চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মাদকাসক্ত একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও মা কল্পনা দাশের (৫৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)কেও আটক করেছে পুলিশ।গত ২৫ জুলাই দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতা মোহন ধরকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত পুত্র রিটন ধর।নগরীর নন্দনকাননেও মাত্র একশ টাকার জন্য শিশুর গলায় ব্লেড দিয়ে পোচ মেরে হত্যার চেষ্টা করে মো. হেলাল নামে এক মাদকাসক্ত কিশোর। কাজির দেউড়িতে রঞ্জন বড়ুয়ার প্রাণ যায় পুত্র রবিন বড়ুয়ার ছুরিকাঘাতে। কাট্টলীতে প্রতিবেশী সন্ধ্যা রাণীকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত সত্যজিৎ ঘোষ।চান্দগাঁও এলাকায় বড় ভাই সাজুর কাছে ১০টি ইয়াবা রেখে তা ফেরত না পেয়ে কুপিয়ে খুন করেন ছোট ভাই মুন্না। সর্বনাশা নেশার ছোবলে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে রিটন ধর, মো. হেলাল, রবিন বড়ুয়া, সত্যজিৎ ঘোষ, মুন্নারা। তারা প্রিয়জনদের খুন করছে।সর্বনাশা মাদক এভাবে মা-বাবা-ভাই-স্ত্রীসহ পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করছে। নেশার ঘোরে বেঘোরে মানুষ মারছে মাদকাসক্তরা। পুড়িয়ে দিচ্ছে নিজের ঘরবাড়ি। পরিবার-সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। ছাড়খার হচ্ছে সংসার ও পরিবার।বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণসহ নানা অপরাধসিএমপির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো যেসব অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্তের কারণে। মাদক কেনার জন্য কিশোর-যুবক থেকে পথশিশুরা পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ে লিপ্ত হচ্ছে।সিএমপির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৮৬টি। তবে মে ২০২৬-এ কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩৮০টি-তে নেমে আসে। বিগত ১৭ মাসে সিএমপিতে মাদক সংক্রানমশ মামলা দায়েরের হার প্রায় ৩৭.৪৮ শতাংশ কমেছে। কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির কারণে এই প্রবণতা কমতির দিকে। সাম্প্রতিক অপরাধ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে সিএমপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, মহানগরী এবং জেলায় প্রতিনিয়তই মাদকাসক্তের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনায় জড়িতদের বিরাট অংশ মাদকাসক্ত। নেশার সাথে অপরাধের গভীর স¤পর্ক রয়েছে। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা জোগাতে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারেও চলছে খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদক বহনকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে যারা তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন প্রতিরোধ পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।সূত্র মতে, দেশে মাদকের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল। ইয়াবার ট্রানজিট রুট এখন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমার সীমান্তে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য কারখানা। সেখানে উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এদেশে। সাগর, সড়ক আর পাহাড়ি পথে ইয়াবার চালান আসছে। সরকারি তরফে ভারতীয় ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করা হয়েছে দাবি করা হলেও পরিস্থিতি তার উল্টো। কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই ফেনসিডিলের চালান ঢুকছে চট্টগ্রামে।র্যাব-পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিলের চালান। তবে উদ্ধার মাদকের অন্তত ১০ গুণ নিরাপদে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। নিত্যনতুন কৌশলে হচ্ছে মাদক পাচার। বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাত বাড়ালেই মিলছে নেশা। আর তাতে বেড়েই চলেছে আসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। নিকট অতীতেও মহানগরীর বস্তি এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত দেখা যেত। এখন পল্লীগাঁয়েও মাদকাসক্তদের দাপট।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। ইয়াবা ফেনসিডিল দুটোই সীমান্ত হয়ে আসছে। মাদকের উৎস বন্ধ করা না গেলে সর্বনাশ বন্ধ করা যাবে না। আর এজন্য সব সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র্যাব-পুলিশ মাঝে মধ্যে ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কিছু মাদকসেবীকে জরিমানা করা হলেও সবকিছু চলে আগের মত। মাদকাসক্তদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও তেমন উদ্যোগ নেই। মাদকাসক্তদের নিরাময়ে সরকারি একটি এবং বেসরকারি ১৬টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপবিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, হতদরিদ্রের বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশা ইয়াবা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিলসহ নানা ধরণের মাদক। মাদকের আগ্রাসন রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ারে মারা গেছে অসংখ্য মাদকের কারবারি। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াল আগ্রাসন। বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।তিনি বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোরেরা বিপথে যাচ্ছে। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে। চাকরি পেতেও ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে যুবসমাজের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ হতাশা থেকে অনেকে মাদকাসক্ত হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচারের সাথে মাদক যুক্ত হওয়ায় কম বয়সে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু মাদকের বিস্তার স¤পর্কে বলেন, মাদকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির গভীর স¤পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান কম। এ কারণে বেকার যুবকেরা হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মাদকের প্রতি ঝুঁকছেন। ফলে বাংলাদেশ এখন মাদকের রমরমা বাজার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাদক কারবারির অন্যতম গডফাদার হচ্ছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। যারা তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছে কিশোর গ্যাঙকে। মাদক বেচাকেনার ¯পটগুলোতে প্রকাশ্যে ক্ষমতা প্রদর্শন করে তারা।মাদক বিক্রির ¯পট নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপকে দমন, স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বাধা দেওয়াসহ নানা অপরাধে সব সময় সক্রিয় থাকে বিশোর গ্যাঙ। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে অনেক এলাকায় পুলিশি অভিযানের তথ্য আগেভাগেই পৌছে যায় কিশোর গ্যাঙয়ের কাছে। এতে নিয়মিত অভিযানের বদলে আলোচিত ঘটনার পরই অভিযান জোরদার হতে দেখা যায়।জানা গেছে, নগরীর বেশিরভাগ মাদক ¯পট বস্তিকেন্দ্রিক। বহিরাগত কেউ এসব এলাকায় ঢুকলে কিশোর গ্যাঙয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। মোবাইল ফোনে অর্ডার দিলেও নাকি কারবারিরা যথাস্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।চান্দগাঁও থানার ৮ নম্বর রেললাইন সংলগ্ন বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের হট¯পট হিসেবে পরিচিত। সেখানে সাজু ও সেলিম নামে দু‘জন মাদক কারবারে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একই এলাকায় সাজুর পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার বহু প্রমাণ আছে। এদিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় ঝর্ণা নামে এক নারী ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কাজীর হাটের কুমারপাড়ায় আলোচনায় রয়েছে ফারুক মেম্বারের নামও।অনুসন্ধানে জানা যায়, টাইগারপাস আমবাগান এলাকায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি মাদক কারবারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাঙয়ের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানার বটতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন কুমিরা বাস এলাকায় হোসেন ও সাহিদা, আগ্রাবাদ এলাকায় মনা বেগম, শাহ আলম ও রুবির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের প্রমাণ আছে। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাঙকে ব্যবহার করে মাদক ¯পট নিয়ন্ত্রণ করা হয়।জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে কিশোর গ্যাঙয়ের সদস্যরা হামলা, ইট-পাথর নিক্ষেপ, পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ এবং গ্রেপ্তার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সম্প্রতি নগরীর খুলশী ও টাইগারপাসের আমবাগান এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন ও এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে চিহ্নিত মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তারের সময় কিশোর গ্যাং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন। পাথর নিক্ষেপে আহত হন আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। হামলার সময় পুলিশের ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।ডবলমুরিং থানার এএসআই বাবলু বলেন, আলমগীরকে গ্রেপ্তারের পর কিশোর গ্যাং সদস্যরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন গুরুতর আহত হন।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) জনাব মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, অভিযানে আলমগীরকে দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকিসহ কয়েকটি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের আজকের মধ্যে মাদক ব্যবসা ছাড়তে হবে। নইলে কাল তাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক, আর কোনো ছাড় নয়।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরেরা বিপথগামী হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাঙয়ের মাধ্যমে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। মাদকের উৎস বন্ধ, মাদকাসক্তের চিকিৎসা এবং সর্বোপরি মাদক বিরোধী ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭ দিন আগে
প্যারোলে মুক্তির পেয়ে পরলোকগত মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অঝোরে কাঁদলেন সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কারাগার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি শেষকৃত্যে উপস্থিত হন। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। এর আগে মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য তার ভাই অঞ্জন কুমার ধর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আবেদনটি অনুমোদন করেন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ৫ ঘন্টার জন্য তাকে কারাগার থেকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে বেলা ৩ টা ৪০ মিনিটে তাকে কারাগার থেকে বের করা হয় এবং বিকাল ৫ টা ৫ মিনিটে তাকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ পুণ্ডরীক ধামে আনা হয়। পরে তার মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬ টা ৩২ মিনিটে পুণ্ডরীক ধাম থেকে পুনরায় চট্টগ্রাম কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাটহাজারীর উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাতা ক্যান্সার আক্রান্ত সন্ধ্যা রাণী ধর (৭০) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
৭ দিন আগে
মদ-গাজা, গাম, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ-আইস, হেরোইনসহ কি নেই। সব ধরণের মাদকে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা। যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। শুধু ভাসছে না, এসব মাদক বিক্রয় ও সেবনে পুরো অস্থির চট্টগ্রাম।মাদকসেবি কারা ও মিলছে কোথায়প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, বয়স ও শ্রেণি ভেদে এসব মাদক সেবন হয়। যেমন মদ-গাজা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল সেবন করে নিম্ন শ্রেণি থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণি পর্যন্ত। যা মিলছে নগরীর আিলগলি থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবে। সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর অন্তত ৫০০ স্পট ও জেলার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিলছে এসব মাদক।আর বিদেশি মদ উচ্চবিত্তদের সুপেয় খাবার, যা মিলে নগর ও জেলার বিভিন্ন অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্লাবে। একই সাখে হেরোইন ও ক্রিস্টাল মেথ-আইসও সেবন করছে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই। একমাত্র ইয়াবা সেবনে নেই কোন শ্রেণি বিভেদ। সহজলভ্য হওয়ায় ইয়াবা এখন সব শ্রেণি পেশার মাদক সেবির খাবার।অনেক নিংস্ব বেকার যুবকেরাও এই ইয়াবা সেবন করে থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে-শিশু-কিশোররা পর্যন্ত বাদ নেই মাদক সেবন থেকে। বিশেষ করে নগরীর মোড়ে মোড়ে পথশিশুরা এক ধরণের গাম সেবন করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।আর এই মাদক কিনতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। ডাকাতির মতো ঘটনার সাথেও জড়িত হচ্ছে তরুণ-কিশোর ও পথশিশুরা। এমনকি নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যার প্রভাবে জর্জরিত শহর-বন্দর ও সমাজ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক বিক্রয় ও সেবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি জড়িত। এরপর রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। বাকি অন্যান্য সম্প্রদায়ও মাদক বিক্রয় ও সেবনে জড়িত। অথচ ইসলামসহ সব ধর্মে মাদক সেবন হারাম বা নিষিদ্ধ।রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্যতম পেশা মাদক ব্যবসাপ্রত্যন্ত এলাকার সচেতন মানুষের মতে, সমাজের সবচেয়ে হতদরিদ্র বেকার যুবকরা এক সময় দেশে তৈরি চোলাই মদ ও গাজা বিক্রি করত। যা তাদের আয়ের একমাত্র পথ ছিল। অত্যন্ত গোপনে আড়ালে আবডালে থেকে মদ ও গাজা বিক্রি করতেন তারা।আর যারা সেবন করতেন তারাও এক সময় আয়ের পথ হিসেবে মদ-গাজা বিক্রি শুরু করে। আর এ কাজ করতে গিয়ে নিকটস্থ থানা পুলিশকে মাসোহারা হিসেবে নিদিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতেন। দিতে হতো মদ গাজাও। যা সেবন করতেন থানা পুলিশও। এই সহজ পথ সুগম হওয়ায় মাদকের বিস্তৃতি ঘটে নগর-বন্দর থেকে অলিগলি পর্যন্ত।যা নজরে পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। যারা মাদক বিক্রেতাদের সাথে মিশে শুরু করে মাদক ব্যবসা। যার প্রসার এখন দিগন্ত ছোঁয়া। ব্যবসার সুবিধার্থে তারা ব্যবহার করে দলীয় পদ-পদবি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে এখন চলছে মাদক ব্যবসা। এর মধ্যে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা। ক্রিস্টাল মেথ-আইস ও হেরোইন বেচাকেনা।রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে দিনের বেলায় টেন্ডারবাজী, দখলবাজী করলেও গোপনে করছে মাদক ব্যবসা। দলীয় নেতাকর্মীদের সিংহভাগের পেশা এখন মাদক ব্যবসা। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকে দেশের অসৎ লোকেরা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসায়ী, বাহক ও বিক্রির নেটওয়ার্কে প্রতি বছরই লোকসংখ্যা বাড়ছে। এদের সাথে দারুণ সখ্যতা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে। এতে অসহায় সাধারণ মানুষ।সিএমপির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত ৯০ জনের একটি তালিকা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরেকটি তালিকা করা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকদের। এই তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনীতিক ও থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নামও আছে।এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নাম রয়েছে এ তালিকায়। রয়েছে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন, শৈবাল দাস সুমন, এসরারুল হক এসরার, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুর নামও।যারা নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত শত শত নেতাকর্মী দিয়ে মাদক বিক্রয় ও পাচার করেন। একই পথে রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শত শত প্রভাবশালী নেতাকর্মী। নতুন তালিকা না হওয়ায় যাদের নাম এখনো পর্যন্ত তাািলকাভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম মাদক পরিবহনের প্রধান রুট। এর সঙ্গে কিছু গডফাদার যুক্ত। গডফাদার ও ব্যবসায়ীদের তালিকা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাদক পাচার ও সেবনে খোদ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীদেশে মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অর্ধিদপ্তর, পুলিশ-আনসার-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকলেও মূলত সংস্থাগুলোর সদস্যরাও লিপ্ত মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয়ে। যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।মাদকের সাথে জড়িত থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। যার মধ্যে পুলিশ ও আনসার সদস্য বেশি। যারা চাকরি হাারিয়েও ছাড়েনি মাদক বিক্রয়, পাচার ও সেবন। বরং উল্টো আঁকড়ে ধরেছেন মাদক ব্যবসাকে। ফলে থেমে নেই মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়।গত ২০ আগস্ট এক অভিযানে মিলেছে এর প্রমাণ। সেদিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবার আসর থেকে চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমান আদালত। আদালত তাদের তিন মাসের কারাদন্ড দেন।নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। ইয়াবা পাচারের দায়ে দু‘বছর আগে চাকরি হারান তিনি। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ডিবি-দক্ষিণ), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শেখ শরীফুল ইসলামের তথ্য মতে, গত কয়েকবছরে মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসার সদস্যের চাকরি গেছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছেন।তবে অভিযোগ উঠেছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়-তখন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ঠিক তেমনি পরিস্থিতি এখন চট্টগ্রামের। নগরবাসীর ভাষ্য, সন্ধ্যা থেকে রাত দূরের কথা, দিনে-দুপুরেও অনেক পুলিশ সদস্য মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশই হয় ইয়াবা আসক্ত, নয় তো মদ্যপ। যারা মানুষের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করে। মানুষ যখন বুঝতে পারে তিনি নেশাগ্রস্ত তখন সেদিকে কান না দিয়ে চলে যায় নিজ গন্তব্যে। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছে।চট্টগ্রামে মাদকের স্পটনগরবাসীর মতে, চট্টগ্রাম শহরের সবগুলো প্রধান সড়ক ও উড়াল সড়কের নিচে বসে দিনে দুপুরে মদ-গাজা সেবন করে কিশোর থেকে উঠতি যুবকরা, এমনকি মধ্যবয়সী লোকজনও। রেল স্টেশন, বাস স্টেশনগুলো যেন মদ গাজা সেবনের নিরাপদ জায়গা।এছাড়া বরিশাল কলোনি, চট্টগ্রাম কদমতলী বাস টার্মিনাল, মতিঝরনা, এনায়েতবাজার গোয়ালপাড়া, বায়েজিদ শের শাহ কলোনি, অক্সিজেন মোড়, ফিরোজ শাহ কলোনি, অলংকার মোড়, পাহাড়তলী, টাইগারপাস, বাটালি হিল চান্দগাঁও মাদকের সবচেয়ে বড় বাজার।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ৪-৫ বছর বয়সী পথশিশুরা পর্যন্ত মদ গাজা ও গাম জাতীয় মাদক সেবন করে। তাদের এসব দেখে না কোনসময়। পুলিশ এদের পাশ দিয়ে হেটে যায়, আর গালি দিয়ে বলে খা, খানকির পোলারা, খেয়ে মর। অলি গলি পেরিয়ে এবার চোখ দেয়া যাক চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টের দিকে।নগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় অবস্থিত অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লু-বে, চট্টগ্রাম ক্লাব, জিইসির মোড়ে অবস্থিত পেনিনসুলা, আগ্রাবাদে অবস্থিত হোটেল আগ্রাবাদ, হোটেল সেন্টমার্টিন, পতেঙ্গা বোট ক্লাব, নন্দনকানন পুলিশ প্লাজাসহ থ্রি স্টার থেকে ফাইভ স্টার মানের সবগুলো হোটেলে দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য সেবনের নিরাপদ স্পট।এসব হোটেলের বারগুলো যেন একেকটা পাপপুরি। ইয়াবা থেকে নিয়ে সব ধরণের দেশি-বিদেশি মাদক মিলে এসব হোটেলে। দেশের শিল্পপতি ও রাজনীতিকরা এসব পাপপুরির খদ্দের। আর এসব হোটেলে মাদক বিক্রয় ও সেবনের লাইসেন্স দেয় মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর। ফলে এসব হোটেলের দিকে চোখ তুলে থাকায় না প্রশাসনের কেউ।মাদক ব্যবসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, মাদক বেচাকেনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ খাতে ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স ও জোত পারমিট দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেগুলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মাদক সরবরাহ করা হয়।এক্ষত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খাতগুলোর তালিকা প্রকাশ করলেও লাইসেন্স বা জোত পারমিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম গোপন রেখেছে। যার কারণে প্রতিষ্টানগুলোর নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর খাতগুলো হলো :১. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) ব্যবহারের পারমিট২. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স৩. প্রিকারসর কেমিক্যাল/ সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স আমদানী রপ্তানী লাইসেন্স৪. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণলাইসেন্স৫. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স মজুদ ও পাইকারী বিক্রয় লাইসেন্স৬. প্রিকারসর কেমিক্যাল খুচরা বিক্তির লাইসেন্স৭. প্রিকারসর কেমিক্যাল ব্যবহারের পারমিট৮. বিলাতীমদের বন্ধেত পণ্যাগার লাইসেন্স৯. বিলাতীমদের আমদানী/রপ্তানী লাইসেন্স১০. বিলাতীমদের ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশন১১. বিলাতীমদ মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স১২, বিলাতীমদ মজুদ ও খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স (অফ শপ)১৩. হোটেল, বেস্তোরা, হোটেল কাম রেস্তোরা, বিনোদন কেন্দ্র, বিমান কন্দর, রিসোর্ট থিমপার্ক ইত্যাদি স্থানে বারও বিলাতী মদ খুচরা বিক্রম/পরিবেশন লাইসেন্সঃ১৪. বিলাতীমদের ক্লাব লাইসেন্স১৫. বিলাতীমদ ডিউটি ফি শপ১৬. বিলাতীমদের লেট ক্লোজিং লাইসেন্স (রাত ১০ টার পর সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা)১৭. দেশীমদ খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স১৮. ইথানল আমদানি লাইসেন্স১৯. ইবানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২০. ইথানল ব্যবহার২১. ইবানল খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২২. মিথানল আমদানি২৩. মিথানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২৪. মিথানল ব্যবহার২৫. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) আমদানি লাইসেন্স২৬. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) ব্যবহারের লাইসেন্স২৭. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২৮. বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট।এ্যাবসলিউট ২৯. এ্যালকোহল/ইখাইল এ্যালকোহল/স্ট্রং এ্যালকোহল (এইচ এস কোড-২২০৭) মজুদ ও ব্যবহারের পারমিট৩০. হোামিওপ্যাথিক ঔষধ প্রসম্মুতের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট/স্টং এ্যালকোহল ইবাইল এ্যালকোহল (ইবাইল)(এইচ এস কোড -২২০৭) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ঔষধ (মাদার টিংচার) তৈরীর উপাদান হিসেবেব্যবহারের পারমিট।৩১. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কর্তৃক ঔষধ শক্তিকরণ (ডাইলুশন) এর জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট মজুম৩২. ডিফোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (মহানগর এলাকা)৩৩. ডিকোর ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (অন্যান্য এলাকা)৩৪. ডিনেচার্য ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (মহানগর এলবাম)৩৫. ডিকোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (অন্যান্য এলবাম)৩৬. ডিকোর্ড ¯িপরিট ব্যবহারের পারমিট৩৭. মাদকাসক্তির পরামর্শ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের লাইসেন্সদেশের ১০৫ পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে বিদেশি মাদকওদেশের সীমান্ত, বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকাগুলো দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদক। এমনকি আকাশপথ ও কুরিয়ার সার্ভিস দিয়েও আসছে নিত্যনতুন মাদক। ১৮টি সীমান্ত জেলার ১০৫টি পয়েন্টকে মাদকের সেফ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তারা বলছে, এ পয়েন্টগুলো দিয়েই ২৭ ধরনের মাদক আসছে নানা কায়দায়। ফলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি স্থানেই মাদকের বিস্তার ঘটেছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অ্যানুয়াল ড্রাগ রিপোর্ট বাংলাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেও উচ্চমূল্যের মাদক আসছে।জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং অরক্ষিত সীমান্তের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।বাংলাদেশ পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, উত্তরে আসাম, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম দ্বারা বেষ্টিত। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের (বার্মা) সঙ্গে সীমানা রয়েছে। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি ভারত থেকে গাঁজা ও ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও আইস স্রোতের মতো দেশে প্রবেশ করছে। দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের ১৭ শতাংশ ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় আসছে। আর বাকি ৮৩ শতাংশ মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন ১৮টি জেলার ১০৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এগুলো হচ্ছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গী ও পলাশপুর; যশোর জেলার বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা এবং আশপাশের এলাকা; চুয়াডাঙ্গা জেলার কারপাশডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর; মেহেরপুর জেলার দারিয়াপুর ও বুড়িপটা; রাজশাহী জেলার মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদা, ইউছুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ি, বাঘা ও রাজশাহী সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট; জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি (প্রধান প্রবেশপথ);দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আকাশকারপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম ও বনতারা; সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিংগারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর; কুমিল্লা জেলার জগন্নাথ দিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপশাহ, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবিরবাজার এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।