দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দূর্নীতির মামলায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ক্লারিকাল সুপারভাইজার ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে (৫৭) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ রায় দেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কবির হোসেন।তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে গণ্য করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় আগে কোনো কারাভোগ করে থাকলে তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় জব্দ করা সব আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মালখানার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় নাছির উদ্দিনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।মামলার নথি ও দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মাত্র ২৩০ টাকা মূল বেতনে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে পিয়ন বা অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন নাছির উদ্দিন। পরে ট্যাংক লরি হেলপার থেকে চেকার এবং এরপর ক্লারিকাল সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ও সিবিএর সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করেন নাছির উদ্দিন।দুদকের অভিযোগ, এসব পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ তার বিপুল সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে। ২০১৯ সালের ১২ মে দুদকে সম্পদের বিবরণী জমা দেন নাছির উদ্দিন। সেখানে তিনি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।পরে দুদকের অনুসন্ধানে তার ২ কোটি ১১ লাখ ৭১ হাজার ১৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের তথ্য পাওয়া যায়। একইসঙ্গে ২ কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্যও পাওয়া যায়।এই অভিযোগে ২০২৩ সালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।এই সময়ে গা ঢাকা দেন তিনি। যদিও পদ্মা অয়েল পিএলসি থেকে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। নিয়মিত অফিস না করেও তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। এ কাজে পদ্মা অয়েলে পিএলসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে সহযোগীতা করেছেন। আর এই দীর্ঘ সময়ে সাক্ষ্য, প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার সাজার রায় দেন।
১৭ দিন আগে
ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি, ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, উত্তম চৌধুরী, শাহজাহান কবির ও সিবিএ নেতা মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি এমন অভিযোগ হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবরে। লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন সিইউএফএল এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযোগে মিজান-আরিফ-উত্তম-শাহজান চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।মিজান-আরিফ-উত্তম-শাহজানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগঅভিযোগে বলা হয়, সিইউএফএল’এর ইজিপি নির্দেশিকা অমান্য করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান ও পছন্দের ঠিকাদারকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় প্রদান করে সরকারের ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা চালান এমডি মিজানুর রহমান।পরবর্তীতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ সেই টেন্ডার বাতিল করে এবং নতুন ইজিপি দরপত্রে সরকারের ৫৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়।লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবির সিইউএফএলের আশে পাশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন শাহজাহান কবির। নিজ এলাকায় তিনি বিঘায় বিঘায় জায়গা জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।এছাড়া অচল পরিবহন পুলের গাড়ি সচল দেখিয়ে ভুয়া জ্বালানি খরচ এবং কারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও চোরাই বাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এছাড়া এমডির মদদে মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলাম বিগত দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হাজিরা খাতায় ‘ব্যাক ডেটে‘ ভুয়া স্বাক্ষর এবং ক্যাজুয়াল ছুটির নথি তৈরি করা হয়।অভিযোগে দাবি করা হয়, ২০২২ সাল থেকে সিবিএ নির্বাচন বন্ধ রেখে কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে পছন্দের লোক বসিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে দুই অভিযুক্তই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।নিয়ম ভেঙে সিইউএফএলের বিদ্যুৎ বিক্রি হচ্ছে বাইরেতথ্য সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) নিজস্ব বিদ্যুৎকন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়ম ভেঙে সংলগ্ন বাজারের দোকানপাট ও আবাসিক ভবনে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমতি নেই বলে জানা গেছে। ফলে এই বিদ্যুৎ বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়া বাজারের শতাধিক দোকান ও বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সিইউএফএলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সংযোগ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় হয় বলে জানা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিল বকেয়া রেখেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগের তীর এমডি মিজানুর রহমান, মাস্টার আরিফুর ইসলাম, উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। সিইউএফএল থেকে তিনটি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। পরে ঐ সংযোগ ব্যবহার করে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও বসতঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিইউএফএলের কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। সেখানে দুটি স্টিম টারবাইন জেনারেটর (এসটিজি) ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আর ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্থাপিত বিদ্যুৎকন্দ্রের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাইরে সরবরাহ বা বিক্রি করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু নিয়ম কানুনের ব্যতয় ঘটিয়ে উত্তম চৌধুরী, শাহজাহান কবির, এমডি মিজানুর রহমান ও সিবিএ নেতা আরিফ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন।কার কত সম্পদঅভিযোগের তথ্যমতে, এমডি মিজানুর রহমান ভোলা জেলার চড়পাতা গ্রামে দোতলা বাড়ি এবং নরসিংদী জেলায় একটি ৭ তলা ভবন নির্মাণসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এবং নিজ গ্রামে কাঁড়ি কাঁড়ি জায়গা-জমি কিনেছেন, স্ত্রী নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, এবং দুর্নীতির টাকা সাদা করতে কাছের আত্মীয় স্বজনের নামেও খুলেছেন ব্যাংক একাউন্ট।অন্যদিকে মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামও নিজ গ্রামে পাকা বিল্ডিং ও ঢাকায় নামে–বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনেছেন, তিনিও তার গ্রামের বাড়িতে কিনেছেন জায়গা-জমি, কিনেছেন ফ্ল্যাট, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামে করেছেন এফডিআর।এছাড়া অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবিরও। নিজ এলাকায় তিনি বিঘায় বিঘায় জায়গা জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।