শুক্রবার- ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভোটে জিতেও স্বস্তিতে নেই চট্টগ্রামের দুই বিএনপি নেতা

ভোটে জিতেও স্বস্তিতে নেই চট্টগ্রামের দুই বিএনপি নেতা

# ঋণখেলাপীর অভিযোগে প্রকাশ হচ্ছে না গেজেট
# অভিযোগ প্রমাণ হলে হতে পারবেন না এমপিও

ভোটে জিতেও স্বস্তিতে নেই চট্টগ্রামের দুই হেভিওয়েট বিএনপি নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড ও নগরীর একাংশ) আসনের ফলাফল নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। ফলে নির্বাচনী গেজেট প্রকাশ হচ্ছে না এই আসনের।

ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থীতা চ্যালেঞ্জ হওয়ায় এই দুই আসনের বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ও আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া এখন নির্ভর করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর। এমনকি অভিযোগ প্রমাণ হলে হতে পারবেন না এমপিও।

আইনজীবীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে দুই প্রার্থীর প্রার্থীতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা লিভ টু আপিল করেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই লিভ মঞ্জুর করেছেন। আদালত বলেছেন, তারা নির্বাচন করতে পারবেন। তবে আপিল নি®পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে এবং গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।

আপিল শুনানিতে যদি প্রমাণ হয় যে তাঁরা ঋণখেলাপি নন এবং তাঁদের প্রার্থীতা বৈধ ছিল, কেবল তখনই নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে। আর যদি রায় বিপক্ষে যায়, তাহলে আসনও হারাতে হবে দুই প্রার্থীর। আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বহাল রেখে হাইকোর্ট যে আদেশ দেন, তার বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। এছাড়া আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে যমুনা ব্যাংকও পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করেছে, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গত ৩ ফেব্রুয়ারি লিভ মঞ্জুর করে বলেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করতে পারবেন, তবে আপিল নি®পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।

একইভাবে চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থীতা ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থীর করা লিভ টু আপিলও মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন। আদালত জানান, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, তবে আপিল নি®পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা যাবে না।

বৃহ¯পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই আসনেই বিএনপির এই দুই প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটাররা আইনি জটিলতা উপেক্ষা করেই ধানের শীষের প্রার্থীদের বেছে নেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ প্রায় ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আসলাম চৌধুরী।

একই চিত্র চট্টগ্রাম-২ আসনেও। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। ভোটের ব্যবধান এখানেও প্রায় ৭৬ হাজার।

ভোটের লড়াই শেষ হলেও এখন এই দুই প্রার্থীর মূল লড়াই হবে আদালতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এই দুই আসনের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কবে নাগাদ দায়িত্ব নিতে পারবেন বা আদৌ পারবেন কি না, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। তবে চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত এই দুই আসন কার্যত প্রতিনিধিত্বহীন থাকার শঙ্কাই দেখছেন তাঁরা।

ঈশান/মম/মউ

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে বিএনপির ঝুলিতে ১৪ আসন, ২ আসন জামায়াতের

আরও পড়ুন