চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো নরম মাটিতে গড়া। আর সেই পাহাড়ে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন মৃত্যু ঝুঁিক নিয়ে। সেটা জানেন বসতিরাও। কারণ তাদের চোখের সামনেই বছর-বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানি হয়েছে শত শত আপনজনের। তারপরও কমছে না বসতি, বাড়ছে আরও বছরে-বছরে। রবিবার (৩ মে) আলাপকালে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন। তাদের মতে, পাহাড় কাটা ও বসতি স্থাপন প্রতিরোধ করার কথা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাাসন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের। কিন্তু এ বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই তাদের। এ নিয়ে কথা বললে উল্টো মুচকি হাসেন তারা। তবে মুখে বলেন, করছি তো, কেউ তো শুনতেছে না। পাহাড়ে বাড়ি বানানোর সময় কেউ তো আর আমাদের বলে করে না। আবার উচ্ছেদের পর ফিরেও আসে তারা। এছাড়া বর্ষা আসলে তাদের সরে যেতে মাইকিংও করা হয়। অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব কথার বিপরীতে যখন বলা হয়, এটা তো শাসন বা নিয়ন্ত্রণ নয়, সেবা করছেন আরও। এতো জামাই আদর পাওয়ায়ই তো পাহাড় আর পাহাড় থাকছে না। এমন মন্তব্যে মুখ ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়ে যারা বসতি গেড়েছেন তাদের একজনও চট্টগ্রামের লোক না। কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরিশালসহ উত্তরবঙ্গ থেকে আসা লোকজন ওরা। আর চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলসহ সকল সরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তারাও চট্টগ্রামের বাইরের লোক। ব্যস, শুধু পাহাড়ে বসতি কেন, চট্টগ্রামে কোন রকম অন্যায়-অপরাধে সঠিক কোন ব্যবস্থা নেই এসব বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। সবাই মিলে ইসরাইলের মতো চট্টগ্রামকেও ফিলিস্তিন বানাতে ব্যস্ত। সরকারি দায়িত্বে চট্টগ্রামের লোক থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি হতো না। ৬৬৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর মোট ঝুঁকিপূর্ণ বসতিস¤পন্ন পাহাড় ২৬টি। এসব পাহাড়ে গত বছর অবৈধ বসতির সংখ্যা ৬ হাজার ৫৫৮। এ বছর নতুন করে আর জরিপ হয়নি। তবে বসতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনও। অথচ ২০১৪ সালে নগরীর ১১টি পাহাড়ে বসবাস করত ৬৬৬টি পরিবার।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল সংলগ্ন পাহাড়ে। সেখানে থাকেন প্রায় ৪ হাজার ৬৪৭ পরিবার। এছাড়া নগরীর মতিঝর্ণা ও বাটালীহিল পাহাড়ে বসবাস ৪৩১ পরিবারের। এছাড়া কৈবল্যাধাম হাউজিং এস্টেট সংলগ্ন পাহাড়ে ১৪৬ পরিবার, পলিটেকনিক হল্ট স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশ ১২ পরিবার, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ফৌজি ফ্লাওয়ার মিল সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে পাঁচ পরিবার, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪ পরিবার, পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬ পরিবার, লেকসিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে ২৮৮ পরিবার, আমিন জুট মিলস কলোনি সংলগ্ন ট্যাঙ্কির পাহাড়ে ৬৫ পরিবার, উত্তর পাহাড়তলী মৌজার ১৫০ দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ে (জয়ন্তিকা আবাসিক সংলগ্ন) ২৮ পরিবার, বিএস ২১২ ও ২১৩ দাগের পাহাড়ে (মুরগি ফার্ম হয়ে গার্ডেন ভিউ সোসাইটি সংলগ্ন) ১২ পরিবার, আকবর শাহ বেলতলী পাহাড়ে ৮৯ পরিবার, পলিটেকনিক কলেজ সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৩ পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া লালখানবাজার জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন পাহাড়ে ৩২৩ পরিবার, হারুন খান সাহেবের পাহাড়ে ১৪৪ পরিবার, নাছিয়াঘোনা এলাকায় ১২ পরিবার, চিড়িয়াখানার পেছনের পাহাড়ে ২৮ পরিবার, মধুশাহ পাহাড়ে ২৯ পরিবার, জালালাবাদ সংলগ্ন পাহাড়ে পাঁচ পরিবার, নাগিন পাহাড়ে ২৫ পরিবার, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মীর মোহাম্মদ হাসানের পাহাড়ে ৩৮ পরিবার, এমআর সিদ্দিকীর পাহাড়ে ৪২ পরিবার, মিয়ার পাহাড়ে ৪৯ পরিবার, ভেড়া ফকিরের পাহাড়ে (রৌফাবাদ, অক্সিজেন) ১১ পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।রেলের সাত পাহাড়ে ৫ হাজার ৩৩২ পরিবার: জেলা প্রশাসনের হিসাবের বাইরে চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩৩২ পরিবার রয়েছে। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এসব পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন অনেক মানুষ। দিন দিন এই অবৈধ বসতির সংখ্যা বাড়ছে। রেলওয়ে ভু-সম্পত্তি বিভাগের তথ্যমতে, রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল পাহাড়ে। এখানে ৫ হাজার ৩৩২টি পরিবার থাকে। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় বসবাস ৪৩১টি পরিবারের।লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। রেলওয়ের মালিকানাধীন ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরীর জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ইতিহাস: চট্টগ্রামে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রতিবছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০০৭ সালের ১১ জুন। ওই বছর ২৪ ঘণ্টায় ৪২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সেনানিবাস এলাকা, লেডিস ক্লাব, শহরের কুসুমবাগ, কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, মতিঝরনা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ প্রায় সাতটি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ভোরে অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের লালখানবাজার মতিঝরনা এলাকায় পাহাড় ধসে চার পরিবারের ১২ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকার বাটালি হিল পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।২০১২ সালের ২৬ ও ২৭ জুন পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালে মতিঝরনায় দেয়াল ধসে দুই জন মারা যান। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে পাহাড় ধসে মারা যান তিন জন, একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় মারা যান মা-মেয়ে।