চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৭ ভরি (৪২৭ গ্রাম) ওজনের ৯টি অবৈধ স্বর্ণেরবারসহ তামিম আনসারী নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। স্বর্ণেরবারগুলো তার অন্তর্বাসের ভেতর পেস্ট আকারে লুকানো ছিল।শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারজাহ থেকে এয়ার আরাবিয়ার জি-৯-৫২৬ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসে ওই ভারতীয় ওই নাগরিক। তিনি ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা।শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেলে তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ পেস্ট আকারে লুকিয়ে রাখা ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা স্বর্ণের পরিমাণ ৪২৭ গ্রাম, যা বাংলাদেশি হিসাবে প্রায় ৩৭ ভরি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের চালান বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বর্ণ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত আটক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা রয়েছে।মামলা শেষে তাকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে বলে জানান বিমান বন্দরের এই কর্মকর্তা।
১ মাস ১৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি দল বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-১৪৮ এ আগত যাত্রী মোহাম্মদ সোহেলের সঙ্গে থাকা তিনটি ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়।তল্লাশিতে মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫০ কার্টন এবং ইচ্ছে লাইটস ব্র্যান্ডের ৮৫ কার্টনসহ মোট ২৩৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা সিগারেটগুলো ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে চট্টগ্রাম আইসিডি কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা সিগারেটগুলোর শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৬৫ লাখ টাকা। পণ্যটির মোট করভার (টিটিআই) ৬২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ ঘটনায় প্রচলিত কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) বা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের যাত্রা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই প্রকল্প চালু হলে অবকাঠামোসহ সব মিলিয়ে এখানে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ এই অঞ্চলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজ এখানে যে বিনিয়োগের সূচনা হলো, তা ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য, তার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যে এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলেছি, এটি তারই অংশ।অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হলেও, অবকাঠামোগত সবকিছু হিসাব করলে মোট বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এখানে ১ লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাক্সিক্ষত উন্নতি না করলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান শর্তই হলো স্থিতিশীল পরিবেশ ও নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি খাটাতে চান নিরাপদ ও অনুক‚ল পরিবেশে। যদি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম শঙ্কাও থাকে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দেশীয় উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে এগোবেন না।বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সিইআইজেডসহ দেশের সবকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন চীনা সড়ক এবং সেতু করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই ও চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন। তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করেন এবং এই প্রকল্প দ্রæত বাস্তবায়নে যৌথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভ‚মি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি ও ক‚টনৈতিক কর্মকর্তারা।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আনোয়ারায় এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোপুরি চালু হলে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রায় এক দশকের বেশি সময় স্থবির হয়ে থাকার পর এই চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) যাত্রা শুরু হলো আনোয়ারায়। যা দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।বেজার তথ্যমতে, ২০১৪ সালে এ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ও চীন। জমি অধিগ্রহণ স¤পন্ন হয় ২০১৬ সালে। তবে ডেভেলপার নিয়োগ, অর্থায়ন চ‚ড়ান্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি।গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি আসে। সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন বেজা ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির ডেভেলপার চুক্তি হয়।এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আনোয়ারার বেলচ‚ড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে এ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল।চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকের ভাষ্য, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পায়নের যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালিত হয়ে আসছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ নিল। প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন)-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সূচিত হলো সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আনোয়ারা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত শিল্প হাব হওয়ার পথে। প্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়, এটি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার মান বদলে দেওয়ার চাবিকাঠি।
১ মাস ২২ দিন আগে
৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে ইন্সপেক্টর লেভেলের একজন এনবিআর কর্মকর্তা এসে অকারণে যন্ত্রণা দেয়, ঘুষ নিয়ে তারপর শান্ত হন। ওই শিল্পপতি তো মনোবল হারাবেন। চট্টগ্রামের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের মনোবল বাড়ানোর মতো ইন্সপেক্টর দরকার। এতে সরকারের রাজস্ব আরো বাড়বে।
২ মাস ১ দিন আগে
বাংলাদেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও ১৯টি স্থলবন্দরে বিদ্যমান মোট ২৯টি স্ক্যানারের মধ্যে ১৩টিই অচল বা নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ মোট স্ক্যানারের ৪৫ শতাংশ-ই বর্তমানে কাজ করছে না। কারণ বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম দামে নিম্নমানের স্ক্যানার সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া দেশের স্থলবন্দরের কয়েকটিতে এখনো স্ক্যানার বসানোই হয়নি। ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা— এনএসআইর এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। সেটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, স্ক্যানারের সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। স্ক্যানার অচলের ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানি হচ্ছেন, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অবৈধ পণ্য আসার ঝুঁকিও আছে। এগুলো ঠিক করা সরকারেরই দায়িত্ব। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের এসব ঠিক করতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য যাচাই ও যথাযথ রাজস্ব নিরূপণে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্যানার বসানো হয়। ফলে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ হয়, অন্যদিকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ, নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক পণ্য দেশে প্রবেশ করতে পারে না।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দুটি সমুদ্রবন্দর ও আটটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি সচল রয়েছে। সমুদ্রবন্দর দুটির মধ্যে চট্টগ্রামে ১০টি কনটেইনার স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ছয়টিই অচল। আর মোংলার দুটি ভেহিকল স্ক্যানারই অচল। আর স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে আইসিডি কমলাপুরে একটি কনটেইনার স্ক্যানার ও পানগাঁও বন্দরে একটি করে স্ক্যানার থাকলেও সেগুলো নষ্ট। বেনাপোলে চারটি লাগেজ স্ক্যানারের দুটিই নষ্ট। আখাউড়ার দুটি লাগেজ স্ক্যানারের একটি অচল। হিলির ছয়টি হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টরের ছয়টিই অচল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বড় বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার স্ক্যানারের ৬০ শতাংশ অচল। দুটি স্ক্যানার পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে এবং জিসিবি ১ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি একই বছরের আগস্ট থেকে অচল রয়েছে। এ ছাড়া কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি ডিসেম্বর মাসে প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেও অবকাঠামোগত কিছু ত্রুটির কারণে এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে সিপিএআর গেটের স্ক্যানারটি ঠিক থাকলেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ বন্দর কর্তৃপক্ষের স্ক্যানারটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু স্ক্যানার বন্দরের, আর কিছু স্ক্যানার কাস্টমসের। অচল স্ক্যানার সচল করতে অর্থ বরাদ্দ দিতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কাজ চলছে। তিনি বলেন, একটি স্ক্যানারের প্রতিমাসে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। যেগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, মেয়াদ বাড়াতে এনবিআর কাজ করছে। তবে বন্দর চাইলে সব স্ক্যানার তারা অপারেট করতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্দরকে আলাদা চার্জ দিতে হবে। এদিকে মোংলা সমুদ্রবন্দরে তিনটি লাগেজ স্ক্যানার ও দুটি আন্ডার-ভেহিকল স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভেহিকল স্ক্যানার দুটি অচল