দেশের উত্তরাঞ্চল সীমান্তের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, বাশজানি, বলারহাট, বলাবাড়ি, কুটি চন্দ্রকোনা, পাথরডুবি ও নাখারগঞ্জ; লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী; শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী; ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা।দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সীমান্তের কক্সবাজার জেলার জালিয়াপাড়া, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং, সাউথপাড়া, ধুমধুমিয়া, জদিপাড়া, সাউথ হ্নীলা, লেদাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, তুমরু উখিয়া, কাটাখালী, বালিখালী, ঘুমধুম ও কাটাপাহাড়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধারকৃত মাদক, আসামি ও মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ২৬ হাজার ৯০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৭৮৯ কেজি হেরোইন, ২২৭ কেজি কোকেন, আফিম ৩৭৮ কেজি, ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫৩ বোতল ফেনসিডিল, অ্যা¤পুল ইনজেকটিং ড্রাগ ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৬টি, ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৫২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৮টি মামলায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৫১ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশলধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ইয়াবা পাচারকারীরা অভিনব কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে আসছেন। পেটের ভেতর, পেঁয়াজ ও কুমড়ায়, মোটরসাইকেল ও গাড়ির জ্বালানির ট্যাংক, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে বিশেষ বাক্সে করে আসছে ইয়াবা।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মানজুরুল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন কৌশলে নগরে মাদক ঢুকছে। সম্প্রতি নগরীর কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে দুজন ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পেটের ভেতর ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন তাঁরা। তাঁদের পেট থেকে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবা বের করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশে সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিদিনই ইয়াবা পাচার হচ্ছে। আবার প্রতিদিনই ধরাও পড়ছে। কিন্তু পাচারের তুলনায় জব্দ হচ্ছে খুব কম।সচেতন মহলের প্রশ্ননগরীর পুলিশ যেখানে মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িত সেখানে মাদক সেবন, বিক্রয় ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন?। মাদকের সাখে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারনে চট্টগ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খোদ মাদক ব্যবসায় জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলে মাদক ব্যবসা। এ অবস্থায় মাদক নিয়ন্ত্রণ হাস্যকর।তবে সিএমপির ভাষ্য, মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে গত কয়েক বছরে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসান সদস্যের চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মাদকসেবি ও পাচারকারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।যাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেছে। কারাগারে বন্দি আটকের ৭০ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। তবে কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে তারা আবার মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানান চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) জনাব মো. রইছ উদ্দিন।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যএ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মাদকসহ যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে। মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে চেক পোষ্ট বসিয়ে প্রায় সময় অভিযান চালানো হচ্ছে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশের ভেতরে মাদক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর রেল স্টেশন, বাস স্টেশনসহ উড়াল সড়কের নিচে এবং সড়কের মোড়ে মোড়েও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম বিপিএম বলেন, সীমান্তের কোন কোন পথে মাদক আসছে সেটা আমরা চিহ্নিত করেছি। মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেক সময় লোভ-লালসায় পড়ে এজেন্সির লোকজন মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। যেসব বাহিনীর সদস্যরা এসব কাজে জড়াচ্ছে, জানতে পারলে তাদের শাস্তিও হচ্ছে। মাদক প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সবসময় সজাগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। চলতি বছরেই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতেও প্রেরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরকারি বিধি মোতাবেক কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও জোত পারিিমট দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামে এমন ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেখান থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব যোগ হয়। বৈধ এই জোত পারমিট ছাড়া অবৈধ যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জ পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, মাদক সম্পৃক্ততায় প্রমাণিত আনসার সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে আনসার সদস্যরা এখন অনেক সুগঠিত। মাদক সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ এখন অনেকাংশে কমে গেছে আনসার সদস্যদের।
৭ দিন আগে
‘চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, রোগীদের রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগের জটিলতা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম পর্যন্ত তীব্র হর্নের শব্দ পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’
১১ দিন আগে
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে মূলমন্ত্র বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভীকতা এবং নিরপেক্ষতা- বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তা আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে।সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা সাংবাদিকতার জগতের সেই ক্ষতটিকে আবারও উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে মনের গভীরে তীব্র দহন তৈরি করছিল। শরীয়তপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির প্রতিনিধি এ বি এম ইসরাফিল, নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর সাথে ঘটে যাওয়া হামলা, ধারাবাহিক হেনস্তা ও আইনি হয়রানি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আসলে বর্তমান বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এক নির্মম ও বাস্তব প্রতিচ্ছবি।সাংবাদিক নেতারা যখন সরাসরি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবধারিতভাবেই সংকট তৈরি হয়। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং স্বয়ং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে মাঠপর্যায়ের সৎ সাংবাদিকরা আজ সম্পূর্ণ অসহায় ও অভিভাবকহীন।এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তাদের রোষানল, প্রকাশ্য হুমকি কিংবা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শরীয়তপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যদি পুরো দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে ত্রিমুখী চাপ রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসনের কারণেই সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।রক্ষক যখন ভক্ষকশরীয়তপুরের ঘটনার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ক্ষমতার তিনটি স্তর- স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক নেতৃত্ব একযোগে সাধারণ ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ও তিনটি দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রেসক্লাবের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এই জায়গাটির উন্নয়ন করেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ পার্ক সম্প্রসারণের নামে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের দিনের আলো এড়িয়ে রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান প্রথম ধাক্কাটি দেয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময় ও ক্ষোভের জায়গাটি তৈরি হয় তখন, যখন জেলা প্রশাসক দাবি করেন যে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে খোদ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতে।এখানেই মফস্বল সাংবাদিকতার আসল ট্র্যাজেডি স্পষ্ট । প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন একই সাথে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। একজন সাংবাদিক নেতার যখন এমন দ্বৈত ও সাংঘর্ষিক পরিচয় থাকে, তখন তিনি আর সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার অভিভাবক থাকেন না, বরং নিজের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে, প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদকে মেনে নেওয়া হয়, যা সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।মব-জাস্টিস ও প্রকাশ্য ফ্যাসিবাদের দোসর ট্যাগিংএমন প্রশাসনিক অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন এবং প্রতিবাদী পোস্ট দেন, তখন ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা জুড়ে দিয়ে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। প্রেসক্লাব চত্বরেই সেই ক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ ও তার দলবল ইসরাফিলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, নিজেদের প্রাণের প্রেসক্লাব উচ্ছেদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে হামলার শিকার হন সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা।এই হামলার মূল অভিযুক্ত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা যখন প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’ তখন তা আর কোনো সাধারণ অপরাধীর হুমকি থাকে না। এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে রাজনৈতিক ক্ষমতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন এ দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ দেখছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের এই ক্যাডারভিত্তিক মব-জাস্টিস এবং গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি আরেকটি উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থান ঘটে, তাহলে রাষ্ট্রের মৌলিক গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই দাঁড়াতে পারবে না। বিগত আওয়ামী আমলেও দেখা গেছে, প্রত্যন্ত উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতা-নেত্রীরা সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলীয় পদধারী এই নেতারা ভিন্নমতের সাংবাদিকদের যেমন কোণঠাসা করেছেন, একই সঙ্গে যখন ভিন্নমতের সাংবাদিকরা হামলা কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন তখন তারা প্রতিবাদ না জানিয়ে বরং জুলুমে সঙ্গত দিয়ে গেছেন।হামলা, পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানিশরীয়তপুরে সাংবাদিকতায় নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হয় কাউন্টার ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি মামলা বা পাল্টা মামলার সংস্কৃতি। সাংবাদিক ইসরাফিল ও আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা যখন থানায় অভিযোগ করতে যান, তখন পুলিশ তা নিতে গড়িমসি করে। অপরদিকে সাংবাদিকদের দমনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটভিত্তিক কৌশল। যখনই কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অপরাধ বা দাপটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আইনি পদক্ষেপ নেন, তখনই তাদের কণ্ঠ রোধ করতে পাল্টা চাঁদাবাজি বা মানহানির মামলা দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সাংবাদিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আপস বা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা হয়, তখন সাধারণ সাংবাদিকরা মার খায়।’ এমন একটি বাক্য বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূঢ় সত্য। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক নেতৃত্ব থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে অবস্থান করে। তখন পেশাগত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপকে নির্দেশ করে। স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত হলো যেকোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা দলীয় এজেন্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কিন্তু বাংলাদেশে জেলা-উপজেলার প্রেসক্লাবগুলো বহুদিন ধরেই সাংবাদিকতার চেয়ে স্থানীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদগুলো পেতে এখন মেধা বা পেশাদারির চেয়ে রাজনৈতিক লবিং ও দলীয় পরিচয় বরাবরই বেশি গুরুত্ব পায়।যখন একজন সাংবাদিক নেতা একই সাথে বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হন, তখন তার প্রথম আনুগত্য থাকে দলের প্রতি, সাংবাদিকতার প্রতি নয়। ফলে দলের কোনো নেতা-কর্মী যখন সাধারণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তখন এই নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রশাসন বা পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে উল্টো আক্রান্ত সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। শরীয়তপুরেও আমরা দেখছি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিনও আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেননি। এই দলীয় লেজুড়বৃত্তি মফস্বলের সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের ভেতর থেকে একা ও নিঃসঙ্গ করে দিচ্ছে।প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের উদাসীনতা এবং কর্পোরেট অবহেলাকোনো সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ হওয়ার পরে অনেক ক্ষেত্রেই বলতে শোনা যায় আমরা আমাদের কর্মস্থল থেকে কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। এটি বাংলাদেশের মিডিয়া হাউসগুলোর এক অন্ধকার দিক। ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যেসব গণমাধ্যম মালিক ও নীতি-নির্ধারকরা বড় বড় বুলি আওড়ান, মফস্বলের প্রতিনিধিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান প্রায় শূন্য। মফস্বলের একজন সাংবাদিককে প্রতিদিন অত্যন্ত সীমিত বেতনে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে, কেবল লাইনেজ বা সংবাদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া অংকের বিনিময়ে কাজ করতে হয়। তারা যখন স্থানীয় ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ আমলা বা রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন, তখন মিডিয়া হাউসগুলো সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাঠক, টিআরপি বা ভিউ বাড়ায়। কিন্তু সেই প্রতিবেদনের কারণে যখন ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে অবরুদ্ধ ও আক্রান্ত হন, তখন কেন্দ্রীয় অফিস অনেক সময়ই দূরত্বের অজুহাতে বা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয়।শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিক তো আক্ষেপ করে বলেছেন, এই বিপদে নিজের প্রতিষ্ঠানকেই পাশে পাননি তিনি। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা মফস্বল সাংবাদিকদের মানসিকভাবে আরো বেশি পঙ্গু করে দেয়। যখন একজন সাংবাদিক দেখেন যে আক্রান্ত হওয়ার পর তার নিজের প্রতিষ্ঠান, তার নিজের প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় প্রশাসন কেউ তার পাশে নেই, তখন তার পক্ষে ক্ষমতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ধরন একইশরীয়তপুরের এই ঘটনাটি যদি আমরা সমগ্র বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মানচিত্রে স্থাপন করি, তাহলে দেখব যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নির্যাতনের একটি সাধারণ প্যাটার্ন, ধরন বা ছক রয়েছে। এই ছকের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে প্রথমে তথ্য পাওয়ার অধিকারের টুঁটি চেপে ধরা। অর্থাৎ সরকারি বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়মের তথ্য চাইতে গেলে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা বর্তমানের সাইবার নিরাপত্তা আইন বা সরকারি গোপনীয়তা আইনের ভয় দেখানো হয়। নোটিশ ছাড়া প্রেসক্লাবের দেয়াল ভাঙা যেমন প্রশাসনিক স্বৈরাচার, ঠিক তেমনি সরকারি প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়াও একই সংস্কৃতির অংশ।দ্বিতীয়ত, বিশেষ করে মফস্বলে পুলিশ প্রশাসন সাধারণত স্থানীয় ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ইশারায় চলে। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দিলেও ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে অজুহাত দেখায়। অথচ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি মিথ্যা মামলা দিলে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তা গ্রহণ করে।প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এখন রাজনৈতিক দলের মতো প্রেসক্লাবগুলোও আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী- এমন সব ধারায় বিভক্ত। এই বিভক্তির কারণে এক পক্ষের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ খুশি হয় বা চুপ থাকে। সাংবাদিকদের এই নিজেদের ভেতরের ঐক্যহীনতাকেই পুঁজি করে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।সাংবাদিকতায় যে সংস্কার অপরিহার্যঅন্ধকূপ থেকে সাংবাদিকতাকে টেনে তুলতে হলে এবং সাংবাদিকদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কিছু মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন বাধ্যতামূলক। যেমন প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকদের যেকোনো ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে যেকোনো ব্যক্তি যদি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেন বা কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী হন, তবে তিনি কোনোভাবেই সাংবাদিক সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচন বা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। সাংবাদিকতা এবং সক্রিয় দলীয় রাজনীতি কখনো একসাথে চলতে পারে না।ঢাকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে তাদের মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল গঠন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি পেশাগত কারণে আক্রান্ত বা মামলার শিকার হলে, কেন্দ্রীয় আইনি দল দিয়ে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা সরাসরি জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা হয়রানিমূলক মামলা হলে এই কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা দিতে যেসব হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা বা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়, সেগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল থাকা উচিত। তদন্ত ছাড়া কোনো সাংবাদিককে এসব মামলায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা যাবে না- এমন আইনি বিধিমালা তৈরি করতে হবে।শরীয়তপুরের মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ্, বিধান মজুমদার, এ বি এম ইসরাফিল কিংবা জাহিদ হাসান রনিরা যে লড়াইটা লড়ছেন, তা কেবল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই নয়, তা মূলত বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক শেষচেষ্টা। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং কর্মস্থলের সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে সাংবাদিকরা আজ যেভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন, তা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ না হলে এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের কর্মীদের পক্ষে ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে সর্বস্তরেই একদিন বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ডেস্কে বসে সাজানো সংবাদের চেয়ে মাঠের সত্য উন্মোচন করায় যে সাংবাদিকরা নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, তাদের এই একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং স্বয়ং সাংবাদিক সমাজকেই নিতে হবে। ক্ষমতার কাছে সাংবাদিকদের এই অসহায় আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি যদি আজ ভাঙা না যায়, তাহলে আগামী দিনে কোনো অন্যায়, অত্যাচার বা দুর্নীতির কথা আর কখনো মূলধারার গণমাধ্যমে উঠে আসবে না।লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক এদিন
১৩ দিন আগে
সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
১৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবা আসরে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। আর ওই আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ বায়েজিদ খান আখন্দ। অভিযানে পুলিশ সদস্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) সহ তাদের তিন মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাদের ২০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান লোহাগাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হুদা। তিনি জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল নিউটন সিকদার অনেক আগে বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বাড়িতে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসত।খবর পেয়ে বুধবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে দু‘জনকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ বায়েজিদ বিন আখন্দ। ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার দু‘জনকে বৃহস্পতিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের তিন মাস করে কারাদন্ড ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করেন।এসআই জিয়াউল হুদা আরও জানান, অভিযানে পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল আংশ নেয়। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যান। নিউটনকে আটক করতে গেলে তিনি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। অন্যদিকে রাজেশ পাশের পুকুরে লাফ দেন। পরে সামান্য আহত অবস্থায় দু‘জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
২৮ দিন আগে
শুক্রবার সকালে পারকি সৈকতে হঠাৎ হৈচৈ। স্থানীয় মানুষ দেখলেন সমুদ্র সৈকতের চরে বসে গেছে স্কাভেটর আর ড্রেজার। মাটি আর বালু উঠছে। প্রশ্ন করতেই বলা হলো, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজ চলছে। কিন্তু মানলেন না স্থানীয়রা। জড়ো হয়ে বাধা দিলেন। শেষে চাপের মুখে যন্ত্র ফেলে পালিয়ে যায় মাটি আর বালু উত্তোলনকারীরা। খবর পেয়ে ভূমি অফিস ও পুলিশ এসে জব্দ করলেন মাটি ও বালু উত্তোলন যন্ত্র স্কাভেটর ও ড্রেজার। স্থানীয়দের অভিযোগ, পারকি লুসাই পার্ক নামের একটি রেস্টুরেন্টের লোকজন নিজেদের স্থাপনা ভাঙন থেকে রক্ষা করতে সৈকতের চর থেকে বালু-মাটি তুলে জিও ব্যাগ বসাচ্ছিলেন। আর কাজটিকে পাউবোর নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।পারকি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, লুসাই পার্কের ভাঙন ঠেকাতে তারা পারকি সৈকতে স্কাভেটর ও ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি খনন করছে। বাধা দিলেও মানছে না। বালু উত্তোলনের কারণে সৈকতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালিয়াড়ি এখন ধ্বংসের মুখে। ব্যক্তিগত স্থাপনা বাঁচাতে পুরো পারকি সৈকতকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। সৈকত রক্ষার নামে সৈকতই শেষ করা হচ্ছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আকবর খানের মুখে নির্লজ্জ কথন, এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। লুসাইয়ের মাটি ও বালুর দরকার নেই। লুসাইয়ের যে পার ভেঙেছে, তা আমরা লুসাইয়ের পুকুর খনন করেই নিতে পারব। তাহলে যন্ত্রপাতি জব্দ করা হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আকবর খান বলেন, না-এখানে কোনো কিছু জব্দ করে নাই। কর্ণফুলী থানার ওসি সাহেবের সাথে আমার কথা হয়েছে। ওসি সাহেবকে আমরা বলছি এটা ভুয়া খবর।বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের আরেক সদস্য আকরাম হোসেনের ভাষায়। তিনি বলেছেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি, পরে এসব ঠিক হয়েছে। পরক্ষণে লুসাই পার্কের আরেক সদস্য হাশেম চৌধুরী বলেন, যা লিখেন লুসাই পার্কের পক্ষে লিখেন।লুসাই পার্কের মালিকপক্ষের বক্তব্য যে ডাহা মিথ্যা তার প্রমাণ মিলল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদের বক্তব্যে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বললেন, পারকি সৈকতের লুসাই পার্কের পাশে পাউবোর কাজ সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। আমাদের কাজ লুসাই পার্কের আশপাশ থেকে অনেক দূরে। অন্যদিকে স্কাভেটর ও ড্রেজার জব্দের সত্যতা মিলল আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদারের মুখে। তিনি বলেন, ভূমি অফিসের লোকজন যন্ত্রপাতি জব্দ করেছে। জব্দ করা যন্ত্রপাতি এখন থানায়।সরেজমিনে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীনের ভাষ্য, পারকি সৈকতে মাটি ও বালু উত্তোলনের খবর পেয়েই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। সৈকত রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় লোকজনের মতে, আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। বর্ষায় এমনিতেই সৈকতের অবস্থা নাজুক থাকে। সৈকত রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়িবাঁধ তৈরির কাজ করলেও লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষ রাতের আধাঁরে, এমনকি প্রকাশ্যে মাটি ও বালু উত্তোলন করে সৈকতকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতে পর্যটকদের যেমন বিড়ম্বনা বাড়ছে, তেমনি উপকুলীয় ভাঙনে হুমকির মুখে পড়ছে আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বাঁশখালী, পটিয়াসহ চট্টগ্রাম শহর ।উল্লেখ্য, পারকি সৈকতের বুক ছিড়ে এই লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গড়ে তোলেন ফ্যাসিস্টের দোসর আনোয়ারা উপজেলার ২ নং বারশত ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আত্নগোপনে চলে যান এই চেয়ারম্যান। আর এই অবস্থায় লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট রক্ষায় ঢাল হয়ে দাড়ান বিএনপি নেতা আকবর খান ও আকরাম হোসেন সিন্ডিকেট। যারা চেয়ারম্যান এম এ কাইযুম শাহর মতো মাটি ও বালু উত্তোলন করে সৈকত ধ্বংসের মহোৎসবে মেতেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবো সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষের ধ্বংসাত্বক কাজের কারণে সৈকতের প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিগত বন্যায় বিলীন হয়ে গেছে। যা পাউবোর প্রজেক্টের আওতায় সংস্কার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ভাইস চেয়ারম্যানও সহযোগীরা। এতে ব্যর্থ হয়ে নিজেরাই বালু ও মাটি দিয়ে জিও ব্যাগ বসিয়ে লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বালু ও মাটি উত্তোলন আড়াল করতে পাউবোর নাম ভাঙাচ্ছেন।
