দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দূর্নীতির মামলায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ক্লারিকাল সুপারভাইজার ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে (৫৭) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ রায় দেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কবির হোসেন।তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে গণ্য করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় আগে কোনো কারাভোগ করে থাকলে তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় জব্দ করা সব আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মালখানার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় নাছির উদ্দিনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।মামলার নথি ও দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মাত্র ২৩০ টাকা মূল বেতনে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে পিয়ন বা অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন নাছির উদ্দিন। পরে ট্যাংক লরি হেলপার থেকে চেকার এবং এরপর ক্লারিকাল সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ও সিবিএর সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করেন নাছির উদ্দিন।দুদকের অভিযোগ, এসব পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ তার বিপুল সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে। ২০১৯ সালের ১২ মে দুদকে সম্পদের বিবরণী জমা দেন নাছির উদ্দিন। সেখানে তিনি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।পরে দুদকের অনুসন্ধানে তার ২ কোটি ১১ লাখ ৭১ হাজার ১৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের তথ্য পাওয়া যায়। একইসঙ্গে ২ কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্যও পাওয়া যায়।এই অভিযোগে ২০২৩ সালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।এই সময়ে গা ঢাকা দেন তিনি। যদিও পদ্মা অয়েল পিএলসি থেকে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। নিয়মিত অফিস না করেও তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। এ কাজে পদ্মা অয়েলে পিএলসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে সহযোগীতা করেছেন। আর এই দীর্ঘ সময়ে সাক্ষ্য, প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার সাজার রায় দেন।
৪ দিন আগে
ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি, ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, উত্তম চৌধুরী, শাহজাহান কবির ও সিবিএ নেতা মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি এমন অভিযোগ হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবরে। লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন সিইউএফএল এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযোগে মিজান-আরিফ-উত্তম-শাহজান চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।মিজান-আরিফ-উত্তম-শাহজানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগঅভিযোগে বলা হয়, সিইউএফএল’এর ইজিপি নির্দেশিকা অমান্য করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান ও পছন্দের ঠিকাদারকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় প্রদান করে সরকারের ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা চালান এমডি মিজানুর রহমান।পরবর্তীতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ সেই টেন্ডার বাতিল করে এবং নতুন ইজিপি দরপত্রে সরকারের ৫৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়।লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবির সিইউএফএলের আশে পাশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন শাহজাহান কবির। নিজ এলাকায় তিনি বিঘায় বিঘায় জায়গা জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।এছাড়া অচল পরিবহন পুলের গাড়ি সচল দেখিয়ে ভুয়া জ্বালানি খরচ এবং কারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও চোরাই বাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এছাড়া এমডির মদদে মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলাম বিগত দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হাজিরা খাতায় ‘ব্যাক ডেটে‘ ভুয়া স্বাক্ষর এবং ক্যাজুয়াল ছুটির নথি তৈরি করা হয়।অভিযোগে দাবি করা হয়, ২০২২ সাল থেকে সিবিএ নির্বাচন বন্ধ রেখে কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে পছন্দের লোক বসিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে দুই অভিযুক্তই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।