যানজট কমাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চরম হুশিয়ারী দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
প্রাথমিক পরিদর্শনে নগরীর যানজট তৈরীর একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে তিনি সতর্ক করেন। পরবর্তী পরিদর্শনে অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড়ের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল এবং সিএসসিআর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
পরিদর্শন শেষে সিডিএর চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিতেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে এবং পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা নগরের যানজট নিরসনে একযোগে কাজ করছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে, পরবর্তী পরিদর্শনে তাদের আকার অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে কোনো অজুহাত গ্রহণ না করে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান এ.জি.এম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, অথোরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অথোরাইজড অফিসার-২ তানজীব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিডিএর তথ্যমতে, বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, প্রয়োজনীয় পার্কিং ¯েপস না রাখা, নকশায় পার্কিং হিসেবে দেখানো স্থান অন্য কাজে ব্যবহার, পার্কিং এলাকা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা এবং পার্কিং ¯েপসে ময়লা-আবর্জনা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের মতো একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
ফলে এই অনিয়ম সংশোধন না করলে হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি বেসরকারি হাসপাতালে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে অসহনীয় যানজট লেগে থাকে। সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে এসব সড়কে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে থাকতে হয়। এমনকি এসব হাসপাতালে আসা রোগীর অবস্থাও কাহিল হয়ে পড়ে। এ সুযোগে যানবাহনগুলোও দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া বেশি আদায় করে। এতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুরাদপুর-চকবাজার-বহদ্দারহাট সড়ক। এ সড়কের পাঁচলাইশ মোড়ে বেমসরকারি পার্কভিউ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অবস্থান। এ হাসপাতাল ভবনের নিচের তলায় পার্কিং থাকলেও তা রোগীদের কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য এই পার্কিং ব্যবহার যোগ্য। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে সড়কে তাদের গাড়ী পার্কিং করে।
একইভাবে নগরীর জিইসির মোড় থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সড়কের সামনে অবস্থিত বেসরকারি এপিক হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, পপুলার হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, প্রবর্তক মোড় শেভরণ হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, সিএসিআর, ল্যাব এইড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মেট্টোপলিটন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ন্যাশনাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ম্যাক্স হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, রয়েল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল, এশিয়ান হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার আন্যতম।
এসব হাসপাতালের কারণে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, কাজীর দেউড়ি সড়ক, জামালখান সড়ক, চকবাজার সড়ক, বহদ্দারহাট সড়ক, টাইগার পাস মোড়, নিউমার্কেট মোড়, আন্দরকিল্লা মোড় পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ে বলে জানান সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আহমেদ কবীর।
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা ঠিক হলে নগরীর অর্ধেক যানজট নিরসন হয়ে যাবে। নগরবাসী মুক্তি পাবে ভোগান্তি থেকে।