সোমবার মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে ডুবে গেছে চট্টগ্রামের কিছু নিচু এলাকা। এতে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের। ভারী বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও। ফলে পাহাড় থেকে সরে যেতে মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) ওমর ফারুক। তিনি জানান, সোমবার দিনগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ডুবেছে নগরীর কিছু নিচু এলাকা। অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু করা হয়েছে। ঝুঁিকপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকায় দুটি স্কুলে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয় নগর, জিয়া নগর, বেলতলীগোনা, খুলশী, বায়েজিদ, সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাইকিং শুরু করেছে। তারা বাসিন্দাদের পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এসব নির্দেশ বাসিন্দারা কানে তুলছেন না। নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পরিবার বসবাস করছে বলে সূত্র জানায়।এদিকে নগরবাসীর তথ্যমতে, সোমবার দিনগত মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে নগরীর চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, ডিসি রোড, তেলপট্টি, চান্দগাঁও, বাদুরতলাস, সল্টগোলা ক্রসিং, হালিশহর, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সড়কগুলো কোথাও হাঁটু পরিমাণ আবার কোথাও হাঁটুর চেয়ে বেশি পরিমাণ পানিতে তলিয়ে গেছে।নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি থই থই করছে। ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাসা থেকে বের হওয়ারও কোন সুযোগ নেই। পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা রয়েছে। আরও দুই থেকে তিন দিন মাঝারি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।এদিকে বৃষ্টির সময় সোম ও মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে নালা নর্দমায় ময়লা আবর্জনা না ফেলে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান মেয়র।
২ মাস ১১ দিন আগে
প্রায় দেড় বছরের ভাড়া মেরে দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর এলাকায় যমুনা অয়েল পিএলসির বেদখলকৃত জমি ছেড়ে লেজ গুটিয়ে পালাল ওয়াসার সু্যয়ারেজ প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ ইঞ্জিনিয়ারিং। দেড় বছর ধরে নির্মাণসামগ্রী রেখে জমিটি দখল করে ব্যবহার করে আসছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেনি প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ উঠেছে, যমুনা অয়েল পিএলসির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম হোসেন ও সাবেক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন অ্যান্ড স্টেট) মো. নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় জমিটি দখলে নেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে হিসেবে এই দুই কর্মকর্তার কাছে জমির ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে লাখ টাকা পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ভাড়ার এক টাকাও জমা হয়নি যমুনার রাজস্ব খাতে। সূত্র মতে, জমি দখলের খবর পেয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর বি ব্লক, আন্ধা হুজুর মাজার সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে নির্মাণসামগ্রী রাখা এবং অফিস নির্মাণের বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে যমুনার কর্মকর্তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তারা জানান, এস এম হোসেন ও নজরুল ইসলামের কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।এরপর যমুনার এমডি পরিচয় গোপন রেখে এস এম হোসেনকে ফোন দেন। অপরপ্রান্তে কল রিসিভ করে নিজেকে যমুনার বর্তমান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন হোসেন। তখন এমডি জানতে চান, তিনি কোথায় কর্মরত রয়েছেন। হোসেন জানান, তিনি যমুনার টার্মিনালে কর্মরত রয়েছেন। পরে যমুনার এমডি নিজের পরিচয় জানালে বিপাকে পড়েন হোসেন। তখন তিনি জানান, যমুনা থেকে ইতোমধ্যে তিনি অবসরে গেছেন।পরে অভিযুক্ত দু‘জনকে অফিসে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন যমুনা অয়েলের এমডি। এ বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, জমিটির উপর বেশ কয়েকটি মালবাহী ট্রাক, স্ক্যাভেটর, লোহার পাইপ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী রাখা আছে। একপাশে খালি কন্টেইনার রাখা হয়েছে। সেখানে একটি অফিসও রয়েছে এস এ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। সেগুলো তারা সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ওয়েল্ডিং অপারেটর মোহাম্মদ আলী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এস এ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপক আলী রিয়াল বলেন, আমরা চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ করছি। যেহেতু আমরা সরকারি কাজ করছি, জমিটিও সরকারের। তাছাড়া আমরা এটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করছি। তাই অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনি। তিনি বলেন, জমিটি ছিল একটি কুয়ার মতো। এটি ভরাট করে আমরা ব্যবহারের উপযোগী করেছি। জমিটির ভাড়াও আমরা নিয়মিত পরিশোধ করেছি। কিন্তু যথাযথ অনুমোদন না থাকায় জমিটি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে আমোদের। