ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহি ক্যারেজ বা বগি কেনা হয় চীন থেকে, যা খুবই নিম্নমানের। কিন্তু এই বগি কেনা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের এযাবৎ কালের সবচেয়ে উচ্চ দামে। নেপথ্যে লুট হয় ২০০ কোটি টাকা। যার মূলে রেলওয়ের বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন।যার সত্যতা উঠে এসেছে রেলওয়ের অডিট আপত্তিতেও। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অভিযোগেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই কারসাজির মুলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তৎকালীন পরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জড়িত। তাঁকে সহায়তা করেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।এতে লাভবান হন প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও। এমন তথ্য ফাঁস করেছেন রেলওয়ের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ ধরনের প্রকল্পের মালামাল কেনার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে খ্যাত আফজাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের বগি অতি উচ্চ দামে ক্রয় দেখিয়ে ২০০ কোটি আত্নসাৎ করেছেন। এর সত্যতার তথ্য মেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের কথায়ও।তিনি বলেন, ২০২২-২৩ সালে ১০০ বগি কেনা হয় চায়না থেকে। আবার ২০২৫ সালে ইন্ডিয়া থেকেও কেনা হয় ২০০ বগি। যার প্রথম চালানের ২০ বগি আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু ২০২২-২৩ সালে চায়না থেকে কেনা বগির সাথে ইন্ডিয়ান বগির বিশাল দামের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইন্ডিয়ান বগির তুলনায় চায়না বগি অত্যন্ত নিম্নমানের।তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়া থেকে কেনা বগির তুলনায় চায়না থেকে কেনা বগি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশী দাম দিয়ে কেনা হয়েছে। অথচ চায়না থেকে কেনা বগির দাম অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কেনা হয় অতি উচ্চ দামে। এতে সিন্ডিকেট লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সরকার।সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২-২৩ সালে কেনা চায়না ১০০ বগির প্রতিটি যাত্রীবাহী বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) বগির দাম পরে- ৫৭,৮৩৮২ ইউএস ডলার। একই বগি ২০২৫ সালে ইন্টারিম সরকারের আমলে ইন্ডিয়া থেকে কেনা প্রতিটি বগির বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) কেনা হয় ৩,১২০০০ ইউএস ডলার দামে। ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে ২৮.২৮১৫ ডলার বেশি দেয়া হয় চায়না বগিতে!! আবার ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে চায়না বগি খুবই নিম্নমানের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, বগিগুলোর দাম যেমনি অতি উচ্চ, তেমনি গুণগত মানও বেশ খারাপ। অতি অল্প সময়ে বগিগুলোর চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ক্ষমতা বলে যাত্রীসুবিধা হ্রাস করে লাগেজ ভ্যান ব্যবহার না করে যাত্রীবাহী সচল ট্রেনের চাকা খুলে নিম্নমানের চায়না বগিতে ব্যবহার করে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়েছে।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, দুর্নীতি করার উদ্দেশ্যে বগি ক্রয়ে পৃথক প্রকল্প না নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প মুল্যের আইটেমের মতো করে ১০০টি বগি কেনা হয়। এতে প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হয়েছেন।বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে কৌশলে চায়না প্রতিষ্ঠানের সাথে পাতানো টেন্ডার করে এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ দামে নিম্নমানের চায়না কোচ কেনেন। বিপুল কারসাজির মাধ্যমে এগুলো কিনতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও তৎকালীন ডিজির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন রোলিং স্টক বিভাগকে ব্যবহার করে।সেই সাথে পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওয়ামী সিন্ডিকেটের সব তথ্য অতি গোপনীয়তার সাথে রক্ষার লক্ষ্যে আফজাল হোসেনকে ডিজি পদে প্রমোশনের রাস্তাও তৈরি করে দেন তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। নেপথ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার তাঁকে সহায়তা করেন। ফলে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তাদের দোসর রেলওয়ে ডিজি আফজাল হোসেনের ক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়ে যায়।আওয়ামী স্বার্থ সংরক্ষণকারী এ কর্মকর্তা (ডিজি) বর্তমানে তার অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বগি কেনার চুক্তিপত্রের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) স¤পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এত বড় দুূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা দুূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত করে দেখা দরকার। একই সঙ্গে জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তরফ থেকেও তদন্ত হওয়া উচিত।রেলভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যাশা, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তারা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরো বলেন, দুর্নীতি যেই করুক, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরী।এ সংক্রান্ত আরও : -ডিজি আফজালের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে!!রেল লুটছে রেল কর্মকর্তারাই,শীর্ষে ডিজি আফজাল হোসেন!রেলের সর্বনাশ হচ্ছে যেসব কারণে!
১ মাস আগে
রেলওয়ের অনবোর্ড কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের টাকা মেরে খাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী রেলের মাফিয়া ও রক্তচোষা খ্যাত শাহ আলম। অনবোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুকুলে রেলওয়ে থেকে প্রতিমাসে বেতন প্রদান করা হলেও সেই টাকা জুটে না কোন কর্মচারীর। উল্টো শাহ আলমকে টাকা দিয়ে রেলের ডিউটি নিতে হয় তাদের।ফলশ্রুতিতে রেলের মাধ্যমে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ পাচার, গেস্ট পরিচয়ে বিনা টিকিটে তোলা শত শত যাত্রীর ভাড়া হাতিয়ে সরকারের রাজস্ব গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নিরুপায় অনবোর্ড কর্মচারীরা। এমন তথ্য মিলেছে রেলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে।সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠানামার ফাঁকে কথা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, রেলওয়েতে জনবল সংকটের অজুহাতে অনবোর্ডে ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনার।মজুরী কাঠামোর আওতায় এসব কর্মচারীর মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয় ক্লিনার পদের জন্য। আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা বেতন ধরা হয় ম্যানেজারে পদের জন্য। বাকি পদগুলোর অনুকুলে প্রদত্ত বেতনের মধ্যে ২-১ হাজার টাকা তারতম্য রয়েছে।সুনির্দিষ্ট জনবলের অনুকুলে প্রতিটি রেলের জন্য প্রতিমাসে ৬-৭ লাখ টাকা বেতন প্রদান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এভাবে ৫টি ট্রেনের অনবোর্ড থেকে পাওয়া ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনকে।ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধুলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর এসব ট্রেনে কর্মরত অনবোর্ড কর্মচারীদের একজনও সেই বেতনের এক টাকাও পাই না। উল্টো টাকা দিয়ে ট্রেনে ডিউটি নিতে হয় অনবোর্ড কর্মচারীদের। ফলে বেতন জোগাড় করতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা।এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার অন্যতম। গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত বছর ২৯ মার্চ এই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর রেলওয়ে স্টেশনেও ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা একই সুত্রে গাথা বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন।র্যাবের এই কর্মকর্তার মতে, স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান যেহেতু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী, সে হিসেবে এই ইয়াবা বা মাদক পাচারের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা ট্রেনের চালক থেকে নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।শুধু ইয়াবা বা মাদক পাচার নয়, চলন্ত ট্রেনে বান্দরবানের ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী। এরা হলেন মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয় তারা।এছাড়া শাহ আলমের গেস্ট পরিচয়ে শত শত যাত্রী বিনা টিকিটে প্রতিটি ট্রেনে তোলা হয়। এসব যাত্রীর টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেয় শাহ আলমের অনবোর্ড কর্মচারীরা। এভাবে প্রতিদিন অনবোর্ডের ৫টি ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের ২টি ট্রেন থেকে গেস্ট যাত্রীর ভাড়া বাবদ ৫-৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শাহ আলম। যা মাসে দেড় কোটি টাকারও বেশি। ক্যাটারিংয়ের ট্রেনগুলো হলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস।আর সরকারি রাজস্বের এসব টাকার একটি অংশ দিতে হয় শাহ আলমকে। বাকি অংশ ভাগাভাগি হয় অনবোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকোমাষ্টার, টিটি, স্টেশন ম্যানেজার, রেলওয়ের কমার্শিয়াল চীফ, আরএনবি ও জিআরপির মধ্যে। ভাগবাটোয়ারা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের শ্যালক (বউয়ের ভাই) সম্রাট ও ওরফে কালোবাজারী সম্রাট।কর্মচারী নিয়োগেও কোটি টাকার বানিজ্যচাকরি যখন সোনার হরিণ, সেখানে রেলওয়ের চাকরির কথা শুনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লাখো বেকার তরুণ-তরুণী। যাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেছে শাহ আলম। নিয়োগের সময় বেতনের লোভ এবং দৈনিক ৫-১০ হাজার থেকে লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেন, লাখো তরুণ-তরুণী থেকে লাখ টাকা হিসেবে কোটি কোাটি টাকা আদায় করলেও সবার ভাগ্যে জুটেনি চাকরি। যাদের অনেকেই এখনো কেঁদে ফিরছে। এর মদ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আনিছুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক এবং চট্টগ্রামে বসবাসকারী কুমিল্লা জেলার নুসরাত জাহান অন্যতম।আনিছুর রহমান জানান, ২০২২ সালে রেলে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে এস এ কর্পোরেশন। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি আমি। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। যোগাযোগ করলে বলে, রেলে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সাথে অনেকের চাকরি হয়েছে, আমার হলো না কেন? পরে বুঝতে পারলাম, আমার সাথে প্রতারণা করেছে এস এ কর্পোরেশন। টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ না রাখায় রেল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগও নিচ্ছেন না। আইনগত কোন ব্যবস্থাও আমি নিতে পারছি না।প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে এস এ কর্পোরেশন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন ডকুমেন্টস দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। টাকা ফেরত চাইলে বলছে, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে। অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের মতো শত শত তরুণ-তরুণী এস এ কর্পোরেশনের প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ বানিজ্য তো হয়েছে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও যারা নিয়োগ বঞ্চিত তাদের কান্না দেখলে আপনিও সইতে পারবেন না। আর যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের কাউকে নিয়োগপত্র দেয়নি এস এ কর্পোরেশন। তাদের কেউ বেতনও পায় না। তারা আকাম-কুকাম করে চলে।তিনি বলেন, আকাম-কুকাম থেকে উল্টো টাকা দিতে হয় শাহ আলমকে। অন্যথায় ট্রেনে উিউটি পায় না তারা। এ জন্য অনবোর্ড টেন্ডারে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত করে রেখেছে শ্রমিকের রক্তচোষা শাহ আলম। যা অনবোর্ড টেন্ডারের শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। শাহ আলমের এসব কাজে রেলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অনবোর্ডে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি এসব বলে বিপদে পড়তে চাই না। আপনি কমার্শিয়াল চিফের সাথে যোগাযোগ করুন।তবুও কালো নয়, রেল কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স এস এ কর্পোরেশনঅনবোর্ড, ক্যাটারিং ছাড়াও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন।এসব অপরাধে যেখানে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা, সেখানে ভাগবাটোয়ারার প্রভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চোখে সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। ফলে অনবোর্ড-ক্যাটারিংসহ রেলওয়ের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশন ছাড়া আর কারও ভাগ্যে জুটে না বলে মন্তব্য করেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, গত ৩০-৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের সব বিভাগের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশনের কব্জায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠলেও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় আদালতের স্ট্রে-অর্ডার নিয়ে টেন্ডার হাতছাড়া করেনি শাহ আলম।নাছির উদ্দিন মোহন নামে এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাম করে বলেন, শাহ আলম আর আমি রেলওয়েতে একই সময়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করি। কিন্তু আজ শাহ আলম কোথায় আর আমি কোথায়। শাহ আলম কোটি টাকার প্রাডো গাড়ি দৌড়ায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে খুলনায় শাহ আলমের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে ফ্লাইটে যাতায়াত করে। শাহ আলম এখন রেলের রাজা খ্যাত। কিন্তু সে যা করে তা মাফিয়া ডনকেও হার মানায়। রেলের বুকে এমন কোন অপরাধ নেই সে জড়িত নেই। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে সে জড়িত। দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এরপরও থেমে নেই শাহ আলম।যা বললেন শাহ আলমএ বিষয়ে জানতে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। পরে হোয়াট্স অ্যাপ মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা লিখে পাঠালে প্রতি উত্তরে তিনি লিখেন, অপরাধের সাথে যারা জড়িত তারা তো ব্যক্তি। তাদের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিভে কেন? নিয়োগ তো প্রতিষ্ঠানের দায়ভার কেন নয়-এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি না বলে এড়িয়ে যান।অনবোর্ড-ক্যাটারিং কর্মচারীরা বেতন পায় না, উল্টো টাকা দিয়ে ডিউটি নিতে হয়-এমন অভিযোগের জবাবে শাহ আলম লিখেন, আমি এখন ঢাকায় যাচ্ছি, ফ্লাইটে উঠতেছি। নেটওয়ার্ক নাই। ২-৩ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আসবো। আপনার সাথে বসব। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতএস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের নানা অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাইতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সঞ্জিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গত ১৬ আগস্ট রবিবার ও ১৭ আগস্ট সোমবার দু‘দিন অফিসে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. শওকত জামিল মোহসীও অফিসে ছিলেন না। দু‘দিনেই তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারীরা।পরে এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) মুঠোফোনে বলেন, ইয়াবা পাচার, তরুণী ধর্ষণসহ যেসব ঘটনা ঘটছে তা রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূতি প্রশ্নবিদ্ধ,-এটা নিসন্দেহে স্বীকার করতে হয়। তবে এসব ঘটনায় জড়িতরা কিন্তু রেলওয়ের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এসব অপরাধী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়ুক্ত লোক। এক্ষেত্রেও ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নিবে কেন-এমন প্রশ্ন আসতে পারে।এসব অপরাধের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক যে জড়িত নয়, এটা বলা যায় কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। এটা খতিয়ে দেখার বিষয়। এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম নিজেই দখলবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখাশুনা করেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম। আপনি উনার সাথে কথা বলুন। কিন্তু অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামের (অপারেশন) মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।(বিশেষ দ্রষ্টব্য : রেলের মাফিয়া খ্যাত ঠিকাদার শাহ আলমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩ প্রকাশ হলো। চতুর্থ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে)এ সংক্রান্ত আরও :ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১ । ট্রেনে ইয়াবা পাচারে এস এ কর্পোরেশন, অধরা মূলহোতা শাহ আলম!ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার এসোসিয়েশনের কোটি টাকার চাঁদাবাজি
১ মাস ১ দিন আগে
ধূমপান ও তামাকমুক্ত রেল পরিষেবা নিশ্চিত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫-এর সংশোধনী আইন-২০২৬, রেলওয়ে আইন-১৮৯০ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর সিআরবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘ইনবাইটেশন টু মেক বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্টোব্যাকো ফৃ (আইএমবিআরটিএফ) ফেজ-৩ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেলওয়ে হাসপাতাল, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), বিভিন্ন স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীসহ মোট ২৫ জন অংশ নেন। প্রশিক্ষণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী, রেলওয়ে আইন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকমুক্ত রেল পরিষেবায় রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রেলসেবার মান উন্নয়নে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। রেলওয়ে স্টেশন ও ট্রেনে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের মিশন ও ভিশনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রেলওয়ে প্রাঙ্গণে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সচিব স্টেশনসহ রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং চলন্ত ট্রেনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং রেলওয়ে শ্রমিকদলের নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
