দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বেতন স্কেলের খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে।১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পে-স্কেল জারির পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটটি বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর অন্তর নতুন স্কেল আসার কথা থাকলেও করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা দীর্ঘায়িত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালে এসে ৯ম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।নিচে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো, যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।গ্রেড - বেতন স্কেল (টাকা)০১ ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত)০২ ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা০৩ ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা০৪ ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা০৫ ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা০৬ ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা০৭ ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা০৮ ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা০৯ ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা১০ ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা১১ ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা১২ ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা১৩ ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা১৪ ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা১৫ ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা১৬ ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা১৭ ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা১৮ ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা১৯ ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা২০ ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা(এটি একটি প্রস্তাবিত তালিকা মাত্র। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।)
৪ দিন আগে
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি! এ খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ এবং সহজ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার কারণে এই খাত দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এই আমানত প্রবৃদ্ধি গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অগ্রগতিরই প্রতিফলন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় আমানত বেড়েছে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ গত ডিসেম্বরে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। প্রায় ২.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র তিন মাসে। একইভাবে ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় এক বছরে আমানত বেড়েছে প্রায় ৭,৯২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের মার্চে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। সে হিসেবে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৮.৬ শতাংশ।তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট আমানতের প্রায় ৮২.৫ শতাংশ এসেছে প্রন্তিক এলাকা থেকে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে গ্রামীণ অঞ্চলে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় প্রায় ৪১ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এক বছরে এই খাতে গ্রামীণ আমানত বেড়েছে প্রায় ২০.৯ শতাংশ, যা গ্রামীণ অর্থনীতির দ্রুত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী সূচক। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৬৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।তথ্যমতে, হিসাব সংখ্যার দিক থেকেও এজেন্ট ব্যাংকিং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মার্চ ২০২৬ শেষে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০৩টি। এটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ৬ লাখ ৩১ হাজার বেশি এবং ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় প্রায় ১৭ লাখ ৯৬ হাজার বেশি। এই প্রবৃদ্ধি স্পষ্টভাবে দেখায় যে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দ্রুত আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং নগদ নির্ভর অর্থনীতি ধীরে ধীরে ডিজিটাল ও ব্যাংকনির্ভর ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে।এছাড়াও ঋণ প্রবাহের ক্ষেত্রেও এজেন্ট ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মার্চ ২০২৬ শেষে এই চ্যানেলের মাধ্যমে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯০৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এক বছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩.৭ শতাংশ এবং তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১.৩ শতাংশ। একই সঙ্গে ঋণ হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ২৮৬টি।তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেট ও এজেন্ট সংখ্যায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে। মার্চ ২০২৬ শেষে মোট আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০,৩৩৯টি, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় সামান্য কম। একইভাবে মোট এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫,১৮৪ জন, যা এক বছর আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বড় ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিসংখ্যানে প্রভাব পড়েছে। তবে বিদ্যমান আউটলেটগুলোর মাধ্যমে লেনদেন ও সেবা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। যার মাধ্যমে বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হয়েছে। এদিকে নারী অংশগ্রহণ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোট হিসাবের প্রায় ৪৯.