পদবি সাব ডিভিশনাল (এসডি) ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু হাব-ভাব চিফ ইঞ্জিনিয়ারের চেয়েও একধাপ এগিয়ে। প্রদর্শন করেন বাহুর পেশিও। খাটান রাজনৈতিক প্রভাবও। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্টের দোসর হলেও এখন বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি। মামার দাপটে অফিসের সহকর্মী ও সিনিয়রদের সাথে করেন অসদাচরণও।আর এসবের মুল লক্ষ্যই হলো প্রকল্পের অর্থ হাতানোর কৌশল। এমন সুচতুর ‘বর্ণচোর’ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অফিসের এসডি প্রকৌশলী বর্ণ হক। এমন অভিযোগ সহকর্মী ও ঠিকাদারসহ ভুক্তভোগীদের। যার প্রমান মিলল গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এসব বিষয়ে আলাপের সময়।তথ্যগুলো সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে পাউবো চট্টগ্রাম অফিসের তৃতীয় তলায় এসডি প্রকৌশলী বর্ণ হকের অফিস কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখা যায় রাজকীয় কায়দায় সিগারেট ফুঁকছেন তিনি। এ সময় সামনে ছিলেন এক ঠিকাদার ও তার এক সহযোগী। তাদের সাথে এমনভাবে কথা বলছেন যেন তিনিই অফিসের কিং।প্রবেশের পর দেখা যায় সিগারেটের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো অফিস কক্ষ। অফিসে দাড়ানোও কাহিল হয়ে পড়ে সিগারেটের গন্ধে। একপর্যায়ে ঠিকাদার তার সহযোগীকে নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে এই প্রতিবেদকের আগমনের হেতু যান চান তিনি।ফলে প্রসঙ্গত জানতে চাওয়া হয়, টেন্ডার বিতরণে ব্যক্তিগত পছন্দের কোন সৃুযোগ আছে কি না? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সব টেন্ডার ইজিপিতে হয়, এতে কারচুপি বা কারসাজির কোন সুযোগ নেই। ইজিপি প্রক্রিয়ার জন্য বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসাও করেন তিনি।এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত ক্ষমতাবলে পছন্দের ঠিকাদার সিলেক্ট করার উদাহরণ তুলে ধরা হলে তিনি স্বীকার করে বলেন, ওটা হয় আরপিওতে। আরপিওটা রিকোয়েষ্টর। কিন্তু রিকোয়েষ্ট কে করেন, কার জন্য করেন, এ ধরণের আইনের ভিত্তি কি জানতে চাইলে তিনি সগর্বে বলেন, সেটা উচ্চ পর্যায়ের ব্যাপার।প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কমিশন হাতানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সব মিথ্যা। যেসব ঠিকাদার কাজ পাই না, তারাই এসব কথা বলে। যারা কাজ পাই তারা বলে না। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার বিষয়ে বলা হলে চেহারার চিত্র পাল্টে যায় তাঁর। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে এই প্রতিবেদককে হেয় করার চেষ্টা করেন তিনি।অফিসের সহকর্মী ও ঠিকাদারদের সাথে অসদাচরণের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের কেউ আপনাকে এসব কথা বলেনি। বলেছেন পওর-২ নির্বাহী প্রকৌশলী তানজির সাইফ আহমেদ। কিভাবে জানলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী তানজির সাইফ আহমেদ আমার একটি বিষয় চট্টগ্রামের বহু সাংবাদিককে দিয়েছেন। আপনাকেও দিয়েছেন। আপনি তার প্রোটেক্ট করতে আসছেন।কি বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা মেসেজ, এরপর তিনি চুপ হয়ে যান। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সেক্রেটারি জহিরুল হক খোকন সম্পর্কে কী হন জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ-আমি জানি তো, আমি সেটাই বলছি। কি জানেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জহিরুল হক খোকন আমার মামা। ওনাকে তানজির সাহেবের বদলির বিষয়ে একটি মেসেজ দিয়েছিলাম। ওটা আপনাকে দিয়েছে আর কি।তাহলে আপনি সরকারি চেয়ারে বসে রাজনৈতিক প্রভাবও খাটান-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। আপনার কথাবার্তা ও হাব-ভাব নাকি চিফ ইঞ্জিনিয়ার চেয়েও একধাপ এগিয়ে-এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, আপনার কথা আমি অনেক শুনেছি। আপনাকে অনেক উচু মানের সাংবাদিক ভাবতাম। ব্যক্তিগত এসব সস্তা কথা নিয়ে আপানি আমার কাছে আসবেন সেটা ভাবতে পারিনি। আপনি যা বলেছেন তা ৫-১০ হাজার টাকা দিলে সমাধান হয়ে যায়-এমন মন্তব্য করেন এসডি প্রকৌশলী বর্ণ হক।এদিকে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রকৌশলী বর্ণ হক অফিসে এসে রাজপুত্রের মত হাব-ভাব দেখান। জিম করেন, তাই পেশিগুলো দেখাতে প্রায় সময় টি-শার্ট বা হাফ হাতা জামা পড়েন। আর অফিসে জুনিয়রসহ সিনিয়রদের সাথে তুই তোখারি করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবো চট্টগ্রাম অফিসের এক এসডি আক্ষেপ করে বলেন, বর্ণ হক ব্যাচ হিসেবে আমার জুনিয়র। বয়সেও ছোট। তারপরও ওনাকে আমি আপনি সম্বোধন করি, আর ওনি করেন তুই-তোখারি। একইভাবে একাধিক ঠিকাদারও অভিযোগ করেন, পাউবোর চিফ ইঞ্জিনিয়ার থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী সকলে আমাদের আপনি সম্বোধন করেন। আর এসডি বর্ণ হক বলেন তুই বা তুমি করে।এছাড়া এমন ভাব দেখান তিনি যেন চিফ ইঞ্জিনিয়ারের চেয়েও একধাপ ওপরে। এমন ভাব চিফ ইঞ্জিািনয়ারও দেখান না। আর কথায় কথায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সেক্রেটারি জহিরুল হক খোকনের ক্ষমতা দেখান তিনি। ওনি নাকি তাঁর মামা। তাঁর এসব অসদাচারণ নিয়ে কথা বলায় পওর-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজির সাইফ আহমেদকে বদলির জন্য সেই মামার কাছে আবদার করেন বর্ণ হক।