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি আমরা। যমুনা অয়েলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি এক দপ্তরের জায়গা আরেক দপ্তর ব্যবহার করতে চাইলে অনুমতি লাগে। কিন্তু যমুনার জায়গাটির জন্য তারা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেয়নি। ঊর্ধ্বতন কয়েকজনের যোগসাজশে এটি দখলে নেওয়া হয়েছে, যা অফিসিয়াল নয়। তিনি জানান, জমিটির আয়তন প্রায় ৭০ শতক। আশপাশের জমির মূল্যের হিসাব অনুযায়ী জায়গাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা অয়েলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম হোসেন বলেন, জায়গাটি দখলে আমার কোনো হাত নেই। আমি কোনো ভাড়াও আদায় করিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আপনাদের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। বরং যমুনা অয়েল পিএলসির রাজস্ব মেরে দেওয়ার কৌশল হিসেবে এসব কথা বলছে তারা। এমডির ফোনের বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম হোসেন বলেন, যমুনার এমডি স্যার আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমি প্রথমে চিনতে পারিনি। আমাদের সাবেক কলিগ ইউসুফ কল করেছে মনে করে বলেছিলাম, আমি বর্তমানেও চাকরি করি। তবে পরবর্তীতে স্যার পরিচয় দিয়েছেন। এরপর এমডি স্যারকে যা বলার আমি বলেছি। এ বিষয়ে জানতে সাবেক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন অ্যান্ড স্টেট) মো. নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরে পানি সংকট নিরসনে ‘পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’ বিষয়ক সুয়ারেজ প্রকল্প ঘিরে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণের নামে বিলাসী ভ্রমণে চীনে রয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই প্রকৌশলী। বিস্ময়ের বিষয়, ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অথচ প্রশিক্ষণের জন্য সফরে রয়েছেন চীনে। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার, প্রকল্প কাজও প্রায় শেষের সংশ্লিষ্ট সুয়ারেজ প্রকৌশলীদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এই প্রশিক্ষণে। এমনকি প্রকল্প কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনও। প্রায় অর্ধেক কাজ বাকি রয়েছে। আর এমন সময়েই চীনে প্রশিক্ষণে গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম এবং কর্ণফুলী পানি শোধানাগার প্রকল্প-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেন। তালিকায় মড-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইউসুফের নাম থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি বাদ পড়েন।ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রশিক্ষণকে ‘বিলাস সফর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চলতি বছরের ৭ মে জারি করা এক অফিস আদেশে চট্টগ্রাম ওয়াসার তিন কর্মকর্তাকে ওই প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীন সরকারের সহায়তায় ৪ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনের এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।ওই আদেশে আরও বলা হয়, ট্রানজিটসহ পুরো সফরকাল ‘দায়িত্ব পালন’ হিসেবে গণ্য হবে। সফরসংক্রান্ত সব ব্যয় বহন করবে চীন সরকার এবং এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা থাকবে না। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবেন।তবে দুই দিন পর, ৯ মে জারি করা আরেক আদেশে মুহাম্মদ ইউসুফকে বাদ দিয়ে মাকসুদ আলম ও এস এম রবিউল হোসেনকে চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১১ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত তারা চীনে প্রশিক্ষণ নিবেন।প্রশ্ন উঠেছে, পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের পাঠানো হলেও সুয়ারেজ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো প্রকৌশলীকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।প্রকল্পের সূত্রমতে, বর্তমানে দুই ভাগে এগোচ্ছে সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ। একদিকে পাইপলাইন স্থাপন, অন্যদিকে হালিশহরে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ। প্রকল্পের আওতায় মোট ২০০ কিলোমিটার পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন বসানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮১ কিলোমিটার অগভীর পাইপলাইন, যার ৯৭ কিলোমিটার ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাইপলাইন সর্বোচ্চ চার মিটার গভীরে বসানো হচ্ছে।বাকি ১৯ কিলোমিটার গভীর পাইপলাইনের মধ্যে এখন পর্যন্ত নয় কিলোমিটার স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাইপলাইন ছয় থেকে ১৪ মিটার গভীরে বসানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন আকারের ১০৬ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যা পাইপলাইন কাজের ৫০ শতাংশ অগ্রগতি।