২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর নগরীর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজশাহ কলোনিতে পাহাড়ধসে মারা যান চার জন। ২০১৯ সালে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা পাহাড়ধসে এক শিশু প্রাণ হারায়।২০২২ সালে ১৭ জুন পাহাড়ধসে নিহত হয় আরও চার জন। ওই দিন রাত ২টায় এবং ১৮ জুন ভোর ৪টায় নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ১ নম্বর ঝিল ও ফয়স লেক সিটি আবাসিক এলাকায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হন। এত হতাহতের পরও বন্ধ হচ্ছে না চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন ও বসবাস। উল্টো পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলদারদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। তিন জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকাই নেই:২০১৭ সালে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাঙামাটি। তখন এই জেলায় পাহাড়ধসে মারা যায় ১২০ জন। কিন্তু এ ঘটনার পর তদন্ত কমিটির যে সুপারিশ ছিল, তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। এমনকি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দা নিয়ে কোনো জরিপও নেই। তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় রূপনগর, নতুনপাড়া, শিমুলতলী, পশ্চিম মুসলিমপাড়া ও ভেদভেদী। তিন বছর আগে এই পাঁচ এলাকার ৩১ স্থানকে অতিঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন সাইনবোর্ড দেয় জেলা প্রশাসন। তবে বিভিন্ন দপ্তরের হিসাবে এসব এলাকায় ২০১৭ সালের চেয়ে অন্তত ৫০০ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বেড়েছে।বান্দরবানে ২০১৭ সালে পাহাড়ধসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত বছর জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে একজন মারা যায়। কিন্তু জেলাটিতে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার কোনো তথ্য বা জরিপকাজ হয়নি। ২০১৭ সালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছিল ১ হাজার ৪৪৪টি পরিবার। এর মধ্যে পৌরসভাসহ লামা উপজেলায় ৪৫০ পরিবার, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩২৩, পৌরসভাসহ বান্দরবান সদর উপজেলায় ২৩২ পরিবার, রোয়াংছড়িতে ৫৯, আলীকদমে ২১৩, রুমায় ৮৩ ও থানচিতে ১০৮টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করে। কিন্তু এই সাত বছরে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।খাগড়াছড়ি জেলাও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ে কোনো জরিপ নেই। জেলা প্রশাসনের ধারণা অনুযায়ী ৯টি উপজেলায় এক হাজারের বেশি বসতি রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিলে তাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সহস্রাধিক বসতি পাহাড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগের সময়ে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।চট্টগ্রামের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি-২, ছবি-দৈনিক ঈশানবছর বছর বাড়ছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি:চট্টগ্রাম মহানগর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, নগরীর মোট ঝুঁকিপূর্ণ বসতিস¤পন্ন পাহাড়ে গত বছর অবৈধ বসতির সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৫৮। এ বছর নতুন করে আর জরিপ হয়নি। তবে বসতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনও। কমিটির তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির সংখ্যা গত ১০ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। আর তিন পার্বত্য জেলায়ও পাহাড়ে বসতি গত সাত বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি গড়ে তোলা একরকম নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এসব বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য নেই। তবে বিগত বছরের হিসাবের তথ্যের গড় হিসেব করলে বুঝা যায় কী পরিমাণে বসতি বাড়ছে পাহাড়ে। পাহাড়ে বসতি বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরে যেখানে এক খন্ড জমির মূল্য কোটি টাকা, সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব হতদরিদ্র পরিবার বিনামুল্যে পাহাড়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিচ্ছে। গড়ছে বসতি। এতে তাদের প্রাণহানিরও ভয় নেই। পুরো বছর নিরব বর্ষা আসলেই তোড়জোড়:বছরের পর বছর পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বাড়লেও পুরো বছর নিরব থাকেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। বর্ষা আসলেই নামেন সেবার ঢালা নিয়ে। তখন পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। যা পুরোপুরি মানবিক কাজ। এ সময় জামাই আদরে সরকারি গাড়িতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়, বিনামুল্যে দেওয়া হয় খাবার, করা হয় সরকারি কোন ভবনে রাতযাপনের ব্যবস্থা। যা সারা বছরের চেয়ে কয়েকদিন হলেও ভাল সময় কাটান অবৈধ বসতিরা। আর এর মাধ্যমেই তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে বসবাসের সুযোগ পান। এ সুবাধে আত্নীয়-স্বজনদেরও ডেকে নিয়ে আসেন তারা। করে দেন পাহাড়ে বসতির সুযোগ। এবারও ঠিক একই কাজে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের সতর্কবার্তা পেয়ে শুরু করেছে মাইকিং। অনুরোধ করা হচ্ছে পাহাড় থেকে সরে গিয়ে সরকারি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামসহ দেশের ৪ বিভাগে সোমবার (৪ মে) দুপুরের মধ্যে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে- অতি ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে।গুমড়ে মরছে ৩৬ দফা সুপারিশ:পাহাড়ধসের বিভিন্ন ঘটনার পর গঠিত বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ৩৬ দফা সুপারিশের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবের মধ্যে পাহাড় কাটায় জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থার দুর্বৃত্তায়ন কঠোর হাতে আইনানুগভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। ন্যাড়া পাহাড় বনায়ন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, পাহাড়ি এলাকায় শহর সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করাও ছিল। সুপারিশের ভিত্তিতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সাতটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিল, পাহাড়ে অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা; পাহাড় কাটা বন্ধ করা; যাদের উচ্ছেদ করা হবে তাদের আশ্রয়ণে পুনর্বাসন বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা; পাহাড় কাটা বা পাহাড়ে বসবাসের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ৩৬ দফা সুপারিশমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা। পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি সবুজায়নের কথাও ছিল। কিন্তু উদ্যোগের অভাবে গুমড়ে মরছে এসব সুপারিশ। ফলে সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর বাড়ছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি। এখন ভারী বর্ষণ হলে সাময়িকভাবে মাইকিং, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে প্রশাসন ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি।গত মঙ্গলবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায়। এতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অবৈধ বসবাসকারীদের প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন। কিন্তু একজন বাসিন্দাও সরেননি। প্রশাসনের সতর্কবার্তা কানেই তুলছেন বাসিন্দারা।যা বললেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা: এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদের বিষয়ে সারা বছরই অভিযান চালানো হয়। এরপরও পাহাড় কাটা থেকে জড়িতদের সরানো যায়নি। তিনি বলেন, পাহাড়ে বসতি গড়ে তোলা এতগুলো লোকের স্থায়ী পুনর্বাসন কঠিন। তারপরও সরকারি বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে কিছু কিছু পুনর্বাসন করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে আমরা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছি। লোকজনের মধ্যে ভয়টাও কাজ করে না। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা শুরুর আগে রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও তারা আবার এই অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চলে আসে।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য শনিবার সকাল থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়তলী, ফয়স লেক, আকবরশাহ, সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষা শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে মাইকিং করেছি।চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলেই অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে অথবা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ২০২২ সালে পাহাড় কাটার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২১ সালেও ছয়টি মামলা করা হয়েছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আদালতের বিভিন্ন আদেশে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের পাহাড় কাটায় নিষেধ রয়েছে। তারপরও এই নির্দেশনাগুলোর সঠিক প্রতিপালন হচ্ছে না। যদি পাহাড়ে বসতি স্থাপন করতে না দেয় তাহলে এ রকম বর্ষার সময় প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে চিন্তাও করতে হবে না। এ জন্য শুধু বৃষ্টি হলে তোড়জোড় করলে হবে না। সারা বছর এ বিষয়ে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।
২৩ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনারবাহী দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজ দুটির নিচের অংশে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। ফলে জাহাজ দুটি থেকে পণ্য খালাস নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন আমদানিকারকরা। রবিবার (৩ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহণ) এনামুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা ছিল জাহাজ দুটির। তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ দুটি হলো বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচ আর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করে আছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপদ চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এগুলোকে জেটিতে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারকরা। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।এদিকে জাহাজ দুটির সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।সূত্র আরও জানায়, জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য শুক্রবার বিকেলে বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা আর জাহাজ না এনে বন্দর ভবনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, মায়েরস্ক চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়েরস্কর। এইচ আর তুরাগ হচ্ছে দেশি কো¤পানি আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর এইচ আর লাইনের। বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইনের জাহাজের সাথে দেশীয় জাহাজের এমন দুর্ঘটনা বন্দরের জন্য নতুন করে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৩ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম নগরীর এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলি রোড শাখা থেকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থ আত্নসাতের মামলায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে সমপরিমাণ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার (৩ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম সীতাকুন্ড থানাধীন ছলিমপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকার তানহা স্টিল নামে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক। আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদুকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকারম হোসেন। তিনি জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দন্ডবিধির ৪০৯ ধারায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুমকে পাঁচ বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। সূত্র জানায়, র্স্ক্যাপ জাহাজ ও কাঁচামাল আমদানির নামে ঋণ নিয়ে আত্নাসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মামলায় অপর আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।