সামুদ্রিক বাণিজ্যের নতুন হাব উম্মোচিত হলো কর্ণফুলী নদীর মোহনা সংলগ্ন ৪৯ দশমিক ১৫ একর আয়তনের ছোট্ট একটি চরে। যার নাম লালদিয়া। যেখানে নির্মিত হচ্ছে কনটেইনার টার্মিনাল। বিনিয়োগ হচ্ছে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। হ্যান্ডলিং হবে বছরে হবে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস কনটেইনার। এতে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতির চিত্র।রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে এই টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।এছাড়া চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, শাহজাহান চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানসহ এপিএম টার্মিনালস ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল শুধু দেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের জন্য একটি কার্যকর প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আধুনিক বন্দর অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্প একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বিশ্বের সেরা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো, উন্নত বন্দর ও আধুনিক শহর প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনালের মতো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বন্দর ও বাণিজ্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এই বাণিজ্য খাতকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও অনেকাংশে বন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিতব্য এ টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হবে বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা। বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যয় ও সময় কমানোর নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।সূত্র মতে, কনটেইনার টার্মিনালের মূল অংশটি নির্মিত হবে চরের ৩২ একর জায়গায়। এর সঙ্গে ৭ দশমিক ১৫ একর কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একর ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে গড়ে উঠবে পুরো টার্মিনাল। প্রকল্পটি নির্মাণে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। জমির মালিকানা থাকবে বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে।নির্মাণ শেষে ২০৩০ সাল থেকে পরবর্তী ৩০ বছর টার্মিনালটি পরিচালনা করবে ডেনিশ কো¤পানি এপিএম টার্মিনালস। চুক্তির শর্ত পূরণ ও যথাযথভাবে পালন করা হলে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ বছর পর্যন্ত টার্মিনাল পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।এই টার্মিনালে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটির মাধ্যমে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হবে। এর বার্ষিক সক্ষমতা হবে প্রায় ৮ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার)। প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সক্ষমতা ও প্রযুক্তি। প্রকাশিত নকশা অনুযায়ী লালদিয়া টার্মিনালে থাকবে সাতটি শিপ-টুশোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার-টাইয়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজি) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টর। টার্মিনালটি ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিংয়ের উপযোগী করে তৈরি করা হবে এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কন্টেনার জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে।এখানেই লালদিয়া টার্মিনালের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের আকারের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় বড় কনটেইনার জাহাজের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যায় না। এপিএম টার্মিনাল লালদিয়ায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউএস জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা বিদ্যমান সীমার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। ফলে ফিডার নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বড় জাহাজে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়তে পারে। এতে সময় ও লজিস্টিক ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও শিপিং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হবে। পুরো প্রকল্পটি বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত ও পরিচালিত হবে; সরকারের পক্ষ থেকে মূলধনী বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি দেশে আসবে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও এ প্রকল্প থেকে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, প্রথম ৮ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত প্রতিটি কন্টেনারে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২১ মার্কিন ডলার এবং ৮ লাখের বেশি থেকে ৯ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত ২৩ ডলার করে পাবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এককালীন ২৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। তবে প্রকল্পের বাণিজ্যিক চুক্তির সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) বিনিয়োগ প্রকল্প বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এপিএম টার্মিনালসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেছিলেন, টার্মিনালটি হবে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন টার্মিনাল। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং ক্রেনগুলো অফিস থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।চেম্বার সভাপতির অভ্যর্থনাবেসরকারি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বিশ্বের একটি শীর্ষস্থানীয় কো¤পানি বাংলাদেশে গ্রিনফিল্ড প্রকল্প করছে-এটি দেশের জন্য গৌরবের। লালদিয়া প্রকল্পকে তিনি বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন অপারেটরের সেবার মান ও ব্যয়ের তুলনা করার সুযোগ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরাই ভালো সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।চেম্বার পরিচালকমন্ডলী ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষে শনিবার রাতে এপিএম টার্মিনালসের চেয়ারম্যান রবার্ট মার্সক উগ্লাকে প্রেরিত এক পত্রে চেম্বার সভাপতি বলেন, লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ বিশ্ব দরবারে একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করবে।এই প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেবল একটি টার্মিনাল নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটরের উপস্থিতি বাংলাদেশে আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ (ঋউও) আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে জানান চেম্বার সভাপতি।চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক সুবিধার কারণে রিজিওনাল ইনভেস্টমেন্ট এন্ড লজিস্টিক হাব হবার সমূহ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চেম্বার সভাপতি এ.পি. মোলার-মার্সক ও এপিএম টার্মিনালসকে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে আরও বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্প বিশেষ করে বে-টার্মিনাল, জাহাজ নির্মাণ ও বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগ এবং ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে পরিণত করার সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।খুশি অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারাওলালদিয়া টার্মিনালকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, একটি বিশ্বখ্যাত টার্মিনাল অপারেটরের সরাসরি বিনিয়োগ বাংলাদেশের বন্দর খাতে বিদেশি বিনিয়োগের আস্থা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনায় প্রতিযোগিতা তৈরি হলে সেবার মান, সময় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানিকারকেরা সুবিধা পেতে পারেন।ব্যবসায়ী নেতা খায়রুল আলম সুজন বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে। ব্যবসায়ীরা কম সময়ে এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ভালো সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানি সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্যচট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তাঁর মতে, লালদিয়া টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতা ও ব্যয়-প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এপিএম টার্মিনালসের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাও প্রকল্পটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ৬০টির বেশি দেযে টার্মিনাল পরিচালনা করে। এপিএম টার্মিনালস তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দক্ষ কনটেইনার বন্দরের ১০টিতে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। লালদিয়াকে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় আধুনিক, কম কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী টার্মিনালের একটি প্রদর্শনী প্রকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।বন্দর সচিব বলেন, শুধু বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের পুরো সাপ্লাই চেইনে। পোশাক, চামড়া, ওষুধ, কৃষিপণ্য কিংবা হালকা প্রকৌশল রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো এখন গুরুত্বপূর্ণ। বড় জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রামে ভেড়ার সুযোগ এবং দ্রুত কনটেইনার ওঠানামা করা গেলে পণ্য পরিবহনে অপেক্ষার সময় কমতে পারে। সরকারি পিপিপি কর্তৃপক্ষও প্রকল্পটির অন্যতম সুবিধা হিসেবে দ্রুততর জাহাজ পরিচালনা, ডুয়েল টাইম কমানো এবং লজিস্টিক ব্যয় হ্রাসের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।লালদিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণ ও পরিচালন পর্যায়ে সরাসরি ৫০০ থেকে ৭০০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নির্মাণ, ট্রাকিং, গুদামজাতকরণ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায় কয়েক হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের অবস্থানকর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে লালদিয়া চরে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। লালদিয়া চর থেকে গুপ্তবাঁক পার হলেই পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। যা পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। এর আরও ৭ থেকে ৯ কিলোমিটার উজানে রয়েছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)। আর লালদিয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের ৬তম কনটেইনার টার্মিনাল।বন্দর ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতি আনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই প্রেক্ষাপটে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ টার্মিনাল দেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।সামুদ্রিক বাণিজ্যের হাব যেভাবে হলো লালদিয়াকর্ণফুলীর মোহনায় জেগে উঠা একটি চর লালদিয়া। যা একসময় ছিল অবৈধ দখলে। চরটি দখলমুক্ত করে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের হাব হয়ে উঠলো সেই লালদিয়া। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের জুনে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।পরে ২০২৩ সালের ২১ মে এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করে।এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএম টার্মিনালস এবং স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর এ প্রকল্পে টার্মিনালটি নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনা করবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।# ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম। ৩০ আগস্ট’২০২৬ ইং, ০১৭৯৩২০০০২৪
১৯ দিন আগে
লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্টে ফের ৬৮-তে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। ২০২৫ সালের ৩৪ লাখ একক কনটেইনার ওঠা-নামার ভিত্তিতে ২০২৬ সালের আগস্টে এসে তালিকা প্রকাশ করল লয়েডস লিস্ট।২০২৪ সালে ৩২ লাখ ৭৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠা-নামা করেও ৬৮ অবস্থানে ছিল দেশের অর্থনীতির এই লাইফলাইন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম বন্দর।শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বিশ্বসেরা ১০০ বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান আগের বছরের মতোই ৬৮তম।এ বিষয় জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরসচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, আমরা লয়েডস লিস্ট রিপোর্ট এখনো পাইনি। তাই লয়েডস লিস্টে কেন এগোতে পারছে না দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারছি না।তবে বন্দরের একাধিক কর্মকর্তার মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এগোতে না পারার মূল কারণ প্রবৃদ্ধি কম থাকা। শীর্ষ তালিকার ১ থেকে ৬৭ তালিকার অধিকাংশ বন্দরই ৪ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর করেছে চার শতাংশ। ফলে দেশের মধ্যে বেশি কনটেইনার ওঠা-নামা করলেও আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর বন্দরের তুলনায় চট্টগ্রাম পিছিয়ে।সূত্র মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বন্দরগুলোর মধ্যে ভারতের দুটি বন্দর শীর্ষ তালিকায় স্থান পেয়েছে। ভারতের মুন্দ্রাবন্দর ২৫তম ও জওহরলাল নেহরু বন্দর ৩০তম অবস্থানে রয়েছে। শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের অবস্থান ২৯তম। মালয়েশিংয়ার পোর্ট ক্লাং দশম। পাকিস্তানের করাচি বন্দরের অবস্থান অবশ্য চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে ১৬ ধাপ পিছিয়ে ৮৪তম।বিদেশি শিপিং লাইনে কর্মরত এক কর্মকর্তার ভাষ্য, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর এবং ভারতের মুন্দ্রাবন্দরের উত্থানের মূল শক্তি হলো ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ও ড্রাফট। ভারতের বেসরকারি খাতের মুন্দ্রাবন্দর আধুনিক অটোমেশন, নিজস্ব রেল সংযোগ এবং দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের মাধ্যমে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে।এর বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গো পায় না; এটি কেবল বাংলাদেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তৈরি পোশাক রপ্তানি ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ভেতর সীমাবদ্ধ। গভীর ড্রাফট না থাকা এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কার্গো আকর্ষণ করতে না পারাই কলম্বো ও মুন্দ্রার চেয়ে চট্টগ্রামের পিছিয়ে থাকার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।লয়েডস লিস্টের শীর্ষ ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় চীন বরাবরই একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখছে। বিশ্বের বৃহত্তম কনটেইনার বন্দর হিসেবে এবারও এক নম্বরে চীনের সাংহাই বন্দর। শীর্ষ দশটি বন্দরের মধ্যে সাতটি বন্দরই চীনের দখলে।সেরা দশের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় স্থানে পোর্ট অব সিঙ্গাপুর, তৃতীয় নিংবো-ঝৌশান (চীন), চতুর্থ শেনজেন (চীন), পঞ্চম কিংদাও (চীন), ষষ্ঠ গুয়াংজু (চীন), সপ্তম বুসান (দক্ষিণ কোরিয়া), অষ্টম তিয়ানজিন (চীন), নবম জেবেল আলী (দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং দশম স্থানে হংকং (চীন)।শুধু তাই-ই নয়, ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় চীনের মূল ভূখন্ডের ২৭টি বন্দর রয়েছে। এসব বন্দর সম্মিলিতভাবে বছরে ৩১ কোটি একক কনটেইনার ওঠা-নামা করেছে, যা তালিকার ১০০টি বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের (প্রায় ৭০ কোটি একক) প্রায় ৪৫ শতাংশ।উল্লেখ্য, প্রতিবছর সর্বোচ্চ কনটেইনার ওঠা-নামার ভিত্তিতে সেরা ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে আসছে তথ্য বিশ্লেষণকারী এই সাময়িকী। এখানে বন্দর সেবার মান, কাস্টমস প্রক্রিয়া, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা জাহাজের অপেক্ষার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এটি গুণগত বা দক্ষতাভিত্তিক সূচক নয়। একমাত্র মাপকাঠি হলো ভলিউম বা পরিমাণভিত্তিক। ফলে যে বন্দর দিয়ে যত বেশি কনটেইনার ওঠা-নামা হয়, তালিকায় তার অবস্থান এগিয়ে থাকে।
১৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে কার্গো জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে ইয়াসিন (৫০) নামে এক বাংলাদেশি নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। তাকে উদ্ধারে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান চলছে।রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করেজে অবস্থানরত এমভি ক্রিমসন গ্রেস নামক জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। এর পর উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও এখনো কোন সন্ধান মেলেনি নাবিক ইয়াসিনের।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম সন্ধ্যার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই কোস্ট গার্ডকে উদ্ধার অভিযানের জন্য অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে আশপাশে অবস্থানরত সব জলযানকে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির রেডিও থেকে অনবরত ভিএইচএফ বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সাগরে পড়ার পর জোয়ারের স্রোতে ইয়াসিন উত্তর দিকে ভেসে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পরপরই তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি সোয়াডস বোট এবং কোস্ট গার্ডের দুটি জাহাজ ও একটি বোট অংশ নিয়েছে। তার অনুসন্ধান এখনো চলছে বলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পূর্ব জোন সূত্র জানিয়েছে।
