চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে এর প্রতিবাদে ঘৃণা মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বাধার অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগপন্থি সাধারণ আইনজীবী ফোরাম থেকে সভাপতি প্রার্থী সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবী সমিতি ভবনে বার লাইব্রেরিতে মনোনয়ন ফরম নিতে যান আওয়ামী লীগপন্থী একদল আইনজীবী। তারা এবার সাধারণ আইনজীবী ফোরাম নামে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন ফরম তুলতে আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ভেতর থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আমাদের বাধা দিয়েছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক চেষ্টা করেও সাধারণ আইনজীবী ফোরামের কেউ ফরম সংগ্রহ করতে পারেননিফরম না পেয়ে সাধারণ আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা ভোট চোর, ভোট চোর, তুমি কে আমি কে, আইনজীবী আইনজীবী, ভোট চোরের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে, ভুয়া ভুয়া ¯ে¬াগান দিতে থাকেন। তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে গেলে উভয়পক্ষে উত্তেজনা ও হট্টগোল হয়। পরে তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে আদালত প্রাঙ্গনে ঘৃণা মিছিল করেন বলে জানান আবদুর রশিদ। অভিযোগের বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়া অ্যাডভোকেট রওশন আরা জানিয়েছেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারাই মনোনয়ন ফরম নিতে গেছেন, সবাইকে দেওয়া হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর অনুষ্ঠিত জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগপন্থীদের অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ উঠেছিল। শেষপর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।
১৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনারবাহী দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজ দুটির নিচের অংশে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। ফলে জাহাজ দুটি থেকে পণ্য খালাস নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন আমদানিকারকরা। রবিবার (৩ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহণ) এনামুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা ছিল জাহাজ দুটির। তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ দুটি হলো বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচ আর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করে আছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপদ চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এগুলোকে জেটিতে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারকরা। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।এদিকে জাহাজ দুটির সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।সূত্র আরও জানায়, জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য শুক্রবার বিকেলে বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা আর জাহাজ না এনে বন্দর ভবনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, মায়েরস্ক চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়েরস্কর। এইচ আর তুরাগ হচ্ছে দেশি কো¤পানি আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর এইচ আর লাইনের। বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইনের জাহাজের সাথে দেশীয় জাহাজের এমন দুর্ঘটনা বন্দরের জন্য নতুন করে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৫ দিন আগে
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মাছ। বৃহ¯পতিবার রাত ও শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পশ্চিম গুজরা, নাপিতের ঘাট ও নয়াহাটসহ কয়েকটি স্থানে এই ডিম পাওয়া যায়। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাতের জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে। এ অবস্থায় ডিম সংগ্রহে প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৩৫০ সংগ্রহকারী। তারা বালতি, গামলা, ডিঙি নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। এ বছর ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলেরাও বড় আহরণের আশায় আছেন বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরীয়া উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বল্প পরিমাণে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। যাকে নমুনা ডিম বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল সময়ে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। তিনি আশা করেন, রাতের মধ্যে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে।ডিম সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস শফিউল আলম ও মো. হোসেনসহ একাধিক ডিম সংগ্রহকারী নমুনা ডিম ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হালদা নদীর আজিমেরঘাট, কুমার স্কুল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।তারা বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ ডিম সংগ্রহকারী যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন। তারাও আশা করছেন এ জোয়ার কিংবা রাতে পুরোদমে ডিম ছেড়ে দিতে পারে কার্প জাতীয় মা মাছ। বড় সংগ্রহের আশায় রয়েছেন জেলেরা সবাই। এদিকে হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া রয়েছে। পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়াঘোনাতে ২৬টি এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ রয়েছে। প্রত্যেক হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান হালদা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে তিনটি হ্যাচারিতে তদারকির জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের জেলা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার এ মৌসুমে যথাসময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানি নেমে আসায় ডিম ছাড়ার পরিবেশ খুবই ভালো। যেহেতু সকাল থেকে কিছু কিছু জায়গায় ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম পেয়েছেন, আশা করা যাচ্ছে রাতের মধ্যে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসা হালদা নদীর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি রাবার ড্যাম থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তামাক চাষ, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষণও বাড়ছে। নদী ব্যবস্থাপনায় যথাযথ উদ্যোগের অভাবের অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও হালদার মা মাছ টিকে আছে এবং প্রতিবছর প্রজনন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।