অন্যদিকে হালিশহরের পয়োঃশোধনাগার ও ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণে সিভিল কাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ এবং ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার গৃহে পয়োঃসংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার গৃহে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটির সামগ্রিক অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার আশা করছে ওয়াসা।এই সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’। আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘সেমিনার অন আরবান ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন সিস্টেম টেকনোলোজি ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে চীনের ফুজয়ান প্রদেশের ফুজু সিটিতে।প্রশিক্ষণ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম ও নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানে আলম বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রশিক্ষণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। পরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বাতিল করার সুযোগ ছিল না। বিদেশে প্রশিক্ষণ, নগরে পানির হাহাকারউল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার সুপেয় পানির ঘাটতি রয়েছে। গ্রীষ্মকাল ও রমজানে পানির চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে সংস্থাটির দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ থেকে ৫১ কোটি লিটার। তবে উৎপাদন হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। এর মধ্যে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২ থেকে ২৮ কোটি লিটার, মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপ থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হচ্ছে। তবে নগরীর সুয়ারেজ ব্যবস্থা চরম নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
২ মাস ২৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত রূপসী কর্ণফুলী নদীর পাড় হতে যাচ্ছে যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত। এই পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে দীর্ঘ সাড়ে ৮ কিলোমিটার আউটার রিং রোড। যা মূলত জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই আউটার রিং রোড চালু হতে আর মাত্র ১০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের মূল কাজ শেষ করা। ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে পারব। জমি অধিগ্রহণের অর্থায়ন নিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, যা আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করে ফেলেছি।সিডিএর তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে মোহরা পর্যন্ত বিস্তৃত সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটি চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই মেগা প্রকল্পের সমাপ্তি বন্দরনগরীর আবাসন, পর্যটন ও শিল্পখাতে বিনিয়োগের এক অভূতপূর্ব দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণশৈলী ও নান্দনিক রূপ দেখতে এখনই প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় করছেন নদীর পাড়ে।সড়কের বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, একপাশে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে চলা ছোট-বড় নৌকা ও বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজের সারি, আর অন্যপাশে চিরসবুজ প্রকৃতির বুক চিরে চলে গেছে মসৃণ পিচঢালা পথ। শীতল হাওয়া আর নদীর কলতানের এই মেলবন্ধন চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ ভৌত অবকাঠামোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সড়কটি চালু হলে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে কালুরঘাট এলাকা থেকে কর্ণফুলী সেতুতে পৌঁছাতে যেখানে তীব্র যানজটের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়, এই রিং রোড ব্যবহার করে সেই দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটে নেমে আসবে। এছাড়া কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে সড়কটি উত্তর চট্টগ্রামের সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করবে।যোগাযোগের পাশাপাশি এই রিং রোডকে ঘিরে পর্যটনের এক বিশাল ক্যানভাস তৈরি করছে সিডিএ। নদীর তীরবর্তী ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে 'কর্ণফুলী রিভারভিউ পার্ক'। যেখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আধুনিক ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ, ডেডিকেটেড সাইকেল লেন এবং নদী দেখার জন্য বিশেষ বসার গ্যালারি।অন্যদিকে নদীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু করে নির্মিত এই শক্তিশালী সড়কটি চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অভিশাপ 'জলাবদ্ধতা'র বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ বা প্রতিরোধক দেয়াল হিসেবে কাজ করবে। ফলে জোয়ারের পানি ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও মোহরার মতো নিম্নাঞ্চলগুলো। সড়কটির কল্যাণে একসময়ের অবহেলিত ও অনুন্নত এই বিশাল অঞ্চলটি এখন আধুনিক বাণিজ্যিক ও আবাসন জোনে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।