রয়েছে। ফলে বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গামী যানবাহনের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ বন্দরে এখনো কোনো কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করা হয়নি। কমলাপুর আইসিডিতে থাকা একমাত্র মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানারটি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে অচল রয়েছে। ফলে শতভাগ কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করতে হচ্ছে, যা পণ্য ছাড়ে সময় বাড়াচ্ছে এবং কাস্টমসের কার্যক্রমকে ধীর করছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার বেনাপোল স্থলবন্দরে স্থাপিত পাঁচটি ব্যাগেজ স্ক্যানারের মধ্যে দুটি অচল রয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এবং অপরটি ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে যাত্রী ও লাগেজের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া স্ক্যানার দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে তা দ্রুত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আবার বিজিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্ক্যানারও ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে অচল রয়েছে। এতে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্য ও যানবাহনের তদারকিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের (পিআইসিটি) স্ক্যানারটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে অচল। গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ পানগাঁও আইসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও স্ক্যানারটি সচল হয়নি। বর্তমানে স্ক্যানিং ছাড়াই ম্যানুয়াল পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্য ছাড় করা হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। শুধু তাই নয়, হিলি, সোনামসজিদ, তামাবিল, বুড়িমারী, সোনাহাট, গোবরাকুড়া, বিবিরবাজার, দর্শনা, বিলোনিয়া, ভোলাগঞ্জ, শাওলা, টেকনাফ, ধানুয়া-কামালপুর, বাল্লা, নাকুগাঁও বন্দরে স্ক্যানার নেই। ফলে এসব বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলেও রাজস্ব ঝুঁকি ও চোরাচালানের সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ক্যানার নষ্ট হলে মেরামত করতে দীর্ঘসময় লাগে। অচল স্ক্যানার মেরামতের খরচ বেশি বিধায় এনবিআর থেকে বরাদ্দ পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসব কারণে স্ক্যানারগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কনটেইনার স্ক্যানার উচ্চ প্রযুক্তির হওয়ায় এসব স্ক্যানারের খুচরা যন্ত্রাংশ দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। এগুলো চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করতে হয়। আর স্ক্যানার সরবরাহকারী দেশ-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি অনেক সময় নবায়ন করা হয় না বা নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয় না। এ কারণে নষ্ট হলেও মেরামত সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বন্দরের স্ক্যানার অচল থাকার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অবৈধ পণ্য যারা আমদানি করে, তারা সাধারণত আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে বা যোগসাজশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করে নেয়। ফলে এসব চালান অনেক ক্ষেত্রেই কাস্টমসে কার্যকরভাবে পরীক্ষা করা হয় না এবং দ্রুত বন্দর ছাড়িয়ে যায়। স্ক্যানার সচল থাকলেও এ ধরনের চালান সবসময় স্ক্যানিংয়ের আওতায় আসে না। বরং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রকৃত আমদানিকারকরাই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে অবৈধ পণ্য অনেক সময় নির্বিঘ্নে বের হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও সেটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে ঘটে, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির ফলে নয়। অচল স্ক্যানার মেরামত ও নতুন স্ক্যানার স্থাপনে এনএসআইর প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন বন্দরে স্থাপিত কনটেইনার স্ক্যানার মেরামতের দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা এড়াতে এনবিআরকে দ্রুত মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ, যন্ত্রাংশ ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দর, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, তামাবিল, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরে নতুন কনটেইনার বা কার্গো স্ক্যানার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে ক্রমেই বাড়ছে আমদানি পণ্য চৃুরি। গত ১০ মাসের ব্যবধানে দুটি চুরির ঘটনায় গায়ের হয়ে গেছে প্রায় ৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য। এর আগে এক চুরির ঘটনায় গায়েব হয়ে গেছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মুল্যের আমদানিকৃত কাপড়। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার, কাপড় চুরির পরও বন্দরের নিজস্ব ওরাকল সিস্টেমের রেকর্ড বলছে কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে সংরক্ষিত আছে, কিন্তু টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) ও সরেজমিন অনুসন্ধানে সেটির কোনো অস্তিত্বই মেলেনি। ইয়ার্ডটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ তথ্য জানান বন্দর থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুর রহিম। তিনি জানান, বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কাপড়ভর্তি কন্টেইনার পাচার হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। পণ্যগুলো কীভাবে বন্দরের বাইরে গেল এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তিনি জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর দশ মাসের মাথায় ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। ওই কন্টেইনারে প্রায় দুই কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমদানি করা কাপড় ছিল।সিল-স্বাক্ষর জাল করে রাতের আঁধারে সিস্টেমে অবৈধ এন্ট্রি দিয়ে বের করে নেওয়া হয়েছে কাপড়ভর্তি এই কন্টেইনার। এটিই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অল্প কিছু দিনের ব্যবধানে ঘটা দ্বিতীয় কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা। এর দশ মাস আগে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানি করা কাপড়ভর্তি আরেকটি কন্টেইনার গায়েব হয়ে যায়। যেখানে ৮০ লাখ টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হয়, যার এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। এই কন্টেইনারে প্রায় আড়াই কোটি টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। ঘটনায় সম্প্রতি বন্দর থানায় মামলা দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ৯ হিসেবে রুজু হয়, যাতে চুরির অভিযোগে পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওসি বলেন, যে ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনারটি গায়েব হয়েছে সেই ইয়ার্ডের ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও ক্রেন অপারেটর আবু সুফিয়ানকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া যে লং ভেহিকেলে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছে সেই গাড়ির হেলপার রুবেলকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে এবং দুলালকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গায়েব হওয়া আরেকটি কন্টেইনার নিয়েও চলছে তদন্ত।ওসি আবদুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ জুন হালিশহরের আব্বাসপাড়ার গলাচিপা এলাকা থেকে খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরেক ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে পাওয়া গেলে পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য স¤পর্কে জানা যাবে। পণ্যভর্তি কন্টেইনার গায়েবের ঘটনায় মামলাটি দায়ের করেন বন্দরের জেআর ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. আবদুল মান্নান। মামলার এজাহারে পরপর এই তিন ঘটনা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইয়ার্ড তদারকি ও কাগজপত্র যাচাই প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার গাজীপুরের মুয়াজ উদ্দিন টেক্সটাইল নামের একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে একটি ফেব্রিক্স পণ্যবাহী কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪এক্স৪০) আমদানি করেছিল। কন্টেইনারটি গত বছরের ৪ আগস্ট বার্থ অপারেটর বশির আহমেদ অ্যান্ড কো¤পানির মাধ্যমে বন্দরের সংরক্ষিত কন্টেইনার ও পণ্য রাখার জেআর ইয়ার্ডে রাখা হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল কন্টেইনারটি কায়িক পরীক্ষার পর দ্রুত ডেলিভারির জন্য জেআর ইয়ার্ডের অ্যাপ্রেইজ ক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স। দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও কন্টেইনারটির হদিস মেলেনি, পরে ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট বাতিল করা হয়।কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা এখানেই থেমে নেই। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে বন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। গায়েব হওয়া এই কন্টেইনারভর্তি কাপড়ের বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। কাপড়গুলো আমদানি করেছিল ঢাকার খিলক্ষেত সুপার মার্কেটের ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান।এজাহারে বলা হয়, ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. চীন থেকে ফেব্রিক্স পণ্যবাহী ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর কেওসিইউ-৪৮২৯৩৯৯) আমদানি করে। কন্টেইনারটি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের মাধ্যমে জাহাজ থেকে ডিসচার্জ করে চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) রাখা হয়। পণ্যবাহী এই কন্টেইনারটি গত ২৮ এপ্রিল কাস্টমসের পণ্য যাচাইয়ের জন্য অ্যাসাইনমেন্টভুক্ত ছিল, অর্থাৎ এই তারিখে কন্টেইনার নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু সিসিটি ইয়ার্ডের ডায়েরি থেকে জানা যায়, কন্টেইনারটির অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কন্টেইনারের অবস্থান জানতে গত ৬ মে টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ১০ মে সাইফ পাওয়ারটেক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়, গত ২১ জানুয়ারি কন্টেইনারটি জাহাজ থেকে নামিয়ে সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল এবং গত ১৭ মার্চ তা অনডেট অনচেসিস পদ্ধতিতে দ্রুত খালাস প্রক্রিয়ায় ডেলিভারির জন্য নির্ধারণ করা হয়। কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে (টিওএস) অনচেসিস হিসেবে ডেলিভারি দেখানো হয়েছে বলে টিওএসে সংরক্ষিত আছে। তবে একইসঙ্গে বন্দরের ওরাকল সিস্টেমে এখনো কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডেই সংরক্ষিত আছে বলে দেখানো হচ্ছে, অর্থাৎ বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারটির অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।এজাহারে আরও বলা হয়, টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের চিঠি পাওয়ার পর কন্টেইনারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। মামলার বাদী পরিবহন পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত হামিদুর রহমান বলেন, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের ৫০ নম্বর ক্রমিকের কপিতে থাকা সৈয়দ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি নামের সিলের জায়গায় ভুলভাবে সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি অ্যান্ড এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি লেখা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ডকুমেন্টে থাকা সই ও সিল তার নয়, এবং সব কাগজপত্র ও স্বাক্ষর জাল করে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপিতে থাকা পরিবহন পরিদর্শকের স্থলে থাকা টার্মিনাল ম্যানেজার দপ্তরের এফসিএল পরিবহন পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রিপারড বাইয়ের স্থলে থাকা উচ্চমান বহিঃসহকারী এমএইচ সিরাজীর স্বাক্ষরও তাদের নয়। কাগজপত্রে থাকা সিল ও স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) যাচাই করে দেখা যায়, বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন টিওএস সিস্টেমের আইডি ও পাসওয়ার্ড অবৈধভাবে ব্যবহার করে চলতি বছরের ১৭ মার্চ রাত আনুমানিক দুইটা ৫৪ মিনিটে কন্টেইনারের তথ্য টিওএস সিস্টেমে প্রবেশ করান। একই সময়ে কন্টেইনারটি টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তায় নামানো হয়। পরে কন্টেইনারটি বন্দরের গেট দিয়ে বাইরে বের করে নেওয়া হয়, তবে ঠিক কোন সময়ে এটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছিল, তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ১১ হিসেবে রুজু হয়, যাতে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়। এজাহারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।সন্দেহের তীর সাইফ পাওয়ারটেকের দিকেদ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ভূমিকা দ্বিমুখী চরিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। একদিকে কন্টেইনারের অবস্থান জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাবে প্রতিষ্ঠানটি যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সূত্র ধরেই কাগজপত্রের গরমিল ও জালিয়াতি প্রথম ধরা পড়ে। অন্যদিকে এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যে সময়ে বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন অবৈধভাবে অন্যের আইডি ব্যবহার করে রাতের আঁধারে টিওএস সিস্টেমে কন্টেইনারের তথ্য প্রবেশ করান, একই সময়ে সাইফ পাওয়ারটেকের নিজস্ব ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তাতেই কন্টেইনারটি নামানো হয়। অর্থাৎ একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার বন্দরের গেট পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় টার্মিনাল অপারেটরের কর্মী সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারের তথ্যে উঠে এসেছে, যদিও কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই কাজে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন তা এখনও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন তরফদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন উত্তর পাঠাননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নস্বল্প ব্যবধানে ঘটা একের পর এক কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রথম ঘটনায় একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরেই আসেনি, যা ইয়ার্ড পর্যায়ের নিয়মিত মজুত যাচাইয়ে গুরুতর অবহেলার বিষয়টি ওঠে আসে। দ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মতো ¯পর্শকাতর সিস্টেমে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে রাতের আঁধারে এন্ট্রি দেওয়া, একাধিক কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর জাল করা এবং বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারের অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য থাকার বিষয়টি সামনে আসায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথি যাচাই প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা (এনসিটি-সিসিটি) সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সার্বক্ষণিক নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকে। এর মাঝেও দুই একটি ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ঘটনাগুলোর সাথে যারা জড়িত তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। বেআইনি কাজে জড়িত যেই হোক তার রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
২ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফৃ-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এর মাধ্যমে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন-ফৃ-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোন ধরণের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মি. পল ফ্রস্ট-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হক। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে এই মতিবিনিময় হয় বলে জানান চট্টগ্রাম চেম্বারের গণসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মোকাম্মেল হক। মতবিনিময়ে চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন-যুক্তরাস্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাস্ট্র। তাই দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা উপযুক্ত সময় এখনই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে যুক্তরাস্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লে উভয়দেশের জন্য লাভজনক হবে। একই সাথে তিনি যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ব্যবসা, সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে অবদান রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন-উভয়দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালের অবকাঠামোগত খাতে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান। চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফৃ-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এর মাধ্যমে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বলেন-ফৃ-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোন ধরণের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। চেম্বার সভাপতি বলেন-বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চায়। এক্ষেত্রে যুক্তরাস্ট্রের সাথে উইন উইন ভিত্তিতে কাজ করতে চায়, যেখানে উভয়দেশই সমানভাবে লাভবান হবে।ডেপুটি পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন-যুক্তরাস্ট্র বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে কাজ করছে। তিনি বলেন-বাংলাদেশে অনেক মার্কিন কোম্পানি রয়েছে। আবার অনেক কোম্পানি পণ্য বিক্রয় করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে তবে উভয়দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট আরও বলেন-আজকের এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাস্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রমোট করা। যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা জানতে চাওয়া আজকের এই আলোচনার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স এর সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাস্ট্র সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিডার সাথে কাজ করছে। তিনি যেকোন বিনিয়োগের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, ডেপুটি পলিটিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর মি. ডেভিড মু ছাড়াও মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব ও রাহবার এ আনোয়ার, ইতালির অনারারী কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, বিএসআরএম’র গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসি’র এসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ।বক্তারা বলেন-বাংলাদেশে উৎপাদনশীল খাতের প্রযুক্তি এবং মেশিনারীজ খাতে যুক্তরাস্ট্রের পণ্যের সুনাম রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সামিটে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীরা যদি অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে উভয়দেশের নিজেদের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশের এগ্রো সেক্টর এবং সরকার ঘোষিত বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কটন ও ম্যানমেইড ফাইবার খাতে যুক্তরাস্ট্রের বিনিয়োগের আহবান জানান। একই সাথে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাস্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যুক্তরাস্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিল অফিস স্থাপন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বিনিয়োগ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সিডিএ’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দূতাবাসের পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এস. এম. সাইফুল আলম, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মোঃ আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোঃ গোলাম সরওয়ার, মোঃ জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এ. এস. এম. ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মোঃ সেলিম নুর, সাবেক পরিচালক ডাঃ মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী, জহুরুল হক সেলিম, মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উইম্যান চেম্বারের সভাপতি আবিদা মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ’র মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও রিটজি গ্রুপ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা মোঃ জামশেদ আলী।
