দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। একই সঙ্গে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটিতে ভ্রমণ ও রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
তবে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে ফি দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পরিবেশ অধিদপ্তর।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমনসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ শাখা-২-এর সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। আগের সিদ্ধান্তে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ সময় পর্যটকদের দ্বীপে রাত্রিযাপনেরও সুযোগ থাকছে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমনসংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। আগের মতো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে।
এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলো বহাল রাখা হয়েছে।
সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।