১ মাস ১১ দিন আগে
হামে চার শিশুকে হারিয়েছে এক পরিবার। বেচে থাকার লড়াই চলছে আরও দুই শিশুকে নিয়ে। এদের একজন চিকিৎসাধীন আছেন চট্টগ্রাম মেডিকের কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। অন্যজন চিকিৎসাধীন নগরীর ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) এমন তথ্য জানিয়েছেন চমেক শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিয়া। তিনি জানান, বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম লেংটং খুমিপাড়ার বাসিন্দা পঅ এং খুমি-বৈনাং খুমি দ¤পতি গত দু‘দিনের ব্যবধানে হারিয়েছেন হামে আক্রান্ত দুই ছেলে।এর হলো খ্রেতং খুমি (৭) ও প্রেলং খুমি (৪)। তাদের দুই মেয়েও এখন হামে আক্রান্ত। এর মধ্যে বড় মেয়ে কোনোরকমে সুস্থ হলেও ছোট্ট মেয়ে লিংথং এ্যা খুমি লড়ছে। এর কয়েকদিন আগে হামে আক্রান্ত হয়ে পঅ এং খুমির আপন বোন পলি এং খুমি (৬) এবং অন্য এক বোন নাংখৈ খুমির ছয় বছরের ছেলে খৈয়তা এং খুমিও মারা যায়।এই চার শিশুর প্রাণহানিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খুমি পরিবারটি। এমনকি জোর হারিয়ে হয়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তবুও হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশুর প্রাণ বাচাতে চমেক হাসপাতাল ও বিআইটিআইডি হাসপাতালে লড়ছেন পরিবারটি।অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিয়া জানান, চট্টগ্রামে হাম কমেনি এখনো। প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ জন ভর্তি হচ্ছে। টিকা নেওয়ার পরও হাম হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় দেড়শজন হাম উপসর্গের রোগী চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বান্দরবান, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকে হাম আক্রান্ত রোগী আসছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, চমেক হাসপাতালের শয্যায় সাত মাসের ছোট্ট মেয়ে লিংথং এ্যা খুমি বেহুশের মতো শুয়ে আছে। নাকে দেয়া হয়েছে অক্সিজেন নল। মেয়ের পাশে আধশোয়া হয়ে পড়ে আছেন ক্লান্ত-শ্রান্ত মা। মা বৈনাংয়ের চোখেও যেন রাজ্যের ঘুম। পুত্রশোকে অনেক কেঁদেছেন, এখনো সময়-অসময়ে কেঁদে ওঠেন তিনি।ছেলে হারানো এই দম্পতি এখন সব জোর হারিয়ে ফেলেছেন। তবু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসাধীন মেয়েকে নিয়ে লড়ছেন এ দ¤পতি। পঅ এং খুমি-বৈনাং খুমি দম্পতির ভাষ্য, গত দু‘দিনের ব্যবধানে হামে আক্রান্ত দুই ছেলে খ্রেতং খুমি (৭) ও প্রেলং খুমি (৪) কে হারিয়েছেন তারা। বাকি দুই মেয়েও অসুস্থ। এর মধ্যে বড় মেয়ে কোনোরকমে সুস্থ হলেও ছোট্ট মেয়ে লিংথং এ্যা খুমি লড়ছে।এর ১০ দিন আগে হামে আক্রান্ত হয়ে পঅ এং খুমির আপন বোন পলি এং খুমি (৬) এবং অন্য এক বোন নাংখৈ খুমির ছয় বছরের ছেলে খৈয়তা এং খুমিও মারা যায় বলে জানান বৈনাং খুমি। শুধু চার শিশু নয়, বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম লেংটং খুমিপাড়ায় গত ১০ দিনে আরও ৭ শিশু মারা যায় বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, হামে আমাদের এক পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আমরা সবাই যৌথ পরিবারের বাসিন্দা। বর্তমানে আরও দু‘জনকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রামের দুই হাসপাতালে দিন পার করছি। পঅ এংয়ের বোন নাংখৈ খুমির ছোট মেয়ে যতন এং (৩) চিকিৎসাধীন ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে। চার দিন আগে মেয়েটিকে ভর্তি করা হয়।আর আমাদের মেয়ে লিংথংকে চমেক হাসপাতালে আনা হয় গত মঙ্গলবার। দু‘জনই বান্দরবান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চমেক হাসপাতালে নাতির সঙ্গে আছেন পাড়ার কারবারি শৈলুং খুমি। হাসপাতালে শৈলুং হামে আক্রান্ত পাড়াটির করুণ বর্ণনা দেন, গত এক সপ্তাহে আমার মেয়েসহ পরিবারের চার শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া আমার ভাইয়ের এক মেয়ে এবং বড় ভাইয়ের নাতিও মারা যায়। অন্য পাড়াবাসীর এক শিশুসহ ১০ দিনে ৭ শিশু মারা গেছে।তারা জানান, লেংটংপাড়াটিতে ২৬টি পরিবার। পেশা জুমচাষ। রুমা থেকে দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। দুর্গম পাড়ায় যাওয়ার কোনো বাহন নেই। পাহাড় ডিঙিয়ে রুমা উপজেলা সদরে আসতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। এখানে স্বাস্থ্যকর্মীর পা পড়ে না। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাড়াটির শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।শৈলং কারবারি জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২৪ জুলাই এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায় তার নিজের মেয়ে পলি এং ও মেয়ের ঘরের নাতি খৈয়তা এং খুমি। দু‘জনের বয়সই ছয় বছর। এ দুজনের মৃত্যুর পর পাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারবারির ছেলে পঅ এংয়ের চার সন্তানের জ্বর তখন।পরদিন ২৫ জুলাই অবস্থা খারাপ হলে পঅ এংয়ের বড় ছেলে খ্রেতং খুমিকে নিয়ে রুমা সদরের দিকে রওনা হন কয়েকজন। কিন্তু পথে তার মৃত্যু হয়। পরদিন বাকি তিন শিশুকে নিয়ে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে দ্বিতীয় ছেলে প্রেলং খুমিকে ২৭ জুলাই চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ওইদিনই প্রেলং মারা যায়।চমেকে মারা যাওয়া ছেলের মরদেহ নিয়ে দুর্গম লেংটংপাড়ায় ছুটে যান দ¤পতি। তখনো তাদের দুই মেয়ে বান্দরবান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পঅ এং খুমি বলছিলেন, আবার বান্দরবান হাসপাতালে যাই পরদিন। সেখান থেকে দুদিন আগে ছোট মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আসি। বড় মেয়ে পথাং এউং খুমিকে (১১) গত বুধবার বান্দরবান হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সুস্থ হয়েছে কিছুটা। এখন চিন্তা লিংথং খুমিকে নিয়ে। বোনের মেয়েটি আছে ফৌজদারহাট হাসপাতালে।চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের হাম ব্লকে তাকে রাখা হয়েছে। এখনো অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। একই শয্যায় রয়েছে আরও এক রোগী। শয্যাসংকটে এক শয্যায় একাধিক রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বান্দরবানের রুমার ছোট্ট লিংথং এ্যা খুমির পাশে বাবা-মা এবং দাদু সারাক্ষণ পাহারা দিচ্ছেন। এ কদিনে তারা অনেক মৃত্যু দেখেছেন। পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা আর মৃত্যু দেখতে চায় না।
১ মাস ১১ দিন আগে
চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল খ্যাত বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসায়ও উঠেছে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ। এই হাসপাতালে দুই প্রসূতিকে সিজারের পর জটিলতা দেখা দিলে তাদের আবারও অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে দুই প্রসূতিই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়ছেন বলে জানান স্বজনরা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট প্রসববেদনা নিয়ে চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাজু আক্তার পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিকেল ৫টার দিকে প্রথম সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু তাদের না জানিয়েই রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।সাজু আক্তারের মা অভিযোগ করেন, বিকেল ৪টার দিকে মেয়েকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর রাত ৯টা পর্যন্ত আমাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। প্রথম অপারেশনের পর অনেক রক্তক্ষরণ হয়। আমাদের না জানিয়েই আবার অপারেশন করা হয়েছে। এখন আমার মেয়ে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।একই রাতে আগ্রাবাদ এলাকার মারিয়া নামের আরেক প্রসূতির ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। তারা জানান, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা শিখার অধীনে ভর্তি হওয়া মারিয়ারও দু‘দফা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়।মারিয়ার বড় ভাই অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আনার সময় আমার বোন সুস্থ অবস্থায় ছিল। প্রথম সিজারের পর কী কারণে এত রক্তক্ষরণ হলো, তা আমাদের জানানো হয়নি। পরে আবার অপারেশন করা হয়। এখন সেও আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। তিনি আরও দাবি করেন, সংকটজনক অবস্থায় তার বোনকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দিয়েছে ওয়ার্ডবয়।অভিযোগের বিষয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা শিখার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পার্কভিউ হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি।এর আগে কয়েক মাস আগে একই হাসপাতালে দুই নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাকে ‘স্কাল্প ইনজুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে। এছাড়া ওই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক টেলিভিশন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একই হাসপাতালে বারবার চিকিৎসা-সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক। দুই প্রসূতির বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা এবং আগের ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে কী ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
১ মাস ১২ দিন আগে
আগামী ২৫ বছরের উন্নয়ন রূপরেখা হিসেবে প্রণীত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের (২০২৫-২০৫০) সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব ওয়ান সিটি টু টাউন। যেখানে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে সমন্বিত করে গড়ে তোলা হবে দুটি সমান্তরাল নগরকেন্দ্র। যা করতে নগরবাসীর পরামর্শ চায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।সে লক্ষ্যে আজ ১ আগস্ট শনিবার থেকে শুরু হলো এই মহাপরিকল্পনার ওপর ৬০ দিনব্যাপী গণশুনানি ও জনমত গ্রহণ কার্যক্রম। চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চউক ভবনে সরাসরি এবং অনলাইনে নগরবাসী নিজেদের মতামত, আপত্তি ও পরামর্শ জানাতে পারবেন।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)-এর চূড়ান্ত খসড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্পের পরিচালক ও চউকের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী। মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন কৌশল স¤পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।গণশুনানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত কয়েক দশকের অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে চট্টগ্রাম তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, খাল ও জলাধারের বড় অংশ হারিয়েছে। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মাস্টারপ্ল্যানে নতুন খাল খনন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণ, বিশেষ অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান এবং ভূমি মালিকদের অংশীদার করে উন্নয়ন বাস্তবায়নের মতো একাধিক নতুন উদ্যোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও রাউজানসহ আশপাশের এলাকাকে সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।চউকের প্রত্যাশা, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চূড়ান্ত হওয়া এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই দশকের মধ্যে কর্ণফুলীর দুই তীরে গড়ে উঠবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চট্টগ্রাম যেখানে ওয়ান সিটি টু টাউন হবে নগর উন্নয়নের নতুন মডেল।প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ১৯৬১, ১৯৯৫ ও ২০০৮ সালের পর এটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। একটি এলাকার সমস্যা সেই এলাকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই নাগরিকদের যৌক্তিক মতামত যাচাই-বাছাই করেই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন থেকে নকশার বাইরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী নকশা লঙ্ঘনকারীদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের নান্দনিক মহানগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বলেন, জনমত গ্রহণের জন্য নাগরিকরা ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চউক ভবনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অথবা ডিজিটাল ওয়েব জিআইএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত ও আপত্তি জানাতে পারবেন। পরিকল্পনায় পলিকেন্দ্রিক গ্রোথ মডেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে ওয়ান সিটি টু টাউন ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনোয়ারার জন্য পৃথক অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান রাখা হয়েছে।জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর এলাকায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং বৃহত্তর এলাকায় ১১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার নতুন খাল খননের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ভূমি মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর) গাইডেড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ট্রাইপার্টাইট মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।চউক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী পৌরসভা ও উপজেলার প্রায় এক হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ স¤পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মোট ১৯টি খাতে ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রয়েছে।
১ মাস ১৭ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিদিন আহতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এ থথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দু‘বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের বহু আহত জুলাই যোদ্ধা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শরীরে বাসা বাঁধা গুলির স্পিøন্টার, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা অঙ্গহানির কারণে প্রতিনিয়ত শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তারা।তিনি বলেন, আন্দোলনে আহত অনেকের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি তদারকি প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন আসা রোগীদের অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাদের উন্নত বা জটিল অস্ত্রোপচার দরকার, তাদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী আহতদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে সরকার। এর মধ্যে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা অতি-গুরুতর এ ক্যাটাগরিতে আছেন ৬ জন। গুরুতর বি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন। কম গুরুতর সি ক্যাটাগরিতে আছেন ৫০৫ জন।দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনে গঠিত এই বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন আহতকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন। বোর্ডে চিকিৎসাধীনদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নির্দেশনা, ওষুধ দেওয়া ছাড়াও অর্থোপেডিক প্লেট অপসারণ এবং জটিল চোখের রোগীদের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
১ মাস ১৮ দিন আগে
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সরকারি খাসজমি দখল নিয়ে দু‘পক্ষের গোলাগুলিতে জিল্লুর রহমান (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য জানান চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আল আমিন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোর রাত চারটার দিকে বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের পশ্চিম সরল গ্রাম থেকে শটগানের রাবার বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় জিল্লুর রহমানকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।।নিহত জিল্লুর রহমান (৩২) উপজেলার পশ্চিম সরল গ্রামের বাসিন্দা। পরে একই গ্রামের কাউসার ও বেলাল নামে গুরুতর আহত দু‘জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। তারাও গুলিবিদ্ধ।বাঁশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, সরকারি খাসজমিতে একপক্ষ লবণের মাঠ করেছে। আরেক পক্ষ মাছের চাষ করছে। সেই খাসজমি দখলে নেওয়ার জন্য দু‘পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। সুনির্দিষ্টভাবে কারা ঘটনায় জড়িত সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বঙ্গোপসাগরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে গড়ে তোলা লবণের মাঠ ও মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে রাত ২টার দিকে দু‘পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ের পর পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।
১ মাস ১৮ দিন আগে
গত ২১ জুলাই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবহন খাত থেকে শিল্প কারখানা, এমনকি রান্নাবান্নায়ও হাহাকার শুনা যাচ্ছে শুধু।গ্যাসের এই নিম্নচাপে দিন দিন পিষ্ঠ হচ্ছে জনজীবন। ফলে যেকোনো মূল্যে দ্রুত এর সমাধান চান সাধারণ মানুষ। কিন্তু সহজে এই সমস্যা সমাধানের কোন আলামত মিলছে না। ১ আগস্ট থেকে কিছুটা উন্নতির কথা বললেও ১১ আগষ্ট পর্যন্ত গ্যাসের নিম্নচাপ স্বাভাবিক হচ্ছে না।এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) মো. রফিক খান। তিনি বলেন, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকান্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।এতে বড় ধাক্কা লেগেছে আমদানিকৃত এলএনজি নির্ভর চট্টগ্রামে। দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২২৫ থেকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। যা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম।এর ফলে নগরীর শিল্প, বিদ্যুৎ, সার কারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আবাসিক খাত পর্যন্ত সর্বত্র গ্যাসের সংকট চলছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। গ্যাসের অভাবকে পুঁজি করে সিএনজিচালিত টেক্সি ভাড়া ইচ্ছেমতো হাঁকা হচ্ছে।নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলায়ও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রপ্তানিমুখী শিল্প, উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।মো. রফিক খান বলেন, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) বন্ধ রয়েছে। কেবল কাফকোতে সার উৎপাদন চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সীমিত আকারে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। এই কেন্দ্রে দৈনিক ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিরক্তিকর পর্যায়ে ঠেকেছে।কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও সার খাতের জন্য গ্যাস বরাদ্দ দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক এবং সিএনজি সব খাতের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এত অল্প গ্যাস দিয়ে পুরো নেটওয়ার্কে চাপ ধরে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দূরবর্তী এলাকা তো বটেই, নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে।চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় বয়লার স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্টিল, রি-রোলিং, কাচ, সিরামিক, টেক্সটাইল, ¯িপনিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিভিন্ন মাঝারি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক স্টেশন পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং নগরজীবনে পড়তে শুরু করেছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে ইতোমধ্যে টেক্সিগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।কেজিডিসিএলের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ভাসমান টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। বরং জাতীয় চাহিদা বিবেচনায় অন্য অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে হলে চট্টগ্রামে আরো কাটছাঁট করতে হতে পারে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার দিতে হলে চট্টগ্রামের শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে।ওই কর্মকতা বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায়ও চট্টগ্রামের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ২৭০-২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সংকট শুরুর আগেও চট্টগ্রামে ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়া হচ্ছিল। বর্তমানে আরো কমিয়ে ২২৫-২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। বুধবার থেকে সরবরাহ ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন না বাড়লে এবং এলএনজি আমদানি ও রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা আরো সম্প্রসারণ না করলে গ্যাস সংকট সহজে কাটবে না। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে। সেই ঘাটতি পূরণে এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও এলএনজির উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালে সাময়িক দুর্ঘটনা যে পুরো দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের রাজধানীতেও প্রভাব পড়েছে গ্যাস সংকটের। তিতাসের আওতাধীন রাজধানীতে প্রতিদিন ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ পাচ্ছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসা বাড়িতে রান্নায় বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও কোথাও একেবারেই চাপ কম থাকায় বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি বলছে, তিতাসের আওতায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ১৫৫ কোটি ঘনফুটের মত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন রাজধানী ও আশেপাশের জেলায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।ভোক্তাদের ভাষ্যগ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর গ্যাস পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুসারে গ্যাস পাচ্ছেন না বিভিন্ন পরিবহন চালক-শ্রমিকরা। আয় সীমিত হয়ে যাওয়ায় পরিবহনে নির্ভর দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা তলিয়ে যাচ্ছেন চরম আর্থিক সংকটে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর টাইগারপাস এলাকায় ইন্ট্রাকো ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিক্সা চালক মনজুরুল ইসলামের সাথে গ্যাস নিয়ে কথা বলতেই হাতে চোখের জল চেপে ধরেন তিনি।তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও গ্যাস ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দৈনিক আয়ও কমে গেছে। সংসার চলবে কীভাবে সে চিন্তায় হয়তো মরেই যাব। তিনি গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান।রাইড শেয়ারিংয়ে ভাড়ায় কার চালান বহদ্দারহাট এলাকার নাছির উদ্দিন। এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে নাকাল নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে অনেক পাম্প, কিন্তু বেশিরভাগই বন্ধ। যেগুলোতে আছে, চাপ খুব কম। সে কারণে সিলিন্ডারের অর্ধেক পরিমাণও গ্যাস ঢুকছে না।হালিশহর এলাকার নাজমা বলেন, গত একসপ্তাহ ধরে চুলাই গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, কোনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। রাত নয়টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। অন্য কোনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদের গৃহিণী সাইরা বেগম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এভাবে আর কত দিন চলা যায়?এদিকে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন বলে জানা গেছে। প্রায় ২০ দিন ধরে সেখানে গ্যাস-সংকটে আছেন তাঁরা। বাসাবাড়িতে কেউ কেউ বিদ্যুৎ-চালিত চুলা কিনে রান্নাবান্নার কাজ সারছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করছেন বলে জানাচ্ছেন তারা।এছাড়া ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায়ও দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে, রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।ভোগান্তির চিত্র রাজধানীর গ্যাস পাম্পগুলোতেও। ফিলিং স্টেশনের বাইরে যানবাহনের লম্বা সারি। তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালক-শ্রমিকরা। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভাড়ায় চালিত গাড়ি চালকরা। ফলে পুরো পরিবহনখাতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।গ্যাস সংকটে ঢাকার রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল কমে গেছে, বেড়ে গেছে ভাড়া। আবদুস সামাদ নামে এক চালক বলেন, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতেছে পাম্পেই। তাও যে গ্যাস ঢুকে, তাতে আধা বেলা গাড়ি চালান যাচ্ছে না। এজন্য ড্রাইভাররা গাড়িই বাইর করতেছে না। খাব কি? ভাড়া তো বেশি চাওয়া লাগবেই।ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুই-তিন মাস আগেও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এমন তামাশা করা হয়েছিল। পরে সেই তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন কৃত্রিমভাবে গ্যাস সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর কোনো অপচেষ্টা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, লাইনে আমাদের দেওয়ার কথা ১৫ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চ) চাপের গ্যাস। সেখানে আমাদের তিন থেকে পাঁচ পিএসআই পর্যন্ত দেওয়া হয়।তিনি বলেন, লাইনে ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস থাকলে আমাদের মেশিনগুলো ঘণ্টায় ৫০০ কিউবিক মিটার গ্যাস কমপ্রেস করতে পারে। আর আমরা গাড়িতে গ্যাস ডেলিভারি দেই তিন হাজার পিএসআই প্রেশারে। ইনপুটে পিএসআই যত কমবে, আউটপুটও তত কম আসবে।