আর তার অসদাচারণ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সব কিছুর মূলই হচ্ছে প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতানোর কৌশল। ঠিকাদারদের ভাষ্য, বর্ণ হক পাউবো চট্টগ্রাম অফিসের পওর বিভাগ-১ এর অধীনে এসডি প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তিনি বর্তমানে আনোয়ারা সেকশনের দায়িত্বে আছেন। এই উপজেলায় পাউবোর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। যেখান থেকে বরাদ্দের ৩% কমিশন হাতিয়ে নেন এসডি প্রকৌশলী বর্ণ হক। এর বাইরে প্রকল্পের কাজ দেখভালেও সব খরচ বহন করতে হয় ঠিকাদারদের। অন্যথায় নানাভাবে হয়রানি করা হয় ঠিকাদারদের।ঠিকাদাররা জানান, বিগত সময়ে ফ্যাসিষ্টদের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন এসডি প্রকৌশলী বর্ণ হক। তখন ওবায়দুল কাদেরসহ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের দাপট দেখাতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি হিসেবে জাহির করেন নিজেকে। মামা পরিচয় দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সেক্রেটারি জহিরুল হক খোকনকে।এ বিষয়ে জানতে জহিরুল হক খোকনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর চট্টগ্রাম পওর-১ নির্বাহী প্রকৌশলী (সদ্য বদলিপ্রাপ্ত) শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা বর্ণ হকের ব্যক্তিগত বিষয়। আমার ডিভিশনের কোন বিষয় নয়। এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবো চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খ.ম জুলিফকার তারেক বলেন, বিষয়গুলো আমার জানা নেই। কেউ আমাকে বলেনি। অফিসের কাজে আমি এখন ঢাকায়। বুধবার ফিরে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।(বি: দ্র: পাউবো চট্টগ্রামের এসডি প্রকৌশলী বর্ণ হকের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দৈনিক ঈশান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের অনুরোধ রইল প্রিয় পাঠকদের প্রতি। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় গোপন রাখায় অঙ্গিকারাবদ্ধ দৈনিক ঈশান)
৭ দিন আগে
চারদফায় সমঝোতা হলেও সাজেকে আন্দোলনকারীদের সাথে একদফায় সমঝোতা হয়নি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে। ফলে অবরোধ চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।রাঙামাটি পার্বত্যজেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সশস্ত্র সন্তু লারমা গ্রুপের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন নিরসনে সরকারি প্রতিনিধিদল সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের প্রায় আড়াই ঘন্টা বৈঠক চলে।বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফার মধ্যে ৪টি দফায় সমঝোতা হয়। তবে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারপক্ষ তিন সপ্তাহ সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা সর্বোচ্চ পাঁচদিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই দফাই তারা একমত হতে পারেনি।এটিকে কারণ দেখিয়ে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সাজেকবাসীর পাঁচ দফা দাবি লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবরের ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি, দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ এবং সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারপক্ষ তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। তবে আন্দোলনকারী নেতারা তাতে সম্মত হননি। তারা সর্বোচ্চ পাঁচদিনের মধ্যে সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ে তাদের সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও তারা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অবরোধ চালানোর ঘোষণা দেন তারা।সভায় সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। আন্দোলনকারীদের পক্ষে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
৭ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের জন্য চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা দেখার বিশেষ সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এনজিও সংস্থা ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। চিড়িয়াখানার প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের বিনিময়ে এ সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পাঠান মো. সাইদুজ্জামান।অন্যদিকে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ) পলাশ কুমার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে নিয়মিত প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব বর্জ্য পরিবহন ও পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করবে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ।পাশাপাশি চিড়িয়াখানায় বর্জ্য ফেলার পাত্র ও সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে প্রতিষ্ঠানটি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে চিড়িয়াখানার প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হবে।
৭ দিন আগে