১ মাস ৩ দিন আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আসামি হয়ে দায়িত্ব থেকে পলায়ন এর অভিযোগে পেলেন বিভাগীয় শাস্তি। এরপর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা চেয়ে করেছেন আবেদনও। সবকিছু ঠেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরেছেন প্রকৌশলী মো. তাকি আল যাওয়াদ। তাকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে ফের পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে তাকি আল যাওয়াদ বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রেলের চায়না এসি কোচের জন্য কন্ডেন্সার মোটর কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা দূর্নীতির মামলার আসামি হন।দুদকের তদন্ত নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে ‘সাপ্লাই অব থ্রি পেইজ ৪০০ ভোল্ট কনডেন্সার মোটর ফর চায়না এসি কোচেচ' প্রকল্পে ৪৪ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে মালামাল কেনার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় মালামাল যথাযথভাবে সরবরাহ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে তাকি আল যাওয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয় দুদক।দুদকের তদন্তে দরপত্র মূল্যায়ন, পণ্য সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রেও অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়। সরবরাহকারীর ইনভয়েস, বিল অব লেডিং, ওয়ারেন্টি সার্টিফিকেট, ইন্সপেকশন সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেট অব অরিজিনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলে তদন্ত সংস্থা। পরে এ ঘটনায় তাকি আল যাওয়াদসহ রেলের কর্মকর্তা ও অর্নব ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক চৌধুরী শরাফত করিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।দুদকের মামলার পর তাকি আল যাওয়াদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিদেশ যাওয়ার অভিযোগে পৃথক বিভাগীয় মামলাও হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের ২১ জুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব থেকে 'পলায়ন' এর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনীত 'পলায়ন' এবং 'পলায়নের দায়ে দোষী' হওয়ার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকি আল যাওয়াদের দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদন্ড দেওয়া হয়। ওই সময়ে তিনি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও বেতন-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেন না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।এর আগে দুদকের দায়ের করা মামলার মুখে প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদ চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আবেদনে তাকি আল যাওয়াদ উল্লেখ করেন, ৩০ অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে ৩২তম বিসিএসের রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে 'সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী' হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিতে স্থায়ী হন। একান্ত পারিবারিক কারণে তিনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে ইচ্ছুক। এ জন্য ১ অক্টোবর ২০২৩ থেকে তার ইস্তফা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রার্থনা করেন। নথিতে তাকি আল যাওয়াদের স্বাক্ষরও রয়েছে। তিনি তখন বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাটের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।এতকিছুর পরও রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় চলতি বছরের গত ৩ আগস্ট বদলি ও পদায়ন আদেশে তাকি আল যাওয়াদকে লালমনিরহাটের সাবেক বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী থেকে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম পদে বদলি করা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকি আল যাওয়াদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা। আমি কখনো চাকুরি থেকে ইস্তফা দেইনি। আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ইচ্ছে করে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করছেন। আমি দেশের বাইরে থাকার কারণে একটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। সেটির তদন্তও শেষ হয়েছে। দুদকের দায়ের করা মামলায় যে আর্থিক অভিযোগ আনা হয়েছিল সেটিও শেষ হচ্ছে।চাকুরি থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও দেখা যায়, তৎকালীন লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম তাকি আল যাওয়াদের করা আবেদনে স্বাক্ষর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের বিভাগীয় প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর কাছে প্রেরণ করেন।বিষয়টি স্বীকারও করেছেন তৎকালীন লালমনিরহাটের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ও বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (প্রকৌশল) মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, বিষয়টি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের দিকের। আমার যতটুকু মনে আছে-তাকি আল যাওয়াদের ইস্তফার একটা আবেদন আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি। এ অবস্থায় প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদের চাকরিতে ফেরা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে রেলজুড়ে। তার বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতির মামলা চলমান, অন্যদিকে বিভাগীয় তদন্তে 'পলায়ন' এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি কার্যকর হয়েছে। চাকুরি থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন করা এই প্রকৌশলী পরবর্তীতে কিভাবে আবার দায়িত্বে ফিরেছের এখন সেটাই আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ মাস ৪ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০২০ সালে ক্রয়কৃত বহুল আলোচিত ৩০০০ ও ৬৬০০ সিরিজের লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) স্পেয়ার পার্টস বা মালামাল ক্রয়ে ‘সার্ভিস কন্ট্রাক্ট’ বানিজ্য চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন (বারেসাএসাএ)। তাদের দাবি, প্রচলিত উম্মুক্ত দরপত্র বা তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি সরবরাহকারীর সাথে ‘সার্ভিস কন্ট্রাক্ট’ রেলের স্বার্থ বিরোধী ও নিয়ম-নীতির লংঘন। আর এই ষড়যন্ত্রের মুলে রয়েছে শেখ রেহানার সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেশ ইন্টারন্যাশনাল। আর এই প্ল্যান বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়োজিত আমলারা। এ বিষয়ে নজর দেওয়ার আকুতি জানিয়ে গত বুধবার (১২ আগস্ট) রেলপথ মন্ত্রীর বরাবরে একটি আবেদন প্রেরণ করেছেন ঠিকাদার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারেসাএসাএ‘র দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে আবেদনের এই কপি গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রেরণ করেছেন তারা। আবেদনের তথ্যমতে, ২০২০ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্রয়কৃত বহুল আলোচিত ৩০০০ ও ৬৬০০ সিরিজের লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) স্পেয়ার পার্টস বা মালামাল লোকোমোটিভ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লোকো বিল্ডার্স এর লোকাল এজেন্ট শেখ রেহানার সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেশ ইন্টারন্যানাল এর মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। যার ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয় আরও তিন বছর আগে। এই সময়ে ক্রয়কৃত লোকোমোটিভের মেইনটেনেন্স ও স্পেয়ার পার্টস প্রদানের চুক্তি লংঘন করেছে প্রতিষ্ঠানটি লোকো বিল্ডার্স। এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি শেখ রেহানার সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেশ ইন্টারন্যাশনাল।সরকার পতনের পর ইন্টেরিম সরকারের সময় স্বার্থান্বেষী মহলের অতি উৎসাহে লোকো বিল্ডার্সের সাথে সার্ভিস কন্ট্রাক্ট কনসেপ্ট প্রস্তাবনা দেয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দাখিলকৃত প্রস্তাবনার আইএফই নং-৫৪.০১.১৫৪৩.৪৫৫.০৭.০৩৭.২৪, যার খোলার তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর, সেই থেকে সাত বার পেছানোর পরও ডিজেল স্পেয়ার্স এনলিষ্টমেন্ট টেন্ডার নিষ্পত্তি এখনো শেষ করা হয় নাই। এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োজিত রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট আমলারা। যা পেতে কলকাঠি নাড়ছেন লোকোমোটিভ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লোকো বিল্ডার্স এর লোকাল এজেন্ট দেশ ইন্টারন্যাশনাল। ঠিকাদারদের প্রশ্ন, বিষয়টি কেন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না এবং কার স্বার্থে এই প্রক্রিয়া ধরে রাখা হয়েছে? মালামাল সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রিতা ঠিকাদাররা জানান, ২০২০ সালে সংগৃহীত ৩০০০ ও ৬৬০০ সিরিজের লোকোমোটিভের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ওয়ারেন্টি পিরিয়ড উত্তীর্ণ হওয়ার প্রায় ৩ বছর পরও লোকো বিল্ডার্সকে ৩০০০ ও ৬৬০০ সিরিজের স্পেয়ার পার্টস একচেটিয়া সরবরাহ সুবিধা দেয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যথাসময়ে মালামাল সংগ্রহ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে ৩০০০ ও ৬৬০০ সিরিজের লোকোমোটিভের প্রায় ৭০ ভাগ অচল হয়ে পড়েছে। এতে যাত্রীবাহী গাড়ী চলাচল ঝুঁকিতে পড়ছে প্রতিনিয়ত। অথচ জরুরি মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করলে ২-৩ মাসের মধ্যে যন্ত্রাংশ সরবরাহ পাওয়া যায়। যা বাংলাদেশ রেলওয়েকে সচল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিকট অতীতে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২৬০০, ২৭০০, ২৯০০, ৬২০০, ৬৩০০, ৬৪০০, ৬৫০০ সিরিজের মালামাল ক্রয় করে গাড়ী চলাচল সচল রেখেছে। তাই ৩০০০ ও ৬৬০০ সিরিজের ক্ষেত্রেও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যন্ত্রাংশ ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে ইঞ্জিন আউটর্টানের সংকট কেটে যাবে। সার্ভিস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ৩০০০ ও ৬৬০০ সিরিজের মেইনটেনেন্স এর দায়িত্ব দিলে এবং রেলওয়ের যন্ত্র প্রকৌশলী বিভাগের সাথে একটা সাংঘর্ষিক অবস্থার তৈরি হবে এবং রেলওয়ের দক্ষ জনবল এ সিরিজের লোকোমোটিভ মেরামতের জ্ঞান লাভ থেকে বঞ্চিত হতে পারে যা রেলওয়ের জন্য ভবিষ্যৎ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বঞ্চিত নিবন্ধিত সরবরাহকারীর অংশগ্রহণ লোকো বিল্ডার্স ও আমলাদের কারসাজিতে প্রচলিত তালিকাভুক্ত নিবন্ধিত সরবরাহকারী ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। প্রতিযোগিতা না থাকায় নির্দিষ্ট প্রস্তÍতকারক বা সাপ্লাইয়ার্স একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে। এতে রেলওয়ের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ লোকো বিল্ডার্স নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশ ব্যাতিত অধিকাংশ যন্ত্রাংশই তাদের কিছু মনোনীত উৎস হইতে সংগ্রহ করে থাকে। আর বাংলাদেশ রেলওয়ে সাধারণত দীর্ঘদিন থেকে তার তালিকাভুক্ত বৈদেশিক সরবরাহকারী এবং তাদের স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে উম্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভিত্তিতে ইঞ্জিনের বিভিন্ন স্টক ও নন-স্টক মালামাল সমূহ সংগ্রহ করে থাকে। বিশেষ করে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল সেকশনের প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী এবং তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অংশ নেয়। নন-স্টক স্পেয়ার পার্টসের ক্ষেত্রে সকল প্রস্তÍতকারক ও তালিকাভুক্ত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দরপত্র আহান করে সর্বনিম্ন দরদাতা ও মানসম্পন্ন উৎস নির্বাচন করাসহ সকল তালিকাভুক্ত সরবরাহকারীদের মধ্যে অবারিত প্রতিযোগিতার ফলে সঠিক সময়ে সঠিক মান নিশ্চিত করে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে, যা রেলওয়ের বাজেটের ওপর চাপ কমায়।পিপিআরের সাথেও সাংঘর্ষিক সরকারি অর্থ ব্যয় করে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অবারিত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া একক উৎস হতে দরপত্র এর মাধ্যমে কেবল নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে লং-টার্ম সার্ভিস কন্ট্রাক্ট করা সরকারি ক্রয় আইন ও ক্রয় বিধিমালার (পিপিআর) মূল চেতনার সম্পূর্ন পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিক। প্রতিযোগিতাহীন সার্ভিস কন্ট্রাক্টে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ ও মালামালের দাম নির্ধারণ করতে পারে। এতে রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে স্থানীয় বাজারের ক্ষতি, দেশীয় প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাপ্লাইয়ার্সদের অবমূল্যায়ন, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়েতে সেবা দেওয়া নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ, নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন নিদিষ্ট কোন বিল্ডারের ওপর এককভাবে নির্ভরশীল থাকা, ভবিষ্যতে দর কষাকষির সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এককথায় অদুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রেলওয়ে লোকো বিল্ডার্স এর কাছে জিম্মি হয়ে যাবে।উল্লেখ্য, লোকো বিল্ডার্স রেলগাড়ির ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ তৈরি করে (যেমন-আলকো, জিএম-ইএমডি বা বিভিন্ন দেশের রেলওয়ে উৎপাদন কারখানা) তবে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশ ব্যাতিত অধিকাংশ যন্ত্রাংশই তাদের কিছু মনোনীত উৎস হইতে সংগ্রহ করে থাকে। তাদের বাংলাদেশ এজেন্ট হচ্ছে শেখ রেহানার সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেশ ইন্টারন্যাশনাল।আর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক টিও লাইসেন্স প্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন (বারেসাএসাএ) রেলওয়ের একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন। যাহা বাংলাদেশের ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জিআই এ ক্লাস এসোসিয়েশন। এই সংগঠন সমগ্র বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম জোনের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ১৫০০ সরবরাহকারীর প্রতিনিধিত্ব করে। এই সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ রেলওয়েকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার দেশীয়, বৈদেশিক যন্ত্রাংশ (ডিজেল ইঞ্জিন, কোচ ও ওয়াগণের অন্যান্য) চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করে থাকে। একই সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে রেলওয়ের সরবরাহকারীদের বিভিন্ন যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাজ করে বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি ফেরদৌস হুদা চৌধুরী। তিনি বলেন, বারেসাএসাএ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে গত কয়েক মাস আগে রেলপথ মন্ত্রীর বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। যার অনুলিপি রেল প্রতিমন্ত্রী, রেল সচিব, মহাপরিচালক বাংলাদেশ রেলওয়ে, অতি: মহাপরিচালক-আরএস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।রেলওয়ের এডিজি-আরএসের বক্তব্যজানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, লোকোমোটিভগুলো লোকো বিল্ডার্সের তৈরি। তারা ছাড়া এই লোকোমোটিভগুলোর স্পেয়ার পার্টস কেউ দিতে পারবে না। রেলওয়ে যাদের মাধ্যমে স্পেয়ার পার্টস সংগ্রহ করুক, লোকো বিল্ডার্স থেকেই সংগ্রহ করতে হবে। তাই রেলওয়ে সরাসরি লোকো বিল্ডার্সের সাথেই সার্ভিস কন্ট্রাক্ট করতে চাচ্ছে। এটা রেলওয়ের স্বার্থ বিরোধী নয়। বরং যারা এটার বিরোধীতা করছে, তারা তাদের ব্যক্তিগত ইন্টেরেষ্টের স্বার্থেই করছে। এক প্রশ্নের জবাবে এডিজি-আরএস বলেন, লোকো বিল্ডার্স ক্রয়চুক্তি মোতাবেক তাদের শর্ত পূরণ করেছে, মেইনটেনেন্সসহ অনেক স্পেয়ার পার্টস বিনামুলে সরবরাহ করেছে। বর্তমানে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হওয়ায় স্পেয়ার পার্টস সংগ্রহের উদ্যাগ নেয়া হচ্ছে। যা রেলওয়ের আরও ২ বছর আগে নেওয়া দরকার ছিল। তা না হওয়ায় ৪-৫টি লোকোমোটিভ এখন অচল হয়ে পড়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ ইন্টারন্যাশনাল লোকো বিল্ডার্সের লোকাল এজেন্ট। এজেন্ট ছাড়া লোকো বিল্ডার্স থেকে স্পেয়ার পার্টস ক্রয়ের কোন সুযোগ নেই। তবে ঠিকাদাররা যদি মন্ত্রী মহোদয়ের বরাবরে এ বিষয়ে আবেদন দিয়ে থাকেন, তাহলে মন্ত্রী মহোদয় স্পেয়ার পার্টস ক্রয়ে যে নির্দেশনা বা পদ্ধতি অনুসরণের জন্য বলবেন, সেভাবে অনুসরণ করা হবে। রেলওয়ে সরঞ্জাম বা বৈদেশিক কেনাকাটায় বিজ্ঞজনের অভিমত, রেলওয়ে একটি দূর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। যে যেভাবে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত, সে সেই অবস্থান থেকে কমিশন বানিজ্যে লিপ্ত। বর্তমান সরকার দূর্নীতির বিষয়ে কঠোর হওয়ায় রেলওয়ের বৈদেশিক কেনাকাটায় দেশীয় সাপ্লাইয়ার্সদের কাজ দিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না সংশ্লিষ্টরা। সরাসরি বিদেশি প্রতিষ্টানের সাথে সার্ভিস কন্ট্রাক্টের সাথে কমিশন কন্ট্রাক্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বিষয়টি সরকারের নজরে আনা দরকার।
১ মাস ৫ দিন আগে

বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ ও টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁধা-হেনস্তা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছেন উদ্ধিগ্ন ও আতঙ্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সিআরবি রেলভবন এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসুচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার দিনগত রাতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গণসংযোগ কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, আন্ত:নগর ট্রেনগুলোতে বিনা টিকিটের চিহ্নিত কিছু যাত্রী এসি শ্রেণির কোচ ও কেবিনে ভ্রমণ করে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন। তারা কখনোই টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করেন না। টিকিট দেখতে চাইলে ৮-১০ জন একত্র হয়ে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টিকিট চেকিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। সংঘবদ্ধ এই চক্র বিনা টিকিটে ভ্রমণ ছাড়াও অফিসিয়াল টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে বাধা ও চলন্ত ট্রেনে হামলার মতো ফৌজদারি অপরাধ করছে নিয়মিত। অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট তারিখে ৭৫৩ নম্বর সিল্কসিটি ট্রেন আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর এসি কোচে কয়েকজন বিনা টিকিটের যাত্রী পাওয়া যায়। তাদের ন্যুনতম ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে নন-এসি কোচে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রটি রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে। এর আগে ৪ আগস্ট ৭৯২ নম্বর বনলতা এক্সপ্রেস এবং ২৫ জুলাই ৭২৬ নম্বর সুন্দরবন ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীরা সন্ত্রাসী হামলা করে। মানববন্ধনে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার ফলে টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে স¤পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর কারণে টিকিট চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।মানববন্ধনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর এ ধরনের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদান একটি ফৌজদারি অপরাধ। গত ৭ আগস্টসহ বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের অফিস কক্ষেও কিছু সন্ত্রাসী দ্বারা হেনন্তা-হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয় ডিইএন-১ কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম থেকে প্রধান প্রকৌশল কার্যালয়সহ সবকটি প্রকৌশল কার্যালয়ের টেন্ডার কর্মসুচিতেও বাঁধা-হেনস্থা ও হামলার হুমকি চলছে প্রতিনিয়ত। পাহাড়তলী সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরের অবস্থা আরও শোচনীয়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নিরাপদ কর্মপরিবেশ। ফলে সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরসহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সবকটি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হেনস্তা ও হামলার ভয়ে নিয়মিত অফিস করতেও ভয় পাচ্ছেন। এসব ঘটনায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয়ে এর আগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তৌষিয়া আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। কিন্তু এরপরও সন্ত্রাসীদের স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যা এর আগে কোন সময় ঘটেনি। মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ, টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি বিভিন্ন কাজে বাঁধা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে সরকারি দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মানববন্ধন পরিচালনায় মূখ্য ভুমিকা রাখেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস, প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শওকত জামিল মোহসী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, যন্ত্র প্রকৌশলী আমীর উদ্দিন, ডেপুটি সিওপিএস তারেক মুহাম্মদ ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুরসালীন রহমান, টিএসও আহসান উদ্দিন, ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার রিয়াসাদ ইসলাম, ডেপুটি সিসিএম মো. হারুনুর রশিদ প্রমুখ। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় নেতা-কর্মী পরিচয়ে সংঘবদ্ধ কিছু সন্ত্রাসী বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ, টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে রেল কর্মকর্তাদের হেনস্থা ও হামলার ঘটনায় লিপ্ত হয়েছেন। তাদের সাথে কিছু ঠিকাদারও জড়িত। যারা নানাভাবে উস্কানি দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাতে উৎসাহ যোগাচ্ছে। রেলওয়েকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