ব্যবসায়ীদের ভাষ্যচট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, কারখানায় ৭৫ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকিও আছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে।তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধ লাখ শিল্প-কারখানা রয়েছে, যার বড় অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ৬০-৭০ লাখ শ্রমিক। এক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে, কোথাও শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।কবির ষ্টিলের পরিচালক তানজির হোসেন বলেন, তিন থেকে চার পিএসআই গ্যাস সরবরাহ থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের চাপ এত কম যে শ্রমিক ও অপারেটরদের অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, সব মিলকারখানা বন্ধ প্রায়। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎও নেই। কত দিন থাকবে না, সেটা সরকার ঘোষণা দিতে পারে। তাহলে শ্রমিকদের বসিয়ে না রেখে ছুটি দেওয়া যায়।মেরামতের আশাপেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কো¤পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল স্থানীয় কারিগরি দলের সাথে মিলে এর মেরামত কাজ শুরু করেছে। টার্মিনালের দুটি বয়লারের মধ্যে আগুনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্ষত বয়লারটি ৪-৫ দিনের মধ্যে চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে। তাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়বে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি মেরামত হয়ে সচল না হওয়া পর্যন্ত এবং জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন ও শিল্প-কারখানার এই সংকট স¤পূর্ণ কাটবে না। এতে আরও কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে।সূত্র মতে, এই দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জের প্রায় ২০০টিরও বেশি টেক্সটাইল, স্টিল ও সিরামিক কারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ ১,০০০ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৭০০ মিলিয়নে নামানো হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ছে।একই সঙ্গে ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, বাড্ডা ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা রান্নার গ্যাস থাকছে না। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ১-২ পিএসআই-এ নেমে আসায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং অনেক স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড-এর উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির বলেন, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল চালু রয়েছে। সাধারণত এসব টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো। তবে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ত্রুটি সারানোর কাজ চলমান আছে। আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট অনেকই। তাদের ভাষ্য, মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অপরটি পরিচালনা করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। এক সপ্তাহ আগে এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালের একটি বয়লারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর পুরো টার্মিনালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের চেষ্টা করেও সফল হননি। বিদেশ থেকে প্রকৌশলী এনেও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। কবে নাগাদ টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। আগুনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যটি সচল করা গেলে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। প্রকৌশলীরা সেটি চালুর চেষ্টা করছেন। আগামী ১ আগস্ট নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি ঠিক হতে পারে। বিদেশ থেকে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। ওগুলো লাগানো হলে একটি বয়লার চালু করে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে টার্মিনালটি। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে ১১ আগস্টের আগে চট্টগ্রামসহ দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ আসার সুযোগ নেই।বিশেষজ্ঞদের মতামতবিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাস খাত দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উত্তাল সমুদ্র বা যেকোনো দুর্ঘটনায় টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। অতীতে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়ে সামিটের টার্মিনালটি ২০২৪ সালে সাড়ে তিন মাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। আর একটি টার্মিনাল স্থলভাগে করা হলে এখনকার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।এ ছাড়া যেকোনো সময় আমদানি ব্যাহত হতে পারে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা ৭ মাস খোলাবাজারে এলএনজি কেনেনি সরকার। আমদানি নির্ভরতার এ ঝুঁকি থাকবেই।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ইলাহী চৌধুরী বলেন, গত আড়াই দশকের অবহেলায় আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদেশ নির্ভর হয়ে জ্বালানি খাত চলবে না। গ্যাস অনুসন্ধানে অনেক কম কূপ খনন করে বেশি সফলতার পরও অবহেলা করা হয়েছে। সারা দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত কূপ সংস্কার করে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে।উল্লেখ্য, দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ কমানো হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম যেহেতু নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের গ্যাস দেওয়া হয় না, পুরোপুরি এলএনজি নির্ভর, তাই এখানকার সংকট তুলনামূলকভাবে বেশি।
১ মাস ১৯ দিন আগে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এই ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম সমাধিস্থলকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে আধুনিকায়ন করা হবে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলাস্থ জিয়ানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে নেতাকর্মী এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে পু®পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি একথা বলেন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে সমাধিস্থলটি সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা হবে। এতে নতুন প্রজন্ম শহীদ জিয়া ও দেশের ইতিহাস স¤পর্কে জানার সুযোগ পাবে।১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে নির্মম হত্যাকান্ডের পর প্রথমে জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গুনিয়ার এই স্থানে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে স্থানান্তর করা হলেও এই প্রথম সমাধিস্থল ইতিহাসের অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে।দীর্ঘদিন নানা কারণে এই ঐতিহাসিক স্থানটি অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে শামীম বলেন, এমনকি বহু বছর সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্যও এখানে অবাধে আসার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ আবারও এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, যা প্রমাণ করে এই স্থানটির প্রতি জনগণের আবেগ ও গুরুত্ব আজও অটুট রয়েছে।মাহবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের স¤পত্তি নয়; ইতিহাস একটি জাতির স¤পদ। তাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলকে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই স্থানকে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে একটি নান্দনিক ও দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধে পরিণত করা হবে।এখানে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ইতিহাস-অনুসন্ধানীদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস স¤পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবে।দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আব্বাস, নাজমুল মোস্তফা আমিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকত আলী নূর, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সাবেক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, মেজবাহ উদ্দীন জাহেদ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দীন রাজু, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসীম, সাধারণ স¤পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ স¤পাদক মোজাম্মেল হক, সহ স¤পাদক আলম খান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক মোহাম্মদ মহসিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুদ্দিন সবুজ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ২০ দিন আগে
আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে আবারও মামলা করায় জিপিএইচ ই¯পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। এক মাসের মধ্যে এই টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই টাকা আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় ব্যয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কো¤পানি একই বিষয়ে আগে হাইকোর্টে রিট করে আদেশ পেলেও, সেই আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছিলেন। এরপরও তারা নিম্ন আদালতে নতুন মামলা করে এবং হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা চাইতে গিয়ে আগের রিট, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ ও চলমান কার্যক্রমের তথ্য গোপন করেন।তিনি বলেন, আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদেশ নেওয়ার চেষ্টা করা আদালতের প্রতি প্রতারণার শামিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। আদালতে রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান, আগের মামলার তথ্য তাদের জানানো হয়নি।অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আদালতের প্রতি এমন প্রতারণার জন্য দৃষ্টান্তমূলক অর্থদন্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কো¤পানিকে এক মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অর্থ জুলাই গণআন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। এই আদেশ আদালতের প্রতি অসততা ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।সুত্র মতে, জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার মালিক একজন ঋণ খেলাপি, তিনি সিআইপিও। তিনি তার ঋণ খেলাপি থেকে অব্যাহতি ও সিআইপি ফিরে পেতে রিট আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেটা হাইকোর্টে খারিজ হয়েছিল। ওই রিটের পর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আবেদন করেছিলেন।এরপর ওইসব তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে আবারও রিট আবেদন দায়ের করায়, আগের বিস্তারিত ইতিহাস তুলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের নজরে আনলে তা আমলে নিয়ে জিপিএইচ ই¯পাতকে ৫ কোটি জরিমানা করেন আদালত। একই সঙ্গে ওই টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের জমা দেওয়ার জন্য বলেছেন হাইকোর্ট। জরিমানার টাকা জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় খরচের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট
১ মাস ২০ দিন আগে
সিটি করপোরেশনের তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার। এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রায় ১৫৭ বছরের পুরোনো কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে অগ্রগতির প্রতিবেদন দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ এবং সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব উজ্জ্বল হোসেনের সই করা দপ্তরাদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। কক্সবাজার যুক্ত হলে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাড়াবে ১৪ টিতে।
১ মাস ২১ দিন আগে
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করেছে মৌলানা হাবীব উল্লাহ (রহ.) ফাউন্ডেশন।শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৩টায় বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সরল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ঢেউটিন বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্যায়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি পরিবারের প্রত্যেককে ১ বান করে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি তাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রথম ধাপ। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত আরও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পুনর্বাসন সহায়তা অব্যাহত রাখবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা এবং মরহুম আলেমে দ্বীন মৌলানা হাবীব উল্লাহ (রহ.)-এর জ্যেষ্ঠপুত্র মৌলানা মাহমুদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফরহাদ আমিন ফয়সল।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা খাইরুদ্দীন (রহ.)-এর কনিষ্ঠপুত্র মুফতি মাওলানা নছিমুর রহমান, মাওলানা আব্দুল মাজেদ (পরিচালক, সরল আনছারুল উলুম মাদ্রাসা), মাওলানা আব্দুল মালেক (নির্বাহী পরিচালক, সরল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা), মাওলানা আহমদ ছৈয়দ, মাওলানা হাফেজ আহমেদ, মাওলানা রফিক উল ইসলাম, মাওলানা রাশেদুল আলম নোমান, মাস্টার জামাল উদ্দিন, ডাক্তার ইউসুফসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এছাড়াও মরহুম মৌলানা হাবীব উল্লাহ (রহ.)-এর উত্তরসূরি ও ফাউন্ডেশনের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌলানা ফরিদুল আলম, মৌলানা শওকত আমিন বেলাল, মৌলানা সোহাইল মাহমুদ, ফরহাদ আমিন ফয়সল, তোয়াহা আমিন, শোয়াইব মাহমুদ, আহমদুর রহমান, মোবারক উল্লাহসহ অনেকে। ভার্চুয়ালী অংশগ্রহন করেন, মৌলনা হাবিবুল করিম হেলাল, মৌলানা সাইফুল্লাহ, হাফেজ ওবাইদুল্লাহ।বক্তারা বলেন, মরহুম মৌলানা হাবীব উল্লাহ (রহ.) ছিলেন দেশের একজন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন। ইসলামী শিক্ষা, দ্বীনি দাওয়াত এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর আদর্শ ও মানবসেবার ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে তাঁর সন্তান ও নাতিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মৌলানা হাবীব উল্লাহ (রহ.) ফাউন্ডেশন বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সভাপতির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা মৌলানা মাহমুদ উল্লাহ সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন এই ফাউন্ডেশনকে সমাজ ও মানবকল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করার তাওফিক দান করেন। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে মাওলানা আব্দুল মাজেদ হাফিজুল্লাহ-এর পরিচালনায় বন্যাদুর্গত পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
১ মাস ২৫ দিন আগে
জুলাই মাস থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন সরকারি পে-স্কেল। এ নিয়ে দারুণ স্বস্তিতে সরকারি চাকুরিজীবীরা। অন্যদিকে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বেসরকারি বিভিন্ন খাতের চাকুরিজীবীরা। কারণ তাদের বেতন-ভাতা নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে না। ফলে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বেসরকারি চাকুরিজীবীরা।যাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে। আর সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বা গুঞ্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলে তা দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি খাতের কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে দুটি বড় প্রভাব পড়ে। চাহিদা বৃদ্ধি অর্থাৎ একসাথে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত টাকা আসায় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। সরবরাহ যদি সেই অনুপাতে না বাড়ে, তবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বাড়ে। মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে। কেননা, বাজারে কেবল বেতন বৃদ্ধির খবর ছড়ালেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিবহন ভাড়া এবং বাসাভাড়া বাড়িয়ে দেন। যার ভুক্তভোগী হন বেসরকারি খাতের কর্মীসহ দেশের সব সাধারণ নাগরিক। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি যখন এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী, তখন বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো। সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে যদি বেতন বাড়ানো হয়, তবে তার খেসারত দিতে হবে দেশের সিংহভাগ বেসরকারি চাকরিজীবী, দিনমজুর এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে, যাদের আয় বাড়েনি।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের কর্মসংস্থানের মাত্র একটি ছোট অংশ সরকারি খাতের আওতাভুক্ত। বাকি বিশাল জনগোষ্ঠী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অনানুষ্ঠানিক খাত বা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারদরের যে ঊর্ধ্বগতি হবে, তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর থাকবে না। ফলে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরো প্রকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দা তৌহিদ আসলাম। চাকরি করেন ইপিজেড এলাকার িএকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে যত টাকা বেতন পান, উচ্চমূল্যের বাজারে সেটি দিয়ে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর খবর তাকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তৌহিদ আসলাম বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সাথে সাথে সেগুলোর দাম আবারও বেড়ে যাবে। আমাদের মতো মানুষের আয় তো বাড়ছে না। তাহলে আমরা বাঁচব কিভাবে?’ তার এই উদ্বেগ যে মোটেও অমূলক নয়, অর্থনীতিবিদদের কথাতেও সেটির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছেন, সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন বৃদ্ধি ফলে কেবল মূল্যস্ফীতিই বাড়বে না, সেইসঙ্গে বৈষম্য, দারিদ্র্য, তারল্য সংকটসহ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন, সরকার সেদিকে দৃষ্টি না দিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট আরো বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আয়ের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক সাত শতাংশ, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিখাতের কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা না বাড়লে আয় বৈষম্য আরো বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে দেশে দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। গত কয়েক বছর ধরেই দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার উচ্চ। গত জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো সেটি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে- এমনটাই বলছেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন পে-স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে যে বাড়তি বেতনের অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটির জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হবে বা নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে। বাড়তি ওই টাকা অর্থনীতিতে যোগ হলেই সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরো বেড়ে যাবে। তখন সেটা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান সেলিম রায়হান।প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান থাকলেও গত দশ বছরে একবারও সেটি করা হয়নি। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, গত এক দশকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ-খরচা যেভাবে বেড়েছে, সেই বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল ঘোষণার এই উদ্যোগ অত্যন্ত যৌক্তিক, বলছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। কিন্তু উদ্যোগটি এমন একটি সময় নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হলেও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সেটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে কি-না, সেই প্রশ্নটি সামনে চলে আসছে বলেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এর ফলে আগের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে। তবে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিক রেখে পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চাহিদা বাড়লেই বরং ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এক্ষেত্রে সরকার যদি নিত্যপণ্যের সংকট বা লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে ভোগান্তি থেকে তাদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে, অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের 'জনপ্রশাসন-নিট' খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বাড়তি এই ব্যয়ের বিপরীতে সরকার আয় তো সেভাবে বাড়ছে না, বরং নতুন বাজেটে যে বিপুল আর্থের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সেটা মেটাতেই সরকারকে দেশে-বিদেশে ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হলে অর্থনীতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আবার দেশি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে সেখানে তারল্য সংকট দেখা দিবে, সেটাও আরেক সমস্যা বলে জানান তারা। দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন যে চ্যালেঞ্জিং হবে, বিএনপি সরকারও সেটা স্বীকার করছে। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ইশতেহারে বলা হয়েছে যে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেতন-ভাতা একবারে না বাড়িয়ে সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে বলে জানান উপদেষ্টা তিতুমীর।তার আগে, গত জুনে সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি বলে বাজেট বক্তৃতায় সংসদে বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে আর পে-স্কেলে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে নতুন একটি বেতন কমিশন গঠন করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিশন বেতন কাঠামো পর্যালোচনা শেষে গত জানুয়ারি মাসে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিশন গঠন করে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করলেও সেটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দেন অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর আগের কমিশনের পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিএনপি সরকার। সেই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে, যেখানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড, অর্থাৎ মধ্যম ও নিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই খসড়া রূপরেখাটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন শেষে চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে বলেও জানা যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এক বছরের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলা হলেও বাস্তবে পণ্যের দাম কমেনি; বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে মাত্র। তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তিনি বাজার কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি চড়া মূল্যস্ফীতির সময়ে খাদ্য ভর্তুকি ও সুবিধাভোগীর আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ ও অর্থনীতি প্রস্তুত কি না, তা যাচাই জরুরি। সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ না করে পে স্কেল বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া অর্থনীতি এখনো মজুরি বাড়ানোর মতো সক্ষমতায় পৌঁছায়নি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি টেকসই হবে না। বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে অর্থনীতি মন্দার পূর্বমুহূর্তে রয়েছে, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির সুফল পাওয়া কঠিন।
১ মাস ২৮ দিন আগে
যানজট কমাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চরম হুশিয়ারী দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। প্রাথমিক পরিদর্শনে নগরীর যানজট তৈরীর একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে তিনি সতর্ক করেন। পরবর্তী পরিদর্শনে অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড়ের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল এবং সিএসসিআর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।পরিদর্শন শেষে সিডিএর চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিতেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে এবং পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চেয়ারম্যান আরও বলেন, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা নগরের যানজট নিরসনে একযোগে কাজ করছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে, পরবর্তী পরিদর্শনে তাদের আকার অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে কোনো অজুহাত গ্রহণ না করে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরিদর্শনকালে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান এ.জি.এম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, অথোরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অথোরাইজড অফিসার-২ তানজীব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিডিএর তথ্যমতে, বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, প্রয়োজনীয় পার্কিং ¯েপস না রাখা, নকশায় পার্কিং হিসেবে দেখানো স্থান অন্য কাজে ব্যবহার, পার্কিং এলাকা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা এবং পার্কিং ¯েপসে ময়লা-আবর্জনা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের মতো একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে এই অনিয়ম সংশোধন না করলে হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি বেসরকারি হাসপাতালে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে অসহনীয় যানজট লেগে থাকে। সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে এসব সড়কে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে থাকতে হয়। এমনকি এসব হাসপাতালে আসা রোগীর অবস্থাও কাহিল হয়ে পড়ে। এ সুযোগে যানবাহনগুলোও দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া বেশি আদায় করে। এতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুরাদপুর-চকবাজার-বহদ্দারহাট সড়ক। এ সড়কের পাঁচলাইশ মোড়ে বেমসরকারি পার্কভিউ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অবস্থান। এ হাসপাতাল ভবনের নিচের তলায় পার্কিং থাকলেও তা রোগীদের কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য এই পার্কিং ব্যবহার যোগ্য। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে সড়কে তাদের গাড়ী পার্কিং করে। একইভাবে নগরীর জিইসির মোড় থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সড়কের সামনে অবস্থিত বেসরকারি এপিক হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, পপুলার হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, প্রবর্তক মোড় শেভরণ হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, সিএসিআর, ল্যাব এইড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মেট্টোপলিটন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ন্যাশনাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ম্যাক্স হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, রয়েল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল, এশিয়ান হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার আন্যতম। এসব হাসপাতালের কারণে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, কাজীর দেউড়ি সড়ক, জামালখান সড়ক, চকবাজার সড়ক, বহদ্দারহাট সড়ক, টাইগার পাস মোড়, নিউমার্কেট মোড়, আন্দরকিল্লা মোড় পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ে বলে জানান সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আহমেদ কবীর। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা ঠিক হলে নগরীর অর্ধেক যানজট নিরসন হয়ে যাবে। নগরবাসী মুক্তি পাবে ভোগান্তি থেকে।