তবে সড়কটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন যেমন ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট কোনো টার্মিনাল নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন বেনাপোল থেকে আসা চালকদের বিশ্রামের জন্য এবং পণ্যবাহী গাড়িগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করার জন্য এই রিং রোডের পাশে যদি সরকার একটি আধুনিক ও বড় টার্মিনাল স্থাপন করে, তবে এটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিডিএ। দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি, আর্থিক ও কাঠামোগত অপেক্ষা শেষে চার লেনের এই দৃষ্টিনন্দন আউটার রিং রোডটি চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও আধুনিক যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। একইসাথে রূপসী কর্ণফুলীর পাড়ে যোগ করবে এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতা।
২ মাস ২৫ দিন আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রাধিকার পেয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের উন্নয়ন। চট্টগ্রামের ছোট-বড় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিপরীতে রাখা হয়েছে মোট ১১ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার চট্টগ্রামের বরাদ্দ বাড়ল ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। বাজেটের নথি বিশ্লেষণে এ তথ্য মিলেছে নথির তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছর শেষে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কাটছাঁট করে নামিয়ে আনা হয়েছিল ৭ হাজার ২১৯ কোটি টাকায়। সেই সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছরে চট্টগ্রামের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।তবে সামগ্রিক বরাদ্দ বাড়লেও চট্টগ্রামের প্রধান চার উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে বরাদ্দের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় তারতম্য। চট্টগ্রাম বন্দর ও ওয়াসা পেয়েছে বিপুল বরাদ্দ। বড় ধাক্কা খেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ফলে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট সংস্কার, সড়ক বাতি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নাগরিক সেবাগুলো অর্থসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনালের মতো মেগা প্রকল্পের কারণে এবারও বরাদ্দের সিংহভাগ পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা প্রায় ৪ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। গতবার ৩ হাজার ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বছর শেষে পেয়েছিল মাত্র ৯৪৬ কোটি টাকা। নগরীরর স্যানিটেশন ব্যবস্থার মতো মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য ওয়াসাও পেয়েছে বড় অঙ্কের বরাদ্দ। গত বছরের ৮০৩ কোটি টাকার বিপরীতে এবার পেয়েছে ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। যা গতবারের চেয়ে ৬০৬ কোটি টাকা বেশি।এরপর ১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে। এছাড়া বেশি বরাদ্দ পাওয়া শীর্ষ প্রকল্পের একটি— মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (সওজ অংশ)। এই প্রকল্পের সড়ক ও জনপথ অংশের জন্যই রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মূল অংশের কাজের জন্য রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাতারবাড়ী বন্দরের জন্যই মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।শিল্পায়নে গতি আনতে মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে রয়েছে ৮০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা গতবারের চেয়ে ৭৪৭ কোটি টাকা বেশি। অবশ্য গতবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী প্রকল্পটি বছর শেষে বরাদ্দ পেয়েছিল সাড়ে ৪ কোটি টাকা।জলাবদ্ধতা ও ফ্লাইওভারের মতো মেগা প্রকল্প এখন শেষ পর্যায়ে। ফলে বেশ কমেছে সিডিএ’র বরাদ্দ। ছয়টি প্রকল্পে গত বছর ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পেলেও সিডিএ এবার পেয়েছে ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে ৩৮৬ কোটি টাকা কম। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চসিক। পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটিতেই পায়নি কোনো বরাদ্দ। নগরের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও বাতি লাগানোর জন্য চসিকের বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৭০০ কোটি টাকার জায়গায় এবার চসিক পেয়েছে মাত্র ৩৮০ কোটি টাকা, যা গতবারের চেয়ে ৩২০ কোটি টাকা কম। এরপরও ‘প্রত্যাশিত বরাদ্দ পাওয়ার’ কথা জানিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন। তিনি বলেন, সিডিএ’র বহুল আলোচিত জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পে এবার রাখা হয়েছে ৭৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা চট্টগ্রামের নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর প্রধান ভরসা। ওয়াসার চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা (১ম পর্যায়) মেগা প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা। কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণে ৬৯৭ কোটি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৬৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ।সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলছিলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ প্রকল্প শেষের পথে। যার কারণে বরাদ্দ কম মিলেছে। কারণ এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছাড় হয়ে গেছে।’