প্রসঙ্গত, গত মৌসুমে মে মাসের ২৯ তারিখ হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপৃল ও মে মাসের তৃতীয় জোয়ারে পুরোদমে মা মাছ ডিম ছেড়ে দেবে। গত মৌসুমে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়। যা থেকে ২৯৮ কেজি রেনু উৎপন্ন হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেনুর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬ কেজি। হালদায় সংগৃহীত ডিমের প্রতিকেজি রেণুর দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়।
১৭ দিন আগে

চার ঘন্টার বজ্র বৃষ্টিতে বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক। ফলে যানবাহন ঠাঁই নিয়েছে ফ্লাওভারে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পানি জমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ১১টার দিকে বৃষ্টি কম থাকলেও সাড়ে ১২টার দিকে আবার ভারী বৃষ্টি হয়; যা দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল নয়টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিন ঘণ্টা পরপর বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হিসাব করা হয়। পরবর্তী অবজারভেশনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যাবে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, রাহাত্তারপুলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে।নিচু এলাকাগুলোতে পানি বুকসমান হওয়ায় নগরীর যানবাহনগুলো ঠাঁই নেয় শহরজুড়ে বিস্তৃত সবকটি ফ্লাইওভারে। ডুবে গিয়ে অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েছে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষেরা।নগরবাসী জানান, বেলা আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নগরীর রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, রাহাত্তারপুল, আগ্রাবাদ এলাকার সড়কে হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কে যানচলাচল একেবারেই কম। ফলে ভোগান্তি পড়েছে নগরবাসী।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানি জমে দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ে। পানি নামতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে। সাদিয়া জাহান নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, আজ ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল। হল থেকে বের হয়ে গাড়ি না পেয়ে হেঁটে হেঁটে মুরাদপুর আসলাম। এখানে তো হেঁটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নাই। কোমর পর্যন্ত ময়লা পানি।নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, চট্টগ্রামে সাধারণত এমন পানি দেখা যেত টানা তিন-চারদিন বৃষ্টি হলে। এখন দেখছি ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হচ্ছে। মুরাদপুরে জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া উন্নয়নকর্মী তোফায়েলুর রহমান বলেন, যারা বৃষ্টি এবং সমুদ্রকে ভালোবাসেন, তারা চট্টগ্রামের মুরাদপুর চলে আসেন। এত পানি সমুদ্র না সড়ক বুঝার উপায় নেই।স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন দুলালের ভাষ্য, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কে জমে থাকা পানিতে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কোমরসমান, কোথাও কোথাও গলাসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।এ সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালের কালভার্ট এলাকায় মাটি ফেলে সংস্কারকাজ চলছে। যন্ত্রপাতিও রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। নগরবাসীর মতে, আসন্ন বর্ষা সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এর অংশ হিসেবে নগরের বিভিন্ন খাল ও নালা পরিষ্কারে তদারকি করছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।মঙ্গলবার বিকেলে পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, নগরের নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হওয়াই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার কারণে নালাগুলো বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ সচেতন না হলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ এখনো চলমান রয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রবর্তক এলাকার পাশে সিডিএর উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
২০ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর জঙ্গল সলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান গণি ওরফে মনা (৩৫) কে হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।রবিবার (২৬ এপৃল) বিকাল ৩টার দিকে জেলা ড়োয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশের একটি যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে হাটহাজারী উপজেলার চিকনদন্ডী ইউনিয়নের একটি পাঁচতলা ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। সোমবার (২৭ এপৃল) বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ওসমান গণি ওরফে মনা চট্টগ্রাম মহানগরের জঙ্গল সলিমুপর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল (ম্যাগাজিনসহ), তিনটি একনলা শর্টগান, ১১ রাউন্ড পিস্তলের তাজা গুলি, রাইফেলের গুলি, ১৭ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, একটি চাপাতি, সুইচ গিয়ার চাকু, নগদ ৫১ হাজার টাকা এবং একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন তিনি।তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আরও দুই আসামি হৃদয় (৩০) ও রাজু (৩২)-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত ওসমান গণি প্রকাশ মনার বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সিডিএমএস পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্রসহ ১৮ টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।হাটহজারী মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
২১ দিন আগে
চট্টগ্রাম এলএ শাখার আলী আযম কি আরেক জাবেদ আলী?