৭ শতাংশ বা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার হিসাব নারীদের নামে খোলা হয়েছে। এক বছরে নারীদের হিসাব সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি, যা নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। পাশাপাশি এজেন্ট পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ১,৫৭০ জন নারী এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন, যা মোট এজেন্টের প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি।বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমানতের দিক থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ময়মনসিংহ বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে, যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৩.৮ শতাংশ। অন্যদিকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পতন দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা রয়েছে। ঋণ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সিলেট বিভাগ সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান, যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৩.৫ শতাংশ।এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে বরাবরের মতো শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির আমানত ছাড়িয়েছে ২২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। হিসাব সংখ্যা রয়েছে ৬০ লাখেরও বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, এরপর ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক। বিশেষ করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া আউটলেট বিস্তারে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে আমানত ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যদিও আউটলেট ও এজেন্ট সংখ্যায় সামান্য হ্রাস একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবুও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর গভীর প্রভাব স্পষ্ট। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত করা, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রান্তিক অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং এখন দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত অতিক্রম করা শুধু একটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের রেকর্ড ভঙ্গ কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে বিপ্লব বয়ে এনেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং এখন প্রবাসী আয় বিতরণ অন্যতম চ্যানেলে পরিণত হয়েছে। এটি প্রত্যন্ত এলাকার পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে যুক্ত করেছে।’ উল্লেখ্য, ইউএনডিপির সহায়তায় বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর অনুমোদন পায় বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া। এরপর ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। যে কারণে দিনটি এখন এজেন্ট ব্যাংকিং দিবস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ জেলার জৈনসার ইউনিয়নে প্রথম এজেন্ট আউটলেট খোলা হয়। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর গ্রামীণ ভিত্তি।
৪ দিন আগে
ঈদুল আজহা সামনে রেখে আজ বুধবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রেলওয়ে। প্রথম দিন মোট ৩১ হাজার ২৪০টি আসনের টিকিট বিক্রির জন্য অনলাইনে তোলা হয়। যা মাত্র আড়াই ঘন্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যায়।আর এসব টিকিট ক্রয়ের জন্য প্রথম ৩০ মিনিটে মোট ৯৩ লাখ হিট পড়েছে সার্ভারে। এর মধ্যে প্রথম ৩০ মিনিটে পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট সংগ্রহ করতে হিট পড়েছে ৬০ লাখ। আর দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হওয়া পূর্বাঞ্চলের টিকিট পেতে প্রথম ৩০ মিনিটে আরও ৩৩ লাখ হিট সার্ভারে যুক্ত হয়।রেলওয়ের তথ্য বলছে, এবারের ঈদে মোট ৪৩টি ট্রেনে ৩১ হাজার ২৪০টি আসন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে ১৫ হাজার ২৬৬টি এবং পূর্বাঞ্চলে ১৫ হাজার ৯৭৪টি আসন রয়েছে। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হয় আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে। শুরু হওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় সব টিকিট। আধা ঘণ্টা পর অনলাইনে বিক্রির জন্য বাকি ছিল ৯১৩টি টিকিট। অর্থাৎ এই সময়ে পশ্চিমাঞ্চলে ৯৪ শতাংশ টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়। আর পূর্বাঞ্চলে প্রথম আধা ঘণ্টা পর বিক্রির জন্য বাকি ছিল ৩ হাজার ৬৬৬টি টিকিট। অর্থাৎ প্রথম ৩০ মিনিটে পূর্বাঞ্চলে বিক্রি হয় ৭৭ শতাংশ টিকিট। টিকিট বিক্রি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও হয়ে উঠে মুখর। রেলের ফ্যান ফোরাম গ্রুপে টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকেই, আবার কেউ টিকিট না পাওয়ার হতাশার কথাও জানিয়েছেন। এমনই একজন লিখেছেন, ঈদযাত্রার প্রথম দিনের টিকিট ৩ সেকেন্ডেই শেষ হয়ে গেল। আমি টিকিট পাইনি। কোন কোন ব্যক্তি টিকিট পাইলেন কমেন্ট বক্সে দেখতে চাচ্ছি।রেলওয়ে বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঈদের সময় বরাবরের মতো এবারও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল। অনেকে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও টিকিট পাননি অনলাইনে। তাদের ভাষ্য, চাহিদার তুলনায় আসন কম থাকায় সবাইকে টিকিট দেওয়া সম্ভব হয়নি।রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিক্রি হবে ২৪ মে যাত্রার টিকিট। ঈদের অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী একবারই টিকিট কিনতে পারবেন। তাও সর্বোচ্চ চারটি। আর অগ্রিম সংগ্রহ করা এসব টিকিট ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট মিলবে। তবে সেটি বিক্রি শুরু হবে ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে।