৩ মাস ৭ দিন আগে
পানির বিল নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, গ্রাহক পানি ব্যবহার না করলেও মাসিক নির্দিষ্ট ফি গুনতে হবে। পাশাপাশি পানির ব্যবহার বাড়লে বাড়বে বিলও। বর্তমানে প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানিতে আবাসিক গ্রাহককে ১৮ টাকা এবং অনাবাসিকে (শিল্প ও বাণিজ্য) ৩৭ টাকা গুনতে হয়।চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য এই ‘টু-পার্ট ট্যারিফ’ বা দুই অংশের বিল কাঠামো প্রস্তাব করেছে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট ইন্ডিয়া। ঘাটতি পূরণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিল পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নতুন এই বিল পদ্ধতি ঢাকাসহ দেশের কোনো ওয়াসায় নেই। এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুর দাবি, ‘নতুন ট্যারিফ চালু হলে ভোক্তার ওপর বিলের বোঝা বাড়বে। সিস্টেম লসের নামে যে বিপুল পরিমাণ পানি চুরি হয়, সেটি গড় বিল করে পোষায় ওয়াসা। এই ট্যারিফের মাধ্যমে সেটিকে বৈধতা দিতে চায় তারা। মানুষের ওপর বিলের বোঝা না কমিয়ে সিস্টেম লস বন্ধ করুক ওয়াসা।’পারু বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার সিস্টেম লস প্রায় ২৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা বছরে ৪৭ হাজার ৪২০ কোটি লিটার। এই বিশাল অপচয় বা চুরি রোধ না করে নতুন ট্যারিফ আরোপ করে গ্রাহকের ওপর বোঝা চাপানো কেনোমতেই উচিত নয়।তবে ভিন্ন কথা বলছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম। তিনি বলেছেন, নতুন ট্যারিফ বাস্তবায়ন হলে বিল বাড়বে না। বরং গড় বিল নিয়ে যে সন্তোষ আছে তা প্রশমন হবে। বর্তমানে প্রতিদিন এক ইউনিট হারে প্রতি মাসের সর্বনিম্ন গড় বিল দিতে হয়। যেটি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় পানির বিল দুভাগে নির্ধারণ করা হবে। একটি নির্দিষ্ট মাসিক ফি, অন্যটি ব্যবহারের ওপর চার্জ। বর্তমানে যে ন্যূনতম এক ইউনিট বিলের ব্যবস্থা রয়েছে, নতুন মডেলে সেটি বদলে পরিবার সংখ্যা ও পানি ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দুটি প্রস্তাবের মধ্যে ‘প্রস্তাব-১’-কে তুলনামূলকভাবে কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব হিসেবে বিবেচনা করেছে ওয়াসার গঠিত কমিটি।এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এক থেকে চারটি পরিবারের জন্য মাসিক নির্ধারিত বিল হবে ৩২৫ টাকা। এর আওতায় ২৫ ইউনিট পানি ব্যবহার করা যাবে। পাঁচ থেকে ১০টি পরিবারের জন্য নির্ধারিত বিল হবে ৯৭৫ টাকা, যেখানে ৭৫ ইউনিট পানি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ১০টির বেশি পরিবারের ক্ষেত্রে মাসিক বিল হবে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, যার মধ্যে ১৫০ ইউনিট পানি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা করে দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য এই হার ৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৮০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে ১৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য মাসিক ৭৫০ টাকা নির্ধারিত ফি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর নির্ধারিত ও পরিবর্তনশীল উভয় ধরনের ট্যারিফে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিকল্প আরেকটি প্রস্তাবে প্রথম ৩০ ইউনিট পর্যন্ত সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ন্যূনতম ৬৫০ টাকা বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ইউনিটপ্রতি মূল্য ২৩ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত টু-পাট ট্যারিফের নতুন পদ্ধতি যাচাই-বাছাই করতে কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কমিটি ৯ দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশের ভিত্তিতে দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য গঠিত কমিটির সভায়। সিদ্ধান্তগুলো হলো— বিল পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য অংশীজনের সঙ্গে সভা করা ও বর্তমান প্রচলিত রাজস্ব হ্রাস পাবে কি না, তা বিশ্লেষণ করা। তবে কমিটি বোর্ড মিটিংয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদন হলে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন ট্যারিফ গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্যমতে, বর্তমানে ওয়াসার মোট সংযোগ সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ২২২টি। এর মধ্যে ৯২ হাজার ১১২টি আবাসিক ও ৯ হাজার ১১০টি অনাবাসিক। বর্তমান সংযোগের মধ্যে পানির ব্যবহার ৯১ শতাংশ আবাসিকে ও ৯ শতাংশ অনাবাসিকে।
৪ মাস ৭ দিন আগে