নিয়ম ভেঙে সিইউএফএলের বিদ্যুৎ বিক্রি হচ্ছে বাইরেতথ্য সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) নিজস্ব বিদ্যুৎকন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়ম ভেঙে সংলগ্ন বাজারের দোকানপাট ও আবাসিক ভবনে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমতি নেই বলে জানা গেছে। ফলে এই বিদ্যুৎ বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়া বাজারের শতাধিক দোকান ও বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সিইউএফএলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সংযোগ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় হয় বলে জানা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিল বকেয়া রেখেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগের তীর এমডি মিজানুর রহমান, মাস্টার আরিফুর ইসলাম, উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। সিইউএফএল থেকে তিনটি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। পরে ঐ সংযোগ ব্যবহার করে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও বসতঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিইউএফএলের কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। সেখানে দুটি স্টিম টারবাইন জেনারেটর (এসটিজি) ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আর ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্থাপিত বিদ্যুৎকন্দ্রের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাইরে সরবরাহ বা বিক্রি করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু নিয়ম কানুনের ব্যতয় ঘটিয়ে উত্তম চৌধুরী, শাহজাহান কবির, এমডি মিজানুর রহমান ও সিবিএ নেতা আরিফ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন।কার কত সম্পদঅভিযোগের তথ্যমতে, এমডি মিজানুর রহমান ভোলা জেলার চড়পাতা গ্রামে দোতলা বাড়ি এবং নরসিংদী জেলায় একটি ৭ তলা ভবন নির্মাণসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এবং নিজ গ্রামে কাঁড়ি কাঁড়ি জায়গা-জমি কিনেছেন, স্ত্রী নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, এবং দুর্নীতির টাকা সাদা করতে কাছের আত্মীয় স্বজনের নামেও খুলেছেন ব্যাংক একাউন্ট।অন্যদিকে মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামও নিজ গ্রামে পাকা বিল্ডিং ও ঢাকায় নামে–বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনেছেন, তিনিও তার গ্রামের বাড়িতে কিনেছেন জায়গা-জমি, কিনেছেন ফ্ল্যাট, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামে করেছেন এফডিআর।এছাড়া অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবিরও। নিজ এলাকায় তিনি বিঘায় বিঘায় জায়গা জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।যা দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্ট অপরাধ। অনিয়মের তথ্য ফাঁস করায় তাঁদের মিথ্যা অভিযোগে বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিইউএফএল–এর সাধারণ কর্মচারীরা।একচ্ছত্র আধিপত্য আরিফেরজানা গেছে, সিইউএফএলএ আরিফের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর চলছে জুলুম। সিবিএ নির্বাচনে তার সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রবিউল ইসলাম খান ও এমরান খানকে সম্প্রতি বিসিআইসিতে তদবির চালিয়ে অন্যত্র বদলি করিয়ে দেওয়া হয়েছে!সাধারণ শ্রমিকদের দাবি—ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি প্রশ্রয় আর যোগসাজশেই আরিফ আজ এত বেপরোয়া। কারখানার এমডি মিজানুর রহমান নিজে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকায়, আরিফের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এই পুরো সিন্ডিকেটকে পাহারা দিচ্ছেন এবং আরিফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ বিষয়ে কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, ইচ্ছে থাকলেও কিছু করার নেই। তিনি কারখানার অঘোষিত সিবিএ নেতা। তাকে বিসিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমীহ করেন, ফোন করে খোজ খবর নেন। তিনি আরও বলেন, আরিফের কর্মস্থলে না আসার বিষয়টি আমি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছেন, কিছু বিষয় দেখেও না দেখার ভান করতে হয়। তাই অপারগ হয়ে মেনে নিচ্ছি’।অভিযুক্তদের মুখেও মিলল সত্যতাঅভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইউএফএল এর সিবিএ নেতা মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন বঞ্চিত শ্রমিকদের পক্ষ হয়ে কাজ করতেছি, কিছুদিন আগে ১১ জনকে অফিসার পদে এবং ১০০ জনের মত শ্রমিককে পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তারা খুশিমনে যা দিয়েছে তা গ্রহণ করেছি, আরও অনেকে এখনো কিছু দেয়নি। আমি মাঝে মাঝে বিমানে করে ঢাকায় যায়, জরুরি কাজে। আমার চাকরি জীবনে আমরা ৩৬ জন বন্ধু মিলে জায়গা ক্রয় করে ঢাকার বাড্ডায় ১০ তলার ভবন তৈরি করতেছি। সেখানে আমার একটি ফ্ল্যাট আছে। আর কিছু নেই আমার।সিএফইউএলের প্রধান রসায়নবিদ ও উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উত্তম চৌধুরী বলেন, সিএফইউএলের বিদ্যুৎ বাহিরে বিক্রি করার কোন অনুমতি নেই, আমরা ইউরিয়া তৈরি করি, আমার জানমতে এসব দেখাশুনা করেন এমটিএস বিভাগের (জিএম) শাহজাহান সাহেব, উনি এই বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে আছেন, উনি ভালো বলতে পারবেন।কিন্তু এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি। এমনকি হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোন সদু্ত্তর পাঠাননি।এমডি মিজানের দম্ভ অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে সিএফইউএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, দুদকে আবেদন কে দিয়েছে কারা দিয়েছে। দুদকে আবেদন করেছে দুদক দেখুক, ওরা তদন্ত করে দেখুক। আমরা যদি অনিয়ম করে থাকি অবশ্যই ব্যবস্থা হবে। দম্ভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার অফিসে সব কাগজপত্রের রেকর্ড আছে, দুদক দেখুক সব কিছু। কিছুই হবে না আমাদের।