মামলার নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ তানহা স্টিলের নামে গিয়াস উদ্দিন কুসুম ১৮ হাজার ৫৯৯ টন ওজনের একটি র্স্ক্যাপ জাহাজ আদমানির জন্য এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় ৬৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার একটি বৈদেশিক ঋণপত্র খোলেন। বৈদেশিক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করায় এবি ব্যাংককে ২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ফোর্সড লোন দিতে হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর ৫ হাজার ৪০২ মেট্রিকটন লোহার প্লেট আমদানির জন্য ১৭ কোটি ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ টাকার আরও একটি স্থানীয় ঋণপত্র খোলেন। সেই ঋণও তিনি পরিশোধ থেকে বিরত থাকেন। এ অবস্থায় এবি ব্যাংকের কর্মকর্তারা ২০১৪ সালের ১২ মার্চ কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যাংকের অজ্ঞাতে সব মালামাল গিয়াস উদ্দিন সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি দেশ ছেড়ে গেছেন বলেও ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এ অবস্থায় উভয় ঋণের বিপরীতে সুদসহ তার কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়ায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৫ টাকা।পরিদর্শনের পরদিন এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক হাসান মাহমুদ নগরীর কোতোয়ালী থানায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে দন্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে গিয়াসের সঙ্গে ওই ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুন্নবীকেও আসামি করা হয়। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাকালুর চুড়ায় পৌঁছেছেন চট্টগ্রামের পর্বতারোহী ও চিকিৎসক বাবর আলী। শনিবার (২ মে) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) তিনি এই পর্বতের চুড়ায় উঠেন। এটা প্রথম কোন বাংলাদেশীর এই পর্বত জয়। মাউন্ট মাকালুর উচ্চতা ৮,৪৮৫ মিটার (২৭,৮৩৮ ফুট), যা নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল অঞ্চলে অবস্থিত। তার সঙ্গে অভিযানে ছিলেন শেরপা গাইড আং কামি শেরপা। এ অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন ও রহমান্স গ্রোসারিজ।এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজন করে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স। ক্লাবটির সভাপতি ফরহান জামান নেপালের আউটফিটার মাকালু অ্যাডভেঞ্চার-এর স্বত্বাধিকারী মোহন লামসালের বরাতে বাবরের মাকালু শৃঙ্গে আরোহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অভিযান-ব্যবস্থাপক ফরহান জামান জানিয়েছেন, বাবর আলী শনিবার ক্যাম্প-২-এ এবং আগামীকাল রবিবার ৩ মে বেসক্যাম্পে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স সূত্র জানায়, গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান বা মহা-কালো নামে পরিচিত মাকালু জয়ের উদ্দেশ্যে বাবর গত ৭ এপৃল দেশ ছাড়েন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ৯ এপৃল তিনি উড়ে যান টুমলিংটার, সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছান সেদুয়া গ্রামে। এরপর পায়ে হেঁটে ১৮ এপৃল পৌঁছান উচ্চতর বেসক্যাম্পে।৩০ এপৃল আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার অভিযানে নামেন বাবর। সেদিনই পৌঁছে যান ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২-এ, পরদিন ওঠেন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ। সেখান থেকে রাতেই শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহন।উচ্চতার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে ২১ এপৃল ক্যাম্প-১ এবং পরদিন ক্যাম্প-২-এ অবস্থান করেন তিনি। প্রায় ৭ হাজার মিটার উচ্চতা ¯পর্শ করে পরে নেমে আসেন বেসক্যাম্পে। দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপৃল আবারো উঠে ক্যাম্প-২-এ একদিন কাটিয়ে পরদিন নেমে আসেন। এরপর শুরু হয় অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষা।৩০ এপৃল আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার অভিযানে নামেন বাবর। সেদিনই পৌঁছে যান ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২-এ, পরদিন ওঠেন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ। সেখান থেকে রাতেই শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহন। টানা ১ হাজার ১০০ মিটারেরও বেশি বিপজ্জনক খাড়া পথ পেরিয়ে ভোরে পৌঁছান শিখরে।সূত্র মতে,বিশ্বে ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতকে সবচেয়ে কঠিন আরোহন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অভিযানে মাকালু জয় করে তিনি এখন পর্যন্ত পাঁচটি আট-হাজারি শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করলেন। সেই সাথে মাকালু জয়ের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে নিজের নাম লেখালেন বাবর। এর আগে ২০১৭ সালে বাবর ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। ২০২২ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পর্বতশৃঙ্গ অ্যামা দাবলাম জয় করেন। ২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে জয় করেন।২০২৫ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপুর্ণা-১ আরোহণ করেন এবং একই বছরে অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু পর্বত জয় করেন। মাকালু জয়কে তার পর্বতারোহণ অভিযাত্রার ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক এবং পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিকাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নজুমিয়া হাট এলাকায়।
১ দিন আগে
দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো লিমিটেডের নতুন কারখানা নির্মাণের জন্য সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাহাড় কেটে জমি ভরাট ও সমতল করার কাজ থামিয়ে দিলেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা ইউএনও সুমাইয়া আক্তার।
২ দিন আগে
