেট হয়ে সিনেমা প্যালেস এবং কোতোয়ালী থানা সড়ক পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া মেলা এলাকায় ড্রোন ওড়াতে হলে আগে থেকেই পুলিশের অনুমতি নিতে হবে।

এছাড়া স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে বৈশাখের এই গরম হাওয়ায় মেলা ও বলীখেলায় আগত দর্শকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল টিম রাখা হচ্ছে। এছাড়া অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট লালদিঘী মাঠে প্রস্তুত থাকবে।

আরও পড়ুন :  চউক চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

সমন্বয় সভায় আব্দুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, র‌্যাব ও সিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আব্দুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলা চট্টগ্রামের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ১৩১৬ সনের ১২ বৈশাখ লালদিঘীর মাঠে এই বলীখেলার সূচনা করেন চট্টগ্রামের বক্সীরহাটের বিশিষ্ট বণিক ও চট্টগ্রাম শহরের বদরপাতির বাসিন্দা আব্দুল জব্বার নিজেই। বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি যুব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি কুস্তি প্রতিযোগীতার প্রবর্তন করেন তিনি। যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বলীখেলা নামে পরিচিত।

সেই থেকে প্রতিবছর লালদিঘী মাঠে এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে করোনা সংক্রমণের সময় দু‘বছর এই আসর বসেনি। বলীখেলার এই আসরকে ঘিরে বসে বৈশাখী মেলাও। শুরুতে পহেলা বৈশাখ থেকে মেলা শুরু বসলেও নানা পরিস্থিতির কারণে সেটার আনুষ্ঠাানিকতা হারিয়েছে। পহেলা বৈশাখ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সেই মেলার আসর বসে স্বল্পপরিসরে। এমন দাবি করেছেন আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল

তিনি বলেন, ৯০-দশকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বলীখেলার একদিন আগে-পরে তিনদিন ধরে লালদীঘির ময়দান ঘিরে আন্দরকিল্লা থেকে কোতোয়ালীর মোড় পর্যন্ত আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে বসে বৈশাখী মেলা বসত। ব্যবসায়ীরা এ মেলায় অস্থায়ী দোকান বসিয়ে গৃহস্থালি ও রান্নাঘরের বাসন-কোসন, মৃৎপাত্র, খেলনা, মিষ্টি, ঝাড়ু, পাটি, আসবাবপত্র, কাঠ, বাঁশ ও বেতের জিনিসপত্র, গাছের চারা ও মাছ ধরার জালসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প বিক্রি করেন।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাড়াও এই মেলার ব্যবহারিক তাৎপর্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষ রান্নাঘর ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন। মেলায় ভালো বিক্রি হয় বলে সমান আগ্রহ থাকে শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর।

ঈশান?কম/সুম

আরও পড়ুন