৪ দিন আগে
আগামী ১৬ েেসপ্টম্বর বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম রিজিওনাল টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে এ টুর্নামেন্ট। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে ২১ সেপ্টেম্বর হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিসিবি পরিচালক ও রিজিওনাল টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের ট্রফিও উন্মোচন করা হয়।মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, স্থবিরতা কাটিয়ে চট্টগ্রামের ক্রিকেটকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে আমরা এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি। টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলাকে চারটি জোনে ভাগ করে দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে স্থানীয় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দুজন করে উদীয়মান ক্রিকেটার রাখা হয়েছে।তিনি জানান, জোন চারটি হলো ই¯পাহানি কর্ণফুলী, ফোর্টিস ময়নামতি, ফিজআপ ভুলুয়া ও সা¤পান। এর মদ্যে চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম মহানগর নিয়ে গঠিত ই¯পাহানী কর্ণফুলীর পৃষ্ঠপোষকতায় ই¯পাহানি গ্রুপ অব কো¤পানিজ। কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে গঠিত ফোর্টিস ময়নামতির পৃষ্ঠপোষকতায় ফোর্টিস গ্রুপ। নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর নিয়ে গঠিত ফিজআপ ভুলুয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় নোয়াখালী জেলার বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ বিন বেনী আমীন চৌধুরী। আর রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার নিয়ে গঠিত সা¤পানের পৃষ্ঠপোষকতায় বিসিবি পরিচালক সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ।সূত্র মতে, আগামী ১৬, ১৭ ও ১৯ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর হবে ফাইনাল। আয়োজকরা জানান, দর্শকদের জন্য প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে এন ¯েপার্টস। পাশাপাশি ক্রিকহিরোজ অ্যাপে ম্যাচের বল-বাই-বল লাইভ স্কোর পাওয়া যাবে।টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহযোগিতা করছে পিএইচপি গ্রুপ, ই¯পাহানি গ্রুপ, ফোর্টিস গ্রুপ, বিসিবি পরিচালক সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ, সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর, ইস্রাফিল খসরু, সাকিফ আহমেদ সালাম, বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ বিন বেনী আমীন চৌধুরী এবং আবু সাদাত মো. সায়েম।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম, পিএইচপি মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আখতার পারভেজ, পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক নাভিদ ইকবাল, বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ বিন বেনী আমীন চৌধুরী এবং ই¯পাহানি টি ট্রেড লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার মো. ফতেহ আমিন তারেক। সংবাদ সম্মেলন শেষে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করা হয়।
৪ দিন আগে
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এই নির্বাচন। সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নে ভোট হবে সাতটি ধাপে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।৭ ধাপের নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ হবে ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ভোট হবে ৩০ ডিসেম্বর। আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট গ্রহণ হবে।নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। সেবারও কয়েক ধাপে হয়েছিল ভোট। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনও অনেকটাই একতরফাভাবে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিতরা আত্মগোপনে চলে যান, অনেকে গ্রেপ্তারও হন।তখন অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের বরখাস্ত করে সেখানে প্রশাসক বসায়। ইউনিয়ন পরিষদগুলো ভেঙে না দিলেও বহু ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় তাদের বরখাস্ত করা হয়।এতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে গতিহীনতা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে নির্বাচনের দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পর এখন ইউপি নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে। এরপর সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) কে দেশের জন্য প্রচুর সুবিধা বয়ে আনা সোনার ডিম পাড়া হাঁস বলে অভিহিত করে বলেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পুরো হাঁসটিকেই গিলে ফেলার চেষ্টা করছে।জাতীয় স্বার্থে আমরা এ ধরনের কোনো উদ্যোগ কিছুতেই মেনে নেব না। এই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় বন্দর রক্ষা পরিষদ।