বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্থার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। যা খুলশী থানার ওসি থেকে নিয়ে উর্ধ্বতন অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই জানতেন। কিন্তু ভুল করে ফেলেছেন খুলশী থানার এস আই শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ভিকটিম মনে করে হেনস্থা ও মারধর করে ফেঁেস গেছেন। এতে পুলিেেশর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। কারণ তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা থেকে এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।
এ ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলামকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলসী থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকলিয়া থানার ওসি করা হয়েছে সিএমপির বিশেষ শাখার পরিদর্শক জাহিদুল কবিরকে।
শনিবার রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব তথ্য জানা যায়। রবিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।
এর আগে নাঈম হাসানকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ (এসআই) তিন সদস্যকে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে তাদের দু‘জনকে সাময়িক সাসপেন্ড করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ, সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে তথ্যটির সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে মনে হয়েছে, ঘটনায় কিছু ভুলত্রুটি রয়েছে।
জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হেেচ্ছ। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছি। পুলিশের ভাবমূর্তির সঙ্গে বিষয়টি জড়িত। কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না-বললেন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম।
সূত্র জানায়, শুক্রবার ছুটিতে ঢাকায় অবস্থানরত খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চোরাচালান আসার তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এস আই শফিকুল ইসলাম লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। মনিরুল জানিয়েছিলেন, তিনি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে ওই তথ্য পেয়েছেন।
কিন্তু অভিযানে সিএনজি অটোরিকশাটিতে বহন করা হচ্ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে। এস আই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল চৌধুরী ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলের কেউ নাঈম হাসানকে চিনতে পারেননি। নাঈম হাসান যখন পরিচয় দেন তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করায় পুলিশ ঝিমিয়ে পড়ে।
তবে এই ভৃুলের শাস্তি হিসেবে এস আই শফিকুলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে শনিবার সকালে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, আমরা এ ঘটনা সিরিয়াসলি আমলে নিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাঈমের বড় ভাই কামরুল হাসান সাব্বির জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে নাঈমকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি গলা টিপে ধরে পুলিশ। এ ছাড়া তাকে পুলিশের হাতে থাকা পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন। পরে সোহেল নিজেকে ডিবি পরিচয় দেন।
তখন সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন তার কাছে পরিচয়পত্র চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। পরে লোকজন তাকে খুলশী থানায় ধরে নিয়ে যায়। তার বাসা গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায়। পুলিশের সোর্স হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
এই ঘটনায় বাদি হয়ে খৃুলশী থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান কামরুল হাসান সাব্বির। তাতে সোহেলকে তিন নম্বর আসামি দেখানো হয়। অপর দু‘জন হলেন এসআই শফিক ও কনস্টেবল রাসেল। দু‘জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
কামরুল হাসান সাব্বির আরও জানান, খবর পেয়ে গভীর রাতে যখন বাবা থানায় যায়, তখন বাবাকে থানার বাইরে ১৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ঢুকতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বাবা যখন ভেতরে ঢুকেন তখন দেখা যায়, সোহেল ওসির পাশে বসে এসির বাতাস খাচ্ছেন।