যা দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্ট অপরাধ। অনিয়মের তথ্য ফাঁস করায় তাঁদের মিথ্যা অভিযোগে বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিইউএফএল–এর সাধারণ কর্মচারীরা।একচ্ছত্র আধিপত্য আরিফেরজানা গেছে, সিইউএফএলএ আরিফের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর চলছে জুলুম। সিবিএ নির্বাচনে তার সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রবিউল ইসলাম খান ও এমরান খানকে সম্প্রতি বিসিআইসিতে তদবির চালিয়ে অন্যত্র বদলি করিয়ে দেওয়া হয়েছে!সাধারণ শ্রমিকদের দাবি—ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি প্রশ্রয় আর যোগসাজশেই আরিফ আজ এত বেপরোয়া। কারখানার এমডি মিজানুর রহমান নিজে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকায়, আরিফের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এই পুরো সিন্ডিকেটকে পাহারা দিচ্ছেন এবং আরিফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ বিষয়ে কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, ইচ্ছে থাকলেও কিছু করার নেই। তিনি কারখানার অঘোষিত সিবিএ নেতা। তাকে বিসিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমীহ করেন, ফোন করে খোজ খবর নেন। তিনি আরও বলেন, আরিফের কর্মস্থলে না আসার বিষয়টি আমি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছেন, কিছু বিষয় দেখেও না দেখার ভান করতে হয়। তাই অপারগ হয়ে মেনে নিচ্ছি’।অভিযুক্তদের মুখেও মিলল সত্যতাঅভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইউএফএল এর সিবিএ নেতা মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন বঞ্চিত শ্রমিকদের পক্ষ হয়ে কাজ করতেছি, কিছুদিন আগে ১১ জনকে অফিসার পদে এবং ১০০ জনের মত শ্রমিককে পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তারা খুশিমনে যা দিয়েছে তা গ্রহণ করেছি, আরও অনেকে এখনো কিছু দেয়নি। আমি মাঝে মাঝে বিমানে করে ঢাকায় যায়, জরুরি কাজে। আমার চাকরি জীবনে আমরা ৩৬ জন বন্ধু মিলে জায়গা ক্রয় করে ঢাকার বাড্ডায় ১০ তলার ভবন তৈরি করতেছি। সেখানে আমার একটি ফ্ল্যাট আছে। আর কিছু নেই আমার।সিএফইউএলের প্রধান রসায়নবিদ ও উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উত্তম চৌধুরী বলেন, সিএফইউএলের বিদ্যুৎ বাহিরে বিক্রি করার কোন অনুমতি নেই, আমরা ইউরিয়া তৈরি করি, আমার জানমতে এসব দেখাশুনা করেন এমটিএস বিভাগের (জিএম) শাহজাহান সাহেব, উনি এই বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে আছেন, উনি ভালো বলতে পারবেন।কিন্তু এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি। এমনকি হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোন সদু্ত্তর পাঠাননি।এমডি মিজানের দম্ভ অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে সিএফইউএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, দুদকে আবেদন কে দিয়েছে কারা দিয়েছে। দুদকে আবেদন করেছে দুদক দেখুক, ওরা তদন্ত করে দেখুক। আমরা যদি অনিয়ম করে থাকি অবশ্যই ব্যবস্থা হবে। দম্ভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার অফিসে সব কাগজপত্রের রেকর্ড আছে, দুদক দেখুক সব কিছু। কিছুই হবে না আমাদের।
১৭ দিন আগে
দুর্নীতির লাগাম টানতে দুই দশক আগে গঠিত হয়েছিল স্বায়ত্তশাসিত দূর্নীতি দমন কমিশন-দূদক। সেই থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পেলে অভিযোগ নিচ্ছে সংস্থাটি। প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণসহ দেওয়া হয় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র। অভিযোগের সত্যতা পেলে করা হচ্ছে মামলাও। এমন আটঘাট বেঁধেই শুরু হয় বিচার। কিন্তু দিন শেষে টিকছে না অর্ধেক মামলা। নির্দোষ প্রমাণে খালাস পাচ্ছেন আসামিরা। না হয় দায় মুক্তি। কালের গর্ভে এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। গত ৫ বছরে নিষ্পত্তি হওয়া এমন মামলাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে ফুটে উঠেছে এ চিত্র। এখন প্রশ্ন— অনিয়মের অভিযোগগুলোই কি মিথ্যা ছিল? আবার মিথ্যা হলে দফায় দাফায় তদন্তে প্রমাণ মিলল কীভাবে? এর উত্তর দুদকের প্রসিকিউটরদের মুখে। তাদের একজন প্রশ্নের শুরুতেই বললেন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রসিকিউটর বলেন, বেশির ভাগ মামলা রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে গতি হারাচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে। একই কারণে অনেক ক্ষেত্রে মামলা হওয়ার আগেই দুদক থেকে পাচ্ছে দায় মুক্তি। এসবের পেছনে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রভাব। এছাড়া পদ্ধতিগত কারণেও অনেক সময় মামলার বিচারে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বিচারের সদিচ্ছার অভাব থাকে। পক্ষান্তরে সরকার দলীয় না হওয়ায় অনেক মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রসিকিউটর আরও বলেন, দুদকের প্রসিকিউটর নিয়োগেও মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রধান্য পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে মামলার প্রতি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য বেশি কাজ করে। এছাড়া সরকার বদলের সঙ্গে মামলার গতিও বদলে যায়। আবার প্রক্রিয়াগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণেও মামলায় সাজা না হওয়ার ঘটনা ঘটছে। দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পেয়ে মামলা করে। কিন্তু ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণে সাক্ষী একমাত্র মানদণ্ড। যদি সাক্ষী ঠিকভাবে উপস্থাপন করা না হয়, সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। দুর্নীতির অনেক মামলা নিষ্পত্তি থেকে ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। এত দীর্ঘ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যায়। কেউ চাকরি থেকে অবসরে চলে যান। আবার কোনো বিচার চলাকালে মারা যান অথবা মামলার বিষয়বস্তু ভুলে যান। সেক্ষেত্রে যথাযথ সাক্ষী বা ডকুমেন্টস উপস্থাপন করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের দুর্বলতায় আসামিরা পার পেয়ে যান। তবে দায়িত্বরত প্রসিকিউটররা মামলার অভিযোগ প্রমাণে কোনো গাফিলতি রাখেন না।দুদকের প্রসিকিউশনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান বা মামলার পর তদন্তে তাদের কোনো গাফিলতি থাকে না। তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত করে থাকেন। সেক্ষেত্রে মামলার সাজা বা খালাসের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, বিচারে আমাদের কোনো ত্রুটি থাকে না। অনেক মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর পর এসব মামলার কার্যক্রম ফের চালু হলে অনেক ডকুমেন্টস পাওয়া যায় না। যার কাছে ডকুমেন্টস জিম্মা ছিল, তার হদিস মেলে না। মূলত ডকুমেন্টসের অভাবে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে ও কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে বিচারের পর্যায়ে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। সাক্ষীকে জেরা করলে তখন সত্য বিষয়টি উঠে আসে। মামলায় যারা দোষী না, তাদের আসামি করা হয়। অথচ যারা প্রকৃত দোষী, তারা বাইরে থেকে যান। যে কারণে বিচার শেষে আসামিরা খালাস পেয়ে যান।সাজার হার নিম্নমুখীসূত্র জানায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫৫ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫টি মামলা। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়েই বাতিল হয়েছে ১৩৫টি। আর রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া ৫৪৮ মামলার সব বিবাদী খালাস। আর ৭৯২টিতে সাজা হয়েছে আসামিদের। ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি ৬১ শতাংশ সাজার হার ছিল। ২০২৩ সালে এই সাজা কমে ৫৭ শতাংশ হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে সবচেয়ে কম ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সাল ও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সাজার হার ৫০ শতাংশে নেমেছে। সাজার হার কমার সঙ্গে মামলার নিষ্পত্তির হারও নিম্নমুখী। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৩৪৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে ৩৪১টি এবং ২০২৪ সালে ২৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। তবে ২০২৫ সালে বিচার শেষ হয়েছে সবচেয়ে কম ২৬৭ মামলার।কমিশনের মামলার পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত চলমান রয়েছে দুর্নীতির ২৭৯৩টি মামলা। তবে ২৯২টির কার্যক্রম স্থগিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২২৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়ে শেষ হয়েছে ১০টি। সাজার রায়ে নিষ্পত্তি ১১৪ এবং খালাস ১০২টিতে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে।অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬৭টি মামলায় নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪টি মামলায় সাজা এবং ১১৮টি মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে ১৪টি মামলা চার্জশিটেই বাতিল হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। একইভাবে ২০২২ সালে ৬১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৫৭ ও ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছে বিবাদীদের।কেস স্টাডিতে যে বার্তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর খালাস পান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ১৭ বছর পর জানা যায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।অবৈধ সম্পদ অর্জনে অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে খালাস দেন আদালত। ১০ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়। আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৫ মার্চ খালাস পান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। ১৮ বছর পর তার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২২ জুন খালাস পান বিএনপির সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ১৮ বছর পর রায়ে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৩ জুলাই খালাস পান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ১১ বছর পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৯ সালে করা মামলায় গত বছরের ৫ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে খালাস দেন আদালত। ১৬ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান।আবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১০টি মামলা হয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে এসব মামলায় শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কয়েকটি মামলায় তাকে অভিযুক্তও করা হয়। তবে কোনো মামলায় তার বিচার হয়নি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এতে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এসব মামলায় দায়মুক্ত হন শেখ হাসিনা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির মামলা হচ্ছে।২০০৭ সালের ১৩ জুন সূত্রাপুর থানায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এতে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে ২৯ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত দুই ধারায় তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে তাকে জরিমানাও করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মায়া। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আবার দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে।চারটি কারণে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, মামলা করার মতো জ্ঞানের অভাব, তদন্তে পারদর্শিতার ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও হয়রানিমূলক মামলা হওয়ার কারণে খালাস পেয়ে যান আসামিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজ্ঞদের অভিমতআদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং কর ফাঁকি ও দুর্নীতির বহু মামলায় অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে দুদক। এসব মামলার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দুদকে যারা প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্ত করেন, এসব ব্যাপারে তাদের আইনি জ্ঞান খুবই অল্প। তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। কিন্তু আইনজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, দুদকের তদন্তে কোন ফাঁফোকর নেই। সংস্থাটি আঁটঘাট বেধেই মামলা দায়ের করে। বরং উল্টো দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ না হলে দেশে কোনভাবেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতিরদুর্নীতিবাজ যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান।সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। গুরুতর ও বৃহৎ দুর্নীতির বিষয়ে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও তিনি বলেন।দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ-নদী পুনরুদ্ধার ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। গত ১৩ মে একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।আর এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিডি হিসেবে নিয়োগ পেলেন বাপাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বগুড়ার সন্তান হাসান মাহমুদ। গত ২৭ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখার অফিস আদেশ অনুযায়ী তিনি পাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করবেন।আর এই নিয়োগের পরই উঠেছে প্রশ্ন। কারণ প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী পিডি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রেডের কর্মকর্তা না হয়েও তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কীভাবে? অথচ এই দায়িত্ব পাওয়ার মতো বাপাউবোতে আরো ৬১ জন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী রয়েছেন। যাদের ডিঙিয়ে হাসান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে বগুড়া ও ভোলা বাপাউবোতে দায়িত্বপালনকালে কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ফ্যাসীবাদের দোসর হিসেবে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাপাউবো শাখার ২০২২-২৪ টার্মের ৩৪ জনের কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবেও কমিটিতে ছিলেন।আর এত অভিযোগের পরও পানি স¤পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখার অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশে দূর্নীতির বরপূত্র এই হাসান মাহমুদকে পাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের পিডি নিয়োগ করা হয়েছে। যা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে বাপাউবোজুড়ে।