সাকিব আল হাসানের নামে ঝুলছে একাধিক মামলা। তিনি দেশে ফিরে এসব মামলা লড়তে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন রয়টার্সকে। তবে দেশে ফেরার আগে সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তবে আমি আনন্দের সাথেই দেশে ফিরতে, আদালতে মামলার মুখোমুখি হতে এবং যা কিছু করা দরকার তা করতে প্রস্তুত। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের পতন এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলেও ব্রাত্য হয়ে আছেন সাবেক এই এক নম্বর অলরাউন্ডার। কয়েকবার তাকে দেশে এবং দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। সাকিবও বেশ কয়েকবারই দেশে ফিরতে চেয়েছেন, ঘরের মাটিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।দেশে ফেরার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে সাকিব রয়টার্সকে জানান, আমাকে নিশ্চিত করার পর বিমানে উঠেছিলাম, কিন্তু ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কী পরিবর্তন হলো জানি না! মাঝপথে দুবাইয়ে নামার পর আমাকে দেশে ফিরতে বারন করা হয়। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।নিজের নামে থাকা হত্যা মামলার বিষয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে সাকিব বলেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর একটি মামলা। আমি গত ১০ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ করদাতা, সব কর ঠিকমতো পরিশোধ করেছি, অথচ তদন্তের নামে দেড় বছর ধরে আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্তে কিছু না পেলে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত। এদিকে গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণমাধ্যমে সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাকিবও। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনা বা দল থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে সাকিব রয়টার্সকে বলেন, ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনা) যা বলবেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।
১ মাস ১১ দিন আগে
মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাগুরা শহরের কেশবমোড়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার প্রধান গেটের উপরের অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মাগুরা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এছাড়া এটি সত্যিই পেট্রোল বোমা ছিল, নাকি অন্য কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১ মাস ১৩ দিন আগে
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬। চট্টগ্রাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত সময়সূচি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এই আয়োজন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে এটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ এবং যুব সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।শিক্ষামন্ত্রী জানান, এর আগে দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে বড় পরিসরে ক্রীড়া আয়োজন করা হয়েছিল। এবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে দেশের ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই বিশাল আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।এহছানুল হক মিলন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই দিনে ও একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় একযোগে এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হবে। চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে আয়োজিত মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি একযোগে দেশের সব উপজেলায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী সেপ্টেম্বরের ৯ বা ১০ তারিখ টুর্নামেন্টটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়োজকদের আশা, এটিই হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্কুলভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং তৈরির জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত সেরাদের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।আয়োজনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিশ্বকাপের পর এবার ফুটবল নিয়ে নতুন এক উন্মাদনা তৈরি হবে চট্টগ্রামে। আমরা মেসি-এমবাপ্পেদের খেলা দেখেছি, এবার বাংলাদেশের খুদে ফুটবলারদের নৈপুণ্য দেখার অপেক্ষায় আছি।সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ১৯ দিন আগে
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার বিশ্বখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ইয়ামাহার নতুন শোরুম 'টুয়েন্টি এইট মোটরস'। শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরীর সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের মুরাদপুর এলাকায় শোরুমটির উদ্বোধন করেন তামিম ইকবাল নিজেই।উদ্বোধন উপলক্ষে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালিরও আয়োজন করা হয়। র্যালিটি সিআরবি মোড় থেকে শুরু হয়ে টাইগারপাস হয়ে মুরাদপুরের নতুন শোরুমে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভ্রত রঞ্জন দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুয়েন্টি এইট মোটরসের স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেন। এ ছাড়া ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ এ শোরুমটি মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার দ্বার উন্মোচন করবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এক ছাদের নিচে ইয়ামাহার জনপ্রিয় বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল দেখার পাশাপাশি ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বাইক কেনার সুযোগ পাবেন। শোরুমটিতে রয়েছে আধুনিক সার্ভিসিং সুবিধা এবং শতভাগ জেনুইন স্পেয়ার পার্টসের নিশ্চয়তা। এ ছাড়া গ্রাহকরা এখান থেকে ইয়ামাহার অফিসিয়াল জেনুইন অ্যাপারেলস ও রাইডিং গিয়ারও সংগ্রহ করতে পারবেন।আয়োজকরা জানালেন, নতুন শোরুমের মাধ্যমে চট্টগ্রামের গ্রাহকদের আরও উন্নত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
১ মাস ২৪ দিন আগে
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বাংলাদেশজুড়ে দেখা যায় অবিশ্বাস্য এক উন্মাদনা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তর্কে মেতে ওঠে পুরো দেশ। যে দেশে এত উন্মাদনা, সেই দেশ কখনোই খেলতে পারেনি বিশ্বকাপে। বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলি এবার জানালেন বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে পৌঁছানোর পরিকল্পনার কথা।নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন ডুলি। তিনি বলছেন, এই দেশের ফুটবল উন্মাদনায় মুগ্ধ তিনি। বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনায় আমি বিস্মিত। এখানে বেশিরভাগ দর্শক ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে। এবারের আসরে অনেক ছোট দল খেলেছে। আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ কবে বিশ্বকাপ খেলবে?’ নিজের প্রশ্নের জবাব নিজেই দিয়েছেন ডুলি, পরের বিশ্বকাপে হয়তো আমরা খেলতে পারব না। হয়তো সেটা ১০, ১৫, ২০ বছর পর হতে পারে। সবকিছুই সম্ভব! তবে এটার জন্য আমাদের সঠিক পথে এগোতে হবে। আমাদের ভালো তরুণ ফুটবলার তৈরি করতে হবে। বিদেশ থেকে হয়তো কিছু ভালো মানের খেলোয়াড়ও আসবে। র্যাংকিংয়ে উন্নতি করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে কোন এক সময় আমরাও বিশ্বকাপে খেলতে পারব। ততদিন পর্যন্ত আমাদের সামনে অনেক কাজ পড়ে আছে।
১ মাস ২৬ দিন আগে
বাংলাদেশের জন্য ফিফার দেয়া উপহারের বিশ্বমানের ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। দীর্ঘ পাঁচবছর রশি টানাটানির পর কক্সবাজারের রামুর রশিদনগরে স্বপ্নতরী বিনোদন কেন্দ্রের পাশে মহাসড়ক লাগোয়া ১৫.২০ একর জমি বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জমি বরাদ্দের ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেড়ারেশন (বাফুফে)। রেজিস্ট্র সম্পন্ন হলেই শুরু হবে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের কাজ। এমনটি জানিয়েছেন বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন। তিনি বলেন, জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং শিক্ষা এবং ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমকে এক ছাতার নিচে আনতেই এই টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য ৮৮ কোটি টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করেছে ফিফা।তিনি বলেন, জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত্র স্থানীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পের ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদনের পর বন্দোবস্তের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই অনুমোদন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার কারণে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি ঝুলে গিয়েছিল। ফিফার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে আমরা দফায় দফায় সময় নিয়েছি। এতে একাধিকবার বাতিলের কথাও জানায় ফিফা। বহু অনুরোধ করে একাধিকবার চিঠি দিয়ে প্রকল্পটি রক্ষা করেছি। এমন সুযোগ হাতছাড়া হলে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যেতো। আমরা এবার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই।সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক সুযোগ–সুবিধাসম্পন্ন এই সেন্টারে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের একাধিক প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ঘাসের ফুটবল মাঠ, জিমনেশিয়াম, চারতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন, ক্লাসরুম এবং স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা, ইনডোর ট্রেনিং সুবিধা, স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিকেল ইউনিট, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ভিডিও অ্যানালাইসিস ল্যাব, কোচিং এডুকেশন সেন্টার, ডাইনিং ও কনফারেন্স সুবিধা এবং বয়সভিত্তিক দলের জন্য পৃথক আবাসন। এ কেন্দ্র থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দল, নারী দল, অনূর্ধ্ব–১৭, অনূর্ধ্ব–২০, অনূর্ধ্ব–২৩ সহ সব বয়সভিত্তিক দলের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।বাফুফে কর্মকর্তাদের মতে, এই টেকনিক্যাল সেন্টার চালু হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের স্থায়ী প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এতে বিদেশে প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, খেলোয়াড়দের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হবে, কোচ ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ উন্নত হবে এবং সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বাংলাদেশ ফুটবল নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপন হলে জাতীয় ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু হবে কক্সবাজার।বাফুফের দাপ্তরিক সূত্র জানায়, বাংদেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই টেকনিক্যাল সেন্টারটি উপহার দিচ্ছে ফিফা। ২০২২ সালে বাংলাদেশের জন্য এই ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার বরাদ্দ করে ফিফার নির্বাহী কমিটি। তখনই কাজ শুরু করতে নিদের্শনা দেয় বিশ্বফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারই আলোকে স্থান নির্ধারণের জন্য সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের সমীক্ষা চালায় বাফুফে। সমীক্ষা শেষে সার্বিক উপযোগিতার ভিত্তিতে কক্সবাজারে বেছে নেয়া হয়।এ ব্যাপারে বাফুফের প্রকল্প কর্মকর্তা তানভির আহমেদ ছিদ্দিকী জানান, কক্সবাজারকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে ভৌগোলিক সুবিধা, প্রশস্ত জায়গা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা। মহাসড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালেই কক্সবাজারে জমি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে একটি জমি নির্ধারণ করা হয়। একই বছর জুলাইয়ে রামুর খুনিয়াপালংয়ে ২০ একর জমিটি বাফুফের অনুকূলে হস্তান্তর করে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ।তিনি আরো জানান, বাফুফে সেখানে সেন্টার নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়ে ফিফার কাছে এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট পাঠায়। কিন্তু পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানায়, জায়গাটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ায় সেখানে নির্মাণকাজে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। একই সাথে পরিবেশ অধিপ্তরের আপত্তি ও পরিবেশ আইনবিদ সমিতি–বেলার সুপারিশে সেটি বাতিল হয়। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফেকে বিকল্প জায়গায় টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এরপর বিভিন্নভাবে জমি খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তিন বছর পর ২০২৫ সালে রামুর রশিদ নগরের ধলিরছড়া মৌজার খাস শ্রেণির ১৫.২০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারণের পর জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কমিটি বাফুফের নামে বন্দোবস্তমূলক ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টারটি নির্মাণে বরাদ্দ করা হয়। এক লাখ টাকা অনুদানে বরাদ্দ সম্পন্ন হয়।এ ব্যাপারে প্রকল্পের স্থানীয় লিঁয়াজো কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, জমির জন্য ২০২২ সাল থেকে নানা প্রক্রিয়া চলে আসছে। তার জন্য বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফা দফায় কক্সবাজার আসেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বাফুফের একটি উচ্চ পর্যায়ের দল পরিদর্শনে আসেন। দলটি রশিদনগরের ধলিরছড়ার জমিটি চূড়ান্ত করেন। জমিটি তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল দখলে রেখেছিলেন।পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দীন বলেন, জমিটি পাহাড় শ্রেণির নয়। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গাছ–পালাসহ পরিবেশগত ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর সার্বিক সমীক্ষা করে ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনে অনাপত্তিপত্র ইস্যু করেছে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, গত বছর (২০২৫) প্রকল্পটির জমি বরাদ্দে ব্যবস্থা নেয়ার দেয়ার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে মোতাবেক বাফুফের সাথে সমন্বয় করে জমি নির্ধারণ করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
২ মাস ১ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে ১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। সমাপনি দিনে প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ডিএসএ (সদর) দল। দলটি ৩-০ গোলে ডিএসএস (চট্টগ্রাম) দলকে হারায়।বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই) সমাপনি দিনে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শহীদ শাহজাহান মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) জনাব আবুল কালাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, সিওপিএস (পূর্ব) ও সভাপতি, জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (পূর্বাঞ্চল), জনাব মোশারফ হোসেন দিপ্তি, সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব মো: শওকত জামিল মোহসী, অতি: সিসিএম (পূর্ব) ও আহবায়ক, ১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬, জনাব চৈতী মুহুরী, সাধারণ সম্পাদক, জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (পূর্বাঞ্চল) ও এসডব্লিউও (পূর্ব), সিআরবি, চট্টগ্রাম। এছাড়া উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিআরএনবি (পূর্ব), ডিআরএম (চট্টগ্রাম), ডিএস (কারখানা) পাহাড়তলী, জনাব মো: হারুনুর রশীদ, ডিডি(পিআর-পূর্ব), এজিএম (পুর্ব), জেপিও-১ (পূর্ব)সহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কমচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।গত ১৩ জুলাই শহীদ শাহজাহান মাঠে১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় চারটি দল যথাক্রমে ডিএসএ (সদর), ডিএসএ(পাহাড়তলী), ডিএসএ(চট্টগ্রাম) ও ডিএসএ(ঢাকা) দল অংশগ্রহণ করে। ওইদিন থেকে প্রত্যেকটি দলের ৩টি করে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল ডিএসএ (সদর) ও ডিএসএ (চট্টগ্রাম) দলের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ৩০ মিনিট করে ৬০ মিনিট খেলা হয়, কিন্তু কোনো গোল হয়নি পরিশেষে ট্রাইবেকারে ডিএসএ (সদর) দল দল ৩-০ গোলে জয় লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং রানার আপ হয় ডিএসএস (চট্টগ্রাম) দল। পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি হয়।
২ মাস ১ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ে জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, (পূর্বাঞ্চল) চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে ১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শহীদ শাহজাহান মাঠে প্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জনাব মো. সুবক্তগীন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, সিওপিএস (পূর্ব) ও সভাপতি, জেডএসসি, জনাব মো: শওকত জামিল মোহসী, অতি: সিসিএম (পূর্ব), আহবায়ক ও এসডব্লিউও(পূর্ব), জনাব চৈতী মুহুরী, সাধারণ সম্পাদক, জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, (পূর্বাঞ্চল), সিআরবি, চট্টগ্রাম এবং জনাব মো: হারুনুর রশীদ ডিডি (পিআর-পূর্ব), সিআরবি, চট্টগ্রাম। এছাড়া উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব), সিসিআরএনবি (পূর্ব), সিআরবি, ডিআরএম (চট্টগ্রাম), ডিএস (কারখানা) পাহাড়তলী, ডিইএন-২ (চট্টগ্রাম) এজিএম (পুর্ব), জেপিও-১ (পূর্ব)সহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কমচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের তথ্যমতে, ১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতায় চারটি দল যথাক্রমে ডিএসএ (সদর), ডিএসএ (পাহাড়তলী), ডিএসএ (চট্টগ্রাম) ও ডিএসএ (ঢাকা) দল অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ২টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১ম খেলা ডিএসএ (সদর) বনাম ডিএসএস (পাহাড়তলী) দলের মধ্যে অনুুষ্ঠিত হয়। খেলা ৩০ মিনিট করে ৬০ মিনিট হয়, কিন্তু কোনো গোল হয়নি। পরিশেষে ট্রাইবেকারে ডিএসএ (সদর) দল জয়ী হয়। ২য় খেলা ডিএসএ (চট্টগ্রাম) বনাম ডিএসএস (ঢাকা) দলের মধ্যে অনুুষ্ঠিত হয়। ৬০ মিনিটের খেলায় ডিএসএ (চট্টগ্রাম) ১ গোলে বিজয়ী হয়।আগামী ১৪ জুলাই মঙ্গলবার ও ১৫ জুলাই বুধবার ২টি করে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার টুর্নামেনন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী দলের হাতে পুরষ্কার তুলে দিবেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জনাব মো. সুবক্তগীন।
২ মাস ৫ দিন আগে
