ফারাক্কার প্রভাব মোকাবেলায় অনুমোদন পেল দেশের বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রকল্পটির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার।বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানির ঘাটতি মোকাবিলা, নদীব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামগ্রিক পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নিশ্চিত করা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মিতব্য ব্যারাজে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রকল্পের আওতায় জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ইছামতি-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে গোদাগাড়ী পাম্প হাউস, গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।প্রকল্পের মাধ্যমে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ব্যারাজের ওপর সড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে এটিকে বহুমুখী করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এর ফলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন ধান এবং ২ লাখ ৩৪ হাজার টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রায় ১২ কোটি ২৫ লাখ কর্মদিবসের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যেখানে প্রায় ৪৭ হাজার ৯৫০ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৩ হাজার ৪৫০ একর জমিতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের জন্য সাতটি উপগ্রহ শহর ও আধুনিক গ্রামীণ টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রায় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন কমিয়ে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; বরং দেশের পানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমাধান হতে পারে। তারা বলেন, এই ব্যারাজের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।উনিশ শতকের সত্তরের দশকে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার পর থেকে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়, যা কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ ও নৌপথের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।প্রকল্পটি দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে। চারটি বিভাগ, ২৬টি জেলা এবং ১৬৩টি উপজেলায় এর সুফল পৌঁছাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের আগে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-গঙ্গা ব্যবস্থায় পানির প্রবাহ ছিল প্রায় ৭০ হাজার কিউসেক। ১৯৭৫ সালের পর উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে অনেক সময় তা ২০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পদ্মানির্ভর ২০ থেকে ২৫টি জেলার মানুষের জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে গত জানুয়ারিতে প্রায় ছয় দশকের আলোচনার পর প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ২৫ জানুয়ারির একনেক সভায় এটি উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও উচ্চ ব্যয়ের কারণে তড়িঘড়ি অনুমোদন না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করে প্রথম ধাপে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদনের প্রস্তাব দেয়। সরকারি অর্থায়নে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।গত ৬ মে পরিকল্পনা কমিশন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এ সময় প্রকল্পটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে কী ধরনের অবদান রাখবে, সেই মূল্যায়ন প্রস্তাবে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি পানি নির্গমন পথ, ১৮টি নিম্নস্রোত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, মাছ চলাচলের বিশেষ পথ, নৌযান চলাচলের লক এবং নদীতীর রক্ষাবাঁধ। গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর জন্য তিনটি পানি গ্রহণ কাঠামো নির্মাণ করা হবে।নদী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গড়াই-মধুমতি ব্যবস্থায় ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার খনন এবং হিসনা নদী ব্যবস্থায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যারাজের মাধ্যমে ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জলাধার তৈরি হবে, যেখানে অতিরিক্ত বড় ধরনের ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এর ফলে পর্যটন, মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি জলবিদ্যুতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদীর দুই তীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ চালুর পর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দুই দেশ পানি ভাগাভাগি করে আসছে। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হচ্ছে।প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ, নৌপরিবহন, পানীয় জলের সরবরাহ এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিঠা পানির ঘাটতির কারণে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের নদী ও খালে অতিরিক্ত লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়েছে।পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি এবং চন্দনা-বারাশিয়া নদীতে পলি জমে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ পানি সরাসরি বঙ্গোপসাগরে চলে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নদীগুলো প্রায় শুকিয়ে যায়। এতে লবণাক্ততা, নদীভাঙন, পলি জমা, নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া, সেচ সংকট এবং মৎস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো সমস্যা বেড়েছে। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনের গাছপালায় ব্যাপক মরা রোগও দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের ধারণা প্রথম উঠে আসে ষাটের দশকে। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রথম সমীক্ষা শুরু করে। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে চারটি প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়।২০০২ সালে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ী অথবা রাজবাড়ীর পাংশায় ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশা প্রণয়ন করা হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও ঢাকায় বৈঠক করেন। পরে তথ্য বিনিময় সহজ করতে একটি যৌথ কারিগরি উপকমিটিও গঠন করা হয়।