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মাছ। বৃহ¯পতিবার রাত ও শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পশ্চিম গুজরা, নাপিতের ঘাট ও নয়াহাটসহ কয়েকটি স্থানে এই ডিম পাওয়া যায়। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাতের জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে। এ অবস্থায় ডিম সংগ্রহে প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৩৫০ সংগ্রহকারী। তারা বালতি, গামলা, ডিঙি নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। এ বছর ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলেরাও বড় আহরণের আশায় আছেন বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরীয়া উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বল্প পরিমাণে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। যাকে নমুনা ডিম বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল সময়ে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। তিনি আশা করেন, রাতের মধ্যে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে।ডিম সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস শফিউল আলম ও মো. হোসেনসহ একাধিক ডিম সংগ্রহকারী নমুনা ডিম ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হালদা নদীর আজিমেরঘাট, কুমার স্কুল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।তারা বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ ডিম সংগ্রহকারী যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন। তারাও আশা করছেন এ জোয়ার কিংবা রাতে পুরোদমে ডিম ছেড়ে দিতে পারে কার্প জাতীয় মা মাছ। বড় সংগ্রহের আশায় রয়েছেন জেলেরা সবাই। এদিকে হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া রয়েছে। পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়াঘোনাতে ২৬টি এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ রয়েছে। প্রত্যেক হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান হালদা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে তিনটি হ্যাচারিতে তদারকির জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের জেলা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার এ মৌসুমে যথাসময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানি নেমে আসায় ডিম ছাড়ার পরিবেশ খুবই ভালো। যেহেতু সকাল থেকে কিছু কিছু জায়গায় ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম পেয়েছেন, আশা করা যাচ্ছে রাতের মধ্যে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসা হালদা নদীর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি রাবার ড্যাম থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তামাক চাষ, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষণও বাড়ছে। নদী ব্যবস্থাপনায় যথাযথ উদ্যোগের অভাবের অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও হালদার মা মাছ টিকে আছে এবং প্রতিবছর প্রজনন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।প্রসঙ্গত, গত মৌসুমে মে মাসের ২৯ তারিখ হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপৃল ও মে মাসের তৃতীয় জোয়ারে পুরোদমে মা মাছ ডিম ছেড়ে দেবে। গত মৌসুমে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়। যা থেকে ২৯৮ কেজি রেনু উৎপন্ন হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেনুর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬ কেজি। হালদায় সংগৃহীত ডিমের প্রতিকেজি রেণুর দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়।
২ দিন আগে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে চট্টগ্রামের রাউজানে এ পর্যন্ত ২৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৯ জনই বিএনপি নেতাকর্মী। অবস্থাভেদে মনে হচ্ছে বিএনপি নিধনে পরিকল্পিত মিশন চলছে রাউজানে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কারা চালাচ্ছে হত্যাযঞ্জের এই মিশন। পুলিশের অভিযানে এসব হত্যা মামলার অর্ধশতাধিক আসামিও আটক হয়েছে। হয়েছে বিপুল অস্ত্র উদ্ধারও। এরপরও এত অস্ত্র কোথা থেকে আসছে। কোথা থেকে উৎপন্ন হচ্ছে এত খুনি। নাকি পুলিশের আইনি ব্যবস্থায় কোন গাফিলতি রয়েছে। কেন থামছে না হত্যকান্ডের ঘটনা। নাকি আশির দশকে বর্বর সেসব হত্যাকান্ডের যুগে ফিরে গেছে রাউজান। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মুখে উঠে আসে রোমহর্ষক সব তথ্য। আর বিষয়টি মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমমিশ খাচ্ছে খোদ পুলিশ প্রশাসনও। এমন স্বীকারোক্তি মিললেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কোন কর্তাই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্ত মানলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রাউজানে যেসব হত্যাকান্ড ঘটছে তা মোটেও রাজনৈতিক হত্যাকান্ড নয়। এর পেছনে রয়েছে বালুমহাল দখল, পাহাড় কাটা, মাটি কাটা, চাদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণ। যা করতে রাজনীতিকে ব্যবহার করছে শুধু। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা একক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য সৃষ্টি করে নীরবে এসব অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়েছে। এসময় এদের কোন প্রতিদ্বন্ধি ছিল না। বিএনপিসহ অন্য যে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাদের ভয়ে এলাকাছাড়া ছিল।কিন্তু ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তারের ভয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি ফজলে করিম চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা গাÑঢাকা দেয়। এরপর এসব অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের সহযোগীতা করছে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী কিছু কর্মী। যাদের মধ্যে দখলদারিত্ব নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে দু‘পক্ষের মধ্যে লেগেই আছে খুনোখৃুনি। ৫ আগষ্টের পর রাউজানে এ পর্যন্ত ২৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর এই হত্যাকান্ড শুধু রাউজানে ঘটেছে তা নয়, পার্শ্ববর্তি রাঙ্গুনিয়াও তিনটি, চট্টগ্রাম শহরেও ৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবগুলোর সাথে রাউজান কানেকশন। বালুই মূল বিরোধচট্টগ্রামে বালুর উৎস হচ্ছে কর্ণফুলী ও হালদা নদী। আছে আরও কয়েকটি ছোট-বড় খাল। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত তোলা হচ্ছে বালু। শুধুমাত্র কর্ণফুলী নদি থেকে প্রতিরাতে কোটি টাকার বালু তুলছে দূর্বৃত্তরা। পাহাড় কাটছে। চাঁদাবাজি করছে। করছে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা। তাদের হাতে এতো অস্ত্র উৎস হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদি সন্ত্রাসীরা। যার কারণে পুলিশ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেও কোন কিনারা পাচ্ছে না। আর খুনিদের আটক করলেও কমছে না খুনি। কারণ খুনি উৎপাদনের কারখানা হচ্ছে রাজনীতি। এখানে মূল সমস্যা হলো অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক পরিচয় দিলেও শীর্ষ নেতারা তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ করেন না, যেভাবে আগে নিয়ন্ত্রণ করতেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। তিনি নিজ হাতে ভাগবাটোয়ার করতেন সব। কিন্তু রাউজানের বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এসব নিয়ন্ত্রণ তো দুরের কথা তিনি উল্টো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসনকে বারবার তাগাদা দিয়ে আসছেন। একইভাবে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারও হাঁটছেন একই পথে। তিনিও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কঠিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে তাগাদা দিচ্ছেন। যার কারণে আধিপত্য বিস্তারে একের পর এক খুন হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসব হত্যাকান্ড বিএনপি নিধনের কোন মিশন নয়। বরং বিএনপি নেতাকর্মীরাই বিএনপি নেতাকর্মীদের খুন করছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা এসব থেকে দূরে থাকলেও কলকাঠি নাড়ছে তাদের পিএ‘রা। যাদের প্রশ্রয়ে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম শহরে খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। যাদের কারণে গিয়াস কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের মধ্যে অবিশ্বাস গেড়ে বসেছে। এই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা হামলা করে গোলাম আকবর খোন্দকারকেও রক্তাক্ত করেছে। পুলিশের তথ্য মতে, গত ২৪ এপৃল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় খুন হন কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬) নামে এক বিএনপি কর্মী। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার একদিন পর রবিবার (২৬ এপৃল) দিবাগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ এই দুটি খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনসহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান।তাঁর ভাষ্যমতে, গত দু‘দিনে রাউজানে দুটি মার্ডার হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ যে ঘটনা, সেটা হয়েছে সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপ ও তার প্রতিপক্ষের বিরোধের কারণে। যে মারা গেছে, সে রায়হান গ্রুপের লোক। তার বিরুদ্ধেও পাঁচ ছয়টা মামলা আছে। এরকম বেশ কয়েকটা মার্ডার হয়েছে সন্ত্রাসীদের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্বের জেরে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এই সন্ত্রাসীগুলোকে গ্রেপ্তার করা। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান বলেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ কোন হত্যাকান্ডের ঘটনা মোকাবেলায় পুলিশের কোন গাফিলতি নেই। খৃুনিদের গ্রেপ্তারে তৎপর পুলিশ। রাউজানে ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। অপরাধ যে কারণেই ঘটুক, যারা অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।ফিরে দেখা আশির দশক এরশাদ আমলের কথা। চট্টগ্রামের রাউজানে লাশ পড়ত নিয়মিত। রাজনৈতিক কর্মীদের রক্তে ভিজত রাউজানের মাটি। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর লাশ পড়া কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে ২০০৪ সালে র্যাব গঠনের পর বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী কথিত ক্রসফায়ারে মারা পড়ে। অনেকে পালিয়ে যায় দেশ ছেড়ে। এরপর রাউজানের সন্ত্রাসী জনপদের তকমা খানিকটা ঘুচে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন ফজলে করিম এমপি। যদিও তিনি বিএনপি সরকারের মতো নয়, নিজের মতো করেই ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে এ কাজটি করেছিলেন। এ সময়ে যত বড় প্রভাবশালী বা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হোক তাঁর রাজ্যে কারও টুঁ শব্দ করার সুযোগ ছিল না।এরপর অন্তবর্তি সরকারের সময় থেকে এ পর্যন্ত যেভাবে একের পর এক হত্যাকান্ড শুরু হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে রাউজানে আবারও ফিরে এসেছে সেই আশির দশক। মুছে যাওয়া সন্ত্রাসের জনপদ তকমা আবার ফিরে এলো রাউজানে। সেই সময়ের ছাত্রনেতা ও রাউজান পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান দেবাশীষ পালিত তুলে ধরলেন ইতিহাসের খানিকটা। ১৯৮৯ সালের ৫ এপৃল। রাউজান কলেজের সাবেক-বর্তমান দুই ভিপি ফখরুদ্দিন বাবর ও মুজিবুর রহমানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। উভয়ে ছিলেন ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সেই সময়ের জনপ্রিয় নেতা। তাদের খুনের প্রতিবাদে হরতাল, সভা-সমাবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামে।দেবাশীষ পালিতের ভাষ্য, তখন রাউজানে কোনো হত্যাকান্ড হলে তার জেরে আতঙ্কের শহরে পরিণত হত চট্টগ্রাম। নগরীর আন্দরকিল্লায় জেনারেল হাসপাতালের পাহাড়ে ছিল মর্গ। রাউজানে নিয়মিত খুনখারাবি হত আর লাশ নেওয়া হত সেখানে। মর্গের লাশের ওপর উড়ত শহুরে কাক। উপজেলার কদলপুর গ্রামের বয়োজেষ্ঠ্য সুলতান আহমেদ জানান, আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে অন্তত এক দশক পর্যন্ত রাউজানের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। মানুষ রাউজানের নাম শুনলেই ভয়ে কেঁপে উঠত। সে সময় একনাগাড়ে ২৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছিল রাউজানে। নিহতদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রনেতা, রাজনৈতিক কর্মী ছিল। নীহার রঞ্জন বিশ্বাস নামে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল রাউজান থানার পাশেই।