‘চোরের দল' লিখে গুগলে সার্চ করলেই সামনে আসছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচের তথ্য। বিষয়টি ঘিরে ফেসবুক, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা, শেয়ার হচ্ছে অসংখ্য স্ক্রিনশট এবং তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বিতর্ক।প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি গুগলের কোনো আনুষ্ঠানিক নামকরণ বা কোনো দলের প্রতি অবস্থান নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করে বিপুল সংখ্যক পোস্ট, মিম, ভিডিও ও ক্যাপশনে ‘চোরের দল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার হওয়ার কারণে গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম ওই শব্দের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচকে সম্পর্কিত হিসেবে শনাক্ত করছে। ফলে একই ধরনের সার্চে সংশ্লিষ্ট ম্যাচের তথ্য সামনে চলে আসছে।এই আলোচনার পেছনে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত এক অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় পেলেও প্রথম গোলটি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক।আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান। গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং পরে ম্যারাডোনা নিজেই সেটিকে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে উল্লেখ করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরেই প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একটি অংশ আর্জেন্টিনাকে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক নামে ডাকতে শুরু করে, যার মধ্যে ‘চোরের দল’ শব্দবন্ধও রয়েছে। তবে একই ম্যাচে ম্যারাডোনা প্রায় অর্ধেক মাঠ একাই ড্রিবল করে যে অসাধারণ গোলটি করেছিলেন, সেটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ফলে ম্যাচটি একদিকে যেমন বিতর্কের জন্য স্মরণীয়, অন্যদিকে তেমনি অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্যের জন্যও সমানভাবে আলোচিত।এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর ১৯৮৬ সালের সেই স্মৃতি নতুন করে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অসংখ্য ট্রোল, মিম ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মতে, এসব কনটেন্টের ব্যাপক প্রচারের কারণেই ‘চোরের দলের খেলা কবে’ এই সার্চটি এখন দ্রুত ভাইরাল হয়ে গুগলেও আলোচিত সার্চ ফলাফলের অংশ হয়ে উঠেছে।উল্লেখ্য, সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের তৈরি বিপুল পরিমাণ অনলাইন কনটেন্ট, জনপ্রিয় কী-ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন ওয়েবপেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলাফল প্রদর্শন করে। তাই কোনো শব্দ বা বাক্যাংশ বেশি ব্যবহৃত হলে সেটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা ঘটনার সঙ্গে অ্যালগরিদমিকভাবে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। ফলে এমন সার্চ ফলাফল দেখা গেলেও সেটিকে গুগলের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
২ মাস ৫ দিন আগে
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ পর্ব পেরোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ বত্রিশে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটলেও কোয়ার্টার ফাইনালে আর যাওয়া হল না দলটির। রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিল হলুদ জার্সিধারীরা। আর্লিং হলান্ডের ৭৯ মিনিটের গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে নেইমার জুনিয়ররা। এরপর ৯০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হলান্ড। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হলান্ডের জোড়া গোলেই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে নরওয়ে। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়তে পারত ব্রাজিল। ম্যাচ শুরুর দুই মিনিট পরই জালের দেখা পেয়েছিল আর্লিং হলান্ডের দল। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। বেঁচে যায় ব্রাজিল। এরপর দশ মিনিটের খেলা শেষ না হতেই পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। নরওয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেললেও ম্যাচের আট মিনিটের মাথায় দারুণ এক আক্রমণ শাণায় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। সেই আক্রমণ থামাতে নিজেদের বক্সে মাথেউস কুনিয়াকে ফাউল করে বসেন নরওয়ে ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়ের।রেফারি শুরুতে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর রিভিউয়ের পর পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। এদিকে স্পটকিক নিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বদলে এগিয়ে আসেন ব্রুনো গিমারেস। দারুণ এক সুযোগ থেকে দলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হন এই সেলেসাও ফুটবলার।তাঁর শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। লিড পেতে ব্যর্থ হয় সেলেসাওরা। এদিকে গিমারেস দলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ম্যাচের ২৩ মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন কুনিয়া। ওয়ারন ভার্সেস ওয়ান লড়াইয়ে বল নিয়ে ডি বক্সে প্রায় ঢুকেই পড়েছিলেন। কিন্তু নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ফলে হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত গোল পায়নি ব্রাজিল। এদিকে হাইড্রেশন ব্রেকের পর শুরুতেই গোলের আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। গোলপোস্টের কাছে থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি শট নিয়েছিলেন। কিন্তু নরওয়ে গোলরক্ষকের প্রচেষ্টায় এবারও নিরাশ হয় ব্রাজিল। এদিকে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল নরওয়েও। তবে হলান্ড সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। এর দুই মিনিট পরই দারুণ এক শট নিয়েছিলেন ভিনি জুনিয়র। তবে নরওয়ে গোলরক্ষক এবারও দারুণ এক সেভে নিরাশ করেন তাকে। এদিকে প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের খেলা শেষের পর যোগ হয় ৬ মিনিটের। এই সময়ের দুই মিনিট যেতেই গোলের দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। প্রতি আক্রমণে বল পেয়েছিলেন হ্লান্ড। তবে শট নিতে পারেননি তিনি। হলান্ড ব্যর্থ হলেও বল পেয়ে যান মার্তীন ওডেগার্ড। তবে নরওয়ে অধিনায়কের শট ঠেকিয়ে দলকে বাচান অ্যালিসন বেকার। বিরতির পর নরওয়ে মাঠে নামে দুটি পরিবর্তন নিয়ে। আলেক্সান্দার সরলথ ও আন্তোনিও নুসার জায়গায় মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। এই শেলদেরুপের পাস থেকেই ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে। এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার বদলে মাঠে নামেন এন্দ্রিক। মাঠে নেমেই ভিনির পাস থেকে গোল করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। এখানেও দারুণ অবদান নিলান্ডের। এন্দ্রিকের সেই মিসের পরই দারুণ এক শট নিয়েছিলেন রায়ান। তবে এবারও ব্রাজিলকে হতাশ করেন নিলান্ড। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলকে বারবার হতাশ করছেন নরওয়েজিয়ান এই গোলরক্ষক। এদিকে বদলি হয়ে মাঠে নেমে নরওয়ের আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকেন আন্দ্রে শেলদেরুপ। তাঁর সাজিয়ে দেওয়া আক্রমণের ধারাবাহিকতায় প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে শেলদেরুপের দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে হেডে গোল দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন হলান্ড। এদিকে শেষদিকে গোল হজম করে ব্রাজিল তখন বাদ পড়ার শঙ্কায়। ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়েই লড়াই শুরু করে সেলেসাওরা। নেইমার-ভিনিরা আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকেন। দারুণ কিছু সুযোগও তৈরি করেছিলেন। তবে নরওয়ে গোলরক্ষক নিলান্ডের দক্ষতায় ভেস্তে যায় সব। এরই মধ্যে দ্বিতীয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। ৯০ মিনিটে শেলদেরুপের অ্যাসিস্ট থেকেই দ্বিতীয় গোল করেন হলান্ড। দুই গোলে পিছয়ে পড়ার পর আর কিছুই করতে পারেননি নেইমার-ভিনিরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময় আসে সাত মিনিট। এই সাত মিনিটেই বাড়ে নাটকীয়তা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। আর স্পটকিক থেকে গোল করেন নেইমার। সান্ত্বনার সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। যেখানে শুরু সেখানেই শেষ নেইমারনরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সেলেসাও ভক্তদের জন্য এলো সবচেয়ে বড় এবং হৃদয়বিদারক ধাক্কা। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই পিএসজি ও বার্সার সাবেক মহাতারকা। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের জিই টিভি কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান, বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জেতার তাঁর সমস্ত চেষ্টা এখন "শেষ"।মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম টানেলে দাঁড়িয়ে শূন্য চোখে নেইমার বলেন, "আমি চেষ্টা করেছি, বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। আমি এখানেই শুরু করেছিলাম (মেটলাইদ স্টেডিয়ামে), আর এখানেই শেষ করলাম।" রবিবারের এই পরাজয় কেবল নেইমারের বিদায়ঘণ্টাই বাজায়নি, এটি সামগ্রিকভাবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসকেও এক অন্ধকার অধ্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই (শেষ ১৬ থেকে) বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।ডালাস ও নিউ জার্সির দর্শকদের কাঁদিয়ে বিদায় নেওয়া সান্তোসের এই তারকা আরও একটি নেতিবাচক রেকর্ডের সঙ্গী হলেন। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ৪টি বিশ্বকাপ খেলেও একটিও ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে না পারা দ্বিতীয় খেলোয়াড় এখন নেইমার জুনিয়র। এর আগে তাঁরই সাবেক সতীর্থ ও ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এই দুঃখজনক রেকর্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন।কার্লো আনচেলত্তির ছকে সাদিয়ার স্পন্সরশিপের নতুন জোয়ারে এবার হেক্সা জয়ের যে স্বপ্ন নেইমার দেখেছিলেন, ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা সেই স্বপ্ন এরলিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে এভাবে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, তা হয়তো কোনো ফুটবল ভক্তই কল্পনা করেননি। ৩৬ বছর পর এমন লজ্জায় ডুবল ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর মিশন থমকে গেল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই। শেষ ১৬-র রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় মহাকাব্যে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে নরওয়ে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই (শেষ ১৬ থেকে) বিদায় নেওয়ার চরম লজ্জায় ডুবল সেলেসাওরা। এর আগে ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। সেবার গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই জিতেছিল সেলেসাওরা। তবে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। এই বিদায়ের ফলে নিশ্চিত হয়ে গেল যে, ২০৩০ বিশ্বকাপ আসা মানেই ব্রাজিলের শিরোপাহীনতার বয়স দাঁড়াবে টানা ২৮ বছর। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ (১৯৫৮) জয়ের পর থেকে এত দীর্ঘ সময় ট্রফি ছাড়া কখনো কাটায়নি সাম্বা বয়রা।
২ মাস ১২ দিন আগে
বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ উপহার দিলো আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। নবাগত দলটিকে হারাতে শেষ মিনিট পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে হলো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর ১২০ মিনিটের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ৫ গোলের থ্রিলার শেষে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে প্রথম লিড নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোল করেন লিওনেল মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা অষ্টম ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা, যা বিশ্বকাপে তাঁর ২০তম গোল।দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ছন্দ হারালে সুযোগ লুফে নেয় কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন ডেরয় দুয়ার্তে। এরপর ৯০ মিনিট পর্যন্ত চলে কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার বীরত্বের গল্প। মেসির দুটি চোখধাঁধানো ফ্রি-কিকসহ বেশ কয়েকটি আক্রমণ রুখে দিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান তিনি।অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯১ মিনিটে) কর্নার থেকে উড়ে আসা বল পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কিন্তু লড়াই ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে কাট করে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করে কেপ ভার্দেকে আবার সমতায় (২-২) ফেরান সিডনি ক্যাব্রাল।নাটকের তখনও বাকি ছিল। ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দে ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে রেখেছিল দুই দলই। তবে রেফারির শেষ বাঁশিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে হেরেও বিশ্বফুটবলে নিজেদের নামটি স্মরণীয় করে রাখার সবটুকুই করেছে লড়াকু কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই স্পেন ও উরুগুয়েকে আটকে দেওয়া কেপ ভার্দে শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
২ মাস ১৪ দিন আগে
ম্যাচ শেষে গোলপোস্টের লোহার বারে ঝুলে জয় উল্লাস করতে গিয়ে সেটি ভেঙে বুকের ওপর পড়ে তরুণ ফুটবলার মাহিদুল ইসলামের (২০)। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর বেগমজান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কোনোপদিয়া এলাকার রাসেল গাজীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের কলসির দীঘির পাড় এলাকায় দুলাভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন এবং রংমিস্ত্রির কাজ করতেন।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানান, মাহিদুল ইসলামের মরদেহ নিউমুরিং এলাকায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে গোসল শেষে নিজ বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে নিয়ে দাফন করা হবে। মাহিদুল ইসলামের দুলাভাই মো. রবিউল জানান, সকালে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়েছিলেন মাহিদুল। খেলা জয়ের পর উল্লাস করতে গিয়ে তিনি গোলপোস্টের লোহার বারে ঝুলে পড়েন। এ সময় গোলবারটি খুলে গিয়ে তার বুকের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত হয় মাহিদুল ইসলাম। পরে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের খালাতো ভাই মোহাম্মদ মনির জানান, বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, কেউ কল্পনাও করেননি। উল্লাসের মুহূর্তেই পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ নিভে গেল।
২ মাস ১৫ দিন আগে
বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রিয় দল ব্রাজিল, কিন্তু ফেভারিট হিসেবে আর্জেন্টিনার লিওনাল মেসি বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সাখাওয়াত রনি। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের ছেলে রনি। বয়স ৩৫। ২০১৪ সালে নেপালের স্টেডিয়ামে ২৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ৩ গোলে হারায় নেপালকে। সেই খেলায় স্ট্রাইকার রনি একাই করেছেন ২ গোল।রনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেছেন ১৫ বছর বয়সে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগের মাধ্যমে। খেলেছেন চট্টগ্রাম মোহামেডান, চট্টগ্রাম আবাহনী, ঢাকা আবাহনী, শেখ জামাল, শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বকারী রনি গোল করেছেন ৮টি। বর্তমানে খেলছেন ফরটিস এফসি’র হয়ে। বিবাহিত রনি থাকেন চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায়। প্রিয় দল ব্রাজিল হলেও ফেভারিট খেলোয়াড়ের তালিকায় সবসময় আর্জেন্টিনার মেসি কেন জানতে চাইলে রনি বলেন, মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছি। তার ভেতরে এমন কিছু অসাধারণ গুণ রয়েছে যে তাকে ফেভারিট না মানার কোনো কারণ নেই। মেসির তুলনা শুধু মেসিই।’ আর নান্দনিক খেলার জন্য প্রিয় দল ব্রাজিল।
২ মাস ২০ দিন আগে
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে অপসারিত হয়ে আইসিসি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে! একই সঙ্গে সেই চিঠিতে আইসিসির সমস্ত তহবিল বন্ধ এবং আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার জোরালো আবেদন জানিয়েছেন! দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যে সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়েছিলেন বুলবুল। বলেছিলেন ‘টি-টোয়েন্টি ইনিংস’ খেলতে এসেছেন। তবে দ্রুতই তাকে চেয়ারের মোহ পেয়ে বসে। চরম বিতর্কিত নির্বাচন করে তিনি বিসিবি সভাপতি হন। তার আমলে ঠুনকো অজুহাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ! এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ ছিল বুলবুলের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত এপৃলে আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তবু তিনি বরাবরই নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে আসছেন। আইসিসিতে পাঠানো চিঠিতেও তিনি নিজেকেই বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাকে আবার দায়িত্ব ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বুলবুলের স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘বিসিবিকে বর্তমানে প্রদেয় বা পরিশোধযোগ্য আইসিসির সব তহবিল শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা বা স্থগিত করা হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হোক, যতক্ষণ না: (ক) নির্বাচিত বোর্ডের পুনঃস্থাপন অথবা আইসিসি ডিআরসি কর্তৃক একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; এবং (খ) বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হয়। ৭ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনের ভিত্তিতে বিসিবির কর্তৃত্ব দাবি করে এমন কোনো ব্যক্তিকে আইসিসির কোনো তহবিল প্রদান করা যাবে না।’
২ মাস ২২ দিন আগে
নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ অভিনেতা ও সংগঠক শেখ তানভীর আহমেদ যুক্ত হয়েছেন ফুটবলের বিশ্ব আসর ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ এর মূল আয়োজনে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এ অভিনেতা সেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক এ টুর্নামেন্টের প্রি-ম্যাচ সেরেমনিতে। যেখানে বিশ্বের নামিদামী তারকা ফুটবলারদের সঙ্গে একই মাঠে খেলার প্রারম্ভে থাকছেন তানভীর। এ ছাড়া বিভিন্ন আয়োজনসহ ফিফার পতাকা হাতে নিউইর্য়ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামের প্রত্যকটি ম্যাচে মাঠে নামছেন তিনি। বিশ্ব মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পাবনার সন্তান তানভীর শেখ বলেন, "এ এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত আমার এই ছোট্ট জীবনে। অসম্ভব ভালোলাগা কাজ করেছে বাংলাদেশ নামটি বিশ্ব মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দিতে পারার জন্য। তিনি আরো বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা পাবনা শহরের রাধানগর মক্তব পাড়ার সেই অলিগলি ঈদগাহ ময়দানের ছোট্ট মাঠের ফুটবল খেলা, মাঝেমধ্যে ধারাভাষ্যকার, ও ফুটবল প্রেম এবং সর্বোপরি ঢাকার থিয়েটার মঞ্চ থেকে আজ পৃথিবীর রাজধানী খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক এ ফুটবলের বিশ্ব আসরে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৮২ হাজার দর্শকের সামনে মধ্যমাঠে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের সাথে জাতীয় সংগীত এবং ফিফা পতাকাসহ প্রি-ম্যাচ সেরেমনিতে অংশগ্রহণ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে নেইমার, এমবাপ্পে, ভিনি জুনিয়র, রাফিনিওদের সাথে সরাসরি মাঠের মধ্যে সাক্ষাৎ এছাড়াও কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও, রোনাল্দো, জিদান, ডগবা সহ একাধিক তারকাদের সাথে হাত মেলানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে।"১৫ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নানান ধাপ পার করে সিলেক্ট হওয়া এবং নিউইর্য়কে প্রায় ১৫০ জনের বিশেষ পারফরম্যান্স টিমে মাঠের ভিতরে প্রীর। করা এতো সহজ ছিলনা তানভীর শেখ এর জন্য। কিন্তু সেটা তিনি অর্জন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলাসহ নিউইর্য়কে অনুষ্ঠিতব্য সবগুলো ম্যাচে সরাসরি মাঠে। প্রি-ম্যাচ সেরেমনি উপভোগ করতে চোখ রাখতে পারেন খেলার ১০ মিনিট আগে টিভির পর্দায়। এ ছাড়াও তানভীর শেখ গতবছর ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল সহ নিউইয়র্কের সকল ম্যাচে এবারের মতো একই দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ অসামান্য অর্জনে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি ধন্যবাদ জানান তাঁর বাবা-মা সহ দেশের সকলের সকলের প্রতি।যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী তানভীর শেখ ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাইন ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস এ্যনালাইটিক্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি শেষ করে ব্যাবসা পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত থিয়েটার চর্চা ও মূকাভিনয়ে অংশগ্রহণ করছেন নিউইর্য়কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে। তানভীর শেখ থিয়েটার অঙ্গনে কাজ করে চলেছেন ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এবং দেশ বিদেশের উল্লেখযোগ্য ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহনের পাশাপাশি পেয়েছেন জাতীয় এ অন্তর্জাতিক পুরস্কার ও অসংখ্য সন্মাননা।এ শিল্পী সম্প্রতি যোগ দিয়েছিলেন ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশ মোনাকোতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল আ্যমেচার থিয়েটার এসোসিয়েশনের সম্মেলনে বাংলাদেশী এম্বাসেডর হিসেবে। সে আন্তর্জাতিক সম্মেলন তার সাথে যোগ দেন ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর পোশাক পরিকল্পক ও তানভীর শেখ এর সহধর্মিণী তাসকিয়া তাবাসুম দিঘী এবং সহ-সম্পাদক রেজাউল মাওলা নাবলু। এছাড়াও তারা বিশেষ সভায় অংশগ্রহণ করেন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল আ্যমেচার থিয়েটার এসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে।
২ মাস ২৬ দিন আগে
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্থার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। যা খুলশী থানার ওসি থেকে নিয়ে উর্ধ্বতন অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই জানতেন। কিন্তু ভুল করে ফেলেছেন খুলশী থানার এস আই শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ভিকটিম মনে করে হেনস্থা ও মারধর করে ফেঁেস গেছেন। এতে পুলিেেশর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। কারণ তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা থেকে এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। এ ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলামকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলসী থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকলিয়া থানার ওসি করা হয়েছে সিএমপির বিশেষ শাখার পরিদর্শক জাহিদুল কবিরকে।শনিবার রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব তথ্য জানা যায়। রবিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।এর আগে নাঈম হাসানকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ (এসআই) তিন সদস্যকে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে তাদের দু‘জনকে সাময়িক সাসপেন্ড করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ, সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে তথ্যটির সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে মনে হয়েছে, ঘটনায় কিছু ভুলত্রুটি রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হেেচ্ছ। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছি। পুলিশের ভাবমূর্তির সঙ্গে বিষয়টি জড়িত। কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না-বললেন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম। সূত্র জানায়, শুক্রবার ছুটিতে ঢাকায় অবস্থানরত খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চোরাচালান আসার তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এস আই শফিকুল ইসলাম লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। মনিরুল জানিয়েছিলেন, তিনি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে ওই তথ্য পেয়েছেন।কিন্তু অভিযানে সিএনজি অটোরিকশাটিতে বহন করা হচ্ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে। এস আই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল চৌধুরী ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলের কেউ নাঈম হাসানকে চিনতে পারেননি। নাঈম হাসান যখন পরিচয় দেন তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করায় পুলিশ ঝিমিয়ে পড়ে। তবে এই ভৃুলের শাস্তি হিসেবে এস আই শফিকুলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে শনিবার সকালে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, আমরা এ ঘটনা সিরিয়াসলি আমলে নিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নাঈমের বড় ভাই কামরুল হাসান সাব্বির জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে নাঈমকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি গলা টিপে ধরে পুলিশ। এ ছাড়া তাকে পুলিশের হাতে থাকা পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন। পরে সোহেল নিজেকে ডিবি পরিচয় দেন। তখন সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন তার কাছে পরিচয়পত্র চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। পরে লোকজন তাকে খুলশী থানায় ধরে নিয়ে যায়। তার বাসা গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায়। পুলিশের সোর্স হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।এই ঘটনায় বাদি হয়ে খৃুলশী থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান কামরুল হাসান সাব্বির। তাতে সোহেলকে তিন নম্বর আসামি দেখানো হয়। অপর দু‘জন হলেন এসআই শফিক ও কনস্টেবল রাসেল। দু‘জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কামরুল হাসান সাব্বির আরও জানান, খবর পেয়ে গভীর রাতে যখন বাবা থানায় যায়, তখন বাবাকে থানার বাইরে ১৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ঢুকতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বাবা যখন ভেতরে ঢুকেন তখন দেখা যায়, সোহেল ওসির পাশে বসে এসির বাতাস খাচ্ছেন।
৩ মাস ৫ দিন আগে
জাতীয় ক্রিকেট দলের ¯িপনার নাঈম হাসান পুলিশি হেনস্থা ও মারধরের শিকার হওয়ার পর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানার ফরিদার পাড়ার বাড়িতে রয়েছেন। তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। সারা রাত থানায় কাটাতে হয়েছে তাকে ও স্বজনদের। শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতের দিকে তিনি ছাড়া পান। এরপর তাঁকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেন নাঈম হাসান। এই তথ্য নিশ্চিত করেন নাঈম হাসানের বড় ভাই মো. সাব্বির। শুক্রবার রাতে কী ঘটেছিল নাঈম হাসানের সঙ্গে তার বিবরণ দেন সাব্বির হাসান। তিনি জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নাঈম হাসান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠেন। তিনি প্রিমিয়ার লিগ খেলে ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রাম আসেন। তার অটোরিকশাটি ফ্লাইওভার থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ সংকেত দেয়। নাঈমের ভাষ্যমতে, পুলিশ কোনো ধরনের পরিচয় না দিয়ে নাঈমকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে গাড়ির ডকুমেন্ট ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে তারা গলা চেপে ধরে নাঈমকে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলার চেষ্টা করে।নাঈম তাঁকে কেন হেনস্থা করা হচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ আরও ক্ষিপ্ত হয়, তখন নাঈমকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। সেখানে দুইজন পুলিশ সদস্য ছিলেন বলে পরে জানতে পারি। তাদের সঙ্গে সাদা পাঞ্জাবি পরা আরেকজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি নাঈমকে মারধর করেন। এতে গুরুতর জখম হয় নাঈমের শরীরে। নাঈম ফোনে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পুলিশ আরও ক্ষিপ্ত হয়। তখনও নাঈমের গলা চেপে ধরে পুলিশ। নাঈম চিৎকার করলে আশপাশের মানুষজন জড়ো হতে শুরু করেন। প্রায় একশ থেকে দেড়শ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। অনেকেই পরিচয় জানার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন।নাঈম নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আইডি কার্ড দেখায়। তারপরও তারা নাঈমকে আসামি বলে সম্বোধন করে এবং কথা বলতে নিষেধ করে। পরে পুলিশ আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে নাঈমকে বলা হয়, নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে। পরে কারো ফোন আসার পর তাদের আচরণ বদলে যায় এবং নাঈমকে বসতে বলা হয়।ক্রিকেটার নাঈম বলেছেন মানুষ আমাকে চিনত বলে আমি বেঁচে গেছি। আমার জায়গায় যদি কোনো সাধারণ মানুষ থাকতেন, তাহলে তার কী হতো? তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হতো, সেটি কেউ জানত না। একজন সাধারণ নাগরিক যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।নাঈমের বাবা মাহবুব আলম জানান, পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত থানায় আসি। ডিউটি অফিসার আমারে প্রথমে থানাতেই ঢুকতে দেননি। দূরে গিয়ে বসতে বলেন। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে থানায় ঢুকতে দেয়। থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও আমার ছেলেকে অপমান করে কথা বলেছেন ওসি। পরে ঢাকা থেকে তামিম ইকবাল, ইসরাফিল খসরুর ফোন পেয়ে পুলিশ নমনীয় হয় এবং ভুল স্বীকার করে। পুলিশের এমন ঘটনায় নাঈম হতবাক ও কিছুটা বিপর্যস্ত। নাঈমের বাবা মাহবুব আলম বিএনপি নেতা, তিনি একসময় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি চান তিনি। শ্যালক আবেশ খান বলেন, পুলিশ তল্লাশি করতেই পারে। কিন্তু ব্যাগ তল্লাশি না করে শারীরিকভাবে হেনস্থা কোনোভাবে কাম্য নয়। চোরাচালানের কিছু যদি থেকেই থাকে তাহলে ওই ব্যাগ নাঈমকে বহনকারী সিএনজিতে রেখে আরেকটি সিএনজিতে কেন নাঈমকে থানায় নিয়ে গেল?আবেশ জানান, পুলিশকে ক্রিকেটার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে সে আইডি কার্ডও দেখিয়েছে। সবকিছু দেখানোর পরেও সিএনজিওয়ালার কথাও পুলিশ শুনতে নারাজ। নাঈমকে গলা চিপে ধরে হচ্ছে অন্য সিএনজিতে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নাঈমকে বহনকারী সিএনজিওয়ালাও শেষপর্যন্ত থানায় ছিল। তিনিও পুলিশের হেনস্থার বর্ণনা দিয়েছেন।আবেশ প্রশ্ন করেন, পুলিশের সাথে সিভিল পোশাকে একজন ছিল। ওই ব্যক্তিও লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করে। জনগণ তাকে ধাওয়া করেছিলো। পরে ওই ব্যক্তি আবার থানায় গেছে। এসআইদের সাথে তার যদি কোনো কানেকশন না থাকে তাহলে সে থানায় কীভাবে যায়।আবেশ বলেন, আমরা আইনের প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। তাই মামলা করেছি পুলিশের বিরুদ্ধে। তিনজকে আসামি করেছি আমরা। তারা হলেন এসআই শফিক, কনস্টেবল রাসেল ও সোহেল। এই ঘটনায় পুলিশের এস আই (নিরস্ত্র) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ। তিনি বলেন, তিনজন নয়, দুই পুলিশ জড়িত নাঈমকে হেনস্থার ঘটনায়। দু‘জনকে সাসপেন্ড করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এই ঘটনার পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নাঈম হাসানের বাসায় গেছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। এ সময় তিনি নাঈম ও তার বাবা মাহবুব হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির আশ্বাস দেন।
৩ মাস ৫ দিন আগে
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তা করার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বড় ভাই মো. সাব্বির চট্টগ্রামের খুলশী থানার তিন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এরপর তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ। তিনি বলেন, ঘটনার পর শনিবার সকালে খুলশী থানার এক এসআইসহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তারা হলেন- এসআই শফিক, কনস্টেবল রাসেল ও সোহেল। তাদের দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।এ বিষয়ে মামলার বাদি ক্রিকেটার নাঈম হাসনের বড় ভাই মো. সাব্বির জানান, তিন পুলিশের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নাঈমকে মারধর এবং হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা শুধু তাদের প্রত্যাহার বা ক্লোজড না, আইনি প্রক্রিয়ায় যথাযথ শাস্তি চাই।শ্যালক আবেশ খান জানান, ঘটনার সময় দুই পুলিশের পাাশাপাশি সাধারণ ড্রেসে একজন নাঈমকে মারধর করে। সে পুলিশের সঙ্গে ছিল। কিন্তু পুলিশ নয়। তাকে আমরা পরে থানায় দেখেছি। তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নাঈম হাসান বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।সূত্র জানায়, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগ খেলে শুক্রবার রাতে বিমানযোগে চট্টগ্রাম ফিরছিলেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন রাত ১১টায়। এরপর সিএনজিটি লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নামার মুখে পৌঁছলে পুলিশ পরিচয়ে তার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে সাদা পোশাকের পুলিশ তার গলা টিপে ধরে এবং মারধর করে থানায় নিয়ে যায়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে পাইপ দিয়ে মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হন ক্রিকেটার নাঈম হাসান। খবর পেয়ে নাঈমের বড় ভাই সাব্বির, বাবা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব আলম, শ্যালক আবেশ খানসহ স্বজনেরা ছুটে যান থানায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে এ নিয়ে বাগবিতন্ডা হয়। পরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে যোগাযোগের পর পুলিশ নমনীয় হয়। এই ঘটনায় খুলশী থানার এক এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে আইনের শাসন ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্র্যাকের কর্মকর্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট শরীফুল হাসান।নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক হ্যান্ডেলে তিনি বলেছেন, পুলিশের নির্যাতনের শিকার জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমের কথা শুনছিলাম! ভীষণ বেদনাদায়ক! সাধারণ মানুষের সঙ্গেও হরহামেশাই এমনটি হয়। ঠিক নাঈম হাসানকেও সাধারণ মানুষ মনে করে হয়রানির শিকার করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, খেয়াল করলে দেখবেন এদেশে কাউকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশ নির্যাতনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না। কিন্তু সিএনজি, রিকশা বা বাস থেকে নামিয়ে যাকে-তাকে নির্যাতন করা যায়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত এ ধরনের ঘটনা ঘটে কিন্তু তারা বিচার পান না।তিনি মন্তব্য করেন, ঘটনাটিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের দায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এদেশে সব আমলেই পুলিশ এমন ছিল। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে পুলিশকে সরকারগুলো তার লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করে। দেশে আইনের শাসনের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি লেখেন, গত ৫৫ বছরে বিভিন্ন সরকারের আমলে বাংলাদেশের কমবেশি অবকাঠামো উন্নয়ন অনেক হয়েছে, কিন্তু আইনের শাসন কোনো আমলেই প্রতিষ্ঠা হয়নি। অথচ আইনের শাসন সবচেয়ে জরুরি।পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শরীফুল হাসান বলেন, দেশ ঠিক করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। আইন-আদালত, নির্বাহী বিভাগ থেকে শুরু করে সবকিছুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়তে হয়। পুলিশকে রাজনৈতিক ব্যবহার করা বন্ধ করে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়তে হয়।স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের নীতিনির্ধারকরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও মনোযোগী হবেন। তার ভাষায়, একটা দেশের পুলিশ যদি মানুষকে মানুষের মর্যাদা না দেয়, রাস্তাঘাট, থানা, পুলিশ, আদালত ও প্রশাসনের সর্বত্র মানুষ যদি হয়রানির শিকার হন, সুশাসন না থাকে, সেই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
৩ মাস ৫ দিন আগে
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অনুষ্ঠিত হবে ৭২টি ম্যাচ। এত সংখ্যক ম্যাচের ভিড়ে কিছু ম্যাচ শুরু থেকেই আলাদা করে নজর কাড়ছে। দলগুলোর শক্তিমত্তা, তারকা খেলোয়াড় ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তেমন পাঁচটি ম্যাচ বাছাই করেছে। এর মধ্যে একটি ম্যাচ হচ্ছে ব্রাজিল–মরক্কো: যেটাকে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।আগামী ১৪ জুন নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন যাত্রা শুরু করা ব্রাজিলের আক্রমণভাগের বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তি মরক্কো এবারও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজদের নিয়ে গড়া দলটি ব্রাজিলের জন্য হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।নেদারল্যান্ডস–জাপান :দৃুটি দলের একটি জাপান হচ্ছে এশিয়ার সেরা, নেদারল্যান্ডস হচ্ছে ইউরোপের শক্তি। ১৪ জুন ডালাসে হবে ‘এফ’ গ্রুপের অন্যতম আকর্ষণীয় এই ম্যাচ। বিশ্বকাপে এখনও শিরোপার দেখা না পাওয়া নেদারল্যান্ডসের সামনে থাকবে জাপানের কঠিন পরীক্ষা। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল জাপান। এবারও সামুরাই ব্লুরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে থাকবে।ফ্রান্স–সেনেগাল: ২৪ বছর পর ১৬ জুন নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সেনেগাল। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল।দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার দেখা হচ্ছে দুই দলের। ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত গ্রুপ ‘আই’-এ এই ম্যাচের ফলই হয়তো নির্ধারণ করে দিতে পারে গ্রুপসেরা কারা হচ্ছে।ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া: ১৭ জুন ডালাসে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়াটরা।থমাস টুখেলের অধীনে প্রথম বড় টুর্নামেন্ট খেলতে নামা ইংল্যান্ডের জন্য এটি হবে বড় পরীক্ষা। গ্রুপ ‘এল’-এ শীর্ষস্থান নির্ধারণেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।কলম্বিয়া–পর্তুগাল: ২৭ জুন মায়ামিতে হবে গ্রুপ ‘কে’-এর অন্যতম হাই-ভোল্টেজ লড়াই। লুইস দিয়াজ ও হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।ম্যাচটির টিকিট ইতোমধ্যে পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে। পুনর্বিক্রয় বাজারে একটি টিকিটের দাম ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ডলারের মধ্যে উঠেছে, যা এটিকে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ম্যাচে পরিণত করেছে।