ভুয়া বিল বানিয়ে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অডিটরসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদক, চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদি হয়ে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।মামলার আসামিরা হলেন—রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।এছাড়া আসামির তালিকায় আরও আছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম মনজুর উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার।এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। তিনি জানান, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয়।২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই চেক ইস্যু করা হয়।পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’র নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়। অনুসন্ধানে রেলওয়ের হিসাব অধিদপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি।এজাহারের বিবরণ মতে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামে এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়। তবে ওই নারী একজন শ্রমিক। অনুসন্ধানে কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে।২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার (পূর্ব) কার্যালয়ের (এফএঅ্যান্ডসিএও) ওই সাত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রথমে বদলি করা হয়। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাত কর্মকর্তা ও কর্মচারী হলেন হিসাব কর্মকর্তা মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক শিমুল বেগম, অডিটর (ডিএফএ) পবন কুমার পালিত, হিসাব কর্মকর্তা (প্রশাসন) মো. আবু নাছের, হিসাবরক্ষক (প্রশাসন ও সংস্থাপন) সৈয়দ সাইফুর রহমান, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম এবং অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমান।জানা যায়, রেল পূর্বাঞ্চলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (সাপ্লাইয়ার) ‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’ ৩ কোটি ৬২ লাখ ৬১ হাজার টাকার কাজের বিল পায়। তাদের গত ১৮ ডিসেম্বর ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৯ ডিসেম্বর ৯০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং ২০ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ও ৭৭ লাখ ৫২ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। চেকগুলো নগদায়ন করা হয় ২১ ডিসেম্বর। এসব চেকের নম্বর ছিল যথাক্রমে আরএ-১১৩৯৩০৪, ১১৩৯৩০৬, ১১৩৯৩০৫ এবং ১১৩৯৩০৭।কিন্তু আরএ-১১৩৯০৮৫ নম্বরের আরেক চেক দিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি বিল আগ্রাবাদের সীমান্ত ব্যাংক থেকে নগদায়ন করা হয়। বিলটি উত্তোলন করেন সোহাগ আলী নামের এক ব্যক্তি। এই বিলটি নগদায়ন করার জন্য ওই ব্রাঞ্চে কসমোপলিটনের নামের একটি নতুন অ্যাকাউন্টও খোলা হয়। যেটিতে শুধুমাত্র ওই পঞ্চম চেকটি নগদায়ন করা হয়।এদিকে দেখা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর উত্তোলন করা চেকের নম্বরটি আগে দেওয়া বিলের চারটি চেকেরও আগের সিরিয়ালের। অথচ চেকের নম্বরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী চারটি চেকের পরের সিরিয়াল অনুযায়ী হওয়ার কথা পঞ্চম চেকটি।এছাড়া পঞ্চম চেকের বিষয়টি রেলের খাতায় রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ নেই, এমনকি প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পূর্ব) দপ্তর থেকেও কোনো বিলের কপি ডিভিশনাল ফাইন্যান্স অফিসে (ডিএফও) ফরোয়ার্ড করা হয়নি।এ ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রেল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বরাবরে ওই পঞ্চম চেকটি ফেরত চেয়ে চিঠি ইস্যু করে। এরপর এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই চেক এখনো ফেরত দেয়নি।
৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা এক যাত্রীর হাতব্যাগ ও পরিধান করা পোশাক থেকে ১ হাজার ৪৮২ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে আসা ওই যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করেন বিমানবন্দরের গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমসের সদস্যরা।আটক যাত্রীর নাম মো. শরীফ। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। তিনি মানিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস হজ কাফেলার সদস্য।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার বিমানবন্দরের আগমনী হলের ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় ওই যাত্রীর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে ডিজিএফআই, এনএসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবন্দর কাস্টমসের তত্ত্বাবধানে তাঁর হাতব্যাগ ও পরিধান করা পোশাক থেকে স্বর্ণের চুড়িগুলো উদ্ধার করা হয়।চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, উদ্ধার করা স্বর্ণ থেকে প্রাপ্য রাজস্বের পরিমাণ ২ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারণের পর তা বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৮ দিন আগে
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর এটি ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।রোববার (২৫ অক্টোবর) বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদফতর। বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৫.২° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১.০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।এটি আজ (২৫ অক্টোবর) সকাল ৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।তিনি আরও জানান, নিম্নচাপটি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে আজ (২৫ অক্টোবর) পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমদিকে অগ্রসর হতে পারে। এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী ২৮ অক্টোবর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে এ আবহাওয়াবিদ আরও জানান, এসময় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