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদে কাজ করা সাবেক এক কর্মকর্তার ভাষ্য, সে সময় রাউজান অশান্ত হয়েছিল মূলত রাজনৈতিক কারণে। এ সময় একদিকে ছিল প্রভাবশালী চৌধুরী পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার লড়াই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগেরও পাল্টা আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জোর-জবরদস্তি। সেই লড়াইয়ে হারায় অনেক অকাল প্রাণ।অথচ অগ্নিযুগের বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের স্মৃতিধন্য রাউজান উপমহাদেশের রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান, আবার পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ। রাজনীতির অনেক প্রবাদপ্রতিম নেতা, এমপি, মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, মনীষী জন্ম দিয়েছে এই রাউজান।রাউজান আবার কেন অশান্ত, প্রশ্ন ছিল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারের কাছে। বললেন, সেই সময়ে (আশির দশক) যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় রাউজানে হত্যাকান্ড হয়েছিল, এখনো তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যাকান্ড হচ্ছে। আমি এর বেশি কিছু বলব না।একই প্রশ্নের জবাবে, ব্যস্ত থাকার কথা বলে এড়িয়ে যান বিএনপিদলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
৪ দিন আগে
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় ওয়াংজার স্ত্রী ও অধিকারকর্মী ইয়ান ইয়ানের বিরুদ্ধে চিঠি দিয়েছে সরকার। চিঠিতে তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গত ৬ এপৃল রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমা আশরাফী রানি ইয়ান ইয়ানকে এই চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, তার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে ২৫ এপৃল শনিবার ইয়ান ইয়ান তার আইনজীবী সারা হোসেনের মাধ্যমে এই চিঠির লিখিত জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চিঠির জবাবে তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং একই সঙ্গে চিঠিটি অবিলম্বে প্রত্যাহার বা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।২৯ এপৃল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির ডিসি নাজমা আশরাফী। তিনি জানান, বক্তব্য দেওয়া ও কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেশের আইনকানুন সঠিকভাবে মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করতে চাকমা রানিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২-এর নির্দেশেই তিনি এই চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির রেফারেন্সে যার উল্লেখ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখাটি তদারকি করেন উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত। তিনি জানান, চিঠিতে যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত সেগুলোর ভিত্তিতেই রাঙামাটির ডিসিকে এই চিঠি পাঠাতে বলা হয়েছিল।চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে ইয়ান ইয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠনের সদস্যদের একত্র করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোয় জড়িত। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সঙ্গেও জড়িত।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এই ধরনের কার্যকলাপ এ অঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনও বক্তব্য দেওয়ার বা কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেশের প্রচলিত আইনকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য আপনাদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
চার ঘন্টার বজ্র বৃষ্টিতে বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক। ফলে যানবাহন ঠাঁই নিয়েছে ফ্লাওভারে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পানি জমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ১১টার দিকে বৃষ্টি কম থাকলেও সাড়ে ১২টার দিকে আবার ভারী বৃষ্টি হয়; যা দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল নয়টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিন ঘণ্টা পরপর বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হিসাব করা হয়। পরবর্তী অবজারভেশনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যাবে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, রাহাত্তারপুলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে।নিচু এলাকাগুলোতে পানি বুকসমান হওয়ায় নগরীর যানবাহনগুলো ঠাঁই নেয় শহরজুড়ে বিস্তৃত সবকটি ফ্লাইওভারে। ডুবে গিয়ে অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েছে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষেরা।নগরবাসী জানান, বেলা আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নগরীর রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, রাহাত্তারপুল, আগ্রাবাদ এলাকার সড়কে হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কে যানচলাচল একেবারেই কম। ফলে ভোগান্তি পড়েছে নগরবাসী।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানি জমে দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ে। পানি নামতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে। সাদিয়া জাহান নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, আজ ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল। হল থেকে বের হয়ে গাড়ি না পেয়ে হেঁটে হেঁটে মুরাদপুর আসলাম। এখানে তো হেঁটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নাই। কোমর পর্যন্ত ময়লা পানি।নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, চট্টগ্রামে সাধারণত এমন পানি দেখা যেত টানা তিন-চারদিন বৃষ্টি হলে। এখন দেখছি ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হচ্ছে। মুরাদপুরে জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া উন্নয়নকর্মী তোফায়েলুর রহমান বলেন, যারা বৃষ্টি এবং সমুদ্রকে ভালোবাসেন, তারা চট্টগ্রামের মুরাদপুর চলে আসেন। এত পানি সমুদ্র না সড়ক বুঝার উপায় নেই।