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড-কে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগরীর বারিক বিল্ডিং এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। মিছিলটি বন্দর অভিমুখে এগিয়ে দুই নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশের অনুরোধে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।সমাবেশে দেলোয়ার মজুমদার আরও বলেন, পরিষদ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। এই আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার আগেই সরকারকে ঘোষণা দিতে হবে যে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়া হবে না।ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)-এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর হলো বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোকে কোনো বিদেশি কো¤পানির হাতে তুলে দেওয়া কখনোই জাতীয় স্বার্থের অনুকূল হতে পারে না।তিনি আরও বলেন, টার্মিনালগুলো ইজারা দেওয়ার যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বন্দরের স¤পদ ও অবকাঠামো জনগণের স¤পত্তি। দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি কো¤পানির কাছে এ ধরনের জাতীয় স¤পদ হস্তান্তর করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে শ্রমিক ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন বলেন, বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সাথে জড়িত একটি কৌশলগত স্থাপনা।তিনি বলেন, টার্মিনাল পরিচালনার নামে কোনো বিদেশি কো¤পানিকে এনসিটি ও সিসিটির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তার মারাÍক বিরূপ পরিণতি হতে পারে। তিনি বন্দর ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানান এবং ইজারার এই প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।শ্রমিক নেতা কাজী শেখ নূরুল্লাহ বাহার বলেন, জনগণের স্বার্থে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত যদি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তবে তা বাস্তবায়ন করা যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো বিদেশি অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে সরকারের উচিত বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং দক্ষ কর্মী নিয়োগের ওপর জোর দেওয়া।তিনি আরও দাবি করেন যে টার্মিনালগুলো ইজারা দিলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং বন্দর শ্রমিকদের চাকরি, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা ইজারা প্রস্তাব বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে বন্দরের দিকে পদযাত্রা করেন। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।
৪ দিন আগে
পরকীয়ার অপবাদে সালিশি বৈঠকে অপমানের শিকার হয়ে আত্নহননের চেষ্টা করা গৃহবধু অঞ্জনা দাসের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুস সালেহীন। তিনি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর অঞ্জনা দাসকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু ঘটে। নি:সন্তান অঞ্জনা দাস রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব চন্দ্রঘোনা হিন্দুপাড়ার কাঞ্চন দাস ওরফে লাল সাধুর স্ত্রী। ঘটনা নিশ্চিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিনও। তিনি বলেন, এই ঘটনায় মৃত্যু প্ররোচনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এলাকাবাসী সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে অঞ্জনা দাসের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন তার স্বামী কাঞ্চন দাস। অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় একটি সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকে স্থানীয় সালিশানদের সামনে এক যুবকের সাথে অঞ্জনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়। যার ফলে তাকে চরম সামাজিক ও মানসিক অপমানের মুখে পড়তে হয়।জনসমক্ষে এই অপমান সহ্য করতে না পেরে গত ৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেন অঞ্জনা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহবধূর এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
৪ দিন আগে
চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধার এবং সাজানো অপহরণের ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে র্যাব-৭। একই সঙ্গে সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে যৌথ বাহিনীর ক্যা¤প বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।র্যাব-৭ অধিনায়ক জানান, ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা থেকে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্রের ৮৪ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। বাকি ১৬ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে র্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পুরো সমাজের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই ভয় না পেয়ে পরিত্যক্ত বা অন্য কোনোভাবে পাওয়া অস্ত্র র্যাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কেউ অস্ত্রের সন্ধান দিলে কিংবা গোপন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ভুয়া অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'সম্প্রতি তিনটি অপহরণের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে- একজন অনলাইন জুয়ায় ৩ লাখ টাকা হেরে আত্নগোপন করেছিলেন।একজন স্বজনদের বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং অন্যজন পরিবারের ওপর রাগ করে চলে গিয়েছিলেন। এ ধরনের সাজানো অভিযোগে বাহিনীর দীর্ঘ সময় ও জনবল অপচয় হয়, যা প্রকৃত অপরাধ দমনে বড় বাধা সৃষ্টি করে।জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সেখানে যৌথ বাহিনীর ক্যা¤প স্থাপনের পর থেকে কোনো বড় ধরনের অপরাধ ঘটেনি। পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে ক্যা¤প প্রত্যাহার করা হবে না। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি অপরাধীদের ছদ্মবেশে অবস্থান ঠেকানোসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক নজরদারির বহাল থাকবে।
৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সন্তান শিশু রায়হান। বয়স সবে মাত্র ১২। সাত মাস আগে চুল কাটাতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রায়হান। সেই ূেথকে ছেলেকে খুঁজেছেন বাবা-মা, স্বজনেরা।তবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ উপজেলার চুনতীতে ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় হঠাৎ ছেলের দেখা পান স্বজনেরা। তবে যে রায়হানকে খুঁজছিলেন, তাকে দেখে আনন্দে নয়, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা। কারণ, রায়হানের একটি পা নেই।পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়হান চুনতি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি হেফজখানার শিক্ষার্থী ছিল বলে জানান লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক।ওসি বলেন, রায়হানের ভাষ্যমতে, সালমা নামেরেএক নারী তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। পরে লোহাগাড়ার চুনতীগামী একটি গাড়িতে তুলে দেন। তাকে বলা হয়, মাহফিল শেষ করে বাড়িতে গিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে।ওসি আরো বলেন, রায়হানকে উদ্ধারের পর তার বাবা থানায় এসে ছেলে পা হারানোর ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন। যেহেতু শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে, তাই সেখানে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ওসির ভাষ্য, শিশু রায়হান ফিরে আসায় পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুরু হয়েছে আরও বড় এক অপেক্ষা—রায়হানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে হারাল তার একটি পা?এছাড়া কীভাবে শিশুটিকে চুনতীতে আনা হলো, কারা তাকে নিয়ে এল এবং ঢাকায় তাকে আটকে রাখার অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।এদিকে সাত মাস ধরে নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর স্বস্তি পাওয়ার কথা ছিল নাজিম উদ্দিনের। কিন্তু সন্তানের শরীরের দিকে তাকিয়ে সেই স্বস্তি যেন প্রতিমুহূর্ত বিষাদে পরিণত হচ্ছে।নাজিম উদ্দিন বলেন, সাত মাস ধরে ছেলেকে কোথায় খুঁজিনি। অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি। অবশেষে ছেলেকে পেলেও সুস্থ অবস্থায় পাইনি। যারা আমার ছেলের এ অবস্থা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচার চাই।’রায়হানের বাবা আরও অভিযোগ করেন, শিশুটিকে আটকে রাখার সময় তার একটি কিডনি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির পেটে ও পিঠে অস্ত্রোপচারের মতো চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।তবে চিকিৎসা পরীক্ষা ছাড়া কিডনি অপসারণের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে শিশুটির পা কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেটিও চিকিৎসা নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।রায়হানকে উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি শিশু সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর এক পা হারানো অবস্থায় ভিক্ষা করতে ফিরে আসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ নুরুচ্ছফা বলেন, ছেলেটির এমন অবস্থা দেখে আমরা মর্মাহত। সে কোথায় ছিল, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে তার পা হারাল—সবকিছু তদন্ত করে বের করা দরকার।পরিবারের ভাষ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চুল কাটানোর জন্য বাবার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়েছিল রায়হান। পথে একটি মিছিলের গাড়িতে ওঠে সে। গাড়িটি কক্সবাজারে চলে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফিরতে পারেনি রায়হান।রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বডি ম্যাসাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত সে। সেখানেই এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। রায়হানের দাবি, ওই ব্যক্তি খাবার ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি একটি টিনের ঘেরা কক্ষে ‘সালমা’ নামের এক নারীর কাছে তাকে দেওয়া হয়।রায়হানের অভিযোগ, ওই নারী ও তার সহযোগীরা তাকে সেখানে আটকে রেখে ভিক্ষা করতে বাধ্য করতেন। ওই কক্ষে আরও ১৫ থেকে ২০ জন ছেলে-মেয়ে ছিল। তাদের কারও হাত, কারও পা কাটা ছিল বলেও সে জানায়। রায়হানসহ অন্য শিশুরা ওই নারীকে ‘নানী’ বলে ডাকত।