১ মাস ৭ দিন আগে
শুধু ইয়াবা পাচার নয়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, রেলের জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, ট্রেনে নারী ধর্ষণ ও রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। দৈনিক ইশানের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য। দৈনিক ঈশান প্রতিটি তথ্যের বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে প্রকাশ করা হয়েছে ‘ট্রেনে ইয়াবা পাচার’ নিয়ে।
১ মাস ১৩ দিন আগে
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের কাছ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব -৭)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রেনের ওই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মাহাবুর রহমান (২০)। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ থানার নলছিয়া এলাকার আজব বাদশার ছেলে। মাহাবুর ট্রেনটির দায়িত্বে থাকা এস এ কর্পোরেশনের কর্মী।চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় র্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ড ট্রেনের ভেতর বিপুল ইয়াবা বহন করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের দিকে আসছেন। খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয়।ট্রেনটি ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছালে ট্রেনের ‘জ’ বগি থেকে নেমে এক যুবক পালানোর চেষ্টা করলে সন্দেহভাজন হিসেবে মাহাবুরকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। পরে ট্রেনের টয়লেটে তল্লাশি চালিয়ে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই ইয়াবা পাচারের সাথে এস এ করপোরেশনের আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান র্যাব এর কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।
১ মাস ১৪ দিন আগে
কমিশন ছাড়া ফাইল ছাড়েন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশন না পেলে ঠিকাদারদের করেন তুলোধুনো হয়রানি। এমন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তারেক মো, সামছ তুষারের সাফ জবাব, জিএম সব জানে, ওনার সাথে কথা বলুন।এমন কথায় বিস্মিত হয়ে ফের প্রশ্ন করা হয়, আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিবেন? তিনিও ফের উত্তর দেন, হ্যাঁ যা বলবেন জিএমকে বলুন, তিনিই এর জবাব দিবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে কি বলল না বলল, আর আপনি তা লিখে দিবেন? এগুলোর কী প্রমাণ আছে?ঠিকাদারদের অভিযোগ ও একাধিক রেকর্ড থাকার কথা জানালে-এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন ইজিপিতে টেন্ডার হয়, কমিশন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের কথা বলেছে তাকে এখানে নিয়ে আসুন। সেরকম কোন নিয়ম না থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে যান।ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ইজিপি টেন্ডার রেলওয়ের জন্য আইওয়াশ। ইজিপি ছাড়া যেমন কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মও দূর্নীতি হয়েছে। ইজিপিতে তার চেয়ে বেশি অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। বরং এ নিয়ে কোন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাদের ইজিপির দোহাই দিয়ে বাচার চেষ্টা করছেন রেলওয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।ঠিকাদাররা জানান, রেলওয়ের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তরের প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারও অবকাঠামো ও মালামাল ক্রয়ের যে কোন ইজিপি টেন্ডার নানা কলা-কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন। সেই সুত্রে তিনি ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত (টেন্ডার ভেদে) কমিশন হাতিয়ে নেন।টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারও কাজ পেয়ে কমিশন দেন। অন্যথায় টেন্ডারের ব্যপ্তি ও মূল্য নির্ধারণে গড়ি মসি করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশনের বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় টেন্ডারের ব্যস্তি ও মালামাল ক্রয়ে বাজার মুল্য অতিরিক্ত ধরে ঠিকাদারদের সুবিধা দেন।শুধু তাই নয়, টেন্ডার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্তরে স্তরে ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় ঠিকাদারদের। আবার কাজ শেষে টেন্ডারের বিল তৈরী থেকে নিয়ে হিসাব শাখা থেকে বিলের চেক নিতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় কমিশন ও ঘুষ।আর কমিশন ও ঘুষ আদায়ে সব দপ্তরের কর্মকর্তারা একাট্টা। এক্ষেত্রে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যে বড় ভুমিকা রাখে বাজার দর কমিটি। যে কমিটিতে রেলের সব কর্মকর্তারা কোন না কোনভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের এমন সিন্ডিকেটে বন্দি রেলওয়ের কাজে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। এরপরও নানা কারসাজির মাধ্যমে লাভ বের করে আনেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, শুধু ইজিপি নয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারের বিভিন্ন ভুয়া নামে একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স আছে। যেগুলোর কোন আস্তিত্ব নেই। এসব লাইসেন্সের নামে কৌশলে চলে যায় বেশিরভাগ ইজিপি টেন্ডার। তবে এসব কাজে প্রধান সহযোগী হলেন এ দপ্তরের একজন কর্মচারী। যা দুদক বা নিরপেক্ষ কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে মিলবে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।ঠিকাদারদের মতে, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল শাখার অধীনে প্রতি অর্থবছরে শত শত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ হয়। যেখান থেকে তিনি ইজিপি টেন্ডারের নামে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার কিছু কিছু টেন্ডার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সে নিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। যা জানা কষ্ঠসাধ্য।দূর্নীতির এসব টাকায় তিনি নিজ জেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী অনেক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের দপ্তরে গেলে বড় বাবু খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান নির্বিঘ্নে বলে দেন, স্যার তো কথা বলে না। কিছু জানার থাকলে জিএমের সাথে যোগাযোগ করেন।কেন? পরিচয় হতেও আপত্তি আছে নাকি- এমন প্রশ্ন করা হলে জানতে তিনি প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের কাছে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে তারেক মো. সামছ তুষার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারব না, কিছু জাসতে চাইলে আপনারা জিএমের কাছে যান, ওনার সাথে কথা বলুন।আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিয়ে নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ-যা বলবেন জিএমকে বলুন। তিনিই এর জবাব দিবেন। এমনভাবে রূঢ় আচরণ করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো, সুবক্তগীন বলেন, প্রকৌশলী সামছ তুষার যদি অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে লিখেন। সেখানে আমাকে পেছাচ্ছেন কেন? আমি কি সামছ তুষারের খাই, না সামছ তুষার আমার খাই। আপনার অভিরুচির মধ্যে পড়লে আমাকে টানেন।প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার আপনাকে টেনে আনছেন, আমি আনছি না-এমন কথায় তিনি বলেন, ঠিক আছে আপনি কাল (৩ আগস্ট, সোমবার) সকাল ১১টার দিকে আসেন। আমি তাকে ডেকে প্রশ্ন করব, সে আমার কথা বলবে কেন? এ কথা বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।
১ মাস ১৬ দিন আগে
পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও জোরদার করতে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন মহানগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন ও রামু জংশন পরিদর্শন শেষে চকরিয়া উপজেলার হারবাং রেল স্টেশন এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন ট্রেন চালু করা হবে। এতে এ রুটে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী হবে।কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্টেশনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে।তিনি বলেন, দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার এবং ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটন শিল্পের বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটারের দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে রোপণ করা গাছগুলোর বর্তমান অবস্থান পরিদর্শন করেছি। পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা জরুরি। রেলপথের দুই পাশে নতুন করে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের জায়গা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ এই লাইনের সকল স্টেশনে আধুনিক আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো, যাত্রীসেবা কেন্দ্র, অপেক্ষমাণ কক্ষ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, টিকিটিং কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত, স্টেশনের অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এরশাদুল হক, তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ১৭ দিন আগে
ঢাকাগামী আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ার কোচের কম্প্রেসারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মিরসরাইয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টা পর ত্রুটির আংশিক সমাধান হলেও ট্রেনটি ধীরগতিতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের পরিচালক সুজন দত্ত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান,শুক্রবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়েই ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। সীতাকুন্ড এলাকা অতিক্রম করার পর একটি এসি কোচের কম্প্রেসারে ত্রুটি দেখা দিলে মিরসরাইয়ের উত্তর ওয়াহেদপুর এলাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়।তিনি জানান, কম্প্রেসার থেকে অনবরত বাতাস বের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি চালানো সম্ভব হয়নি। কম্প্রেসারের ত্রুটি সারাতে কারিগরি কর্মীরা প্রায় এক ঘন্টা ধরে কাজ করেছেন। কিন্তু পুরোপুরি ত্রুটি সারনো সম্ভব হয়নি। ফলে ত্রুটি নিয়েই ধীরগতিতে ট্রেনটি ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে।ট্রেনে থাকা এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়েই ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়েছিল। কিন্তু সীতাকুন্ড পার হওয়ার পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্তর ওয়াহেদপুর এলাকায় ট্রেনটি থেমে যায়। এ সময় একই রেলপথে চলাচলকারী চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেসও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের পেছনে অপেক্ষমাণ থাকায় দুটি ট্রেনের শত শত যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এক ঘন্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করে। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রীরা।তিনি আরও বলেন, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে যতবার ভ্রমণ করেছি, ততবারই কোনো না কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতে হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের যান্ত্রিক ত্রুটির কিছুটা সমাধান হয়েছে। ট্রনটি এখন ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। ঢাকায় পৌছার পর পুরোপুরি ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু করা হবে।
১ মাস ১৮ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত) সিআরবি, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা কমিটির ২০২৫ সালের নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ না করায় তা বাতিল ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমবায় দপ্তর।গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপ-নিবন্ধক (বিচার) জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা স্বাক্ষরিত আপীল নং-০৯/২০২৬-এর রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সমবায় অফিসার, চট্টগ্রামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মামলার রায়ে বলা হয়, নির্বাচন কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে সমবায় সমিতি বিধিমালার ২৭ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়া ৭ অক্টোবরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও একই কমিটি ১৫ অক্টোবর নির্বাচন পরিচালনা করেছে, যা আইনগতভাবে বৈধ নয়।আপীলাত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমবায় সমিতি বিধিমালার ১৪(৩) বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা প্রস্তুত, মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি, একই সদস্যের নাম একাধিকবার রাখা এবং খসড়া ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ না করায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।রায়ে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিশও বিধিমালায় নির্ধারিত একাধিক পদ্ধতির পরিবর্তে শুধুমাত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিধিমালার বাধ্যতামূলক বিধান অনুসরণ করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ বিবাদীপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।সব দিক বিবেচনায় আপীলাত কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন যে, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত), সিআরবি, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী যথাযথ ও আইনানুগ হয়নি। ফলে নির্বাচনটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।রায়ের দ্বিতীয় অংশে জেলা সমবায় অফিসার, চট্টগ্রামকে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নিষ্পত্তি হলো এবং এখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। মামলার নথি অনুযায়ী, পরিচালক প্রার্থী ও সমিতির সদস্য আবুল কালাম ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা সমবায় অফিসারের কাছে এই মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না করে পরে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন আয়োজন করা হয়। এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করা, একই সদস্যের নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় রাখা, খসড়া ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ না করা এবং নির্বাচন তফসিল ও নোটিশ জারিতে বিধিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।এর আগে জেলা সমবায় অফিসার ও আরবিট্রেটর বিরোধ মামলা নং-১৪/২০২৫ খারিজ করে দেন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ, ১ম আদালতে নির্বাচনী মামলা নং-০১/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন ছিল। তবে পরবর্তীতে ওই মামলাটি ১ এপৃল ২০২৬ তারিখে বাদীপক্ষের তদ্বিরের অভাবে খারিজ হয়ে যায়।
১ মাস ২১ দিন আগে
বিদ্যমান ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইনে চলবে না আর রেল। ১৩৬ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলের ‘দি রেলওয়েজ অ্যাক্ট, ১৮৯০’ বাতিল করে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ২০২৬’। এতে সরকারি লাইনে চলবে বেসরকারি ট্রেনও। আইনে সুরক্ষিত থাকবে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অধিকারও। সম্প্র্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সুপারিশের আলোকে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়াটি এখন মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটন ট্রেন এবং আধুনিক লজিস্টিক সেবায়ও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।নতুন আইনে সরকারি লাইনে চলবে বেসরকারি ট্রেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খসড়া আইনে বাংলাদেশ রেলওয়েকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘ট্র্যাক অ্যাকসেস’ চুক্তি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নির্ধারিত ফি দিয়ে সরকারি রেললাইন ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেন চালাতে পারবে। আইনের ১৫১ ধারায় তাদের নিজস্ব ইঞ্জিন ও বগি পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে। যাত্রী, পার্সেল ও পণ্য পরিবহনের জন্য আলাদা চুক্তি করা যাবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের রেল অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে অব্যবহৃত সক্ষমতা ব্যবহার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে পুরো কার্যক্রম সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। আইনে বলা হয়েছে, এসব কার্যক্রম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫-এর আওতায় পরিচালিত হবে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তির শর্ত নির্ধারণ ও পরিবর্তন করতে পারবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ রেলওয়ে আইনের সব বিধান প্রযোজ্য হবে। নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকবে গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রয়োজন হলে সংস্থাটি বিশেষ নির্দেশনা দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে পারবে। বেসরকারি ট্রেন পরিচালনায় অবকাঠামো, ট্র্যাক বা রোলিং স্টকের ক্ষতি কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি অনুযায়ী দায় বহন করতে হবে। থাকছে নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণ নতুন আইনে নারীদের সংরক্ষিত আসন বা কামরায় অনধিকার প্রবেশ করলে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা, তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনে আরো যা থাকছে ট্রেনে মদ্যপ অবস্থায় থাকা, অশালীন আচরণ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও জেল-জরিমানার বিধান থাকবে। টিকেট কালোবাজারি ঠেকাতে অনুমোদন ছাড়া টিকেট বিক্রি করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন, বাফার বা পাদানিতে ভ্রমণ করলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে পারবে। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। এতে কারও মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। গুরুতর আহত বা অঙ্গহানির ঘটনায় সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।অননুমোদিত লেভেল ক্রসিং নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। রেলওয়ের জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বা উচ্ছেদে বাধা দিলেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। রেলপথে পিকেটিং বা অন্য কোনোভাবে ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা, স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারালে দুই লাখ টাকা, অঙ্গহানি বা স্থায়ী পঙ্গুত্বে এক লাখ টাকা এবং শ্রবণশক্তি হারালে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ জন্য আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।প্রস্তাবিত আইনে গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ে গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সংস্থাটি রেলের অবকাঠামো, সিগন্যালিং, ট্রেন পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শন করবে। বেসরকারি ট্রেন পরিচালনাও তাদের তদারকির আওতায় থাকবে। পাশাপাশি রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজনে গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের ক্ষমতা রেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হচ্ছে। সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ব্রিটিশ আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮৯০ সালের আইনটি ব্রিটিশ আমলের বাস্তবতায় প্রণীত হয়েছিল। বর্তমান রেল সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, আধুনিক সিগন্যালিং এবং যাত্রী-পণ্য পরিবহনের চাহিদার সঙ্গে আইনটি আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদ্যমান আইনে রের যেমন সঠিক পথে চলছে না, তেমনি ডুবে রয়েছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে। ফলে রেলওয়ে একটি লোকসানি সংস্থায় পরিণত হচ্ছে। এমতাবস্থায় নতুন আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