২২ দিন আগে
ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ল সড়কপথে যাত্রী পরিবহনে। প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণের পরই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। রবিবার (২৬ এপৃল) এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে তালিকায় গত বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়েছে। এই হারে কালুরঘাট ব্রিজ থেকে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পথের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা। একই তালিকায় সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়ায় চকবাজার মসজিদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শরাফত পেট্রলপাম্প পর্যন্ত যেকোনো গন্তব্যেও সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার পথে সম্পূর্ণ যাত্রায় ভাড়া পড়বে ৪৭ টাকা। তবে এই রুটে নিউমার্কেট থেকে বাদামতলী পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হয়েছে ১০ টাকা। চট্টগ্রাম মহানগর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার পথে চলাচলকারী বাসগুলোর ক্ষেত্রেও একই হারে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ৫১ আসনের জন্য প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। তবে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেক পরিবহন কোম্পানি বড় বাসে আসন সংখ্যা কমিয়ে ৪০-এ নামিয়ে চালায়, সে ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়তি দিতে হবে। দূরপাল্লার পথে ফেরি ও সেতুর টোল থাকলে সেটিও ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হবে। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার পথে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ৩২৮ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৪১৮ টাকা দিতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৫৪ কিলোমিটার দূরত্বে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৩ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে তা ৪৩৭ টাকা।ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। নতুন ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী, এই রুটে টোল বাবদ অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা যোগ হবে। কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। টেকনাফ রুটে ৫১ আসনের বাসে ১ হাজার ৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা ভাড়া ধার্য করা হয়েছে। এ ভাড়া শুধুমাত্র ডিজেল চালিত পরিবহনের জন্য কার্যকর হবে। গ্যাসচালিত বাসে বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, গ্যাসের দাম না বাড়ায় গ্যাসচালিত কোনো যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। গ্যাসচালিত যানবাহনে আগের মতোই ভাড়া নিতে হবে। বেশি ভাড়া নেওয়া বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ দিন আগে
বৈশাখ শুরু। ফলে প্রতিবছরের মতো কোরবানির আগের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আওতাধিন গরুর বাজারগুলো টেন্ডার দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর প্রতিবছরের মতোই এবছরও গরুবাজার নিয়ে চলছে টেন্ডার-টেন্ডার খেলা। অবশেষে শুরু হাট কালেকশনের নামে লুটপাটের প্ল্যান। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবারের মতো এবারও তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করেও চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় পশুর বাজার সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারা সম্পন্ন করা হয়নি। গত বছরের মতো হাট কালেকশনের পথে চলছে সাগরিকা গরুর বাজারটি। গতবারও এই পথে হেঁটে ২ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব কম আয় হয়েছে চসিকের। যা মূলত হয়েছে লুটপাট। ঠিক এবারও সাগরিকা গরুর বাজার নিয়ে টেন্ডার-টেন্ডার খেলায় হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মানুযায়ী চসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি হাট এবং ঘাট পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র সময়ের জন্য ইজারা দেয়া হয়। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ থেকে যাতে ঠিকাদার কার্যক্রম শুরু করতে পারেন সেভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এবছরও সেভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে গরুর বাজার ইজারা দেয়ার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু টেন্ডারে কেউ অংশগ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে মার্চ মাসে আহ্বান করা হয় দ্বিতীয় দফা টেন্ডার। তাতে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ফলে ওই টেন্ডার বাতিল করা হয়। গত ১ এপৃল পুনরায় তৃতীয়দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে পাঁচটি দরপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে টেন্ডার জমা পড়ে তিনটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা জনৈক ইরফান সরওয়ারী খাঁন সরকারের ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দর উল্লেখ করে। দ্বিতীয় দরদাতা ফজলে আলিম চৌধুরী (মীরা মেরিন) ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৮ কোটি ১৪ লাখ ৭২ হাজার ২৩৩ টাকা এবং তৃতীয় দরদাতা সাজ্জাদ হোসাইন ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৭ কোটি ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৫ টাকা দর উল্লেখ করেন। কিন্তু প্রত্যাশীত দরের অজুহাতে এই টেন্ডারও বাতিল করা হয়। ইতোমধ্যে বছর শুরু হওয়ায় গত পহেলা বৈশাখ থেকে বিশাল এই গরু বাজারের ইজারা আবারো হাট কালেকশনে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে চতুর্থ দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যা প্রহসন বলে মনে করছেন ইজারাদাররা। ইজারাদারদের ভাষ্য, হাট কালেকশনের নামে লাখ লাখ টাকা নয় ছয় করার সুযোগ তৈরির জন্যই ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে না। এতে সরকার দেড় কোটি টাকারও বেশি নিশ্চিত ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারের এই রাজস্ব লুটে খাবে হাট কালেকশনের দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি ও চসিকের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তারা। ইজারাদাররা গতবছরের বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে বলেন, গতবছর একাধিক টেন্ডারে পর সর্বোচ্চ সাগরিকা গরুর বাজারের দর উঠেছিল ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সেই টেন্ডার সম্পন্ন না করে হাট কালেকশনের নামে প্রথম চার মাসের জন্য দেয়া হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। পরে দুই মাসের জন্য দেয়া হয় ২১ লাখ টাকায় এবং পরবর্তীতে আবার ৬ মাসের জন্য দেয়া হয় ৯৯ লাখ টাকায়।টেন্ডারে সাড়ে সাত কোটিরও বেশি টাকায় বাজার ইজারা দেয়া না হলেও হাট কালেকশনে পাওয়া যায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার কম। এর মধ্যে হাট কালেকশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ৫৫ লাখ টাকা আটকে রেখেছেন। পুনরায় উক্ত ব্যক্তিকে হাট কালেকশনের দায়িত্ব দেয়ায় সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে তৃতীয় দফা টেন্ডারের পর বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে সিদ্ধান্ত চাওয়ার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে, ইতোমধ্যে চতুর্থ দফা টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে চসিকের রাজস্ব বিভাগ। জানা গেছে, চসিকের রাজস্ব বিভাগে কর্মরত রতি-মহারতি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাট কলেকশনের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যক্তির দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নানা কুটকৌশলে অত্যন্ত গোপনীয়তার সহিত ভাগবাটোয়ারা চলে। এক্ষেত্রে কোটি টাকার হিসেব-নিকেশ হয়। টেন্ডারে অংশ নেয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টিতে দৃষ্টিপাত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সিটি মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দফায় কেউ টেন্ডার নেননি, দ্বিতীয় দফায় মাত্র একজন এসেছিলেন। তৃতীয় দফায় তিনজন দরপত্র দাখিল করলেও প্রত্যাশিত দর পাওয়া যায়নি। তাই হাট কালেকশনের উদ্যোগ নিতে হয়েছে। হাট কালেকশন টেন্ডারে উল্লেখিত দরের চেয়ে বেশি না কম-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান। এ বিষয়ে কথা বলতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনিও কোনরকম সাড়া দেননি।
২৬ দিন আগে
দক্ষিণ এশিয়ার ব্যস্ততম বন্দরে নতুন মাইলফলক।
৩৩ দিন আগে