চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল খ্যাত বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসায়ও উঠেছে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ। এই হাসপাতালে দুই প্রসূতিকে সিজারের পর জটিলতা দেখা দিলে তাদের আবারও অস্ত্রোপচার করা হয়।
বর্তমানে দুই প্রসূতিই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়ছেন বলে জানান স্বজনরা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট প্রসববেদনা নিয়ে চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাজু আক্তার পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিকেল ৫টার দিকে প্রথম সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু তাদের না জানিয়েই রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
সাজু আক্তারের মা অভিযোগ করেন, বিকেল ৪টার দিকে মেয়েকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর রাত ৯টা পর্যন্ত আমাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। প্রথম অপারেশনের পর অনেক রক্তক্ষরণ হয়। আমাদের না জানিয়েই আবার অপারেশন করা হয়েছে। এখন আমার মেয়ে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
একই রাতে আগ্রাবাদ এলাকার মারিয়া নামের আরেক প্রসূতির ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। তারা জানান, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা শিখার অধীনে ভর্তি হওয়া মারিয়ারও দু‘দফা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়।
মারিয়ার বড় ভাই অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আনার সময় আমার বোন সুস্থ অবস্থায় ছিল। প্রথম সিজারের পর কী কারণে এত রক্তক্ষরণ হলো, তা আমাদের জানানো হয়নি। পরে আবার অপারেশন করা হয়। এখন সেও আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। তিনি আরও দাবি করেন, সংকটজনক অবস্থায় তার বোনকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দিয়েছে ওয়ার্ডবয়।
অভিযোগের বিষয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা শিখার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পার্কভিউ হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি।
এর আগে কয়েক মাস আগে একই হাসপাতালে দুই নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাকে ‘স্কাল্প ইনজুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে। এছাড়া ওই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক টেলিভিশন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একই হাসপাতালে বারবার চিকিৎসা-সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক। দুই প্রসূতির বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা এবং আগের ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে কী ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।