সাবেক এমপি এম এ লতিফের কাছে দুটি ফ্লোরের তিন বছরের বকেয়া ভাড়া বাবদ সাড়ে ৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার! এই টাকা আদায়ে আইনি নোটিশ দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
মঙ্গলবার (২ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশও দেওয়া হয়। এরপরও বকেয়া ভাড়া আদায় না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে ফ্লোর দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় চট্টগ্রাম চেম্বার।
চট্টগ্রাম চেম্বারের তথ্যমতে, দেশের একমাত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দুটি ফ্লোরে ২৬ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন তো দূরের কথা, তিন বছর ধরে ওই জায়গা ব্যবহার করেও কোনো ভাড়া পরিশোধ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ সেখানে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার কোর্স পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চেম্বার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাড়া পরিশোধ না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন প্রক্রিয়া, অবকাঠামো নির্মাণ, আসবাবপত্র স্থাপন এবং জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্সসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দীর্ঘদিন ফ্লোর দুটি আটকে থাকায় চেম্বার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সচিব নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ আর সেখানে আসেননি। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লোরও বুঝিয়ে দেননি। দীর্ঘদিন ভাড়া বকেয়া থাকায় আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে বকেয়া পরিশোধ না করায় ফ্লোর দুটি চেম্বারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
বকেয়া অর্থ আদায়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সংবেদনশীল। নতুন কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এম এ লতিফ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম চেম্বারে নিজের প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার পর ২০২২ সালে তিনি ‘ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এতে তৎকালীন চট্টগ্রাম চেম্বারের কয়েকজন নেতা, এম এ লতিফের আত্মীয়স্বজন এবং তার তিন ছেলেকে ট্রাস্টি করা হয়।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বার এবং প্রস্তাবিত ‘ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’ বোর্ড অব ট্রাস্টির মধ্যে ভাড়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মোট ২৬ হাজার ২০৬ বর্গফুট জায়গা প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা হিসেবে মাসিক ১০ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। জামানত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া বাবদ ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জমা দেয়।
চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ শেষে ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। চট্টগ্রাম চেম্বারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ছয় লাখ টাকারও বেশি।
এ অবস্থায় ফ্লোর দুটি ফেরত এবং তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া ভাড়া আদায়ে আইনি নোটিশ দেয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে এম এ লতিফের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশের জবাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া ফেরতের দাবিও জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে ’ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’র ট্রাস্টি ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ওমর হাজ্জাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।