৫ দিন আগে
ফারাক্কার প্রভাব মোকাবেলায় অনুমোদন পেল দেশের বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রকল্পটির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার।বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানির ঘাটতি মোকাবিলা, নদীব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামগ্রিক পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নিশ্চিত করা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মিতব্য ব্যারাজে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রকল্পের আওতায় জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ইছামতি-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে গোদাগাড়ী পাম্প হাউস, গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।প্রকল্পের মাধ্যমে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ব্যারাজের ওপর সড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে এটিকে বহুমুখী করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এর ফলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন ধান এবং ২ লাখ ৩৪ হাজার টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রায় ১২ কোটি ২৫ লাখ কর্মদিবসের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যেখানে প্রায় ৪৭ হাজার ৯৫০ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৩ হাজার ৪৫০ একর জমিতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের জন্য সাতটি উপগ্রহ শহর ও আধুনিক গ্রামীণ টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রায় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন কমিয়ে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; বরং দেশের পানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমাধান হতে পারে। তারা বলেন, এই ব্যারাজের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।উনিশ শতকের সত্তরের দশকে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার পর থেকে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়, যা কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ ও নৌপথের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।প্রকল্পটি দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে। চারটি বিভাগ, ২৬টি জেলা এবং ১৬৩টি উপজেলায় এর সুফল পৌঁছাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের আগে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-গঙ্গা ব্যবস্থায় পানির প্রবাহ ছিল প্রায় ৭০ হাজার কিউসেক। ১৯৭৫ সালের পর উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে অনেক সময় তা ২০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পদ্মানির্ভর ২০ থেকে ২৫টি জেলার মানুষের জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে গত জানুয়ারিতে প্রায় ছয় দশকের আলোচনার পর প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ২৫ জানুয়ারির একনেক সভায় এটি উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও উচ্চ ব্যয়ের কারণে তড়িঘড়ি অনুমোদন না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করে প্রথম ধাপে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদনের প্রস্তাব দেয়। সরকারি অর্থায়নে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।গত ৬ মে পরিকল্পনা কমিশন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এ সময় প্রকল্পটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে কী ধরনের অবদান রাখবে, সেই মূল্যায়ন প্রস্তাবে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি পানি নির্গমন পথ, ১৮টি নিম্নস্রোত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, মাছ চলাচলের বিশেষ পথ, নৌযান চলাচলের লক এবং নদীতীর রক্ষাবাঁধ। গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর জন্য তিনটি পানি গ্রহণ কাঠামো নির্মাণ করা হবে।নদী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গড়াই-মধুমতি ব্যবস্থায় ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার খনন এবং হিসনা নদী ব্যবস্থায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যারাজের মাধ্যমে ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জলাধার তৈরি হবে, যেখানে অতিরিক্ত বড় ধরনের ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এর ফলে পর্যটন, মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি জলবিদ্যুতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদীর দুই তীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ চালুর পর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দুই দেশ পানি ভাগাভাগি করে আসছে। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হচ্ছে।প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ, নৌপরিবহন, পানীয় জলের সরবরাহ এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিঠা পানির ঘাটতির কারণে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের নদী ও খালে অতিরিক্ত লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়েছে।পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি এবং চন্দনা-বারাশিয়া নদীতে পলি জমে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ পানি সরাসরি বঙ্গোপসাগরে চলে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নদীগুলো প্রায় শুকিয়ে যায়। এতে লবণাক্ততা, নদীভাঙন, পলি জমা, নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া, সেচ সংকট এবং মৎস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো সমস্যা বেড়েছে। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনের গাছপালায় ব্যাপক মরা রোগও দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের ধারণা প্রথম উঠে আসে ষাটের দশকে। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রথম সমীক্ষা শুরু করে। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে চারটি প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়।২০০২ সালে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ী অথবা রাজবাড়ীর পাংশায় ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশা প্রণয়ন করা হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও ঢাকায় বৈঠক করেন। পরে তথ্য বিনিময় সহজ করতে একটি যৌথ কারিগরি উপকমিটিও গঠন করা হয়।
