বৃহস্পতিবার- ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে আট তলা ভবনে ফাটল

চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে আট তলা ভবনে ফাটল

# অনুমোদন ৫ তলার, বাড়তি তিন তলা
# আতঙ্কে বাসিন্দারা

ভৃুমিকম্পে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাদুরতলা জঙ্গিশাহ মাজার গেইট এলাকায় এল-আকৃতির একটি আট তলা ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে আসে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে। এরপরই বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিট ভূমিকম্পের পর ভবনটির এক দিক দেবে গিয়ে পুরো অংশে চিড় ধরেছে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ভবনের ভাড়াটিয়ারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। দুপুরের পর খবর পেয়ে ওই এলাকায় ছুটে যান গণমাধ্যমকর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, ভবনটি যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে একসময় একটি পুকুর ছিল। প্রায় দশ বছর আগে পুকুরটি ভরাট করা হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে পাঁচ তলার অনুমোদন নেওয়া হলেও ভবনটি আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  কক্সবাজারে ফিলিং স্টেশনে দগ্ধ ৭ জন চমেক হাসপাতালে

তাঁদের দাবি, পৌনে দুই কাঠা জায়গার ওপর, তাও স্কয়ার নয় বরং এল-আকৃতির জমিতে কিভাবে এমন বহুতল ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, দুর্নীতির মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরের প্রভাব খাটিয়ে সিডিএর নকশা বহির্ভূতভাবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সিডিএর নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণে চারপাশে অন্তত ১৫ শতাংশ জায়গা খালি রেখে দূরত্ব বজায় রাখার বিধান থাকলেও এ ভবনের চারপাশে কোনো খালি জায়গা রাখা হয়নি।

আরও পড়ুন :  এস এ পরিবহনের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ

স্থানীয় সড়ক ঘেঁষে নির্মিত ভবনের কিছু অংশ সড়কের ওপর চলে এসেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সে সময় প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর হুমকি দেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। পরবর্তী সময়ে ভবনটি কয়েক দফায় হাতবদল হয়েছে বলেও তাঁরা জানান। বর্তমানে প্রকৃত মালিক কে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, তিনি শুনেছেন একজন প্রবাসী ভবনটি কিনেছিলেন। পরে নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার এক চাচার কাছে ভবনটি বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই চাচা প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ায় বাসিন্দারা উদ্বেগে ছিলেন। বুধবার রাতের কম্পনের পর ফাটল স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং সকালে বিষয়টি প্রকাশ পেলে ভাড়াটিয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে মারা গেলেন আরও দু‘জন

এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে, যা ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস থেকে ৪৬২ কিলোমিটার দূরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ৫ দশমিক ১ মাত্রার ক¤পন রেকর্ড করেছে। ভূপৃষ্ঠের ১২৯ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি বলে জানানো হয়েছে। এই ভুকম্পন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর না মিললেও চট্টগ্রামে আট তলা ভবনটিতে ফাটল সৃষ্টি হয়। 

ঈশান/খম/সুম

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page