২ মাস ১৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিচালক এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে বন্দরনগরীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে। ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ, শ্রমিক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে আসছে এনামুল করিমের নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান সবখানেই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি সদ্য এলপিআরে যাওয়া ক্ষমতাধর কর্মকর্তা এনামুল করিম। এমন অভিযোগ বন্দর সংশ্লিষ্টদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিপিং এজেন্ট মেসার্স ইউনিবেঙ্গল কনটেইনার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও সব নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ছাড়পত্র দেন এনামুল করিম। এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব চরম ঝুঁকিতে পড়ে।এই বড় অঙ্কের অনিয়ম নজরে এলে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ করে বন্দরের মাশুল বা রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন এনামুল করিম। আর সেই অর্থ দিয়ে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।গত ৪ জুন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বন্দরের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র তলব করা হয়েছে। আর এই কর্মকর্তার দুর্নীতির খতিয়ান এখানেই শেষ নয়। ২০১৯ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও ১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রহস্যজনক ফাইল গায়েবের অলৌকিক ইশারায় তাঁর পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, অদ্যাবধি সেই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। রহস্যজনকভাবে থমকে আছে সেই ফাইল।এছাড়া বন্দরের সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও এনামুল করিমের পকেটে বন্দি। প্রতিটি নিয়োগের পেছনে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য হয়। এই বিশাল টাকার খেলা এক হাতে সামলান না তিনি। বন্দরে তাঁর একটি নিজস্ব ক্যাডার ও সহযোগী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে নাম এসেছে-বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি মীর নওশাদ, বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর. বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল চৌধুরী। প্রভাবশালী এসব নেতাদের ছত্রছায়ায় বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের খাটিয়ে ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এনামুল করিম। অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুল করিম বর্তমানে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক! এই বিশাল অর্থের একটি বড় অংশ তিনি পাচার করেছেন ইউরোপে। দেশের ভেতরেও বিভিন্ন বেনামে বড় বড় বিনিয়োগ করে রেখেছেন।বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি প্রধান প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে পরিবহন বিভাগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জাহাজ বার্থিং (ভেড়ানো), লাইসেন্স প্রদানসহ বন্দরের মূল চালিকাশক্তি এই বিভাগ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এই বিভাগের প্রধান (পরিচালক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনামুল করিম। তবে অভিযোগ রয়েছে, শুধু পরিচালক হওয়ার পর থেকেই নয়, বন্দরে যোগদানের পর গত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই পরিবহন বিভাগের সব ধরনের অবৈধ লেনদেন ও সিন্ডিকেটের চাবিকাঠি তাঁরই হাতে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এনামুল করিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাজনৈতিক পরিচয় বদল করেন। কখনো নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ওবায়দুল কাদেরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে জাহির করেন। আবার রাজনৈতিক হাওয়া বদল হলে মুহূর্তেই জামায়াত-বিএনপির কট্টর সমর্থক সেজে যান। আবার নির্বাচনের পর বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি সেজে যান। রাজনৈতিক ভোলবদল ও প্রভাবশালী মহলের ব্যাকআপের কারণেই বছরের পর বছর সুরক্ষিত থাকে এনামুল করিমের চেয়ার। এমনকি থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুদকের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি করে মোট চারটি দুর্নীতির মামলা চলছে। মামলার প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র আমাদের হাতে এসেছে। বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই বিষয়ে মতামত নিতে এলপিআরে থাকা এনামুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি ফোন নাম্বারের হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনও বন্ধ পাওয়া যায়।
২ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় যখন বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম ঘুরে ফিরে আসছে, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠেছে দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর ‘রেড সী গেইটওয়ে’ কী করেছে। সৌদিআরবভিত্তিক এ অপারেটর প্রতিষ্ঠান গত আড়াই বছর ধরে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মনাল (পিসিটি) পরিচালনা করছে। এই সময়ে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব এনসিটি পরিচালনায় আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ে বিরোধীতাকারীরা। এ বিষয়ে বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতা ইব্রাহিম খোকন বলছেন, ‘রেড সী’র সঙ্গে এক কনসেশন চুক্তিতে আমরা ধরা খেয়েছি। আবারো একই ভুল আমরা এনসিটিতে করতে চাই না।’ সে কারণে আমরা এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে ইজারায় বিরোধীতা করছি। ইব্রাহিম খোকন বলেন, সৌদি আরবে বিপুল প্রবাসী শ্রমিকের চাকরি নিশ্চয়তার অজুহাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সৌদি আরবের একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে এই পিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। তখন বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত, দক্ষতা বাড়ানো, অতিমাত্রায় গতিশীলতার কথা বলেছিলেন তখনকার মন্ত্রীরা। কিন্তু বাস্তবে বন্দরের জিসিবির মতোই ধীরগতি দক্ষতা দেখাচ্ছে এখন পিসিটি।কনসেশন চুক্তির কারণেই টার্মনাল পরিচালনার প্রায় সব শর্ত গোপন রাখা হয়েছে। যেটাকে বলা হয় নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ)। কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী পুরো টার্মিনাল একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করবে। সব ধরনের আয় ও মাশুল তারা সংগ্রহ করবে। এ আয় থেকে চুক্তি অনুযায়ী বন্দরকে তার পাওনা পরিশোধ করবে। এতে পিসিটিতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ খুব একটা নেই। কিন্তু এনসিটি, সিসিটি এবং জিসিবির ক্ষেত্রে বন্দর নিজেই সব মাশুল আদায় করে। আর দেশীয় অপারেটরদের চুক্তি অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করে বন্দর।সূত্র মতে, বিদেশি এ অপারেটর চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর পিসিটি পরিচালনার চুক্তি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপিয়ে দেয়া সেই কনসেশন চুক্তি নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক। আড়াই বছরে দেশি অপারেটরের তুলনায় কতটা গতিশীল হলো তারা। লক্ষ্যমাত্রার কতটা পূরণ করতে পেরেছে। এই সেবা বন্দর ব্যবহারকারীরাই বা কতটা সন্তুষ্ট। এসব আলোচনা এখন প্রাসঙ্গিক।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রথম বিদেশি এ অপারেটর পিসিটিতে কতটা সফল। তাদের এ সাফল্যের ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে।নিজস্ব ফান্ডের ১২শ কোটি টাকায় পিসিটি নিজেরাই তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু সেখানে যন্ত্রপাতি সংযোজন করেনি। অবস্থানগত দিক থেকে এনসিটির আগে পিসিটি। বঙ্গোপসাগর থেকে কর্ণফুলীর নদীর মোহনা পেরিয়ে প্রথমে পিসিটি সেকারনে এর অবস্থান ভালো। এই টার্মিনালে তিনটি কন্টেইনার পণ্য নামানোর জেটি আছে। রয়েছে তেলের জাহাজ ভেড়ার ডলফিন জেটিও।চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা। চুক্তির শুরুতে কনসেশন ফি ১৮.৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বন্দরকে। ইতোমধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে।২২ বছর মেয়াদি চুক্তির ২ বছর পার হলেও পণ্য উঠানামার সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্র ‘কী গ্যান্ট্রি ক্রেন’ যুক্ত করতে পারেনি রেড সী। ফলে তাদের পারফরম্যান্স এখনো এনসিটি-সিসিটির স্টান্ডার্ডে পৌঁছেনি। কী গ্যান্ট্রি ক্রেন না থাকায় ক্রেনবিহীন বা গিয়ারলেস জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারছে না। এতে বিশ্বমানের পণ্য উঠানামার সেবা এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে।এসব বিষয় জানতে রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী এরউইন হেজিকে প্রশ্ন পাঠিয়ে ইমেইল করা হয়। কোন সাড়া দেননি। পরে হেড অফ কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ খুরশিদের সাথে ফোনে কথা বলে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয় ব্যক্তিগত নাম্বারে। তাকে তাগাদা দিলে উত্তর দেয়ারও আশ্বাস দেন। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরেও জবাব দেননি তিনি। ১৬ জুন সকালে তাকে পুনরায় উত্তর দেয়ার তাগাদা দিলেও কোন সাড়া মিলেনি।শিপিং ও লজিস্টিক সেক্টরে ৩৮ বছরের অভিজ্ঞ এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানালেন, ‘তাদের অফিস পরিবেশ যতটা স্মার্ট, সার্ভিস অতটা সন্তোষজনক না। তারা শুধু মায়ের্সক লাইনকে সেবা দিচ্ছে। অন্যদের জন্য সেবা দিতে না পারলে সেটি তো আর বন্দর থাকলো না। মায়ের্সক টার্মিনাল হয়ে গেলো। এতে ট্রেডের উপকার হলো না।’বন্দরের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচমাসে পিসিটিতে মোট কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার একক। এরমধ্যে ৩১ শতাংশই খালি কন্টেইনার। ৫০ শতাংশ আমদানি কন্টেইনার। ১৯ শতাংশ রপ্তানি কন্টেইনার। প্রতিমাসে এখন ১১/১২টি কন্টেইনার জাহাজ পিসিটিতে ভিড়ে আর গড়ে ২৮ হাজার ৭১১ একক কন্টেইনার উঠানামা হয়। কিন্তু বছরে ৫ লাখ একক কন্টেইনার উঠানামার লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে হলে মাসে গড়ে ৪১ হাজার ৬৬৬ একক কন্টেইনার উঠানামা করতে হবে। সে হিসেবে কন্টেইনার উঠানামা লক্ষমাত্রা থেকে অনেক দুরে আছে বিদেশি এই প্রতিষ্ঠান।পিসিটিতে জাহাজ ভিড়া, জাহাজ উঠানামার দক্ষতা এখনো বন্দরের আধুনিক এনসিটি, সিসিটির মতো নয়। ফলে অন্যদের সাথে দক্ষতা তুলনার সুযোগ নেই। পিসিটির প্রেক্ষাপট বন্দরের অন্য যেকোন জেটি-টার্মিনালের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। পিসিটিতে এখনো কী গ্যান্ট্রি ক্রেন নেই। জাহাজের নিজস্ব ক্রেন দিয়ে পণ্য উঠানামা হয়; যেমনটা হয় বন্দরের সনাতন জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি)।পিসিটির তিনটি জেটিতে জাহাজ ভিড়ার নিয়মও অন্য জেটির চেয়ে ভিন্ন। বন্দরের অন্য জেটিতে বার্থং মিটিংয়ে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পিসিটির জন্য সেই নিয়মের বালাই নেই। এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাহাজ জেটিতে ভিড়ে, মিটিং পারমিশনের দরকার হয় না। শুধুমাত্র অবহিত করে। এই যে ভেড়ার বাড়তি বা বিশেষ সুবিধা পায় এমন সুযোগ বন্দরের অন্য কোন জেটি-টার্মিনালে এখনো কার্যকর হয়নি।বন্দরের বহিনোঙর থেকে পিসিটির দুরত্ব ১০ মাইল। আর এনসিটির দুরত্ব ১৬ মাইল। এনসিটির তুলনায় দুরত্ব কম থাকায় জ্বালানি সাশ্রয়ের সুবিধা পাচ্ছে তারা। এখানকার তিনটি জেটিতে সবচেয়ে বড় ড্রাফট বা গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। অন্য জেটিতে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার এনে তোলার সুযোগ থাকলেও পিসিটিতে এ কন্টেইনার এনে রাখতে হবে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে।পিপিপি কাঠামোয় কনসেশন চুক্তিতে এই রকম অসংখ্য অযৌক্তিক ‘বিশেষ সুবিধা’ রেড সী গেইটওয়েকে দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে অন্য অপারেটরদের সাথে তৈরি হয়েছে বৈষম্য। তাই আলোচিত এনসিটিতেও দুবাইভিত্তিক ডিপিওয়ার্ল্ডও একই কনসেশন সুবিধা চাইছে বন্দরের কাছে।
৩ মাস আগে
চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মী দশা থেকে ফেরাতে সংস্কার কাজের উদ্যোগে বেদিশায় পড়েছেন লুটেরারা। এর মধ্যে বন্দরের অভ্যন্তরীণ দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে জড়িত বহিরাগত সিন্ডিকেটও। যারা রাজনৈতিক বা বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়ে এই সংস্কার কাজের বিরোধীতা করে আসছেন। এমনকি দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বহিরাগতরা কর্মবিরতি কর্মসূচি দিয়ে বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ের। যারা এসব করছেন তারা দেশের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন মন্তব্য করেছেন বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগে সমর্থিত বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি চট্টগ্রামের ৯৯ ভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। কিন্তু সিন্ডিকেট চক্রের মতো সংঘবদ্ধ না থাকায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রামের মানুষের কথা কেউ শুনছে না। বন্দর সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি সমর্থিতদের ভাষ্য, সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতাকারীরা চট্টগ্রামের বাইরের লোক। যাদের বেশিরভাগ মাদারিপুর, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লাা ও নোয়াখালীর বাসিন্দা। যাদের বিরুদ্ধে বন্দর লুটে-পুটে খাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এরপরও সংঘবদ্ধ হয়ে হয়ে তারা বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতা করে আন্দোলন কর্মসুচি পালন করছে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল থেকে জেটি এবং বহিঃনোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজে নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে ২০০৮ সালের পর থেকে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর।এ সৃুবাধে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সুকৌশলে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংগঠেনের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছেমতো বন্দরের অর্থ ও সম্পদ লুটপাট করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার ছাড়, রপ্তানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার পাচার, কন্টেইনার চুরিসহ নানা কলাকৌশল করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব মেরেছে। আবার এই রাজস্ব বিদেশে পাচারও করেছে। যা নতুন অপারেটর নিয়োগে বড় ধরণের হোঁচট খাবে এই লুটেরা সিন্ডিকেট। যার কারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন অপারেটর নিয়োগে একাধিকবার দরপত্র প্রকাশ করলেও বন্দরে কর্মরত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছলচাতুরতায় কঠিন কিছু শর্তের কারণে নতুন কোন কো¤পানি এই খাতে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রতিযোগিতা না থাকায় সেবার মানে ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে অপারেটর সংখ্যা বাড়াতে। কিন্তু তার বিরোধীতা করছে লুটেরা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। সূত্র মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বন্দরে ২৩ প্রতিষ্ঠানকে অপারটের নিয়োগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে আরও ২৩ অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়। এখন বিএনপি সরকার পুনরায় নতুন অপারেটর নিয়োগে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার বিরোধীতা করছেন বর্তমান অপারেটররা। এমনকি অপারেটররা উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়। এই অবস্থায় নতুন অপারেটর প্রক্রিয়া শেষপর্যস্ত কতটা সফল হয় তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।তবে নতুন অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সচিব নাসির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। আগে যারা আবেদন করেছেন, এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তাদের নতুন করে আবেদনের দরকার নেই। আর কতজনকে দেয়া হবে সেটি কমিটিই নির্ধারণ করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলমান রাখবে বলে জানান তিনি। বন্দরের এই প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও ২৩টি দলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। এখন আবারো বিএনপিদলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা চলছে। ঢালাওভাবে লাইসেন্স দেয়া হলে এই কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।একইভাবে বিরোধীতা করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা একটি বিশেষায়িত কাজ। এখানে যন্ত্রপাতি এবং শ্রমিকদের সমন্বয়ে জটিল কাজ করতে হয়। এখানে নতুন-অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কত লাইসেন্স দেয়া প্রয়োজন সেটিও আগে নিশ্চিত হতে হবে, স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসতে হবে। আর অনভিজ্ঞরা কাজ পেলে বন্দরের এখনকার যে সেবা সেটি দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।আরেক শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, লাইসেন্সিয়ে একটির আবেদন ফি এক লাখ টাকা। আগে তিনশ আবেদন জমা পড়েছে। এখন আরো একশসহ মোট ৪০০ আবেদন জমা পড়লে বন্দর চার কোটি টাকা আয় করবে। পুরো টাকাই নন-রিফান্ডেবল। বন্দর কর্তৃপক্ষ এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার টন খোলা ও কন্টেইনারজাত পণ্য (কার্গো) উঠানামা করেছে। আর জেটি, টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে। পুরো কাজ করেছে ৪৬ অপারেটর। জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য উঠানামা, ইয়ার্ডে রাখাসহ নানা খাতে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কাগো বার্থের (জিসিবি) ১২ জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ করছে ১২ প্রতিষ্ঠান। দুটি টার্মিনাল চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টামিনাল (এনসিটি)তে কাজ করছে দেশি প্রতিষ্ঠান। আর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালতে (পিসিটি) কাজ করছে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বহির্নোঙর সাগরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর (লাইটারিং) কাজে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে কাজ করছে ৩৩ প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে ৪৮টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ বিষয়ে বন্দরের বার্থ অপারেটর পারভেজ আহমেদের বক্তব্য, লাইসেন্স দিলেই যে সবাই পণ্য উঠানামা বা অপারেটিংয়ের কাজ পাবে বিষয়টি এমন নয়। জেটিতে কাজ পেতে তো নির্দিষ্ট যোগ্যতা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সেটা যে প্রতিষ্ঠানের আছে সেই প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে। সুতরাং পূরনো যারা আছে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তারাই কাজ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
৩ মাস ২ দিন আগে
বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর প্যাকেট হুবহু নকল করে নিম্নমানের তামাক দিয়ে তৈরি করা সিগারেট। এই কারসাজির সাথে জড়িত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণকর্তা হিসেবে পরিচিত চসিকের সাবেক মেয়র, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিদেশ থেকে অবৈধ সিগারেট আমদানির সাথে জড়িত থাকার দায়ে এই সিন্ডিকেটের অনেকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কাস্টমস মামলা দায়ের করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে সাবেক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন ও শিক্ষামন্ত্রী নওফেল।
৩ মাস ৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ঠেকাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের পর এবার কোমড় বেঁধে নেমেছে লুটপাটের কারিগর খ্যাত সাইফ পাওয়ারটেক। তিন কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত নতুন দেশীয় প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় দেওয়া হয়েছে লোভনীয় প্রস্তাব। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য দুটি কোম্পানি হচ্ছে কসমস ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস। আর নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। এনসিটি যাতে কোনোমতেই হাতছাড়া না হয় এবং বন্দরের বিশাল রাজস্ব যাতে লুটপাট করতে পারে তার জন্য এমন কৌশল নিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। তবে তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে কেবল ডিপি ওয়ার্ল্ড এর প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে সরকার। যা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক গত ২০০৬ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনা হাতিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব চুরি ও পাচার করেছে। অর্ন্তবর্তী সরকার আসার পর এনসিটি পরিচালনা আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চাইলে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে সাইফ পাওয়ারটেক। প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে মাঠে নামিয়ে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মর্সূচি দিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটায়। যা এখনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর প্রতিষ্টান ড্রাইডক লিমিেিটড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে। এরপর থেকে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। এতে একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়ে সাইফ পাওয়ারটেক। ফলে নতুন গঠিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় লোভনীয় অফার দিচ্ছে। গত ২৮ এপৃল নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে টার্মিনাল পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয় সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। যা সম্প্রতি প্রকাশ পায়।এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নতুন প্রস্তাব এখনই সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যাচ্ছে না। কারণ এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই।তবে বন্দর সূত্র জানায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি অন্যান্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন এই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবও বিবেচনায় আসতে পারে।এনসিটি পেতে একের পর এক প্রস্তাবচট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক রাজস্ব আয় ৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা একাই জোগান দেয় এনসিটি। বন্দরের হৃৎপিন্ড হিসেবে পরিচিত এনসিটিতে মোট কন্টেইনার ওঠা-নামা করে ৪৫ শতাংশ। সবচেয়ে বড় জাহাজও ভিড়ে এই টার্মিনালে। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকায় ৪৮ ঘণ্টায় জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস শেষ হয়।সেই রেডিমেড টার্মিনাল পরিচালনা করতে একের পর এক প্রস্তাব দিচ্ছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তার সূত্রপাত হয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব থেকেই। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রথম প্রস্তাব আসে এই ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে। সেই প্রস্তাবে বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসলে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে উন্নীত হয়। আর এ নিয়ে শুরু হয় বন্দরে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আন্দোলন। কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচির মুখে বন্দর অচল হলে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার সেই চুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে সেই প্রক্রিয়া নীরবে এগোয়। ৪ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয় ডিপি ওয়ার্ডের প্রস্তাব নিয়ে নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে। সেই প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।যা আছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবে পিপিপি ও সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এতে টার্মিনাল পরিচালনা, মাশুল আদায় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব থাকবে এই অপারেটরের হাতে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে বন্দর নির্ধারিত রাজস্ব পাবে। সেই রাজস্ব কত হবে সেটি নির্ধারণ হবে আলোচনা সাপেক্ষে। তবে ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ম অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশের পুরো টাকাই বিদেশে নিয়ে যাবে।এ নিয়ে বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তার ভাষ্য, ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বমানের অপারেটর। বিশ্বজুড়ে শিপিং কানেকটিভিটি আছে তাদের। সে হিসেবে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে। সেই রাজস্ব নির্ধারণের এখন আলোচনা চলছে। বেশি আয় এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের পর গত ২৮ এপৃল দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর ভিত্তিতে প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতি কন্টেইনারে ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় পাঁচ ডলার বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। একইভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ২০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ গ্রুপ ২৫ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম ফি দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের ১.৫৪ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ-এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হবে প্রায় ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার।এমজিএইচ-এর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনিস আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেক স্তরেই আমরা বন্দরকে বেশি রেভিনিউ দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। এতে দেশ ও বন্দর লাভবান হবে। আমরাও ব্যবসা পাব। টাকাও দেশে থাকবে। পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল বিদেশি দিয়ে চালিত, আজ পর্যন্ত তারা চট্টগ্রাম পোর্টের সাথে অঙ্গীকার করা ৫০ শতাংশ প্রডাক্টিভিটি ডেলিভার করতে পারেনি। তারপরও আরেক বিদেশি অপারেটরের সাথে আলাপ, আমাদেরকে বাদ দিয়ে? সূত্রমতে, এমজিএইচ-এর নিজস্ব আইসিডি রয়েছে এবং ৭টি বিদেশি শিপিং লাইনের সাথে চুক্তি থাকায় প্রথম দিন থেকেই টার্মিনালে কন্টেইনার প্রবাহ নিশ্চিত থাকবে। স¤পূর্ণ দেশি মালিকানাধীন হওয়ায় এর লভ্যাংশ দেশেই পুনর্বিনিয়োগ হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবের পেছনেও সাইফ পাওয়ারটেকের হাত রয়েছে। আর অর্থ পাচারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস রাখা হবে আত্নঘাতি। কনোসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে শুভঙ্করের ফাঁকি নতুন কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই রাখার কথা বলা হয়েছে। তারা কেবল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ব্যয়ের দায়িত্ব নিতে চায়। জাহাজ ও কন্টেইনার সংশ্লিষ্ট সব ধরনের মাশুল আদায় করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিনিময়ে প্রতি কন্টেইনার পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ফি পাবে কনসোর্টিয়াম। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বন্দরের রাজস্ব আয় অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ বেসরকারি খাত বহন করবে। এতে বন্দরের আর্থিক চাপ কমবে এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাওয়া প্রস্তাবে প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬৯ ডলার পরিচালন মাশুল চাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দর প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনারে ৯২ ডলার মুনাফা করতে পারবে। এ ছাড়া জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল খাতেও কোনো ব্যয় করতে হবে না। যা এক ধরণের ফাঁদ বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। তবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দরের হাতেই থাকবে। ১৫ বছর ধরে জনবল, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা আমরাই করবো। কোনো ধরনের বিনিয়োগ না করেই বন্দর প্রতি কন্টেইনার ৯২ ডলার আয় করবে।কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, প্রতি একক কন্টেইনার পরিচালন থেকে বন্দর আয় করে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার, বিপরীতে ব্যয় ৫৬ দশমিক ১৫ ডলার। খরচ বাদ দিয়ে নিট আয় কন্টেইনার প্রতি ১০৫ দশমিক ৬৭ ডলার।তাহলে ১০৫ ডলার নিট আয় ছেড়ে কনসোর্টয়িামের প্রস্তাব কেন বন্দর বিবেচনা করবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফ পাওয়ারটেকের ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১৫ বছরে যন্ত্রপাতি সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন করতে বন্দরের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ থেকে বন্দর মুক্ত। আমরাই বন্দরের হয়ে সেটি বিনিয়োগ করবো।বন্দর ব্যবহারকারীদের মতামতবন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কন্টেনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কন্টেনারের প্রায় ৪৫ শতাংশ এই টার্মিনালেই হয়েছে। ফলে টার্মিনালটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।সূত্র মতে, এনসিটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সামনে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে। বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পিপিপি মডেল অথবা পরিচালন সেবাভিত্তিক দেশি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব থেকে যে মডেলই চূড়ান্ত হোক না কেন, তা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের দক্ষতা, সক্ষমতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