৩ মাস ৬ দিন আগে
জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের ফাঁকে নিজ কার্যালয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানিয়েছেন।চেক তুলে দেওয়ার সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতেও ঋতুপর্ণা চাকমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তাঁর নির্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন। তারা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।পার্বত্য জেলার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে ঋতুপর্ণা চাকমা আজ দেশের অসংখ্য নারী ফুটবলারের অনুপ্রেরণার নাম।
৩ মাস ৯ দিন আগে
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বদলে যায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের ভাষা। রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মার্কেট— সবখানেই তখন ছড়িয়ে পড়ে জার্সির উন্মাদনা। এ সুযোগে দামও বেড়ে হয় আগুন। ব্যতিক্রম নয় এবারও। এর মধ্যে বরাবরের মতো বেচা-কেনার শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। মেসি, নেইমার কিংবা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম লেখা জার্সিই যেন তরুণদের আবেগ, পরিচয় আর সমর্থনের প্রতীক। কিন্তু সেই আবেগের বাজারে এসব জার্সিতে বইছে এখন অস্বাভাবিক দামের ঝড়। অভিযোগ উঠেছে, চাহিদাকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী চক্র, যার চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে।ক্রেতাদের মতে, দেশের বাজার জুড়ে বিশাল সমাহার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির। দোকানের শোকেস থেকে ফুটপাত— সবখানেই সাজানো বিভিন্ন মান ও দামের জার্সি। তবে আনন্দের চেয়ে হতাশাই বেশি ক্রেতাদের চোখে। কারণ, কয়েক দিনের ব্যবধানে জার্সির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।সানোয়ার করিম নামে এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, ‘যে জার্সি তিন দিন আগেও আমরা পাইকারিতে ১৮০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটিই ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আগে নিয়মিত সরবরাহ থাকলেও এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম মাল পাওয়া যাচ্ছে।’কাপড় ও মানভেদে বর্তমানে জার্সির দাম একেকরকম উল্লেখ করে তিনি জানালেন, জার্সির দাম উঠেছে ৩০০ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা, যারা কিনতে চান সাধারণ মানের জার্সিই।ব্যবসায়ীদের দাবি, টুর্নামেন্ট ঘিরে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধি, শিপিং খরচ এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়ার প্রভাবও পড়েছে স্থানীয় বাজারে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের একাংশের মতে, পাইকারি পর্যায়েই দাম বাড়ানো হচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে, যা কৃত্রিম সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বাজারে।বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বিভিন্ন ধরনের জার্সির দামে। সাধারণ লোকাল বা সাবলিমেশন জার্সির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও প্রিমিয়াম ফ্যান এডিশনের বেড়েছে প্রায় ১১ থেকে ৪০ শতাংশ। প্লেয়ার এডিশন কিটে দাম বেড়েছে ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। আর সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক জার্সিতে, যেখানে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত।বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বৈশ্বিক বাজারে ডলার সংকট, ব্র্যান্ড প্রিমিয়াম এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হলেও তা আরও তীব্রভাবে প্রভাব ফেলছে স্থানীয় বাজারে।দামের এই অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফ হোসেন আজাদ আক্ষেপ করলেন, ‘আমি ব্রাজিলের জার্সি ৪৫০ টাকায় কিনেছি। তিন দিন আগে এলে হয়তো আরও কম দামে পেতাম। এখন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও ৭০০ টাকার নিচে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।’ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে প্রায় সব দোকানেই রাখা হচ্ছে একই ধরনের দাম। ফলে কমে গেছে দরদাম করার সুযোগও। ফুটপাতের বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। ফুটপাতের ব্যবসায়ী এমরুল কায়েশ তুলে ধরলেন বাজারদর। তিনি জানান, শিশুদের জার্সি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়, সাধারণ মানের হাফহাতা জার্সি ৩০০ এবং তুলনামূলক ভালো মানের জার্সি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। তবে বাড়তি চাহিদার কারণে তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন দাবি তার।তিন দিনের ব্যবধানে জার্সির পাইকারি দাম প্রায় দ্বিগুণ উল্লেখ করে এই বিক্রেতা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ পিস পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে জার্সি।চাঁদপুরের মতলব থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিতে আসা নাছির উদ্দীনও জার্সি কিনেছেন ছেলেমেয়ের জন্য। তার ভাষ্য, গতকাল মেয়ের জন্য জার্সি কিনেছি, আজ ছেলের জন্য কিনলাম। এক দিনের ব্যবধানে ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। সব দোকানে একই কথা— নিলে নেন, না নিলে নাই।তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অস্বীকার করেছে সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ। নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা সরাসরি কারখানা থেকে জার্সি আনি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কম পড়ছে। হাত বদলের কারণে দাম বাড়ছে, এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই।’যদিও খুচরা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে হঠাৎ করেই জার্সির দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় পুরো বাজারে পড়েছে এর প্রভাব। তার আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহে আরও বাড়তে পারে দাম।তবে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে জানিয়ে আশ্বস্ত করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন। তিনি বলেন, জার্সির দাম বৃদ্ধি বা সিন্ডিকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইনের মতে, চাহিদাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা অনৈতিক। বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়পক্ষেরই দায়িত্বশীল আচরণ।তিনি বলেন, ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ঘিরে প্রতি বড় টুর্নামেন্টেই জমে ওঠে জার্সির বাজার। কিন্তু সেই আবেগ যখন পরিণত হয় অসাধু মুনাফার খেলায়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ ক্রেতারা।
৩ মাস ১৯ দিন আগে
রাগ করলা? বাংলাদেশে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সংলাপটি। সংলাপটি এখন মানুষের মুখে মুখে। এবার এই ট্রেন্ডিং বিষয়ে পোস্ট দিয়ে যোগ দিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-ফিফাও। সংস্থাটি তাতে যোগ করেছে নেইমারকে। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ পেইজে নেইমারের এক ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সেটির ক্যাপশনে লিখেছে, ফুটবল রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন। আর নেইমারের সেই ছবিতে লেখা, ‘কি প্রতিপক্ষ রাগ করলা!নেইমারের বিশ্বকাপ দলে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের কোচ হওয়ার পর আনচেলত্তি দীর্ঘ এক বছর নেইমারকে দলে নেননি। শেষ পর্যন্ত নেইমার ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলেন এবং ডাক পাওয়ার পর কেঁদেও দিয়েছিলেন। নেইমারের দলে ফেরার এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশের 'রাগ করলা?' ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছে ফিফা। উল্লেখ্য, গত রোববার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখান থেকে মূলত এই সংলাপটির প্রচলন শুরু হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের একটি ব্যস্ততম রাস্তার পাশে এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির ভাগ্য গণনার সময় ওই যুবকের জীবনের নানা ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি বাক্যের শেষেই গণকটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে উচ্চারণ করছিলেন—'রাগ করলা?' সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মানুষের মুখে মুখে এখন 'রাগ করলা?' উচ্চারিত হচ্ছে।
৩ মাস ২৮ দিন আগে
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি এবার লিওনেল মেসিকে নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। পরীমণি বলেছেন, মেসির পায়ে বল থাকলে তাঁর হার্টবিট বেড়ে যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরীমণি এই মন্তব্য করেন। পরীমণি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক এবং মেসির একজন ‘ডাইহার্ড ফ্যান’। তার ভাষায়, “আমি আর্জেন্টিনা। আমি আজীবনের আর্জেন্টিনা। আই লাভ মেসি।”মেসির খেলা দেখার সময় নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে পরীমণি বলেন, “মেসির পায়ে যখন বল থাকে, তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়।”বিশ্বকাপ ও ফুটবল ঘিরে পরীমণির এমন উচ্ছ্বাস ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকেই তার এই অকৃত্রিম ফুটবলপ্রেমকে আবেগঘন ও আন্তরিক বলে মন্তব্য করছেন।