১ মাস ২ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের চোরের খনি খ্যাত রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালিয়ে অরিসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব-৭। জব্দ করা এসব সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানায় র্যাব। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য জানান র্যাব-৭-এর মেজর জালিস মাহমুদ খান। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে রিয়াজউদ্দিন বাজারের ফলের গলির একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভবনের কয়েকটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে অরিসসহ বিভিন্ন র্ব্যান্ডের বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এসব সিগারেটের অবৈধ আমদানি, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।র্যাবের এই কর্মকর্তার তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরের সবচেয়ে বড় চোরের খনি খ্যাত এই রিয়াজউদ্দিন বাজারের সংঘবদ্ধ একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি সিগারেট আমদানি, মজুত ও বিক্রি করে আসছিল। এখানে শুধু সিগারেট নয়, চোরাই মোবাইল থেকে স্বর্ণ পাচারের মুখ খনি এই রিয়াজ উদ্দিন বাজার। র্যাব সবসময় এই রিয়াজ উদ্দিন বাজারে নজরদারি চালায় এবং সেটা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
১ মাস ৭ দিন আগে
আবারও বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ১০ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী।কাঁচামালের সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণ উল্লেখ করে ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। যা জানাজানি হয় শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরের দিকে।এরপর শ্রমিকরা বিকেলে অবস্থান নেন কারখানাগুলোতে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা একযোগে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে হঠাৎ কারখানাগুলো বন্ধের ঘোষণায় পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শ্রমিকরা।বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হলো, চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ই¯পাতের পাত প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ই¯পাতপণ্য তৈরির কারখানা এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ই¯পাত ও গ্যালকো স্টিল এবং ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল। যেগুলোতে ১০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও শ্রমিক কর্মরত আছেন।চিনিকল কারখানার কর্মচারী আশরাফ মনির বলেন, শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৯টি কারখানার ১০ হাজার জন শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। শুনেছি কাঁচামালের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য, চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। এত শ্রমিককে একসঙ্গে বেকার করে দেওয়ায় আমাদের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। শ্রমিকরা দ্রুত কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ অথবা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও এস আলম গ্রুপের চিনি, ই¯পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনও কাঁচামাল আমদানিতে বাধা এবং ব্যাংকিং সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে আন্দোলনের মুখে কারখানাগুলো চালু করা হয়।তবে এর মধ্যে চিনিকলসহ গ্রুপের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল আমদানি, ব্যাংকিং সহযোগিতা এবং এলসি খোলার জটিলতায় ভুগছে। চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, পরিবহন, সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অসংখ্য মানুষও আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, কাঁচামালের সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণে সবগুলো কারখানার উৎপাদন বন্ধ। কর্তৃপক্ষও চাইছেন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা ফিরে যাক।
১ মাস ১৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি দল বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-১৪৮ এ আগত যাত্রী মোহাম্মদ সোহেলের সঙ্গে থাকা তিনটি ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়।তল্লাশিতে মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫০ কার্টন এবং ইচ্ছে লাইটস ব্র্যান্ডের ৮৫ কার্টনসহ মোট ২৩৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা সিগারেটগুলো ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে চট্টগ্রাম আইসিডি কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা সিগারেটগুলোর শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৬৫ লাখ টাকা। পণ্যটির মোট করভার (টিটিআই) ৬২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ ঘটনায় প্রচলিত কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
গত ২১ জুলাই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবহন খাত থেকে শিল্প কারখানা, এমনকি রান্নাবান্নায়ও হাহাকার শুনা যাচ্ছে শুধু।গ্যাসের এই নিম্নচাপে দিন দিন পিষ্ঠ হচ্ছে জনজীবন। ফলে যেকোনো মূল্যে দ্রুত এর সমাধান চান সাধারণ মানুষ। কিন্তু সহজে এই সমস্যা সমাধানের কোন আলামত মিলছে না। ১ আগস্ট থেকে কিছুটা উন্নতির কথা বললেও ১১ আগষ্ট পর্যন্ত গ্যাসের নিম্নচাপ স্বাভাবিক হচ্ছে না।এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) মো. রফিক খান। তিনি বলেন, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকান্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।এতে বড় ধাক্কা লেগেছে আমদানিকৃত এলএনজি নির্ভর চট্টগ্রামে। দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২২৫ থেকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। যা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম।এর ফলে নগরীর শিল্প, বিদ্যুৎ, সার কারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আবাসিক খাত পর্যন্ত সর্বত্র গ্যাসের সংকট চলছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। গ্যাসের অভাবকে পুঁজি করে সিএনজিচালিত টেক্সি ভাড়া ইচ্ছেমতো হাঁকা হচ্ছে।নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলায়ও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রপ্তানিমুখী শিল্প, উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।মো. রফিক খান বলেন, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) বন্ধ রয়েছে। কেবল কাফকোতে সার উৎপাদন চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সীমিত আকারে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। এই কেন্দ্রে দৈনিক ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিরক্তিকর পর্যায়ে ঠেকেছে।কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও সার খাতের জন্য গ্যাস বরাদ্দ দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক এবং সিএনজি সব খাতের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এত অল্প গ্যাস দিয়ে পুরো নেটওয়ার্কে চাপ ধরে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দূরবর্তী এলাকা তো বটেই, নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে।চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় বয়লার স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্টিল, রি-রোলিং, কাচ, সিরামিক, টেক্সটাইল, ¯িপনিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিভিন্ন মাঝারি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক স্টেশন পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং নগরজীবনে পড়তে শুরু করেছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে ইতোমধ্যে টেক্সিগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।কেজিডিসিএলের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ভাসমান টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। বরং জাতীয় চাহিদা বিবেচনায় অন্য অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে হলে চট্টগ্রামে আরো কাটছাঁট করতে হতে পারে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার দিতে হলে চট্টগ্রামের শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে।ওই কর্মকতা বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায়ও চট্টগ্রামের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ২৭০-২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সংকট শুরুর আগেও চট্টগ্রামে ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়া হচ্ছিল। বর্তমানে আরো কমিয়ে ২২৫-২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। বুধবার থেকে সরবরাহ ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন না বাড়লে এবং এলএনজি আমদানি ও রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা আরো সম্প্রসারণ না করলে গ্যাস সংকট সহজে কাটবে না। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে। সেই ঘাটতি পূরণে এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও এলএনজির উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালে সাময়িক দুর্ঘটনা যে পুরো দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের রাজধানীতেও প্রভাব পড়েছে গ্যাস সংকটের। তিতাসের আওতাধীন রাজধানীতে প্রতিদিন ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ পাচ্ছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসা বাড়িতে রান্নায় বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও কোথাও একেবারেই চাপ কম থাকায় বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি বলছে, তিতাসের আওতায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ১৫৫ কোটি ঘনফুটের মত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন রাজধানী ও আশেপাশের জেলায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।ভোক্তাদের ভাষ্যগ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর গ্যাস পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুসারে গ্যাস পাচ্ছেন না বিভিন্ন পরিবহন চালক-শ্রমিকরা। আয় সীমিত হয়ে যাওয়ায় পরিবহনে নির্ভর দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা তলিয়ে যাচ্ছেন চরম আর্থিক সংকটে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর টাইগারপাস এলাকায় ইন্ট্রাকো ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিক্সা চালক মনজুরুল ইসলামের সাথে গ্যাস নিয়ে কথা বলতেই হাতে চোখের জল চেপে ধরেন তিনি।তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও গ্যাস ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দৈনিক আয়ও কমে গেছে। সংসার চলবে কীভাবে সে চিন্তায় হয়তো মরেই যাব। তিনি গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান।রাইড শেয়ারিংয়ে ভাড়ায় কার চালান বহদ্দারহাট এলাকার নাছির উদ্দিন। এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে নাকাল নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে অনেক পাম্প, কিন্তু বেশিরভাগই বন্ধ। যেগুলোতে আছে, চাপ খুব কম। সে কারণে সিলিন্ডারের অর্ধেক পরিমাণও গ্যাস ঢুকছে না।হালিশহর এলাকার নাজমা বলেন, গত একসপ্তাহ ধরে চুলাই গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, কোনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। রাত নয়টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। অন্য কোনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদের গৃহিণী সাইরা বেগম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এভাবে আর কত দিন চলা যায়?এদিকে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন বলে জানা গেছে। প্রায় ২০ দিন ধরে সেখানে গ্যাস-সংকটে আছেন তাঁরা। বাসাবাড়িতে কেউ কেউ বিদ্যুৎ-চালিত চুলা কিনে রান্নাবান্নার কাজ সারছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করছেন বলে জানাচ্ছেন তারা।এছাড়া ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায়ও দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে, রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।ভোগান্তির চিত্র রাজধানীর গ্যাস পাম্পগুলোতেও। ফিলিং স্টেশনের বাইরে যানবাহনের লম্বা সারি। তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালক-শ্রমিকরা। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভাড়ায় চালিত গাড়ি চালকরা। ফলে পুরো পরিবহনখাতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।গ্যাস সংকটে ঢাকার রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল কমে গেছে, বেড়ে গেছে ভাড়া। আবদুস সামাদ নামে এক চালক বলেন, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতেছে পাম্পেই। তাও যে গ্যাস ঢুকে, তাতে আধা বেলা গাড়ি চালান যাচ্ছে না। এজন্য ড্রাইভাররা গাড়িই বাইর করতেছে না। খাব কি? ভাড়া তো বেশি চাওয়া লাগবেই।ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুই-তিন মাস আগেও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এমন তামাশা করা হয়েছিল। পরে সেই তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন কৃত্রিমভাবে গ্যাস সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর কোনো অপচেষ্টা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, লাইনে আমাদের দেওয়ার কথা ১৫ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চ) চাপের গ্যাস। সেখানে আমাদের তিন থেকে পাঁচ পিএসআই পর্যন্ত দেওয়া হয়।তিনি বলেন, লাইনে ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস থাকলে আমাদের মেশিনগুলো ঘণ্টায় ৫০০ কিউবিক মিটার গ্যাস কমপ্রেস করতে পারে। আর আমরা গাড়িতে গ্যাস ডেলিভারি দেই তিন হাজার পিএসআই প্রেশারে। ইনপুটে পিএসআই যত কমবে, আউটপুটও তত কম আসবে।ব্যবসায়ীদের ভাষ্যচট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, কারখানায় ৭৫ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকিও আছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে।তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধ লাখ শিল্প-কারখানা রয়েছে, যার বড় অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ৬০-৭০ লাখ শ্রমিক। এক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে, কোথাও শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।কবির ষ্টিলের পরিচালক তানজির হোসেন বলেন, তিন থেকে চার পিএসআই গ্যাস সরবরাহ থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের চাপ এত কম যে শ্রমিক ও অপারেটরদের অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, সব মিলকারখানা বন্ধ প্রায়। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎও নেই। কত দিন থাকবে না, সেটা সরকার ঘোষণা দিতে পারে। তাহলে শ্রমিকদের বসিয়ে না রেখে ছুটি দেওয়া যায়।মেরামতের আশাপেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কো¤পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল স্থানীয় কারিগরি দলের সাথে মিলে এর মেরামত কাজ শুরু করেছে। টার্মিনালের দুটি বয়লারের মধ্যে আগুনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্ষত বয়লারটি ৪-৫ দিনের মধ্যে চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে। তাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়বে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি মেরামত হয়ে সচল না হওয়া পর্যন্ত এবং জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন ও শিল্প-কারখানার এই সংকট স¤পূর্ণ কাটবে না। এতে আরও কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে।সূত্র মতে, এই দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জের প্রায় ২০০টিরও বেশি টেক্সটাইল, স্টিল ও সিরামিক কারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ ১,০০০ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৭০০ মিলিয়নে নামানো হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ছে।একই সঙ্গে ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, বাড্ডা ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা রান্নার গ্যাস থাকছে না। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ১-২ পিএসআই-এ নেমে আসায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং অনেক স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড-এর উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির বলেন, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল চালু রয়েছে। সাধারণত এসব টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো। তবে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ত্রুটি সারানোর কাজ চলমান আছে। আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট অনেকই। তাদের ভাষ্য, মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অপরটি পরিচালনা করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। এক সপ্তাহ আগে এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালের একটি বয়লারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর পুরো টার্মিনালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের চেষ্টা করেও সফল হননি। বিদেশ থেকে প্রকৌশলী এনেও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। কবে নাগাদ টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। আগুনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যটি সচল করা গেলে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। প্রকৌশলীরা সেটি চালুর চেষ্টা করছেন। আগামী ১ আগস্ট নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি ঠিক হতে পারে। বিদেশ থেকে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। ওগুলো লাগানো হলে একটি বয়লার চালু করে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে টার্মিনালটি। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে ১১ আগস্টের আগে চট্টগ্রামসহ দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ আসার সুযোগ নেই।বিশেষজ্ঞদের মতামতবিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাস খাত দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উত্তাল সমুদ্র বা যেকোনো দুর্ঘটনায় টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। অতীতে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়ে সামিটের টার্মিনালটি ২০২৪ সালে সাড়ে তিন মাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। আর একটি টার্মিনাল স্থলভাগে করা হলে এখনকার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।এ ছাড়া যেকোনো সময় আমদানি ব্যাহত হতে পারে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা ৭ মাস খোলাবাজারে এলএনজি কেনেনি সরকার। আমদানি নির্ভরতার এ ঝুঁকি থাকবেই।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ইলাহী চৌধুরী বলেন, গত আড়াই দশকের অবহেলায় আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদেশ নির্ভর হয়ে জ্বালানি খাত চলবে না। গ্যাস অনুসন্ধানে অনেক কম কূপ খনন করে বেশি সফলতার পরও অবহেলা করা হয়েছে। সারা দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত কূপ সংস্কার করে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে।উল্লেখ্য, দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ কমানো হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম যেহেতু নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের গ্যাস দেওয়া হয় না, পুরোপুরি এলএনজি নির্ভর, তাই এখানকার সংকট তুলনামূলকভাবে বেশি।
১ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একের পর এক বিদেশি জাহাজে জলদস্যুদের হানা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে বিদেশি তিন জাহাজ থেকে কোটি কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নাবিকরা। ফলে বহির্নোঙরে জাহাজে জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে জরুরি আবেদন করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (সিসিসিআই)। বুধবার (২২ জুলাই) চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়। প্রেরিত আবেদনে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন-গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজের নিরাপত্তা ও নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।চিটাগাং চেম্বার জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে বহির্নোঙরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে ঝুঁকির ধারণা বাড়বে, বীমা ব্যয় বাড়বে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের খরচও বেড়ে যাবে বলে সতর্ক করেছে চেম্বার।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া (রিক্যাপ)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। এতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।আবেদনে চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন- বর্তমান সরকারের নানামূখী বান্তব উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপের কারণে একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর এতদঞ্চলের অন্যতম রিজিওনাল বিনিয়োগ ও ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জলদস্যুতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হবে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু শিপিংশিল্পের জন্য নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও জন্যও মারাত্নক ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব ঘটনার কারণে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বীমা ব্যয়, জাহাজ পরিচালনায় বিলম্ব এবং বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারে।তিনি বলেন-যেখানে সরকার ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাড়ানো এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে এ ধরণের ঘটনা সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত করতে পারে।আমিরুল হক চিঠিতে উল্লেখ করেন-আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা-রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি এন্ড আর্মডরবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া এর (রিক্যাপ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপৃল) চট্টগ্রাম বন্দরে কোনে াপ্রকার দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের জলসীমায় যখন চুরি ও দস্যুতার ঘটনা চলমান, তখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা স¤পূর্ণ নিরাপদ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতা এবং জিরোটলারেন্স নীতির কারণে এই সাফল্য এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক চুরির ঘটনা গুলো রিক্যাপ প্রতিবেদনে প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম নষ্ট হতে পারে। তাই দেশে বিনিয়োগ বান্ধব ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ট্রেড পরিবেশ নিশ্চিত কল্পে ঝুঁকিপূর্ণ ¯পটগুলোতে কোস্টগার্ডের টহল আরো জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধিসহ অপরাধী চক্রের সহযোগি ও চোরাইকৃত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারীদেও বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর প্রতি চেম্বার সভাপতি আহবান জানান।এই পরিস্থিতিতে চিটাগাং চেম্বার বহির্নোঙরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।চিঠিতে চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হক বলেন, বহির্নোঙরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু শিপিং শিল্পের স্বার্থেই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ মাস ২৭ দিন আগে
জুলাই মাস থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন সরকারি পে-স্কেল। এ নিয়ে দারুণ স্বস্তিতে সরকারি চাকুরিজীবীরা। অন্যদিকে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বেসরকারি বিভিন্ন খাতের চাকুরিজীবীরা। কারণ তাদের বেতন-ভাতা নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে না। ফলে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বেসরকারি চাকুরিজীবীরা।যাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে। আর সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বা গুঞ্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলে তা দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি খাতের কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে দুটি বড় প্রভাব পড়ে। চাহিদা বৃদ্ধি অর্থাৎ একসাথে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত টাকা আসায় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। সরবরাহ যদি সেই অনুপাতে না বাড়ে, তবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বাড়ে। মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে। কেননা, বাজারে কেবল বেতন বৃদ্ধির খবর ছড়ালেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিবহন ভাড়া এবং বাসাভাড়া বাড়িয়ে দেন। যার ভুক্তভোগী হন বেসরকারি খাতের কর্মীসহ দেশের সব সাধারণ নাগরিক। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি যখন এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী, তখন বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো। সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে যদি বেতন বাড়ানো হয়, তবে তার খেসারত দিতে হবে দেশের সিংহভাগ বেসরকারি চাকরিজীবী, দিনমজুর এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে, যাদের আয় বাড়েনি।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের কর্মসংস্থানের মাত্র একটি ছোট অংশ সরকারি খাতের আওতাভুক্ত। বাকি বিশাল জনগোষ্ঠী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অনানুষ্ঠানিক খাত বা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারদরের যে ঊর্ধ্বগতি হবে, তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর থাকবে না। ফলে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরো প্রকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দা তৌহিদ আসলাম। চাকরি করেন ইপিজেড এলাকার িএকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে যত টাকা বেতন পান, উচ্চমূল্যের বাজারে সেটি দিয়ে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর খবর তাকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তৌহিদ আসলাম বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সাথে সাথে সেগুলোর দাম আবারও বেড়ে যাবে। আমাদের মতো মানুষের আয় তো বাড়ছে না। তাহলে আমরা বাঁচব কিভাবে?’ তার এই উদ্বেগ যে মোটেও অমূলক নয়, অর্থনীতিবিদদের কথাতেও সেটির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছেন, সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন বৃদ্ধি ফলে কেবল মূল্যস্ফীতিই বাড়বে না, সেইসঙ্গে বৈষম্য, দারিদ্র্য, তারল্য সংকটসহ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন, সরকার সেদিকে দৃষ্টি না দিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট আরো বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আয়ের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক সাত শতাংশ, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিখাতের কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা না বাড়লে আয় বৈষম্য আরো বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে দেশে দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। গত কয়েক বছর ধরেই দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার উচ্চ। গত জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো সেটি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে- এমনটাই বলছেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন পে-স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে যে বাড়তি বেতনের অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটির জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হবে বা নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে। বাড়তি ওই টাকা অর্থনীতিতে যোগ হলেই সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরো বেড়ে যাবে। তখন সেটা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান সেলিম রায়হান।প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান থাকলেও গত দশ বছরে একবারও সেটি করা হয়নি। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, গত এক দশকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ-খরচা যেভাবে বেড়েছে, সেই বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল ঘোষণার এই উদ্যোগ অত্যন্ত যৌক্তিক, বলছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। কিন্তু উদ্যোগটি এমন একটি সময় নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হলেও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সেটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে কি-না, সেই প্রশ্নটি সামনে চলে আসছে বলেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এর ফলে আগের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে। তবে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিক রেখে পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চাহিদা বাড়লেই বরং ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এক্ষেত্রে সরকার যদি নিত্যপণ্যের সংকট বা লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে ভোগান্তি থেকে তাদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে, অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের 'জনপ্রশাসন-নিট' খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বাড়তি এই ব্যয়ের বিপরীতে সরকার আয় তো সেভাবে বাড়ছে না, বরং নতুন বাজেটে যে বিপুল আর্থের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সেটা মেটাতেই সরকারকে দেশে-বিদেশে ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হলে অর্থনীতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আবার দেশি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে সেখানে তারল্য সংকট দেখা দিবে, সেটাও আরেক সমস্যা বলে জানান তারা। দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন যে চ্যালেঞ্জিং হবে, বিএনপি সরকারও সেটা স্বীকার করছে। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ইশতেহারে বলা হয়েছে যে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেতন-ভাতা একবারে না বাড়িয়ে সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে বলে জানান উপদেষ্টা তিতুমীর।তার আগে, গত জুনে সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি বলে বাজেট বক্তৃতায় সংসদে বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে আর পে-স্কেলে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে নতুন একটি বেতন কমিশন গঠন করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিশন বেতন কাঠামো পর্যালোচনা শেষে গত জানুয়ারি মাসে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিশন গঠন করে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করলেও সেটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দেন অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর আগের কমিশনের পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিএনপি সরকার। সেই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে, যেখানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড, অর্থাৎ মধ্যম ও নিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই খসড়া রূপরেখাটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন শেষে চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে বলেও জানা যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এক বছরের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলা হলেও বাস্তবে পণ্যের দাম কমেনি; বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে মাত্র। তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তিনি বাজার কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি চড়া মূল্যস্ফীতির সময়ে খাদ্য ভর্তুকি ও সুবিধাভোগীর আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ ও অর্থনীতি প্রস্তুত কি না, তা যাচাই জরুরি। সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ না করে পে স্কেল বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া অর্থনীতি এখনো মজুরি বাড়ানোর মতো সক্ষমতায় পৌঁছায়নি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি টেকসই হবে না। বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে অর্থনীতি মন্দার পূর্বমুহূর্তে রয়েছে, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির সুফল পাওয়া কঠিন।
১ মাস ২৮ দিন আগে
৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে ইন্সপেক্টর লেভেলের একজন এনবিআর কর্মকর্তা এসে অকারণে যন্ত্রণা দেয়, ঘুষ নিয়ে তারপর শান্ত হন। ওই শিল্পপতি তো মনোবল হারাবেন। চট্টগ্রামের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের মনোবল বাড়ানোর মতো ইন্সপেক্টর দরকার। এতে সরকারের রাজস্ব আরো বাড়বে।
২ মাস ১ দিন আগে
বাংলাদেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও ১৯টি স্থলবন্দরে বিদ্যমান মোট ২৯টি স্ক্যানারের মধ্যে ১৩টিই অচল বা নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ মোট স্ক্যানারের ৪৫ শতাংশ-ই বর্তমানে কাজ করছে না। কারণ বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম দামে নিম্নমানের স্ক্যানার সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া দেশের স্থলবন্দরের কয়েকটিতে এখনো স্ক্যানার বসানোই হয়নি। ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা— এনএসআইর এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। সেটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, স্ক্যানারের সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। স্ক্যানার অচলের ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানি হচ্ছেন, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অবৈধ পণ্য আসার ঝুঁকিও আছে। এগুলো ঠিক করা সরকারেরই দায়িত্ব। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের এসব ঠিক করতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য যাচাই ও যথাযথ রাজস্ব নিরূপণে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্যানার বসানো হয়। ফলে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ হয়, অন্যদিকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ, নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক পণ্য দেশে প্রবেশ করতে পারে না।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দুটি সমুদ্রবন্দর ও আটটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি সচল রয়েছে। সমুদ্রবন্দর দুটির মধ্যে চট্টগ্রামে ১০টি কনটেইনার স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ছয়টিই অচল। আর মোংলার দুটি ভেহিকল স্ক্যানারই অচল। আর স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে আইসিডি কমলাপুরে একটি কনটেইনার স্ক্যানার ও পানগাঁও বন্দরে একটি করে স্ক্যানার থাকলেও সেগুলো নষ্ট। বেনাপোলে চারটি লাগেজ স্ক্যানারের দুটিই নষ্ট। আখাউড়ার দুটি লাগেজ স্ক্যানারের একটি অচল। হিলির ছয়টি হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টরের ছয়টিই অচল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বড় বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার স্ক্যানারের ৬০ শতাংশ অচল। দুটি স্ক্যানার পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে এবং জিসিবি ১ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি একই বছরের আগস্ট থেকে অচল রয়েছে। এ ছাড়া কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি ডিসেম্বর মাসে প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেও অবকাঠামোগত কিছু ত্রুটির কারণে এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে সিপিএআর গেটের স্ক্যানারটি ঠিক থাকলেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ বন্দর কর্তৃপক্ষের স্ক্যানারটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু স্ক্যানার বন্দরের, আর কিছু স্ক্যানার কাস্টমসের। অচল স্ক্যানার সচল করতে অর্থ বরাদ্দ দিতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কাজ চলছে। তিনি বলেন, একটি স্ক্যানারের প্রতিমাসে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। যেগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, মেয়াদ বাড়াতে এনবিআর কাজ করছে। তবে বন্দর চাইলে সব স্ক্যানার তারা অপারেট করতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্দরকে আলাদা চার্জ দিতে হবে। এদিকে মোংলা সমুদ্রবন্দরে তিনটি লাগেজ স্ক্যানার ও দুটি আন্ডার-ভেহিকল স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভেহিকল স্ক্যানার দুটি অচল রয়েছে। ফলে বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গামী যানবাহনের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ বন্দরে এখনো কোনো কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করা হয়নি। কমলাপুর আইসিডিতে থাকা একমাত্র মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানারটি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে অচল রয়েছে। ফলে শতভাগ কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করতে হচ্ছে, যা পণ্য ছাড়ে সময় বাড়াচ্ছে এবং কাস্টমসের কার্যক্রমকে ধীর করছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার বেনাপোল স্থলবন্দরে স্থাপিত পাঁচটি ব্যাগেজ স্ক্যানারের মধ্যে দুটি অচল রয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এবং অপরটি ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে যাত্রী ও লাগেজের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া স্ক্যানার দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে তা দ্রুত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আবার বিজিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্ক্যানারও ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে অচল রয়েছে। এতে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্য ও যানবাহনের তদারকিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের (পিআইসিটি) স্ক্যানারটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে অচল। গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ পানগাঁও আইসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও স্ক্যানারটি সচল হয়নি। বর্তমানে স্ক্যানিং ছাড়াই ম্যানুয়াল পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্য ছাড় করা হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। শুধু তাই নয়, হিলি, সোনামসজিদ, তামাবিল, বুড়িমারী, সোনাহাট, গোবরাকুড়া, বিবিরবাজার, দর্শনা, বিলোনিয়া, ভোলাগঞ্জ, শাওলা, টেকনাফ, ধানুয়া-কামালপুর, বাল্লা, নাকুগাঁও বন্দরে স্ক্যানার নেই। ফলে এসব বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলেও রাজস্ব ঝুঁকি ও চোরাচালানের সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ক্যানার নষ্ট হলে মেরামত করতে দীর্ঘসময় লাগে। অচল স্ক্যানার মেরামতের খরচ বেশি বিধায় এনবিআর থেকে বরাদ্দ পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসব কারণে স্ক্যানারগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কনটেইনার স্ক্যানার উচ্চ প্রযুক্তির হওয়ায় এসব স্ক্যানারের খুচরা যন্ত্রাংশ দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। এগুলো চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করতে হয়। আর স্ক্যানার সরবরাহকারী দেশ-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি অনেক সময় নবায়ন করা হয় না বা নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয় না। এ কারণে নষ্ট হলেও মেরামত সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বন্দরের স্ক্যানার অচল থাকার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অবৈধ পণ্য যারা আমদানি করে, তারা সাধারণত আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে বা যোগসাজশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করে নেয়। ফলে এসব চালান অনেক ক্ষেত্রেই কাস্টমসে কার্যকরভাবে পরীক্ষা করা হয় না এবং দ্রুত বন্দর ছাড়িয়ে যায়। স্ক্যানার সচল থাকলেও এ ধরনের চালান সবসময় স্ক্যানিংয়ের আওতায় আসে না। বরং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রকৃত আমদানিকারকরাই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে অবৈধ পণ্য অনেক সময় নির্বিঘ্নে বের হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও সেটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে ঘটে, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির ফলে নয়। অচল স্ক্যানার মেরামত ও নতুন স্ক্যানার স্থাপনে এনএসআইর প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন বন্দরে স্থাপিত কনটেইনার স্ক্যানার মেরামতের দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা এড়াতে এনবিআরকে দ্রুত মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ, যন্ত্রাংশ ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দর, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, তামাবিল, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরে নতুন কনটেইনার বা কার্গো স্ক্যানার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে ক্রমেই বাড়ছে আমদানি পণ্য চৃুরি। গত ১০ মাসের ব্যবধানে দুটি চুরির ঘটনায় গায়ের হয়ে গেছে প্রায় ৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য। এর আগে এক চুরির ঘটনায় গায়েব হয়ে গেছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মুল্যের আমদানিকৃত কাপড়। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার, কাপড় চুরির পরও বন্দরের নিজস্ব ওরাকল সিস্টেমের রেকর্ড বলছে কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে সংরক্ষিত আছে, কিন্তু টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) ও সরেজমিন অনুসন্ধানে সেটির কোনো অস্তিত্বই মেলেনি। ইয়ার্ডটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ তথ্য জানান বন্দর থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুর রহিম। তিনি জানান, বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কাপড়ভর্তি কন্টেইনার পাচার হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। পণ্যগুলো কীভাবে বন্দরের বাইরে গেল এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তিনি জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর দশ মাসের মাথায় ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। ওই কন্টেইনারে প্রায় দুই কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমদানি করা কাপড় ছিল।সিল-স্বাক্ষর জাল করে রাতের আঁধারে সিস্টেমে অবৈধ এন্ট্রি দিয়ে বের করে নেওয়া হয়েছে কাপড়ভর্তি এই কন্টেইনার। এটিই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অল্প কিছু দিনের ব্যবধানে ঘটা দ্বিতীয় কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা। এর দশ মাস আগে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানি করা কাপড়ভর্তি আরেকটি কন্টেইনার গায়েব হয়ে যায়। যেখানে ৮০ লাখ টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হয়, যার এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। এই কন্টেইনারে প্রায় আড়াই কোটি টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। ঘটনায় সম্প্রতি বন্দর থানায় মামলা দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ৯ হিসেবে রুজু হয়, যাতে চুরির অভিযোগে পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওসি বলেন, যে ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনারটি গায়েব হয়েছে সেই ইয়ার্ডের ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও ক্রেন অপারেটর আবু সুফিয়ানকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া যে লং ভেহিকেলে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছে সেই গাড়ির হেলপার রুবেলকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে এবং দুলালকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গায়েব হওয়া আরেকটি কন্টেইনার নিয়েও চলছে তদন্ত।ওসি আবদুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ জুন হালিশহরের আব্বাসপাড়ার গলাচিপা এলাকা থেকে খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরেক ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে পাওয়া গেলে পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য স¤পর্কে জানা যাবে। পণ্যভর্তি কন্টেইনার গায়েবের ঘটনায় মামলাটি দায়ের করেন বন্দরের জেআর ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. আবদুল মান্নান। মামলার এজাহারে পরপর এই তিন ঘটনা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইয়ার্ড তদারকি ও কাগজপত্র যাচাই প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার গাজীপুরের মুয়াজ উদ্দিন টেক্সটাইল নামের একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে একটি ফেব্রিক্স পণ্যবাহী কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪এক্স৪০) আমদানি করেছিল। কন্টেইনারটি গত বছরের ৪ আগস্ট বার্থ অপারেটর বশির আহমেদ অ্যান্ড কো¤পানির মাধ্যমে বন্দরের সংরক্ষিত কন্টেইনার ও পণ্য রাখার জেআর ইয়ার্ডে রাখা হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল কন্টেইনারটি কায়িক পরীক্ষার পর দ্রুত ডেলিভারির জন্য জেআর ইয়ার্ডের অ্যাপ্রেইজ ক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স। দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও কন্টেইনারটির হদিস মেলেনি, পরে ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট বাতিল করা হয়।কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা এখানেই থেমে নেই। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে বন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। গায়েব হওয়া এই কন্টেইনারভর্তি কাপড়ের বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। কাপড়গুলো আমদানি করেছিল ঢাকার খিলক্ষেত সুপার মার্কেটের ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান।এজাহারে বলা হয়, ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. চীন থেকে ফেব্রিক্স পণ্যবাহী ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর কেওসিইউ-৪৮২৯৩৯৯) আমদানি করে। কন্টেইনারটি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের মাধ্যমে জাহাজ থেকে ডিসচার্জ করে চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) রাখা হয়। পণ্যবাহী এই কন্টেইনারটি গত ২৮ এপ্রিল কাস্টমসের পণ্য যাচাইয়ের জন্য অ্যাসাইনমেন্টভুক্ত ছিল, অর্থাৎ এই তারিখে কন্টেইনার নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু সিসিটি ইয়ার্ডের ডায়েরি থেকে জানা যায়, কন্টেইনারটির অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কন্টেইনারের অবস্থান জানতে গত ৬ মে টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ১০ মে সাইফ পাওয়ারটেক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়, গত ২১ জানুয়ারি কন্টেইনারটি জাহাজ থেকে নামিয়ে সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল এবং গত ১৭ মার্চ তা অনডেট অনচেসিস পদ্ধতিতে দ্রুত খালাস প্রক্রিয়ায় ডেলিভারির জন্য নির্ধারণ করা হয়। কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে (টিওএস) অনচেসিস হিসেবে ডেলিভারি দেখানো হয়েছে বলে টিওএসে সংরক্ষিত আছে। তবে একইসঙ্গে বন্দরের ওরাকল সিস্টেমে এখনো কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডেই সংরক্ষিত আছে বলে দেখানো হচ্ছে, অর্থাৎ বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারটির অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।এজাহারে আরও বলা হয়, টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের চিঠি পাওয়ার পর কন্টেইনারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। মামলার বাদী পরিবহন পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত হামিদুর রহমান বলেন, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের ৫০ নম্বর ক্রমিকের কপিতে থাকা সৈয়দ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি নামের সিলের জায়গায় ভুলভাবে সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি অ্যান্ড এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি লেখা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ডকুমেন্টে থাকা সই ও সিল তার নয়, এবং সব কাগজপত্র ও স্বাক্ষর জাল করে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপিতে থাকা পরিবহন পরিদর্শকের স্থলে থাকা টার্মিনাল ম্যানেজার দপ্তরের এফসিএল পরিবহন পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রিপারড বাইয়ের স্থলে থাকা উচ্চমান বহিঃসহকারী এমএইচ সিরাজীর স্বাক্ষরও তাদের নয়। কাগজপত্রে থাকা সিল ও স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) যাচাই করে দেখা যায়, বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন টিওএস সিস্টেমের আইডি ও পাসওয়ার্ড অবৈধভাবে ব্যবহার করে চলতি বছরের ১৭ মার্চ রাত আনুমানিক দুইটা ৫৪ মিনিটে কন্টেইনারের তথ্য টিওএস সিস্টেমে প্রবেশ করান। একই সময়ে কন্টেইনারটি টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তায় নামানো হয়। পরে কন্টেইনারটি বন্দরের গেট দিয়ে বাইরে বের করে নেওয়া হয়, তবে ঠিক কোন সময়ে এটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছিল, তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ১১ হিসেবে রুজু হয়, যাতে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়। এজাহারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।সন্দেহের তীর সাইফ পাওয়ারটেকের দিকেদ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ভূমিকা দ্বিমুখী চরিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। একদিকে কন্টেইনারের অবস্থান জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাবে প্রতিষ্ঠানটি যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সূত্র ধরেই কাগজপত্রের গরমিল ও জালিয়াতি প্রথম ধরা পড়ে। অন্যদিকে এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যে সময়ে বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন অবৈধভাবে অন্যের আইডি ব্যবহার করে রাতের আঁধারে টিওএস সিস্টেমে কন্টেইনারের তথ্য প্রবেশ করান, একই সময়ে সাইফ পাওয়ারটেকের নিজস্ব ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তাতেই কন্টেইনারটি নামানো হয়। অর্থাৎ একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার বন্দরের গেট পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় টার্মিনাল অপারেটরের কর্মী সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারের তথ্যে উঠে এসেছে, যদিও কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই কাজে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন তা এখনও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন তরফদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন উত্তর পাঠাননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নস্বল্প ব্যবধানে ঘটা একের পর এক কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রথম ঘটনায় একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরেই আসেনি, যা ইয়ার্ড পর্যায়ের নিয়মিত মজুত যাচাইয়ে গুরুতর অবহেলার বিষয়টি ওঠে আসে। দ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মতো ¯পর্শকাতর সিস্টেমে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে রাতের আঁধারে এন্ট্রি দেওয়া, একাধিক কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর জাল করা এবং বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারের অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য থাকার বিষয়টি সামনে আসায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথি যাচাই প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা (এনসিটি-সিসিটি) সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সার্বক্ষণিক নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকে। এর মাঝেও দুই একটি ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ঘটনাগুলোর সাথে যারা জড়িত তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। বেআইনি কাজে জড়িত যেই হোক তার রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
২ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফৃ-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এর মাধ্যমে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন-ফৃ-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোন ধরণের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মি. পল ফ্রস্ট-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হক। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে এই মতিবিনিময় হয় বলে জানান চট্টগ্রাম চেম্বারের গণসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মোকাম্মেল হক। মতবিনিময়ে চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন-যুক্তরাস্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাস্ট্র। তাই দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা উপযুক্ত সময় এখনই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে যুক্তরাস্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লে উভয়দেশের জন্য লাভজনক হবে। একই সাথে তিনি যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ব্যবসা, সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে অবদান রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন-উভয়দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালের অবকাঠামোগত খাতে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান। চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফৃ-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এর মাধ্যমে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বলেন-ফৃ-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোন ধরণের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। চেম্বার সভাপতি বলেন-বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চায়। এক্ষেত্রে যুক্তরাস্ট্রের সাথে উইন উইন ভিত্তিতে কাজ করতে চায়, যেখানে উভয়দেশই সমানভাবে লাভবান হবে।ডেপুটি পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন-যুক্তরাস্ট্র বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে কাজ করছে। তিনি বলেন-বাংলাদেশে অনেক মার্কিন কোম্পানি রয়েছে। আবার অনেক কোম্পানি পণ্য বিক্রয় করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে তবে উভয়দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট আরও বলেন-আজকের এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাস্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রমোট করা। যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা জানতে চাওয়া আজকের এই আলোচনার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স এর সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাস্ট্র সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিডার সাথে কাজ করছে। তিনি যেকোন বিনিয়োগের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, ডেপুটি পলিটিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর মি. ডেভিড মু ছাড়াও মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব ও রাহবার এ আনোয়ার, ইতালির অনারারী কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, বিএসআরএম’র গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসি’র এসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ।বক্তারা বলেন-বাংলাদেশে উৎপাদনশীল খাতের প্রযুক্তি এবং মেশিনারীজ খাতে যুক্তরাস্ট্রের পণ্যের সুনাম রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সামিটে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীরা যদি অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে উভয়দেশের নিজেদের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশের এগ্রো সেক্টর এবং সরকার ঘোষিত বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কটন ও ম্যানমেইড ফাইবার খাতে যুক্তরাস্ট্রের বিনিয়োগের আহবান জানান। একই সাথে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাস্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যুক্তরাস্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিল অফিস স্থাপন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বিনিয়োগ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সিডিএ’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দূতাবাসের পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এস. এম. সাইফুল আলম, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মোঃ আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোঃ গোলাম সরওয়ার, মোঃ জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এ. এস. এম. ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মোঃ সেলিম নুর, সাবেক পরিচালক ডাঃ মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী, জহুরুল হক সেলিম, মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উইম্যান চেম্বারের সভাপতি আবিদা মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ’র মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও রিটজি গ্রুপ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা মোঃ জামশেদ আলী।
২ মাস ১৭ দিন আগে
ট্যাক্স দেয় না সরকার। খোদ ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে আটকে আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স। এর মধ্যে রেলওয়ে, গণপূর্ত, শিক্ষা ও সওজে আটকে আছে প্রায় ১৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা গৃহকর। পরিমাণটা আরও ডাবল হত যদি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ রিপোর্ট লেখার আগের দিন ২৯ জুন সোমবার বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা পরিশোধ না করত। তাহলে কি শুধু খেটে খাওয়া মানুষের পকেট কাটতেই সরকারি ট্যাক্স? যার উত্তর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টাকার অভাবে চসিকও নিয়মিত নাগরিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনাা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন কার্যক্রম ও কর্মচারীদের বেতন ঠিকমত দিতে পারছে না। তবে ১৯৭ কোটি টাকা বকেয়া গৃহকর আদায়ে ২৫ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। যার একটি সূরাহা শীঘ্রই মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চসিকের রাজস্ব বিভাগের নথির তথ্যমতে, মোট ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পাওনার সিংহ ভাগই আটকে আছে মাত্র চারটি বড় মন্ত্রণালয়ের কাছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেনাদার হলো রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট পাওনা ১১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স আটকে আছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। পাওনা প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া ট্যাক্স আটকে আছে শিখা খাতে, যা প্রায় ১৫ কোটি টাকা। চতুর্থ বড় ট্যাক্সদাতা হচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর। তাদের কাছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বাকি ২১টি মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চসিকের আয়ের মূল উৎস পৌরকর। এই টাকা থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, আবর্জনা অপসারণ, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের সিংহভাগ ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তবে পৌরকর আটকে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এর অধীন সরকারি দপ্তরগুলো চসিকের এই বিশাল অঙ্কের কর পরিশোধ করতে যাচ্ছে না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনও। তিনি বলেন, চসিক ও রেলওয়ে দুটোই সরকারি প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে গৃহকর অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। এদিকে চসিকের সবেচেয়ে বড় অঙ্কের গৃহকর বকেয়ার তালিকায় ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা। যা ২৯ জুন সোমবার চেকের মাধ্যমে এই ট্যাক্স পরিশোধ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চেক গ্রহণ করর পর চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একক কোনো খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের নজির স্থাপিত হয়েছে। এটি শুধু একটি রাজস্ব আদায় নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য কর আদায়ের উদ্যোগ নেন।তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন বন্দরের কাছ থেকে কোনো ধরনের কম্পেনসেশন চার্জ গ্রহণ করে না। অথচ বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ টন ধারণক্ষমতার ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের নির্মিত সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কারেই অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই বন্দরের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং আইনি ভিত্তিতে নির্ধারিত ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্সই দাবি করা হয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপৃল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে উভয় প্রতিষ্ঠানের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন (জয়েন্ট অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালিত হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন স¤পন্ন হয়। যৌথ মূল্যায়নে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করায় এটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলেও সিটি করপোরেশন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সিটি কর্পোরেশন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মেয়র জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে চসিকের মোট প্রায় ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া প্রায় ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং চলতি অর্থবছরের দাবি প্রায় ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকারের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই আমরা এই চিঠিগুলো পাঠিয়েছি, যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের বার্ষিক বাজেটে চসিকের এই পৌরকর পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে পারে। যেভাবে আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের পেছনে লেগে থেকে ন্যায্য পাওনা আদায় করেছি। একইভাবে এই ২৫টি মন্ত্রণালয়ের বকেয়া টাকা আদায়েও আমি শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাব। চসিকের রাজস্ব শাখার মতে, হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে সিটি করপোরেশন তার নাগরিকসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও স্বাভাবিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এতে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সরকার শুধু নেয়, দেয় না তেমন কিছুই। হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না করা তারই প্রম্যাণ বহন করে। তিনি বলেন, দেশের অন্য সিটি করপোরেশনেও হয়তো সরকারের ট্যাক্স আটকে আছে। এতে বুঝা যায়, সরকার শুধু খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্যই ট্যাক্স আরোপ করেছে। খোদ সরকারই ট্যাক্স পরিশোধ করে না। যা অত্যন্ত দূ:খজনক।
২ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিচালক এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে বন্দরনগরীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে। ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ, শ্রমিক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে আসছে এনামুল করিমের নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান সবখানেই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি সদ্য এলপিআরে যাওয়া ক্ষমতাধর কর্মকর্তা এনামুল করিম। এমন অভিযোগ বন্দর সংশ্লিষ্টদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিপিং এজেন্ট মেসার্স ইউনিবেঙ্গল কনটেইনার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও সব নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ছাড়পত্র দেন এনামুল করিম। এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব চরম ঝুঁকিতে পড়ে।এই বড় অঙ্কের অনিয়ম নজরে এলে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ করে বন্দরের মাশুল বা রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন এনামুল করিম। আর সেই অর্থ দিয়ে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।গত ৪ জুন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বন্দরের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র তলব করা হয়েছে। আর এই কর্মকর্তার দুর্নীতির খতিয়ান এখানেই শেষ নয়। ২০১৯ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও ১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রহস্যজনক ফাইল গায়েবের অলৌকিক ইশারায় তাঁর পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, অদ্যাবধি সেই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। রহস্যজনকভাবে থমকে আছে সেই ফাইল।এছাড়া বন্দরের সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও এনামুল করিমের পকেটে বন্দি। প্রতিটি নিয়োগের পেছনে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য হয়। এই বিশাল টাকার খেলা এক হাতে সামলান না তিনি। বন্দরে তাঁর একটি নিজস্ব ক্যাডার ও সহযোগী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে নাম এসেছে-বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি মীর নওশাদ, বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর. বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল চৌধুরী। প্রভাবশালী এসব নেতাদের ছত্রছায়ায় বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের খাটিয়ে ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এনামুল করিম। অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুল করিম বর্তমানে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক! এই বিশাল অর্থের একটি বড় অংশ তিনি পাচার করেছেন ইউরোপে। দেশের ভেতরেও বিভিন্ন বেনামে বড় বড় বিনিয়োগ করে রেখেছেন।বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি প্রধান প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে পরিবহন বিভাগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জাহাজ বার্থিং (ভেড়ানো), লাইসেন্স প্রদানসহ বন্দরের মূল চালিকাশক্তি এই বিভাগ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এই বিভাগের প্রধান (পরিচালক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনামুল করিম। তবে অভিযোগ রয়েছে, শুধু পরিচালক হওয়ার পর থেকেই নয়, বন্দরে যোগদানের পর গত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই পরিবহন বিভাগের সব ধরনের অবৈধ লেনদেন ও সিন্ডিকেটের চাবিকাঠি তাঁরই হাতে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এনামুল করিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাজনৈতিক পরিচয় বদল করেন। কখনো নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ওবায়দুল কাদেরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে জাহির করেন। আবার রাজনৈতিক হাওয়া বদল হলে মুহূর্তেই জামায়াত-বিএনপির কট্টর সমর্থক সেজে যান। আবার নির্বাচনের পর বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি সেজে যান। রাজনৈতিক ভোলবদল ও প্রভাবশালী মহলের ব্যাকআপের কারণেই বছরের পর বছর সুরক্ষিত থাকে এনামুল করিমের চেয়ার। এমনকি থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুদকের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি করে মোট চারটি দুর্নীতির মামলা চলছে। মামলার প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র আমাদের হাতে এসেছে। বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই বিষয়ে মতামত নিতে এলপিআরে থাকা এনামুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি ফোন নাম্বারের হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনও বন্ধ পাওয়া যায়।
২ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত রূপসী কর্ণফুলী নদীর পাড় হতে যাচ্ছে যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত। এই পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে দীর্ঘ সাড়ে ৮ কিলোমিটার আউটার রিং রোড। যা মূলত জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই আউটার রিং রোড চালু হতে আর মাত্র ১০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের মূল কাজ শেষ করা। ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে পারব। জমি অধিগ্রহণের অর্থায়ন নিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, যা আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করে ফেলেছি।সিডিএর তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে মোহরা পর্যন্ত বিস্তৃত সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটি চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই মেগা প্রকল্পের সমাপ্তি বন্দরনগরীর আবাসন, পর্যটন ও শিল্পখাতে বিনিয়োগের এক অভূতপূর্ব দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণশৈলী ও নান্দনিক রূপ দেখতে এখনই প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় করছেন নদীর পাড়ে।সড়কের বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, একপাশে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে চলা ছোট-বড় নৌকা ও বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজের সারি, আর অন্যপাশে চিরসবুজ প্রকৃতির বুক চিরে চলে গেছে মসৃণ পিচঢালা পথ। শীতল হাওয়া আর নদীর কলতানের এই মেলবন্ধন চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ ভৌত অবকাঠামোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সড়কটি চালু হলে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে কালুরঘাট এলাকা থেকে কর্ণফুলী সেতুতে পৌঁছাতে যেখানে তীব্র যানজটের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়, এই রিং রোড ব্যবহার করে সেই দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটে নেমে আসবে। এছাড়া কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে সড়কটি উত্তর চট্টগ্রামের সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করবে।যোগাযোগের পাশাপাশি এই রিং রোডকে ঘিরে পর্যটনের এক বিশাল ক্যানভাস তৈরি করছে সিডিএ। নদীর তীরবর্তী ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে 'কর্ণফুলী রিভারভিউ পার্ক'। যেখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আধুনিক ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ, ডেডিকেটেড সাইকেল লেন এবং নদী দেখার জন্য বিশেষ বসার গ্যালারি।অন্যদিকে নদীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু করে নির্মিত এই শক্তিশালী সড়কটি চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অভিশাপ 'জলাবদ্ধতা'র বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ বা প্রতিরোধক দেয়াল হিসেবে কাজ করবে। ফলে জোয়ারের পানি ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও মোহরার মতো নিম্নাঞ্চলগুলো। সড়কটির কল্যাণে একসময়ের অবহেলিত ও অনুন্নত এই বিশাল অঞ্চলটি এখন আধুনিক বাণিজ্যিক ও আবাসন জোনে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।তবে সড়কটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন যেমন ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট কোনো টার্মিনাল নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন বেনাপোল থেকে আসা চালকদের বিশ্রামের জন্য এবং পণ্যবাহী গাড়িগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করার জন্য এই রিং রোডের পাশে যদি সরকার একটি আধুনিক ও বড় টার্মিনাল স্থাপন করে, তবে এটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিডিএ। দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি, আর্থিক ও কাঠামোগত অপেক্ষা শেষে চার লেনের এই দৃষ্টিনন্দন আউটার রিং রোডটি চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও আধুনিক যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। একইসাথে রূপসী কর্ণফুলীর পাড়ে যোগ করবে এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতা।
২ মাস ২৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় যখন বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম ঘুরে ফিরে আসছে, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠেছে দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর ‘রেড সী গেইটওয়ে’ কী করেছে। সৌদিআরবভিত্তিক এ অপারেটর প্রতিষ্ঠান গত আড়াই বছর ধরে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মনাল (পিসিটি) পরিচালনা করছে। এই সময়ে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব এনসিটি পরিচালনায় আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ে বিরোধীতাকারীরা। এ বিষয়ে বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতা ইব্রাহিম খোকন বলছেন, ‘রেড সী’র সঙ্গে এক কনসেশন চুক্তিতে আমরা ধরা খেয়েছি। আবারো একই ভুল আমরা এনসিটিতে করতে চাই না।’ সে কারণে আমরা এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে ইজারায় বিরোধীতা করছি। ইব্রাহিম খোকন বলেন, সৌদি আরবে বিপুল প্রবাসী শ্রমিকের চাকরি নিশ্চয়তার অজুহাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সৌদি আরবের একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে এই পিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। তখন বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত, দক্ষতা বাড়ানো, অতিমাত্রায় গতিশীলতার কথা বলেছিলেন তখনকার মন্ত্রীরা। কিন্তু বাস্তবে বন্দরের জিসিবির মতোই ধীরগতি দক্ষতা দেখাচ্ছে এখন পিসিটি।কনসেশন চুক্তির কারণেই টার্মনাল পরিচালনার প্রায় সব শর্ত গোপন রাখা হয়েছে। যেটাকে বলা হয় নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ)। কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী পুরো টার্মিনাল একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করবে। সব ধরনের আয় ও মাশুল তারা সংগ্রহ করবে। এ আয় থেকে চুক্তি অনুযায়ী বন্দরকে তার পাওনা পরিশোধ করবে। এতে পিসিটিতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ খুব একটা নেই। কিন্তু এনসিটি, সিসিটি এবং জিসিবির ক্ষেত্রে বন্দর নিজেই সব মাশুল আদায় করে। আর দেশীয় অপারেটরদের চুক্তি অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করে বন্দর।সূত্র মতে, বিদেশি এ অপারেটর চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর পিসিটি পরিচালনার চুক্তি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপিয়ে দেয়া সেই কনসেশন চুক্তি নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক। আড়াই বছরে দেশি অপারেটরের তুলনায় কতটা গতিশীল হলো তারা। লক্ষ্যমাত্রার কতটা পূরণ করতে পেরেছে। এই সেবা বন্দর ব্যবহারকারীরাই বা কতটা সন্তুষ্ট। এসব আলোচনা এখন প্রাসঙ্গিক।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রথম বিদেশি এ অপারেটর পিসিটিতে কতটা সফল। তাদের এ সাফল্যের ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে।নিজস্ব ফান্ডের ১২শ কোটি টাকায় পিসিটি নিজেরাই তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু সেখানে যন্ত্রপাতি সংযোজন করেনি। অবস্থানগত দিক থেকে এনসিটির আগে পিসিটি। বঙ্গোপসাগর থেকে কর্ণফুলীর নদীর মোহনা পেরিয়ে প্রথমে পিসিটি সেকারনে এর অবস্থান ভালো। এই টার্মিনালে তিনটি কন্টেইনার পণ্য নামানোর জেটি আছে। রয়েছে তেলের জাহাজ ভেড়ার ডলফিন জেটিও।চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা। চুক্তির শুরুতে কনসেশন ফি ১৮.৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বন্দরকে। ইতোমধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে।২২ বছর মেয়াদি চুক্তির ২ বছর পার হলেও পণ্য উঠানামার সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্র ‘কী গ্যান্ট্রি ক্রেন’ যুক্ত করতে পারেনি রেড সী। ফলে তাদের পারফরম্যান্স এখনো এনসিটি-সিসিটির স্টান্ডার্ডে পৌঁছেনি। কী গ্যান্ট্রি ক্রেন না থাকায় ক্রেনবিহীন বা গিয়ারলেস জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারছে না। এতে বিশ্বমানের পণ্য উঠানামার সেবা এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে।এসব বিষয় জানতে রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী এরউইন হেজিকে প্রশ্ন পাঠিয়ে ইমেইল করা হয়। কোন সাড়া দেননি। পরে হেড অফ কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ খুরশিদের সাথে ফোনে কথা বলে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয় ব্যক্তিগত নাম্বারে। তাকে তাগাদা দিলে উত্তর দেয়ারও আশ্বাস দেন। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরেও জবাব দেননি তিনি। ১৬ জুন সকালে তাকে পুনরায় উত্তর দেয়ার তাগাদা দিলেও কোন সাড়া মিলেনি।শিপিং ও লজিস্টিক সেক্টরে ৩৮ বছরের অভিজ্ঞ এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানালেন, ‘তাদের অফিস পরিবেশ যতটা স্মার্ট, সার্ভিস অতটা সন্তোষজনক না। তারা শুধু মায়ের্সক লাইনকে সেবা দিচ্ছে। অন্যদের জন্য সেবা দিতে না পারলে সেটি তো আর বন্দর থাকলো না। মায়ের্সক টার্মিনাল হয়ে গেলো। এতে ট্রেডের উপকার হলো না।’বন্দরের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচমাসে পিসিটিতে মোট কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার একক। এরমধ্যে ৩১ শতাংশই খালি কন্টেইনার। ৫০ শতাংশ আমদানি কন্টেইনার। ১৯ শতাংশ রপ্তানি কন্টেইনার। প্রতিমাসে এখন ১১/১২টি কন্টেইনার জাহাজ পিসিটিতে ভিড়ে আর গড়ে ২৮ হাজার ৭১১ একক কন্টেইনার উঠানামা হয়। কিন্তু বছরে ৫ লাখ একক কন্টেইনার উঠানামার লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে হলে মাসে গড়ে ৪১ হাজার ৬৬৬ একক কন্টেইনার উঠানামা করতে হবে। সে হিসেবে কন্টেইনার উঠানামা লক্ষমাত্রা থেকে অনেক দুরে আছে বিদেশি এই প্রতিষ্ঠান।পিসিটিতে জাহাজ ভিড়া, জাহাজ উঠানামার দক্ষতা এখনো বন্দরের আধুনিক এনসিটি, সিসিটির মতো নয়। ফলে অন্যদের সাথে দক্ষতা তুলনার সুযোগ নেই। পিসিটির প্রেক্ষাপট বন্দরের অন্য যেকোন জেটি-টার্মিনালের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। পিসিটিতে এখনো কী গ্যান্ট্রি ক্রেন নেই। জাহাজের নিজস্ব ক্রেন দিয়ে পণ্য উঠানামা হয়; যেমনটা হয় বন্দরের সনাতন জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি)।পিসিটির তিনটি জেটিতে জাহাজ ভিড়ার নিয়মও অন্য জেটির চেয়ে ভিন্ন। বন্দরের অন্য জেটিতে বার্থং মিটিংয়ে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পিসিটির জন্য সেই নিয়মের বালাই নেই। এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাহাজ জেটিতে ভিড়ে, মিটিং পারমিশনের দরকার হয় না। শুধুমাত্র অবহিত করে। এই যে ভেড়ার বাড়তি বা বিশেষ সুবিধা পায় এমন সুযোগ বন্দরের অন্য কোন জেটি-টার্মিনালে এখনো কার্যকর হয়নি।বন্দরের বহিনোঙর থেকে পিসিটির দুরত্ব ১০ মাইল। আর এনসিটির দুরত্ব ১৬ মাইল। এনসিটির তুলনায় দুরত্ব কম থাকায় জ্বালানি সাশ্রয়ের সুবিধা পাচ্ছে তারা। এখানকার তিনটি জেটিতে সবচেয়ে বড় ড্রাফট বা গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। অন্য জেটিতে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার এনে তোলার সুযোগ থাকলেও পিসিটিতে এ কন্টেইনার এনে রাখতে হবে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে।পিপিপি কাঠামোয় কনসেশন চুক্তিতে এই রকম অসংখ্য অযৌক্তিক ‘বিশেষ সুবিধা’ রেড সী গেইটওয়েকে দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে অন্য অপারেটরদের সাথে তৈরি হয়েছে বৈষম্য। তাই আলোচিত এনসিটিতেও দুবাইভিত্তিক ডিপিওয়ার্ল্ডও একই কনসেশন সুবিধা চাইছে বন্দরের কাছে।
৩ মাস আগে
চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মী দশা থেকে ফেরাতে সংস্কার কাজের উদ্যোগে বেদিশায় পড়েছেন লুটেরারা। এর মধ্যে বন্দরের অভ্যন্তরীণ দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে জড়িত বহিরাগত সিন্ডিকেটও। যারা রাজনৈতিক বা বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়ে এই সংস্কার কাজের বিরোধীতা করে আসছেন। এমনকি দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বহিরাগতরা কর্মবিরতি কর্মসূচি দিয়ে বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ের। যারা এসব করছেন তারা দেশের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন মন্তব্য করেছেন বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগে সমর্থিত বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি চট্টগ্রামের ৯৯ ভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। কিন্তু সিন্ডিকেট চক্রের মতো সংঘবদ্ধ না থাকায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রামের মানুষের কথা কেউ শুনছে না। বন্দর সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি সমর্থিতদের ভাষ্য, সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতাকারীরা চট্টগ্রামের বাইরের লোক। যাদের বেশিরভাগ মাদারিপুর, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লাা ও নোয়াখালীর বাসিন্দা। যাদের বিরুদ্ধে বন্দর লুটে-পুটে খাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এরপরও সংঘবদ্ধ হয়ে হয়ে তারা বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতা করে আন্দোলন কর্মসুচি পালন করছে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল থেকে জেটি এবং বহিঃনোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজে নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে ২০০৮ সালের পর থেকে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর।এ সৃুবাধে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সুকৌশলে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংগঠেনের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছেমতো বন্দরের অর্থ ও সম্পদ লুটপাট করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার ছাড়, রপ্তানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার পাচার, কন্টেইনার চুরিসহ নানা কলাকৌশল করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব মেরেছে। আবার এই রাজস্ব বিদেশে পাচারও করেছে। যা নতুন অপারেটর নিয়োগে বড় ধরণের হোঁচট খাবে এই লুটেরা সিন্ডিকেট। যার কারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন অপারেটর নিয়োগে একাধিকবার দরপত্র প্রকাশ করলেও বন্দরে কর্মরত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছলচাতুরতায় কঠিন কিছু শর্তের কারণে নতুন কোন কো¤পানি এই খাতে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রতিযোগিতা না থাকায় সেবার মানে ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে অপারেটর সংখ্যা বাড়াতে। কিন্তু তার বিরোধীতা করছে লুটেরা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। সূত্র মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বন্দরে ২৩ প্রতিষ্ঠানকে অপারটের নিয়োগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে আরও ২৩ অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়। এখন বিএনপি সরকার পুনরায় নতুন অপারেটর নিয়োগে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার বিরোধীতা করছেন বর্তমান অপারেটররা। এমনকি অপারেটররা উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়। এই অবস্থায় নতুন অপারেটর প্রক্রিয়া শেষপর্যস্ত কতটা সফল হয় তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।তবে নতুন অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সচিব নাসির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। আগে যারা আবেদন করেছেন, এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তাদের নতুন করে আবেদনের দরকার নেই। আর কতজনকে দেয়া হবে সেটি কমিটিই নির্ধারণ করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলমান রাখবে বলে জানান তিনি। বন্দরের এই প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও ২৩টি দলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। এখন আবারো বিএনপিদলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা চলছে। ঢালাওভাবে লাইসেন্স দেয়া হলে এই কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।একইভাবে বিরোধীতা করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা একটি বিশেষায়িত কাজ। এখানে যন্ত্রপাতি এবং শ্রমিকদের সমন্বয়ে জটিল কাজ করতে হয়। এখানে নতুন-অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কত লাইসেন্স দেয়া প্রয়োজন সেটিও আগে নিশ্চিত হতে হবে, স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসতে হবে। আর অনভিজ্ঞরা কাজ পেলে বন্দরের এখনকার যে সেবা সেটি দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।আরেক শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, লাইসেন্সিয়ে একটির আবেদন ফি এক লাখ টাকা। আগে তিনশ আবেদন জমা পড়েছে। এখন আরো একশসহ মোট ৪০০ আবেদন জমা পড়লে বন্দর চার কোটি টাকা আয় করবে। পুরো টাকাই নন-রিফান্ডেবল। বন্দর কর্তৃপক্ষ এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার টন খোলা ও কন্টেইনারজাত পণ্য (কার্গো) উঠানামা করেছে। আর জেটি, টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে। পুরো কাজ করেছে ৪৬ অপারেটর। জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য উঠানামা, ইয়ার্ডে রাখাসহ নানা খাতে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কাগো বার্থের (জিসিবি) ১২ জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ করছে ১২ প্রতিষ্ঠান। দুটি টার্মিনাল চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টামিনাল (এনসিটি)তে কাজ করছে দেশি প্রতিষ্ঠান। আর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালতে (পিসিটি) কাজ করছে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বহির্নোঙর সাগরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর (লাইটারিং) কাজে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে কাজ করছে ৩৩ প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে ৪৮টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ বিষয়ে বন্দরের বার্থ অপারেটর পারভেজ আহমেদের বক্তব্য, লাইসেন্স দিলেই যে সবাই পণ্য উঠানামা বা অপারেটিংয়ের কাজ পাবে বিষয়টি এমন নয়। জেটিতে কাজ পেতে তো নির্দিষ্ট যোগ্যতা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সেটা যে প্রতিষ্ঠানের আছে সেই প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে। সুতরাং পূরনো যারা আছে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তারাই কাজ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