১ মাস ২৭ দিন আগে
ইঞ্জিন-কোচ কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সরঞ্জাম ক্রয় এবং অবকাঠামো সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বেপরোয়া দূর্নীতির বেড়াজালে এখন চরমভাবে কাবু দেশের বৃহৎ গণপরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংস্থাটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবাই নানা অনিয়মে খাতটি এখন জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে। রেলওয়ের কারিগরি বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রেলওয়ের যন্ত্রাংশ তৈরির দুটি কারখানা রয়েছে দেশে। এগুলোর একটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে, অপরটি সৈয়দপুরে। কিন্তু এ দুটি কারখানায় রেলের উল্লেখযোগ্য তেমন কোন যন্ত্রাংশ তৈরি হয় না। এরপরও এ দুটি কারখানা সংশ্লিষ্ট শতাধিক কর্মকর্তা ও হাজারো কর্মচারী অযথা জড়িয়ে রয়েছে। যাদের পেছনে সরকারের বড় অঙ্কের বেতন ব্যয় করতে হচ্ছে প্রতিবছর। এখানে থেমে নেই বিষয়টি, দৃুটি কারখানায় যন্ত্রাংশ তৈরির নামে শতকোটি টাকার বরাদ্দও নিচ্ছে। আবার অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানিও করা হচ্ছে। যার পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। আর এই টাকা কমিশনসহ নানা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক্ষেত্রে কারখানা দুটোতে নিম্নমানের কিছু যন্ত্রাংশ যেমন তৈরি করা হয়, তেমনি বিদেশ থেকেও নিম্নমানের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। অনেকক্ষেত্রে এসব যন্ত্রাংশ কাগজে-কলমে স্টোরে সংরক্ষিত রাখা হলেও বাস্তবে অস্তিত্ব খুঁেজ পাওয়াই দুস্কর। যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাঝেমধ্যে প্রকাশ পায়। তদন্তে প্রমাণ পেলেও এ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সর্বোচ্চ শাস্তি হয় বদলি। তাও যেন পুরস্কার স্বরূপ। রেলওয়েতে প্রবাদ আছে-যে যত বড় দূর্নীতিবাজ, তার প্রমোশন আগে, বদলিও হয় দূর্নীতির উর্বর স্থানে। যার উদাহরণ বর্তমান ডিজি থেকে শুরু করে বিগত ১৮ বছরে দায়িত্বপালন করা সাবেক ডিজি(মহাপরিচালক), এডিজি(অতিরিক্ত মহাপরিচালক) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জিএম(মহাব্যবস্থাপক)গণ। যারা প্রমোশনের সাথে যেখানে বদলি পেয়েছে সেখানে বেপরোয়া দূর্নীতি করে সরঞ্জাম কেনাকাটা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকারের ভুর্তুকির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ট্রেন পরিচালনায়। আর খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে। সূত্র গুলো বলছে, বর্তমানে রেলওয়েতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের বড় একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ইঞ্জিন সচল রাখার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও রোগ সারছে না। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্পেও লোপাট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। ট্রেন পরিচালনার মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত লোকোমোটিভ/ইঞ্জিন সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি অঞ্চলে (পূর্ব ও পশ্চিম) মোট ইঞ্জিন আছে ২৭১টি। তম্মধ্যে মিটারগেজ ১৫০টি ও ব্রডগেজ ১২১টি। এর মধ্যে ৮৭টি অকেজো, বাকিগুলো চলে জোড়াতালি দিয়ে। এসব ইঞ্জিন দিয়েই বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ও ৪০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করে রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, রেলওয়ে পাহাড়তলী ডিজেল শপের অধীনে থাকা ৯০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৪০টি অকেজো আর ৫০টি মেরামত করে চালানো হচ্ছে। খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে এসব ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় মুহুর্তে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ইঞ্জিনের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে কিনতে হয়। লুটের আঘাতে অচল ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ইঞ্জিনও রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলীদের মতে, রেলওয়ে ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সাধারণত ২৫ বছর ধরা হয়। কিন্তু আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের ১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালে আমদানি করা ২০০০ সিরিজের ইঞ্জিনের বয়স ৭২ বছর পার হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালনো হচ্ছে। বিপরীতে ২০২০ সালে হুন্দাই রোটেমে এর সরবরাহ করা ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ৩০টি লোকোমোটিভ/ইঞ্জিনও এখন অচল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নিয়ে করোনা পরবর্তী এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রো মোটিভ ডিজেল (ইএমডি)-এর লাইসেন্সের আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০টি লোকোমোটিভ আমদানি করা হলেও তা অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে পাহাড়তলীর অধীন ২২টি ইঞ্জিনের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৯টি আর মেরামতাধীন আছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৩০০০ সিরিজের ২০ ইঞ্জিন অনেকটাই অচল। এই ইঞ্জিন ক্রয়ে সিমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০০০ সিরিজের (১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালের) ৩টি ইঞ্জিনের ২টি, ২২০০ সিরিজের (১৯৬১ থেকে ১৯৬৩ সালের) ৭টির মধ্যে ১টি, ২৬০০ সিরিজের (১৯৮৮ সালের) ১৬টির মধ্যে ৮টি, ২৭০০ সিরিজের (১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালের) ১৮টির মধ্যে ৭টি ইঞ্জিন লাইফটাইম (আয়ুষ্কাল) শেষ হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। বাকিগুলো অচল। আবার ১৯৯৯, ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৩ সালে আমদানি করা ২৯০০ সিরিজের ৩৯টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২০টি সচল থাকলেও ১৯টির আয়ুষ্কাল শেষ। এগুলো মেরামত করে চালানোর উপযোগী করা বেশ কষ্টকর।১ কোটি টাকার ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিনের স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটিতে ক্রয় রেলওয়ের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিনের এক কোটি টাকার স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারটি টেন্ডারের সকল নথি ও রেকর্ডপত্র চেয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।দুদকের প্রধান কার্যালয়, ১ সেগুনবাগিচা, ঢাকা থেকে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক নং- ০০.০১.১৫২০.৬০৪.০৩.২৬৪.২৬/চট্টগ্রাম ৫৪১২-এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে স্বাক্ষর করেন।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগ থেকে ই-জিপি টেন্ডার আইডি নং ১০৯৩৭৪৪, ১০৯৩৮৮৫ ও ১০৯৩৮২৬-এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিভাগে ব্যবহারের জন্য ১৪টি আইটেমের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিন স্পেয়ার পার্টস কেনা হয়।দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় ক্রয় করে সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রভাবশালী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক সংশ্লিষ্ট ৪টি টেন্ডারের ক্রয় নথি, দরপত্র অনুমোদন, বাজারদর, দাপ্তরিক প্রাক্কলন, এপিপি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কৃতকার্য দরদাতার ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, ই-টিআইএন, ভ্যাট (বিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিজ্ঞতার সনদ, নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (NOA), চুক্তিপত্র, মালামাল সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্যসহ যাবতীয় সত্যায়িত কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।চিঠিতে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম-কে আগামী ২২ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে চাহিদাকৃত তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।আরও অর্থ ঢালার আবদার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রেল সচলের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী ডিজেল শপের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এহেতেশাম মো. শফিক বলেন, ‘ইঞ্জিন সংকটে বিভিন্ন রুটে অনেক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। যথাসময়ে ইঞ্জিন সরবরাহ করতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেক বাড়বে। এতে করে রেলের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকসান কমানোও সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, ইঞ্জিন রক্ষাণাবেক্ষণ ও মেরামতে যেখানে হাজার কোটি টাকা দরকার সেখানে বরাদ্দ আছে ১২০ কোটি টাকা। তাও আবার টাকা ছাড় করতেই অর্থবছর শেষ হয়ে যায়। ফলে কেনাকাটায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি টাকা ছাড়ের পদ্ধতি সহজ করা দরকার। তার ভাষ্য, অর্থবছরের শুরুতেই যদি প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায় তাহলে সময় নিয়ে দরকারি যন্ত্রাংশ কেনাকাটা করা যায়। এ খাতের বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই আমদানি করতে হয়, সুতরাং বরাদ্দের টাকা ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট সময়ও বরাদ্দ রাখা জরুরি। এই তিন বছর রেলসেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দরকার। প্রায় একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, জনবল ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট চরম অবস্থায় পৌছেছে। ইতিমধ্যে ৬০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন আমদানির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এগুলো আসতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। তা ছাড়া চীন ২০টি ইঞ্জিন উপহার দেবে অল্প সময়ের মধ্যে। আর সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতি অর্থবছরে সরকার ভূর্তুকি থেকে যে বরাদ্দ দেয় তাও কমিশনসহ বিভিন্ন কৌশলে লুট করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকার যে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় তার ২০ কোটি টাকাও যদি রেলওয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যয় হত তাহলের রেলের এ দশা হতো না। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেট ভরছে না। সরকার থেকে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে সুইজারল্যান্ডে তাদের আমানত আরও ভারীূ হতো। এতে তাদের মন ভরত। আয় নেই কানাকড়িও, ভর্তুকিতে উন্নয়নসংশ্লিষ্টদের মতে, রেলওয়েতে আয় নেই কানাকড়িও। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে যা আয়ঢ হয় তা বছর শেষে ব্যয় সমন্বয়ের পর দেখা যায় লাভের খাতা শূণ্য। যা মেটানো হয় ভুর্তুকি দিয়ে। আর কানাকড়ি আয় না থাকার অন্যতম কারণ হলো অপারেশনাল দক্ষতার ঘাটতি। তাদের মতে, একটি ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় অচল থাকলে শুধু পরিবহন সক্ষমতাই কমে না, রাজস্ব আয়ও হ্রাস পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আরো বেশি ভর্তুকি নির্ভর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে একই ইঞ্জিন থেকে দীর্ঘ সময় সেবা পাওয়া সম্ভব এবং নতুন ইঞ্জিন কেনার চাপও কমে আসে।রেলওয়ের কমার্শিয়াল বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে যে পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে রেল পরিচালিত হচ্ছে তার একটি বড় অংশ অপারেশনাল অদক্ষতা ও যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইঞ্জিন ও কোচের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, পণ্য পরিবহন সম্প্রসারিত হবে এবং রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।বিশেষজ্ঞদের মতরেলওয়ের যুগ্নমহাপরিচালক (যান্ত্রিক) মুহাম্মদ খুদরত ই খুদার ভাষ্য, ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা ধরে রাখতে প্রয়োজন সময়মতো ওভারহলিং, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রক্ষণাবেক্ষণ। এসব কাজ নিয়মিতভাবে না হলে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে রেলওয়ের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও লোকোমোটিভ শেডে এমন অনেক ইঞ্জিন রয়েছে যেগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যন্ত্রাংশ সংকটে এসব ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আর্থিক সংকট দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে কাজে লাগত তাহলে এ সমস্যা প্রকট হতো না।
২ মাস আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে ১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। সমাপনি দিনে প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ডিএসএ (সদর) দল। দলটি ৩-০ গোলে ডিএসএস (চট্টগ্রাম) দলকে হারায়।বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই) সমাপনি দিনে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শহীদ শাহজাহান মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) জনাব আবুল কালাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, সিওপিএস (পূর্ব) ও সভাপতি, জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (পূর্বাঞ্চল), জনাব মোশারফ হোসেন দিপ্তি, সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব মো: শওকত জামিল মোহসী, অতি: সিসিএম (পূর্ব) ও আহবায়ক, ১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬, জনাব চৈতী মুহুরী, সাধারণ সম্পাদক, জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (পূর্বাঞ্চল) ও এসডব্লিউও (পূর্ব), সিআরবি, চট্টগ্রাম। এছাড়া উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিআরএনবি (পূর্ব), ডিআরএম (চট্টগ্রাম), ডিএস (কারখানা) পাহাড়তলী, জনাব মো: হারুনুর রশীদ, ডিডি(পিআর-পূর্ব), এজিএম (পুর্ব), জেপিও-১ (পূর্ব)সহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কমচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।গত ১৩ জুলাই শহীদ শাহজাহান মাঠে১৫’তম আন্ত: বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় চারটি দল যথাক্রমে ডিএসএ (সদর), ডিএসএ(পাহাড়তলী), ডিএসএ(চট্টগ্রাম) ও ডিএসএ(ঢাকা) দল অংশগ্রহণ করে। ওইদিন থেকে প্রত্যেকটি দলের ৩টি করে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল ডিএসএ (সদর) ও ডিএসএ (চট্টগ্রাম) দলের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ৩০ মিনিট করে ৬০ মিনিট খেলা হয়, কিন্তু কোনো গোল হয়নি পরিশেষে ট্রাইবেকারে ডিএসএ (সদর) দল দল ৩-০ গোলে জয় লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং রানার আপ হয় ডিএসএস (চট্টগ্রাম) দল। পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি হয়।
২ মাস ১ দিন আগে
পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব হলেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদের এর সহধর্মীনি সামসুন নাহার সুমি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে আরও ১৭১ জন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হলেও নতুন পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন। এদিকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব হওয়ায় নিজের ফেসবুক পেজে সস্ত্রীক সচিত্র পোস্ট দিয়েছেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ফরিদ আহমেদ। পোস্টে তিনি লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমার স্ত্রী সামসুন নাহার সুমি আজ যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে। সবার কাছে তার ও আমাদের পরিবারের জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইলো। আর এই পোষ্টে অভিনন্দন ও শুভকামনার ঝড় বইছে শুভাকাঙ্খিদের। শুভাকাঙ্খিদের মতে, জনাব মো. ফরিদ আহমেদ রেলওয়ে অঙ্গনে একজন সৎজন ব্যক্তি। রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলি চট্টগ্রাম কার্যালয়ে প্রধান হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে রেলওয়ের সরঞ্জাম কেনাকাটায় তিনি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন। তার সততা ও কর্মনিষ্ঠায় সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলেই অভিভুত। প্রধান সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ন্ত্রক দপ্তর পাহাড়তলি থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক বদলি হয়ে তিনি বর্তমানে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহ্যব্যবস্থাপক হিসেবে অত্যন্ত কর্মদক্ষতা ও সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে প্রায় সময় সাবেক প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ আহমেদকে স্মরণ ও প্রশংসায় ভাসান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সংশ্লিষ্টরাও।
২ মাস ৯ দিন আগে