বাপাউবোর প্রকৌশলীদের একটি অংশের অভিযোগ, হাসান মাহমুদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ ৬১ জন কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে হামান মাহমুদকে পিডি করা হয়েছে। বাপাউবোর জ্যেষ্ঠতা তালিকার ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান ৬২ বলা হয়েছে। যদি সত্যিই ৬১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক যুক্তি কী ছিল-এ প্রশ্নের উত্তর পানি স¤পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবোর কাছ থেকেই আসা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।পিডি নিয়োগে নিয়মে যা আছেবাপাউবো সূত্র জানায়, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামোয় প্রকল্প পরিচালকের পদটি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ হাসান মাহমুদ বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যেটি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। বাপাউবোর সিভিল ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬২ এবং তাঁর আগে ৬১ জন কর্মকর্তা থাকার দাবি করা হয়েছে।এখানেই মূল প্রশ্ন। যদি অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে পিডির পদ নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তাকে কোন বিধান ও প্রশাসনিক যুক্তিতে ওই দায়িত্ব দেওয়া হলো? বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, জনবল কাঠামো, সংশ্লিষ্ট নোটশিট এবং নিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা দরকার।হাসান মাহমুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিরিতির নেপথ্যে কী?হাসান মাহমুদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে এমন দাবি রয়েছে। ২৭ আগস্ট পানি স¤পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে আদেশটি জারি হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন তাতে স্বাক্ষর করেন।এরপর থেকে হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগের নেপথ্যে কারা রয়েছে বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে বাপাউবোজুড়ে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে উত্তর অঞ্চলের কোনো এক প্রতিমন্ত্রীর ইশারায় সাবেক ছাত্রলীগের নেতা প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে পিডি করা হয়েছে।আরেকটি সুত্র জানায়, পরিকল্পনা কমিশন থেকে কিছুদিন পুর্বে পেশনে যোগদানকারী অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. এনামুল, পানি স¤পদ সচিব মো. শাহাবুদ্দিন এবং বাপাউবোর ডিজি মো. রুহুল আমিন আওয়ামী ফ্যাসীবাদের দোসরের পক্ষে কাজ করেছেন। হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগে তাদেরও ভূমিকা থাকতে পারে।আবার হাসান মাহমুদের বাড়ি বগুড়ায়, এ কারণে পিডি নিয়োগ বিভিন্নভাবে স্বজনপ্রীতির গুঞ্জনও উঠেছে। নয়তো মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সমালোচনা নিয়ে দপ্তরের প্রতিটি টেবিলে কানাঘুঁষা চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।তবে পিডি নিয়োগে হাসান মাহমুদের নাম কে প্রস্তাব করেছেন? কোন দপ্তর সুপারিশ করেছিল? কোন নোটশিটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? কার অনুমোদনে তাঁকে চতুর্থ গ্রেড থেকে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হলো? এই চারটি প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ পেলেই বিতর্কের বড় অংশের অবসান হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগসূত্র জানায়, হাসান মাহমুদ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ওই সময়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে (আরএফকিউ, ডিপিএমসহ) বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়েছিল। পারিশা ট্রেড সিস্টেম নতুন লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠানকে বিপুলসংখ্যক কাজ দিয়ে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।এছাড়া ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, চরফ্যাশনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময় তৎকালীন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং কমিশন বাণিজ্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আছে।হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ে ফাইল ধামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ উঠে। প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বসিলায় অবস্থিত মধু সিটিতেও হাসান মাহমুদ তার ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগের অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য সঠিক তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে জানা যায়।এ অবস্থায় হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। প্রকল্পটি ৩৪ হাজার ৪৯৭.২৫ কোটি টাকা এবং এটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পের অফিস আদেশে সরকারি আর্থিক ও পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণের পাশাপাশি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সামনে রয়েছে বিপুল সরকারি অর্থের ব্যবহার। এই অবস্থায় পিডি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে আটকে না রেখে নথিভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুসন্ধানে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ফ্যাসীবাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় চাকরিতে নিয়োগহাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং স¤পন্ন করে ২০০৭ সালে বাপাউবোর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তবে তাঁর নিয়োগ পরীক্ষায় অবস্থান, কোটায় নিয়োগের দাবি কিংবা ৬৩ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ৫০-এর পরে ছিল বলে অভিযোগ উঠে।বাপাউবোর ২০০৭ সালের নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকা, কোটা-সংক্রান্ত নথি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি কাগজপত্র প্রকাশ করা হলে চাকরিতে নিয়োগের অনিয়মও বেরিয়ে আসবে। ফ্যাসীবাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে পাউবোর চাকরিতে তার নিয়োগ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।চাকরিতে যোগদানের আগে হাসান মাহমুদ চুয়েট ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। যোযগদানের পর বাপাউবো বঙ্গবন্ধু পরিষদের ২০২২-২৪ মেয়াদের কমিটিতে হাসান মাহমুদের নাম নির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই কমিটির তালিকায় তাঁর অবস্থান ৩০ নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য পাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের মুঠোফোনে একাািধকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস দিলেও তিনি সাড়া মেলেনি।এমনকি বাপাউবোর মহাপরিচালক (ডিজি) মো. রুহুল আমিনও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁদের কারো বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
২৩ দিন আগে
নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে এলপিআরে যাওয়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মনি লাল দাস। তবে অবসরে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তার ও স্ত্রী সেপিকা দাসের।দুদকের জালে ধরাশায়ী হচ্ছেন বিপিসির দুরন্ধর এই কর্মকর্তা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শেষে এ সক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখসহ স্বামী-স্ত্রী দু‘জনের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, বিপিসির কর্মকর্তা মনি লাল দাস ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তালিকাসহ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে আলোচ্য সম্পদগুলোর জন্য পৃথকভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, চাকরির নিয়োগে জালিয়াতিসহ মনি লাল দাসের সব ধরণের অনিয়মের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিপিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। হয়েছে অভিযোগও। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।ইতোমধ্যে বিপিসির চাকরি থেকে এলপিআরে যাওয়ার পর তার নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলোও গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিপিসি জুড়ে। যার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা।দুদক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মনি লাল দাস ও তার স্ত্রী সেপিকা দাসের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় সংস্থাটি।দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে, মনি লাল দাসের দায় বাদে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮০৪ টাকা। পাশাপাশি তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয় ৯৪ লাখ ১০ হাজার ৪০৩ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩ টাকা। বাকি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।অন্যদিকে মনি লাল দাসের স্ত্রী সেপিকা দাসের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ পাওয়ায় যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২৭ টাকার। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় মাত্র ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭২ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ টাকা আয়ের উৎস কম পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।বিপিসি সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সাল থেকে ১৩ আগষ্ট ২০২৬ সালের অবসরে যাওয়ার আগে তিনি আরও রমরমা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন, তার হিসাব মিলালে শত কোটি টাকা তিনি সরকারের ক্ষতি করেছেন। এসব করে তিনি ভারতে টাকা পাচার করেছেন।অবৈধ আয় বৈধ করতে স্ত্রীকে বানানো হয় মাছ ব্যবসায়ীমনি লাল দাস সরকারি চাকুরিজীবী হলেও তার স্ত্রী সেপিকা দাস একজন গৃহিণী। কিন্তু তিনি ২০১০ ও ২০১১ করবর্ষ হতে সরকারের একজন নিবন্ধিত করদাতা। সকল সম্পদের হিসেবে তার আয়কর নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তাতে নিজেকে কমিশন ব্যবসা হতে আয়, সঞ্চয়পত্রের সুদ, এফডিআরের সুদ, শেয়ার ব্যবসা ও মাছ চাষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, সেপিকা দাস নিজেকে কমিশন ব্যবসায়ী কিংবা মৎস্য চাষী হিসেবে উল্লেখ করলেও বান্তবে তিনি কখনোই কোন প্রকার কমিশন ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া মৎস্য চাষী হিসেবে দাবি করলেও দুদকের কাছে মৎস্য চাষের স্বপক্ষে কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনও করতে পারেননি। কিংবা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রও তিনি দাখিল করতে পারেননি। বরং স্বামীর অবৈধ অর্থ তার নামে আয়কর নথি খুলে বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন।চাকরির নিয়োগেও মনি লাল দাসের জালিয়াতিবিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মনি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না। কিন্তু নিয়োড় পেয়েছেন সেই মনি লাল দাস।আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেননি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দিলে কপাল খুলে যায় মনি লাল দাসের। অভিযোগ উঠে, তিনি বিপিসির পেছনের দরজা দিয়ে আসীন হয়ে সামনের দরজা দিয়ে অবসরে চলে গেছেন।এ বিষয়ে জানতে মনি লাল দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জোরে এসএমএসে খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনরকম সদুত্তর পাঠাননি।উল্লেখ্য, মনি লাল দাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন শেষে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) বা অবসর প্রক্রিয়ায় আছেন।তিনি বিপিসিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং পূর্বে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক (এমআইএস) হিসেবে বিপিসিতে কর্মজীবন শুরু করেন, বিপিসির তথ্য অনুযায়ী ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালে তার অবসর সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়।
২৪ দিন আগে
সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
২৮ দিন আগে
রেলওয়ের কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ পারসোনাল অফিসার (সিপিও) লুৎফা বেগম। এই দপ্তরে টানা ২৩ বছর বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। এ সুবাধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বাড়ি আর গাড়িতে বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে এখন নানা আলোচনা চলছে তাকে নিয়ে।রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সিপিও (পূর্ব) দপ্তরে যোগ দেন লুৎফা বেগম। এরপর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো বদলি ছাড়াই তিনি একই দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই অবস্থানে রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার আধিপত্যর কাছে সবাই হার মানে। এমনকি রেলওয়ে মহাপরিচালক দপ্তরের বিশেষ সহায়তায় তিনি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদও ভাগিয়ে নেন। আর স্বপদে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়েতে স্বল্প বেতনের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লুৎফা বেগমের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি। চট্টগ্রামের হালিশহর থানা এলাকার কৃষ্ণচূড়া অ্যাপার্টমেন্টে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। নগরীর নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রয়েছে আরো কয়েকটি ফ্ল্যাট। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। গ্রামেও তিনি ‘অঢেল সম্পদের’ মালিক বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রেল সূত্রে জানা যায়, লুৎফা বেগম নিয়মিত নিজস্ব গাড়ি ও চালক নিয়ে অফিসে আসেন। রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা আছেন অনেকে রিক্সা নিয়ে এসে অফিস করেন। কিন্তু একজন কর্মচারী কিভাবে বিলাসী জীবন যাপন করে সে প্রশ্ন রেল অঙ্গনে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ক্ষমতা আর আয়ের উৎস কি? কিভাবে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন তার সবকিছু বেড়িয়ে আসবে যদি দুদক অনুসন্ধান করে।রেল কর্মকর্তাদের মতে, রেলওয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ এত বছর কোনো কর্মচারী বদলি ছাড়াই একই দপ্তর আঁকড়ে রেখেছেন। এবং একজন কর্মচারী হিসেবে তার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে যায় না। এছাড়া, দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে থাকার কারণে লুৎফা বেগম একটি শক্তিশালী নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন হয়রানির মতো অনিয়মগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এই দপ্তরে।রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের নীরবতার কারণে লুৎফা বেগমদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাদের চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। এটা চাকরিবিধির চরম পরিপন্থী। এগুলো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।জানা গেছে, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এ নেত্রীর সঙ্গে সিআরবি জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং রেলওয়ের অঘোষিত টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমন দাবী রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের। তাদের দাবী, লুৎফা গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।সিপিও (পূর্ব) কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, লুৎফা বেগমের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্বপরায়ণ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে দাপট দেখানো, চিৎকার-চেঁচামেচি, শাসানো-এসব তার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অফিসে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে তার বিরুদ্ধে।জানা গেছে, বর্তমানে পুরো অফিসে বদলি বাণিজ্য, পেনশন বাণিজ্য, সাসপেন্ড ফাইল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সম্পর্কিত ফাইল ও টিএলআর নিয়োগ, সবকিছুতেই তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তারা লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দু‘বার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী বছরের পর বছর অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএ’র ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফা বেগম বলেন, আমি জানি কে এসব পাঠিয়েছে, আমি দুইটা লোককে টার্গেট করছি। কারণ একজনের পদোন্নতি হবে, সে চাচ্ছে এখান থেকে কোনো ক্রমেই আমাকে সরাইতে। কোনো অশুভ শক্তিই আমাকে সরানো সম্ভব না ভাই, আল্লাহর অলৌকিক শক্তি ছাড়া। আমি কি কাজ করি না করি আমার প্রশাসন আমাকে খুব ভালো জানে। আমিতো আর হেহেহে করে লম্বর লম্বর করে হাঁটি না।
১ মাস ২ দিন আগে
বদলির শেষ মুহুর্তেও ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) ও রাঙ্গুনিয়া পৌর প্রশাসক দেবব্রত দাশ। তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ। তার এই অপকর্মের সহযোগী ছিলেন রাঙ্গুনিয়া ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাস বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। দূর্নীতির অর্থে চট্টগ্রাম শহরে তিনি বিলাসী জীবনযাপন করছেন।এমন অভিযোগ তুলেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ ও অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যার নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির শিকার ভুক্তভোগী জনগণ। যারা ভুমিসংক্রান্ত কাজের ভয়ে এতদিন মুখ খোলার সাহস করেনি। বদলি হয়ে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ ভুমি অফিসে যোগদানের পর ভুক্তভোগীরা ক্রমেই মুখ খোলতে শুরু করেছেন।ভুক্তভোগীরা জানান, এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসে যোগদানের পর থেকে ভুমি সমস্যা নিরসনে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ভুমির নামজারিসহ বিভিন্ন ভুমি সেবার কাজ তিনি লাখ টাকা ছাড়া করতেন না। যার কাছ থেকে টাকা পেতেন তার পক্ষে কাজ করতেন। এক্ষেত্রে একজনের জমি অন্যজনের নামে নামজারি করে দিয়ে পারবারিক ও সামাজিক বিরোধ সৃষ্টি করেছেন। তার এ কাজে সহযোগীতায় ছিলেন ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা।যার থেকে ভুমি সংক্রান্ত খতিয়ান ও নকল সংগ্রহে ৫০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন। টাকা না পেলে কোন রকম কাজ করতেন না সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। নামজারির ক্ষেত্রে বিগত সময়ে তিনি এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশের ক্যাশিয়ার হিসেবে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করতেন। বলতেন চুক্তি ছাড়া নামজারি ফাইলে স্যার স্বাক্ষর করে না। এমন একটি অডিও রেকর্ড বর্তমানে দৈনিক ঈশান অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে।এভাবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ভুমি মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ ও অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। শুধু তাই নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতের নামে অভিযান চালাতে গিয়ে বিভিন্ন কলাকৌশলেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন এই অসাধু চক্র। হাতিয়েছেন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকাও। সরকারি বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন থেকেও হাতিয়েছেন বিপুল অর্থ। সম্প্রতি বদলি হওয়ার শেষ মুহুর্তেও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পুরাতন ভবন সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত ১৫ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি।সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা, পদুয়া, শিলক, রানির হাট ও টিসির হাট ভুমি অফিসের পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের নামে ৩ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ। কিন্তু সেই কাজের কোনটিরই কোন কাজ হয়নি। এমনকি বরাদ্দের অর্থ বা চিঠি কোনটাই পাননি ভবনগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, এই ৫ ইউনিয়ন ভুমি অফিস ভবনের মধ্যে শিলক ইউনিয়ন ভুমি অফিস ছাড়া সবগুলো ভবনই নতুন। যেখানে সংস্কারের কিছুই নেই। এর সত্যতাও উঠে এসেছে ইউনিয়ন ভুমি অফিসে কর্মরতদের কথায়। এর মধ্যে জানতে চাইলে পোমরা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার ইমরান রাজীব বলেন, ভবন সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তাছাড়া আমাদের ভবন একদম নতুন। মাত্র এক মাস আগে এই নতুন ভবনে আমরা কাজ শুরু করেছি। এখানে তো সংস্কারের কিছুই নেই। এ বিষয়ে এসি ল্যান্ডের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।একই কথা বলেছেন রানীর হাট ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার মোজাহেরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভবন সংস্কারের কোন বরাদ্দ আমরা পায়নি। এ সংক্রান্ত কোন চিঠিও আমাদের কাছে আসেনি। তাছাড়া আমাদের ভবন নতুন। মাত্র কয়েকবছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে তো সংস্কারের কিছু নেই।একই কথা বলেছেন পদুয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিস ও টিসির হাট ভুমি অফিসে কর্মরতরাও। একটু ভিন্ন কথা জানিয়েছেন শিলক ভুমি অফিসের তহশীলদার গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, ভবন সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দের বিষয়ে আমি জেনেছি। বদলি হওয়ার শেষ মুহুর্তে আমি এসি ল্যান্ড স্যার দেবব্রত দাশের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি।তিনি আমাকে বলেছিলেন, ভবন সংস্কারের বরাদ্দের ওই টাকা আমাকে দেয়া হবে। কিন্তু তিনি বদলি হলেও এখনও টাকা বরাদ্দ পায়নি। পাব আশা করছি। তবে স্যার বদলি হওয়ার আগে আমার অফিসে একটি আইপিএস কিনে দিয়ে গেছেন। যার মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। সম্ভবত বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকা থেকে এই টাকা দিয়েছেন স্যার।ভুমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই টাকা উপজেলার ৫টি ভুমি অফিস ভবনের সংস্কারের নামে দেখিয়ে কোন কাজ ছাড়াই হাতিয়ে নিয়ে গেছেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ। এই টাকা উত্তোলনে অফিসিয়াল কাগজপত্র কারসাজিতে সহযোগীতা করেছেন ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। ফাইলের কাগজপত্রে তার স্বাক্ষরও রয়েছে। সহযোগীতার জন্য তিনি ভাগও পেয়েছেন। এভাবে দূর্নীতির টাকায় সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন বলে জানান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও নিয়োগ পান এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ। এ সুযোগ পেয়ে সেখানেও ভুমি অফিসের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়েছেন তিনি। পৌরসভায় তার সহযোগী ছিলেন সচিব আল হেলাল, প্রকৌশলী জমির উদ্দিন ও হিসাব রক্ষক মো. এরশাদ।সূত্র মতে, বদলি হওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগে সৈয়দবাড়ি পৌর এলাকায় কথিত বিএনপি নেতার বসতবাড়িতে যাতায়াতের সড়ক নির্মানের জন্য ১৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেন। আর ওই কাজ হাতে পান পৌরসভা বিএনপির এক নেতা। যার সহযোগীতায় মাত্র দেড় লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ করে পুরো টাকা আত্নসাৎ করে ভাগবাটোয়ারা করেন এই চক্র। এভাবে রাঙ্গুনিয়াকে তিনি দূর্নীতির তীর্থস্থানে পরিণত করেন। যা এর আগে কোন এসি ল্যান্ড করেননি।এ বিষয়ে জানতে এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। রাঙ্গৃুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যাও প্রথমে কিছুই জানেন না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজে তার স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে এসি ল্যান্ড স্যারের সাথে কথা বলে বিষয়টি আপনাকে জানাচ্ছি। এ কথা বলে তিনি ফোন সংযোগ কেটে দেন। এরপর তিনি আর কিছুই জানাননি।এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ভুমি অফিসে সদ্য যোগদান করা এসি ল্যান্ড খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যোগদান করেছি সবে মাত্র। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। যেসব ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভবন সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা বলছেন সেসব ভুমি অফিস ভিজিট করে এবং কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।(বি: দ্র: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে দৈনিক ঈশান। দ্বিতীয় পর্বে সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যার অপকর্ম নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন আসছে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে।)
১ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শাহীন সুলতানা নামে এক শিক্ষিকা নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে অভিযোগ উঠেছে সৈয়দা নিলুফা আক্তার নামে আরেক শিক্ষিকার চাকুরি স্থায়ীকরণ নিয়ে। সেই সাথে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য আসছে সামনে। সিডিএর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদনও ফেল। আর এ নিয়ে এলাকা জুড়ে তোলপাড় চলছে অভিবাবক ও সচেতন মহলের মাঝে। তাদের প্রত্যাশা দুদকের মাধ্যমে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে। অভিবাবক ও সচেতন মহলের দাবি, আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগকালীন সময়ে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি এবং ঘঞজঈঅ নিবন্ধনধারী একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তাঁদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উল্টো সকল নিয়ম তোয়াক্কা না করে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে B.Pharm I M.Pharm ডিগ্রিধারী শাহীন সুলতানাকে। যাঁকে সরাসরি দশম গ্রেডে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রিধারী ও নিবন্ধিত যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে মাত্র ৬ মাসের কম্পিউটার কোর্স থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এ পদে আসীন করার নেপথ্যে স্বজনপ্রীতি কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ তিনি ছিলেন তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিবের আপন ভাগিনী।প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় নানা প্রশাসনিক অসংগতি। নিজ বিষয় বাদ দিয়ে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাব খাটিয়ে রুটিনে ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে মূল আইসিটি বিষয়টিতে শিক্ষকতা করতেন অন্য বিষয়ের অনভিজ্ঞ শিক্ষকরা, আর শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হতো নিয়মিত ল্যাব প্র্যাকটিস থেকে। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসন যোগ্যতা অনুযায়ী রুটিন বণ্টন করলে শিক্ষক মিলনায়তনে শুরু হয় হট্টগোল। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুধু সহকর্মীদের সাথে অসদাচরণ ও শিক্ষকদের নিয়ে গ্রুপিং সৃষ্টিই নয়; পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল, রুটিন পরিবর্তন, ক্লাস পার্টির নাস্তার কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব অবহেলার মতো একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।এসব ধারাবাহিক অব্যবস্থার রেশ ধরে ২০১৯ সালের ৭ই মার্চ শিক্ষক মিলনায়তনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রতিষ্ঠানের ৩৪ জন শিক্ষক যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত কমিটির (তদন্তকালীন পদবি) আহ্বায়ক ছিলেন জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন শাহ্ (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড), সদস্য সচিব ছিলেন জনাব কে. বি. এম শাহজাহান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড) সদস্য ছিলেন জনাব ভূপতি ভূষণ ইমরান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড), জনাবা তাহেরা ফেরদৌস বেগম (তৎকালীন সচিব, সিডিএ) এস. এম. এরশাদ হোসেন (সিনিয়র শিক্ষক-গণিত, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ) সদস্য সচিব জনাব এ. এস. এম হাবিবুর রহমান (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২, সিডিএ)অডিও রেকর্ড, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রবিধান ভঙ্গের দায়ে সিডিএ ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে চূড়ান্ত বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু রহস্যজনক ও প্রশাসনিকসহ নানা অজুহাতে সেই বরখাস্তের আদেশ আজও কার্যকর হয়নি। অভিযুক্ত এই শিক্ষিকা এখনো পদে বহাল রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং এসব বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শাহীন সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, নিয়োগের সময় আমার কাছে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, আমি সবই জমা দিয়েছি। শিক্ষকদের অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো ঘটনার কথা আমার মনে নেই, আমি সবকিছু ভুলে গেছি। অন্যদিকে একই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই এক সহকারী শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণের অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ এপৃল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত যে রেজুলেশন গৃহীত হয়, সেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা নিলুফা আক্তারের নাম ছিল না। অথচ একই বছরের ৪ আগস্ট তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল আলম স্বাক্ষরিত স্থায়ীকরণ পত্রে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, উক্ত পদে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও রেজুলেশন ব্যতিরেকে কীভাবে এ স্থায়ীকরণ পত্র জারি করা হলো-তা নিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যেখানে নোটিশ বোর্ডে ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা দিয়ে আসা সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৭ জন শিক্ষকের স্থায়ীকরণ নিয়ে দুদকের তদন্ত চলছে এবং একই কারণে সিডিএ গার্লস স্কুলের অন্তত সাতজন অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন শিক্ষকের স্থায়ীকরণ আটকে রয়েছে, সেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই সৈয়দা নিলুফা আক্তারের স্থায়ী পদে বহাল থাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সৈয়দা নিলুফা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং বর্তমানে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছি। পরিচালনা কমিটি আমাকে উক্ত পদে স্থায়ী করেছেন। এ বিষয়ে জানতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা দুটি ২০১৬ সালের হওয়ায় আমার পুরোটা স্পষ্ট মনে নেই। তবে রেজুলেশনে আমার স্বাক্ষর থাকতে পারে, আলাদা কোনো কাগজে স্বাক্ষর থাকার কথা নয়। আমি ঢাকা থেকে ফিরে কাগজপত্র দেখলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।
১ মাস ১১ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১ মাস ১৩ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহি ক্যারেজ বা বগি কেনা হয় চীন থেকে, যা খুবই নিম্নমানের। কিন্তু এই বগি কেনা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের এযাবৎ কালের সবচেয়ে উচ্চ দামে। নেপথ্যে লুট হয় ২০০ কোটি টাকা। যার মূলে রেলওয়ের বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন।যার সত্যতা উঠে এসেছে রেলওয়ের অডিট আপত্তিতেও। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অভিযোগেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই কারসাজির মুলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তৎকালীন পরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জড়িত। তাঁকে সহায়তা করেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।এতে লাভবান হন প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও। এমন তথ্য ফাঁস করেছেন রেলওয়ের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ ধরনের প্রকল্পের মালামাল কেনার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে খ্যাত আফজাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের বগি অতি উচ্চ দামে ক্রয় দেখিয়ে ২০০ কোটি আত্নসাৎ করেছেন। এর সত্যতার তথ্য মেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের কথায়ও।তিনি বলেন, ২০২২-২৩ সালে ১০০ বগি কেনা হয় চায়না থেকে। আবার ২০২৫ সালে ইন্ডিয়া থেকেও কেনা হয় ২০০ বগি। যার প্রথম চালানের ২০ বগি আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু ২০২২-২৩ সালে চায়না থেকে কেনা বগির সাথে ইন্ডিয়ান বগির বিশাল দামের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইন্ডিয়ান বগির তুলনায় চায়না বগি অত্যন্ত নিম্নমানের।তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়া থেকে কেনা বগির তুলনায় চায়না থেকে কেনা বগি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশী দাম দিয়ে কেনা হয়েছে। অথচ চায়না থেকে কেনা বগির দাম অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কেনা হয় অতি উচ্চ দামে। এতে সিন্ডিকেট লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সরকার।সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২-২৩ সালে কেনা চায়না ১০০ বগির প্রতিটি যাত্রীবাহী বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) বগির দাম পরে- ৫৭,৮৩৮২ ইউএস ডলার। একই বগি ২০২৫ সালে ইন্টারিম সরকারের আমলে ইন্ডিয়া থেকে কেনা প্রতিটি বগির বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) কেনা হয় ৩,১২০০০ ইউএস ডলার দামে। ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে ২৮.২৮১৫ ডলার বেশি দেয়া হয় চায়না বগিতে!! আবার ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে চায়না বগি খুবই নিম্নমানের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, বগিগুলোর দাম যেমনি অতি উচ্চ, তেমনি গুণগত মানও বেশ খারাপ। অতি অল্প সময়ে বগিগুলোর চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ক্ষমতা বলে যাত্রীসুবিধা হ্রাস করে লাগেজ ভ্যান ব্যবহার না করে যাত্রীবাহী সচল ট্রেনের চাকা খুলে নিম্নমানের চায়না বগিতে ব্যবহার করে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়েছে।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, দুর্নীতি করার উদ্দেশ্যে বগি ক্রয়ে পৃথক প্রকল্প না নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প মুল্যের আইটেমের মতো করে ১০০টি বগি কেনা হয়। এতে প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হয়েছেন।বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে কৌশলে চায়না প্রতিষ্ঠানের সাথে পাতানো টেন্ডার করে এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ দামে নিম্নমানের চায়না কোচ কেনেন। বিপুল কারসাজির মাধ্যমে এগুলো কিনতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও তৎকালীন ডিজির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন রোলিং স্টক বিভাগকে ব্যবহার করে।সেই সাথে পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওয়ামী সিন্ডিকেটের সব তথ্য অতি গোপনীয়তার সাথে রক্ষার লক্ষ্যে আফজাল হোসেনকে ডিজি পদে প্রমোশনের রাস্তাও তৈরি করে দেন তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। নেপথ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার তাঁকে সহায়তা করেন। ফলে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তাদের দোসর রেলওয়ে ডিজি আফজাল হোসেনের ক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়ে যায়।আওয়ামী স্বার্থ সংরক্ষণকারী এ কর্মকর্তা (ডিজি) বর্তমানে তার অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বগি কেনার চুক্তিপত্রের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) স¤পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এত বড় দুূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা দুূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত করে দেখা দরকার। একই সঙ্গে জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তরফ থেকেও তদন্ত হওয়া উচিত।রেলভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যাশা, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তারা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরো বলেন, দুর্নীতি যেই করুক, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরী।এ সংক্রান্ত আরও : -ডিজি আফজালের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে!!রেল লুটছে রেল কর্মকর্তারাই,শীর্ষে ডিজি আফজাল হোসেন!রেলের সর্বনাশ হচ্ছে যেসব কারণে!
১ মাস ১৪ দিন আগে