স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন দুলালের ভাষ্য, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কে জমে থাকা পানিতে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কোমরসমান, কোথাও কোথাও গলাসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।এ সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালের কালভার্ট এলাকায় মাটি ফেলে সংস্কারকাজ চলছে। যন্ত্রপাতিও রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। নগরবাসীর মতে, আসন্ন বর্ষা সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এর অংশ হিসেবে নগরের বিভিন্ন খাল ও নালা পরিষ্কারে তদারকি করছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।মঙ্গলবার বিকেলে পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, নগরের নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হওয়াই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার কারণে নালাগুলো বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ সচেতন না হলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ এখনো চলমান রয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রবর্তক এলাকার পাশে সিডিএর উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
৫ দিন আগে
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা প্রক্রিয়া শেষে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হয়েছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়েই কেন্দ্রটিতে ধাপে ধাপে শুরু হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ উৎপাদন। নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ। এই অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দেশের জ্বালানি খাতে।বিশেষজ্ঞদের মতে,পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর রি-অ্যাক্টর। এখানেই লোড হবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ বা নিউক্লিয়াস বিভাজন প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় প্রচুর তাপশক্তি। এই তাপশক্তি দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে উৎপন্ন হয় বিদ্যুৎ। এটি চলে একটি স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রি-অ্যাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।রি-অ্যাক্টরের ডিজাইন অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রি-অ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে। যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ করা হয় প্রতিটি ধাপ। জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ।এই পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রি-অ্যাকশন ঘটানো হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য লাগবে প্রায় ৩৪ দিন। পরীক্ষা শেষে রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% উন্নীত করা হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৪০ দিন। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে শুরু হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ।পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস। দুটি ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এখন প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে দেশের শিল্প, কৃষি ও নগরজীবনে নতুন গতি আসবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। সুযোগ আছে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত আয়ু বাড়ানোর। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার কোনো ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।নির্মাণচুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। অর্থাৎ এই সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এরপর বাংলাদেশকে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। তবে সেই জ্বালানি দুই বছর পর পর পরিবর্তন করলেই চলবে। পারমাণবিক বিদ্যুতের বড় সুবিধা এর জ্বালানি দক্ষতা বেশি। একটি এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা প্রয়োজন। সেখানে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লাগে প্রতি বছর মাত্র ২৭ টন।একই সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমপরিমাণ। শুধু বড়পুকুরিয়া বাদে বাকি সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল।অন্যদিকে দেশে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য খাতেও রয়েছে গ্যাস স্বল্পতা। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক বাস্তবতায় এটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিবেচিত। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হওয়ায় এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করবে। রূপপুরে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কাজ করবে।দেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রাথমিক ধারণা আসে ষাটের দশকে। ১৯৬২ সালে সম্ভাব্য ১২টি স্থান মূল্যায়নের পর পাবনার রূপপুর উপযুক্ত স্থান নির্বাচিত হয়। ১৯৭৭ সালে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘সফরাটম’ কর্তৃক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে আটকে যায় প্রকল্পটি। তবে এ উদ্যোগ বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির ভিত্তি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ১৯৮১ সালে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৮৬ সালে ঢাকার সাভারে ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার গবেষণা রি-অ্যাক্টর চালু করে। ১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক শক্তিকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তিসই হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু সংস্থা রসাটমের মধ্যে সই হয় আরেকটি চুক্তি। ওই চুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন, কমিশনিং, পরীক্ষামূলক পরিচালনা, জনবলের প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত।
৫ দিন আগে