৫ দিন আগে
চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যেখানে লাল গালিচা সংবর্ধনার আয়োজন করবেন, তার থেকে মাত্র কয়েকশ মাইল দূরে একটি রহস্যময় কর্মযজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অর্থনীতিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার জোগান দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে তেহরানকে সচল রাখতে এ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই চীন।স্থানটি মূলত চীনের শানডং প্রদেশ এবং এর সীমান্তবর্তী অঞ্চল। এখানকার বন্দর, পাইপলাইন এবং তেল শোধনাগারগুলোর বিশাল সব তেলের ট্যাঙ্ক আর ধোঁয়া নির্গত হওয়া চিমনিগুলো উপকূলীয় মরুভূমির ধূসর প্রান্তরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে রয়েছে তথাকথিত ‘টিপট রিফাইনারি’ বা ছোট ছোট স্বতন্ত্র তেল কোম্পানি, যারা বেইজিংয়ের অনুমতি নিয়ে পরিচালিত হয়।এই শোধনাগারগুলোই নীরবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে গ্যাস, ডিজেল ও পেট্রোকেমিক্যালে রূপান্তর করছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। তেহরানের আর্থিক পথ বন্ধ করে দিয়ে তাদের নতি স্বীকারে বাধ্য করতে চাইছে ওয়াশিংটন। আর এ কারণে চীনের সঙ্গে ইরানের এই গোপন বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি এখন পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে ট্রাম্প ও শির আলোচনার টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে।এই বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনাও দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। বেইজিং একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা চায়, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও বজায় রাখতে আগ্রহী। ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগের দিন মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চীনে ‘ইরানি তেল বিক্রি ও পরিবহনে’ ভূমিকা রাখার দায়ে ১২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন যখন নতুন একটি শোধনাগারকে কালো তালিকাভুক্ত করে, তখন বেইজিং তার সংস্থাগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে কয়েক হাজার মাইল দূরে আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনী সেই সব ছদ্মনামী জাহাজগুলোকে ধাওয়া করছে, যারা ইরান থেকে তেল নিয়ে পূর্ব চীনের শোধনাগারগুলোতে পৌঁছে দেয়।মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, চীন তেল কেনার মাধ্যমে ইরানের ‘সন্ত্রাসী’ নেটওয়ার্কগুলোকে অর্থায়ন করতে সাহায্য করছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে শানডং ও হেবেই প্রদেশের সীমান্তের উত্তরে তেল শোধনাগার ঘেরা একটি জনশূন্য রাস্তায় ঘুরতে গিয়ে মনে হলো, বিশ্বব্যাপী আলোচনার সেই আলো এখন এই দুর্গম এলাকাটির ওপর ভালোভাবেই এসে পড়েছে।মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত শোধনাগারে একদিনএক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত হওয়া হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপের শোধনাগারটির চারপাশে কড়া নিরাপত্তা। শিল্পোন্নত বন্দর এলাকায় বেশ কয়েকটি ব্লক জুড়ে বিস্তৃত এই শোধনাগারের প্রবেশপথে মুখোশধারী নিরাপত্তারক্ষীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।একটি সড়ক দিয়ে সিএনএনের কর্মীরা যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের লোগোসম্বলিত একটি গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি তাদের পিছু নেয়। এমনকি গাড়ির জানালা দিয়েও যাতে কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ করা না যায়, সেজন্য তারা পথরোধ করার চেষ্টা করে। অথচ ওই এলাকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন কড়াকড়ি দেখা যায়নি।এই কোম্পানিটি মূলত গ্যাস, ডিজেল ও রাস্তা তৈরির বিটুমিন উৎপাদন করে। গত বছরের মে মাসে ওয়াশিংটন অভিযোগ করে, হেবেই সিনহাই ‘ইরানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’ তেল ক্রয় করছে। এছাড়া কোম্পানিটি ছদ্মনামী জাহাজের মাধ্যমে ইরান থেকে কোটি কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে বলেও দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।এই কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কালো তালিকার একটি অংশ মাত্র। গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত চীনের আরও চারটি শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার বেশিরভাগই এই উপকূলীয় জ্বালানি কেন্দ্রে একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। শানডং প্রদেশের এই তেল শিল্প কয়েক দশক আগে ইয়োলো রিভার ডেল্টার শেংলি তেলক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন তারা বিদেশের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।