শুক্রবার- ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল

চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল
print news

# দেশের চাহিদা পূরণ হবে ১২ দিনের
# সক্ষমতা দাড়াবে ২৫ দিনের

ট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল। যা দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ হবে ১২ দিনের। এ নিয়ে ২৫ দিনের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জন হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার (১৭ এপৃল) দুপুরে এ তথ্য জানায় বিপিসির উপমহ্যাব্যস্থাপক ও গণসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তা মরিলাল দাশ। তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিজেলের মজুত রয়েছে। নতুন ৪টি ট্যাংকারের ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। এসব ডিজেল খালাস হলে মজুত বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে। এই মজুত দিয়ে দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন :  চউক চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

সূত্র মতে, প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসা জাহাজগুলো হচ্ছে-এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি, এমটি লিয়ান সং হু ও এমটি গোল্ডেন হরাইজন। এর মধ্যে তিনটি ট্যাংকার শুক্রবারই (১৭ এপৃল) সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আর এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার আগামী রোববারে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যেই সবকয়টি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। ট্যাংকার গুলোতে এক লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। এসব ডিজেল খালাস হলে দেশে ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে বসছে দু‘দিনের বৈশাখী মেলা, শেষের দিন জব্বারের বলীখেলা

বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। এতে চলতি মাসে ডিজেল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সরবরাহ বাড়ায় তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল নির্ভর। এসব ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ যায় কৃষি খাতে। বিদ্যুৎ ঘাটতির সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ সব খাতেই ডিজেলের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক।

এছাড়া জ্বালানি তেলের মধ্যে বহুমুখী খাতে ডিজেলের ব্যবহার হয়। সড়ক পরিবহনের বড় অংশ যেমন বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন মূলত ডিজেলচালিত। কৃষিতে সেচযন্ত্র চালানো, নদীপথে নৌযান পরিচালনা এবং অনেক শিল্পকারখানার জেনারেটর চালাতেও ডিজেল ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন :  চউক চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আর বছরে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন পাওয়া যায় অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে।

কিন্ত্র ইরান-ইসরাইল ও আমেরিকার যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ আসতে পারেনি। ফলে পেট্রোল ও অকটেন তৈরীতে চরম সংকট দেখা দেয়। এমনকি দেশের একমাত্র তেল পরিশাধনাগার প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ণ রিফাইনারীর উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে।

ঈশান/খম/মম

আরও পড়ুন