
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসলায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু থেকে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
আর যুদ্ধবিরতিতে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছে জাহাজটি। বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে এটি। এই জাহাজে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে। ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন জাহাজটিতে।
বুধবার (৮ ্এপৃল) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ তথ্য জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। তিনি জানান, জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা চালানোর পর হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আইজিআরসির সঙ্গে কথা বলবে। পারমিশন পেলেই হরমুজ প্রণালি পার হয়ে যাবে।
দুপুর ১২টায় জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তিনি দেখান, জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে রওনা হয়েছে। দুপুর ১২টায় দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল জাহাজটি।
জাহাজটির গতিবেগ দেখাচ্ছে ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৩০ নটিক্যাল মাইল। জাহাজটির ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য) ১০ দশমিক ৮০ মিটার।
জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম এ সময় বলেন, এখানকার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় আমরা জাহাজ নিয়ে রাস আল খাইর বন্দর ছেড়ে এসেছি। আমাদের জাহাজে ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পার হবার জন্য জাহাজে পর্যাপ্ত জ্বালানিও নেওয়া হয়েছে।
বিএসসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলার জয়যাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই জাহাজের গন্তব্য কোথায় তিনি তা বলতে পারেননি। তিনি বলেন, জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য তিনটি হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক বা ব্রাজিল। জাহাজটি যারা ভাড়া নিয়েছেন তারা আমাদের জানিয়ে দেবেন কোন গন্তব্যে যাবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আমাদের জাহাজ সৌদি আরবে অপেক্ষমাণ থাকলেও আমরা প্রতিদিন ভাড়া পেয়েছি। নাবিকদের প্রতিদিন ১২ ডলার করে দিয়েছি। তারা যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন সে জন্য স্টার লিংক যুক্ত করা হয়েছে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য। পর্যাপ্ত রসদ ও জ্বালানি রয়েছে জাহাজে।
প্রসঙ্গত, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে ঢুকেছিল বাংলার জয়যাত্রা। পরে কাতারের মেসাইয়েদ বন্দর থেকে প্রায় ৩৮ হাজার ৮০০ টন ই¯পাতের কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে যায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়।
এ সময় জাহাজটির খুব কাছেই একটি মিসাইল বা ড্রোন আঘাত হানে। তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নাবিকদের মধ্যে। গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজের পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে পণ্য বোঝাই করার শিডিউল ছিল।
পরে পণ্য খালাস করে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করছিল। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়ায় অন্য বন্দর থেকে সার লোড করে নতুন গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। সে অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।










