৮ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ বিনা খরচে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ দিচ্ছে। গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপের আওতায় মোট ৬০০ জনকে এই সুযোগ দেওয়া হবে।বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা জন্য এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬।মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং ভিক্টোরিয়ার প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এই পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল ক্যাম্পাসটি পার্কভিলে অবস্থিত।স্কলারশিপের নাম: গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপআসনসংখ্যা: ৬০০সুযোগ-সুবিধা : সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান।প্রতি বছর আবাসন ভাতা ৩৯,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪ লাখ ৭২ হাজার ৪৮৩ টাকা।আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর অনুদান হিসেবে ৩০০০ ডলার প্রদান।স্বাস্থ্যবিমা প্রদান।আবেদনের যোগ্যতা :আবেদনকারীকে অবশ্যই মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ডিগ্রিতে স্নাতক অথবা পিএইচডির জন্য নির্বাচিত হতে হবে।স্নাতকোত্তরের জন্য স্নাতক এবং পিএইচডির জন্য স্নাতকোত্তর পাস হতে হবে।একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে।ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে।সকল জাতীয়তার শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপটি উন্মুক্ত।আবেদন প্রক্রিয়া : আবেদনকারী যদি মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাজুয়েট রিসার্চ কোর্সের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর স্নাতক অথবা পিএইচডির জন্য গবেষণা ডিগ্রিতে আবেদন করেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপের জন্য বিবেচনা করা হবে।আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র থেকে এবার পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।এর আগে গত মার্চেও শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন আদেশ জারি হয়নি। নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র পদে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে এবার তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো।স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন, আগেও প্রশাসক করার উদ্যোগচসিকের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ ও শাহাদাত হোসেনের দায়িত্ব পালন নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল জাতীয় একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নথির বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।তবে শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালতের আদেশে তার মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়, আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেননি।ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে শাহাদাতকে পূর্ণকালীন প্রশাসক করার প্রস্তাব তৈরি হলেও আদেশ জারি হয়নি। এর আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।যেভাবে মেয়র হয়েছিলেন শাহাদাত২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেছিলেন ডা. শাহাদাত। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত রায় দিয়ে মেয়র পদে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ওই বছরের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।এরপর ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন শাহাদাতের করা মামলার রায় দেন। রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
৮ দিন আগে
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। একই সঙ্গে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটিতে ভ্রমণ ও রাত্রিযাপন করতে পারবেন।তবে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে ফি দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পরিবেশ অধিদপ্তর।রোববার (২৫ অক্টোবর) সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমনসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ শাখা-২-এর সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। আগের সিদ্ধান্তে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ সময় পর্যটকদের দ্বীপে রাত্রিযাপনেরও সুযোগ থাকছে।এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমনসংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। আগের মতো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে।এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলো বহাল রাখা হয়েছে।সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
৮ দিন আগে
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এর ফলে প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের লিডসহ টাইগারদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানে। ক্রিজে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক লিটন দাস (৫*) এবং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ (০*)।এর আগে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। ওপেনার সাদমান ইসলাম (১৩), মুমিনুল হক (৭) ও ফিফটির দিকে এগোনো তানজিদ হাসান তামিম (৩১) দ্রুত বিদায় নেন।তবে চতুর্থ উইকেটে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুই ব্যাটার আফগান বোলারদের সামলে দিনজুড়ে দুর্দান্ত ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ১৫৯ রানের বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়েন।১৪৮ বল খেলে ৮১ রান করে জিয়া-উর-রহমানের বলে আউট হন মুশফিক। এর কিছুক্ষণ পর নিজের হাফসেঞ্চুরিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়ে কাইস আহমেদের শিকার হন অধিনায়ক শান্ত (২০৯ বলে ৮১)। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মাহমুদও (১) দ্রুত ফিরে যান।আফগানিস্তানের হয়ে জিয়া-উর-রহমান ও ইয়ামিন আহমদজাই ২টি করে উইকেট শিকার করেন। হাতে ৪ উইকেট রেখে ৩২৯ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এখন চতুর্থ দিনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে আফগানদের সামনে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার অপেক্ষায়।