সেখানে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্রও দেখেছে বলে দাবি রায়হানের। তার ভাষ্য, ভিক্ষা করে আয় কম হওয়ায় দুই থেকে তিন মাস পর এক রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি পা কেটে দেওয়া হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের একটি পা না থাকার বিষয়টি দেখতে পায় রায়হান। পরে তাকে বলা হয়, ট্রেন দুর্ঘটনায় তার পা কাটা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে তাকে আবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিক্ষা করতে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে জানায় সে।চট্টগ্রামের আইনজীবী নওশাদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, শিশুটির বক্তব্যের পাশাপাশি তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য, পরিবারের করা জিডি বা মামলা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং তাকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। কিডনি অপসারণের অভিযোগ সত্য কি না, চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা দরকার।
৪ দিন আগে
এক সময় জমজমাট ছিল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর পাশে গড়ে ওঠা জমিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান স্টিল মিলস। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৮০ দশক থেকে যেখানে শুরু হয় অস্থিরতা। এই অস্থিরতার মুলে ছিল শ্রমিকদের রাজনীতি। যারা দলীয় পরিচয়ে শ্রমিক সংগঠন সিবিএ‘র নামে নানা দাবি নিয়ে প্রায়ই আন্দোলন কর্মর্সূচি চালাত।করত মিছিল-সমাবেশ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি। কমেই শুরু হয় যন্ত্রাংশ চুরি ও পাচারসহ লুটপাট। যার ফলে কারখানাটি ক্রমেই লোকসানের মুখে পড়ে। এভাবে কালক্রমে বন্ধ হয়ে যায় এই স্টিল মিলস। মিলের যন্ত্রাংশে ধরে জং, শেড হয়ে পড়ে পরিত্যক্ত। আর সেই পরিত্যক্ত কারখানার জায়গায় গড়ে উঠে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল-কেইপিজেড।যেখাানে গড়ে উঠে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নাইকি, আডিডাস, জারা, পুমা ও এইচ অ্যান্ড এম, এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর টেকনিক্যাল ¯েপার্টসওয়্যার, ক্যা¤িপং টেন্ট ও হাই-টেক গিয়ার, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা।এসব কারখানায় অটোমেটেড মেশিনে তৈরি হচ্ছে দামি সব রপ্তানি পণ্য। যেখানে সরাসরি দেশের ৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর এ পর্যন্ত রপ্তানি আয় হয়েছে ১৪.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা)-এর সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মোহাম্মদ তানভির হোসেন।তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যখন পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের পরিত্যক্ত জমিতে এই ইপিজেড চালু করা হয়, তখন প্রথম বছরে মোট বিনিয়োগ এসেছিল মাত্র ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অবকাঠামোগত সুবিধা, সরাসরি কর্ণফুলী নদী ও চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে অবস্থান এবং দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে দ্রুত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বড় গন্তব্যে পরিণত হয় কেইপিজেড।দুই দশকের ব্যবধানে সেই প্রাথমিক বিনিয়োগ এখন ৭৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেম যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বর্তমানে চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তাদের ৪০টি পূর্ণাঙ্গ কারখানা এখানে নিয়মিত পণ্য উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।বিনিয়োগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেইপিজেড থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির চিত্রটি আরও বেশি ঈর্ষণীয়। শুরুর বছরে যেখানে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। সেখানে গত ২০ বছরে কর্ণফুলী ইপিজেডের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, এই বিশাল রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে বিশ্বমানের প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন বা পণ্যের বৈচিত্র থেকে। সাধারণ টি-শার্ট বা ট্রাউজার তৈরির গন্ডি পেরিয়ে কেইপিজেড এখন উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত হাবে রূপান্তরিত হয়েছে।বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড যেমন, নাইকি, আডিডাস, জারা, পুমা ও এইচ অ্যান্ড এম, এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর টেকনিক্যাল ¯েপার্টসওয়্যার, ক্যা¤িপং টেন্ট ও হাই-টেক গিয়ার, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্য এখন তৈরি হচ্ছে ইপিজেডে।কর্ণফুলী ইপিজেডের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধরা হয় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর ইতিবাচক প্রভাবকে। ২০০৬ সালে যখন উৎপাদন শুরু হয়, তখন পুরো ইপিজেডে শ্রমিক ও কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট জনবল ছিল মাত্র ১৭৪ জন। দুই দশক পর আজ সেখানে সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের।মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকের মতে, কেইপিজেডের মোট ৮০ হাজার কর্মীবাহিনীর প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। কুমিল্লা, বরিশাল, নোয়াখালী, চাঁদপুর, রংপুর, খুলনাসহ চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী সামাজিক পরিবর্তন এনেছে নারীকর্মীদের বিশাল এই অংশগ্রহণ।