৩ মাস ৯ দিন আগে
সিএন্ডএফ এজেন্টদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ সিএন্ডএফ ভবনে অস্থায়ী সেবা বুথ স্থাপন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে বুথ স্থাপনের অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি লাঘবে মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বুথ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।সাক্ষাতকালে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ মেয়রের নিকট তুলে ধরেন যে, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক সিএন্ডএফ এজেন্টের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে নানাবিধ প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতায় সময়ক্ষেপণ হয়। যদি আগ্রাবাদস্থ সিএন্ডএফ ভবনে চসিকের একটি অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা যায়, তাহলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে দ্রুততম সময়ে এই সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
৩ মাস ১৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কোটি টাকার গার্মেন্টস কাপড় ভর্তি একটি কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনায় বন্দরের দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে বন্দর থানার পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন মিজানুর রহমান (৩৫)। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃসহকারী হিসেবে কর্মরত। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উলুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। অপরজন হলেন আবু সুফিয়ান (৪০)। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা। বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ তথ্য জানান বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে বন্দরের দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বন্দর সূত্র জানায়, চীন থেকে আমদানি করা গার্মেন্টস কাপড় ভর্তি একটি ৪০ ফুট কনটেইনার গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপৃলের মধ্যে কোনো একসময় বন্দরের জে আর ইয়ার্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কনটেইনারটির নম্বর টিসিএলইউ-৮৫৫৭৩০৪। এতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানিয়েছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড। সূত্রমতে, কনটেইনারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর সেটি জাহাজ থেকে খালাস করে ইয়ার্ডে রাখা হয়। শুল্ককর পরিশোধ শেষে কনটেইনারটি খালাস নিতে গেলে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা করা হয়। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতর থেকে একটি কনটেইনার উধাও হওয়ার ঘটনায় বন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিস্তর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩ মাস ২৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কন্টেনারবাহী দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় যখন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছিল আমদানিকারকদের মাঝে। ঠিক তখনই ভেতরে ভেতরে মহা আয়োজনে জাহাজ দুটিকে বন্দরের এনসিটি জেটিতে এনে ভেড়ালো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমন সক্ষমতা বন্দরের জন্য একেবারেই নতুন। আমদানিকারকদের ভাষ্য, বন্দরের এমন সক্ষমতা আছে তা বিশ্বাস করতে পারছিলনা কেউ। সময় তখন রবিবার দুপুর আড়াইটা। খবর ছড়িয়ে পড়ে বহির্নোঙর থেকে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত জ্হাাজ দুটি বন্দরের এনসিটি জেটিতে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে। জাহাজ দুুটির কন্টেনারভর্তি পণ্য খালাসে আর কোন অনিশ্চয়তা নেই। আর এই খবর নিশ্চিত হওয়ার পর হাসি ফুটে আমদানিকারদের। শুধু হাসি নয়, আমাদের বন্দরের এমন সক্ষমতা আছে, যা ভাবতে গর্ব লাগছে। বললেন ফোর জুয়েল ডিষ্ট্রিবিউডর কোম্পাানি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আমিন শরীফ ও শাহজাহান শরীফ। তারা বলেন, বন্দরের এমন সক্ষমতার কথা আমাদের জানা ছিল না। এই সক্ষমতায় চট্টগ্রাম বন্দর অনন্য উচ্চতায় পৌছে যাবে বর্হিবিশ্বে¦, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে। রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যার দিকে এ বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহণ) এনামুল করিমের সাথে। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা ছিল জাহাজ দুটির। তার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ দুটি হলো বিদেশি জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় জাহাজ এইচআর তুরাগ। দুর্ঘটনার পর থেকেই জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে নোঙর করা ছিল। জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য গত শুক্রবার বিকেলে বহির্নোঙরে গিয়েছিলেন বন্দর পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। তবে কাছাকাছি পৌঁছে দুর্ঘটনার চিত্র দেখে তারা জাহাজ না এনে বন্দর ভবনে ফিরে আসেন। পরে ক্যাপ্টেন শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের মূল কাঠামোতে ক্ষতির প্রমাণ দেখেছি। সংঘর্ষে জাহাজ দুটির নিচের অংশে আঘাত লেগেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ফাটল বা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আর জাহাজ দুটির সংঘর্ষের পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। জাহাজ দুটি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয় আমদানিকারকদের মাঝে। এই সংশয় দূর করতে এবং পণ্য খালাস বিলম্ব হলে চরম আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় জাহাজ দুটি বন্দরে ভেড়াতে ভেতরে ভেতরে মহা উদ্যোগ গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের তথ্য মতে, রবিবার সকাল ১১টায় বন্দর থেকে বহির্নোঙরে রওনা দেন চারজন ক্যাপ্টেনের রেতৃত্বে একটি টিম। সেখানে তারা একটি টাগবোট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে সকাল ১১টা ৪০মিনিটে মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং এইচ আর তুরাগ বন্দরের এনসিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন কর্ণফুলী গ্রুপের জাহাজ হচ্ছে এইচ আর তুরাগ। সেটি চালাচ্ছিলেন, ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম ও মোহাম্মদ তানভীর রহমান। মায়েরস্ক চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং ক¤পানি মায়ের্সক লাইনের। চালাচ্ছিলেন বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আতাউল হাকিম সিদ্দিকী। তিনি জানান, ঝুঁকি এড়াতে বন্দরের নৌ বিভাগ বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রতি জাহাজেই আমরা দুজন পাইলট নিয়েছি। আমার সঙ্গে ছিলেন পাইলট আবুল খায়ের। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়েছে। এতে অন্তত ৪০ মিনিট বেশি সময় লেগেছে। বৈরি আবহাওয়া এবং উত্তাল সাগরের মধ্যে দেশের আমদানিকারকের স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ।ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম জানান, ১১টা ৬ মিনিটে বহির্নোঙর থেকে রওনা দিয় ১২টা ৫০ মিনিটেই আমরা জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়াতে পেরেছি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা ধীরগতি যেমন ৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চালাতে হয়েছে।মায়েরস্ক চট্টগ্রাম জাহাজে ১৮৭৮ কন্টেইনার বক্স আমদানি পণ্যভর্তি আছে। আর এইচ আর তুরাগ আছে এক হাজার একক কন্টেইনার। দুটি জাহাজই আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার নামিয়ে জেটি ছাড়বে। কিন্তু রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করবে না। কারণ দুটি জাহাজই এখন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অনুমতি নেই।জাহাজ পরিচালনাকারীরা বলছেন, জাহাজ ডকইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে মেরামত করা হবে। তদন্ত কমিটির অনুমোদন, ক্ষতি নিরূপন এবং সমুদ্রপাড়ি দেয়ার অনুমতি সনদ পাওয়ার পরই জাহাজে রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করতে পারবে।বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, জাহাজ দুটি ভেড়ানোর আগে রবিবার সকাল ১১টা থেকেই বন্দরের প্রবেশপথ মোহনা থেকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পর্যন্ত নৌপথে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুটি জাহাজকে তিনটি করে টাগবোট পাহারা দেয়। আশপাশে বাড়তি টাগবোট রাখা হয় স্ট্যান্ডবাই। এ দুটি জাহাজ ভিড়বে তাই রবিবার সকালে বন্দরের নির্ধারিত শিডিউলের জাহাজগুলোর আগেভাগেই বার্থিং শেষ করা হয়। একই সময় সাধারণ জাহাজের চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ভিটিএমএস থেকে ক্যামেরার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল তদারকি করেন বন্দর নৌ বিভাগের কর্মকর্তারা।এছাড়া বন্দরের নৌ বিভাগ, বার্থ অপারেটর ও শিপিংলাইনের প্রায় ৪০ জন অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হয়। নিকট অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরে এভাবে জাহাজ ভেড়ানোর নজীর নেই বললেই চলে। কারণ একসঙ্গে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও নেই।স্বাভাবিক সময়ে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু দুটি জাহাজই শুক্রবার সকালে বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগে পর¯পরের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল স্বাভাবিকভাবে দুটি জাহাজ জেটিতে আনা সম্ভব ছিল না। তাই বিশেষ বিবেচনায় অনুমতি নিয়ে জাহাজ দুটি ভেড়ানোর এ আয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম বলছেন, দুটি জাহাজেই অনেকগুলো আমদানি কন্টেইনার শুক্রবার থেকে আটকা পড়েছিল। বেশিদিন আটকে থাকায় আমদানিকারকের উদ্বেগ বাড়ছিল। আবার বহির্নোঙরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে কন্টেইনার স্থানাস্তরের সুযোগ নেই। দুদিন আটকে থাকায় দেশের অর্থনীতির ক্ষতি বিবেচনায় আমরা বিশেষ বিবেচনায় জাহাজ দুটি জেটিতে আনার সিদ্ধান্ত নিই।গত শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটি আমদানি কন্টেইনার নিয়ে বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে পর¯পর ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবার সকাল পর্যন্ত জাহাজ দুটি সেখানেই ছিল। জাহাজ দুটিতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার আটকে পড়ে। যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছিলেন আমদানিকারকরা। এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।
