আগামী ২৫ বছরের উন্নয়ন রূপরেখা হিসেবে প্রণীত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের (২০২৫-২০৫০) সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব ওয়ান সিটি টু টাউন। যেখানে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে সমন্বিত করে গড়ে তোলা হবে দুটি সমান্তরাল নগরকেন্দ্র। যা করতে নগরবাসীর পরামর্শ চায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।সে লক্ষ্যে আজ ১ আগস্ট শনিবার থেকে শুরু হলো এই মহাপরিকল্পনার ওপর ৬০ দিনব্যাপী গণশুনানি ও জনমত গ্রহণ কার্যক্রম। চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চউক ভবনে সরাসরি এবং অনলাইনে নগরবাসী নিজেদের মতামত, আপত্তি ও পরামর্শ জানাতে পারবেন।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)-এর চূড়ান্ত খসড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্পের পরিচালক ও চউকের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী। মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন কৌশল স¤পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।গণশুনানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত কয়েক দশকের অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে চট্টগ্রাম তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, খাল ও জলাধারের বড় অংশ হারিয়েছে। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মাস্টারপ্ল্যানে নতুন খাল খনন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণ, বিশেষ অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান এবং ভূমি মালিকদের অংশীদার করে উন্নয়ন বাস্তবায়নের মতো একাধিক নতুন উদ্যোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও রাউজানসহ আশপাশের এলাকাকে সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।চউকের প্রত্যাশা, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চূড়ান্ত হওয়া এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই দশকের মধ্যে কর্ণফুলীর দুই তীরে গড়ে উঠবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চট্টগ্রাম যেখানে ওয়ান সিটি টু টাউন হবে নগর উন্নয়নের নতুন মডেল।প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ১৯৬১, ১৯৯৫ ও ২০০৮ সালের পর এটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। একটি এলাকার সমস্যা সেই এলাকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই নাগরিকদের যৌক্তিক মতামত যাচাই-বাছাই করেই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন থেকে নকশার বাইরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী নকশা লঙ্ঘনকারীদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের নান্দনিক মহানগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বলেন, জনমত গ্রহণের জন্য নাগরিকরা ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চউক ভবনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অথবা ডিজিটাল ওয়েব জিআইএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত ও আপত্তি জানাতে পারবেন। পরিকল্পনায় পলিকেন্দ্রিক গ্রোথ মডেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে ওয়ান সিটি টু টাউন ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনোয়ারার জন্য পৃথক অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান রাখা হয়েছে।জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর এলাকায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং বৃহত্তর এলাকায় ১১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার নতুন খাল খননের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ভূমি মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর) গাইডেড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ট্রাইপার্টাইট মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।চউক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী পৌরসভা ও উপজেলার প্রায় এক হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ স¤পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মোট ১৯টি খাতে ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রয়েছে।
১ মাস ১৬ দিন আগে
আবারও বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ১০ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী।কাঁচামালের সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণ উল্লেখ করে ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। যা জানাজানি হয় শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরের দিকে।এরপর শ্রমিকরা বিকেলে অবস্থান নেন কারখানাগুলোতে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা একযোগে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে হঠাৎ কারখানাগুলো বন্ধের ঘোষণায় পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শ্রমিকরা।বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হলো, চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ই¯পাতের পাত প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ই¯পাতপণ্য তৈরির কারখানা এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ই¯পাত ও গ্যালকো স্টিল এবং ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল। যেগুলোতে ১০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও শ্রমিক কর্মরত আছেন।চিনিকল কারখানার কর্মচারী আশরাফ মনির বলেন, শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৯টি কারখানার ১০ হাজার জন শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। শুনেছি কাঁচামালের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য, চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। এত শ্রমিককে একসঙ্গে বেকার করে দেওয়ায় আমাদের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। শ্রমিকরা দ্রুত কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ অথবা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও এস আলম গ্রুপের চিনি, ই¯পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনও কাঁচামাল আমদানিতে বাধা এবং ব্যাংকিং সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে আন্দোলনের মুখে কারখানাগুলো চালু করা হয়।তবে এর মধ্যে চিনিকলসহ গ্রুপের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল আমদানি, ব্যাংকিং সহযোগিতা এবং এলসি খোলার জটিলতায় ভুগছে। চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, পরিবহন, সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অসংখ্য মানুষও আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, কাঁচামালের সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণে সবগুলো কারখানার উৎপাদন বন্ধ। কর্তৃপক্ষও চাইছেন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা ফিরে যাক।
১ মাস ১৭ দিন আগে
গত ২১ জুলাই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবহন খাত থেকে শিল্প কারখানা, এমনকি রান্নাবান্নায়ও হাহাকার শুনা যাচ্ছে শুধু।গ্যাসের এই নিম্নচাপে দিন দিন পিষ্ঠ হচ্ছে জনজীবন। ফলে যেকোনো মূল্যে দ্রুত এর সমাধান চান সাধারণ মানুষ। কিন্তু সহজে এই সমস্যা সমাধানের কোন আলামত মিলছে না। ১ আগস্ট থেকে কিছুটা উন্নতির কথা বললেও ১১ আগষ্ট পর্যন্ত গ্যাসের নিম্নচাপ স্বাভাবিক হচ্ছে না।এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) মো. রফিক খান। তিনি বলেন, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকান্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।এতে বড় ধাক্কা লেগেছে আমদানিকৃত এলএনজি নির্ভর চট্টগ্রামে। দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২২৫ থেকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। যা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম।এর ফলে নগরীর শিল্প, বিদ্যুৎ, সার কারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আবাসিক খাত পর্যন্ত সর্বত্র গ্যাসের সংকট চলছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। গ্যাসের অভাবকে পুঁজি করে সিএনজিচালিত টেক্সি ভাড়া ইচ্ছেমতো হাঁকা হচ্ছে।নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলায়ও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রপ্তানিমুখী শিল্প, উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।মো. রফিক খান বলেন, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) বন্ধ রয়েছে। কেবল কাফকোতে সার উৎপাদন চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সীমিত আকারে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। এই কেন্দ্রে দৈনিক ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিরক্তিকর পর্যায়ে ঠেকেছে।কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও সার খাতের জন্য গ্যাস বরাদ্দ দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক এবং সিএনজি সব খাতের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এত অল্প গ্যাস দিয়ে পুরো নেটওয়ার্কে চাপ ধরে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দূরবর্তী এলাকা তো বটেই, নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে।চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় বয়লার স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্টিল, রি-রোলিং, কাচ, সিরামিক, টেক্সটাইল, ¯িপনিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিভিন্ন মাঝারি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক স্টেশন পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং নগরজীবনে পড়তে শুরু করেছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে ইতোমধ্যে টেক্সিগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।কেজিডিসিএলের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ভাসমান টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। বরং জাতীয় চাহিদা বিবেচনায় অন্য অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে হলে চট্টগ্রামে আরো কাটছাঁট করতে হতে পারে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার দিতে হলে চট্টগ্রামের শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে।ওই কর্মকতা বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায়ও চট্টগ্রামের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ২৭০-২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সংকট শুরুর আগেও চট্টগ্রামে ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়া হচ্ছিল। বর্তমানে আরো কমিয়ে ২২৫-২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। বুধবার থেকে সরবরাহ ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন না বাড়লে এবং এলএনজি আমদানি ও রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা আরো সম্প্রসারণ না করলে গ্যাস সংকট সহজে কাটবে না। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে। সেই ঘাটতি পূরণে এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও এলএনজির উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালে সাময়িক দুর্ঘটনা যে পুরো দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের রাজধানীতেও প্রভাব পড়েছে গ্যাস সংকটের। তিতাসের আওতাধীন রাজধানীতে প্রতিদিন ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ পাচ্ছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসা বাড়িতে রান্নায় বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও কোথাও একেবারেই চাপ কম থাকায় বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি বলছে, তিতাসের আওতায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ১৫৫ কোটি ঘনফুটের মত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন রাজধানী ও আশেপাশের জেলায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।ভোক্তাদের ভাষ্যগ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর গ্যাস পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুসারে গ্যাস পাচ্ছেন না বিভিন্ন পরিবহন চালক-শ্রমিকরা। আয় সীমিত হয়ে যাওয়ায় পরিবহনে নির্ভর দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা তলিয়ে যাচ্ছেন চরম আর্থিক সংকটে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর টাইগারপাস এলাকায় ইন্ট্রাকো ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিক্সা চালক মনজুরুল ইসলামের সাথে গ্যাস নিয়ে কথা বলতেই হাতে চোখের জল চেপে ধরেন তিনি।তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও গ্যাস ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দৈনিক আয়ও কমে গেছে। সংসার চলবে কীভাবে সে চিন্তায় হয়তো মরেই যাব। তিনি গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান।রাইড শেয়ারিংয়ে ভাড়ায় কার চালান বহদ্দারহাট এলাকার নাছির উদ্দিন। এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে নাকাল নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে অনেক পাম্প, কিন্তু বেশিরভাগই বন্ধ। যেগুলোতে আছে, চাপ খুব কম। সে কারণে সিলিন্ডারের অর্ধেক পরিমাণও গ্যাস ঢুকছে না।হালিশহর এলাকার নাজমা বলেন, গত একসপ্তাহ ধরে চুলাই গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, কোনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। রাত নয়টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। অন্য কোনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদের গৃহিণী সাইরা বেগম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এভাবে আর কত দিন চলা যায়?এদিকে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন বলে জানা গেছে। প্রায় ২০ দিন ধরে সেখানে গ্যাস-সংকটে আছেন তাঁরা। বাসাবাড়িতে কেউ কেউ বিদ্যুৎ-চালিত চুলা কিনে রান্নাবান্নার কাজ সারছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করছেন বলে জানাচ্ছেন তারা।এছাড়া ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায়ও দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে, রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।ভোগান্তির চিত্র রাজধানীর গ্যাস পাম্পগুলোতেও। ফিলিং স্টেশনের বাইরে যানবাহনের লম্বা সারি। তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালক-শ্রমিকরা। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভাড়ায় চালিত গাড়ি চালকরা। ফলে পুরো পরিবহনখাতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।গ্যাস সংকটে ঢাকার রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল কমে গেছে, বেড়ে গেছে ভাড়া। আবদুস সামাদ নামে এক চালক বলেন, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতেছে পাম্পেই। তাও যে গ্যাস ঢুকে, তাতে আধা বেলা গাড়ি চালান যাচ্ছে না। এজন্য ড্রাইভাররা গাড়িই বাইর করতেছে না। খাব কি? ভাড়া তো বেশি চাওয়া লাগবেই।ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুই-তিন মাস আগেও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এমন তামাশা করা হয়েছিল। পরে সেই তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন কৃত্রিমভাবে গ্যাস সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর কোনো অপচেষ্টা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, লাইনে আমাদের দেওয়ার কথা ১৫ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চ) চাপের গ্যাস। সেখানে আমাদের তিন থেকে পাঁচ পিএসআই পর্যন্ত দেওয়া হয়।তিনি বলেন, লাইনে ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস থাকলে আমাদের মেশিনগুলো ঘণ্টায় ৫০০ কিউবিক মিটার গ্যাস কমপ্রেস করতে পারে। আর আমরা গাড়িতে গ্যাস ডেলিভারি দেই তিন হাজার পিএসআই প্রেশারে। ইনপুটে পিএসআই যত কমবে, আউটপুটও তত কম আসবে।ব্যবসায়ীদের ভাষ্যচট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, কারখানায় ৭৫ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকিও আছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে।তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধ লাখ শিল্প-কারখানা রয়েছে, যার বড় অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ৬০-৭০ লাখ শ্রমিক। এক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে, কোথাও শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।কবির ষ্টিলের পরিচালক তানজির হোসেন বলেন, তিন থেকে চার পিএসআই গ্যাস সরবরাহ থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের চাপ এত কম যে শ্রমিক ও অপারেটরদের অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, সব মিলকারখানা বন্ধ প্রায়। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎও নেই। কত দিন থাকবে না, সেটা সরকার ঘোষণা দিতে পারে। তাহলে শ্রমিকদের বসিয়ে না রেখে ছুটি দেওয়া যায়।মেরামতের আশাপেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কো¤পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল স্থানীয় কারিগরি দলের সাথে মিলে এর মেরামত কাজ শুরু করেছে। টার্মিনালের দুটি বয়লারের মধ্যে আগুনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্ষত বয়লারটি ৪-৫ দিনের মধ্যে চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে। তাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়বে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি মেরামত হয়ে সচল না হওয়া পর্যন্ত এবং জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন ও শিল্প-কারখানার এই সংকট স¤পূর্ণ কাটবে না। এতে আরও কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে।সূত্র মতে, এই দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জের প্রায় ২০০টিরও বেশি টেক্সটাইল, স্টিল ও সিরামিক কারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ ১,০০০ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৭০০ মিলিয়নে নামানো হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ছে।একই সঙ্গে ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, বাড্ডা ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা রান্নার গ্যাস থাকছে না। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ১-২ পিএসআই-এ নেমে আসায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং অনেক স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড-এর উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির বলেন, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল চালু রয়েছে। সাধারণত এসব টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো। তবে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ত্রুটি সারানোর কাজ চলমান আছে। আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট অনেকই। তাদের ভাষ্য, মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অপরটি পরিচালনা করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। এক সপ্তাহ আগে এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালের একটি বয়লারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর পুরো টার্মিনালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের চেষ্টা করেও সফল হননি। বিদেশ থেকে প্রকৌশলী এনেও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। কবে নাগাদ টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। আগুনে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যটি সচল করা গেলে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। প্রকৌশলীরা সেটি চালুর চেষ্টা করছেন। আগামী ১ আগস্ট নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি ঠিক হতে পারে। বিদেশ থেকে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। ওগুলো লাগানো হলে একটি বয়লার চালু করে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে টার্মিনালটি। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে ১১ আগস্টের আগে চট্টগ্রামসহ দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ আসার সুযোগ নেই।বিশেষজ্ঞদের মতামতবিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাস খাত দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উত্তাল সমুদ্র বা যেকোনো দুর্ঘটনায় টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। অতীতে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়ে সামিটের টার্মিনালটি ২০২৪ সালে সাড়ে তিন মাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। আর একটি টার্মিনাল স্থলভাগে করা হলে এখনকার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।এ ছাড়া যেকোনো সময় আমদানি ব্যাহত হতে পারে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা ৭ মাস খোলাবাজারে এলএনজি কেনেনি সরকার। আমদানি নির্ভরতার এ ঝুঁকি থাকবেই।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ইলাহী চৌধুরী বলেন, গত আড়াই দশকের অবহেলায় আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদেশ নির্ভর হয়ে জ্বালানি খাত চলবে না। গ্যাস অনুসন্ধানে অনেক কম কূপ খনন করে বেশি সফলতার পরও অবহেলা করা হয়েছে। সারা দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত কূপ সংস্কার করে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে।উল্লেখ্য, দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ কমানো হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম যেহেতু নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের গ্যাস দেওয়া হয় না, পুরোপুরি এলএনজি নির্ভর, তাই এখানকার সংকট তুলনামূলকভাবে বেশি।
১ মাস ১৮ দিন আগে
আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে আবারও মামলা করায় জিপিএইচ ই¯পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। এক মাসের মধ্যে এই টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই টাকা আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় ব্যয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কো¤পানি একই বিষয়ে আগে হাইকোর্টে রিট করে আদেশ পেলেও, সেই আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছিলেন। এরপরও তারা নিম্ন আদালতে নতুন মামলা করে এবং হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা চাইতে গিয়ে আগের রিট, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ ও চলমান কার্যক্রমের তথ্য গোপন করেন।তিনি বলেন, আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদেশ নেওয়ার চেষ্টা করা আদালতের প্রতি প্রতারণার শামিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। আদালতে রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান, আগের মামলার তথ্য তাদের জানানো হয়নি।অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আদালতের প্রতি এমন প্রতারণার জন্য দৃষ্টান্তমূলক অর্থদন্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কো¤পানিকে এক মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অর্থ জুলাই গণআন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। এই আদেশ আদালতের প্রতি অসততা ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।সুত্র মতে, জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার মালিক একজন ঋণ খেলাপি, তিনি সিআইপিও। তিনি তার ঋণ খেলাপি থেকে অব্যাহতি ও সিআইপি ফিরে পেতে রিট আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেটা হাইকোর্টে খারিজ হয়েছিল। ওই রিটের পর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আবেদন করেছিলেন।এরপর ওইসব তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে আবারও রিট আবেদন দায়ের করায়, আগের বিস্তারিত ইতিহাস তুলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের নজরে আনলে তা আমলে নিয়ে জিপিএইচ ই¯পাতকে ৫ কোটি জরিমানা করেন আদালত। একই সঙ্গে ওই টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের জমা দেওয়ার জন্য বলেছেন হাইকোর্ট। জরিমানার টাকা জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় খরচের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট
১ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) বা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের যাত্রা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই প্রকল্প চালু হলে অবকাঠামোসহ সব মিলিয়ে এখানে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ এই অঞ্চলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজ এখানে যে বিনিয়োগের সূচনা হলো, তা ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য, তার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যে এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলেছি, এটি তারই অংশ।অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হলেও, অবকাঠামোগত সবকিছু হিসাব করলে মোট বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এখানে ১ লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাক্সিক্ষত উন্নতি না করলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান শর্তই হলো স্থিতিশীল পরিবেশ ও নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি খাটাতে চান নিরাপদ ও অনুক‚ল পরিবেশে। যদি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম শঙ্কাও থাকে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দেশীয় উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে এগোবেন না।বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সিইআইজেডসহ দেশের সবকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন চীনা সড়ক এবং সেতু করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই ও চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন। তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করেন এবং এই প্রকল্প দ্রæত বাস্তবায়নে যৌথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভ‚মি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি ও ক‚টনৈতিক কর্মকর্তারা।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আনোয়ারায় এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোপুরি চালু হলে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রায় এক দশকের বেশি সময় স্থবির হয়ে থাকার পর এই চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) যাত্রা শুরু হলো আনোয়ারায়। যা দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।বেজার তথ্যমতে, ২০১৪ সালে এ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ও চীন। জমি অধিগ্রহণ স¤পন্ন হয় ২০১৬ সালে। তবে ডেভেলপার নিয়োগ, অর্থায়ন চ‚ড়ান্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি।গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি আসে। সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন বেজা ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির ডেভেলপার চুক্তি হয়।এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আনোয়ারার বেলচ‚ড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে এ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল।চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকের ভাষ্য, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পায়নের যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালিত হয়ে আসছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ নিল। প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন)-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সূচিত হলো সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আনোয়ারা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত শিল্প হাব হওয়ার পথে। প্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়, এটি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার মান বদলে দেওয়ার চাবিকাঠি।
১ মাস ২১ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একের পর এক বিদেশি জাহাজে জলদস্যুদের হানা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে বিদেশি তিন জাহাজ থেকে কোটি কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নাবিকরা। ফলে বহির্নোঙরে জাহাজে জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে জরুরি আবেদন করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (সিসিসিআই)। বুধবার (২২ জুলাই) চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়। প্রেরিত আবেদনে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন-গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজের নিরাপত্তা ও নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।চিটাগাং চেম্বার জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে বহির্নোঙরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে ঝুঁকির ধারণা বাড়বে, বীমা ব্যয় বাড়বে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের খরচও বেড়ে যাবে বলে সতর্ক করেছে চেম্বার।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া (রিক্যাপ)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। এতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।আবেদনে চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন- বর্তমান সরকারের নানামূখী বান্তব উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপের কারণে একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর এতদঞ্চলের অন্যতম রিজিওনাল বিনিয়োগ ও ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জলদস্যুতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হবে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু শিপিংশিল্পের জন্য নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও জন্যও মারাত্নক ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব ঘটনার কারণে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বীমা ব্যয়, জাহাজ পরিচালনায় বিলম্ব এবং বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারে।তিনি বলেন-যেখানে সরকার ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাড়ানো এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে এ ধরণের ঘটনা সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত করতে পারে।আমিরুল হক চিঠিতে উল্লেখ করেন-আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা-রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি এন্ড আর্মডরবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া এর (রিক্যাপ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপৃল) চট্টগ্রাম বন্দরে কোনে াপ্রকার দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের জলসীমায় যখন চুরি ও দস্যুতার ঘটনা চলমান, তখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা স¤পূর্ণ নিরাপদ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতা এবং জিরোটলারেন্স নীতির কারণে এই সাফল্য এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক চুরির ঘটনা গুলো রিক্যাপ প্রতিবেদনে প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম নষ্ট হতে পারে। তাই দেশে বিনিয়োগ বান্ধব ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ট্রেড পরিবেশ নিশ্চিত কল্পে ঝুঁকিপূর্ণ ¯পটগুলোতে কোস্টগার্ডের টহল আরো জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধিসহ অপরাধী চক্রের সহযোগি ও চোরাইকৃত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারীদেও বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর প্রতি চেম্বার সভাপতি আহবান জানান।এই পরিস্থিতিতে চিটাগাং চেম্বার বহির্নোঙরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।চিঠিতে চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হক বলেন, বহির্নোঙরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু শিপিং শিল্পের স্বার্থেই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ মাস ২৬ দিন আগে
জুলাই মাস থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন সরকারি পে-স্কেল। এ নিয়ে দারুণ স্বস্তিতে সরকারি চাকুরিজীবীরা। অন্যদিকে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বেসরকারি বিভিন্ন খাতের চাকুরিজীবীরা। কারণ তাদের বেতন-ভাতা নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে না। ফলে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বেসরকারি চাকুরিজীবীরা।যাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে। আর সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বা গুঞ্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলে তা দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি খাতের কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে দুটি বড় প্রভাব পড়ে। চাহিদা বৃদ্ধি অর্থাৎ একসাথে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত টাকা আসায় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। সরবরাহ যদি সেই অনুপাতে না বাড়ে, তবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বাড়ে। মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে। কেননা, বাজারে কেবল বেতন বৃদ্ধির খবর ছড়ালেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিবহন ভাড়া এবং বাসাভাড়া বাড়িয়ে দেন। যার ভুক্তভোগী হন বেসরকারি খাতের কর্মীসহ দেশের সব সাধারণ নাগরিক। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি যখন এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী, তখন বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো। সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে যদি বেতন বাড়ানো হয়, তবে তার খেসারত দিতে হবে দেশের সিংহভাগ বেসরকারি চাকরিজীবী, দিনমজুর এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে, যাদের আয় বাড়েনি।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের কর্মসংস্থানের মাত্র একটি ছোট অংশ সরকারি খাতের আওতাভুক্ত। বাকি বিশাল জনগোষ্ঠী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অনানুষ্ঠানিক খাত বা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারদরের যে ঊর্ধ্বগতি হবে, তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর থাকবে না। ফলে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরো প্রকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দা তৌহিদ আসলাম। চাকরি করেন ইপিজেড এলাকার িএকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে যত টাকা বেতন পান, উচ্চমূল্যের বাজারে সেটি দিয়ে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর খবর তাকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তৌহিদ আসলাম বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সাথে সাথে সেগুলোর দাম আবারও বেড়ে যাবে। আমাদের মতো মানুষের আয় তো বাড়ছে না। তাহলে আমরা বাঁচব কিভাবে?’ তার এই উদ্বেগ যে মোটেও অমূলক নয়, অর্থনীতিবিদদের কথাতেও সেটির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছেন, সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন বৃদ্ধি ফলে কেবল মূল্যস্ফীতিই বাড়বে না, সেইসঙ্গে বৈষম্য, দারিদ্র্য, তারল্য সংকটসহ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন, সরকার সেদিকে দৃষ্টি না দিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট আরো বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আয়ের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক সাত শতাংশ, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিখাতের কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা না বাড়লে আয় বৈষম্য আরো বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে দেশে দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। গত কয়েক বছর ধরেই দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার উচ্চ। গত জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো সেটি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে- এমনটাই বলছেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন পে-স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে যে বাড়তি বেতনের অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটির জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হবে বা নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে। বাড়তি ওই টাকা অর্থনীতিতে যোগ হলেই সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরো বেড়ে যাবে। তখন সেটা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান সেলিম রায়হান।প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান থাকলেও গত দশ বছরে একবারও সেটি করা হয়নি। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, গত এক দশকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ-খরচা যেভাবে বেড়েছে, সেই বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল ঘোষণার এই উদ্যোগ অত্যন্ত যৌক্তিক, বলছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। কিন্তু উদ্যোগটি এমন একটি সময় নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হলেও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সেটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে কি-না, সেই প্রশ্নটি সামনে চলে আসছে বলেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এর ফলে আগের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে। তবে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিক রেখে পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চাহিদা বাড়লেই বরং ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এক্ষেত্রে সরকার যদি নিত্যপণ্যের সংকট বা লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে ভোগান্তি থেকে তাদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে, অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের 'জনপ্রশাসন-নিট' খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বাড়তি এই ব্যয়ের বিপরীতে সরকার আয় তো সেভাবে বাড়ছে না, বরং নতুন বাজেটে যে বিপুল আর্থের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সেটা মেটাতেই সরকারকে দেশে-বিদেশে ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হলে অর্থনীতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আবার দেশি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে সেখানে তারল্য সংকট দেখা দিবে, সেটাও আরেক সমস্যা বলে জানান তারা। দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন যে চ্যালেঞ্জিং হবে, বিএনপি সরকারও সেটা স্বীকার করছে। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ইশতেহারে বলা হয়েছে যে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেতন-ভাতা একবারে না বাড়িয়ে সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে বলে জানান উপদেষ্টা তিতুমীর।তার আগে, গত জুনে সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি বলে বাজেট বক্তৃতায় সংসদে বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে আর পে-স্কেলে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে নতুন একটি বেতন কমিশন গঠন করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিশন বেতন কাঠামো পর্যালোচনা শেষে গত জানুয়ারি মাসে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিশন গঠন করে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করলেও সেটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দেন অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর আগের কমিশনের পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিএনপি সরকার। সেই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে, যেখানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড, অর্থাৎ মধ্যম ও নিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই খসড়া রূপরেখাটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন শেষে চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে বলেও জানা যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এক বছরের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলা হলেও বাস্তবে পণ্যের দাম কমেনি; বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে মাত্র। তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তিনি বাজার কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি চড়া মূল্যস্ফীতির সময়ে খাদ্য ভর্তুকি ও সুবিধাভোগীর আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ ও অর্থনীতি প্রস্তুত কি না, তা যাচাই জরুরি। সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ না করে পে স্কেল বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া অর্থনীতি এখনো মজুরি বাড়ানোর মতো সক্ষমতায় পৌঁছায়নি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি টেকসই হবে না। বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে অর্থনীতি মন্দার পূর্বমুহূর্তে রয়েছে, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির সুফল পাওয়া কঠিন।
১ মাস ২৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কারিগরি উন্নয়নের পর চালু হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও সেবার জন্য চসিকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নগরবাসীর অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে মনিটরিং করা হবে মেয়র অ্যাপটির বিবরণ দিয়ে বললেন, অ্যাপে নাগরিকেরা রাস্তা, নর্দমা, মশা, আবর্জনা, সড়কবাতি, পাবলিক টয়লেট, অবৈধ স্থাপনা, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ ১০টি প্রধান খাতে ছবি ও লোকেশন সংযুক্ত করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ দাখিলের পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে যাবে এবং সমাধানের অগ্রগতি অ্যাপেই দেখা যাবে। অভিযোগ নিষ্পত্তি হলে অভিযোগকারীকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়া অ্যাপটিতে ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, প্রত্যয়নপত্র, স্কুল হেলথকার্ড, জরুরি যোগাযোগ নম্বর, আবহাওয়ার তথ্য এবং নিকটস্থ হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, থানা, গণশৌচাগার, পার্ক, এটিএম, কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবার গুগল ম্যাপ লোকেশন যুক্ত করা হয়েছে বলে মেয়র জানান।চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, অ্যাপটি নির্মাণে সিটি করপোরেশনের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)-এর করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি তহবিলের অর্থায়নে এবং ভেনটো টেক-এর কারিগরি সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অ্যাপটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।চসিকের প্রত্যাশা, আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ নগরবাসীর সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের যোগাযোগ আরও কার্যকর করবে, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জনাব মো. তরিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
১ মাস ৩০ দিন আগে
৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে ইন্সপেক্টর লেভেলের একজন এনবিআর কর্মকর্তা এসে অকারণে যন্ত্রণা দেয়, ঘুষ নিয়ে তারপর শান্ত হন। ওই শিল্পপতি তো মনোবল হারাবেন। চট্টগ্রামের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের মনোবল বাড়ানোর মতো ইন্সপেক্টর দরকার। এতে সরকারের রাজস্ব আরো বাড়বে।
২ মাস আগে
ব্যবসায়িক সাফল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী প্রকাশ ডিসকো শওকত। ধারাবাহিকভাবে গত ১১ বছর তিনি সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) এক বার্তায় তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা এ তথ্য জানান। তারা জানিয়েছেন, শওকত আলী চৌধুরী ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও আইনানুগ কার্যক্রম পরিচালনায় দেশে-বিদেশে পরিচালিত তার ব্যবসাগুলোর তথ্য যথাযথভাবে কর নথিতে উল্লেখ রয়েছে এবং সেসব আয়ের বিপরীতে তিনি নিয়ম অনুযায়ী শতভাগ কর পরিশোধ করেছেন।এরপরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তাদের মতে, বর্তমান সরকার দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মো. শওকত আলী চৌধুরী শিপ রিসাইক্লিং, লজিস্টিকস, রিয়েল এস্টেট, চা শিল্প, বীমাসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।তারা আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন শওকত আলী চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত অভিযোগগুলো অসত্য, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।ব্যাংকিং খাতে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং ১৯৯৩ সাল থেকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতায় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং করপোরেট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।তার নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ করপোরেট গভর্ন্যান্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনেও গ্রাহকের আস্থা অর্জন, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইস্টার্ন ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন সেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ২০২৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির কৌশলের প্রশংসা করেন।
২ মাস ৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে ক্রমেই বাড়ছে আমদানি পণ্য চৃুরি। গত ১০ মাসের ব্যবধানে দুটি চুরির ঘটনায় গায়ের হয়ে গেছে প্রায় ৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য। এর আগে এক চুরির ঘটনায় গায়েব হয়ে গেছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মুল্যের আমদানিকৃত কাপড়। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার, কাপড় চুরির পরও বন্দরের নিজস্ব ওরাকল সিস্টেমের রেকর্ড বলছে কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে সংরক্ষিত আছে, কিন্তু টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) ও সরেজমিন অনুসন্ধানে সেটির কোনো অস্তিত্বই মেলেনি। ইয়ার্ডটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ তথ্য জানান বন্দর থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুর রহিম। তিনি জানান, বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কাপড়ভর্তি কন্টেইনার পাচার হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। পণ্যগুলো কীভাবে বন্দরের বাইরে গেল এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তিনি জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর দশ মাসের মাথায় ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। ওই কন্টেইনারে প্রায় দুই কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমদানি করা কাপড় ছিল।সিল-স্বাক্ষর জাল করে রাতের আঁধারে সিস্টেমে অবৈধ এন্ট্রি দিয়ে বের করে নেওয়া হয়েছে কাপড়ভর্তি এই কন্টেইনার। এটিই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অল্প কিছু দিনের ব্যবধানে ঘটা দ্বিতীয় কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা। এর দশ মাস আগে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানি করা কাপড়ভর্তি আরেকটি কন্টেইনার গায়েব হয়ে যায়। যেখানে ৮০ লাখ টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হয়, যার এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। এই কন্টেইনারে প্রায় আড়াই কোটি টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। ঘটনায় সম্প্রতি বন্দর থানায় মামলা দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ৯ হিসেবে রুজু হয়, যাতে চুরির অভিযোগে পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওসি বলেন, যে ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনারটি গায়েব হয়েছে সেই ইয়ার্ডের ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও ক্রেন অপারেটর আবু সুফিয়ানকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া যে লং ভেহিকেলে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছে সেই গাড়ির হেলপার রুবেলকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে এবং দুলালকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গায়েব হওয়া আরেকটি কন্টেইনার নিয়েও চলছে তদন্ত।ওসি আবদুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ জুন হালিশহরের আব্বাসপাড়ার গলাচিপা এলাকা থেকে খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরেক ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে পাওয়া গেলে পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য স¤পর্কে জানা যাবে। পণ্যভর্তি কন্টেইনার গায়েবের ঘটনায় মামলাটি দায়ের করেন বন্দরের জেআর ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. আবদুল মান্নান। মামলার এজাহারে পরপর এই তিন ঘটনা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইয়ার্ড তদারকি ও কাগজপত্র যাচাই প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার গাজীপুরের মুয়াজ উদ্দিন টেক্সটাইল নামের একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে একটি ফেব্রিক্স পণ্যবাহী কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪এক্স৪০) আমদানি করেছিল। কন্টেইনারটি গত বছরের ৪ আগস্ট বার্থ অপারেটর বশির আহমেদ অ্যান্ড কো¤পানির মাধ্যমে বন্দরের সংরক্ষিত কন্টেইনার ও পণ্য রাখার জেআর ইয়ার্ডে রাখা হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল কন্টেইনারটি কায়িক পরীক্ষার পর দ্রুত ডেলিভারির জন্য জেআর ইয়ার্ডের অ্যাপ্রেইজ ক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স। দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও কন্টেইনারটির হদিস মেলেনি, পরে ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট বাতিল করা হয়।কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা এখানেই থেমে নেই। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে বন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। গায়েব হওয়া এই কন্টেইনারভর্তি কাপড়ের বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। কাপড়গুলো আমদানি করেছিল ঢাকার খিলক্ষেত সুপার মার্কেটের ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান।এজাহারে বলা হয়, ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. চীন থেকে ফেব্রিক্স পণ্যবাহী ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর কেওসিইউ-৪৮২৯৩৯৯) আমদানি করে। কন্টেইনারটি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের মাধ্যমে জাহাজ থেকে ডিসচার্জ করে চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) রাখা হয়। পণ্যবাহী এই কন্টেইনারটি গত ২৮ এপ্রিল কাস্টমসের পণ্য যাচাইয়ের জন্য অ্যাসাইনমেন্টভুক্ত ছিল, অর্থাৎ এই তারিখে কন্টেইনার নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু সিসিটি ইয়ার্ডের ডায়েরি থেকে জানা যায়, কন্টেইনারটির অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কন্টেইনারের অবস্থান জানতে গত ৬ মে টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ১০ মে সাইফ পাওয়ারটেক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়, গত ২১ জানুয়ারি কন্টেইনারটি জাহাজ থেকে নামিয়ে সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল এবং গত ১৭ মার্চ তা অনডেট অনচেসিস পদ্ধতিতে দ্রুত খালাস প্রক্রিয়ায় ডেলিভারির জন্য নির্ধারণ করা হয়। কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে (টিওএস) অনচেসিস হিসেবে ডেলিভারি দেখানো হয়েছে বলে টিওএসে সংরক্ষিত আছে। তবে একইসঙ্গে বন্দরের ওরাকল সিস্টেমে এখনো কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডেই সংরক্ষিত আছে বলে দেখানো হচ্ছে, অর্থাৎ বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারটির অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।এজাহারে আরও বলা হয়, টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের চিঠি পাওয়ার পর কন্টেইনারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। মামলার বাদী পরিবহন পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত হামিদুর রহমান বলেন, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের ৫০ নম্বর ক্রমিকের কপিতে থাকা সৈয়দ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি নামের সিলের জায়গায় ভুলভাবে সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি অ্যান্ড এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি লেখা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ডকুমেন্টে থাকা সই ও সিল তার নয়, এবং সব কাগজপত্র ও স্বাক্ষর জাল করে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপিতে থাকা পরিবহন পরিদর্শকের স্থলে থাকা টার্মিনাল ম্যানেজার দপ্তরের এফসিএল পরিবহন পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রিপারড বাইয়ের স্থলে থাকা উচ্চমান বহিঃসহকারী এমএইচ সিরাজীর স্বাক্ষরও তাদের নয়। কাগজপত্রে থাকা সিল ও স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) যাচাই করে দেখা যায়, বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন টিওএস সিস্টেমের আইডি ও পাসওয়ার্ড অবৈধভাবে ব্যবহার করে চলতি বছরের ১৭ মার্চ রাত আনুমানিক দুইটা ৫৪ মিনিটে কন্টেইনারের তথ্য টিওএস সিস্টেমে প্রবেশ করান। একই সময়ে কন্টেইনারটি টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তায় নামানো হয়। পরে কন্টেইনারটি বন্দরের গেট দিয়ে বাইরে বের করে নেওয়া হয়, তবে ঠিক কোন সময়ে এটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছিল, তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ১১ হিসেবে রুজু হয়, যাতে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়। এজাহারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।সন্দেহের তীর সাইফ পাওয়ারটেকের দিকেদ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ভূমিকা দ্বিমুখী চরিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। একদিকে কন্টেইনারের অবস্থান জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাবে প্রতিষ্ঠানটি যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সূত্র ধরেই কাগজপত্রের গরমিল ও জালিয়াতি প্রথম ধরা পড়ে। অন্যদিকে এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যে সময়ে বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন অবৈধভাবে অন্যের আইডি ব্যবহার করে রাতের আঁধারে টিওএস সিস্টেমে কন্টেইনারের তথ্য প্রবেশ করান, একই সময়ে সাইফ পাওয়ারটেকের নিজস্ব ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তাতেই কন্টেইনারটি নামানো হয়। অর্থাৎ একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার বন্দরের গেট পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় টার্মিনাল অপারেটরের কর্মী সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারের তথ্যে উঠে এসেছে, যদিও কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই কাজে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন তা এখনও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন তরফদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন উত্তর পাঠাননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নস্বল্প ব্যবধানে ঘটা একের পর এক কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রথম ঘটনায় একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরেই আসেনি, যা ইয়ার্ড পর্যায়ের নিয়মিত মজুত যাচাইয়ে গুরুতর অবহেলার বিষয়টি ওঠে আসে। দ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মতো ¯পর্শকাতর সিস্টেমে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে রাতের আঁধারে এন্ট্রি দেওয়া, একাধিক কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর জাল করা এবং বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারের অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য থাকার বিষয়টি সামনে আসায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথি যাচাই প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা (এনসিটি-সিসিটি) সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সার্বক্ষণিক নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকে। এর মাঝেও দুই একটি ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ঘটনাগুলোর সাথে যারা জড়িত তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। বেআইনি কাজে জড়িত যেই হোক তার রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফৃ-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এর মাধ্যমে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন-ফৃ-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোন ধরণের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মি. পল ফ্রস্ট-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হক। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে এই মতিবিনিময় হয় বলে জানান চট্টগ্রাম চেম্বারের গণসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মোকাম্মেল হক। মতবিনিময়ে চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন-যুক্তরাস্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাস্ট্র। তাই দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা উপযুক্ত সময় এখনই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে যুক্তরাস্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লে উভয়দেশের জন্য লাভজনক হবে। একই সাথে তিনি যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ব্যবসা, সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে অবদান রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন-উভয়দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালের অবকাঠামোগত খাতে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান। চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফৃ-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এর মাধ্যমে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বলেন-ফৃ-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোন ধরণের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। চেম্বার সভাপতি বলেন-বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চায়। এক্ষেত্রে যুক্তরাস্ট্রের সাথে উইন উইন ভিত্তিতে কাজ করতে চায়, যেখানে উভয়দেশই সমানভাবে লাভবান হবে।ডেপুটি পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন-যুক্তরাস্ট্র বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে কাজ করছে। তিনি বলেন-বাংলাদেশে অনেক মার্কিন কোম্পানি রয়েছে। আবার অনেক কোম্পানি পণ্য বিক্রয় করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে তবে উভয়দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট আরও বলেন-আজকের এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাস্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রমোট করা। যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা জানতে চাওয়া আজকের এই আলোচনার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স এর সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাস্ট্র সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিডার সাথে কাজ করছে। তিনি যেকোন বিনিয়োগের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, ডেপুটি পলিটিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর মি. ডেভিড মু ছাড়াও মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব ও রাহবার এ আনোয়ার, ইতালির অনারারী কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, বিএসআরএম’র গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসি’র এসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ।বক্তারা বলেন-বাংলাদেশে উৎপাদনশীল খাতের প্রযুক্তি এবং মেশিনারীজ খাতে যুক্তরাস্ট্রের পণ্যের সুনাম রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সামিটে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীরা যদি অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে উভয়দেশের নিজেদের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশের এগ্রো সেক্টর এবং সরকার ঘোষিত বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কটন ও ম্যানমেইড ফাইবার খাতে যুক্তরাস্ট্রের বিনিয়োগের আহবান জানান। একই সাথে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাস্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যুক্তরাস্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিল অফিস স্থাপন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বিনিয়োগ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সিডিএ’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দূতাবাসের পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এস. এম. সাইফুল আলম, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মোঃ আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোঃ গোলাম সরওয়ার, মোঃ জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এ. এস. এম. ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মোঃ সেলিম নুর, সাবেক পরিচালক ডাঃ মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী, জহুরুল হক সেলিম, মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উইম্যান চেম্বারের সভাপতি আবিদা মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ’র মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও রিটজি গ্রুপ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা মোঃ জামশেদ আলী।
২ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১১২ কোটি এবং মশকনিধনে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ওই অর্থবছরে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অনুদান ও নিজস্ব কর আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার প্রায় ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ সংকুচিত করতে হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৭.৬৬ শতাংশ মাত্র।মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশায় ও মহানগরকে ক্লিন-গ্রীন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিস¤পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চসিক। মেয়র বলেন, চসিকের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা ৪ হাজার ২২৬ জন। এই জনবল দ্বারা নগরের প্রায় সত্তর লাখ নগরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যার কারণে যথাযথ নাগরিক-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।রাজস্ব থেকে আয় বাজেটের নথিপত্র দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চসিকের নিজস্ব আয় বাড়ার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন অনুদানের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রাখা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এবার নিজস্ব উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের হাল কর ও অভিকর, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩১৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতের পুঞ্জীভূত বকেয়া থেকে এবার ১৯৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল মাত্র ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।অন্যান্য কর থেকে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক ফিস থেকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য রয়েছে। নিজস্ব উন্নয়ন অনুদান থেকে আয়নিজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের উন্নয়ন অনুদান খাত থেকে এবার বড় অঙ্কের প্রাপ্তি আশা করছে চসিক। এই খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা আশা করা হলেও বরাদ্দ মিলেছিল ৮৮৭ কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।চসিকের ব্যয় খাতের বিবরণী মতে, মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বাজেটে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নগরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে চসিকের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নগরের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।ব্যয়ের খাত সিটি করপোরেশনের বিশাল কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনীর বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে খরচ হয়েছিল ৩৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।নগরীর সড়ক বাতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি খাতে এবার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত সংশোধিত বাজেটে ছিল ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চসিকের বিভিন্ন ঠিকাদার ও খাতের পুরনো বকেয়া দেনা মেটাতে এবার ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।বর্ষায় নগরের প্রধান দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৭৫ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে প্রকৃত খরচ করা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিগত বছরের খরচের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ প্রায় ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আগামী অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে চসিক খরচ করতে পেরেছিল মাত্র ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার মশক নিধনের বাজেটে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয় ও ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব শেষে চসিকের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।
২ মাস ১৮ দিন আগে
বৈদেশিক প্রস্তুতকারকদের তালিকাভুক্তির যাচাই-বাছাইয়ে ধীরগতির কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী কর্তৃক ডিজেল লোকোমোটিভ-এর খুচরা যন্ত্রাংশ কার্যক্রমে চরম জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে বিদেশী খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকেরা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। রবিবার (২৮ জুন) এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত (বারেসাএসাএ) ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বিগত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যবর্তী সময় থেকে এই তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া কাজ শুরু হলেও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ দফা দরপত্র খোলার তারিখ পিছানো হয়। স্বৈরাচার সরকারের সংসদীয় কমিটির প্রধান ও তাদের কতিপয় ঘনিষ্ট সহযোগীদের অবৈধ হস্তক্ষেপের কারনে দরপত্রটি সেই সময়ে থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ইতোমধ্যে পূনরায় দরপত্র আহ্বানের পর এর যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে বিধায় উক্ত দরপত্রের অংশগ্রহণকারীরা খুবই হতাশগ্রন্থ তালিকাভুক্তির কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় বিদেশী প্রস্তুতকারকেরাও ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ ক্রয়সংগ্রহ কার্যক্রমে অনাকাঙ্খিত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।সূত্রমতে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী দপ্তরে ফ্রি কোয়ালিফিকেশন এন্ড এনলিস্টমেন্ট ফর গুডস: স্পেয়ার পার্টস ফর ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভস এর জন্য ইনভাইটেশন ফর এনলিস্টমেন্ট (আএফই) নং-৫৪.০১.১৫৪৩.৪৫৫.০৭.০৩৭.২৪, ওপেনড অন ১৯.০৮.২০২৪ইং এবং ৩০.১১.২০২৫ইং দুপুর ১২ ঘটিকায় দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। এই তালিকাভুক্তির জন্য মোট ৯৭টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম সংগ্রহ করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫৪টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম দাখিল করে। যা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তালিকাভুক্তকরণ অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি। এই ধীরগতির কারনে উক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণকারীরা খুবই হতাশগ্রন্থ এবং তালিকাভুক্তির কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় বিদেশী প্রস্তুতকারকেরা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ ক্রয়সংগ্রহ কার্যক্রমে অনাকাঙ্খিত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।এমতাবস্থায় রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে সমুদয় ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশের তালিকাভুক্তিকরনের দরপত্রটি অতিদ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য রেলপথ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক টিও লাইসেন্স প্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন। যাহা বাংলাদেশের ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জিআই এ ক্লাস এসোসিয়েশন। এই সংগঠননে সমগ্র বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম জোনের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ১৫০০ সরবরাহকারীর প্রতিনিধিত্ব করে। এই সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ রেলওয়েকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার দেশীয়, বৈদেশিক যন্ত্রাংশ (ডিজেল ইঞ্জিন, কোচ ও ওয়াগণের অন্যান্য) চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করে থাকে।একই সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে রেলওয়ের সরবরাহকারীদের বিভিন্ন যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাজ করে বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি ফেরদৌস হুদা চৌধুরী। তিনি বলেন, বারেসাএসাএ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে খুব শীগ্রই রেলপথ মন্ত্রীর বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। যার অনুলিপি রেল প্রতিমন্ত্রী, রেল সচিব, মহাপরিচালক বাংলাদেশ রেলওয়ে, অতি: মহাপরিচালক-আরএস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম বরাবরে প্রেরণ করা হবে।
২ মাস ২০ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় যখন বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম ঘুরে ফিরে আসছে, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠেছে দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর ‘রেড সী গেইটওয়ে’ কী করেছে। সৌদিআরবভিত্তিক এ অপারেটর প্রতিষ্ঠান গত আড়াই বছর ধরে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মনাল (পিসিটি) পরিচালনা করছে। এই সময়ে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব এনসিটি পরিচালনায় আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ে বিরোধীতাকারীরা। এ বিষয়ে বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতা ইব্রাহিম খোকন বলছেন, ‘রেড সী’র সঙ্গে এক কনসেশন চুক্তিতে আমরা ধরা খেয়েছি। আবারো একই ভুল আমরা এনসিটিতে করতে চাই না।’ সে কারণে আমরা এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে ইজারায় বিরোধীতা করছি। ইব্রাহিম খোকন বলেন, সৌদি আরবে বিপুল প্রবাসী শ্রমিকের চাকরি নিশ্চয়তার অজুহাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সৌদি আরবের একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে এই পিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। তখন বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত, দক্ষতা বাড়ানো, অতিমাত্রায় গতিশীলতার কথা বলেছিলেন তখনকার মন্ত্রীরা। কিন্তু বাস্তবে বন্দরের জিসিবির মতোই ধীরগতি দক্ষতা দেখাচ্ছে এখন পিসিটি।কনসেশন চুক্তির কারণেই টার্মনাল পরিচালনার প্রায় সব শর্ত গোপন রাখা হয়েছে। যেটাকে বলা হয় নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ)। কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী পুরো টার্মিনাল একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করবে। সব ধরনের আয় ও মাশুল তারা সংগ্রহ করবে। এ আয় থেকে চুক্তি অনুযায়ী বন্দরকে তার পাওনা পরিশোধ করবে। এতে পিসিটিতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ খুব একটা নেই। কিন্তু এনসিটি, সিসিটি এবং জিসিবির ক্ষেত্রে বন্দর নিজেই সব মাশুল আদায় করে। আর দেশীয় অপারেটরদের চুক্তি অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করে বন্দর।সূত্র মতে, বিদেশি এ অপারেটর চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর পিসিটি পরিচালনার চুক্তি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপিয়ে দেয়া সেই কনসেশন চুক্তি নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক। আড়াই বছরে দেশি অপারেটরের তুলনায় কতটা গতিশীল হলো তারা। লক্ষ্যমাত্রার কতটা পূরণ করতে পেরেছে। এই সেবা বন্দর ব্যবহারকারীরাই বা কতটা সন্তুষ্ট। এসব আলোচনা এখন প্রাসঙ্গিক।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রথম বিদেশি এ অপারেটর পিসিটিতে কতটা সফল। তাদের এ সাফল্যের ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে।নিজস্ব ফান্ডের ১২শ কোটি টাকায় পিসিটি নিজেরাই তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু সেখানে যন্ত্রপাতি সংযোজন করেনি। অবস্থানগত দিক থেকে এনসিটির আগে পিসিটি। বঙ্গোপসাগর থেকে কর্ণফুলীর নদীর মোহনা পেরিয়ে প্রথমে পিসিটি সেকারনে এর অবস্থান ভালো। এই টার্মিনালে তিনটি কন্টেইনার পণ্য নামানোর জেটি আছে। রয়েছে তেলের জাহাজ ভেড়ার ডলফিন জেটিও।চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা। চুক্তির শুরুতে কনসেশন ফি ১৮.৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বন্দরকে। ইতোমধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে।২২ বছর মেয়াদি চুক্তির ২ বছর পার হলেও পণ্য উঠানামার সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্র ‘কী গ্যান্ট্রি ক্রেন’ যুক্ত করতে পারেনি রেড সী। ফলে তাদের পারফরম্যান্স এখনো এনসিটি-সিসিটির স্টান্ডার্ডে পৌঁছেনি। কী গ্যান্ট্রি ক্রেন না থাকায় ক্রেনবিহীন বা গিয়ারলেস জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারছে না। এতে বিশ্বমানের পণ্য উঠানামার সেবা এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে।এসব বিষয় জানতে রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী এরউইন হেজিকে প্রশ্ন পাঠিয়ে ইমেইল করা হয়। কোন সাড়া দেননি। পরে হেড অফ কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ খুরশিদের সাথে ফোনে কথা বলে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয় ব্যক্তিগত নাম্বারে। তাকে তাগাদা দিলে উত্তর দেয়ারও আশ্বাস দেন। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরেও জবাব দেননি তিনি। ১৬ জুন সকালে তাকে পুনরায় উত্তর দেয়ার তাগাদা দিলেও কোন সাড়া মিলেনি।শিপিং ও লজিস্টিক সেক্টরে ৩৮ বছরের অভিজ্ঞ এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানালেন, ‘তাদের অফিস পরিবেশ যতটা স্মার্ট, সার্ভিস অতটা সন্তোষজনক না। তারা শুধু মায়ের্সক লাইনকে সেবা দিচ্ছে। অন্যদের জন্য সেবা দিতে না পারলে সেটি তো আর বন্দর থাকলো না। মায়ের্সক টার্মিনাল হয়ে গেলো। এতে ট্রেডের উপকার হলো না।’বন্দরের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচমাসে পিসিটিতে মোট কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার একক। এরমধ্যে ৩১ শতাংশই খালি কন্টেইনার। ৫০ শতাংশ আমদানি কন্টেইনার। ১৯ শতাংশ রপ্তানি কন্টেইনার। প্রতিমাসে এখন ১১/১২টি কন্টেইনার জাহাজ পিসিটিতে ভিড়ে আর গড়ে ২৮ হাজার ৭১১ একক কন্টেইনার উঠানামা হয়। কিন্তু বছরে ৫ লাখ একক কন্টেইনার উঠানামার লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে হলে মাসে গড়ে ৪১ হাজার ৬৬৬ একক কন্টেইনার উঠানামা করতে হবে। সে হিসেবে কন্টেইনার উঠানামা লক্ষমাত্রা থেকে অনেক দুরে আছে বিদেশি এই প্রতিষ্ঠান।পিসিটিতে জাহাজ ভিড়া, জাহাজ উঠানামার দক্ষতা এখনো বন্দরের আধুনিক এনসিটি, সিসিটির মতো নয়। ফলে অন্যদের সাথে দক্ষতা তুলনার সুযোগ নেই। পিসিটির প্রেক্ষাপট বন্দরের অন্য যেকোন জেটি-টার্মিনালের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। পিসিটিতে এখনো কী গ্যান্ট্রি ক্রেন নেই। জাহাজের নিজস্ব ক্রেন দিয়ে পণ্য উঠানামা হয়; যেমনটা হয় বন্দরের সনাতন জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি)।পিসিটির তিনটি জেটিতে জাহাজ ভিড়ার নিয়মও অন্য জেটির চেয়ে ভিন্ন। বন্দরের অন্য জেটিতে বার্থং মিটিংয়ে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পিসিটির জন্য সেই নিয়মের বালাই নেই। এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাহাজ জেটিতে ভিড়ে, মিটিং পারমিশনের দরকার হয় না। শুধুমাত্র অবহিত করে। এই যে ভেড়ার বাড়তি বা বিশেষ সুবিধা পায় এমন সুযোগ বন্দরের অন্য কোন জেটি-টার্মিনালে এখনো কার্যকর হয়নি।বন্দরের বহিনোঙর থেকে পিসিটির দুরত্ব ১০ মাইল। আর এনসিটির দুরত্ব ১৬ মাইল। এনসিটির তুলনায় দুরত্ব কম থাকায় জ্বালানি সাশ্রয়ের সুবিধা পাচ্ছে তারা। এখানকার তিনটি জেটিতে সবচেয়ে বড় ড্রাফট বা গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। অন্য জেটিতে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার এনে তোলার সুযোগ থাকলেও পিসিটিতে এ কন্টেইনার এনে রাখতে হবে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে।পিপিপি কাঠামোয় কনসেশন চুক্তিতে এই রকম অসংখ্য অযৌক্তিক ‘বিশেষ সুবিধা’ রেড সী গেইটওয়েকে দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে অন্য অপারেটরদের সাথে তৈরি হয়েছে বৈষম্য। তাই আলোচিত এনসিটিতেও দুবাইভিত্তিক ডিপিওয়ার্ল্ডও একই কনসেশন সুবিধা চাইছে বন্দরের কাছে।
২ মাস ৩০ দিন আগে
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালকে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্টান হিসেবে গন্য করে প্রজ্ঞাপন জারী করেছে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ স¤পদ বিভাগ (আয়কর)। একই সাথে আরও ১০ প্রতিষ্ঠানকে জনকল্যাণমুলক হিসেবে প্রজ্ঞাপনে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির প্রদত্ত দান বা অনুদানকে প্রদেয় আয়কর হইতে রেয়াত প্রদান করিল। ১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হইতে এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর হইবে এবং ৩০ জুন ২০৩০ তারিখ পর্যন্ত এই প্রজ্ঞাপন বলবৎ থাকিবে বলে উল্লেখ করা হয়।গত ৮ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ স¤পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। যার এস. আর. ও. নং ২১৩-আইন/আয়কর-৪/২০২৬।-আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন)। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আয়কর আইনের ধারা ৭৬ এর উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উক্ত আইনের ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ৩ এর অনুচ্ছেদ ২ এর দফা (১৩) এর বিধানের আওতায় বর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। একই সাথে উল্লেখ করা হয়, উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত দান বা অনুদানকে উক্ত করদাতার অনুকূলে উক্ত আইনের অধীন প্রদেয় আয়কর হইতে রেয়াত প্রদান করিল। প্রতিষ্ঠানসমুহ হলো:-(১) আসিক, ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুড ক্যান্সার(২) বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্ট (বেনকেট)(৩) আল-মারকাজুল ইসলামী;(৮) ডিসাব্লেড চাইল্ড ফাউন্ডেশন (ডিসিএফ)(৯) শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি;(৫) মাওনা ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন;(৬) বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি;(৭) অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন;(৮) ব্র্যাক(১০) রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা; এবং(১১) চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল।
২ মাস ৩০ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মী দশা থেকে ফেরাতে সংস্কার কাজের উদ্যোগে বেদিশায় পড়েছেন লুটেরারা। এর মধ্যে বন্দরের অভ্যন্তরীণ দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে জড়িত বহিরাগত সিন্ডিকেটও। যারা রাজনৈতিক বা বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়ে এই সংস্কার কাজের বিরোধীতা করে আসছেন। এমনকি দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বহিরাগতরা কর্মবিরতি কর্মসূচি দিয়ে বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ের। যারা এসব করছেন তারা দেশের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন মন্তব্য করেছেন বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগে সমর্থিত বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি চট্টগ্রামের ৯৯ ভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। কিন্তু সিন্ডিকেট চক্রের মতো সংঘবদ্ধ না থাকায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রামের মানুষের কথা কেউ শুনছে না। বন্দর সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি সমর্থিতদের ভাষ্য, সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতাকারীরা চট্টগ্রামের বাইরের লোক। যাদের বেশিরভাগ মাদারিপুর, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লাা ও নোয়াখালীর বাসিন্দা। যাদের বিরুদ্ধে বন্দর লুটে-পুটে খাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এরপরও সংঘবদ্ধ হয়ে হয়ে তারা বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতা করে আন্দোলন কর্মসুচি পালন করছে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল থেকে জেটি এবং বহিঃনোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজে নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে ২০০৮ সালের পর থেকে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর।এ সৃুবাধে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সুকৌশলে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংগঠেনের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছেমতো বন্দরের অর্থ ও সম্পদ লুটপাট করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার ছাড়, রপ্তানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার পাচার, কন্টেইনার চুরিসহ নানা কলাকৌশল করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব মেরেছে। আবার এই রাজস্ব বিদেশে পাচারও করেছে। যা নতুন অপারেটর নিয়োগে বড় ধরণের হোঁচট খাবে এই লুটেরা সিন্ডিকেট। যার কারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন অপারেটর নিয়োগে একাধিকবার দরপত্র প্রকাশ করলেও বন্দরে কর্মরত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছলচাতুরতায় কঠিন কিছু শর্তের কারণে নতুন কোন কো¤পানি এই খাতে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রতিযোগিতা না থাকায় সেবার মানে ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে অপারেটর সংখ্যা বাড়াতে। কিন্তু তার বিরোধীতা করছে লুটেরা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। সূত্র মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বন্দরে ২৩ প্রতিষ্ঠানকে অপারটের নিয়োগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে আরও ২৩ অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়। এখন বিএনপি সরকার পুনরায় নতুন অপারেটর নিয়োগে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার বিরোধীতা করছেন বর্তমান অপারেটররা। এমনকি অপারেটররা উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়। এই অবস্থায় নতুন অপারেটর প্রক্রিয়া শেষপর্যস্ত কতটা সফল হয় তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।তবে নতুন অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সচিব নাসির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। আগে যারা আবেদন করেছেন, এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তাদের নতুন করে আবেদনের দরকার নেই। আর কতজনকে দেয়া হবে সেটি কমিটিই নির্ধারণ করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলমান রাখবে বলে জানান তিনি। বন্দরের এই প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও ২৩টি দলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। এখন আবারো বিএনপিদলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা চলছে। ঢালাওভাবে লাইসেন্স দেয়া হলে এই কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।একইভাবে বিরোধীতা করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা একটি বিশেষায়িত কাজ। এখানে যন্ত্রপাতি এবং শ্রমিকদের সমন্বয়ে জটিল কাজ করতে হয়। এখানে নতুন-অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কত লাইসেন্স দেয়া প্রয়োজন সেটিও আগে নিশ্চিত হতে হবে, স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসতে হবে। আর অনভিজ্ঞরা কাজ পেলে বন্দরের এখনকার যে সেবা সেটি দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।আরেক শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, লাইসেন্সিয়ে একটির আবেদন ফি এক লাখ টাকা। আগে তিনশ আবেদন জমা পড়েছে। এখন আরো একশসহ মোট ৪০০ আবেদন জমা পড়লে বন্দর চার কোটি টাকা আয় করবে। পুরো টাকাই নন-রিফান্ডেবল। বন্দর কর্তৃপক্ষ এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার টন খোলা ও কন্টেইনারজাত পণ্য (কার্গো) উঠানামা করেছে। আর জেটি, টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে। পুরো কাজ করেছে ৪৬ অপারেটর। জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য উঠানামা, ইয়ার্ডে রাখাসহ নানা খাতে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কাগো বার্থের (জিসিবি) ১২ জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ করছে ১২ প্রতিষ্ঠান। দুটি টার্মিনাল চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টামিনাল (এনসিটি)তে কাজ করছে দেশি প্রতিষ্ঠান। আর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালতে (পিসিটি) কাজ করছে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বহির্নোঙর সাগরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর (লাইটারিং) কাজে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে কাজ করছে ৩৩ প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে ৪৮টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ বিষয়ে বন্দরের বার্থ অপারেটর পারভেজ আহমেদের বক্তব্য, লাইসেন্স দিলেই যে সবাই পণ্য উঠানামা বা অপারেটিংয়ের কাজ পাবে বিষয়টি এমন নয়। জেটিতে কাজ পেতে তো নির্দিষ্ট যোগ্যতা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সেটা যে প্রতিষ্ঠানের আছে সেই প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে। সুতরাং পূরনো যারা আছে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তারাই কাজ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