৫ দিন আগে
রেলপথ আধুনিকায়ন ও পুনর্বাসনে প্রায় ২ হাজার ২৮ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন করা।জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম ধাপ) শীর্ষক এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প ২০৩১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথগুলো মেরামত ও শক্তিশালী করা হবে।বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলের অনেক রেললাইন কয়েক দশক পুরোনো হওয়ায় সেখানে ফাটল, জয়েন্টে ত্রুটি ও লাইন ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং ট্রেনের গতি কমিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।প্রকল্পের আওতায় শত শত কিলোমিটার রেলপথ মেরামত ও পুনর্বাসন করা হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যাতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই উন্নয়ন কাজের ফলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর রেলযোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ সহজ করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রেলপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও এই প্রকল্প যুক্ত থাকবে।পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এসএম শাকিল আখতার জানান, রেলওয়ের পুরোনো অবকাঠামো এবং আধুনিক ইঞ্জিন ও কোচের ঘাটতির কারণে এই প্রকল্প এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
৫ দিন আগে
দেশের যে কোন নাজুক পরিস্থিতিতে জ¦ালানি তেলের যোগান সংকট মেটাতে কক্সবাজারের মহেশখালী সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল মজুতাগার। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা এই মজুতাগার এখন পড়ে আছে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায়। এখানে সংরক্ষণ নেই এক ফোটা জ¦ালানি তেলও। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কেন গড়ে তোলা হয়েছে এই মজুতাগার। প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জবাব, ব্যবস্থাপনা আর সক্ষমতার সমন্বয়ের অভাবে এই প্রকল্পে জ্বালানি তেল মজুত করা যাচ্ছে না। ফলে অব্যবহৃত পড়ে আছে মজুতাগারটি। সোমবার (১১ মে) দুপুরে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেছেন এসপিএম প্রকল্পের পরিচালক নাহিদ জামান। তিনি বলেন, মজুতাগারের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও কিছু কারিগরি ত্রুটি ও লজিস্টিক সংকটের কারণে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি। দীর্ঘ নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালে এই স্টোরেজে পরীক্ষামূলক কিছু তেল মজুত করা হলে ত্রুটিগুলো ধরা পড়ে। তিনি জানান, সমুদ্রে অবস্থানকারী বড় তেলবাহী জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি খালাসের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের এপৃল মাসে কাজ শেষ হলেও বাস্তব ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি স¤পন্ন হয়নি প্রকল্পটির। প্রকল্পের অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান মুরিং এবং সমুদ্রতল দিয়ে নির্মিত প্রায় ১১০ কিলোমিটার পাইপলাইন, যা স্টোরেজ সুবিধার মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারির সঙ্গে সংযুক্ত। এ ছাড়া পা¤িপং স্টেশন, অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল সংরক্ষণ ট্যাংক, বুস্টার পা¤প এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে। তবে চলতি বছরেই ত্রুটি ও লজিস্টিক সংকট নিরসন করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে পারবেন এমন আশা প্রকাশ করেন নাহিদ জামান। ইস্টার্ন রিফাইনারী পিএলসির তথ্য মতে, মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে কালারমারছড়া সোনারপাড়া অংশে এই বিশাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকলটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরে বাড়িয়ে ৮ হাজার ২২২ কোটি টাকা করা হয়। চীনের একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান পুরো নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে। অর্থায়নের বড় অংশও এসেছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের মাধ্যমে, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল যে কোন শাটডাউন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যাকআপ দেওয়া, জ্বালানি আমদানির সময় কমানো এবং ব্যয় সাশ্রয় করা। বিদ্যমান ব্যবস্থায় বড় ট্যাংকার সরাসরি বন্দরে প্রবেশ করতে না পারায় গভীর সমুদ্রে নোঙর করে ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস করতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এসপিএম চালু হলে একই প্রক্রিয়া কয়েক দিনের পরিবর্তে স্বল্প সময়ে স¤পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে সেই সুবিধা এখনো মিলছে না।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিকল্পিত সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রকল্পটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে বিদ্যমান প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা সীমিত থাকায় এসপিএম কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ কমে গেছে।পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও অপারেটর না থাকায় প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পূর্ববর্তী সময়ে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা এগোলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলে প্রস্তাবিত ব্যয় বেশি হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও অংশগ্রহণ সীমিত ছিল এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব জমা দেয়নি। এতে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এমন অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতায় মহেশখালীর এসপিএম প্রকল্প এখনো সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও বাস্তবতা যাচাই যথাযথভাবে করা হয়নি। সহায়ক অবকাঠামো প্রস্তুত না রেখেই বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকল্পটি ব্যবহারের উপযোগী করতে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চাহিদা, সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তা না হলে বিনিয়োগ সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) উপ-মহাব্যবস্থাপক ও গণসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তা মনিলাল দাশ বলেন, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। অন্যদিকে সরকারের ওপর প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের চাপ, জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও কমছে না। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও অপারেশনাল জটিলতা, সীমিত সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং ব্যবস্থাপনাগত অনিশ্চয়তার কারণে প্রকল্পটি এখনো পুরোপুরি চালু করা যায়নি। ফলে বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের জ্বালানি খাত।
৭ দিন আগে
পানির বিল নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, গ্রাহক পানি ব্যবহার না করলেও মাসিক নির্দিষ্ট ফি গুনতে হবে। পাশাপাশি পানির ব্যবহার বাড়লে বাড়বে বিলও। বর্তমানে প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানিতে আবাসিক গ্রাহককে ১৮ টাকা এবং অনাবাসিকে (শিল্প ও বাণিজ্য) ৩৭ টাকা গুনতে হয়।চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য এই ‘টু-পার্ট ট্যারিফ’ বা দুই অংশের বিল কাঠামো প্রস্তাব করেছে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট ইন্ডিয়া। ঘাটতি পূরণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিল পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নতুন এই বিল পদ্ধতি ঢাকাসহ দেশের কোনো ওয়াসায় নেই। এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুর দাবি, ‘নতুন ট্যারিফ চালু হলে ভোক্তার ওপর বিলের বোঝা বাড়বে। সিস্টেম লসের নামে যে বিপুল পরিমাণ পানি চুরি হয়, সেটি গড় বিল করে পোষায় ওয়াসা। এই ট্যারিফের মাধ্যমে সেটিকে বৈধতা দিতে চায় তারা। মানুষের ওপর বিলের বোঝা না কমিয়ে সিস্টেম লস বন্ধ করুক ওয়াসা।’পারু বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার সিস্টেম লস প্রায় ২৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা বছরে ৪৭ হাজার ৪২০ কোটি লিটার। এই বিশাল অপচয় বা চুরি রোধ না করে নতুন ট্যারিফ আরোপ করে গ্রাহকের ওপর বোঝা চাপানো কেনোমতেই উচিত নয়।তবে ভিন্ন কথা বলছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম। তিনি বলেছেন, নতুন ট্যারিফ বাস্তবায়ন হলে বিল বাড়বে না। বরং গড় বিল নিয়ে যে সন্তোষ আছে তা প্রশমন হবে। বর্তমানে প্রতিদিন এক ইউনিট হারে প্রতি মাসের সর্বনিম্ন গড় বিল দিতে হয়। যেটি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় পানির বিল দুভাগে নির্ধারণ করা হবে। একটি নির্দিষ্ট মাসিক ফি, অন্যটি ব্যবহারের ওপর চার্জ। বর্তমানে যে ন্যূনতম এক ইউনিট বিলের ব্যবস্থা রয়েছে, নতুন মডেলে সেটি বদলে পরিবার সংখ্যা ও পানি ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দুটি প্রস্তাবের মধ্যে ‘প্রস্তাব-১’-কে তুলনামূলকভাবে কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব হিসেবে বিবেচনা করেছে ওয়াসার গঠিত কমিটি।এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এক থেকে চারটি পরিবারের জন্য মাসিক নির্ধারিত বিল হবে ৩২৫ টাকা। এর আওতায় ২৫ ইউনিট পানি ব্যবহার করা যাবে। পাঁচ থেকে ১০টি পরিবারের জন্য নির্ধারিত বিল হবে ৯৭৫ টাকা, যেখানে ৭৫ ইউনিট পানি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ১০টির বেশি পরিবারের ক্ষেত্রে মাসিক বিল হবে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, যার মধ্যে ১৫০ ইউনিট পানি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা করে দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য এই হার ৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৮০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে ১৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য মাসিক ৭৫০ টাকা নির্ধারিত ফি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর নির্ধারিত ও পরিবর্তনশীল উভয় ধরনের ট্যারিফে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিকল্প আরেকটি প্রস্তাবে প্রথম ৩০ ইউনিট পর্যন্ত সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ন্যূনতম ৬৫০ টাকা বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ইউনিটপ্রতি মূল্য ২৩ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত টু-পাট ট্যারিফের নতুন পদ্ধতি যাচাই-বাছাই করতে কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কমিটি ৯ দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশের ভিত্তিতে দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য গঠিত কমিটির সভায়। সিদ্ধান্তগুলো হলো— বিল পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য অংশীজনের সঙ্গে সভা করা ও বর্তমান প্রচলিত রাজস্ব হ্রাস পাবে কি না, তা বিশ্লেষণ করা। তবে কমিটি বোর্ড মিটিংয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদন হলে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন ট্যারিফ গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্যমতে, বর্তমানে ওয়াসার মোট সংযোগ সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ২২২টি। এর মধ্যে ৯২ হাজার ১১২টি আবাসিক ও ৯ হাজার ১১০টি অনাবাসিক। বর্তমান সংযোগের মধ্যে পানির ব্যবহার ৯১ শতাংশ আবাসিকে ও ৯ শতাংশ অনাবাসিকে।
৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি জাহাজ থেকে চোরাইভাবে ডিজেল পাচারের সময় প্রায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করা হয়।রোববার (১০ মে) দিনগত রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার (৯ মে) রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর এলাকার ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কান্ডারী-৬’ জাহাজ থেকে ‘ওটি আজু শাহ’ নামের একটি অয়েল ট্যাঙ্কারে চোরাইভাবে ডিজেল পাচারের সময় প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাকারবারিদের ৯ জন সদস্যকে আটক করা হয়। পরে জব্দ করা ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষংয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (এডমিন) মো. ওমর ফারুক।
৭ দিন আগে
কক্সবাজারের ইনানি সৈকতে সাগরের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট’। বাইরের চাকচিক্য আর রমরমা ব্যবসার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার জগত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে রীতিমতো ‘ফাঁদে’ ফেলে ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য ফাঁস হয়েছে এই রিসোর্টটির কর্ণধারের বিরুদ্ধে। সি পার্লের এই ‘বন্ড জালিয়াতি’ কেবল একটি কোম্পানির দুর্নীতি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের এক সুপরিকল্পিত মহোৎসব বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদও। তাঁর প্রশ্ন কক্সবাজারের এই রিসোর্টটিতে বছরজুড়েই পর্যটকদের ভিড় এবং রমরমা ব্যবসা থাকে। তাহলে কেন তারা নিয়মিত কিস্তি দিচ্ছে না?আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ জানান, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাবে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা আটকে থাকায় এখন চরম অর্থসংকটে ভুগছে খোদ আইসিবি।আইসিবি সূত্র জানায়, এই বন্ড জালিয়াতির মূল হোতা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু। সি পার্ল রিসোর্টের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য তিনি। ২০১৭ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার করে আইসিবি-কে ৩২৫ কোটি টাকার বন্ডে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করেন। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া সেই ৮ বছর মেয়াদী বিনিয়োগই আজ আইসিবির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ১০ শতাংশ সুদে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ষান্মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও সি পার্ল কর্তৃপক্ষ তা থোড়াই কেয়ার করেছে। নিয়মিত কিস্তি না দেওয়ায় ৩২৫ কোটি টাকার মূল বিনিয়োগ সুদে-আসলে এখন ঠেকেছে ৫৯৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৬ টাকায়! অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এখন এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা আইসিবির।কেবল কিস্তি ফাঁকি নয়, সি পার্ল কর্তৃপক্ষ বন্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ভঙ্গ করেছে। ২০ শতাংশ শেয়ারে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। ঋণের বিপরীতে সম্পদের ওপর প্রথম চার্জ সৃষ্টি বা বন্ধকীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি, ফলে বিনিয়োগের কোনো নিরাপত্তা নেই। কিস্তি পরিশোধে বিলম্বের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত সুদের শর্তও তারা কৌশলে এড়িয়ে গেছে।আর সি পার্ল বিচের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স লিমিটেড’-এর কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে কয়েকশ সন্ত্রাসী নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে সেই কারখানা দখল করা হয়েছিল বলে জানা যায়।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেন এত বড় অঙ্কের রাষ্ট্রীয় অর্থ বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলো? রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে কি তবে দেশের আর্থিক খাত পুরোপুরি জিম্মি?এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি ইকরামুল হক টিটুকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়নের পর গা ঢাকা দিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্টের কর্ণধার ইকরামুল হক টিটু।
৮ দিন আগে