৩ মাস ২ দিন আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রাধিকার পেয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের উন্নয়ন। চট্টগ্রামের ছোট-বড় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিপরীতে রাখা হয়েছে মোট ১১ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার চট্টগ্রামের বরাদ্দ বাড়ল ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। বাজেটের নথি বিশ্লেষণে এ তথ্য মিলেছে নথির তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছর শেষে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কাটছাঁট করে নামিয়ে আনা হয়েছিল ৭ হাজার ২১৯ কোটি টাকায়। সেই সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছরে চট্টগ্রামের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।তবে সামগ্রিক বরাদ্দ বাড়লেও চট্টগ্রামের প্রধান চার উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে বরাদ্দের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় তারতম্য। চট্টগ্রাম বন্দর ও ওয়াসা পেয়েছে বিপুল বরাদ্দ। বড় ধাক্কা খেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ফলে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট সংস্কার, সড়ক বাতি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নাগরিক সেবাগুলো অর্থসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনালের মতো মেগা প্রকল্পের কারণে এবারও বরাদ্দের সিংহভাগ পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা প্রায় ৪ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। গতবার ৩ হাজার ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বছর শেষে পেয়েছিল মাত্র ৯৪৬ কোটি টাকা। নগরীরর স্যানিটেশন ব্যবস্থার মতো মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য ওয়াসাও পেয়েছে বড় অঙ্কের বরাদ্দ। গত বছরের ৮০৩ কোটি টাকার বিপরীতে এবার পেয়েছে ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। যা গতবারের চেয়ে ৬০৬ কোটি টাকা বেশি।এরপর ১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে। এছাড়া বেশি বরাদ্দ পাওয়া শীর্ষ প্রকল্পের একটি— মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (সওজ অংশ)। এই প্রকল্পের সড়ক ও জনপথ অংশের জন্যই রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মূল অংশের কাজের জন্য রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাতারবাড়ী বন্দরের জন্যই মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।শিল্পায়নে গতি আনতে মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে রয়েছে ৮০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা গতবারের চেয়ে ৭৪৭ কোটি টাকা বেশি। অবশ্য গতবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী প্রকল্পটি বছর শেষে বরাদ্দ পেয়েছিল সাড়ে ৪ কোটি টাকা।জলাবদ্ধতা ও ফ্লাইওভারের মতো মেগা প্রকল্প এখন শেষ পর্যায়ে। ফলে বেশ কমেছে সিডিএ’র বরাদ্দ। ছয়টি প্রকল্পে গত বছর ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পেলেও সিডিএ এবার পেয়েছে ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে ৩৮৬ কোটি টাকা কম। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চসিক। পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটিতেই পায়নি কোনো বরাদ্দ। নগরের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও বাতি লাগানোর জন্য চসিকের বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৭০০ কোটি টাকার জায়গায় এবার চসিক পেয়েছে মাত্র ৩৮০ কোটি টাকা, যা গতবারের চেয়ে ৩২০ কোটি টাকা কম। এরপরও ‘প্রত্যাশিত বরাদ্দ পাওয়ার’ কথা জানিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন। তিনি বলেন, সিডিএ’র বহুল আলোচিত জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পে এবার রাখা হয়েছে ৭৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা চট্টগ্রামের নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর প্রধান ভরসা। ওয়াসার চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা (১ম পর্যায়) মেগা প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা। কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণে ৬৯৭ কোটি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৬৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ।সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলছিলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ প্রকল্প শেষের পথে। যার কারণে বরাদ্দ কম মিলেছে। কারণ এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছাড় হয়ে গেছে।’
৩ মাস ৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ঠেকাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের পর এবার কোমড় বেঁধে নেমেছে লুটপাটের কারিগর খ্যাত সাইফ পাওয়ারটেক। তিন কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত নতুন দেশীয় প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় দেওয়া হয়েছে লোভনীয় প্রস্তাব। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য দুটি কোম্পানি হচ্ছে কসমস ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস। আর নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। এনসিটি যাতে কোনোমতেই হাতছাড়া না হয় এবং বন্দরের বিশাল রাজস্ব যাতে লুটপাট করতে পারে তার জন্য এমন কৌশল নিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। তবে তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে কেবল ডিপি ওয়ার্ল্ড এর প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে সরকার। যা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক গত ২০০৬ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনা হাতিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব চুরি ও পাচার করেছে। অর্ন্তবর্তী সরকার আসার পর এনসিটি পরিচালনা আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চাইলে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে সাইফ পাওয়ারটেক। প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে মাঠে নামিয়ে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মর্সূচি দিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটায়। যা এখনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর প্রতিষ্টান ড্রাইডক লিমিেিটড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে। এরপর থেকে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। এতে একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়ে সাইফ পাওয়ারটেক। ফলে নতুন গঠিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় লোভনীয় অফার দিচ্ছে। গত ২৮ এপৃল নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে টার্মিনাল পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয় সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। যা সম্প্রতি প্রকাশ পায়।এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নতুন প্রস্তাব এখনই সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যাচ্ছে না। কারণ এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই।তবে বন্দর সূত্র জানায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি অন্যান্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন এই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবও বিবেচনায় আসতে পারে।এনসিটি পেতে একের পর এক প্রস্তাবচট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক রাজস্ব আয় ৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা একাই জোগান দেয় এনসিটি। বন্দরের হৃৎপিন্ড হিসেবে পরিচিত এনসিটিতে মোট কন্টেইনার ওঠা-নামা করে ৪৫ শতাংশ। সবচেয়ে বড় জাহাজও ভিড়ে এই টার্মিনালে। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকায় ৪৮ ঘণ্টায় জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস শেষ হয়।সেই রেডিমেড টার্মিনাল পরিচালনা করতে একের পর এক প্রস্তাব দিচ্ছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তার সূত্রপাত হয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব থেকেই। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রথম প্রস্তাব আসে এই ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে। সেই প্রস্তাবে বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসলে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে উন্নীত হয়। আর এ নিয়ে শুরু হয় বন্দরে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আন্দোলন। কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচির মুখে বন্দর অচল হলে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার সেই চুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে সেই প্রক্রিয়া নীরবে এগোয়। ৪ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয় ডিপি ওয়ার্ডের প্রস্তাব নিয়ে নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে। সেই প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।যা আছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবে পিপিপি ও সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এতে টার্মিনাল পরিচালনা, মাশুল আদায় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব থাকবে এই অপারেটরের হাতে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে বন্দর নির্ধারিত রাজস্ব পাবে। সেই রাজস্ব কত হবে সেটি নির্ধারণ হবে আলোচনা সাপেক্ষে। তবে ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ম অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশের পুরো টাকাই বিদেশে নিয়ে যাবে।এ নিয়ে বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তার ভাষ্য, ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বমানের অপারেটর। বিশ্বজুড়ে শিপিং কানেকটিভিটি আছে তাদের। সে হিসেবে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে। সেই রাজস্ব নির্ধারণের এখন আলোচনা চলছে। বেশি আয় এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের পর গত ২৮ এপৃল দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর ভিত্তিতে প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতি কন্টেইনারে ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় পাঁচ ডলার বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। একইভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ২০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ গ্রুপ ২৫ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম ফি দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের ১.৫৪ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ-এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হবে প্রায় ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার।এমজিএইচ-এর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনিস আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেক স্তরেই আমরা বন্দরকে বেশি রেভিনিউ দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। এতে দেশ ও বন্দর লাভবান হবে। আমরাও ব্যবসা পাব। টাকাও দেশে থাকবে। পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল বিদেশি দিয়ে চালিত, আজ পর্যন্ত তারা চট্টগ্রাম পোর্টের সাথে অঙ্গীকার করা ৫০ শতাংশ প্রডাক্টিভিটি ডেলিভার করতে পারেনি। তারপরও আরেক বিদেশি অপারেটরের সাথে আলাপ, আমাদেরকে বাদ দিয়ে? সূত্রমতে, এমজিএইচ-এর নিজস্ব আইসিডি রয়েছে এবং ৭টি বিদেশি শিপিং লাইনের সাথে চুক্তি থাকায় প্রথম দিন থেকেই টার্মিনালে কন্টেইনার প্রবাহ নিশ্চিত থাকবে। স¤পূর্ণ দেশি মালিকানাধীন হওয়ায় এর লভ্যাংশ দেশেই পুনর্বিনিয়োগ হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবের পেছনেও সাইফ পাওয়ারটেকের হাত রয়েছে। আর অর্থ পাচারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস রাখা হবে আত্নঘাতি। কনোসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে শুভঙ্করের ফাঁকি নতুন কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই রাখার কথা বলা হয়েছে। তারা কেবল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ব্যয়ের দায়িত্ব নিতে চায়। জাহাজ ও কন্টেইনার সংশ্লিষ্ট সব ধরনের মাশুল আদায় করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিনিময়ে প্রতি কন্টেইনার পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ফি পাবে কনসোর্টিয়াম। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বন্দরের রাজস্ব আয় অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ বেসরকারি খাত বহন করবে। এতে বন্দরের আর্থিক চাপ কমবে এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাওয়া প্রস্তাবে প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬৯ ডলার পরিচালন মাশুল চাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দর প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনারে ৯২ ডলার মুনাফা করতে পারবে। এ ছাড়া জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল খাতেও কোনো ব্যয় করতে হবে না। যা এক ধরণের ফাঁদ বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। তবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দরের হাতেই থাকবে। ১৫ বছর ধরে জনবল, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা আমরাই করবো। কোনো ধরনের বিনিয়োগ না করেই বন্দর প্রতি কন্টেইনার ৯২ ডলার আয় করবে।কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, প্রতি একক কন্টেইনার পরিচালন থেকে বন্দর আয় করে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার, বিপরীতে ব্যয় ৫৬ দশমিক ১৫ ডলার। খরচ বাদ দিয়ে নিট আয় কন্টেইনার প্রতি ১০৫ দশমিক ৬৭ ডলার।তাহলে ১০৫ ডলার নিট আয় ছেড়ে কনসোর্টয়িামের প্রস্তাব কেন বন্দর বিবেচনা করবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফ পাওয়ারটেকের ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১৫ বছরে যন্ত্রপাতি সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন করতে বন্দরের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ থেকে বন্দর মুক্ত। আমরাই বন্দরের হয়ে সেটি বিনিয়োগ করবো।বন্দর ব্যবহারকারীদের মতামতবন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কন্টেনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কন্টেনারের প্রায় ৪৫ শতাংশ এই টার্মিনালেই হয়েছে। ফলে টার্মিনালটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।সূত্র মতে, এনসিটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সামনে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে। বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পিপিপি মডেল অথবা পরিচালন সেবাভিত্তিক দেশি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব থেকে যে মডেলই চূড়ান্ত হোক না কেন, তা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের দক্ষতা, সক্ষমতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
৩ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপকূলে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ হিসেবে ভাঙার জন্য আনা হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ২৯ বছরের পুরনো বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার ‘মেমেই’। জাহাজটি পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা জাহাজটি এখন আর ভাঙার জন্য শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না।বাধ্য হয়ে জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এস এন কর্পোরেশন। এ পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন এস এন কর্পোরেশনের মালিক চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ওরফে ‘ডিসকো শওকত’। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ এবং আরেক জাহাজ ‘ফ্লোরা’ দীর্ঘদিন ধরে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত। জাহাজ দুটির মালিক হংকং-ভিত্তিক ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’। এটা জানার পরও এস এন কর্পোরেশন তাদের সঙ্গে জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে কেনার চুক্তি করে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে এস এন কর্পোরেশন ও ডিসকো শওকতের জন্য। এ বিষয়ে জানতে এস এন কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী বারাকাত উল্লাহকে ফোন দিলেও সাড়া দেননি। পরে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখানে এস এন কর্পোরেশনের দোষ নেই। জাহাজটি বাংলাদেশ জলসীমায় পৌঁছার পরই এমন নিষেধাজ্ঞার খবর জানা গেছে। জানার পর জাহাজ দেশে আনলে হয়তো আইনী জটিলতা তৈরী হতো।আনাম চৌধুরীর ভাষ্য, জাহাজটি যেহেতু বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়নি, জাহাজ ভেঙে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির কথা ছিল, তাই জাহাজ ভেঙে ফেলাটাই ভালো সিদ্ধান্ত হতো। সেই ঝুঁকি হয়তো নেবে না বাংলাদেশ। জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত যাবে।আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে এস এন কর্পোরেশনে ভাঙার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।জাহাজটির লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনেজ (এলডিটি) ৯ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১ টন। দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি মূলত সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।কিন্তু চট্টগ্রামে পৌঁছানোর মাত্র ছয় দিন পর, গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মার্কিন নীতির অংশ হিসেবে নির্বাহী আদেশ ১৩৮৪৬-এর আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। শুধু এই জাহাজই নয়, এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এভার শাইনিং লিমিটেডের মালিকানাধীন আরেকটি জাহাজ ‘ফ্লোরা’ ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ১৪ বার ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বোঝাই করেছে প্রতিষ্ঠানটি জেনেশুনে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন বা বিপণনের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এ কারণে ‘মেমেই’ এবং ‘ফ্লোরা’কে এভার শাইনিং লিমিটেডের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেমেই’ জাহাজটির আনুমানিক স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমান। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক আগে জাহাজটি ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন জাহাজটি ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।নিষেধাজ্ঞার ফলে জাহাজ এবং এর মালিকের যেকোনো মার্কিন সম্পদ বা স্বার্থ জব্দ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে লেনদেনে যুক্ত বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপরও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা রয়েছে। একইসাথে চট্টগ্রামভিত্তিক এস এন কর্পোরেশনকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চট্টগ্রামভিত্তিক এসএন কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। কারণ এভার শাইনিং লিমিটেড এবং তাদের জাহাজ ‘মেমেই’ ও ‘ফ্লোরা’ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ্যে থাকার পরও এস এন কর্পোরেশন তাদের কাছ থেকে জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে কেনার চুক্তি করে।জাহাজটি কেনার পর নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে আনার আগে গত ১৭ মে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে এসএন করপোরেশন। অনুমোদনের পর ১৮ মে বিদেশি ক্রেতা প্রতিনিধির সঙ্গে এগ্রিমেন্ট হয় প্রতিষ্ঠানটির। ব্যাংক থেকে ঋণপত্র খোলা হয় ২১ মে। এরপর ২৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে জাহাজটি। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে জাহাজটি ভাঙার জন্য নিজেদের ইয়ার্ডে ভিড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এস এন কর্পোরেশন। এরইমধ্যে জানা গেল মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে জাহাজটি।
