চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কোটি টাকার গার্মেন্টস কাপড় ভর্তি একটি কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনায় বন্দরের দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে বন্দর থানার পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন মিজানুর রহমান (৩৫)। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃসহকারী হিসেবে কর্মরত। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উলুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
অপরজন হলেন আবু সুফিয়ান (৪০)। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা। বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ তথ্য জানান বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে বন্দরের দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, চীন থেকে আমদানি করা গার্মেন্টস কাপড় ভর্তি একটি ৪০ ফুট কনটেইনার গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপৃলের মধ্যে কোনো একসময় বন্দরের জে আর ইয়ার্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কনটেইনারটির নম্বর টিসিএলইউ-৮৫৫৭৩০৪।
এতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানিয়েছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড।
সূত্রমতে, কনটেইনারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর সেটি জাহাজ থেকে খালাস করে ইয়ার্ডে রাখা হয়। শুল্ককর পরিশোধ শেষে কনটেইনারটি খালাস নিতে গেলে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা করা হয়।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতর থেকে একটি কনটেইনার উধাও হওয়ার ঘটনায় বন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিস্তর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।