বুধবার- ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে ওয়াসিম হত্যা

হাসান মাহমুদ-নওফেলসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

হাসান মাহমুদ-নওফেলসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
print news

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান।

পরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিম, আ জ ম নাছির ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আরও পড়ুন :  রেলওয়ের ৮ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

ওয়াসিম আকরাম কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী শফিউল আলমের ছেলে। তারা দুই ভাই ও তিন বোন। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও একই কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন ওয়াসিম আকরাম। গত ১৮ আগস্ট নিহত ওয়াসিমের মা জোসনা আক্তার বাদী হয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৫ জনসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে হাম

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে নিহত ওয়াসিম আকরাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুরের বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে ছিল। তখন ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলন চলছিল। আন্দোলন চলাকালে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে সারাদেশের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অস্ত্রশস্ত্রসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে মঞ্জুরের বাসায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

ওইদিন বিকেল ৩-৪টায় ওয়াসিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং ওইসময়ে তার ওপর আসামিদের নির্দেশে এবং তাদের মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ ও লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক, কিরিচ এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সমাবেশে আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে আসামিদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে ওয়াসিমের বুকে ও নাভিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশান/মখ/সুম

আরও পড়ুন