৩ মাস ১৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কোটি টাকার গার্মেন্টস কাপড় ভর্তি একটি কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনায় বন্দরের দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে বন্দর থানার পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন মিজানুর রহমান (৩৫)। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃসহকারী হিসেবে কর্মরত। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উলুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। অপরজন হলেন আবু সুফিয়ান (৪০)। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা। বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ তথ্য জানান বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে বন্দরের দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বন্দর সূত্র জানায়, চীন থেকে আমদানি করা গার্মেন্টস কাপড় ভর্তি একটি ৪০ ফুট কনটেইনার গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপৃলের মধ্যে কোনো একসময় বন্দরের জে আর ইয়ার্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কনটেইনারটির নম্বর টিসিএলইউ-৮৫৫৭৩০৪। এতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানিয়েছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড। সূত্রমতে, কনটেইনারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর সেটি জাহাজ থেকে খালাস করে ইয়ার্ডে রাখা হয়। শুল্ককর পরিশোধ শেষে কনটেইনারটি খালাস নিতে গেলে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা করা হয়। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতর থেকে একটি কনটেইনার উধাও হওয়ার ঘটনায় বন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিস্তর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩ মাস ২৮ দিন আগে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি জাহাজ থেকে চোরাইভাবে ডিজেল পাচারের সময় প্রায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করা হয়।রোববার (১০ মে) দিনগত রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার (৯ মে) রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর এলাকার ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কান্ডারী-৬’ জাহাজ থেকে ‘ওটি আজু শাহ’ নামের একটি অয়েল ট্যাঙ্কারে চোরাইভাবে ডিজেল পাচারের সময় প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাকারবারিদের ৯ জন সদস্যকে আটক করা হয়। পরে জব্দ করা ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষংয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (এডমিন) মো. ওমর ফারুক।
৪ মাস ৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কন্টেনারবাহী দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় যখন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছিল আমদানিকারকদের মাঝে। ঠিক তখনই ভেতরে ভেতরে মহা আয়োজনে জাহাজ দুটিকে বন্দরের এনসিটি জেটিতে এনে ভেড়ালো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমন সক্ষমতা বন্দরের জন্য একেবারেই নতুন। আমদানিকারকদের ভাষ্য, বন্দরের এমন সক্ষমতা আছে তা বিশ্বাস করতে পারছিলনা কেউ। সময় তখন রবিবার দুপুর আড়াইটা। খবর ছড়িয়ে পড়ে বহির্নোঙর থেকে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত জ্হাাজ দুটি বন্দরের এনসিটি জেটিতে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে। জাহাজ দুুটির কন্টেনারভর্তি পণ্য খালাসে আর কোন অনিশ্চয়তা নেই। আর এই খবর নিশ্চিত হওয়ার পর হাসি ফুটে আমদানিকারদের। শুধু হাসি নয়, আমাদের বন্দরের এমন সক্ষমতা আছে, যা ভাবতে গর্ব লাগছে। বললেন ফোর জুয়েল ডিষ্ট্রিবিউডর কোম্পাানি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আমিন শরীফ ও শাহজাহান শরীফ। তারা বলেন, বন্দরের এমন সক্ষমতার কথা আমাদের জানা ছিল না। এই সক্ষমতায় চট্টগ্রাম বন্দর অনন্য উচ্চতায় পৌছে যাবে বর্হিবিশ্বে¦, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে। রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যার দিকে এ বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহণ) এনামুল করিমের সাথে। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা ছিল জাহাজ দুটির। তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ দুটি হলো বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচআর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করা ছিল। জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য গত শুক্রবার বিকেলে বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা জাহাজ না এনে বন্দর ভবনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ দেখেছি। সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আর জাহাজ দুটির সংঘর্ষের পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয় আমদানিকারকদের মাঝে। এই সংশয় দূর করতে এবং পণ্য খালাস বিলম্ব হলে চরম আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় জাহাজ দুটি বন্দরে ভেড়াতে ভেতরে ভেতরে মহা উদ্যোগ গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের তথ্য মতে, রবিবার সকাল ১১টায় বন্দর থেকে বহির্নোঙরে রওনা দেন চারজন ক্যাপ্টেনের রেতৃত্বে একটি টিম। সেখানে তারা একটি টাগবোট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে সকাল ১১টা ৪০মিনিটে মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং এইচ আর তুরাগ বন্দরের এনসিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন কর্ণফুলী গ্রুপের জাহাজ হচ্ছে এইচ আর তুরাগ। সেটি চালাচ্ছিলেন, ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম ও মোহাম্মদ তানভীর রহমান। মায়েরস্ক চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং ক¤পানি মায়ের্সক লাইনের। চালাচ্ছিলেন বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আতাউল হাকিম সিদ্দিকী। তিনি জানান, ঝুঁকি এড়াতে বন্দরের নৌ বিভাগ বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রতি জাহাজেই আমরা দুজন পাইলট নিয়েছি। আমার সঙ্গে ছিলেন পাইলট আবুল খায়ের। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়েছে। এতে অন্তত ৪০ মিনিট বেশি সময় লেগেছে। বৈরি আবহাওয়া এবং উত্তাল সাগরের মধ্যে দেশের আমদানিকারকের স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ।ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম জানান, ১১টা ৬ মিনিটে বহির্নোঙর থেকে রওনা দিয় ১২টা ৫০ মিনিটেই আমরা জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়াতে পেরেছি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা ধীরগতি যেমন ৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চালাতে হয়েছে।মায়েরস্ক চট্টগ্রাম জাহাজে ১৮৭৮ কন্টেইনার বক্স আমদানি পণ্যভর্তি আছে। আর এইচ আর তুরাগ আছে এক হাজার একক কন্টেইনার। দুটি জাহাজই আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার নামিয়ে জেটি ছাড়বে। কিন্তু রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করবে না। কারণ দুটি জাহাজই এখন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অনুমতি নেই।জাহাজ পরিচালনাকারীরা বলছেন, জাহাজ ডকইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে মেরামত করা হবে। তদন্ত কমিটির অনুমোদন, ক্ষতি নিরূপন এবং সমুদ্রপাড়ি দেয়ার অনুমতি সনদ পাওয়ার পরই জাহাজে রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করতে পারবে।বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, জাহাজ দুটি ভেড়ানোর আগে রবিবার সকাল ১১টা থেকেই বন্দরের প্রবেশপথ মোহনা থেকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পর্যন্ত নৌপথে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুটি জাহাজকে তিনটি করে টাগবোট পাহারা দেয়। আশপাশে বাড়তি টাগবোট রাখা হয় স্ট্যান্ডবাই। এ দুটি জাহাজ ভিড়বে তাই রবিবার সকালে বন্দরের নির্ধারিত শিডিউলের জাহাজগুলোর আগেভাগেই বার্থিং শেষ করা হয়। একই সময় সাধারণ জাহাজের চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ভিটিএমএস থেকে ক্যামেরার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল তদারকি করেন বন্দর নৌ বিভাগের কর্মকর্তারা।এছাড়া বন্দরের নৌ বিভাগ, বার্থ অপারেটর ও শিপিংলাইনের প্রায় ৪০ জন অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হয়। নিকট অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরে এভাবে জাহাজ ভেড়ানোর নজীর নেই বললেই চলে। কারণ একসঙ্গে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও নেই।স্বাভাবিক সময়ে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু দুটি জাহাজই শুক্রবার সকালে বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগে পর¯পরের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল স্বাভাবিকভাবে দুটি জাহাজ জেটিতে আনা সম্ভব ছিল না। তাই বিশেষ বিবেচনায় অনুমতি নিয়ে জাহাজ দুটি ভেড়ানোর এ আয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম বলছেন, দুটি জাহাজেই অনেকগুলো আমদানি কন্টেইনার শুক্রবার থেকে আটকা পড়েছিল। বেশিদিন আটকে থাকায় আমদানিকারকের উদ্বেগ বাড়ছিল। আবার বহির্নোঙরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে কন্টেইনার স্থানাস্তরের সুযোগ নেই। দুদিন আটকে থাকায় দেশের অর্থনীতির ক্ষতি বিবেচনায় আমরা বিশেষ বিবেচনায় জাহাজ দুটি জেটিতে আনার সিদ্ধান্ত নিই।গত শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটি আমদানি কন্টেইনার নিয়ে বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে পর¯পর ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবার সকাল পর্যন্ত জাহাজ দুটি সেখানেই ছিল। জাহাজ দুটিতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়ে। যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছিলেন আমদানিকারকরা। এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।
৪ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনারবাহী দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজ দুটির নিচের অংশে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। ফলে জাহাজ দুটি থেকে পণ্য খালাস নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন আমদানিকারকরা। রবিবার (৩ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহণ) এনামুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা ছিল জাহাজ দুটির। তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ দুটি হলো বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচ আর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করে আছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপদ চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এগুলোকে জেটিতে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারকরা। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।এদিকে জাহাজ দুটির সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।সূত্র আরও জানায়, জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য শুক্রবার বিকেলে বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা আর জাহাজ না এনে বন্দর ভবনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, মায়েরস্ক চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়েরস্কর। এইচ আর তুরাগ হচ্ছে দেশি কো¤পানি আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর এইচ আর লাইনের। বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইনের জাহাজের সাথে দেশীয় জাহাজের এমন দুর্ঘটনা বন্দরের জন্য নতুন করে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৪ মাস ১৫ দিন আগে

কাস্টমসের নিলাম পণ্যের ভাগ চায় চট্টগ্রাম বন্দর। ইতোমধ্যে এই হিস্যায় ১৬৭ কোটি টাকা দাবি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্ধ শতাধিক চিঠি দিলেও কর্ণপাত করছেন নাা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও আলোচিত হয়েছে। তাতেও কোন সুরাহা না মেলায় বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বছরের পর বছর ধরে বন্দরের জায়গা দখল করে পড়ে থাকা পণ্যগুলো নিলাম হলেও পুরো টাকা জমা হয় কাস্টমসে। বন্দরের জায়গা ব্যবহারের মাশুল হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাকার একটি ন্যায্য হিস্যা দাবি করে আসছে অনেকদিন ধরে।কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি হয় সেগুলোর অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়। চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া এই অর্থ বের করে বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এতে সরকারের সম্মতিসহ অনুমোদন লাগে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ বলে মন্তব্য করেন তারা। বন্দর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিলামে বিক্রিত পণ্যের উপর আমাদের হিস্যাটা আইনগতভাবে স্বীকৃত। এটি আমাদের পাওনা। তারা পণ্য নিলামে বিক্রির সময় দুটি পে–অর্ডারের (একটি কাস্টমস ও অন্যটি বন্দর কর্তৃপক্ষ) মাধ্যমে পরিশোধ করলে এমন জটিলতা তৈরি হতো না। এই ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বন্দরের পাওনা প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বন্দরের তথ্যমতে, বিশ্বের নানাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়ে থাকে। এসব পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক ডেলিভারি না নিলে নিলামের জন্য কাস্টমসকে চিঠি দেয়া হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাচাই–বাছাই করে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অনেক সময় মামলা ও নিলাম প্রক্রিয়া যথাযথ সময়ে করতে না পারলে কিছু পণ্য ধ্বংসও করা হয়। তবে অপচনশীল বেশিরভাগ পণ্য নিলামে বিক্রি হয়। পচনশীল পণ্যগুলোর মধ্যেও যেগুলোর গুণগত মান ভালো থাকে, যেমন খেজুর, কমলা, আঙুর, আপেল ও মাল্টা এগুলো প্রায়ই নিলামে বিক্রি হয়ে থাকে।অন্যদিকে গাড়ি ও বিভিন্ন লৌহজাতসামগ্রী নিলামে বিক্রি হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পণ্য নিলাম করে থাকে। আবার নানা ধরনের জটিলতায় বহু পণ্য বন্দর থেকে খালাস করা হয় না। এসব পণ্য বছরের পর বছর বন্দরের ইয়ার্ড দখল করে পড়ে থাকে।সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি করে সেগুলো নিলাম গ্রহিতা চালানগুলো অর্থ পরিশোধ করে খালাস করে নিয়ে যান। বন্দর এসব পণ্য থেকে কোন অর্থ আদায় করতে পারে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো মধ্যে এফসিএল (পুরো কন্টেনার একজন আমদানিকারকের) কন্টেনার থেকে নিলামে বিক্রয়লব্ধ অর্থের ২০ শতাংশ এবং এলসিএল (একাধিক আমদানিকারকের পণ্যবোঝাই) কন্টেনার পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১৫ শতাংশ অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রদানের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাস্টমস পণ্য নিলাম করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা করলেও বন্দরের হিস্যা প্রদান করা হচ্ছে না। গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নিলামে বিক্রিত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিস্যা বাবদ ১৬৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ টাকা পাওনা হয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় পত্র দিলেও এই ব্যাপারে কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোন সাড়া দেয়া হচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সভায় উল্লেখ করা হয়। বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত ৬০টির বেশি চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব চিঠির ব্যাপারে কোন সাড়া দেয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
৪ মাস ২৬ দিন আগে