টানা ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে রেল লাইন। ফলে ঢাকা ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়েছে চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায়। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি আটকা পড়ে। বিকাল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেনি। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।চট্টগ্রাম ষোলশহর স্টেশনের মাস্টার আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৬৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। ষোলশহর স্টেশন পার হয়ে কিছু দূর গিয়ে ট্রেনটি পানির কারণে আর এগোতে পারেনি।পরে ট্রেনটি পিছিয়ে ষোলশহর স্টেশনে এনে রাখা হয়েছে। রেললাইন থেকে পানি সরলে তারপরই ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৬টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে পর্যটক এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে। একই সময়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনের পথেও বাধা সৃষ্টি হয়। দোহাজারী এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ট্রেনটি সেখানে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।স্থানীয়রা জানান, সোমবার দিনগত মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা ডুবে যেতে শুরু করে। দুপুরের দিকে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি কর্ণফুলী দিয়ে উপচে পড়ে চট্টগ্রাম ষোলশহরসহ শহরের বেশিরভাগ জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে পানিতে থই থই করছে চট্টগ্রাম শহর। থেমে থেমে চলছে ভারী বর্ষণ। পতেঙ্গা আবাহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অতি ভারি বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকার মূল সড়কেও পানি উঠেছে।
২ মাস ১১ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার হিসাব কর্মকর্তা (সংগ্রহ) কাজী সাঈদা বেগম নিপার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম, ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাৎ এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।গত ১৩ জুন লিখিত এই অভিযোগ চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পরিচালক বরাবরে দায়ের করা হয় ২২ জুন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখায় বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ কমিশন ছাড়া কোনো বিলের ফাইল ছাড়েন না কাজী সাঈদা বেগম নিপা। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয়। এর বিপরীতে কমিশনের নামে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা অবৈধ কমিশন আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালন করার সুযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের হালিশহরে তার স্বামীর নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া নগরীর একে খান, সিটি গেট এবং মিরসরাই উপজেলার শ্বশুপুরবাড়ি এলাকায় জমি ও বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মস্থান বরিশালেও বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের তথ্য অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ নিজের নামে না রেখে স্বামী ও স্বজনদের নামে ক্রয় করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ রেলওয়ে দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা বলে কমিশন আদায় করা হলেও অধিকাংশ অর্থ নিজেই আত্নসাৎ করেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে স্বজনদের নামে একাধিক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ঠিকাদারদের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকির অভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে রেলওয়ে জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন নামে কথিত একটি সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া হয়।এ বিষয়ে অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে দ্রুত দুদকের অনুসন্ধান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার স¤পদের উৎস যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় ও ঠিকাদারদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।অভিযোগকারী ঠিকাদাররা অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ), রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার এবং প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের বরাবরেও প্রেরণ করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী সাঈদা বেগম নিপার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রেরণ গত ১৪ জুন দৈনিক ঈশান এর অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে `কাজী সাঈদার দূর্নীতিতে কাঁপছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব শাখা' শীর্ষক প্রতিবেদন ও সাপ্তাহিক পূর্বধারা পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন ছাড়াই কথিত আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রদান করা হয়। যেখানে প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য ছাড়াই একতরফাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অথচ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সরাসরি সাক্ষাতে নেওয়া বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। যার অডিও রেকর্ড দৈনিক ঈশান কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। একই অডিও রেকর্ড অভিযুক্ত সাঈদা বেগম নীপার কাছেও সংরক্ষিত থাকার কথা উকিল নোটিশে বলা হয়েছে। যা পুরোপুরি স্ববিরোধী এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। উক্ত প্রতিবেদন সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অভিযোগের স্বপক্ষে একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, দুদকে অভিযোগের বিষয়ে এই মুহুর্তে আমি ঠিক বলতে পারছি না। অভিযোগের কপি পেলে সংশ্লিষ্ট সেকশনে পাঠিয়ে দিব। আর প্রতিবাদ বা উকিল নোটিশের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ মাস ১২ দিন আগে
রেলওয়ের আরেক কালো বিড়াল ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। যিনি পর পর তিনবার রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে বড় বড় প্রজেক্ট হাতিয়ে নেওয়া, বিনা প্রতিযোগিতায় ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের নামে হাজার কোটি টাকার অপরিসীম দুর্নীতি। আর এসব কাজে সরাসরি নিজের ছেলে ফারাজ করিম ও শ্যালক খান মোহাম্মদ এহসানকে ব্যবহার করেছেন তিনি। সহযোগী হিসেবে ছিলেন রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাও। এর আগে রেলের কালো বিড়াল হিসেবে খ্যাতি পান আওয়ামী লীগের রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। যার অনিয়ম-দূর্নীতির ইতিহাস গণমাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব হলেও ফজলে করিম চৌধুরীর দূর্নীতির ইতিহাস প্রকাশ্যে আনতে কেউ সাহস করেনি বিগত সময়ে। এতটাই ভয়ঙ্কর ছিলেন তিনি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ফজলে করিম চৌধুরী কারাগারে এবং ছেলে ও শ্যালক পলাতক থাকায় ফজলে করিম চৌধুরীর কিছু দূর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন রেলওয়ের উর্ধ্বতন সেই অসাধু কর্মকর্তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ফজলে করিম চৌধুরীর ভয়ঙ্কর সব দূর্নীতি নিরবে নিভৃতে সয়ে গেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ফজলে করিম চৌধুরী ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন। এরপর তিনি প্রথমবার বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েও তিনি দ্বিতীয়বার রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে তৃতীয়বারের মতো একই মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন। যা ছিল লীজ নেওয়ার মতো। একাধারে দশ বছর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দ্বায়িত্বে থাকাকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে বড় বড় প্রজেক্ট হাতিয়ে নেন এবং বিনা প্রতিযোগিতায় ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের নামে করেছেন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। এক্ষেত্রে তিনি সরাসরি ব্যবহার করেছেন তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী ও শ্যালক খান মোহাম্মাদ এহসানকে। এই খান মোহাম্মদ এহসানের মালিকানাধীন মূল কোম্পানি হচ্ছে NGGL গ্রুপ (Next Generation Graphics Ltd)| NGGL গ্রুপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের আরো ২টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- (১) Fav Diesel Sales & Service এবং (২) Maximum Support Limited| বাংলাদেশ রেজিট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) নিবন্ধন অনুসারে রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা যায়, ফারাজ করিম চৌধুরী ও তার মামা এহসানের মালিকানায় ফিফটি ফিফটি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিবন্ধিত হয় কোম্পানি দুটি। ফারাজ করিম ও তার মামা এহসানের মধ্যে হওয়া একটি গোপন ব্যবসায়িক চুক্তির কপিও সংরক্ষিত রয়েছে দৈনিক ঈশানের কার্যালয়ে। তবে ফারাজ করিম চৌধুরী বিভিন্ন গণমাধ্যমে দম্ভ করে বলতেন, তিনি নামে-বেনামে নয়, সরাসরি নিজ নামে DEUTZ Engine Germany এবং IRCON International India- এই দুটি কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা করেন। বিদেশি দুই কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা করার কথা ঘোষণা করলেও, সুকৌশলে তার ও তার মামার মালিকানাধীন দেশীয় দুটি অংশীদারিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখেন।অনুসন্ধানেও মিলেছে, ফারাজের বিদেশি প্রতিষ্ঠান Deutz Engine Germany ব্যবহার করে তাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান Fav Diesel Sales & Service এর মাধ্যমে এবং IRCON International India ব্যবহার করে তাদের আরেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান Maximum Support Limited এর মাধ্যমে ফজলে করিম চৌধুরীর সরাসরি প্রভাব প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা দেখিয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপে ফারাজ করিম ও এহসান ব্যবহার করেন ফজলে করিম চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সর্বময় শক্তি।সূত্র মতে, ফজলে করিম চৌধুরী সিন্ডিকেট দরপত্র আহ্বান না করে প্রতিযোগিতাহীন ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রাংশের মূল্য কয়েকশ গুণ বাড়িয়ে কাজ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ওপর চালাতেন অত্যাচারের স্টিম-রোলার, দিতেন অমানষিক চাপ এবং অফিসিয়ালি করতেন অপমান-অপদস্ত ও অশ্রাব্য গালাগালি। সংশ্লিষ্ঠ কোনো রেলওয়ে কর্মকর্তা যন্ত্রাংশের প্রাক্কলিত মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করতে রাজি না হলে এবং ডিপিএম পদ্ধতিতে ক্রয় না করে খোলা দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ক্রয় করতে চাইলে, তার ওপর নেমে আসত অমানষিক নির্যাতন এবং পড়তেন ব্যাপক সামাজিক হেয় প্রতিপন্নের মুখে। শুধু তাই নয়, এসব রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ডাক পড়তো রেলপথ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এবং স্বয়ং ফজলে করিম চৌধুরী সবার সামনে ও অন্যান্য রেল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতেন।ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়ার ছিল দীর্ঘদিনের অন্যরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যা তিনি ব্যবহার করেছেন তার রাজনৈতিক হত্যার মিশনে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে। তারই এক অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানকে ব্ল্যাকমেইলিং করা। মেজর জেনারেল জিয়ার সহযোগিতায় মোবাইল ট্র্যাকিং করে শামসুজ্জামান ও তার ছেলে সাদমান জামানের মধ্যকার আলোচনার কিছু স্পর্শকাতর তথ্য, লন্ডনে থাকা ব্যাংক একাউন্টের তথ্য এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সাদমান জামানের সংযোগ থাকার মতো তথ্য খুঁজে পান ফজলে করিম চৌধুরী। এসব ব্যবহার করে চলতে থাকে মহাপরিচালক শামসুজ্জামানকে ব্ল্যাকমেইলিং, হুমকি-ধামকি ও দুদকের ভয়। আর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ওই সময়ে জাগো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে চলতে থাকা এই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বিনিময়ে ফজলে করিম আদায় করে নেন ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের কার্যাদেশ রেলওয়ের ডিজিটাল ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ। যা উদ্বোধনের দিন থেকে আজ অবধি অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। অথচ বলা হয়েছে, এই প্ল্যান্টে ১০ মিনিটের মধ্যে একটি ট্রেন (গড়ে ১৪টি বগি) পরিষ্কার করা যাবে। এতে ঝকঝকে তকতকে হবে রেলের প্রতিটি বগি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা।২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর যাত্রীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভ্রমণের জন্য এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি অটোমেটিক ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট কেনা হয়। যার একটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয় ঢাকার কমলাপুরে এবং অন্যটি স্থাপন করা হয় রাজশাহীতে। পরের বছর সেপ্টেম্বরে প্ল্যান্ট স্থাপনের পর পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন পরিষ্কার করা হয়। এরপর ওই বছরের ৮ নভেম্বর আনুষ্ঠিকভাবে প্ল্যান্ট দুটি উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ওই দিন একটি ট্রেন যাত্রী নামানোর পর ট্রেনের বগিগুলোর উভয় পাশ, ছাদ, আন্ডার গিয়ার সুচারুভাবে পরিষ্কার করা হয়।এরপর থেকে প্ল্যান্টটির বা ঘরের দুপাশে ফটকে তালা লাগানো। বাইরে আরকটি ঘরের সামনে বড় পানির ট্যাংক, পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলোতেও তালা লাগানো রয়েছে।এর পাশে আলাদা একটি প্ল্যাটফর্মে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হুইল পাউডার ও ব্রাশ দিয়ে ট্রেন পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা। একেকটি ট্রেন পরিষ্কার করতে তাদের ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগছে। তবে ট্রেনের নিচের অংশ তারা পরিষ্কার করতে পারছেন না।আর এই স্বয়ংক্রিয় ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্টের প্রকল্প কর্মকর্তা ছিলেন ফকির মহিউদ্দিন। যিনি সম্প্রতি এডিজি-আরএস পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, প্ল্যান্ট দুটিতে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কোনো কাজ বাকি নেই। যন্ত্রপাতি সব সচল রয়েছে। প্ল্যান্ট দুটি রেলওয়ের অপারেশন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক নানা সংকটে মূল্য বেশি হওয়ায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সচল করা আর সম্ভব হয়নি প্লান্ট দুটি। এদিকে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী কারাগারে থাকায় এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এমনকি ফজলে করিমের ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী ও শ্যালক খান মোহাম্মদ এহসানও পলাতক থাকায় তাদের মতামত নেওয়াও সম্ভব হয়নি।
২ মাস ১৯ দিন আগে
ট্যাক্স দেয় না সরকার। খোদ ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে আটকে আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স। এর মধ্যে রেলওয়ে, গণপূর্ত, শিক্ষা ও সওজে আটকে আছে প্রায় ১৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা গৃহকর। পরিমাণটা আরও ডাবল হত যদি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ রিপোর্ট লেখার আগের দিন ২৯ জুন সোমবার বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা পরিশোধ না করত। তাহলে কি শুধু খেটে খাওয়া মানুষের পকেট কাটতেই সরকারি ট্যাক্স? যার উত্তর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টাকার অভাবে চসিকও নিয়মিত নাগরিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনাা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন কার্যক্রম ও কর্মচারীদের বেতন ঠিকমত দিতে পারছে না। তবে ১৯৭ কোটি টাকা বকেয়া গৃহকর আদায়ে ২৫ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। যার একটি সূরাহা শীঘ্রই মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চসিকের রাজস্ব বিভাগের নথির তথ্যমতে, মোট ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পাওনার সিংহ ভাগই আটকে আছে মাত্র চারটি বড় মন্ত্রণালয়ের কাছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেনাদার হলো রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট পাওনা ১১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স আটকে আছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। পাওনা প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া ট্যাক্স আটকে আছে শিখা খাতে, যা প্রায় ১৫ কোটি টাকা। চতুর্থ বড় ট্যাক্সদাতা হচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর। তাদের কাছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বাকি ২১টি মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চসিকের আয়ের মূল উৎস পৌরকর। এই টাকা থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, আবর্জনা অপসারণ, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের সিংহভাগ ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তবে পৌরকর আটকে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এর অধীন সরকারি দপ্তরগুলো চসিকের এই বিশাল অঙ্কের কর পরিশোধ করতে যাচ্ছে না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনও। তিনি বলেন, চসিক ও রেলওয়ে দুটোই সরকারি প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে গৃহকর অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। এদিকে চসিকের সবেচেয়ে বড় অঙ্কের গৃহকর বকেয়ার তালিকায় ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা। যা ২৯ জুন সোমবার চেকের মাধ্যমে এই ট্যাক্স পরিশোধ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চেক গ্রহণ করর পর চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একক কোনো খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের নজির স্থাপিত হয়েছে। এটি শুধু একটি রাজস্ব আদায় নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য কর আদায়ের উদ্যোগ নেন।তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন বন্দরের কাছ থেকে কোনো ধরনের কম্পেনসেশন চার্জ গ্রহণ করে না। অথচ বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ টন ধারণক্ষমতার ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের নির্মিত সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কারেই অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই বন্দরের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং আইনি ভিত্তিতে নির্ধারিত ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্সই দাবি করা হয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপৃল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে উভয় প্রতিষ্ঠানের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন (জয়েন্ট অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালিত হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন স¤পন্ন হয়। যৌথ মূল্যায়নে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করায় এটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলেও সিটি করপোরেশন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সিটি কর্পোরেশন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মেয়র জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে চসিকের মোট প্রায় ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া প্রায় ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং চলতি অর্থবছরের দাবি প্রায় ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকারের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই আমরা এই চিঠিগুলো পাঠিয়েছি, যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের বার্ষিক বাজেটে চসিকের এই পৌরকর পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে পারে। যেভাবে আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের পেছনে লেগে থেকে ন্যায্য পাওনা আদায় করেছি। একইভাবে এই ২৫টি মন্ত্রণালয়ের বকেয়া টাকা আদায়েও আমি শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাব। চসিকের রাজস্ব শাখার মতে, হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে সিটি করপোরেশন তার নাগরিকসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও স্বাভাবিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এতে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সরকার শুধু নেয়, দেয় না তেমন কিছুই। হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না করা তারই প্রম্যাণ বহন করে। তিনি বলেন, দেশের অন্য সিটি করপোরেশনেও হয়তো সরকারের ট্যাক্স আটকে আছে। এতে বুঝা যায়, সরকার শুধু খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্যই ট্যাক্স আরোপ করেছে। খোদ সরকারই ট্যাক্স পরিশোধ করে না। যা অত্যন্ত দূ:খজনক।
