মঙ্গলবার- ২৪ মার্চ, ২০২৬

ছাঁটাই ঠেকাতে ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ পরীক্ষা বর্জনের ডাক

ছাঁটাই ঠেকাতে ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ পরীক্ষা বর্জনের ডাক
print news

ছাঁটাই ঠেকাতে বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের হাজারো কর্মকর্তা। সেই সাথে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ব্যাংক কর্মকর্তারা।

পরীক্ষার জন্য মনোনীত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো কর্মকর্তা এই প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশ থেকে তারা প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীককে স্মারকলিপি দেন।

তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন। আগামীকাল শনিবার এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, দেশের বেসরকারি আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম গ্রুপ, যেটি আগে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।

নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এস আলম গ্রুপ ধীরে ধীরে ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করে ও তাদের নিজস্ব লোক হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দারা ব্যাপক সংখ্যক নিয়োগ পান।

আরও পড়ুন :  যুদ্ধের ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস ২৫ জ্বালানিবাহী জাহাজ

এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম পটিয়ায় হওয়ায় ওই এলাকার লোকজনকে নিয়োগে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ইসলামী ব্যাংককে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে।

নতুন পর্ষদ আসার পর সম্প্রতি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তার বিশেষ সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে সিনিয়র অফিসার, অফিসার, অফিসার (ক্যাশ), জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ), অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদের কর্মকর্তারা আছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে নোটিশ জারি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান মানবস¤পদ কর্মকর্তা ড. এম কামাল উদ্দিন জাসিমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষা শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার জন্য মনোনীতদের অভিযোগ, ব্যাংকে ওই পদগুলোতে প্রায় ৮০০০ হাজারের মতো কর্মকর্তা থাকলেও কেবল ২০১৭ সালের পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের পরীক্ষা জন্য সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষার আড়ালে ব্যাংকটিতে কর্মরত চট্টগ্রামের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার অভিযোগ ওঠেছে।

এ অবস্থায় পরীক্ষা বর্জনের ডাক শুক্রবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাংকটির শাখাগুলোতে কর্মরত চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। এসময় পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল শ্রম দিলাম, ঘাম দিলাম, আবার কেনো দেবে টান, পরীক্ষা দেব তখনই, সবাই বসবে যখনই, কর্মস্থলে সুখ মানে শুধু বেতন না, বরং সম্মান, ভারসাম্য ও স্বীকৃতি, একবার দিলাম পরীক্ষা, দুইবার দিতে রাজি না, সিএইচআরও জানেন নাকি, স্বৈরাচারের দোসর আপনি, হাইকোর্ট অবমাননা কেন, জবাব চাই, দিতে হবে-সহ নানা লেখা ব্যানার-ফেস্টুন।

আরও পড়ুন :  কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে মৃত্যুর মিছিল কার অবহেলায়?

সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইস্কান্দার সুজন, এস এম এমদাদ হোসাইন, মোহাম্মদ ইকবাল, দিলরুবা আক্তার, শারমিন আক্তার ও নাসরিন জান্নাত প্রমুখ। এসময় পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বক্তারা জানান, এক মাস আগে এই পরীক্ষার বিরুদ্ধে রিট করলে হাইকোর্ট পরীক্ষা প্রক্রিয়া স্থগিত করেন এবং নিয়মিত প্রোমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু হাইকোর্টের সেই আদেশ উপেক্ষা করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আবারও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। নোটিশে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ চাকরিতে বহাল থাকা ও ক্যারিয়ার উন্নতির পূর্বশর্ত। অনুপস্থিতদের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন :  এপৃলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, আচরণবিধি ও নির্দেশনা প্রকাশ

বক্তারা বলেন, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য কুমন্তব্যপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক। এটি ¯পষ্টভাবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৯ ও ৩১ অনুযায়ী সমতা, সমঅধিকার ও সমান কর্মসংস্থানের নীতির লঙ্ঘন।

বক্তারা বলেন, আমরা সরকারি সকল নিয়ম মেনে ব্যাংকে যোগদান করেছি। যোগদানের পর ব্যাংকের পদোন্নতিসহ নানা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। সেজন্য চাকরি থেকে ছাঁটাই করার এই প্রহসন ও বৈষম্যমূলক পরীক্ষা আমরা দেব না। সারা বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা এই পরীক্ষায় অংশ নেবে না।

সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা। তারা বলেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। সরকার যদি আমাদের দাবির বিষয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আমাদেরও কঠিন আন্দোলনের পথে হাঁটতে হবে। চট্টগ্রাম দেশের ব্যবসার চালিকাশক্তি। সারা বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি অচল করে দিতে আমাদের দুই মিনিটও সময় লাগবে না।

নতুন বাংলাদেশে কোনো প্রহসন-বৈষম্য চলবে না উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় বীর চট্টলার কৃতী সন্তান। চট্টগ্রামের এই সন্তানদের আকুতি আপনাকে শুনতে হবে। আপনি এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আশাবাদী।

ঈশান/মখ/মম

আরও পড়ুন

জনপ্রিয়

You cannot copy content of this page