চীনের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ জোগান দেয় এই শোধনাগারগুলো। আর বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই আমদানির বড় উৎস হলো বিভিন্ন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল।কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির সিনিয়র রিসার্চ স্কলার এরিকা ডাউন্স বলেন, ‘এগুলো মূলত ছোট ছোট শোধনাগার, যারা খুব সামান্য লভ্যাংশে কাজ করে। ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের তেল অনেক সস্তায় পাওয়ায় তারা এতদিন টিকে থাকতে পেরেছে।’ তবে এই ছোট ছোট কোম্পানির তালিকায় বড় ব্যতিক্রম হলো ডালিয়ান শহরের হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল।গত মাসে এই বড় কোম্পানিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা এখন বড় খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় হেংলিকে ‘ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে সরকারি সহায়তায় ডালিয়ানের বাইরে বিশাল অবকাঠামো গড়ে তোলা এই কোম্পানি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।বেইজিং মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ মনে করে এবং তাদের কোম্পানিগুলোকে এসব নিষেধাজ্ঞা না মানার নির্দেশ দিয়েছে। সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এ ধরনের ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার’ কড়া বিরোধী। চীনের এই তেল শিল্পের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ছোট ও স্বতন্ত্র শোধনাগারগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। কারণ তাদের ব্যবসা মূলত দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ।অন্যদিকে চীনের বড় বড় রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা সাধারণত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে। হেবেই সিনহাই-এর গেটে কড়া নিরাপত্তা আর রাস্তায় তেলের ট্যাঙ্কারের অবিরাম চলাচল দেখে অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার, নিষেধাজ্ঞার এক বছর পার হলেও তাদের ব্যবসা থেমে নেই; বরং পুরোদমেই চলছে।
৬ দিন আগে
পানির বিল নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, গ্রাহক পানি ব্যবহার না করলেও মাসিক নির্দিষ্ট ফি গুনতে হবে। পাশাপাশি পানির ব্যবহার বাড়লে বাড়বে বিলও। বর্তমানে প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানিতে আবাসিক গ্রাহককে ১৮ টাকা এবং অনাবাসিকে (শিল্প ও বাণিজ্য) ৩৭ টাকা গুনতে হয়।চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য এই ‘টু-পার্ট ট্যারিফ’ বা দুই অংশের বিল কাঠামো প্রস্তাব করেছে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট ইন্ডিয়া। ঘাটতি পূরণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিল পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নতুন এই বিল পদ্ধতি ঢাকাসহ দেশের কোনো ওয়াসায় নেই। এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুর দাবি, ‘নতুন ট্যারিফ চালু হলে ভোক্তার ওপর বিলের বোঝা বাড়বে। সিস্টেম লসের নামে যে বিপুল পরিমাণ পানি চুরি হয়, সেটি গড় বিল করে পোষায় ওয়াসা। এই ট্যারিফের মাধ্যমে সেটিকে বৈধতা দিতে চায় তারা। মানুষের ওপর বিলের বোঝা না কমিয়ে সিস্টেম লস বন্ধ করুক ওয়াসা।’পারু বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার সিস্টেম লস প্রায় ২৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা বছরে ৪৭ হাজার ৪২০ কোটি লিটার। এই বিশাল অপচয় বা চুরি রোধ না করে নতুন ট্যারিফ আরোপ করে গ্রাহকের ওপর বোঝা চাপানো কেনোমতেই উচিত নয়।তবে ভিন্ন কথা বলছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম। তিনি বলেছেন, নতুন ট্যারিফ বাস্তবায়ন হলে বিল বাড়বে না। বরং গড় বিল নিয়ে যে সন্তোষ আছে তা প্রশমন হবে। বর্তমানে প্রতিদিন এক ইউনিট হারে প্রতি মাসের সর্বনিম্ন গড় বিল দিতে হয়। যেটি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় পানির বিল দুভাগে নির্ধারণ করা হবে। একটি নির্দিষ্ট মাসিক ফি, অন্যটি ব্যবহারের ওপর চার্জ। বর্তমানে যে ন্যূনতম এক ইউনিট বিলের ব্যবস্থা রয়েছে, নতুন মডেলে সেটি বদলে পরিবার সংখ্যা ও পানি ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দুটি প্রস্তাবের মধ্যে ‘প্রস্তাব-১’-কে তুলনামূলকভাবে কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব হিসেবে বিবেচনা করেছে ওয়াসার গঠিত কমিটি।এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এক থেকে চারটি পরিবারের জন্য মাসিক নির্ধারিত বিল হবে ৩২৫ টাকা। এর আওতায় ২৫ ইউনিট পানি ব্যবহার করা যাবে। পাঁচ থেকে ১০টি পরিবারের জন্য নির্ধারিত বিল হবে ৯৭৫ টাকা, যেখানে ৭৫ ইউনিট পানি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ১০টির বেশি পরিবারের ক্ষেত্রে মাসিক বিল হবে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, যার মধ্যে ১৫০ ইউনিট পানি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা করে দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য এই হার ৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৮০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে ১৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য মাসিক ৭৫০ টাকা নির্ধারিত ফি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর নির্ধারিত ও পরিবর্তনশীল উভয় ধরনের ট্যারিফে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিকল্প আরেকটি প্রস্তাবে প্রথম ৩০ ইউনিট পর্যন্ত সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ন্যূনতম ৬৫০ টাকা বিল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ইউনিটপ্রতি মূল্য ২৩ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত টু-পাট ট্যারিফের নতুন পদ্ধতি