২ মাস ১৯ দিন আগে
বৈদেশিক প্রস্তুতকারকদের তালিকাভুক্তির যাচাই-বাছাইয়ে ধীরগতির কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী কর্তৃক ডিজেল লোকোমোটিভ-এর খুচরা যন্ত্রাংশ কার্যক্রমে চরম জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে বিদেশী খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকেরা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। রবিবার (২৮ জুন) এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত (বারেসাএসাএ) ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বিগত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যবর্তী সময় থেকে এই তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া কাজ শুরু হলেও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ দফা দরপত্র খোলার তারিখ পিছানো হয়। স্বৈরাচার সরকারের সংসদীয় কমিটির প্রধান ও তাদের কতিপয় ঘনিষ্ট সহযোগীদের অবৈধ হস্তক্ষেপের কারনে দরপত্রটি সেই সময়ে থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ইতোমধ্যে পূনরায় দরপত্র আহ্বানের পর এর যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে বিধায় উক্ত দরপত্রের অংশগ্রহণকারীরা খুবই হতাশগ্রন্থ তালিকাভুক্তির কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় বিদেশী প্রস্তুতকারকেরাও ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ ক্রয়সংগ্রহ কার্যক্রমে অনাকাঙ্খিত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।সূত্রমতে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী দপ্তরে ফ্রি কোয়ালিফিকেশন এন্ড এনলিস্টমেন্ট ফর গুডস: স্পেয়ার পার্টস ফর ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভস এর জন্য ইনভাইটেশন ফর এনলিস্টমেন্ট (আএফই) নং-৫৪.০১.১৫৪৩.৪৫৫.০৭.০৩৭.২৪, ওপেনড অন ১৯.০৮.২০২৪ইং এবং ৩০.১১.২০২৫ইং দুপুর ১২ ঘটিকায় দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। এই তালিকাভুক্তির জন্য মোট ৯৭টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম সংগ্রহ করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫৪টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম দাখিল করে। যা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তালিকাভুক্তকরণ অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি। এই ধীরগতির কারনে উক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণকারীরা খুবই হতাশগ্রন্থ এবং তালিকাভুক্তির কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় বিদেশী প্রস্তুতকারকেরা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ ক্রয়সংগ্রহ কার্যক্রমে অনাকাঙ্খিত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।এমতাবস্থায় রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে সমুদয় ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশের তালিকাভুক্তিকরনের দরপত্রটি অতিদ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য রেলপথ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক টিও লাইসেন্স প্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন। যাহা বাংলাদেশের ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জিআই এ ক্লাস এসোসিয়েশন। এই সংগঠননে সমগ্র বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম জোনের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ১৫০০ সরবরাহকারীর প্রতিনিধিত্ব করে। এই সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ রেলওয়েকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার দেশীয়, বৈদেশিক যন্ত্রাংশ (ডিজেল ইঞ্জিন, কোচ ও ওয়াগণের অন্যান্য) চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করে থাকে।একই সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে রেলওয়ের সরবরাহকারীদের বিভিন্ন যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাজ করে বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি ফেরদৌস হুদা চৌধুরী। তিনি বলেন, বারেসাএসাএ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে খুব শীগ্রই রেলপথ মন্ত্রীর বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। যার অনুলিপি রেল প্রতিমন্ত্রী, রেল সচিব, মহাপরিচালক বাংলাদেশ রেলওয়ে, অতি: মহাপরিচালক-আরএস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম বরাবরে প্রেরণ করা হবে।
২ মাস ২১ দিন আগে
বাতিল হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রামের ৬৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এই উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজও করা হয়েছে।শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরিদর্শক মো. আল মাসুদ করিম। তিনি জানান, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা–২০২৪’ এর উপবিধি–এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক–কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাব, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে। তারই আলোকে চট্টগ্রামের ৬৮ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পাঠদান বাতিলের তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে ১৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং। স্কুলগুলো হচ্ছে– নগরীর বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, গোলমুন্ডা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, গুলতাজ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয়, মোস্তফা বেগম বালিকা কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজ, পশ্চিম বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয়। দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত মাদ্রাসাগুলো হচ্ছে– পন্থিছিলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা, মজিদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও জামেয়া আহমদীয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা। তালিকায় রাঙামাটি ও কক্সবাজারের ৩টি করে ৬টি মাদ্রাসাও রয়েছে। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং–এ যুক্ত চট্টগ্রামের দুই কলেজ হচ্ছে– মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ ও নিউকেসল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। এ তালিকায় রাঙামাটির একটি কলেজও রয়েছে।একইসঙ্গে জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হয় এমন ৫৪ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনও বাতিল হচ্ছে। এ তালিকায় কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ৪৪ প্রতিষ্ঠান আছে।প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজ, বেসিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ, ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, শাহী কমার্শিয়াল কলেজ, মিপস ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি, ইসলামী ব্যাংক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।এবিসি কম্পিউটার স্কুল, দ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, রেনেসা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাম্যাক্স কম্পিউটার, মাহমুদুন্নবী চৌধুরী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর কে টেকনিক্যাল ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টার, ভিলেজ স্কুল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল টেকনোলজি, ওয়েস্টার্ন মেরিন ইনস্টিটিউট, মুসাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, মাইক্রো মিডিয়া কম্পিউটার।চট্টগ্রাম লার্নিং একাডেমি, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার, কম্পিউটার ইউটিলাইজিং সেন্টার, রোটারি ইস্কান্দার টেকনিক্যাল সেন্টার, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (জিপিসি আইসি), নিউ জেনারেশন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, আহলা এ এস চৌধুরী বহুমুখী টেকনিক্যাল স্কুল, এবিসি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, আরাবিয়া খাইরিয়া কম্পিউটার ইনস্টিটিউট।চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্কুল অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট, বিডি টেকনোলজি, মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মোস্তফা বেগম গার্লস টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, এটিএল একাডেমি, ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইউনিসন স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, শ্যামলী আইডিয়াল টেকনিক্যাল কলেজ (চট্টগ্রাম), প্রোগ্রেসিভ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, এসকেপ মেকানিক্যাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, প্যাসিফিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, উদ্দীপন টিভিইটি সেন্টার, আইডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং।চট্টগ্রাম টেকনিক্যাল কলেজ (সিটিসি), চট্টগ্রাম সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, অ্যাকটিভ ইনস্টিটিউট, শামসুন্নাহার হারুন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, দারুল হিকমা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, কর্ণফুলী–রাঙ্গুনিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আস্থা হোম কেয়ার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার।কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, চূড়ান্তভাবে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের আগে চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করা হয়। এছাড়া ৪ ও ১৮ জুন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৮ জুন পৃথক শোকজ করা হয়। তবে শোকজের ভাষা একই।প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করে দেয়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ড–এর দেয়া চিঠিতে যেসব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ যাবত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাখ্যা আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৩০ জুনের মধ্যে বোর্ডে ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় সারা দেশের ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৩। এর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া ১২০টি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১২টি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, ১৫টি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও ১ হাজার ৮৫টি জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার তালিকায় চট্টগ্রামের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
২ মাস ২১ দিন আগে
পদ্মা রেল সেতুর সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ব্রডগেজ রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প থেকে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ লুটের মহাকাব্য এখন যার ঝুলিতে, তিনি হলেন- রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতিহাসে এমন অনেক কাব্য সৃষ্টি হলে মহাকাব্য সৃষ্টির উদাহরণ শুধুমাত্র ডিজি আফজাল হোসেনের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য শেখ রেহানার 'কালেক্টর' এবং ওবায়দুল কাদেরের 'পোষ্যপুত্র' হিসেবে পরিচিতি এই প্রকৌশলী। যা আর কারও ঝুলিতে নেই। ২৪ এর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল হলেও সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মধ্যস্থতায় এখনও ডিজি পদে বহালতবিয়তে আছেন আফজল হোসেন। অটুট রেখেছেন দাপট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাইল থেকে শুরু করে নতুন সরকারের নীতিপ্রণেতা—সবখানেই রহস্যজনকভাবে রাতারাতি পরিস্থিতি পাল্টে নিজের করে নেন তিনি। ক্ষমতার দাপটে দুর্নীতির টাকায় দেশে-বিদেশে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। করেছেন বিপুল অর্থপাচার। নৈতিক স্খলনের এসব আদ্যোপান্ত নিয়ে ধারাবহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হলো দৈনিক ঈশানের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে-লজিং মাষ্টার থেকে ম্যানেজ মাষ্টারআফজাল হোসেনের বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইল সদরের চৌবাড়িয়া গ্রামে। স্থানীয় এলাসিন তারক যোগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৪ সালের ২৫ এপৃল সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) হয়ে যোগদান করেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ১৯৬৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিভৃতপল্লীতে জন্ম নেয়া এবং অন্যের বাসায় লজিং থাকা আফজাল হোসেন এখন বাংলাদেশ রেলওয়ের শীর্ষ পদ মহাপরিচালক (ডিজি)। সূত্রমতে, পাউবো থেকে দূর্নীতির হাতেখড়ি প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের। বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগদানের পর বিস্তৃত হয় তার এই অপকর্মের পরিধি। ধাপে ধাপে বাগিয়েছেন পদ-পদবী, নানা ইস্যুতে হয়েছেন সমালোচিত। এর মধ্যে অন্যতম শেখ হাসিনার বাপের টাকায় নির্মিত পদ্মা সেতু রেল-সংযোগ প্রকল্প। এই প্রকল্পের পিডি ছিলেন আফজাল হোসেন। তখন থেকেই আফজাল হোসেন শেখ পরিবারের সদস্য ‘পাওয়ারফুল ওম্যান’ শেখ রেহানার ‘কালেক্টর‘ বনে যান। আফজাল হোসেন তার ফরিদপুরের শ্বশুরকুলের আত্মীয়, কথিত শ্যালিকাসহ পছন্দের নারী কর্মকর্তাদের পদায়ন করে তারই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রকল্পে। এরপর থেকে আসল-নকল কাগজে পদ্মা সেতুতে বরাদ্দের কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে তা দিয়েছেন রেহানার কোষাগারে। নিজের আখের গোছানোতে মনোযোগী ছিলেন তারও আগে থেকেই। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মেন্টর শেখ রেহানা পলায়ন করলেও গরম হাওয়া লাগেনি ম্যানেজ মাস্টার আফজাল হোসেনের গায়ে। হাওয়া বুঝে ছাতা ঘুরিয়ে ধরেন ড. ইউনূস সরকারের দাপিয়ে বেড়ানো দুই সমন্বয়মুখী। প্রথমে আফজালের কর্মে তেলে-বেগুনে জ্বলেছিলেন তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। সে পরিস্থিতি অনুকূলে নিতে আফজালকে সহযোগিতা করেছেন চার সমন্বয়কের একজন যিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই ১৮০ ডিগৃ ঘুরে যান উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। প্রথমে যত গরম হয়েছিলেন, পরে তত শীতল হন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। গণেশ উল্টে যায় যেভাবেপদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। যাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ, তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বিভিন্ন সেক্টরে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশে উপসচিব উজ্জ্বল কুমার ঘোষের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।ডিজি পদ বাগিয়ে নেন যেভাবেরেলের যে কয়েকজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন, তার মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন মো. আফজাল হোসেন। তার সিনিয়র মার্কেটিং অ্যান্ড করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পার্থ সরকার, ট্রেনিং অ্যাকাডেমির প্রধান কর্মকর্তা এসএম সলিমুল্লাহ ওরফে বাহার এবং রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) আহমেদ মাহবুব চৌধুরীদের ডিঙিয়ে ডিজি করা হয়েছে তাকে। তখনই রেলওয়েসহ মন্ত্রণালয়ে চাউর হয় ‘চড়া দামে বিক্রি’ হলো ডিজি পদটি। আর তাতে খরিদদার মো. আফজাল হোসেন। মধ্যস্থতায় ছিলেন ড. ইউনূস সরকারের আমলের প্রভাবশালী দুই সমন্বয়ক ও একজন আমলা। এরপর থেকে আর কোনো সমস্যা হয়নি এ প্রকৌশলীর। পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে লুটপাটের মহাকাব্য রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। সরকারের অডিট বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।সরকারি সূত্র বলছে, প্রকল্পটির বাস্তবিক প্রয়োজন ছিল না। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর রেল সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা ছিল অপ্রয়োজনীয়। ফলে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ব্যয় মূলত উধাও হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর চেয়েও বড় মাত্রায় দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে। শুরুতেই এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে।এরপরও একনেকে অনুমোদনের মাত্র দু’বছরের মাথায় একবারেই ব্যয় ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত সবকিছুই করছে চীনারা। এরসঙ্গে রেলেরও একাধিক কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।তাদের অন্যতম হলেন মো. আফজাল হোসেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট লুটেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার পছন্দের কর্মকর্তা এই আফজাল হোসেন পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।এই আফজাল হোসেনের হাত দিয়েই প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় ও ভুয়া হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আফজাল হোসেন নিজেও চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতিটি বিল পরিশোধের ওপর বড় অংকের কমিশন পেয়েছেন। এছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অর্থ।এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তখন পদ্মা রেল সেতু এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের পর পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের কোনোই প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, প্রকল্প ব্যয়ের পুরো ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকাই জলে গেছে। প্রকল্পটি মূলত হাতে নেয়া হয়েছিল লুটপাটের ধান্দাকে সামনে রেখেই।এর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রকল্পের অধীন একটি রেল স্টেশন নির্মাণের চিত্র থেকেই। চিত্রে দেখা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ই যথেষ্ট ছিল সেই রেল স্টেশনে ব্যয় করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। মূল প্রকল্পে এখানে বিপুল ব্যয়ে রেল স্টেশন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনই অন্য কৌশলে এটিকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অবাক করা ব্যাপার হলো, প্রকল্পটির অপব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট হলেও প্রকল্প পরিচালক, দুর্নীতির মূল হোতা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।