২২ দিন আগে
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল শনিবার। ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন।কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রে ওএমআর শিট দেওয়ার ২ মিনিটের মাথায় জানানো হয়, পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ চাকরী প্রার্থীরা এখন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। শূন্য পদ ছিল ২৪২টি। বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ প্রার্থী। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রয়েছেন।সূত্র মতে, সরকারি ছুটির দিন শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোয় ছিল বাড়তি ভিড়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আগারগাঁও, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনে যাত্রীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। এর অন্যতম কারণ ছিল এই নিয়োগ পরীক্ষা।কক্সবাজার থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন ফরিয়া ফেরদৌস। কারওয়ান বাজার মেট্রোরেলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি জানান, অনেক কষ্টে সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে তাঁদের হাতে ওএমআর শিট দেওয়া হয়। এর ২ মিনিটের মাথায় হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কক্ষে এসে জানান, অনিবার্য কারণে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ওএমআর শিট হাতে নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পর এমন ঘোষণা শুনে হতবাক হয়ে যান ফরিয়া।নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক পরীক্ষার্থী বলেন, সারা দেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ চাকরি প্রার্থী ঢাকায় এসেছেন। তাঁদের যাতায়াত, খাওয়া ও থাকার খরচ কম নয়। পরীক্ষা বাতিলের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কে নেবে? তাঁর প্রশ্ন, চাকরিপ্রার্থীদের এই ভোগান্তির কি কোনো মূল্য নেই? তিনি ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের জন্য সরকারের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত থেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ও প্রশ্নের নমুনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁদের দাবি, বিষয়টি আগে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তাঁরা কেন্দ্রে প্রবেশ করার পর এবং ওএমআর শিট হাতে পাওয়ার পর পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।পরীক্ষার্থীরা বলেন, দূর থেকে ঢাকায় আসা, যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে, তা তাঁদের নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে। পরীক্ষা না হওয়ায় সেই খরচও বিফলে যায়। প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তাঁরা।একই সঙ্গে পরীক্ষা বাতিলের কারণে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থানও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণার পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা পরীক্ষার্থীদের একাংশ সড়কে বিক্ষোভ করেন। ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়ক ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও মীরপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে ঘটনাও ঘটে।ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন একটি নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিতে হয়। অনেকে চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিবার ও পড়াশোনার দায়িত্ব সামলান। দূরের জেলা থেকে পরীক্ষা দিতে এলে যাতায়াত ও আবাসনের খরচও যোগ হয়। ফলে পরীক্ষা বাতিলের প্রভাব শুধু একটি দিনের সময় নষ্ট হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।পরীক্ষার্থীদের দাবি, নতুন পরীক্ষার তারিখ দ্রুত ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি যাঁরা দূরদূরান্ত থেকে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা অন্য কোনো প্রতিকার বিবেচনা করতে হবে। তাই এখন প্রশ্ন শুধু পরীক্ষা কবে হবে, তা নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাজহারুল হক বলেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার নতুন তারিখ দেওয়া হবে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।প্রশাসন শাখার পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিশ্ব ব্যাংকের ২০২৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরির সীমিত পদে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছে তাই প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষা দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত।পরীক্ষা আয়োজনের আগে প্রশ্নের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের আশঙ্কা দেখা দিলে সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের ওপর যে আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়, সেটিও উপেক্ষা করা যায় না।
২২ দিন আগে