৪ মাস আগে
বিশ্বকাপ ফুটবল এখন গ্লোবাল সংস্কৃতির এক উৎসব। সেই উৎসবে এবার নতুন থিম সং ‘দাই দাই’। কণ্ঠেও সেই পরিচিত নাম কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছেন নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় শিল্পী বার্না বয়। দুই মহাদেশের দুই ভিন্ন ঘরানার কণ্ঠ মিলে তৈরি হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের থিম সং। সপ্তাহখানেক আগে এক মিনিট ৭ সেকেন্ডের টিজার প্রকাশের পর থেকে গানটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। এরপর ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক পরিবেশনার পর শুক্রবার (১৫ মে) গানটি বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়।ফিফা জানিয়েছে, ‘দাই দাই’ থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটি তাদের গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে জমা হবে। টুর্নামেন্ট শেষে এই তহবিলে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যয় করা হবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে।যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে দেখছে ফিফা। আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই মহাযজ্ঞ।বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরার উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ দিয়ে তিনি পুরো ফুটবল বিশ্বকে নাচিয়েছিলেন। এর আগে ২০০৬ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালেও পারফর্ম করেছেন তিনি।এবারও তাই প্রত্যাশা—‘দাই দাই’ শুধু একটি গান নয়, বিশ্বকাপের আবহে যোগ হওয়া নতুন এক আবেগ।
৪ মাস ৩ দিন আগে
টার্গেট বড় হওয়ায় কিছুটা শঙ্কা ছিল; রান তাড়ায় মাঝপথে ছন্দপতনও হয়েছিল। কিন্তু তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ ইমন আর শামীম পাটোয়ারীদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সামনে সব উড়ে গেল শঙ্কা। বড় রান তাড়া করেও চট্টগ্রামে কিউইদের ৬ উইকেটে গুঁড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুভ সূচনা করল লিটন দাসের দল। এটা ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করার রেকর্ড।রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বেশ ভালো। ৫.৩ ওভারে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি উপহার দেন। ১৬ বলে ১৭ রান করে সাইফ আউট হতেই বিপর্যয়ের শুরু। অধিনায়ক লিটন দাস তিনে নেমে দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৫ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২১ রান করেই তিনি ইশ সোধির বলে পুল করতে গিয়ে সোজা বোল্ড হয়ে যান। ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা তানজিদ আর রানের গতি বাড়াতে পারেননি। তিনি ২৫ বলে ২০ রান করে আউট হয়ে যান।৭৭ রানে ৩ উইকেটের পতনের পর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ ইমন। এই দুজন চতুর্থ উইকেটে গড়েন ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি। ১৪ বলে ২৮ রান করা ইমন ক্লার্কসনের অফ কাটারে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অফে। বিস্ফোরক মেজাজে থাকা হৃদয়ের সঙ্গে যোগ দেন শামীম পাটোয়ারী। শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন হয় ১৮ রানের। ১৭তম ওভারে শামীমের তিন চার আর এক ছক্কায় জয় চলে আসে হাতের নাগালে। ১২ বল হাতে রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ।তাওহীদ হৃদয় ২৭ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। আর শামীম হোসেন খেলেন ১৩ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস। দুজনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ২১ বলে ৪৯ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে। কিউইদের হয়ে ২ উইকেট নেওয়া ইশ সোধি ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান। ম্যাথু ফিশার তো ৪ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।এর আগে আজ সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১১ রানেই রান আউট হয়ে যান টিম রবিনসন (০)। আরেক ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক অবশ্য ৩৭ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস উপহার দেন। তিনে নেমে উইকেটকিপার ড্যান ক্লেভারও খেলেন ২৮ বলে ৫১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এ দুজনকেই শিকার করেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।১০ ওভারে ১০০ রান তুলে ফেলা নিউজিল্যান্ড পরের পাঁচ ওভারে তোলে মাত্র ৩০ রান। বাংলাদেশি স্পিনাররা রানের লাগাম টানেন। ১৬.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫১ রান করার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। খেলা শুরু হলে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি ২৭ বলে ৩৯ রান করে আউট হয়ে যান। শিকারি শরিফুল ইসলাম। শেষ ওভারে উইকেট পেতে পারতেন রিপন মণ্ডল; তবে ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করা ক্লার্কসনের ক্যাচ ফেলেন রিশাদ হোসেন।বল হাতে তিন পেসারই উদার হস্তে রান বিলিয়েছেন। শরিফুল ৪ ওভারে ৩৬ রানে ১ উইকেট, তানজিম সাকিব ৪ ওভারে ৪০ রানে ১টি এবং রিপন ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দুই স্পিনারের মধ্যে শেখ মাহেদী ৩১ রানে একটি আর রিশাদ হোসেন ৩২ রানে ২ উইকেট নেন।
৪ মাস ২২ দিন আগে
বৈশাখের ভর দুপুর। মাথার ওপর সূর্য যেন অগ্নিবর্ষণ করছে। কিন্তু চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের উত্তাপ ছাপিয়ে গেছে সেই অগ্নিবর্ষণ। মানুষের উন্মাদনার কাছে হার মেনেছে বৈশাখের সেই তপ্ত দুপুর।শনিবার (২৫ এপৃল) বেলা শেষে এল শান্তির বার্তা। এবারের ১১৭ তম বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ। যিনি সবার কাছে ‘বাঘা’ শরীফ নামে পরিচিত। আর তাতে তার হয়ে যায় হ্যাটট্রিক। খেলায় রানারআপ মো. রাশেদ।সূত্রমতে, এবারের বলীখেলায় অংশ নিয়েছিলেন ১০৮ জন বলী। নবীন থেকে প্রবীণ সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, লালদীঘির শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইটি গিয়ে ঠেকে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী গতবারের চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ ও মো. রাশেদের মধ্যে।ফাইনালে রিংয়ের চারপাশ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। ঢোলের বাদ্য আর দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারে মেতে উঠেছে পুরো এলাকা। লড়াই শুরু হতেই দেখা গেল কৌশল আর শক্তির অপূর্ব সমন্বয়। কখনো রাশেদ আক্রমণ করছেন, তো কখনো শরীফ তা দুর্দান্ত দক্ষতায় সামলে নিচ্ছেন। এভাবে চলল টানা ২৫ মিনিট। শেষ মুহূর্তে হুট করেই নিজের কৌশল বদলে ফেললেন শরীফ। রাশেদকে ভারসাম্যহীন করে এক নিপুণ প্যাঁচে মাটিতে ফেলে দিতেই রেফারির বাঁশি বেজে উঠল। বাঘা শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করলেন। অরণ্য তৌফিকএর আগে খেলায় বাজিমাত করেছেন ঢাকা হরাইজন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী অরণ্য তৌফিক। ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর হারিয়ে দিয়েছেন তার চেয়ে ১২ বছর বেশি বয়সের মোহাম্মদ মানিককে।শনিবার ঢাকা থেকে লালদীঘির মাঠে এসে পৌঁছান তৌফিক। সঙ্গে এসেছেন তার কোচ সামির। তৌফিক কুস্তি ও রেসলিং পছন্দ করেন ছোটবেলা থেকেই। ঢাকায় মাঝেমধ্যে খেলেন। এবার শখের বশে জব্বারের বলীখেলায় আসলেন প্রথমবার।তৌফিক ও হালিশহরের মানিকের দ্বৈরথটি এক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। রিং থেকে নামার মুখেই তিনি জড়িয়ে ধরেন কোচ সামিরকে।তৌফিক বলছিলেন, ‘আমার চেয়ে অনেক স্থুলকার বড় একজনের সঙ্গে খেলেছি। সাহস করে নেমেছি। প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেলেও সাহস হারাইনি। শেষপর্যন্ত জিতে গেছি। ভালো লাগছে।’ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা তৌফিক। বাবা তৌফিকুল আলম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা। মা রোকসানা চিকিৎসক। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তৌফিক বড়।তৌফিক জানান, তার বাবা মা তাকে খেলার বিষয়ে উৎসাহ দেন। টিভিতে নিয়মিত রেসলিং দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে একজন বড় কুস্তিগির হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।তৌফিক এবার জব্বারের বলীখেলার সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী। জেতার পর দারুণ উচ্ছ্বসিত। ‘আগে অনেক শুনেছি এ বলীখেলার কথা। এখন সামনাসামনি দেখলাম।’শতবর্ষী আবদুল জব্বার বলীখেলা এবার ১১৭ বছরে পা দিল। এবার শতাধিক বলী অংশ নেন। ১৯০৯ সালে বদরপাতির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার প্রচলন করেন। তখন উদ্দেশ্য ছিল নিছক বিনোদন নয়, বরং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের তরুণদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও সাহসী করে গড়ে তোলা। ১১৪ বছর ধরে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই আয়োজন চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালদীঘি ঘিরে আয়োজিত কয়েক কিলোমিটারের এই বৈশাখী মেলায় কেউ গামছা বেঁধে, কেউ ছাতা হাতে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় ঠাঁই নিয়ে চাতক পাখির মতো বেলা দেখেছেন।
৪ মাস ২৪ দিন আগে