
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানান সীতাকুন্ড থানার অফিসার ইনিচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র্যাব-৭ এর উপ সহকারী পরিচালক (ডিএডি) পুলিশ পরিদর্শক গাজী আব্দুর রহমান সীতাকুন্ড থানায় মামলাটি করেছেন।
মামলায় জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞঅতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় দুইজন এবং তদন্তে স¤পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মো. জাহিদ, মো. ইউনুস ও আরিফুর রহমান। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যাওয়া র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এতে র্যাব-৭ এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) বিজিবির নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (৪৮) নিহত হন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। একই হামলায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। তারা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে এখানে বছরের পর বছর ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনোখুনি চলছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই সহিংসতার কেন্দ্রে রয়েছেন ইয়াসিন ও রুকন নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি। একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ইয়াসিন বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয়।
অন্যদিকে রুকন উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক। মূলত এলাকাটির আধিপত্য এবং বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বই এই ভয়াবহ রূপ নেয়।










































