
# প্রকাশ্যে কেনা-বেচা চলছে ডিও স্লিপ
# গোপনে দাম বাড়িয়ে চলছে ভোজ্যতেল বিক্রয়
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মিলছে না ভোজ্যতেল। সরবরাহ সংকটের এই সময়ে প্রকাশ্যে কেনা-বেচা চলছে ভোজ্যতেলের ডিও স্লিপ। তবে গোপনে দাম বাড়িয়ে ভোজ্যতেল বিক্রয় করছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানান, ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ পাম তেলের দাম (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) বেড়েছে ৮০০ টাকা এবং সয়াবিনের দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
তবে ভোক্তারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াটা স্বাভাবিক হলেও ভোজ্যতেলের দাম বাড়া স¤পূর্ণ অস্বাভাবিক। অথচ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি করে যাচ্ছেন। আসল কথা হচ্ছে, ভোজ্যতেলের বাজারে প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা প্রায় সময় ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন।
ভোক্তাদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৭ এপৃল) দিবাগত রাতে অভিযানে নেমে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামী ও খুলশী থানা এলাকায় অবৈধভাবে মজুত ও বোতলজাত ২২ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।
বুধবার (৮ এপৃল) এ তথ্য জানান অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব শাহরিয়ার। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টা থেকে বুধবার (৮ এপৃল) ভোর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে বায়েজীদ এলাকার গুলবাগ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আমানত প্যাকেজিং অ্যান্ড মার্কেটিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআইয়ের সিএম সনদ ছাড়া ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল বোতলজাত ও বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এছাড়া পণ্যের মোড়কে অবৈধভাবে মানচিহ্ন ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। প্রতিষ্ঠানের মালিক পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ২২ হাজার লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০ হাজার পিস মোড়ক এবং খালি বোতল জব্দ করে বায়েজীদ থানা পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।
অন্যদিকে খুলশীর দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত মাবিয়া স্টোরে সরকারি লাইসেন্স ছাড়া প্রায় ৫০ ড্রাম ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত রাখার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় খাজা স্টোরে লাইসেন্স থাকলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম ও পরিদর্শক সাইদ আহমেদ তালুকদার প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া র্যাব কর্মকর্তা সাইফুর রহমানসহ সংস্থাটি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দুই সপ্তাহ আগে প্রতি মণ পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৬৫০ টাকায়। সেই তেল মণে ৮০০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়। এছাড়া বর্তমানে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৭ হাজার ৩৫০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে এই তেল বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ১০০ টাকায়।
সূত্র আরও জানায়, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ¯ি¬প। তেল কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে।
দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই ¯ি¬পটি বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কো¤পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজারদর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে।
আবার দেখা যায়, কো¤পানির পণ্য আসেনি, কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলেও কো¤পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়।
খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোজ্যতেলের বাজার এখনো মেঘনা, দেশবন্ধু সিটিগ্রুপসহ গুটিকয়েক শিল্পগ্রুপের কাছে জিম্মি। তারা ইচ্ছেমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এরা সিন্ডিকেট করে দাম ওঠানামা করেন। এখানে ছোট তেল ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকে না। এখন যেমন যুদ্ধের অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করছেন। যা ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব পড়েছে।











