৪ মাস ১৫ দিন আগে
চালুর আগেই জংয়ে গিলে খাচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্মিত এই রেলপথ উদ্বোধন করা হয় প্রায় আড়াই বছর আগে। কিন্তু রেলপথটি এখনো কার্যত অচল । এতে প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) এমন মন্তব্য করেছেন আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এই রেলপথে একাধিকবার পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক দুদেশের কুটনৈতিক টানাপড়েনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হয়নি বাণিজ্য কার্যক্রম। কবে নাহাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বা বাণিজ্য চালু হবে— সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘অলস অবকাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।আর নিম্নমানের লোহার যন্ত্রাংশ দিয়ে এই রেলপথ তৈরি করায় ধরেছে জং। নেই কোন সংরক্ষন ও তদারকি। এতে প্রকল্পটি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে জানান রাজীব ভুঁইয়া। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। এই রেলপথ চালু হলে তারা নিজেদের রাজ্য থেকেই কম খরচে পণ্য আনতে পারবে। এতে করে আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ার।’তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সীমিত পরিসরে রড, সিমেন্ট ও পাথর রপ্তানি হয়, যা মূলত ত্রিপুরার বাজারে যায়। কারণ, ভারতের অন্য রাজ্য থেকে এসব পণ্য আনতে খরচ বেশি পড়ে। কিন্তু নতুন রেলপথ চালু হলে সেই নির্ভরশীলতা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী।আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসিবুল হাসান মনে করেন, রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও সুযোগ রয়েছে আমদানি বাড়ার। ‘সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ দিলে ব্যবসায়ীরা কম খরচে রেলপথে পণ্য আনতে পারবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলে জানান তিনি।কবে এই আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালু হবে— এই প্রশ্নে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার জবাব, ‘কখন ট্রেন চলবে, সেটা পুরোপুরি সরকারি সিদ্ধান্ত। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। উদ্বোধনের প্রায় আড়াই বছর পরেও ট্রেন চলাচলে না থাকা, বাণিজ্য শুরু না হওয়ায় আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ এখন অনিশ্চয়তার প্রতীক। কবে এটি চালু হবে, কতটা বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়া যাবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা।রেলওয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে রয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। প্রায় ২৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ অংশের কাজ বাস্তবায়ন করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীসহ নানা জটিলতায় কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় বছরেরও বেশি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে রেলপথটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।উদ্বোধনের আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই রুট দিয়ে আমদানি-রপ্তানির অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ভারত থেকে অর্ধশতাধিক পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর জন্য নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবন, প্ল্যাটফর্ম এবং সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর।এরপর একাধিকবার পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক দুদেশের কুটনৈতিক টানাপড়েনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হয়নি বাণিজ্য কার্যক্রম। কবে নাহাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বা বাণিজ্য চালু হবে— সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘অলস অবকাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সুফল নিয়ে শুরু থেকেই আশাবাদী ছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনেক ব্যবসায়ী বলছেন ভিন্ন কথা। এই রেলপথ বাস্তবে ভারতের বাণিজ্যিক সুবিধাই বেশি নিশ্চিত করবে বলেই তাদের মত।বিশ্লেষকদের মতে, এই রেলপথের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্ব হলো ভারতের ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা চিকেনস নেক নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন। ফলে ভারতের জন্য এটি একটি বড় লজিস্টিক সম্ভাবনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এতে বাংলাদেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা কতটুকু মিলবে?
৪ মাস ২১ দিন আগে
কাস্টমসের নিলাম পণ্যের ভাগ চায় চট্টগ্রাম বন্দর। ইতোমধ্যে এই হিস্যায় ১৬৭ কোটি টাকা দাবি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্ধ শতাধিক চিঠি দিলেও কর্ণপাত করছেন নাা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও আলোচিত হয়েছে। তাতেও কোন সুরাহা না মেলায় বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বছরের পর বছর ধরে বন্দরের জায়গা দখল করে পড়ে থাকা পণ্যগুলো নিলাম হলেও পুরো টাকা জমা হয় কাস্টমসে। বন্দরের জায়গা ব্যবহারের মাশুল হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাকার একটি ন্যায্য হিস্যা দাবি করে আসছে অনেকদিন ধরে।কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি হয় সেগুলোর অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়। চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া এই অর্থ বের করে বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এতে সরকারের সম্মতিসহ অনুমোদন লাগে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ বলে মন্তব্য করেন তারা। বন্দর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিলামে বিক্রিত পণ্যের উপর আমাদের হিস্যাটা আইনগতভাবে স্বীকৃত। এটি আমাদের পাওনা। তারা পণ্য নিলামে বিক্রির সময় দুটি পে–অর্ডারের (একটি কাস্টমস ও অন্যটি বন্দর কর্তৃপক্ষ) মাধ্যমে পরিশোধ করলে এমন জটিলতা তৈরি হতো না। এই ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বন্দরের পাওনা প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বন্দরের তথ্যমতে, বিশ্বের নানাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়ে থাকে। এসব পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক ডেলিভারি না নিলে নিলামের জন্য কাস্টমসকে চিঠি দেয়া হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাচাই–বাছাই করে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অনেক সময় মামলা ও নিলাম প্রক্রিয়া যথাযথ সময়ে করতে না পারলে কিছু পণ্য ধ্বংসও করা হয়। তবে অপচনশীল বেশিরভাগ পণ্য নিলামে বিক্রি হয়। পচনশীল পণ্যগুলোর মধ্যেও যেগুলোর গুণগত মান ভালো থাকে, যেমন খেজুর, কমলা, আঙুর, আপেল ও মাল্টা এগুলো প্রায়ই নিলামে বিক্রি হয়ে থাকে।অন্যদিকে গাড়ি ও বিভিন্ন লৌহজাতসামগ্রী নিলামে বিক্রি হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পণ্য নিলাম করে থাকে। আবার নানা ধরনের জটিলতায় বহু পণ্য বন্দর থেকে খালাস করা হয় না। এসব পণ্য বছরের পর বছর বন্দরের ইয়ার্ড দখল করে পড়ে থাকে।সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি করে সেগুলো নিলাম গ্রহিতা চালানগুলো অর্থ পরিশোধ করে খালাস করে নিয়ে যান। বন্দর এসব পণ্য থেকে কোন অর্থ আদায় করতে পারে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো মধ্যে এফসিএল (পুরো কন্টেনার একজন আমদানিকারকের) কন্টেনার থেকে নিলামে বিক্রয়লব্ধ অর্থের ২০ শতাংশ এবং এলসিএল (একাধিক আমদানিকারকের পণ্যবোঝাই) কন্টেনার পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১৫ শতাংশ অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রদানের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাস্টমস পণ্য নিলাম করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা করলেও বন্দরের হিস্যা প্রদান করা হচ্ছে না। গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নিলামে বিক্রিত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিস্যা বাবদ ১৬৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ টাকা পাওনা হয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় পত্র দিলেও এই ব্যাপারে কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোন সাড়া দেয়া হচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সভায় উল্লেখ করা হয়। বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত ৬০টির বেশি চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব চিঠির ব্যাপারে কোন সাড়া দেয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
৪ মাস ২৬ দিন আগে