প্রকল্পটির নজিরবিহীন উচ্চ ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট সবকিছুই হয়েছে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনের পরিকল্পনায়। এই প্রকল্পের সুবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গেও আফজাল হোসেনের যোগাযোগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রকল্পের ওপর পুরো প্রভাব তাঁর বরাবরই বজায় ছিল। প্রকল্পের সাব-কন্ট্রাক্টররা প্রায় সবাই ছিল তাঁর নিয়োজিত। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পিডি পদে ছিলেন।আরও যেসব প্রকল্পে লুটপাটশুধু পদ্মা নয়, যমুনা রেলওয়ে সেতু ডাবল লাইনের সমান্তরাল সেতু হিসেবে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে আধুনিকায়ন। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনটি পুরোপুরি সচল করা, রেলওয়ে লাইন উন্নয়ন (পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চল) ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহ করাসহ বহু কাজ হয়েছে টেন্ডারে। প্রায় ৫৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার কাজের বেশিরভাগই হয়েছে এবং হচ্ছে আফজালের টেবিলে ঘোরা ফাইলের মাধ্যমে। রেলের পিয়ন থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত জানেন, ডিজির আফজালের পিসি ৫%। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছে বেনামি যৌথ ব্যবসা। একইভাবে ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকেও এক তৃতীয়াংশ সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করা হয়। আর প্রকল্প কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে পুরো রেলপথকে ঝুঁকিতে ফেলা হয়। বলতে গেলে এটিও ছিল সরকারের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে এ পর্যন্ত তিন কর্মকর্তা পিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যারা প্রকল্পের অর্থ লুটেপুটে পাহাড়সম সম্পদ গড়েছেন। পেয়েছেন পদোন্নতিও। জানা গেছে, এই গুরুতর অনিয়মও এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এটি মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে। এতো অপকর্মের পরও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে প্রকল্প পরিচালক থেকে কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে সরাসরি ডিজি পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। অথচ রেল কর্মকর্তারা বলছেন, দুদক যদি যথাযথ তদন্ত চালাত, আফজাল হোসেন ফেঁসে যেতেন এবং এতে উপদেষ্টা-সচিবও সমস্যায় পড়তে পারতেন। কিন্তু তারা তখনকার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশের প্রচেষ্টায় হাসিনা-রেহানার হাজার কোটি টাকার মেগা দুর্নীতির খতিয়ান ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতা চলে। এ লক্ষ্যে রেল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে আনঅফিসিয়ালি একটি টিম গঠন করা হয়, যারা ডিজি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে কাজ করছে। অডিট প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে কতটা দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে তা সর্বশেষ সরকারের অডিট বিভাগের প্রতিবেদনেই কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে মর্মে মহাপরিচালক, অডিট অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে।অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মীমাংসা যোগ্য নয় এমন গুরুতর অনিয়মগুলোর মাধ্যমে সরকারের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে মূল চুক্তির বাইরে ৫৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে তা আত্মসাত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১.৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাট ও অন্যান্য আইটেম কম হলেও ঠিকাদারদের অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। রেল লাইন নির্মাণে বালির স্তরও মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিমি কম হলেও ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।এ ছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রগ্রেস রিপোর্টের তুলনায় কাজ বেশি দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত’ কাজ হিসেবে দেখিয়ে চুক্তি করা হয়েছে প্রাক্কলনের ১৭.১৫% উচ্চমূল্যে (ইপিসি/টার্নকি), যার মাধ্যমে আত্মসাত হয়েছে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এভাবে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে সরকারের ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা ক্ষতি ও অর্থ আত্মসাত হয়েছে।জানা গেছে, দুদকের এক কর্মকর্তাকে আফজাল হোসেনের অলিখিত ব্যবসায়িক পার্টনারও বলা হয়ে থাকে। আফজাল হোসেন এখন একেতো অগাধ অবৈধ অর্থের মালিক, তার ওপর আবার মহাপরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। তার ছাতা হিসেবে রয়েছেন খোদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব। আর দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার সরাসরি দায়িত্বে রয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অডিট বিভাগ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। এ কাজের জন্য তাদের হাতে বরাদ্দ আছে বড় অংকের ফান্ডও। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই প্রতিবেদনই নয়, ইতিপূর্বে প্রকল্পটির শুরু থেকেই প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি হয়েছে। যার অনেকাংশই মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন।বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর একই পথে আবার পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে শুধুমাত্র সরকারি অর্থ আত্মাসাতের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই। বাস্তবে হয়েছেও তাই। চীনা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে এবং তাদের পরামর্শে অনেকটা হঠাৎ করেই এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি তৈরি, একনেক অনুমোদন প্রভৃতি কাজগুলো হয়েছে অত্যন্ত দ্রুততা এবং গোপনীয়তার সঙ্গে। এমনকি একনেক অনুমোদনের পরও অনেক কিছুতে রাখঢাক ছিল।দুর্নীতিবাজ বলে চিহ্নিত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এটা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চীন সরকারের উচ্চহার সুদের ঋণে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের যেসব ভুয়া হিসাবকে সামনে রেখে এই বৃহৎ প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে তা আদৌ কখনো বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন কখনোই সম্ভব হবে না। তাও রেল পরিচালনা বাবদ প্রতি মাসে বড় অংকের লোকসান দিতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। পদ্মা সেতুর কারণে সড়ক পথেই এখন সবাই মালামাল পরিবহনে আগ্রহী। একেতো অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। তারওপর যা কিছু নির্মাণ হয়েছে সেটাও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার করা যাচ্ছে না।যত সম্পদের মালিক আফজাল টাঙ্গাইলের নিরেট পল্লীতে অন্যের বাসায় লজিং থেকে পড়ালেখা করা আফজাল হোসেন এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। ঝামেলা এড়াতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের নাম। গ্রামের বাড়িতে দুর্নীতির নিশানা না থাকলেও রাজধানীর বনানীতে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। দেশে দুর্নীতির টাকা পাচার করেছেন অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানে কেনা বাড়িসহ রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে তার সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আফজাল হোসেনের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে রেলওয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে রেল কর্মকর্তারাই। এদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন। যিনি লুটপাটের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠছেন প্রতিনিয়ত। গড়েছেন পাহাড়সম সম্পদ। নিজে দূর্নীতিবাজ হওয়ায় রেলওয়ের অন্য দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেন না ডিজি আফজাল। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে দূর্নীতির মহোৎসব চললেও একেবারে নীরব আফজাল হোসেন। এসব বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের বক্তব্যের জন্য তাঁর সরকারি মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করে এবং তাঁর এ ব্যাপারে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের মুঠোফোন ও অফিসফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপ মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনরকম সাড়া দেননি। তাঁর দপ্তরে গেলেও তিনি নেই বলে জানান। তবে রেল ভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, তিনি সাধারণত সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ দেন না, ফোনও রিসিভ করেন না।
২ মাস ২৭ দিন আগে
প্রকল্প নেওয়ার সময় ফিজিবিলিটি স্টাডিতে (সমীক্ষা) অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নানা উজ্জ্বল দিক তুলে ধরা হলেও বাস্তবে গিয়ে দেখা যায় বছরের পর বছর আটকে থাকে প্রকল্প। তাহলে ফিজিবিলিটি স্টাডি কি কেবলই কাগজি আনুষ্ঠানিকতা? প্রশ্ন তুলেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান।
৩ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো নরম মাটিতে গড়া। আর সেই পাহাড়ে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন মৃত্যু ঝুঁিক নিয়ে। সেটা জানেন বসতিরাও। কারণ তাদের চোখের সামনেই বছর-বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানি হয়েছে শত শত আপনজনের। তারপরও কমছে না বসতি, বাড়ছে আরও বছরে-বছরে। রবিবার (৩ মে) আলাপকালে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন। তাদের মতে, পাহাড় কাটা ও বসতি স্থাপন প্রতিরোধ করার কথা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাাসন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের। কিন্তু এ বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই তাদের। এ নিয়ে কথা বললে উল্টো মুচকি হাসেন তারা। তবে মুখে বলেন, করছি তো, কেউ তো শুনতেছে না। পাহাড়ে বাড়ি বানানোর সময় কেউ তো আর আমাদের বলে করে না। আবার উচ্ছেদের পর ফিরেও আসে তারা। এছাড়া বর্ষা আসলে তাদের সরে যেতে মাইকিংও করা হয়। অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব কথার বিপরীতে যখন বলা হয়, এটা তো শাসন বা নিয়ন্ত্রণ নয়, সেবা করছেন আরও। এতো জামাই আদর পাওয়ায়ই তো পাহাড় আর পাহাড় থাকছে না। এমন মন্তব্যে মুখ ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়ে যারা বসতি গেড়েছেন তাদের একজনও চট্টগ্রামের লোক না। কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরিশালসহ উত্তরবঙ্গ থেকে আসা লোকজন ওরা। আর চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলসহ সকল সরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তারাও চট্টগ্রামের বাইরের লোক। ব্যস, শুধু পাহাড়ে বসতি কেন, চট্টগ্রামে কোন রকম অন্যায়-অপরাধে সঠিক কোন ব্যবস্থা নেই এসব বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। সবাই মিলে ইসরাইলের মতো চট্টগ্রামকেও ফিলিস্তিন বানাতে ব্যস্ত। সরকারি দায়িত্বে চট্টগ্রামের লোক থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি হতো না। ৬৬৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর মোট ঝুঁকিপূর্ণ বসতিস¤পন্ন পাহাড় ২৬টি। এসব পাহাড়ে গত বছর অবৈধ বসতির সংখ্যা ৬ হাজার ৫৫৮। এ বছর নতুন করে আর জরিপ হয়নি। তবে বসতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনও। অথচ ২০১৪ সালে নগরীর ১১টি পাহাড়ে বসবাস করত ৬৬৬টি পরিবার।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল সংলগ্ন পাহাড়ে। সেখানে থাকেন প্রায় ৪ হাজার ৬৪৭ পরিবার। এছাড়া নগরীর মতিঝর্ণা ও বাটালীহিল পাহাড়ে বসবাস ৪৩১ পরিবারের। এছাড়া কৈবল্যাধাম হাউজিং এস্টেট সংলগ্ন পাহাড়ে ১৪৬ পরিবার, পলিটেকনিক হল্ট স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশ ১২ পরিবার, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ফৌজি ফ্লাওয়ার মিল সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে পাঁচ পরিবার, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪ পরিবার, পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬ পরিবার, লেকসিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে ২৮৮ পরিবার, আমিন জুট মিলস কলোনি সংলগ্ন ট্যাঙ্কির পাহাড়ে ৬৫ পরিবার, উত্তর পাহাড়তলী মৌজার ১৫০ দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ে (জয়ন্তিকা আবাসিক সংলগ্ন) ২৮ পরিবার, বিএস ২১২ ও ২১৩ দাগের পাহাড়ে (মুরগি ফার্ম হয়ে গার্ডেন ভিউ সোসাইটি সংলগ্ন) ১২ পরিবার, আকবর শাহ বেলতলী পাহাড়ে ৮৯ পরিবার, পলিটেকনিক কলেজ সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৩ পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া লালখানবাজার জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন পাহাড়ে ৩২৩ পরিবার, হারুন খান সাহেবের পাহাড়ে ১৪৪ পরিবার, নাছিয়াঘোনা এলাকায় ১২ পরিবার, চিড়িয়াখানার পেছনের পাহাড়ে ২৮ পরিবার, মধুশাহ পাহাড়ে ২৯ পরিবার, জালালাবাদ সংলগ্ন পাহাড়ে পাঁচ পরিবার, নাগিন পাহাড়ে ২৫ পরিবার, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মীর মোহাম্মদ হাসানের পাহাড়ে ৩৮ পরিবার, এমআর সিদ্দিকীর পাহাড়ে ৪২ পরিবার, মিয়ার পাহাড়ে ৪৯ পরিবার, ভেড়া ফকিরের পাহাড়ে (রৌফাবাদ, অক্সিজেন) ১১ পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।রেলের সাত পাহাড়ে ৫ হাজার ৩৩২ পরিবার: জেলা প্রশাসনের হিসাবের বাইরে চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩৩২ পরিবার রয়েছে। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এসব পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন অনেক মানুষ। দিন দিন এই অবৈধ বসতির সংখ্যা বাড়ছে। রেলওয়ে ভু-সম্পত্তি বিভাগের তথ্যমতে, রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল পাহাড়ে। এখানে ৫ হাজার ৩৩২টি পরিবার থাকে। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় বসবাস ৪৩১টি পরিবারের।লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। রেলওয়ের মালিকানাধীন ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরীর জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ইতিহাস: চট্টগ্রামে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রতিবছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০০৭ সালের ১১ জুন। ওই বছর ২৪ ঘণ্টায় ৪২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সেনানিবাস এলাকা, লেডিস ক্লাব, শহরের কুসুমবাগ, কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, মতিঝরনা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ প্রায় সাতটি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ভোরে অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের লালখানবাজার মতিঝরনা এলাকায় পাহাড় ধসে চার পরিবারের ১২ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকার বাটালি হিল পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।২০১২ সালের ২৬ ও ২৭ জুন পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালে মতিঝরনায় দেয়াল ধসে দুই জন মারা যান। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে পাহাড় ধসে মারা যান তিন জন, একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় মারা যান মা-মেয়ে।২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর নগরীর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজশাহ কলোনিতে পাহাড়ধসে মারা যান চার জন। ২০১৯ সালে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা পাহাড়ধসে এক শিশু প্রাণ হারায়।২০২২ সালে ১৭ জুন পাহাড়ধসে নিহত হয় আরও চার জন। ওই দিন রাত ২টায় এবং ১৮ জুন ভোর ৪টায় নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ১ নম্বর ঝিল ও ফয়স লেক সিটি আবাসিক এলাকায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হন। এত হতাহতের পরও বন্ধ হচ্ছে না চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন ও বসবাস। উল্টো পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলদারদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। তিন জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকাই নেই:২০১৭ সালে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাঙামাটি। তখন এই জেলায় পাহাড়ধসে মারা যায় ১২০ জন। কিন্তু এ ঘটনার পর তদন্ত কমিটির যে সুপারিশ ছিল, তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। এমনকি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দা নিয়ে কোনো জরিপও নেই। তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় রূপনগর, নতুনপাড়া, শিমুলতলী, পশ্চিম মুসলিমপাড়া ও ভেদভেদী। তিন বছর আগে এই পাঁচ এলাকার ৩১ স্থানকে অতিঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন সাইনবোর্ড দেয় জেলা প্রশাসন। তবে বিভিন্ন দপ্তরের হিসাবে এসব এলাকায় ২০১৭ সালের চেয়ে অন্তত ৫০০ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বেড়েছে।বান্দরবানে ২০১৭ সালে পাহাড়ধসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত বছর জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে একজন মারা যায়। কিন্তু জেলাটিতে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার কোনো তথ্য বা জরিপকাজ হয়নি। ২০১৭ সালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছিল ১ হাজার ৪৪৪টি পরিবার। এর মধ্যে পৌরসভাসহ লামা উপজেলায় ৪৫০ পরিবার, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩২৩, পৌরসভাসহ বান্দরবান সদর উপজেলায় ২৩২ পরিবার, রোয়াংছড়িতে ৫৯, আলীকদমে ২১৩, রুমায় ৮৩ ও থানচিতে ১০৮টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করে। কিন্তু এই সাত বছরে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।খাগড়াছড়ি জেলাও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ে কোনো জরিপ নেই। জেলা প্রশাসনের ধারণা অনুযায়ী ৯টি উপজেলায় এক হাজারের বেশি বসতি রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিলে তাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সহস্রাধিক বসতি পাহাড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগের সময়ে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।