এর ফলে স্থানীয় হাউজিং, ব্যাংক, রিটেইল মার্কেট ও লজিস্টিকস খাত মিলিয়ে পরোক্ষভাবে আরও দেড় লাখের বেশি পরিবার অর্থনৈতিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে বলে মত প্রকাশ করেছেন কর্ণফুলী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন আরও ৫টি নতুন কারখানা চালু হলে মোট প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান দ্রুতই ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজের ভাষ্য, কেইপিজেড দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে যে ব্রান্ড ইমেজ তৈরি করেছে তাতে প্রচুর আগ্রহ আছে। কিন্তু ইপিজেড এলাকায় এখন খালি কোন প্লট নেই।তাঁর মতে, দুই দশক আগে স্টিল মিলসের জায়গায় ইপিজেড গদে তোলা হলেও পরে তার আওতা বাড়েনি। কিন্তু জ্যামিতিক হারে বেড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রপ্তানি আয়। কেইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ আগ্রহ থাকলেও কোনো প্লট খালি নেই। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে ইপিজেডের পরিধি বাড়ানো হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেহারা আরও পাল্টে যেত।অর্থনীতিবিদদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে একটি পরিত্যক্ত জমি যে রাষ্ট্রের স¤পদে পরিণত হয়ে অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে কেইপিজেড তার বড় উদাহরণ। এমন পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। নিতে হবে নতুন উদ্যোগ।উল্লেখ্য, বন্দরসংলগ্ন হওয়ার কারণে কাঁচামাল খালাস এবং ফিনিশড গুডস জাহাজীকরণে কেইপিজেড অনন্য সুবিধা পায়। সে সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও নদীর কাছাকাছি ভৌগোলিক সংযোগ 'লিড-টাইম' বা পণ্য সরবরাহের সময় আরও কমিয়ে আনার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
৬ দিন আগে
ডেঙ্গু থেকে মানুষকে রক্ষায় খাল-নালা পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ ময়লা খাল ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর অন্যতম স্থান। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতেও খালগুলো পরিষ্কার রাখা জরুরি।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর এলাকায় মৃতপ্রায় কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সাড়ে ছয় শতাধিক কর্মী অংশ নেন।হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখন বড় সমস্যা হচ্ছে ডেঙ্গু সমস্যা। ডেঙ্গুর লার্ভা এটা জন্মই নেয় এই ধরনের ময়লা খাল থেকে। জনগণকে যদি আমাদের বাঁচাতে হয় তাহলে এই খালগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে।স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের সেরা সন্তান এই ছেলেমেয়েরা। কারণ এরা কোনো টাকা-পয়সা বা স্বীকৃতি চায় না। তারা নিজ ইচ্ছায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করে। আবার যখন মাঠে নামতে হবে, নেমে যাচ্ছেন। এই স্বেচ্ছাসেবকরা কোনো কাজ অর্ধেক করেন না। পুরো কাজ শেষ করে তারপরই যান।পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে পূর্বে নেওয়া উদ্যোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে বিনামূল্যে ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই তা ব্যবহার করেননি। যেহেতু বিনামূল্যে দেওয়া হয়, দেখতে সুন্দর এবং নতুন ছিল-সেজন্য ডাস্টবিনগুলো কেউ ব্যবহার করছিল না। আশপাশে ময়লা ফেলত, কিন্তু ভেতরে ফেলত না।সরকারের মাত্র ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে সাফল্য বা ব্যর্থতা বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ছয় মাস অনেক কম সময়। আপনি ছয় মাসের মধ্যে একটা সরকারের সাকসেস অথবা ফেইলিয়ার আপনি বুঝতে পারবেন না। একটু সময় দেন আমাদেরকে, ইনশাআল্লাহ আপনাদেরকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখাব যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কী করতে পারে।কর্মসূচিতে বিডি ক্লিনের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম রবি জানান, সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে দেশের ৫৭টি জেলা ও ১৬৫টি উপজেলায় তাদের টিম রয়েছে।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মাদকাসক্ত একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও মা কল্পনা দাশের (৫৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)কেও আটক করেছে পুলিশ।গত ২৫ জুলাই দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতা মোহন ধরকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত পুত্র রিটন ধর।নগরীর নন্দনকাননেও মাত্র একশ টাকার জন্য শিশুর গলায় ব্লেড দিয়ে পোচ মেরে হত্যার চেষ্টা করে মো. হেলাল নামে এক মাদকাসক্ত কিশোর। কাজির দেউড়িতে রঞ্জন বড়ুয়ার প্রাণ যায় পুত্র রবিন বড়ুয়ার ছুরিকাঘাতে। কাট্টলীতে প্রতিবেশী সন্ধ্যা রাণীকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত সত্যজিৎ ঘোষ।চান্দগাঁও এলাকায় বড় ভাই সাজুর কাছে ১০টি ইয়াবা রেখে তা ফেরত না পেয়ে কুপিয়ে খুন করেন ছোট ভাই মুন্না। সর্বনাশা নেশার ছোবলে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে রিটন ধর, মো. হেলাল, রবিন বড়ুয়া, সত্যজিৎ ঘোষ, মুন্নারা। তারা প্রিয়জনদের খুন করছে।