চার ঘন্টার বজ্র বৃষ্টিতে বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক। ফলে যানবাহন ঠাঁই নিয়েছে ফ্লাওভারে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পানি জমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ১১টার দিকে বৃষ্টি কম থাকলেও সাড়ে ১২টার দিকে আবার ভারী বৃষ্টি হয়; যা দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল নয়টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিন ঘণ্টা পরপর বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হিসাব করা হয়। পরবর্তী অবজারভেশনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যাবে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, রাহাত্তারপুলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে।নিচু এলাকাগুলোতে পানি বুকসমান হওয়ায় নগরীর যানবাহনগুলো ঠাঁই নেয় শহরজুড়ে বিস্তৃত সবকটি ফ্লাইওভারে। ডুবে গিয়ে অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েছে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষেরা।নগরবাসী জানান, বেলা আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নগরীর রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, রাহাত্তারপুল, আগ্রাবাদ এলাকার সড়কে হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কে যানচলাচল একেবারেই কম। ফলে ভোগান্তি পড়েছে নগরবাসী।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানি জমে দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ে। পানি নামতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে। সাদিয়া জাহান নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, আজ ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল। হল থেকে বের হয়ে গাড়ি না পেয়ে হেঁটে হেঁটে মুরাদপুর আসলাম। এখানে তো হেঁটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নাই। কোমর পর্যন্ত ময়লা পানি।নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, চট্টগ্রামে সাধারণত এমন পানি দেখা যেত টানা তিন-চারদিন বৃষ্টি হলে। এখন দেখছি ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হচ্ছে। মুরাদপুরে জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া উন্নয়নকর্মী তোফায়েলুর রহমান বলেন, যারা বৃষ্টি এবং সমুদ্রকে ভালোবাসেন, তারা চট্টগ্রামের মুরাদপুর চলে আসেন। এত পানি সমুদ্র না সড়ক বুঝার উপায় নেই।স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন দুলালের ভাষ্য, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কে জমে থাকা পানিতে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কোমরসমান, কোথাও কোথাও গলাসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।এ সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালের কালভার্ট এলাকায় মাটি ফেলে সংস্কারকাজ চলছে। যন্ত্রপাতিও রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। নগরবাসীর মতে, আসন্ন বর্ষা সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এর অংশ হিসেবে নগরের বিভিন্ন খাল ও নালা পরিষ্কারে তদারকি করছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।মঙ্গলবার বিকেলে পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, নগরের নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হওয়াই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার কারণে নালাগুলো বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ সচেতন না হলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ এখনো চলমান রয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রবর্তক এলাকার পাশে সিডিএর উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
৪ মাস ২১ দিন আগে
চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করার সময় মাটি ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ শ্রমিক। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপৃল) দিনগত রাত তিনটার সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এক্সেস রোড এলাকায় ভয়াবহ এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, রাকিব (২৫) ও তুষার (২২)। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। আহতদের মধ্যে এরশাদের (২২) বাড়ি চট্টগ্রাম ও সাগরের (২৬) বাড়ি অজ্ঞাত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত না করায় হতাহতের এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপৃল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ পাড়ির এস আই আলাউদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে চার শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে দু‘জনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুই শ্রমিককে হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হালিশহর এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হাইড্রো কোম্পানি। এ কাজে হঠাৎ করেই মাটি ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে কাজ করা চারজন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়ে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুইজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৪ মাস ২৬ দিন আগে