চট্টগ্রামের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি-২, ছবি-দৈনিক ঈশানবছর বছর বাড়ছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি:চট্টগ্রাম মহানগর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, নগরীর মোট ঝুঁকিপূর্ণ বসতিস¤পন্ন পাহাড়ে গত বছর অবৈধ বসতির সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৫৮। এ বছর নতুন করে আর জরিপ হয়নি। তবে বসতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনও। কমিটির তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির সংখ্যা গত ১০ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। আর তিন পার্বত্য জেলায়ও পাহাড়ে বসতি গত সাত বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি গড়ে তোলা একরকম নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এসব বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য নেই। তবে বিগত বছরের হিসাবের তথ্যের গড় হিসেব করলে বুঝা যায় কী পরিমাণে বসতি বাড়ছে পাহাড়ে। পাহাড়ে বসতি বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরে যেখানে এক খন্ড জমির মূল্য কোটি টাকা, সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব হতদরিদ্র পরিবার বিনামুল্যে পাহাড়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিচ্ছে। গড়ছে বসতি। এতে তাদের প্রাণহানিরও ভয় নেই। পুরো বছর নিরব বর্ষা আসলেই তোড়জোড়:বছরের পর বছর পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বাড়লেও পুরো বছর নিরব থাকেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। বর্ষা আসলেই নামেন সেবার ঢালা নিয়ে। তখন পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। যা পুরোপুরি মানবিক কাজ। এ সময় জামাই আদরে সরকারি গাড়িতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়, বিনামুল্যে দেওয়া হয় খাবার, করা হয় সরকারি কোন ভবনে রাতযাপনের ব্যবস্থা। যা সারা বছরের চেয়ে কয়েকদিন হলেও ভাল সময় কাটান অবৈধ বসতিরা। আর এর মাধ্যমেই তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে বসবাসের সুযোগ পান। এ সুবাধে আত্নীয়-স্বজনদেরও ডেকে নিয়ে আসেন তারা। করে দেন পাহাড়ে বসতির সুযোগ। এবারও ঠিক একই কাজে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের সতর্কবার্তা পেয়ে শুরু করেছে মাইকিং। অনুরোধ করা হচ্ছে পাহাড় থেকে সরে গিয়ে সরকারি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামসহ দেশের ৪ বিভাগে সোমবার (৪ মে) দুপুরের মধ্যে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে- অতি ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে।গুমড়ে মরছে ৩৬ দফা সুপারিশ:পাহাড়ধসের বিভিন্ন ঘটনার পর গঠিত বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ৩৬ দফা সুপারিশের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবের মধ্যে পাহাড় কাটায় জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থার দুর্বৃত্তায়ন কঠোর হাতে আইনানুগভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। ন্যাড়া পাহাড় বনায়ন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, পাহাড়ি এলাকায় শহর সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করাও ছিল। সুপারিশের ভিত্তিতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সাতটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিল, পাহাড়ে অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা; পাহাড় কাটা বন্ধ করা; যাদের উচ্ছেদ করা হবে তাদের আশ্রয়ণে পুনর্বাসন বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা; পাহাড় কাটা বা পাহাড়ে বসবাসের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ৩৬ দফা সুপারিশমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা। পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি সবুজায়নের কথাও ছিল। কিন্তু উদ্যোগের অভাবে গুমড়ে মরছে এসব সুপারিশ। ফলে সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর বাড়ছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি। এখন ভারী বর্ষণ হলে সাময়িকভাবে মাইকিং, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে প্রশাসন ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি।গত মঙ্গলবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায়। এতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অবৈধ বসবাসকারীদের প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন। কিন্তু একজন বাসিন্দাও সরেননি। প্রশাসনের সতর্কবার্তা কানেই তুলছেন বাসিন্দারা।যা বললেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা: এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদের বিষয়ে সারা বছরই অভিযান চালানো হয়। এরপরও পাহাড় কাটা থেকে জড়িতদের সরানো যায়নি। তিনি বলেন, পাহাড়ে বসতি গড়ে তোলা এতগুলো লোকের স্থায়ী পুনর্বাসন কঠিন। তারপরও সরকারি বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে কিছু কিছু পুনর্বাসন করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে আমরা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছি। লোকজনের মধ্যে ভয়টাও কাজ করে না। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা শুরুর আগে রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও তারা আবার এই অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চলে আসে।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য শনিবার সকাল থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়তলী, ফয়স লেক, আকবরশাহ, সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষা শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে মাইকিং করেছি।চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলেই অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে অথবা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ২০২২ সালে পাহাড় কাটার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২১ সালেও ছয়টি মামলা করা হয়েছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আদালতের বিভিন্ন আদেশে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের পাহাড় কাটায় নিষেধ রয়েছে। তারপরও এই নির্দেশনাগুলোর সঠিক প্রতিপালন হচ্ছে না। যদি পাহাড়ে বসতি স্থাপন করতে না দেয় তাহলে এ রকম বর্ষার সময় প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে চিন্তাও করতে হবে না। এ জন্য শুধু বৃষ্টি হলে তোড়জোড় করলে হবে না। সারা বছর এ বিষয়ে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।
৪ মাস ১৫ দিন আগে
চালুর আগেই জংয়ে গিলে খাচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্মিত এই রেলপথ উদ্বোধন করা হয় প্রায় আড়াই বছর আগে। কিন্তু রেলপথটি এখনো কার্যত অচল । এতে প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) এমন মন্তব্য করেছেন আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এই রেলপথে একাধিকবার পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক দুদেশের কুটনৈতিক টানাপড়েনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হয়নি বাণিজ্য কার্যক্রম। কবে নাহাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বা বাণিজ্য চালু হবে— সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘অলস অবকাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।আর নিম্নমানের লোহার যন্ত্রাংশ দিয়ে এই রেলপথ তৈরি করায় ধরেছে জং। নেই কোন সংরক্ষন ও তদারকি। এতে প্রকল্পটি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে জানান রাজীব ভুঁইয়া। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। এই রেলপথ চালু হলে তারা নিজেদের রাজ্য থেকেই কম খরচে পণ্য আনতে পারবে। এতে করে আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ার।’তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সীমিত পরিসরে রড, সিমেন্ট ও পাথর রপ্তানি হয়, যা মূলত ত্রিপুরার বাজারে যায়। কারণ, ভারতের অন্য রাজ্য থেকে এসব পণ্য আনতে খরচ বেশি পড়ে। কিন্তু নতুন রেলপথ চালু হলে সেই নির্ভরশীলতা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী।আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসিবুল হাসান মনে করেন, রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও সুযোগ রয়েছে আমদানি বাড়ার। ‘সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ দিলে ব্যবসায়ীরা কম খরচে রেলপথে পণ্য আনতে পারবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলে জানান তিনি।কবে এই আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালু হবে— এই প্রশ্নে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার জবাব, ‘কখন ট্রেন চলবে, সেটা পুরোপুরি সরকারি সিদ্ধান্ত। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। উদ্বোধনের প্রায় আড়াই বছর পরেও ট্রেন চলাচলে না থাকা, বাণিজ্য শুরু না হওয়ায় আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ এখন অনিশ্চয়তার প্রতীক। কবে এটি চালু হবে, কতটা বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়া যাবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা।রেলওয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে রয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। প্রায় ২৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ অংশের কাজ বাস্তবায়ন করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীসহ নানা জটিলতায় কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় বছরেরও বেশি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে রেলপথটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।উদ্বোধনের আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই রুট দিয়ে আমদানি-রপ্তানির অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ভারত থেকে অর্ধশতাধিক পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর জন্য নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবন, প্ল্যাটফর্ম এবং সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর।এরপর একাধিকবার পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক দুদেশের কুটনৈতিক টানাপড়েনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হয়নি বাণিজ্য কার্যক্রম। কবে নাহাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বা বাণিজ্য চালু হবে— সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘অলস অবকাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সুফল নিয়ে শুরু থেকেই আশাবাদী ছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনেক ব্যবসায়ী বলছেন ভিন্ন কথা। এই রেলপথ বাস্তবে ভারতের বাণিজ্যিক সুবিধাই বেশি নিশ্চিত করবে বলেই তাদের মত।বিশ্লেষকদের মতে, এই রেলপথের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্ব হলো ভারতের ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা চিকেনস নেক নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন। ফলে ভারতের জন্য এটি একটি বড় লজিস্টিক সম্ভাবনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এতে বাংলাদেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা কতটুকু মিলবে?
৪ মাস ২১ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) দপ্তরটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানন্তরে সক্রিয় রয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী কুচক্রি মহল। যা হলে প্রথমত চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতা সূলভ আচরণ হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারের ব্যয় ও সরঞ্জাম সংরক্ষণ জটিল হয়ে পড়বে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপির সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদানের সময় এমন তথ্য উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন (বারেসাএসাএ) এর নেতৃবৃন্দ।বৃহস্পতিবার (২৩ এপৃল) সকালে রেলভবনে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী এবং বারেসাএসাএ‘র সভাপতি ফেরদৌস হুদার নেতৃত্বে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।এ সময় বারেসাএসাএ‘র অন্যতম পরিচালক এনায়েত কবির, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি বাবুল, জাকির হোসেন, আরিফুর রহমান, জাহিদুল হক জাহিদ, এ কে এম মাহফুজুর রহমান পিপলু, খন্দকার তারিকুল ইসলাম এবং মঈনুল আহসান রাসেল সাথে ছিলেন।নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীকে অবগত করেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিএিস) বিভাগটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন যাবৎ সক্রিয় ছিল। বর্তমানে আবারও সেই চক্রটি প্রাক্তন রেলপথ মন্ত্রী, রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ কিছু লুটেরা ব্যবসায়ী এবং সুযোগ সন্ধানী রেলওয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থেই এই প্রক্রিয়ার সহিত সক্রিয় হয়েছে। যার অংশ হিসেবে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর ঢাকা স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচারের মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে কিন্তু রেলওয়ে প্রয়োজনীয় বেশীরভাগ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করতে হয়। ফলে তৎসংশ্লিষ্ট ডিসিওএস শিপিং, ডিসিওএস ডিপো, ডিসিওএস পরিদর্শন, এসিওএস জেটি ও ইনভেন্ট্রি কন্ট্রোলসেলসহ প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামো ও সুবিধাসমূহ ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামে বিদ্যমান আছে। এই সকল কারণে অফিসটি স্থানান্তর করা চট্টগ্রামের সহিত একটি বিমাতা সুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে সরঞ্জাম ক্রয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ ও সরঞ্জাম সংরক্ষণে জটিলতা সৃষ্টি হবে। এতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তাই এ বিষয়ে আমরা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়ের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।সিসিএস, পাহাড়তলীর আরপিও নং-২৪৭সি তাঃ ১৮/১২/২০২৩ইং। আমরা “বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লায়ার্স এসোসিয়েশন” এর পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীর সদয় অনুধাবন পূর্বক অবগতির জন্য জানান যে, আরপিও-২৪৭সি এ প্রদর্শিত বিভিন্ন শ্রেণী/ডিজিটাল (ব্রাস অন্তর্ভুক্ত) শ্রেণী সমূহ যেমন: ইবি১(১০৪)অ, ইবি১(২০৪),ই, ইবি২ (১২৩), ইবি৬ (১০৯), ইসি২ ৯(১১০), ইসি২(১৪২), আইএফ১ (১২৭) মালামালগুলি সিসিএস দপ্তর কর্তৃক ক্রয়/সংগ্রহ করা হতো, কিন্তু বিগত ১৮/১২/২০২৩ইং একটি আরপিও জারির মাধ্যমে সিওএস (পূর্ব) ও সিওএস (পশ্চিম) হইতে উপরোক্ত উল্লেখিত শ্রেণীর মালামাল সমূহ ক্রয়/সংগ্রহ করা হইতেছে। যাহা সিসিএস দপ্তরকে স্থানান্তরের প্রথম প্রক্রিয়া। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় হইতে সিসিএস দপ্তর হইতে রেলওয়ের যাবতীয় মালামাল ক্রয় সংগ্রহ করা হতো। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান এরশাদ সাহেবের মতামতের ভিত্তিতে সিওএস/পূর্ব ও সিওএস, পশ্চিম দপ্তর গঠন করা হয় এবং তখন এই দুই নতুন দপ্তর সমূহ কি মালামাল ক্রয় করিবেন তাহার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু যাহা বিভিন্ন মহলের স্বার্থ লঙ্ঘিত হইয়া আসিতেছে।নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আলোচিত বিভিন্ন শ্রেণীর মালামালগুলো রেলওয়ের সেফটি ও ¯পর্শকাতর আইটেম হিসেবে বিবেচিত এবং অধিকাংশ মালামাল সমূহ স¤পূর্ণরূপে আমদানী নির্ভর। অতীতে এইধরনের মালামাল সমূহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় সংগ্রহ করা হইত। এই ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রয়কার্য স¤পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা শুধুমাত্র প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক এর দপ্তরে বিদ্যমান রয়েছে, যেমন (আমদানীর জন্য এলসি খোলার ব্যবস্থা, মালামাল খালাসের জন্য আর এন্ড আই দপ্তরের মাধ্যমে রেলওয়ের নিজস্ব জেটি ও শিপিং এর ব্যবহার)।এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করে ঢাকাকে যানজট ও যানজট মুক্ত করা ও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে গড়ে তোলার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে বলে উল্লেখ করেন। পরিশেষে প্রতিমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন নেতৃবৃন্দ। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী মনযোগ সহকারে নেতৃবৃন্দের কথা শুনেন এবং যাবতীয় সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া তিনি প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর পরিদর্শনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে বারেসাএসাএ নেতৃবৃন্দ সদ্য পদায়িত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন।স্মারকলিপিতে যা আছে : বাংলাদেশ রেলওয়ে ¯েপয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লায়ার্স এসোসিয়েশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক টিও লাইসেন্স প্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন। যাহা বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এর “এ” শ্রেণীভুক্ত সদস্য। প্রতি দুই বছর অন্তর অত্র সংগঠনের নির্বাচন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা করা হয়ে থাকে।অত্র সংগঠনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব-পশ্চিম জোনের সকল নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের সকল ব্যবসায়িক স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে তদারকি করে থাকে। স্বার্থ সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য। বর্তমানে এই দপ্তরে তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী আছে ১১৩০ জন।বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তর অন্যান্য সকল বিভাগের মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ, সিগনালিং, পি-ওয়ে সামগ্রী ও দৈনন্দিন কাজের জন্য সকল পণ্য যেমন কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ক¤েপানেন্ট, টিকেট, ফরমস ও স্টেশনারী, আইটি ইকুইপমেন্ট, লুব অয়েল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়/সংগ্রহ এবং সংগৃহীত মালামাল যথাযথ ও কার্যকরভাবে মজুদকরণ, বিতরণ এবং ব্যবহার ব্যবস্থাপনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত রয়েছে। রেলওয়ে সমুদয় মালামাল সরঞ্জাম বিভাগের প্রধান ইউনিট প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পাহাড়তলী। প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পাহাড়তলী দপ্তর হতে লোকোমোটিভের সকল দেশী ও বিদেশী যন্ত্রাংশ, বিভিন্ন ধরণের বিয়ারিং, ক্যারেজ এন্ড ওয়াগনের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পণ্য ক্রয়/সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এছাড়া বৈদেশিক উৎস হতে সংগৃহীতব্য বিভিন্ন ধরণের ক্যাপিটাল এসেট, কৌশলগত ক্রয় সংক্রান্ত কাজ দক্ষতার সাথে স¤পাদন করে আসছে। অন্যদিকে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পূর্ব ও পশ্চিম স্থানীয় বাজার ও স্থানীয় কারখানায় প্রস্তুতকৃত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন বিভাগের পরিচালন কাজে যথা অফিসে ব্যবহার্য সামগ্রী, প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী ক্রয়/সংগ্রহ নিশ্চিত করে।বর্তমানে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী দপ্তরকে রেল পরিচালনার জন্য কাঙ্খিত মালামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী দপ্তরে মালামাল ক্রয়/সংগ্রহের ক্ষেত্রে পিপিআর-২০০৬, পিপিআর-২০০৮ নতুন করে পিপিআর-২০২৫ এবং বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারীকৃত বিভিন্ন আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করে ক্রয় প্রক্রিয়া স¤পন্ন করা হয়। পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী যে কোন ক্রয় প্রক্রিয়ার শুরুতে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুমোদন করাতে হয়। যাহার ইনভেন্ট্রি সেকশন প্রধান সরঞ্জাম দপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন।অতএব, আপনার নিকট আমাদের আরজি যে, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে তথা বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়ের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সিএিস দপ্তর সহ সরঞ্জাম বিভাগটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বহাল রেখে পূর্বের ন্যায় মালামাল ক্রয় সংগ্রহের ব্যবস্থা করিয়া ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিকায়ন করে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিচক্ষণতা ও দক্ষতার মাধ্যমে আপনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।
৪ মাস ২৩ দিন আগে