সর্বনাশা মাদক এভাবে মা-বাবা-ভাই-স্ত্রীসহ পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করছে। নেশার ঘোরে বেঘোরে মানুষ মারছে মাদকাসক্তরা। পুড়িয়ে দিচ্ছে নিজের ঘরবাড়ি। পরিবার-সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। ছাড়খার হচ্ছে সংসার ও পরিবার।বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণসহ নানা অপরাধসিএমপির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো যেসব অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্তের কারণে। মাদক কেনার জন্য কিশোর-যুবক থেকে পথশিশুরা পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ে লিপ্ত হচ্ছে।সিএমপির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৮৬টি। তবে মে ২০২৬-এ কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩৮০টি-তে নেমে আসে। বিগত ১৭ মাসে সিএমপিতে মাদক সংক্রানমশ মামলা দায়েরের হার প্রায় ৩৭.৪৮ শতাংশ কমেছে। কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির কারণে এই প্রবণতা কমতির দিকে। সাম্প্রতিক অপরাধ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে সিএমপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, মহানগরী এবং জেলায় প্রতিনিয়তই মাদকাসক্তের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনায় জড়িতদের বিরাট অংশ মাদকাসক্ত। নেশার সাথে অপরাধের গভীর স¤পর্ক রয়েছে। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা জোগাতে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারেও চলছে খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদক বহনকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে যারা তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন প্রতিরোধ পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।সূত্র মতে, দেশে মাদকের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল। ইয়াবার ট্রানজিট রুট এখন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমার সীমান্তে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য কারখানা। সেখানে উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এদেশে। সাগর, সড়ক আর পাহাড়ি পথে ইয়াবার চালান আসছে। সরকারি তরফে ভারতীয় ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করা হয়েছে দাবি করা হলেও পরিস্থিতি তার উল্টো। কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই ফেনসিডিলের চালান ঢুকছে চট্টগ্রামে।র্যাব-পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিলের চালান। তবে উদ্ধার মাদকের অন্তত ১০ গুণ নিরাপদে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। নিত্যনতুন কৌশলে হচ্ছে মাদক পাচার। বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাত বাড়ালেই মিলছে নেশা। আর তাতে বেড়েই চলেছে আসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। নিকট অতীতেও মহানগরীর বস্তি এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত দেখা যেত। এখন পল্লীগাঁয়েও মাদকাসক্তদের দাপট।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। ইয়াবা ফেনসিডিল দুটোই সীমান্ত হয়ে আসছে। মাদকের উৎস বন্ধ করা না গেলে সর্বনাশ বন্ধ করা যাবে না। আর এজন্য সব সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র্যাব-পুলিশ মাঝে মধ্যে ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কিছু মাদকসেবীকে জরিমানা করা হলেও সবকিছু চলে আগের মত। মাদকাসক্তদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও তেমন উদ্যোগ নেই। মাদকাসক্তদের নিরাময়ে সরকারি একটি এবং বেসরকারি ১৬টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপবিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, হতদরিদ্রের বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশা ইয়াবা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিলসহ নানা ধরণের মাদক। মাদকের আগ্রাসন রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ারে মারা গেছে অসংখ্য মাদকের কারবারি। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াল আগ্রাসন। বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।তিনি বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোরেরা বিপথে যাচ্ছে। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে। চাকরি পেতেও ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে যুবসমাজের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ হতাশা থেকে অনেকে মাদকাসক্ত হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচারের সাথে মাদক যুক্ত হওয়ায় কম বয়সে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু মাদকের বিস্তার স¤পর্কে বলেন, মাদকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির গভীর স¤পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান কম। এ কারণে বেকার যুবকেরা হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মাদকের প্রতি ঝুঁকছেন। ফলে বাংলাদেশ এখন মাদকের রমরমা বাজার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
৬ দিন আগে