যাচাই-বাছাই করতে কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কমিটি ৯ দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশের ভিত্তিতে দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য গঠিত কমিটির সভায়। সিদ্ধান্তগুলো হলো— বিল পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য অংশীজনের সঙ্গে সভা করা ও বর্তমান প্রচলিত রাজস্ব হ্রাস পাবে কি না, তা বিশ্লেষণ করা। তবে কমিটি বোর্ড মিটিংয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদন হলে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন ট্যারিফ গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্যমতে, বর্তমানে ওয়াসার মোট সংযোগ সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ২২২টি। এর মধ্যে ৯২ হাজার ১১২টি আবাসিক ও ৯ হাজার ১১০টি অনাবাসিক। বর্তমান সংযোগের মধ্যে পানির ব্যবহার ৯১ শতাংশ আবাসিকে ও ৯ শতাংশ অনাবাসিকে।
৭ দিন আগে
পদ্মা ব্যাংকের পেটে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮০ কোটি টাকা। যা হারাতে বসেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সাথে হারাচ্ছে ৩৮০ কোটি টাকা মুনাফাও। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিগত ছয় বছর ধরে টাকা ফেরতে বারবার চিঠি দিলেও কোনো সাড়া নেই ব্যাংকটির। ফলে আম-ছালা দুই-ই হারানোর শঙ্কায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমও বলেছেন, ‘টাকা উদ্ধারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি; কিন্তু সাড়া নেই। নগদ অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নেই তাদের। বর্তমানে এই ১৮০ কোটি টাকা 'অনাদায়ী পাওনা' হিসেবে বন্দরের ব্যালেন্স শিটে ঝুলে আছে। সূত্র জানায়, বন্দরের নিজস্ব তহবিলের বিপুল এই টাকা ২০১৫ সালে রাজনৈতিক চাপে পড়ে অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা হয়েছিল। এ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। যিনি পরে নৌবাহিনীপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বন্দরের বিগত পাঁচটি বার্ষিক অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন বন্দর বোর্ড ও অর্থ বিভাগ ঝুঁকি মূল্যায়ন না করেই এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অডিট প্রতিবেদনে বিষয়টিকে 'আর্থিক অনিয়ম' ও 'অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত' হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে।ব্যাংকের এখন আর্থিক যে নাজুক অবস্থা তাতে মুনাফা দূরে থাক, মূল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।বন্দরের অডিট বিভাগ বলছে, এই ১৮০ কোটি টাকা ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদে পদ্মা ব্যাংকে আমানত রাখা হয়েছিল। তখন ব্যাংকটি ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা সাধারণ ব্যাংকের মুনাফার চেয়ে অনেক বেশি। সেই লোভ দেখিয়ে টাকাটা ব্যাংকে রাখা হয়েছিল বাছবিচার ছাড়াই। গাণিতিক হিসাবে ১০ বছর ধরে এই ১৮০ কোটি টাকা যদি ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে জমা থাকত, তবে মুনাফাসহ মোট টাকা হতাে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা। আজকের দিনে এসে বন্দর শুধু আসল নয়, প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার সম্ভাব্য মুনাফাও হারিয়েছে।সূত্র জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ বছরে আয়-ব্যয় শেষে উদ্বৃত্ত টাকা বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে বিনিয়োগ করে থাকে। আর এই বিনিয়োগের টাকা থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, অবকাঠামো বানায়, যন্ত্রপাতি কিনে। ২০২২ সালে এনসিটির জন্য কেনা কি গ্যান্ট্রি ক্রেনের দাম ৬০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৫৬০ কোটি টাকায় ৯টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন কিনে বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) আধুনিক টার্মিনালে রূপান্তর করা যেতা। বন্দরের আয়ের টাকা দেশের স্বার্থে ব্যবহার না করেই ব্যক্তিস্বার্থে এভাবেই তছনছ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মশিউল আলম স্বপনের। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক প্রাধান্য পাবে। আর বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হলে ব্যাংকের নির্দিষ্ট রেটিং ও ক্যাটাগরি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। ২০১৫ সালের যে সময়ে টাকা রাখা হয়েছিল, তখন পদ্মা ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংক নামে ছিল। তখন ব্যাংকটি ছিল ‘রেড জোন’ বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীর। ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি এবং তারল্য সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়ে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী নাফিজ সরাফাত চেয়ারম্যান হন। নাম পরিবর্তন হয়ে পদ্মা ব্যাংক হয়। বর্তমানে ব্যাংকের বেশিরভাগের শেয়ারের মালিক সরকারি পাঁচটি ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান।২০২৪ সালে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে কয়েক মাস পর এক্সিম ব্যাংক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসান বর্তমানে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে আর মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার কোটি টাকা। এই অবস্থায় নিজেই অস্তিত্ব সংকটে আছে পদ্মা ব্যাংক। ব্যাংকটিতে তীব্র তারল্য সংকট রয়েছে বর্তমানে। তবে সরকারি কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে নাজুক পদ্মা ব্যাংক চালুর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
৯ দিন আগে