পদ্মা ব্যাংকের পেটে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮০ কোটি টাকা। যা হারাতে বসেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সাথে হারাচ্ছে ৩৮০ কোটি টাকা মুনাফাও। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিগত ছয় বছর ধরে টাকা ফেরতে বারবার চিঠি দিলেও কোনো সাড়া নেই ব্যাংকটির। ফলে আম-ছালা দুই-ই হারানোর শঙ্কায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমও বলেছেন, ‘টাকা উদ্ধারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি; কিন্তু সাড়া নেই। নগদ অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নেই তাদের। বর্তমানে এই ১৮০ কোটি টাকা 'অনাদায়ী পাওনা' হিসেবে বন্দরের ব্যালেন্স শিটে ঝুলে আছে। সূত্র জানায়, বন্দরের নিজস্ব তহবিলের বিপুল এই টাকা ২০১৫ সালে রাজনৈতিক চাপে পড়ে অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা হয়েছিল। এ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। যিনি পরে নৌবাহিনীপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বন্দরের বিগত পাঁচটি বার্ষিক অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন বন্দর বোর্ড ও অর্থ বিভাগ ঝুঁকি মূল্যায়ন না করেই এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অডিট প্রতিবেদনে বিষয়টিকে 'আর্থিক অনিয়ম' ও 'অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত' হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে।ব্যাংকের এখন আর্থিক যে নাজুক অবস্থা তাতে মুনাফা দূরে থাক, মূল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।বন্দরের অডিট বিভাগ বলছে, এই ১৮০ কোটি টাকা ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদে পদ্মা ব্যাংকে আমানত রাখা হয়েছিল। তখন ব্যাংকটি ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা সাধারণ ব্যাংকের মুনাফার চেয়ে অনেক বেশি। সেই লোভ দেখিয়ে টাকাটা ব্যাংকে রাখা হয়েছিল বাছবিচার ছাড়াই। গাণিতিক হিসাবে ১০ বছর ধরে এই ১৮০ কোটি টাকা যদি ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে জমা থাকত, তবে মুনাফাসহ মোট টাকা হতাে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা। আজকের দিনে এসে বন্দর শুধু আসল নয়, প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার সম্ভাব্য মুনাফাও হারিয়েছে।সূত্র জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ বছরে আয়-ব্যয় শেষে উদ্বৃত্ত টাকা বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে বিনিয়োগ করে থাকে। আর এই বিনিয়োগের টাকা থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, অবকাঠামো বানায়, যন্ত্রপাতি কিনে। ২০২২ সালে এনসিটির জন্য কেনা কি গ্যান্ট্রি ক্রেনের দাম ৬০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৫৬০ কোটি টাকায় ৯টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন কিনে বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) আধুনিক টার্মিনালে রূপান্তর করা যেতা। বন্দরের আয়ের টাকা দেশের স্বার্থে ব্যবহার না করেই ব্যক্তিস্বার্থে এভাবেই তছনছ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মশিউল আলম স্বপনের। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক প্রাধান্য পাবে। আর বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হলে ব্যাংকের নির্দিষ্ট রেটিং ও ক্যাটাগরি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। ২০১৫ সালের যে সময়ে টাকা রাখা হয়েছিল, তখন পদ্মা ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংক নামে ছিল। তখন ব্যাংকটি ছিল ‘রেড জোন’ বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীর। ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি এবং তারল্য সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়ে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী নাফিজ সরাফাত চেয়ারম্যান হন। নাম পরিবর্তন হয়ে পদ্মা ব্যাংক হয়। বর্তমানে ব্যাংকের বেশিরভাগের শেয়ারের মালিক সরকারি পাঁচটি ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান।২০২৪ সালে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে কয়েক মাস পর এক্সিম ব্যাংক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসান বর্তমানে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে আর মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার কোটি টাকা। এই অবস্থায় নিজেই অস্তিত্ব সংকটে আছে পদ্মা ব্যাংক। ব্যাংকটিতে তীব্র তারল্য সংকট রয়েছে বর্তমানে। তবে সরকারি কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে নাজুক পদ্মা ব্যাংক চালুর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে চলছে নানা তামাশা। হাটগুলো ইজারা দেওয়ার চেয়ে খাস কালেকশনে আগ্রহী বেশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে নগরীর সবচেয়ে বড় দৃুটি স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন শুরু করেছে চসিক। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহায় আরও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে চট্টগ্রামে। যার তিনটি ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি তিনটি চাপা পড়েছে চসিকের নানা কারসাজিতে। টেন্ডার আহ্বান করা পশুর হাট তিনটিও শেষ পর্যন্ত ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ নগরীর হাট-বাজার সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের। ইজারাদাররা অভিযোগ করছেন, চসিকের রাজস্ব বিভাগসহ এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা পশুর হাট ইজারা নিয়ে নানা কারসাজির সাথে জড়িত। যার মাধ্যমে তারা পশুর হাটগুলো থেকে হাসিল আদায়ের টাকা লোপাটসহ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব হরণের সুযোগ পাচ্ছে।আগে নগরীর এই তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা থেকে চসিক প্রতি বছর অন্তত ১০-১২ কোটি টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ক্রমেই ইজারার চেয়ে খাস কালেকশনে নেমেছে চসিক। যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম। এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি দেখিয়ে লুটপাট। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর বিবির হাট বাজার ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার ১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছিল। আর সাগরিকা পশুর হাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন করেছিল চসিক। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালে সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু খাস কালেকশনে এই পশুরহাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি টাকারও কম। এরপরও সাগরিকা পশুর হাটের সাথে এবার বিবিরহাট ও পোস্তার পাড় পশুর হাট থেকেও খাস কালেকশনে শুরু করেছে চসিক। সূত্র আরও জানায়, ইজারা না দিলেও খাস কালেকশনে পছন্দের ইজারাদার নিয়োগ দেয় চসিক। এই ইজারাদার মিলেমিশে পশুর হাট থেকে আদায় করা রাজস্ব নানা কারসাজি করে লুটপাট করে। ফলে সরকার প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে ইজারাদার, চসিকের রাজস্ব বিভাগ ও এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ায় নগরীর স্থায়ী পশুর হাটগুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করছে চসিক। তবে আসন্ন ঈদুল আজহার অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় স্থায়ী তিনটি ছাড়া এবার অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এক্ষেত্রে টেন্ডারগুলো কোথায় বা কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তারও কোন হদিস মিলছে না। এ সুবাধে তিনটি পশুর হাটও ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের দিকে চুক্তিতে যাচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনুমোদনের বাইরেও আরও ১৪টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসে। সেখান থেকে কোটি কোাটি টাকা হাসিল আদায় করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এই অর্থ সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা হয় কিনা তার কোন ইয়ত্তা নেই। অননুমোদিত অবৈধ পশুর হাটগুলো হচ্ছে- বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কাজীর হাট, কর্নেল হাট, ফইল্যাতলি বাজার, ফিরিঙ্গিবাজার, হাজি আব্দুল আলী আর্কেট (বেইজমেন্ট), দেওয়ান হাট (বেইজমেন্ট), বকশির হাট, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, বিবিরহাট কাঁচাবাজার, কমল মহাজন হাট, নয়াহাট এবং বেপারীপাড়া কাঁচাবাজার। অনুমোদিত পশুর হাটগুলো হলো নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এসব পশুর হাটের অনুমোদন দেয়। আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য গত বৃহ¯পতিবার (৩০ এপৃল) বিশেষ শর্তে এই ছয়টি পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত স¤পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে।আর শর্তগুলো হচ্ছে- প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে।ইজারাদারদের শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, চসিকের স্থায়ী ও অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে কোরবানি উপলক্ষে যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। প্রতিবছর আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করি। এবারও অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, অবৈধ পশুর হাটের কারণে শুধু যে চসিকের রাজস্ব বা ইজারাদার হাসিল আদায় থেকে বঞ্চিত হয় তা নয় একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, পেশি শক্তির প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, যানজট সৃষ্টি, পশুর গোবর পরিষ্কার না করা, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তাহীনতাসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়। বৈধ কোরবানির পশুর হাটে জাল বুথ শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ, গরু বাঁধার ছাউনি, পশুর গোবর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যা¤প ও টহল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্ব পালন করে। অবৈধ হাটগুলোতে এসব থাকে না। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চসিক পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর কর, বিজ্ঞাপন কর, সপসাইন ফি, প্রমোদ কর, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন ফি, এস্টেটসহ বিবিধ খাতে মোট রাজস্ব আহরণ করেছিল ৩৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (৩০ এপৃল পর্যন্ত) চসিকের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।
১০ দিন আগে
আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এমনকি স্থায়ী তিনটি পশুর হাটেরও ইজারা হয়নি। সেখানে আদায় করা হচ্ছে খাস কালেকশন। ফলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব নয়ছয় হচ্ছে বরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। ঠিকাদাররা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন (চসিক)এলাকায় স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে তিনটি। আর কোরবানির সময় আরও ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপৃল) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ অনুমোদন দেন।অনুমোদিত পশুরহাট গুলো হলো— নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা।জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-সাগরিকা পশুর হাট, মুনাদপপুর বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট। এসব হাট থেকে প্রতিবছর চসিকের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও হাটগুলো ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়, কিন্তু কাঙ্খিত দর না পাওয়ার অজুহাতে কারসাজি করে শেষ পর্যন্ত ইজারা ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে খাস কালেকশনের চুক্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, স্থায়ী পশুর হাট গুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় এই তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। বসালে অভিযান পরিচালনা করা হবে।উল্লেখ্য, চসিকের রাজস্ব আহরণের অন্যতম বড় খাত স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা। এর আগে সাগরিকা ও বিবিরহাটে ইজারাদার না পাওয়ায় খাস কালেকশন করছেন চসিক। তবে যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হয়। এর মুলে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা খরচ, অপচয়সহ নানা কারসাজি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
১১ দিন আগে