মঙ্গলবার- ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে হাম

চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে হাম
print news

# হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ
# মূল কারণ হামের টিকা না দেওয়া
# ২০ এপৃল থেকে শিশুদের হামের টিকা দিবে সরকার

লতি এপৃল মাসের শুরুতেই চট্টগ্রাম কয়েকজন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসা নিতে আসে হাসপাতালে। সেই থেকে কোনামতেই কমছে না হাম আক্রান্ত রোগী। বরং প্রতিদিন চোখ রাঙাচ্ছে হাম। বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ছুটছে হাসপাতালে। যা নিয়ে বেশ চিন্তিত স্বাস্থ সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৩ এপৃৃল) এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, চলতি এপৃল মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮৫ শিশু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম কর্নারে হামের চিকিৎসা নিয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বাইরে ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতাল, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে।

সূত্র মতে, সোমবার (১৩ এপৃল) পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৯ শিশু। গত রোববারও নতুন করে ১৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ২৩ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে। সেখানে মোট ৩২৮ শিশুর নমুনা পাঠানো হয়েছে ।

আরও পড়ুন :  রেলওয়ের ৮ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

তবে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও হয়েছে এক শিশুর। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হামে আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে এদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু হয় হামের টিকা দেয়নি অথবা একডোজ টিকা দিয়েছে। টিকা দেয়ার বয়স হয়নি এমন শিশুও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। হামের চোখ রাঙানিতে চিকিৎসরা বেশ উদ্বিগ্ন।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা বেশিরভাগ শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, আবার কিছু শিশু এক ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুও আছে।

আরও পড়ুন :  রেলওয়ের ৮ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাটে অবিস্থত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ১৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে। এদের মধ্যে ১০ জনের বয়স ১২ বছরের নিচে এবং বাকি ৬ জন ১২ বছরের ওপরে।

আতঙ্কিত নয়, সচেতন হতে হবে
৫ বছরের নিচে শিশুরা সাধারণত হামের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। দ্বিতীয় সারির ঝুঁকিতে থাকে ৫ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা। তাই হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। তবে আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক অংসুই মারমা বলেন. হামের প্রকোপ নিয়ে সরকারি- বেসরকারি হাসপাতালের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে হাম সন্দেহে কোনো রোগীকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

এছাড়া আমরা মাঠ পর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি। মহানগর এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শনাক্তকৃত ও সন্দেহভাজনদের নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  রেলওয়ের ৮ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

তিনি বলেন, যদি কোনো শিশুর জ্বরের সাথে কফ, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং র‌্যাশ আসে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ এই রোগে নিউমোনিয়াও হতে পারে। বাসায় নিয়ে বসে থাকলে বিপদ হতে পারে। হামের উপসর্গের দিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

২০ এপৃল থেকে হামের টিকা দিবে সরকার
হাম রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামী ২০ এপৃল থেকে ১০ মে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে এবং ২০ এপৃল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬ মাস থেকে ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ করে টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় আগে হামের প্রথম ডোজ ৯ মাসে দেয়া হলেও এখন সেটি ৩ মাস এগিয়ে আনা হয়েছে। নগরীতে হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে। জেলায় পর্যায়ে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে।

ঈশান/খম/মসু

আরও পড়ুন