১ মাস ২৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম।রবিবার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (জেলা পরিষদ শাখা) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যুগ্ম সচিব খন্দকার ফরহাদ আহমদ সই করেন।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী নতুন জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী তিনি সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। একই সঙ্গে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী তিনি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।মাহবুবের রহমান শামীম বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহবুবের রহমান শামীম। তবে ওই আসনে বিজয়ী হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।
১ মাস ৩০ দিন আগে

বর্ষায় ডুবে চট্টগ্রাম, এটা নতুন বিষয় নয়। অন্তত চার দশকের বিষয় এটি। তবে বিষয়টা এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। বিষয়টি মোকাবেলায় কম ঘাম ঝরাচ্ছেন না চট্টগ্রামের সরকারি সংস্থাগুলোর কর্তারা। টিকে থাকার লড়াইয়ে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম। নানা উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনও। এরপরও তেমন সুফল আসেনি নগর ও উপকুলীয় এলাকা ডোবায়। নগরবাসীর প্রশ্ন-সমস্যা কোথায়? আর এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সমস্যার মূল তুলে আনার চেষ্টা করেছেন-ঢাকা মেইল, চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক-ইব্রাহিম খলিল।নগরীর বোদ্ধাদের ভাষ্য, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মতে আগামী এক শতাব্দী জুড়ে হিমবাহ গলে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৪.০১ মিটার বাড়ার কারণে স¤পূর্ণ ডুবে যাবে চট্টগ্রাম। সামুদ্রিক টাইডাল (জোয়ার) বিষয়ক ওয়েবসাইট আর্থ.অর্গে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়, জলবায়ুর প্রভাবে ভাটির দেশগুলোর সমুদ্র উপকুলীয় একাধিক নগর ও উপকুলীয় এলাকা সাগরের গ্রাসে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তম্মধ্যে চট্টগ্রাম অন্যতম। ২০৫০ সালের দিকে শহরটির অর্ধেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। ২১০০ সাল নাগাদ শহরটি সমূদ্রের গ্রাসে বিলীন হতে পারে। যদি অতিদ্রুত টাইডাল নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়। ঠিক এই জায়গা থেকে যদি শুরু করা হয়, তাহলে বোঝা যায় বিষয়টি এখন কোন জায়গায় দাড়িয়ে। গত ৬ জুলাই সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বলা যায় অবিরাম বৃষ্টি। আর সকালেই দেখা যায় চট্টগ্রাম মহানগরের নিচু এলাকা তালিয়ে গেছে পানির নিচে। দুপুর হতেই এই পানি রুপ নেয় জলাবদ্ধতায়। তখন কোথাও হাটু, কোথাও কোমর আবার কোথাও গলা সমান পানি জমে যায়। যেখানে ভোগান্তির শেষ ছিল না পেশাজীবী মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের। ঘটে প্রাণহানির ঘটনাও। আবার সন্ধ্যার পর দেখা যায়, পানি কমে হাটুর নিচে নেমে এসেছে নিচু এলাকায়। তখনও বৃষ্টি ঝরছে অঝোর ধারায়। ঠিক পরেরদিন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরের দিকে আবার গলা সমান পানি নগরীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এলাকায়। পরেরদিন ৮ জুলাই বুধবারও নগরজুড়ে থই থই করছে পানি। বৃষ্টিপাতের তীব্রতা এ সময় আরও বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি ঝরলেও কিন্তু দেখা যায়, নগরী ধুয়ে পরিস্কার হয়ে গেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি থামলেও ডুবে রয়েছে নিচু এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের সবকটি উপকুলীয় উপজেলা। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর ও উপকুলীয় এলাকা বৃষ্টিপাতে ডুবেনি না, ডুবেছে পাহাড়ি ঢল আর সাগরের জোয়ারে। বোদ্ধাদের মতে, সাগরের প্রবল জোয়ার যদি চট্টগ্রাম মহানগরে দিকে ছুটে না আসত, তাহলে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢল কর্ণফুলী নদি হয়ে সাগরে চলে যেত। জোয়ারের পানি উল্টো নগরে ঢুকে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ। আর প্রতিবছর বর্ষায় সাগরে যখন ঘুর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় তখন জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যা ধেয়ে আসে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকুলীয় এলাকাসমুহে। ডুবে যায় বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পেশাজীবী মানুষ।বর্ষায় ভয়ঙ্কর সমূদ্র জোয়ার প্রবণ বঙ্গোপসাগর। তবে সৃষ্ট জোয়ার শুধু ক্ষতির কারণ হয় না, মানুষের উপকারও বয়ে আনে। জোয়ারে সমূদ্রের গভীরতা বেড়ে আন্তর্জাতিক আমদানি-রফতানির পণ্য পরিবহণে জাহাজ চলাচল সহজ হয়। নদিতে প্রবেশ করা জোয়ারের পানি কৃষি উৎপাদনে অকল্পনীয় ভুমিকা রাখে। নদী ও সাগরে মাছসহ জলজপ্রাণীর বংশবিস্তারে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। কিন্তু জোয়ার ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে বর্ষাকালে। বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসে। বাংলা আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। এই দুই মাস জলবায়ুর প্রভাবে সাগরে সৃষ্টি হয় একের পর এক নিম্নচাপ ও ঘুর্ণিঝড়। তখন সাগর উত্তালে ফেটে পড়ে। সাগরের জোয়ারের উচ্চতা পুরো বছরের যে কোন সময়ের চেয়ে এ সময় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে আকাশ থেকে ভেঙে পড়ে ভারী বৃষ্টি। অন্য যে কোন সময়ের বৃষ্টি নিচের দিকে কর্ণফুলী নদি হয়ে সাগরে নিমজ্জিত হলেও এ সময়ের বৃষ্টি নামতে পারে না, কারণ সাগরের জোয়ারের পানি তখন উর্ধ্বমুখি হয়ে কর্ণফুলী নদির মাধ্যমে উপকুলীয় এলাকায় প্রবেশ করে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ফেনী-নোয়াখালীসহ বৃহত্তম চট্টগ্রাম জেলার সবকটি উপকুলীয় উপজেলা ডুবে যায়। আর্থ.অর্গ (ঊধৎঃয.ঙৎম) ২১০০ সালের মধ্যে চরম বন্যায় চট্টগ্রাম কীভাবে সাগরের গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে পারে তার একটি মানচিত্র তৈরি করেছে। মানচিত্রে দেখানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তিন দশক আগে স্বাভাবিক সময়ে ঢেউ আছড়ে পড়ত সর্বোচ্চ ১-১.৫ মিটার উচ্চতায়। যা বর্তমানে ২.৮-৩ মিটার উচ্চতায় আছড়ে পড়ছে। ২১০০ সালের দিকে সেটা বেড়ে ৫ মিটার উচ্চতা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর সাগর উত্তাল সময়ে সেটা ৩-৫ গুণ বেশি উচ্চতায় আছড়ে পড়বে। যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চট্টগ্রাম সাগরের গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে বঙ্গোপসাগর ধীরে ধীরে সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আর্থ.অর্গের মতে, এই শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২ মিটার বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি (ঝখজ) নির্ধারণ করার জন্য, স্থানীয় উপকূলীয় বন্যার স্তর বিবেচনায় নিতে হয়, যা চরম পূর্বাভাসে গড় উচ্চ-জোয়ারের (গঐঐড) চেয়ে ২.৮ মিটার বেশি হতে পারে। এই স্থানীয় স্তরগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বাভাসে ১ মিটার থেকে ৬.৫ মিটার পর্যন্ত তারতম্য নিয়ে আসে (যেমন, রিও বনাম কলকাতা)।কপ প্রমুখের দুটি বহুল উদ্ধৃত জার্নাল থেকে, যা মূলত সমুদ্রের তাপীয় প্রসারণ এবং বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অনুমান করে। মধ্যম-পরিসরের দৃশ্যকল্পটি আইপিসিসি (ওচঈঈ) দ্বারা সংজ্ঞায়িত বিভিন্ন রিপ্রেজেন্টেটিভ কনসেন্ট্রেশন পাথওয়েজ (জঈচ)-এর উপর ভিত্তি করে ০.৫-১.২ মিটার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করেছে। অন্যদিকে হতাশাবাদী দৃশ্যকল্পটি বরফ-চাদর গলার আরও কিছু প্রক্রিয়া যুক্ত করে ২১০০ সালে ১-২.৫ মিটার এবং ২৩০০ সালে ১০ মিটার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করেছে।সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব হলো উপকূলীয় বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি। মুইস এট আল., (২০১৬)-এর গ্লোবাল টাইডস অ্যান্ড সার্জ রিঅ্যানালাইসিস-এর উপর ভিত্তি করে অনুমান করা হয় যে, উপকূলীয় জলের চরম স্তর গড় স্তরের চেয়ে ০.২-২.৮ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে চীন এবং নেদারল্যান্ডসের মতো চরম ক্ষেত্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫-১০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এখানে প্রক্ষেপিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির (ঝখজ) সাথে উপকূলীয় স্থানীয় বন্যার স্তর যোগ করা হয়।এটি আইপিসিসি (ওচঈঈ) দ্বারা সংজ্ঞায়িত গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্বের গতিপথ (জঈচ) বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। মৃদু স্তরটি ২ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির জঈচ৪.৫-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি; যেখানে চরম স্তরটি ৪ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির জঈচ৮.৫-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি।এই গবেষণায় ব্যবহৃত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির (ঝখজ) দৃশ্যকল্পগুলো ক্লাইমেট সেন্ট্রাল-কোস্টাল রিস্ক স্ক্রিনিং টুলের পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত প্যারামিটারগুলোসহ তৈরি করা হয়েছে। দুটি পরিস্থিতির জন্য ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস, যেখানে বৃদ্ধির পরিমাণ মিটারে উল্লেখ করা হয়েছে (হালকা = ৩ মিটার; চরম = ৫ মিটার)। সুফল মিলছে না মেগা প্রকল্পেসমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার বিষয়টি অনুধাবন করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সহকারী প্রকৌশলী রাজীব দাশ। তার মতে, নগরীর ৬৯ ভাগ এলাকা সাগরপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা মাত্র ০.১৯ মিটার, সেখানে আসা জোয়ারের গড় উচ্চতা ২.৫০ মিটার। মাত্র ২২ শতাংশ মহল্লার উচ্চতা পাঁচ থেকে ৩০ মিটার। এসব এলাকা এখন পর্যন্ত জোয়ারে প্লাবিত হওয়া থেকে সুরক্ষিত। তাছাড়া পাহাড়ি জমির ৯ শতাংশ এলাকার উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।সে হিসেবে নগর পরিকল্পনাবিদদের মত অনুসারে চট্টগ্রামকে তিনভাগে ভাগ করে বন্যা নিয়ন্ত্রন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট থেকে কর্ণফুলী নদীর মোহনা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট উচ্চতার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। যা আউটার রিং রোড নামে পরিচিত। এছাড়া শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার উচু বেড়িবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ প্রায় শেষের পথে। এছাড়া ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ৩৬টি খাল খননসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজও প্রায় শেষের পথে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্ণফুলী নদী হয়ে চট্টগ্রাম শহরে জোয়ারের পানি অনুপ্রবেশ বন্ধে ৪০টি স্রোত নিয়ন্ত্রক (টাইডাল রেগুলেটর) বসানোর কাজ করছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় 'চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন" শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় চট্টগ্রাম বিমান বন্দর, মহেশখাল, শাহ আমানত সেতু, কালুরঘাট এবং হালদা নদীর মুখে আরও ২৩টি টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও চাক্তাই খাল এবং রাজাখালে আরও ১২টি রেগুলেটর বসানোর কাজ করছে। শহরে জলাবদ্ধতা নিরসনে এর মধ্যে পাঁচটি রেগুলেটর স্থাপন আগামী বছরের মধ্যেই 'খাল পুনঃখনন, সংস্কার এবং উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় শেষ হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহামদ্দ শাহ আলী।কিন্তু এসব প্রকল্পের তেমন কোন সুফল মিলছে না, প্রতিবছরের মতো এবারও বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম মহানগর। ডুবেছে জেলার উপকুলীয় উপজেলা আনোয়ারা, বা^শখালী, সীতাকুন্ড, মিরসরাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি, পটিয়া, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া। ডুবেছে কক্সবাজার জেলার সবকটি উপজেলা ও ফেনী-নোয়াখালী জেলার প্রত্যন্ত এলাকাও।সমস্যা নিরূপণই বড় সমস্যা আর্থ. অর্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বৃহত্তম বন্দরনগরী এবং আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি কর্ণফুলী নদীর চারপাশের একটি পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে, যা শহরের কেন্দ্র দিয়ে বয়ে গিয়ে চট্টগ্রামের ১২ কি.মি পশ্চিমে অবস্থিত একটি মোহনার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। উপকূলীয় জোয়ারের সময় এখানকার মানুষ নিয়মিত বন্যার সম্মুখীন হয়, যা পুরো এলাকাকে অচল করে দেয় এবং মানুষকে নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে বাধ্য করে। কিন্তু প্রবেশপথ বন্ধ করতে এবং মেঝে উঁচু করতে যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, বন্যাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।এই উপদ্রবের আরও ভয়াবহ রূপটি আসে ভারী বর্ষণের মাধ্যমে, যা মারাত্নক ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার কারণ হয়। এর মুলে চেপে বসে আছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার মুলে রয়েছে পাহাড় নিধন। পলিথিন ব্যবহারের আধিক্যতা, যত্রতত্র অপরিকল্পিত বর্জ্য নিক্ষেপ। যা নিরূপণই এখন বড় সমস্যা। অভিযোগ রয়েছে, এসব সমস্যা আড়াল করে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধস নিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি সংস্থা। যারা কথায় ঘাম ঝরালেও কার্যত সঠিক সমস্যা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে পাহাড় নিধন যেমন চলছে, তেমনি চলছে পলিথিনের অবাধ ব্যবহার ও বর্জ্য নিক্ষেপ। যা প্রথমে নগরীর নালা-খালে, পড়ে কর্ণফুলী নদিতে গিয়ে পড়ছে। এরপর গিয়ে সাগরে তলদেশে জমছে। এতে কর্ণফুলীর তলদেশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড় রক্ষার নামে একদিকে যেমন শত কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলছে, তেমনি পলিথিনের অবাধ ব্যবহার বন্ধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চসিক ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অভিযান পরিচালনার নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হচ্ছে। নালা-নর্দমা, খাল পরিস্কারের নামে জলে ঢালছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কারণ এসব কাজের গোড়ায় পানি ঢালছে সরকারি সবগুলো সংস্থার দায়িত্বশীল লোকজন। খোঁজ নিলেই দেখা মিলবে, সিডিএ ও চসিক খোদ পাহাড় কেটে সাবাড় করছে। তাদের সাথে আঁতাত করছে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর। পলিথিন উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের সাথেও তাদের আঁতাত রয়েছে। আবার সরকারি প্রকল্প থেকে কমিশন খাওয়ার বিলাসীতায় মত্ত সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে বসবাসের প্রায় অযোগ্য হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম শহর। সিডিএর তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬৯ ভাগ এলাকা সাগরপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা মাত্র দশমিক ১৯ মিটার, সেখানে আসা জোয়ারের গড় উচ্চতা ২.৫০ মিটার। পাহাড় নিধনসহ পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ড এখনই না থামালে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তখন নগরীর আরও ২২ শতাংশ এলাকা জোয়ারের পানিতে ডুবে যেতে পারে। এতে চট্টগ্রামের নাগরিকসহ বাংলাদেশের আরও ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হবে। যা ২১০০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লক্ষে পৌঁছাতে পারে। নিরাপদ থাকতে পারে শুধুমাত্র পাহাড়ি জমির ৯ শতাংশ এলাকা। যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০-৯০ মিটার উচ্চতায় রয়েছে।ভয়ঙ্কর রূপে পাহাড় টানা বর্ষণে গত পাঁচদিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২০ জন, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পাঁচজন করে ১০ জন এবং রাঙামাটিতে একজন মারা গেছেন। পাহাড়ধসে বারবার প্রাণহানির বিষয়টি উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, 'খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে বাড়ি তৈরি করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে সরকার প্রস্তুত। ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানান্তর উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে হবে।' সূত্র মতে, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ পাহাড় ও দেয়াল ধস এবং তীব্র পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা যায় ১২৭ জন। পরের ১৯ বছরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির সময় পাহাড় ও দেয়াল ধসের ঘটনায় মারা গেছে ২১০ জনের মতো।চট্টগ্রামে ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট পাহাড় ধসে ১১ জন, ২০১১ সালের ১ জুলাই ১৭ জন, ২০১২ সালের ২৬ জুন ২৪ জন, ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই দুজন, ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই আটজন নিহত হয়, ২০১৭ সালের জুন মাসে একাধিক ঘটনায় সাতজন। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর চারজন, ২০২২ সালের ১৮ জুন চারজন নিহত হয়। অন্যান্য বছরগুলোতেও নিহত হন অনেকে। পাহাড় এভাবে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করলেও বসতিদের কোন ভ্রƒক্ষেপ নেই সেদিকে। খোদ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বলছে, জেলার ২৬টি পাহাড়ে ৬ লাখেরও বেশি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসত করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, এ সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। যাদের শুধু বর্ষা এলেই পাহাড় থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তোড়জোর চালায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তার ব্যতিক্রম নয় এবারও, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে নগরীর চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, কাট্টলী ও বাকলিয়া সার্কেলের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রেখেছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মো. ওমর ফারুক। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। এরপরও বসতিদের সরিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না, বসতিরা ঘরবাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে রাজী নন। চলছে পানির পানিশমেন্টওদেশের প্রধান বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম একটি দ্বিমাত্রিক শহর। এই আধুনিক নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প সিটি কর্পোরেশন হাতে নিলেও, কার্যত বর্ষা এলেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে। যার ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও সাগরের জোয়ারে ডুবেছে চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের উপকুলীয় এলাকা। ফলে নগরবাসী মনে করছে আধুনিক এই শহরের পানিই হচ্ছে পানিশমেন্ট। নগরবাসীর মতে, টানা বর্ষণে নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সড়কের পাশাপাশি রেল লাইন ডুবে যাওয়ায় নগরীর ষোলশহর এলাকায় হাজারো যাত্রী নিয়ে আটকে ছিল পর্যটন এক্সপ্রেস। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় এ সড়কে সরাসরি সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টানা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়ে ৬৯ পর্যটক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। এছাড়াও টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। আর চট্টগ্রামে প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলমের তথ্যমতে, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয়েছে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন একদিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল ৪০৮ মিলিমিটার। সেদিন চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর পাহাড়ধসে মারা যান ১২৭ জন। সেই ১১ জুনকেও ছাপিয়ে গেছে মঙ্গলবারের ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত। কিন্তু সেদিনের মতো এত প্রাণহানি ঘটেনি। তবে একেবারে ঘটেনি তা নয়, পাহাড় ও দেয়ালধসে মারা গেছে ৩৩ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। সূত্র মতে, গত জুন মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ৬১৩ মিলিমিটার, হয়েছে ৩৫১। আর জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ সাধারণত ৬৯৪ মিলিমিটার। কিন্তু মঙ্গলবার এক দিনের বৃষ্টিতে তা অর্ধেক পার হয়ে গেছে। এই বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বাসাবাড়ি সব। নগরীর কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনি, সিডিএ আবাসিক, সল্টগোলা ক্রসিং ও হালিশহর এলাকাসহ সর্বত্র পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল মনছুরের অভিযোগ, প্রতিবছরের মতো এবারও ভারী বর্ষণে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। হালিশহর কে এবং এল ব্লকের সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট গোলাম মোস্তফা বলেন, ২০০৫ সালের পর থেকে এলাকাটি কমপক্ষে এক থেকে দেড় মিটার জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে। একারণে এলাকায় বাড়িভাড়া কমপক্ষে ৪০ - ৫০% কমে গেছে। জোয়ারের পানি কমপক্ষে পাঁচঘণ্টা থাকে। এজন্য আমরা জোয়ারের পূর্বাভাসসহ ক্যালেন্ডার ঘরে রাখি। আমাদের প্রতিটি দিনের শুরু সেই মাফিকই হয়,'' বলছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অভিজাত এলাকাটির এক বাসিন্দা জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, এভাবেই প্রতিদিন দুইবার বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জোয়ারের স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। আগ্রাবাদের বাণিজ্যিক এলাকায় নগরীর বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দপ্তর। যার মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। বন্দরনগরীর এসব প্রতিষ্ঠান জোয়ারের পানিতে প্রভাবিত হচ্ছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়া বাণিজ্য ট্রেড সেন্টারে গত দুই-তিন বছর ধরেই পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। আর এবার জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকায় প্লাবিত হয় বলে জানান চট্টগ্রাম চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোকাম্মেল হোসেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সে কারণে আসা উঁচু জোয়ার শুধু নাগরিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে না, বরং ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসাগুলোতে। একারণে দেশের বৃহত্তম পাইকারি পণ্য বাজার খাতুনগঞ্জ এবং আসাদগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্য নষ্টের কারণে কমপক্ষে ১,০০০ কোটি টাকা বাৎসরিক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টিজ অ্যাসোসিয়েশন।প্লাবিত হচ্ছে চট্টগ্রামের অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতাল, সবুজবাগ আবাসিক এলাকা এবং সিডিএ আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন হালিশহরের কিছু অঞ্চল। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে শোলকবার এলাকা, কারণ সাগরপৃষ্ঠ থেকে সেখানকার উচ্চতা মাত্র দশমিক ১৯ মিটার, সেখানে আসা জোয়ারের গড় উচ্চতা ২.৫০ মিটার। কোটি টাকার বাড়ি ছাড়ছেন মালিকেরা সিডিএ আবাসিক অঞ্চলে ২১ নম্বর রোডের দুটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে এক সময় প্রাক্তন মন্ত্রী মরহুম এল কে সিদ্দিকী এবং তাঁর স্ত্রী মাহমুদা সিদ্দিকীর আবাস ছিল। ১৯৭৭ সালে প্রায় ৩,৩৮০ বর্গমিটার জমিতে বাড়ি দুটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এখানেই বসবাস করেছেন সিদ্দিকী দ¤পত্তি। কিন্তু সম্প্রতি ২০১৮ সালে বাড়ি দুইটি স¤পূর্ণরূপে ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তাদের উত্তরাধিকারীরা। এল কে সিদ্দিকীর বড় ছেলে আসসান সিদ্দিকী বলেন, ১৯৯২ সালে যখন বাড়িগুলোর নিচতলায় পানি ঢোকা শুরু করেছিল, তখন আমরা ঢাকা গিয়ে বসবাস শুরু করি। মাঝেমাঝে চট্টগ্রামে আসলে তখন বাড়িদুটি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু গত ১০ বছরে জলাবদ্ধতার কারণে সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ২১ নম্বর সড়কের আরেক বাসিন্দা সাবেক নাবিক এবং জাহাজীকরণ ব্যবসায়ী মীর রেজওয়ান হোসেইন টিপু – ১৯৭৬ সালে ১,৫২১ বর্গমিটার জমিতে তার বাড়ি তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৯০ এর দশকের আগে আমরা কখনও বাড়িতে পানি ঢোকার এই সমস্যার মুখে পড়িনি। ওই সময় থেকেই প্রতিবছর এলাকার পানিতে ডুবে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তখন আমরা নিচতলাগুলোকে উঁচু করে সেই সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করি। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সাল নাগাদ আমি বাড়ির নিচতলা কমপক্ষে পাঁচফুট উঁচু করিয়েছি, কিন্তু তারপরও প্রতিবছর পানির উচ্চতা যেভাবে বাড়ছে- তাতে এ চেষ্টা বৃথা বলেই মনে হচ্ছে।' চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাবা-মা এবং আমার শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি-বিজড়িত সেই বাড়িটি চিরতরে ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এখন পরিবারসহ ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছি। কক্সবাজারে ৩৩ ইউনিয়ন প্লাবিতটানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও নদীর পানি বাড়ায় রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ায় রামু ও চকরিয়ার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ ঘরবাড়ি। এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে রোববার দিবাগত রাতে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে ৯জন রোহিঙ্গা এবং কক্সবাজার শহরের একজন বাসিন্দা নিহত হন। এ ছাড়া পেকুয়া উপজেলায় মাটির ঘর ধসে পড়ে এক শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। কোন সালে কত বৃষ্টি পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট এক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। তখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনটি সদ্য স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু বৃষ্টি ও ঢলজনিত বন্যায় বেঁকে গিয়েছিল নতুন ওই রেলপথের প্রায় তিন কিলোমিটার।সেদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল মাত্র ৩২২ মিলিমিটার। শুধু চট্টগ্রামে নয়, ওই দিন বৃষ্টি হয়েছিল সাতকানিয়ার পূর্বদিকের জেলা বান্দরবানেও। সেখানকার পাহাড়ের ঢলও নেমে এসেছিল উপজেলাটির ওপর। এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধসে প্রায় ১৫০ জন মারা যায়। সেদিন চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ছিল ১৭৭ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ছিল রাঙামাটিতে।চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আরেক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল ২০১২ সালের ২৬ জুন, নগরীর আকবরশাহ মাজার এলাকায়। মারা গিয়েছিল ২৮ জন। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৬৩ মিলিমিটার। যা মঙ্গলবারের চেয়ে প্রায় ৫০ মিলিমিটার বেশি ছিল।তবে চট্টগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সর্বকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ মিলিমিটার। ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট এটি রেকর্ড করা হয়েছিল। সে হিসাবে গত মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত প্রায় ১০০ মিলিমিটার কম হয়। এরপরও সমুদ্রের পানির উচ্চতা চট্টগ্রাম নগরীর ১৮ শতাংশ এলাকায় ০.৫-২.৫ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আগ্রাবাদে সিডিএ'র তৈরি আবাসিক এলাকা, পূর্ব বাকালিয়া, দক্ষিণ বাকালিয়া, হালিশহর, শোলকবাহার, মুরাদপুর এবং বাহাদুরাঘাট অঞ্চল। দৈনিক এসব এলাকা প্লাবিত করা জোয়ারের পানির গড় উচ্চতা ২.৫ থেকে ২.৭৬ মিটার। তাছাড়া মৌসুমি বৃষ্টি, নতুন চাঁদ উঠার কালে, পূর্ণ চাঁদনী রাতে এবং সাইক্লোনের সময়ে ৫১ শতাংশ এলাকায় পানির স্তর ২.৫-৪.৫ মিটার পর্যন্তও বাড়ে। গত ২১ আগস্ট কর্ণফুলী নদীতে আসা জোয়ারের উচ্চতা ৪.৮১ মিটার উচ্চতা লাভ করে। পরের দিন আসা জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৪.৬৬ মিটার।সমস্যা নিরসনের উপায় নিয়ে যা বললেন বিশেষজ্ঞরাচট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মো. রিয়াজ আক্তার মল্লিক জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি চট্টগ্রাম নগরীকে মারাত্নক রকম প্রভাবিত করেছে। প্রতিবছর যেমন (সাগরের) পানির উচ্চতা বাড়ছে, একইসঙ্গে পানি নেমে যাওয়ার মতো নিম্নাঞ্চল (জলাভূমির) সংখ্যা কমছে। গত কয়েক দশকে এমন এলাকার সংখ্যা ৫০% হ্রাস পেয়েছে।'অধ্যাপক মল্লিক জানান, নিস্কাশন নালায় যেন বর্জ্য না ফেলা হয়- সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতেও একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এমনটা না করা হলে, শুধু স্রোত নিয়ন্ত্রক বসানো কোনো কাজে আসবে না' বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া সমস্যার মুলে যেটা, সেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হ্রাসে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সার্থে কর্ণফুলী নদির গভীরতা বাড়াতে হবে। পানি ধারণ ক্ষমতা নগরীর উচ্চতার লেবেলের নিচে রাখা গেলে জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি শিলতে পারে। সেই সাথে উপকুলীয় এলাকাগুলোকেও বঙ্গোপসাগরের জোয়ার মুক্ত রাখতে আশপাশের খাল ও নদির গভীরতা তৈরি করতে হবে। জোয়ারের পানি শহরে প্রবেশ না করতে পারে এজন্য জোয়ার নিয়ন্ত্রণে টাইডাল রেগুলেটর নির্মাণে গতি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জোয়ারের পানি ধারনে শহরে জলাধার নির্মাণ করাটাও জরুরি বলে জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ একেএম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীতে যেন জোয়ারের পানি বেশি পরিমাণে নিষ্কাশন করা যায় এজন্য নগরীর জলাশয় এবং খালগুলোর পাশে জেনারেটরসহ পা¤প বসানো উচিৎ।' এছাড়া আরও বেশি সবুজ এলাকা এবং খালের পরিমাণ বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি। একইসাথে এসব বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
২ মাস ৫ দিন আগে
’বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন’-এর (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেছেন, বর্তমানে ফেসবুক এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যা অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। শনিবার ’বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন’-এর (এফডিসি) ‘সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে এ কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থা ’ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’-র (ডিএফডি) চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।এমদাদ বলেন, সমাজে যা ঘটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাংশ প্রতিফলিত হয়। এই মাধ্যমের অপব্যবহার একটি জটিল ও যৌগিক সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার কখনো কখনো নিষ্ঠুরতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ‘বাগ্স্বাধীনতার পাশাপাশি বাগ্সংযমও থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা ব্যক্তির মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি দিয়ে থাকে। এর মূল শক্তি হচ্ছে সারাবিশ্বে তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। চেয়ারম্যান বলেন, ডেসটিনি, ইভ্যালির মতো অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেছে। অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের মাধ্যম চিহ্নিত করা গেলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া সাইট বন্ধ করেছে এবং ২০ হাজার ঘৃণিত বক্তব্য বিভিন্ন সাইট থেকে অপসারণ করেছে।’ সভাপতির বক্তব্যে কিরণ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কিছু কিছু অসাধুচক্র ও গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে লিপ্ত রয়েছে। মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধমীর্য় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করছে এসব অসাধুচক্র। তাদের এসব হটকারি কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণপিটুনি, ভাঙচুর, রক্তপাত এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সভাপতি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ যে ভাষা ব্যবহার করে তা অত্যন্ত জঘন্য, নোংরা, নিকৃষ্ট ও অরুচিকর। এসব মুখেও আনা যায় না। বর্তমানে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজের নামে নির্লজ্জতায় ভরা কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। অশ্লীলতায় ভরা এসব ওয়েব সিরিজে আসক্ত হয়ে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজেবাজে কনটেন্ট দেখার যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়ানক। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে হানিট্রাপে ফেলে বহু মানুষের জীবন, সংসার, ব্যবসা—বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। দেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা লোভে পড়ে টাকা পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। কিরণ আরও বলেন, ‘ভিউ বাণিজ্যের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব মিথ্যা, গুজব, অপতথ্য, নোংরা, অরুচিকর কনটেন্ট বন্ধে বিটিআরসিকে আরো কঠোর হতে হবে। রেগুলেটরি বডি হিসেবে বিটিআরসির সাথে নাগরিকদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সীমিত। সুশাসন, উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে বিটিআরসি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করতে পারে।’ ‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে ও সাংবাদিক মনির মিল্লাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
২ মাস ৬ দিন আগে
বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সমস্ত কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেইসঙ্গে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।মাহদী আমিন বলেন, দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং করে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।
২ মাস ৭ দিন আগে
চট্টগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন। তার নাম মো. সোলায়মান (২০)। কর্ণফুলী নদী থেকে ভাসমান কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ওই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকায় নদীতে ডিঙি নৌকা উল্টে এই ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় সোলায়মানের বড় ভাই আবদুল হালিমও (৩০) নদীতে পড়ে যান। পরে তিনি কোনোরকমে কূলে উঠে আসেন। তারা দুজন পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রি বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে।ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে দুই ভাই নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে যান। তারা বন্যার পানিতে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহ করছিলেন। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে নৌকাটি উল্টে যায়। দু‘জন নদীতে পড়ে যান। এ সময় আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করে কূলে তোলেন। ছোট ভাই সোলায়মান প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়।রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকালে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান পরে বন্ধ রাখতে হয়। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গেলেও উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।এছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া গ্রামে সাগরে ভেসে আসা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম-পরিচয় এখনও পুলিশ জানতে পারেনি। বয়স প্রায় ৪৫ বছর।শনিবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী। তিনি বলেন, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মরদেহটি সাগরে বেড়িবাঁধের ব্লকে আটকে ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উদ্ধারের পর মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, প্রবল বর্ষণের মধ্যে কোথাও পানিতে তলিয়ে কিংবা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।এছাড়া বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ রূপকানিয়া গ্রামে দুই বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন পানিতে ডুবে মারা যান।স্থানীয়দের বরাতে সাতকানিয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে জমে থাকা বন্যার পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটিকে পানি থেকে তুলে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সাতকানিয়ায় এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ আছে বলে জানালেন ইউএনও মাহমুদুল হাসান।এর আগে শুক্রবার বিকালে বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পা পিছলে পড়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় ৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুর নাম মোছাম্মৎ তাহিন নুর (১২)। সে সরল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে।বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাহিন নুর জালিয়াঘাটা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে থাকা একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পানির স্রোতে হঠাৎ পা পিছলে সে খাদে পড়ে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে ফায়ার স্টেশনে খবর দেওয়া হলে স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।বিকাল থেকে টানা অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাহিন নুরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বললেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।তাহিন নুরের মৃত্যুর আগে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বানের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহারছড়ার ইলশা গ্রামের ওমানপ্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আশিক (১১) আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়।একই ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামে অন্য শিশুদের সঙ্গে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় উনদুনী বর বাড়ির মো. আনোয়ারের ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. মিরাজ। পরে স্থানীয়রা মিরাজের মরদেহ উদ্ধার করে।
২ মাস ৭ দিন আগে
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারের কারণে সৃষ্ট চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী। জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা কবলিত এলাকা সাতকানিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে সেনাবাহিনী। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ¯িপডবোট ও নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। কোন উপজেলায় কতটি ¯িপডবোট প্রয়োজন এবং কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, টানা প্রায় চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় ¯িপডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।সাতকানিয়ার জন্য এরইমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জলাবদ্ধতার কারণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু খাল দখল নয়, খালে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ফ্রিজ, জাজিমসহ নানা ধরনের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনিবার সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইস গেট ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ চলছে।বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির স¤পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।এর আগে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।আইএসপিআর জানায়, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এই ৪টি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকার প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি মোতায়েন করা হয়েছে।এছাড়া ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উক্ত উপজেলাগুলোতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই অঞ্চলগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের জন্য নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে স¤পন্ন করার লক্ষে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকায় ৩টি ক্যা¤প স্থাপন করেছে।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরের মতোই দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। দুর্গত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এদিকে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে কার্যালয়ে বসে নির্দেশনা দেওয়ার বদলে দুর্গত মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ।পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এমপি সরোয়ার আলমগীরশপথ গ্রহণের পরদিনই নিজ নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার হারুয়ালছড়ি ও সুন্দরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।এ সময় দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিয়ে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন।সরোয়ার আলমগীর বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। ফটিকছড়ির কোনো মানুষ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সে লক্ষ্যে আমি সর্বাত্নক চেষ্টা চালিয়ে যাব। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।তিনি আরও বলেন, সবাই মিলে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা-করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ-এই স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আমাদের সবাইকে মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে, প্রবীণ বিএনপি নেতা আহমেদ হোসেন তালুকদার, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীনসহ দলীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।মেয়রের ত্রাণ পেলেন হাজারো মানুষগত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার (১০ জুলাই) হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়কের ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা, শহীদনগরসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত হাজারো মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয় বলে জানানো হয়।পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বসে থাকিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করেছি। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় পানি আটকে আছে, কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, এসব বিষয়ে একযোগে কাজ চলছে।তিনি বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, খাল ও নালা সচল রাখা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের নির্দেশনা গ্রহণ করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ স¤পাদক জি এম আইয়ুব খান, সাবেক দফতর স¤পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ স¤পাদক আব্দুল কাদের জসিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, স্থানীয় নেতারা।
২ মাস ৭ দিন আগে

পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব হলেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদের এর সহধর্মীনি সামসুন নাহার সুমি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে আরও ১৭১ জন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হলেও নতুন পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন। এদিকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব হওয়ায় নিজের ফেসবুক পেজে সস্ত্রীক সচিত্র পোস্ট দিয়েছেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ফরিদ আহমেদ। পোস্টে তিনি লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমার স্ত্রী সামসুন নাহার সুমি আজ যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে। সবার কাছে তার ও আমাদের পরিবারের জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইলো। আর এই পোষ্টে অভিনন্দন ও শুভকামনার ঝড় বইছে শুভাকাঙ্খিদের। শুভাকাঙ্খিদের মতে, জনাব মো. ফরিদ আহমেদ রেলওয়ে অঙ্গনে একজন সৎজন ব্যক্তি। রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলি চট্টগ্রাম কার্যালয়ে প্রধান হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে রেলওয়ের সরঞ্জাম কেনাকাটায় তিনি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন। তার সততা ও কর্মনিষ্ঠায় সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলেই অভিভুত। প্রধান সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ন্ত্রক দপ্তর পাহাড়তলি থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক বদলি হয়ে তিনি বর্তমানে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহ্যব্যবস্থাপক হিসেবে অত্যন্ত কর্মদক্ষতা ও সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে প্রায় সময় সাবেক প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ আহমেদকে স্মরণ ও প্রশংসায় ভাসান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সংশ্লিষ্টরাও।
২ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি ও সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে এ দুই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,সকাল ৯টায় জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম ওরফে তানভীরের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় ওই শিশুর মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। নিহত শিশু আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার মঈন উদ্দিনের ছেলে। তানভীরের মৃত্যুর বিষয়টি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চার দিন ধরে সীতাকুণ্ডে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। তবুও অনেক বাসিন্দা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছেন। ইউএনও বলেন, গতকাল সকালে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলের ৬ নম্বর সমাজে পাহাড়ধসের ঘটনা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। নিহত শিশুর মায়ের চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।এদিকে নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় পাহাড়ধসে সামিয়া ইসলাম (১৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের বায়েজিদ বোস্তামী ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, পাহাড়ধসে চাপা পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। দুপুরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
২ মাস ৯ দিন আগে
ভারী বর্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। একইভাবে দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ রহমান নগর আবাসিক বি ব্লকের পাহাড়ে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছাখালী গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারী বৃষ্টির কারণে গুচ্ছগ্রাম এলাকার একটি পাহাড়ের অংশ ধসে বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা রেনু আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড় ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ রহমান নগর আবাসিক বি ব্লকের পাহাড়ে একটি বসতঘরের দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা এলাকায়।এই ঘটনায় দুই বছর বয়সি শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- মর্জিনা বেগম (৫৫), সোহান (৪) ও ছাইফা (২)। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে জানান হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন।পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।ওসি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সোমবার থেকে বিভিন্ন পাহাড়ে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে। কিন্তু অনেক বাসিন্দা পাহাড়ের বাসা ছেড়ে যাননি।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, চট্টগ্রামে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিকট-অতীতে এত বৃষ্টির দেখা চট্টগ্রামে আর মেলেনি। অনেকে মেঘভাঙা বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করছেন এই বৃষ্টিকে।তিনি বলেন, সাধারণত একটি ছোট (৩০ বর্গকিলোমিটার) নির্দিষ্ট এলাকায় এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়। মঙ্গলবার ভোর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ছিল নিরবচ্ছিন্ন। ক্রমান্বয়ে বেড়েছে এই বৃষ্টি। সকাল ৯টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার, ১২টায় ছিল ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার। পরে ৪০০ পার হয়। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে।
২ মাস ১১ দিন আগে
সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ডানা মেলছে নানা আলোচনা। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে লড়াইয়ের জন্য অনেকেই গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন। রঙ-বেরঙের পোস্টারও শোভা পাচ্ছে দেয়ালে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও যুগ্ম সংগঠনের নেতারা সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। ব্যালটের লড়াই মাঠে গড়ানোর আগেই মাঠ দখলে নেমেছেন দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। একই সাথে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও। যারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক অতীত-বর্তমান, ভালো-খারাপ কাজ ও অপরাধ-নিরপরাধের খতিয়ান নোট করছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) কর্মকর্তারা এলাকায় গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা নোট করার কথা জানিয়েছেন। যদিও সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী তার অধীন গোয়েন্দাদের এসব কার্যক্রমের বিষয়টি আড়াল করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে জরিপ করলে করতে পারে। পুলিশের কার্যক্রমের বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে এই বিভাগে দায়িত্বে থাকা উপকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম রুহুল কুদ্দুস গোয়েন্দা কার্যক্রমের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একেবারেই আমাদের নিজেদের বিষয়। বাইরে কীভাবে গেল জানি না। রুটিন ওয়ার্ক। নিয়মিত আমরা করে থাকি।’তিনি জানান, গত ২০ জুন সিটিএসবির উপকমিশনার ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্যাদি প্রেরণ’-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। এতে সব জোনের পরিদর্শকদের দুটি ছক সরবরাহ করা হয়। ২৭ জুনের মধ্যে তাদের সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে সিটিএসবির রাজনৈতিক শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরবরাহ করা ফরমে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম-ঠিকানা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। প্রার্থীর ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক ভাবমূর্তি, মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা কেমন, মামলার আসামি কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পিএস-এপিএস ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীর আমলনামা জানতে চাওয়া হয় এতে। প্রার্থীর রাজনৈতিক অনুসারীদের বিবরণও দিতে বলা হয়। বাদ যায়নি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণের তথ্যও। এমনকি কার ফেসবুকের কয়টি আইডি এবং সেসব আইডি থেকে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেটিও তুলে ধরতে বলা হয় রিপোর্টে।নির্বাচনী জরিপ নিয়ে আলাপ হয় সিটিএসবির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগেভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি নিখুঁত ডেটাবেজ তৈরি করে রাখতে তাদের এ তৎপরতা। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ যেন রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে নির্বাচনের মাঠে পুনর্বাসনের সুযোগ না পান, সেটিও নিশ্চিত করা।এছাড়া যিনি প্রার্থী হবেন তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা কোন আমলে হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে নাকি পরে, এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। এলাকায় প্রার্থী কোনো বাহিনী গড়ে তুলেছেন কি না, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং লালনের মতো অপরাধে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে নির্ধারিত ২৭ জুনের মধ্যে জরিপ শেষ না হওয়ায় গত শুক্রবার আশুরার বন্ধের দিন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন সিটিএসবির উপকমিশনার। সেই বৈঠক থেকে গোয়েন্দাদের আরও সময় দেওয়া হয়েছে, জানালেন এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরিপ কাজ শেষ করার নির্দেশনাও।গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াগোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেদ বকস্ বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য নেওয়ার জন্য এসেছিল। আমি দিইনি। আমাকেই জিজ্ঞেস করছে এলাকায় আমার জনসমর্থন কেমন। আমি হাসলাম। কোনো প্রার্থী কি বলবে যে তার জনসমর্থন খারাপ? আমি বললাম, আমার গোয়েন্দা রিপোর্টের দরকার নেই। আমার দরকার জনগণের ভোট।চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেছেন, গোয়েন্দা দিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এমন খবরও পাচ্ছি, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে নাকি সরকারি দল তাদের প্রার্থী ঠিক করবে। গোয়েন্দা সংস্থানির্ভর রাজনীতি আমরা প্রত্যাখ্যান করি। প্রার্থীর জনপ্রিয়তা নির্ধারণ করবে জনগণ। রাজনীতির কাজে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে তাদের পেশাদারিত্ব নষ্ট করা হচ্ছে।জামায়াতে ইসলামী অবশ্য গোয়েন্দা কার্যক্রমকে পাত্তাই দিচ্ছে না। দলটির ঘোষিত মেয়র প্রার্থী ও নগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী বলেই বসলেন, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার জরিপ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের জরিপের ওপর আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে না।শেষ যবে হয়েছিল চসিক নির্বাচনচসিকের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে যান। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে করা এক মামলার রায় পেয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর থেকে এখনো মেয়রের চেয়ারে আছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন নারী কাউন্সিলর পদ শূন্য ঘোষণা করে। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ। সে হিসেবে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বর্তমান মেয়র শাহাদাতের দাবি, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর।
২ মাস ১৬ দিন আগে
জুয়াড়িরা এক সময় থাকত পরিত্যক্ত গুদামঘরে বা নির্জন বাগানবাড়ি কিংবা চায়ের দোকানের পেছনের অন্ধকার কোণে। হাতে থাকত তাস, মুখে বিড়ি, চোখ-মুখ লাল, থাকত উত্তেজনার মোহ। আর এখনকার জুয়াড়িদের জন্য কোনো নির্জনতা লাগে না, কোনো গোপন আসরও লাগে না। তারা দিব্যি মেট্রো রেল, কফিশপ, কিংবা জ্যামে আটকে থাকা বাস, এমনকি নিঝুম রাতে নিজের শোবার ঘরে—মোবাইলের স্ক্রিনে ‘বেট-বল’ খেলে যাচ্ছে। মহাভারতের শকুনি মামা পাশা খেলেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বাধিয়েছিলেন। আজকের শকুনি মামারা পাশা নয়, ‘অ্যালগরিদম’ দিয়ে খেলে। বর্তমানের জুয়ার অ্যাপগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাকে বলা হয় ‘গ্যামিফিকেশন’। এটি এক ধরণের ডিজিটাল কারসাজি, যা মানুষের মস্তিষ্কের ডোপামিন হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করে। একজন নতুন খেলোয়াড় শুরুতেই কিছু টাকা জেতে, যা তাকে বোঝায় যে সে খুব দক্ষ। আসলে এটি একটি নিখুঁত ফাঁদ। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে জাতীয় সংসদে “জুয়া প্রতিরোধ” আইন আনা হয়েছে—যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। নতুন এই আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শুনতে বেশ কঠিন, কিন্তু যে লোক প্রতিদিন পাচশত টাকা হারাতে অভ্যস্ত, তার কাছে পাঁচ কোটি টাকার জরিমানা অনেকটা “আকাশ কুসুম কল্পনা”। এই জরিমানার অঙ্ক শুনে কোনো জুয়াড়ি যদি জ্ঞান হারায়, তবে দায়ভার কি রাষ্ট্র নেবে? ডিজিটাল জুয়ার এই জগতটি কেবল বাজি ধরার বিষয় নয়, এটি একটি গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত শোষণের মডেল। অ্যাপ নির্মাতারা এমন সব অ্যালগরিদম তৈরি করে যা শুরুতে জেতার আনন্দ দেয় এবং পরবর্তীতে নেশাগ্রস্ত করে সব লুটে নেয়। অনলাইন জুয়া কেবল সাধারণ অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর সাথে যুক্ত থাকে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট। জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে টাকা লেনদেনের সময় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার করা হয়, যা ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন: পাসপোর্ট, এনআইডি, ব্যাংক কার্ড চুরি করে সেগুলো আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, একজন জুয়াড়ি শুধু নিজের অর্থই হারায় না, সে তার ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস এর এজেন্টদের একাংশের অসাধু তৎপরতা। এই অসাধু এজেন্টরা জুয়াড়িদের টাকা লেনদেনের পথ প্রশস্ত করে দেয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য জুয়ার অর্থপ্রবাহ ট্র্যাক করা দুঃসাধ্য করে তোলে।জুয়াড়িরা বিভিন্ন ‘এজেন্ট’ ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করে, যারা নিয়মিত সিম পরিবর্তন করে লেনদেনের পথ লুকিয়ে রাখে। আইনি কাঠামোতে শুধুমাত্র জুয়াড়িকে ধরার কথা বলা হলেও, এই লেনদেন চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা ছাড়া জুয়ার জাল ছিঁড়ে ফেলা অসম্ভব। বর্তমানে জুয়ার প্রচারণার মাধ্যম বদলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা ছোট ছোট ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওর মাঝে যেভাবে জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তা তরুণ প্রজন্মের মনে এই বার্তাই দেয় যে—‘এটি একটি স্বাভাবিক আয়ের উৎস’। অনেক সময় প্রিয় খেলাধুলা বা জনপ্রিয় তারকাদের ইমেজ ব্যবহার করে জুয়ার সাইটের ব্র্যান্ডিং করা হয়, যা তরুণদের নৈতিক বাধাগুলোকে দুর্বল করে দেয়। খেলার মাঠের বাইরে এখন দর্শক মোবাইলে বসে হিসাব করছে—“কোন বলে নো-বল হবে!” বিষয়টা হচ্ছে এমন যে, খেলার আনন্দকে কামড়ে খাওয়া এক অদৃশ্য মশা ভনভন করছে। এই প্রচারণার ধরণ এতটাই সূক্ষ্ম যে, অনেকেই বুঝতে পারে না তারা জুয়া খেলছে। অনেকে মনে করে, তারা ‘অনলাইনে কিছু করছে বা ‘ক্যারিয়ার’ গড়ছে। ইনফ্লুয়েন্সাররা যখন জুয়ার প্ল্যাটফর্মকে ‘স্মার্ট ইনকাম’ হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন তা তরুণদের মস্তিষ্কে গেঁথে যায়। এটি একটি সামাজিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়, যেখানে পরিশ্রমের মূল্য কমে গিয়ে জুয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের আশা প্রধান হয়ে ওঠে।জুয়া কেবল একটি আসক্তি নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তন করে দেয়। একজন জুয়াড়ি ধীরে ধীরে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, গ্যাম্বলিং আসক্তরা প্রায়ই ‘ইমপালসিভ ডিসিশন মেকিং’ বা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতায় ভোগে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়ে তারা তীব্র হতাশায় ভোগে, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। হাসপাতালের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট আসক্তি সংক্রান্ত চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে জুয়া সম্পর্কিত মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা এখন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এটি অনেকটা ক্যানসারের মতো—ধীরে ধীরে পুরো মস্তিষ্ক ও জীবনকে গ্রাস করে ফেলে। আসক্তরা তাদের কাজের জায়গা, পরিবারের সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের জায়গা হারিয়ে ফেলে। এই মানুষগুলো তখন এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভোগে, যা তাদের আরও গভীর জুয়ার দিকে ঠেলে দেয়।অনলাইন জুয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হচ্ছে। এই জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এই লেনদেনগুলো সরকারি মনিটরিংয়ের বাইরে থেকে যায়। ফলে এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় হুমকি। যখন একজন কর্মক্ষম তরুণ তার উপার্জিত অর্থ বা পরিবারের জমানো টাকা এই ভার্চুয়াল নেশায় হারিয়ে ফেলে, তখন সে দেশের উৎপাদনশীলতা থেকে বিচ্যুত হয়। দেশের জিডিপি ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর এই অদৃশ্য জুয়া কী পরিমাণ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বড় ধরনের গবেষণার সময় এসেছে। এছাড়া জুয়াড়িদের মধ্যে অর্থের অভাব দেখা দিলে তারা চুরি, ডাকাতি ও জালিয়াতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। আইন যতই কঠোর হোক, প্রয়োগ যদি দুর্বল হয়, তাহলে সেটি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের তদন্তে আমাদের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনো অনেক পিছিয়ে। একটি জুয়ার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট বন্ধ করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন সার্ভার থেকে আরেকটি সাইট চালু হয়। এই ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলায় কেবল আইন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সাইবার ইন্টেলিজেন্সের জোরদার ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কোঅর্ডিনেশন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এখন প্রথাগত তদন্তের বাইরে এসে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়াতে হবে।বর্তমান ডিজিটাল আইনগুলো কি যথেষ্ট? উত্তর হলো—প্রযুক্তি যে গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, আইন সেই গতিতে পরিবর্তন করা এবং তার চেয়েও দ্রুত কার্যকর করা বড় চ্যালেঞ্জ। জুয়াড়ির নেশা দূর করতে হলে প্রয়োজন বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ। পাঠ্যসূচিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বোঝাতে হবে—ডিজিটাল জগতের সুবিধা কী এবং এর অন্ধকার দিক কী। সন্তানের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজর রাখা এবং সম্পর্কের মাঝে স্বচ্ছতা রাখা। অভিভাবকরা যেন সন্তানের ডিজিটাল আচরণের প্রতি উদাসীন না থাকেন। অর্থপাচার রোধে ব্যাংক ও এমএফএস সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর নজরদারি করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন মাত্রই ব্লক করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে। জুয়াকে সামাজিকভাবে বয়কট এবং পরিশ্রমী জীবন দর্শনের প্রচারণা চালানো। মিডিয়া ও নাটকগুলোতে এর কুফল নিয়মিত তুলে ধরা উচিত। আসক্তদের জন্য সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সিলিং সেবা নিশ্চিত করা। জুয়াড়িদের অপরাধী না ভেবে অসুস্থ হিসেবে দেখে তাদের সুস্থ করার চেষ্টা করা।আমাদের সমাজ দ্রুত নগরায়ণের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে মানুষের মাঝে এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করছে। মানুষের মধ্যে ‘দ্রুত ধনী হওয়ার’ আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত তীব্র। পুঁজিবাদী সমাজ কাঠামো আমাদের সবসময় শেখায়—‘সাফল্য মানেই টাকা’। এই ভুল ধারণার কারণে তরুণ প্রজন্ম শর্টকাট উপার্জনের নেশায় অনলাইন জুয়াকে পেশা হিসেবে নিতে দ্বিধা করছে না। তারা বুঝতে পারছে না যে, এই অ্যাপগুলো যারা তৈরি করেছে, তারা গণিতের এমন এক মডেল ব্যবহার করছে যেখানে জুয়াড়ির জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই—জয় সবসময় অ্যাপ মালিকেরই হয়। মানুষের এই লোভকে পুঁজি করেই ডিজিটাল জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে।আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখন কেবল ডিগ্রি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নৈতিকতা ও জীবনের মৌলিক মূল্যবোধের শিক্ষা অনেকটাই অনুপস্থিত। যদি আমরা একটি সুস্থ প্রজন্ম পেতে চাই, তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সাথে সাথে নৈতিকতার পাঠটি বাধ্যতামূলক করতে হবে। ডিজিটাল জগত সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা এবং এর ভয়ংকর অন্ধকার সম্পর্কে অজ্ঞতাই তরুণদের এই মরণফাঁদে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত কাউন্সেলিং সেশন আয়োজন করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অনলাইন আসক্তির কুফল সম্পর্কে জানতে পারবে। ডিজিটাল নাগরিকত্ব বা ডিজিটাল সিটিজেনশিপ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।পরিবার হলো একটি শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। অভিভাবকরা যদি সন্তানদের ইন্টারনেটের অন্ধকার জগত সম্পর্কে সতর্ক না করেন, তবে রাষ্ট্র একা জুয়া বন্ধ করতে পারবে না। অনেক সময় অভিভাবকরা ভাবেন, সন্তান ঘরে বসে ল্যাপটপ বা মোবাইলে কিছু করছে মানেই সে আধুনিক হচ্ছে বা পড়াশোনা করছে। এই ভুল ধারণাটিই কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অভিভাবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং অসাধু এজেন্টদের চিহ্নিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্রের উচিত কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং সচেতনতা তৈরিতে প্রতিটি পরিবারকে সম্পৃক্ত করা।পরিশেষে বলা যায়—এই নতুন আইন প্রয়োজন, জরুরি, সময়োপযোগী। কিন্তু এটি কোনো জাদুর কাঠি নয়। যদি সমাজ সচেতন না হয়, পরিবার দায়িত্ব না নেয়, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে না আসে—তাহলে একদিন হয়তো আমরা আবার নতুন আইন করব। আর তখন শিরোনাম হবে— “আরও কঠোর আইন, আর শকুনি মামার চতুর মোবাইল গেম!” সেই দিন আসার আগেই যদি আমরা থামতে পারি—তখনি এই আইনের সার্থকতা। অন্যথায়, শকুনি মামা পাশা ছেড়ে মোবাইলে খেলতেই থাকবে— আর আমরা শুধু তাকিয়ে দেখব, কীভাবে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই বাজি রাখে। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রাম তাই শুধু আইন দিয়ে নয়—চাই সচেতনতা, মানবিকতা এবং প্রযুক্তির সঠিক দিকনির্দেশনা। আজ যারা তরুণ, তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতেই হবে এখনই। কারণ একটি প্রজন্ম যদি হারিয়ে যায়, তার মূল্য শুধু অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সমাজের ভবিষ্যৎ, দেশের অগ্রগতি এবং পরিবারের সুখ—সবই তখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে যাবে।
২ মাস ১৬ দিন আগে
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে একটি নতুন থানা এবং তিনটি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। রোববার (২৮ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন তিনটি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।সভায় আরও আলোচনা হবে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন ৮টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে। সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরো কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সুবিধাজনক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তরের দাবিতে সড়ক অবরোধএদিকে নতুন উপজেলা সদর দপ্তর সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। উপজেলার দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের হেয়াকো, বালুটিলা ও নারায়ণহাট বাজার এলাকায় একযোগে মানববন্ধনও হয় বলে জানান স্থানীয় ভুজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে। তিনি বলেন, ‘নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব এখনো পাস হয়নি। সদর দপ্তর কোথায় হবে, সেই সিদ্ধান্ত তো আরও পরে হবে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি পৌঁছে দিতেই তিন ইউনিয়নের লোকজন বিক্ষোভ করেছেন।’
২ মাস ১৯ দিন আগে
বাতিল হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রামের ৬৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এই উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজও করা হয়েছে।শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরিদর্শক মো. আল মাসুদ করিম। তিনি জানান, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা–২০২৪’ এর উপবিধি–এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক–কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাব, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে। তারই আলোকে চট্টগ্রামের ৬৮ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পাঠদান বাতিলের তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে ১৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং। স্কুলগুলো হচ্ছে– নগরীর বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, গোলমুন্ডা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, গুলতাজ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয়, মোস্তফা বেগম বালিকা কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজ, পশ্চিম বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয়। দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত মাদ্রাসাগুলো হচ্ছে– পন্থিছিলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা, মজিদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও জামেয়া আহমদীয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা। তালিকায় রাঙামাটি ও কক্সবাজারের ৩টি করে ৬টি মাদ্রাসাও রয়েছে। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং–এ যুক্ত চট্টগ্রামের দুই কলেজ হচ্ছে– মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ ও নিউকেসল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। এ তালিকায় রাঙামাটির একটি কলেজও রয়েছে।একইসঙ্গে জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হয় এমন ৫৪ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনও বাতিল হচ্ছে। এ তালিকায় কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ৪৪ প্রতিষ্ঠান আছে।প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজ, বেসিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ, ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, শাহী কমার্শিয়াল কলেজ, মিপস ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি, ইসলামী ব্যাংক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।এবিসি কম্পিউটার স্কুল, দ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, রেনেসা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাম্যাক্স কম্পিউটার, মাহমুদুন্নবী চৌধুরী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর কে টেকনিক্যাল ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টার, ভিলেজ স্কুল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল টেকনোলজি, ওয়েস্টার্ন মেরিন ইনস্টিটিউট, মুসাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, মাইক্রো মিডিয়া কম্পিউটার।চট্টগ্রাম লার্নিং একাডেমি, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার, কম্পিউটার ইউটিলাইজিং সেন্টার, রোটারি ইস্কান্দার টেকনিক্যাল সেন্টার, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (জিপিসি আইসি), নিউ জেনারেশন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, আহলা এ এস চৌধুরী বহুমুখী টেকনিক্যাল স্কুল, এবিসি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, আরাবিয়া খাইরিয়া কম্পিউটার ইনস্টিটিউট।চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্কুল অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট, বিডি টেকনোলজি, মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মোস্তফা বেগম গার্লস টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, এটিএল একাডেমি, ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইউনিসন স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, শ্যামলী আইডিয়াল টেকনিক্যাল কলেজ (চট্টগ্রাম), প্রোগ্রেসিভ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, এসকেপ মেকানিক্যাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, প্যাসিফিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, উদ্দীপন টিভিইটি সেন্টার, আইডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং।চট্টগ্রাম টেকনিক্যাল কলেজ (সিটিসি), চট্টগ্রাম সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, অ্যাকটিভ ইনস্টিটিউট, শামসুন্নাহার হারুন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, দারুল হিকমা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, কর্ণফুলী–রাঙ্গুনিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আস্থা হোম কেয়ার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার।কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, চূড়ান্তভাবে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের আগে চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করা হয়। এছাড়া ৪ ও ১৮ জুন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৮ জুন পৃথক শোকজ করা হয়। তবে শোকজের ভাষা একই।প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করে দেয়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ড–এর দেয়া চিঠিতে যেসব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ যাবত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাখ্যা আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৩০ জুনের মধ্যে বোর্ডে ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় সারা দেশের ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৩। এর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া ১২০টি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১২টি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, ১৫টি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও ১ হাজার ৮৫টি জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার তালিকায় চট্টগ্রামের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
২ মাস ২১ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর ধনিয়ালা পাড়ার লাকী ম্যানশন এলাকা এবং জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে মারা যান দুই নির্মাণ শ্রমিক।নিহতরা হলেন রাউজান উপজেলার কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ। প্রদীপ দাশ বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ দাশ সেপটিক ট্যাংকে নামার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে নামা সমীরণও গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে রাউজান উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু‘জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিহত প্রদীপ দাশের মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার শ্বশুরবাড়ি ঝিকুটি পাড়ায় নেওয়া হলে সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এদিকে একই দিন বেলা ২টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট ধনিয়ালা পাড়ার লাকী ম্যানশন এলাকায় সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে আরও দু‘জনের মৃত্যু হয়। তাদের একজনের নাম সাকিব, অন্যজনের হৃদয়। তাদের বয়স ২৫-২৬ বছর বলে জানান ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম। ধনিয়ালাপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের স্টিলের স্ট্রাকচার অপসারণ করতে দুই নির্মাণ শ্রমিক নেমেছিলেন। সেখানে দুজন অচেতন হয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের ধারণা, ট্যাংকের ভেতর গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। লাশের সুরতহাল স¤পন্ন করা হয়েছে। এরপরও আরও কোনো আলামত আছে কি-না সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি।
২ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আটটি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাম্প্রতিক এক জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি সূচকেই নগরীকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া যাওয়ায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। শুক্রবার (২৬ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশও করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরবাসীকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য বিভাগের চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল গত ৮ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করে। এ সময় ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। জরিপে দেখা যায়, ৩৭০টি বাড়ির মধ্যে ৯৯টিতে এবং পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে। শনাক্ত হওয়া লার্ভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির।জরিপে হাউজ ইনডেক্স পাওয়া গেছে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে থাকার কথা। ব্রেটো ইনডেক্স ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা গ্রহণযোগ্য সীমা ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি। এছাড়া কন্টেইনার ইনডেক্স ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ পাওয়া গেছে, যেখানে ১০ শতাংশের বেশি হারকে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়।তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর কাট্টলী (ওয়ার্ড-১০), পাঁচলাইশ (ওয়ার্ড-৩), জালালাবাদ (ওয়ার্ড-২), পশ্চিম বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৭), দক্ষিণ বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৯), দক্ষিণ হালিশহর (ওয়ার্ড-৩৯), পাথরঘাটা (ওয়ার্ড-৩৪) এবং আন্দরকিল্লা (ওয়ার্ড-৩২) ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে বাসাবাড়ির প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবনের লিফট হোল ও আন্ডারগ্রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে। উদ্বেগজনকভাবে সিটি করপোরেশনের কিছু আবর্জনা পরিবহনকারী গাড়িতেও এডিসের লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
২ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত রূপসী কর্ণফুলী নদীর পাড় হতে যাচ্ছে যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত। এই পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে দীর্ঘ সাড়ে ৮ কিলোমিটার আউটার রিং রোড। যা মূলত জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই আউটার রিং রোড চালু হতে আর মাত্র ১০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের মূল কাজ শেষ করা। ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে পারব। জমি অধিগ্রহণের অর্থায়ন নিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, যা আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করে ফেলেছি।সিডিএর তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে মোহরা পর্যন্ত বিস্তৃত সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটি চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই মেগা প্রকল্পের সমাপ্তি বন্দরনগরীর আবাসন, পর্যটন ও শিল্পখাতে বিনিয়োগের এক অভূতপূর্ব দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণশৈলী ও নান্দনিক রূপ দেখতে এখনই প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় করছেন নদীর পাড়ে।সড়কের বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, একপাশে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে চলা ছোট-বড় নৌকা ও বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজের সারি, আর অন্যপাশে চিরসবুজ প্রকৃতির বুক চিরে চলে গেছে মসৃণ পিচঢালা পথ। শীতল হাওয়া আর নদীর কলতানের এই মেলবন্ধন চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ ভৌত অবকাঠামোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সড়কটি চালু হলে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে কালুরঘাট এলাকা থেকে কর্ণফুলী সেতুতে পৌঁছাতে যেখানে তীব্র যানজটের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়, এই রিং রোড ব্যবহার করে সেই দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটে নেমে আসবে। এছাড়া কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে সড়কটি উত্তর চট্টগ্রামের সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করবে।যোগাযোগের পাশাপাশি এই রিং রোডকে ঘিরে পর্যটনের এক বিশাল ক্যানভাস তৈরি করছে সিডিএ। নদীর তীরবর্তী ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে 'কর্ণফুলী রিভারভিউ পার্ক'। যেখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আধুনিক ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ, ডেডিকেটেড সাইকেল লেন এবং নদী দেখার জন্য বিশেষ বসার গ্যালারি।অন্যদিকে নদীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু করে নির্মিত এই শক্তিশালী সড়কটি চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অভিশাপ 'জলাবদ্ধতা'র বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ বা প্রতিরোধক দেয়াল হিসেবে কাজ করবে। ফলে জোয়ারের পানি ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও মোহরার মতো নিম্নাঞ্চলগুলো। সড়কটির কল্যাণে একসময়ের অবহেলিত ও অনুন্নত এই বিশাল অঞ্চলটি এখন আধুনিক বাণিজ্যিক ও আবাসন জোনে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।তবে সড়কটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন যেমন ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট কোনো টার্মিনাল নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন বেনাপোল থেকে আসা চালকদের বিশ্রামের জন্য এবং পণ্যবাহী গাড়িগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করার জন্য এই রিং রোডের পাশে যদি সরকার একটি আধুনিক ও বড় টার্মিনাল স্থাপন করে, তবে এটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিডিএ। দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি, আর্থিক ও কাঠামোগত অপেক্ষা শেষে চার লেনের এই দৃষ্টিনন্দন আউটার রিং রোডটি চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও আধুনিক যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। একইসাথে রূপসী কর্ণফুলীর পাড়ে যোগ করবে এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতা।
২ মাস ২৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন কৌশল বা ‘ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন। কাজ একটি হলেও সরকারের দুই ভিন্ন সংস্থা আলাদা বাজেট নিয়ে করে যাচ্ছে আলাদাভাবে। এর মধ্যে ২০২০ সাল থেকে এ কাজটির পেছনে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ খরচ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অথচ একই কাজ নতুন করে করতে ২০২২ সালে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। সিডিএর পুরো মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের ব্যয় ৩৬ কোটি টাকা, আর ডিটিসিএর এই পরিবহন প্রকল্পের ব্যয় ৭০ কোটি টাকা। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র সমন্বয়হীনতার কারণে জনগণের করের টাকার এমন অপচয়কে ‘অর্থের শ্রাদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের এমন কাজ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো জনগণের অর্থের শ্রাদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। একটি কাজ কেন একই সরকারের দুটি সংস্থা আলাদাভাবে করবে? এদের মধ্যে যে কোনো সমন্বয় নেই, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট। রাষ্ট্রের এসব অপেশাদার সংস্থার ভেতরে বড় ধরনের সংস্কার খুব জরুরি।’অন্যদিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বললেন, ‘একটি শহরের জন্য যখন রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে এবং সেই প্ল্যানেই পরিবহন পরিকল্পনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তখন হঠাৎ অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের একই শহরের জন্য নতুন করে পরিবহনবিষয়ক সমীক্ষা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা স্পষ্টতই রাষ্ট্রীয় মেধা, শ্রম ও অর্থের অপচয়।’সিডিএর নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে ‘প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান’ এই নামে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। প্রকল্পের আওতায় ২০৪১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কৌশলগত দিকনির্দেশনাসহ মোট সাতটি বড় খসড়া তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে স্ট্রাকচারপ্ল্যান, অ্যাকশন এরিয়াপ্ল্যান, ড্রেনেজ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মাস্টারপ্ল্যান এবং জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো ‘ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান’। ৩৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের একটি বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে নগরের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন কৌশল প্রণয়নে।সিডিএর এ কাজ চলমান থাকার মধ্যেই ২০২২ সালের অক্টোবরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ডিটিসিএ ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর আরবান মেট্রোরেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন ফর চিটাগাং মেট্রোপলিটন এরিয়া’ নামে আরেকটি পৃথক প্রকল্প নেয়। ৭০ কোটি টাকার এই প্রকল্পেরও মূল লক্ষ্য চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান তৈরি। অর্থাৎ একই শহরের যাতায়াত ব্যবস্থার নকশা তৈরিতে দুটি সংস্থা পৃথকভাবে খরচ করছে মোট ১০৬ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকার কীভাবে এক কাজ দুবারের জন্য বিপুল বরাদ্দ দিল? এর পেছনে কাজ করেছে কোন পদ্ধতি?জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বিষয়টি একরকম অস্বীকার করে বলেছেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে আলাদা করে ট্রাফিক মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে না। ট্রাফিক মাস্টারপ্ল্যানের জন্য ডিটিসিএর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’তবে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বিষয়টি এড়াতে চাইলেও সংস্থাটির নিজস্ব নথিতেই মিলেছে ভিন্ন তথ্য। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে সিডিএর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ডেটা এক্সপার্ট-টিলার-ইজিএস’ যৌথভাবে যে ইনসেপশন প্রতিবেদন জমা দেয়, তার ‘কম্পোনেন্ট ৪’-এর অধীনে ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটি নতুন ‘ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ২০২৩ সালের এপৃলে প্রকাশিত সিডিএর ‘প্রিলিমিনারি সার্ভে রিপোর্টে’ দেখা যায়, এই পরিকল্পনার জন্য ১২ ধরনের পরিবহন সমীক্ষাও এরই মধ্যে শেষ করেছে সিডিএ। যেখানে ১০ হাজার ৮২৪টি পরিবারের যাতায়াত তথ্য এবং ৬ হাজার ৮৬৪ জন যাত্রীর সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া আছে। নথিতে স্পষ্ট বলা আছে, এই ডেটা ২০৪১ সালের পরিবহন কৌশল ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরির জন্যই সংগ্রহ করা হয়েছিল।একই কাজে ডিটিসিএর নতুন প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালক মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেছেন, ‘সিডিএর সঙ্গে আমরা সমন্বয় করছি। তবে তারা মাত্র ৫ হাজার তথ্য নিয়ে এটি প্রণয়ন করেছে। আমরা ১৭ হাজার ডেটা বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত পরিবহন মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছি।’ ডিটিসিএ কর্মকর্তার এমন দাবিও নাকচ করে দিচ্ছে সিডিএর নথিপত্র। কারণ, সিডিএ এরই মধ্যে পরিবার ও যাত্রী মিলিয়ে প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার শেষ করেছে।
৩ মাস ১ দিন আগে

চামড়া কেনা তো দূরের কথা, ঈদুল আজহার দিন সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেও কোনো ক্রেতা একটিবার দেখতেও আসেনি কোরবানির পশুর চামড়া। গত ১৩ বছর ধরে এমন চিত্র চট্টগ্রামের। ২০১০ সালের আগেও প্রতিবছর কোরবানিতে পশু জবাইয়ের পর চামড়া কেনার জন্য কয়েকটা পার্টি দেখতে এসে দরদাম করত। কিন্তু এবার কেউ এলো না।কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এ-ব্লকের বাসিন্দা খোকন চৌধুরী। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, কোরবাানির পশুর চামড়া এত মূল্যহীন যে, মাদ্রাসায় সম্পূর্ণ ফৃতে দিয়ে দিতে হচ্ছে। অথচ দেশে চামড়াজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী।এমদাদ হোসেন একজন বলেন, বিগত বছরগুলোতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার সিন্ডিকিটের মাধ্যমে কোরবাানির পশুর চামড়াকে মূল্যহীন করে গরিবের হক হাইজ্যাক করেছিল। কিন্তু এবার ভাবছিলাম সরকার পরিবর্তন হওয়াতে কোরবানির পশুর চামড়ার ভালো দাম পাওয়া যাবে। সিন্ডিকেট ভাঙবে। কিন্তু যে লাউ, সেই কদু। বরং বিগত ১৩-১৪ বছরের মতো চামড়ার মূল্য এবারও মূল্যহীন। সম্পূর্ণ ফৃতে দিয়ে দিতে হয়েছে বিভিন্ন এলাকার মাদ্রাসাগৃুলোতে। নগরীর শুলকবহর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আনসারুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার পক্ষ থেকে আগে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হলেও তা সংরক্ষণ করে বিক্রির পর লাভের টাকা দিয়ে এতিম ছাত্রদের জন্য খরচ করা হতো। কিন্তু এবার চামড়ার যে দাম, চামড়া সংগ্রহ করে আনতে যে পরিমাণ গাড়ি ভাড়া খরচ হয়েছে তাও উঠবে না।ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনছেন ১০০-২৫০ টাকায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ চৌমুহনী মোড়। প্রতিবারের মতো এবারও রাস্তার পাশে চামড়ার স্তুপ। একটি-দুটি করে চামড়া এনে এখানে বিক্রি করছেন লোকজন। ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে মধ্যবয়সী একজন নিয়ে এলেন দুটি বড় চামড়া। তাঁর নাম আতিকুর রহমান। এ সময় প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে বসা ছিল চামড়া ক্রেতা মো. দুলাল। তিনি চামড়া রিকশা থেকে নামানোর পর প্রথমে ৪০০ টাকা দিলেন আতিককে। আতিকের জবাব, চামড়া ও টাকা দুইটা রেখে দে তুই। দুলাল আর ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে নিজের ডায়েরি খুলে দেখালেন। দেখ, কত টাকা করে চামড়া কিনেছি। তোমাকে বেশি দিলাম।এভাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি চামড়া ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামে। পাড়া থেকে চামড়া সংগ্রহকারী মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রথম দফায় বিক্রি করছেন বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে। সেখান থেকে যাচ্ছে নগরের আতুরার ডিপোর আড়তদারদের কাছে। তবে চামড়ার আগের সেই জৌলুস এখন নেই বলে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষ স্বীকার করছেন।নগরীর চৌমুহনী মোড়ে চামড়া নিয়ে বসেছেন ৭-৮ জন। সেখানে পাড়া থেকে চামড়া সংগ্রহ করে এনে দিচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দুজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জানালেন, চামড়ার দাম এখন খুব কম। গাড়ি ভাড়া ওঠে না। বড় চামড়া ২০০-২৫০ টাকার বেশি দিচ্ছেন না ক্রেতারা।একই চিত্র আড়তেওহাটহাজারী উপজেলার একটি মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মো. আলী চট্টগ্রামের চামড়ার আড়ত আতুরার ডিপোতে এসেছেন কোরবানিদাতাদের সওয়াবের উদ্দেশ্যে দান করা ২৯টি ছোট-বড় গরুর চামড়া নিয়ে। বিক্রির পর মাওলানা আলী গণনা করতে শুরু করেন খরচ। তিনি বলেন, চামড়ার গাড়ি ভাড়া খরচ আড়াই হাজার টাকার বিপরীতে বিক্রয়মূল্য মাত্র তিন হাজার টাকা। আমরা যারা সারাদিন এসব চামড়া নিয়ে কাজ করেছি, সবই বৃথা। বৃথা শুধু তাদের পরিশ্রমই নয় বৃথা হয়েছে কোরবানিদাতাদের দাতব্যের আবেগও।খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে একটি মাদরাসার প্রায় ছয়শো চামড়া নিয়ে এসেছেন মো. করিম। যিনি এই চামড়াগুলোর দেখাশোনা করছেন। অবাক হয়ে তিনি বললেন, এখানে ১০০ টাকার বেশি কেউ দাম দিতে চাইছে না। এই একটি বাক্যেই চামড়ার বাজারের স¤পূর্ণ বাস্তবতা ধরা পড়ে।শুক্রবার (২৯ মে) আরাফাত নামে একজন আতুরার ডিপো এলাকায় বসে আছেন চামড়া নিয়ে। তিনি ২২টি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। আড়তদাররা চামড়াগুলোর মূল্য বলছেন ২৫০০ টাকা। তিনি জানান, তাঁর প্রতিটি চামড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেনা পড়েছে। কিছুটা বেশিতে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে।মো. আলম নামের একজন ব্যবসায়ী আতুরার ডিপোতে দাঁড়িয়ে আছেন। তার কপালে চিন্তার ভাঁজ। তিনি বলেন, গ্রামের বাজার থেকে একটি বড় গরুর চামড়া কিনেছেন ৪০০ টাকার কাছাকাছি দামে। তার উপর আছে গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক খরচ। এখানে এসে আড়তদাররা ২০০ টাকার বেশি দাম দিতে চাইছেন না। তার প্রশ্ন যুক্তিসঙ্গত: “তাহলে আমরা কীভাবে টিকব?”বাঁশখালী থেকে আসা রুবেলের গল্প একই রকম হতাশায় ভরা। তিনি বলেন, ঈদের সময় একটু লাভের আশায় চামড়ার ব্যবসায় নামি। কিন্তু প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হয়। এবারও সেই অবস্থা। আর এই অবস্থা কোনো নতুন নয় এটি বছরের পর বছর চলে আসা একটি দুষ্ট চক্র।মূল্যহীন সরকারি মূল্যওমৌসুমী ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার ঢাকার বাইরের জন্য প্রতি ফুট লবণযুক্ত চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করেছে। ঢাকায় যা ৬২ থেকে ৬৭ টাকা। কিন্তু সরকারি এই মূল্য চট্টগ্রামে মূল্যহীন। চট্টগ্রামের আড়তদার সমিতির ৩৫ সক্রিয় সদস্য সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। যাদের প্রায় ১৫০ সংগ্রহকারী চামড়া ক্রয়ে একরকম মূল্যই বলছেন। গড়ে প্রতিটি ছোট গরুর চামড়া ১০০-১৫০ টাকা, আর বড় গরুর চামড়া ২৫০-৩০০ টাকায় কিনছেন। বিসয়টি স্বীকার করেছেন চামড়া আড়তদার সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিনও। তিনি বলেন, চামড়ার আগের জৌলুস নেই। এখন চামড়ার দাম খুব কম। খরচ এবং কেনা মিলে লাভ করা কঠিন। আমরা আগেই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চামড়া সংগ্রহের সময় দাম বুঝে কিনতে বলেছিলাম। যারা না বুঝে কিনবেন, তাঁরা ঠকবেন। কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন একটি চামড়া প্রক্রিয়াকরণের খরচের হিসাব দেন। সংগ্রহ, পরিষ্কার, লবণ দেওয়া, সংরক্ষণ সবকিছু মিলিয়ে শুধুমাত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচই পড়ে প্রায় ৪৫০ টাকা। এর পর আসে ঝুঁকি, পরিবহন খরচ, সংরক্ষণ ঝামেলা।আর তারপর? তারপর আসে ট্যানারি। যেখানে চাহিদা নেই, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম পড়ছে, যেখানে অর্থ প্রদান হচ্ছে দেরিতে। এর ফলে পুরো বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর সেই অস্থিরতার বিষফল ছড়িয়ে পড়ে শিল্পের প্রতিটি স্তরে।চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির তথ্যমতে, এবারের লক্ষ্য গরু-মহিষের সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহ। বৃহ¯পতিবার বিকেল হতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া আড়তে আসা শুরু হয়। তার আগে চৌমুহনী বাজারসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।উৎসবের রূপান্তরচট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী তালুকদার এহছানুল হক তিনি বলেন, ২০১০ সালের আগেও কোরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহ ছিল লাভজনক ব্যবসা। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আসতেন আশা নিয়ে, ফিরে যেতেন লাভ নিয়ে। সেই দিনগুলো এখন অতীত। তিনি বলেন, এ সময় ৩০ হাজার টাকায় গরু কিনলে সেই চামড়ার দাম দেড় হাজার টাকায় কেনা হতো। তখন গরুর চামড়ার দাম সরকারিভাবে ছিল বর্তমানের চেয়ে অর্ধেক কম। এখন দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়াও বিক্রয় হচ্ছে ১০০ টাকায়। নগরীর পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা তারেক কোম্পানী বলেন, এবার আাম এক লাখ ৭০ হাজার ও এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু কোরবানি দিয়েছি। কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে পারিনি। ফৃতে মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছি। অথচ এক সময় ৩০ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়াও বিক্রি করেছেন ১০০০-১৫০০ টাকায়।চট্টগ্রাম মহানগরীর পুরাতন চামড়া ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, চামড়া জাতীয় স¤পদ। কিন্তু এই খাতটা এখনো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যায়নি। চামড়া শিল্পের এই সংকট শুধু চামড়ার সাথে স¤পর্কিত নয়। এটি সমাজের একটি বিস্তৃত সমস্যার প্রতিফলন দাম নিয়ন্ত্রণের অভাব, সিন্ডিকেটের খেলা, অরাজকতা। নৈরাজ্য দিয়ে বাণিজ্যবাজারে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। চামড়াজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। জুতো, ব্যাগ, ওয়ালেট এসবের দাম আকাশছোঁয়া। কিন্তু কাঁচা চামড়ার দাম গড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আলাউদ্দিন তীক্ষè মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আগে চামড়ার দাম বেশি ছিল কিন্তু চামড়াজাত পণ্যের দাম ছিল কম। এখন সময়ের ব্যবধানে চামড়াজাত পণ্যের দাম বেড়েছে কিন্তু কাঁচা চামড়ার কোনো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এবার চামড়ার দামও গত বছরের চেয়ে বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু আড়তগুলো আরও কম দামে চামড়া খরিদ করতে চাইছে।যা করার পরামর্শসংশিাষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সরকারি নজরদারি এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা যা বিদেশী মানদন্ড অনুসরণ করা, ট্যানারি মালিকদের সাথে সমন্বিত উদ্যোগ যাতে চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য রাখা যায়। কিন্তু এসবের কোনোটি নজরে পড়ছে না। ফলে বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও লোকসানের বোঝা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।
৩ মাস ২০ দিন আগে
৫ হাজার কোটির স্কুল ফিডিং নিয়ে কঠোর সরকার; নিষিদ্ধ হচ্ছে ‘গোপন সাবকন্ট্রাক্ট’ এবং লাইভ ড্যাশবোর্ড চালু
৩ মাস ২২ দিন আগে
‘ইয়াসিন বাহিনী’ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সীতাকুন্ড আসনের সাবেক এমপি দিদারুল আলম দিদার ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার মদদপুষ্ট ছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতীতে একাধিকবার অভিযান চালালেও পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি
৩ মাস ২৪ দিন আগে
কুমিল্লার ডিসি হতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ৮ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের একটি গোপন চুক্তি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল। এমন অভিযোগে এই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।গত ১৩ মে নোটিশটি জারি করা হয় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখা থেকে। ১৬ মে শনিবার রাতে ফাঁস হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশটি। নোটিশে বলা হয়েছে, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের উদ্দেশ্যে এস এম সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ৮ কোটি টাকার একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।নোটিশে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দায়ে তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিবের কাছে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রবিবার (১৭ মে) সচিবালয়ে গিয়ে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস এম সরওয়ার কামাল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার স্যারের সঙ্গে এভাবে কি চুক্তি করা যায়? কেউ হয়তো স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অভিযোগ করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি ষড়যন্ত্র হতে পারে। এ ধরনের চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না। এটা আবার হয় নাকি। উল্লেখ্য, এস এম সরওয়ার কামাল জনপ্রশাসনের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে প্রেষণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে পদায়ন করা হয়। জেলা প্রশাসক পদের কর্মকর্তারাও একই পদমর্যাদার।
৪ মাস ১ দিন আগে
কক্সবাজারের ইনানি সৈকতে সাগরের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট’। বাইরের চাকচিক্য আর রমরমা ব্যবসার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার জগত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে রীতিমতো ‘ফাঁদে’ ফেলে ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য ফাঁস হয়েছে এই রিসোর্টটির কর্ণধারের বিরুদ্ধে। সি পার্লের এই ‘বন্ড জালিয়াতি’ কেবল একটি কোম্পানির দুর্নীতি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের এক সুপরিকল্পিত মহোৎসব বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদও। তাঁর প্রশ্ন কক্সবাজারের এই রিসোর্টটিতে বছরজুড়েই পর্যটকদের ভিড় এবং রমরমা ব্যবসা থাকে। তাহলে কেন তারা নিয়মিত কিস্তি দিচ্ছে না?আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ জানান, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাবে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা আটকে থাকায় এখন চরম অর্থসংকটে ভুগছে খোদ আইসিবি।আইসিবি সূত্র জানায়, এই বন্ড জালিয়াতির মূল হোতা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু। সি পার্ল রিসোর্টের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য তিনি। ২০১৭ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার করে আইসিবি-কে ৩২৫ কোটি টাকার বন্ডে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করেন। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া সেই ৮ বছর মেয়াদী বিনিয়োগই আজ আইসিবির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ১০ শতাংশ সুদে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ষান্মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও সি পার্ল কর্তৃপক্ষ তা থোড়াই কেয়ার করেছে। নিয়মিত কিস্তি না দেওয়ায় ৩২৫ কোটি টাকার মূল বিনিয়োগ সুদে-আসলে এখন ঠেকেছে ৫৯৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৬ টাকায়! অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এখন এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা আইসিবির।কেবল কিস্তি ফাঁকি নয়, সি পার্ল কর্তৃপক্ষ বন্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ভঙ্গ করেছে। ২০ শতাংশ শেয়ারে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। ঋণের বিপরীতে সম্পদের ওপর প্রথম চার্জ সৃষ্টি বা বন্ধকীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি, ফলে বিনিয়োগের কোনো নিরাপত্তা নেই। কিস্তি পরিশোধে বিলম্বের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত সুদের শর্তও তারা কৌশলে এড়িয়ে গেছে।আর সি পার্ল বিচের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স লিমিটেড’-এর কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে কয়েকশ সন্ত্রাসী নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে সেই কারখানা দখল করা হয়েছিল বলে জানা যায়।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেন এত বড় অঙ্কের রাষ্ট্রীয় অর্থ বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলো? রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে কি তবে দেশের আর্থিক খাত পুরোপুরি জিম্মি?এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি ইকরামুল হক টিটুকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়নের পর গা ঢাকা দিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্টের কর্ণধার ইকরামুল হক টিটু।
৪ মাস ৮ দিন আগে