সোমবার- ২ মার্চ, ২০২৬

সচিবের শ্যালক পরিচয়ে রেলওয়ে গিলে খাচ্ছে সিন্টু

সচিবের শ্যালক পরিচয়ে রেলওয়ে গিলে খাচ্ছে সিন্টু

চিবের শ্যালক পরিচয়ে রেলওয়ের সকল ধরণের কেনাকাটা ও প্রকল্প থেকে কমিশনে এবং বদলি বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন মোশাররফ হোসেন সিন্টু নামে এক ব্যক্তি।

এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। যাদের কেউ কেউ এ নিয়ে রেল উপদেষ্টা, সচিব ও রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, রেল সচিবের শ্যালক পরিচয় দিয়ে মো. মোশাররফ হোসেন সিন্টু রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তরে রাজশাহী, সৈয়দপুর, পাকশী, লালমনিরহাট, ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দিয়ে সাপ্লাইয়ের কাজ ভাগিয়ে নেন।

এমনকি রেলওয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক জায়গায় বদলির তদবীর করছেন। এডিজি/আরএস, আই, ওপি, ফাইন্যান্স দপ্তরে অন্যদিকে বিভিন্ন দপ্তরের কাজ ৫% কমিশন নিয়ে এডিজি/আরএস, ডিজি কে দিয়ে ফাইল অনুমোদন করিয়ে দিচ্ছেন। কিছু কর্মকর্তার স্কেল নিয়ে দেয়ার লোভও দেখাচ্ছেন।

আরও পড়ুন :  দেশের লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি ঝুঁকিতে!

কিছু কর্মকর্তার দুদকের কাজ করে দেয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন। যা নিয়ে সচিবের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। কিন্তু সিন্টুর দালালি এখনই বন্ধ করা জরুরি। এই অভিযোগ পেয়ে রেল প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে বলে জানান ভুক্তভোগী অভিযোগকারীরা।

সূত্র জানায় সম্প্রতি রেল সচিবের পক্ষে উপসচিব কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে রেলপথ মন্ত্রণালয় অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের উল্লিখিত কোনো অবৈধ ও অনৈতিক কার্যক্রমের সাথে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কোনো আত্মীয় অথবা নিকটজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।

আরও পড়ুন :  মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের আত্মীয়, নিকটজন পরিচয়ে কেউ কোনো প্রকার অনৈতিক বা অবৈধ তদবির অথবা সুপারিশ করলে তাকে তাৎক্ষণিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট সোপর্দ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

অভিযোগকারীদের একজন রাজশাহীর শিরোইল কলোনীর আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, মোশাররফ হোসেন সিন্টুর বাড়ি মূলত মাগুরাতে। সে একসময় মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সে কোম্পানীতে চাকরি করতেন। বর্তমানে সে রেল সচিবের শ্যালক পরিচয়ে কমিশন ও বদলির তদবির বানিজ্য করে বেড়ায়।

আরও পড়ুন :  সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে হত্যা করা হলো যেভাবে

আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগকারী হচ্ছেন চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর জেলা সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরের এক প্রকৌশলী। যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিন্টু রেল সচিবের শ্যালক পরিচয়ে সিসিএস দপ্তরের কেনাকাটা থেকে ৫% কমিশন হাতিয়েছেন। আবার ঢাকায় বদলির কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়েছেন। তিনি যেভাবে বলেছিলেন সেভাবে হয়নি। তার এই বাণিজ্য বন্ধ করতে রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিব বরাবরে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে রেল সচিবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঈশান/মম/বেবি

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page