৩ মাস ১ দিন আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রাধিকার পেয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের উন্নয়ন। চট্টগ্রামের ছোট-বড় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিপরীতে রাখা হয়েছে মোট ১১ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার চট্টগ্রামের বরাদ্দ বাড়ল ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। বাজেটের নথি বিশ্লেষণে এ তথ্য মিলেছে নথির তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছর শেষে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কাটছাঁট করে নামিয়ে আনা হয়েছিল ৭ হাজার ২১৯ কোটি টাকায়। সেই সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছরে চট্টগ্রামের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।তবে সামগ্রিক বরাদ্দ বাড়লেও চট্টগ্রামের প্রধান চার উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে বরাদ্দের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় তারতম্য। চট্টগ্রাম বন্দর ও ওয়াসা পেয়েছে বিপুল বরাদ্দ। বড় ধাক্কা খেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ফলে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট সংস্কার, সড়ক বাতি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নাগরিক সেবাগুলো অর্থসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনালের মতো মেগা প্রকল্পের কারণে এবারও বরাদ্দের সিংহভাগ পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা প্রায় ৪ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। গতবার ৩ হাজার ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বছর শেষে পেয়েছিল মাত্র ৯৪৬ কোটি টাকা। নগরীরর স্যানিটেশন ব্যবস্থার মতো মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য ওয়াসাও পেয়েছে বড় অঙ্কের বরাদ্দ। গত বছরের ৮০৩ কোটি টাকার বিপরীতে এবার পেয়েছে ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। যা গতবারের চেয়ে ৬০৬ কোটি টাকা বেশি।এরপর ১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে। এছাড়া বেশি বরাদ্দ পাওয়া শীর্ষ প্রকল্পের একটি— মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (সওজ অংশ)। এই প্রকল্পের সড়ক ও জনপথ অংশের জন্যই রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মূল অংশের কাজের জন্য রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাতারবাড়ী বন্দরের জন্যই মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।শিল্পায়নে গতি আনতে মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে রয়েছে ৮০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা গতবারের চেয়ে ৭৪৭ কোটি টাকা বেশি। অবশ্য গতবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী প্রকল্পটি বছর শেষে বরাদ্দ পেয়েছিল সাড়ে ৪ কোটি টাকা।জলাবদ্ধতা ও ফ্লাইওভারের মতো মেগা প্রকল্প এখন শেষ পর্যায়ে। ফলে বেশ কমেছে সিডিএ’র বরাদ্দ। ছয়টি প্রকল্পে গত বছর ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পেলেও সিডিএ এবার পেয়েছে ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে ৩৮৬ কোটি টাকা কম। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চসিক। পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটিতেই পায়নি কোনো বরাদ্দ। নগরের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও বাতি লাগানোর জন্য চসিকের বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৭০০ কোটি টাকার জায়গায় এবার চসিক পেয়েছে মাত্র ৩৮০ কোটি টাকা, যা গতবারের চেয়ে ৩২০ কোটি টাকা কম। এরপরও ‘প্রত্যাশিত বরাদ্দ পাওয়ার’ কথা জানিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন। তিনি বলেন, সিডিএ’র বহুল আলোচিত জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পে এবার রাখা হয়েছে ৭৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা চট্টগ্রামের নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর প্রধান ভরসা। ওয়াসার চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা (১ম পর্যায়) মেগা প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা। কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণে ৬৯৭ কোটি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৬৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ।সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলছিলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ প্রকল্প শেষের পথে। যার কারণে বরাদ্দ কম মিলেছে। কারণ এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছাড় হয়ে গেছে।’
৩ মাস ৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ঠেকাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের পর এবার কোমড় বেঁধে নেমেছে লুটপাটের কারিগর খ্যাত সাইফ পাওয়ারটেক। তিন কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত নতুন দেশীয় প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় দেওয়া হয়েছে লোভনীয় প্রস্তাব। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য দুটি কোম্পানি হচ্ছে কসমস ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস। আর নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। এনসিটি যাতে কোনোমতেই হাতছাড়া না হয় এবং বন্দরের বিশাল রাজস্ব যাতে লুটপাট করতে পারে তার জন্য এমন কৌশল নিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। তবে তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে কেবল ডিপি ওয়ার্ল্ড এর প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে সরকার। যা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক গত ২০০৬ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনা হাতিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব চুরি ও পাচার করেছে। অর্ন্তবর্তী সরকার আসার পর এনসিটি পরিচালনা আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চাইলে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে সাইফ পাওয়ারটেক। প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে মাঠে নামিয়ে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মর্সূচি দিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটায়। যা এখনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর প্রতিষ্টান ড্রাইডক লিমিেিটড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে। এরপর থেকে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। এতে একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়ে সাইফ পাওয়ারটেক। ফলে নতুন গঠিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় লোভনীয় অফার দিচ্ছে। গত ২৮ এপৃল নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে টার্মিনাল পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয় সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। যা সম্প্রতি প্রকাশ পায়।এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নতুন প্রস্তাব এখনই সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যাচ্ছে না। কারণ এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই।তবে বন্দর সূত্র জানায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি অন্যান্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন এই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবও বিবেচনায় আসতে পারে।এনসিটি পেতে একের পর এক প্রস্তাবচট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক রাজস্ব আয় ৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা একাই জোগান দেয় এনসিটি। বন্দরের হৃৎপিন্ড হিসেবে পরিচিত এনসিটিতে মোট কন্টেইনার ওঠা-নামা করে ৪৫ শতাংশ। সবচেয়ে বড় জাহাজও ভিড়ে এই টার্মিনালে। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকায় ৪৮ ঘণ্টায় জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস শেষ হয়।সেই রেডিমেড টার্মিনাল পরিচালনা করতে একের পর এক প্রস্তাব দিচ্ছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তার সূত্রপাত হয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব থেকেই। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রথম প্রস্তাব আসে এই ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে। সেই প্রস্তাবে বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসলে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে উন্নীত হয়। আর এ নিয়ে শুরু হয় বন্দরে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আন্দোলন। কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচির মুখে বন্দর অচল হলে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার সেই চুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে সেই প্রক্রিয়া নীরবে এগোয়। ৪ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয় ডিপি ওয়ার্ডের প্রস্তাব নিয়ে নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে। সেই প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।যা আছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবে পিপিপি ও সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এতে টার্মিনাল পরিচালনা, মাশুল আদায় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব থাকবে এই অপারেটরের হাতে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে বন্দর নির্ধারিত রাজস্ব পাবে। সেই রাজস্ব কত হবে সেটি নির্ধারণ হবে আলোচনা সাপেক্ষে। তবে ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ম অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশের পুরো টাকাই বিদেশে নিয়ে যাবে।এ নিয়ে বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তার ভাষ্য, ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বমানের অপারেটর। বিশ্বজুড়ে শিপিং কানেকটিভিটি আছে তাদের। সে হিসেবে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে। সেই রাজস্ব নির্ধারণের এখন আলোচনা চলছে। বেশি আয় এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের পর গত ২৮ এপৃল দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর ভিত্তিতে প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতি কন্টেইনারে ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় পাঁচ ডলার বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। একইভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ২০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ গ্রুপ ২৫ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম ফি দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের ১.৫৪ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ-এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হবে প্রায় ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার।এমজিএইচ-এর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনিস আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেক স্তরেই আমরা বন্দরকে বেশি রেভিনিউ দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। এতে দেশ ও বন্দর লাভবান হবে। আমরাও ব্যবসা পাব। টাকাও দেশে থাকবে। পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল বিদেশি দিয়ে চালিত, আজ পর্যন্ত তারা চট্টগ্রাম পোর্টের সাথে অঙ্গীকার করা ৫০ শতাংশ প্রডাক্টিভিটি ডেলিভার করতে পারেনি। তারপরও আরেক বিদেশি অপারেটরের সাথে আলাপ, আমাদেরকে বাদ দিয়ে? সূত্রমতে, এমজিএইচ-এর নিজস্ব আইসিডি রয়েছে এবং ৭টি বিদেশি শিপিং লাইনের সাথে চুক্তি থাকায় প্রথম দিন থেকেই টার্মিনালে কন্টেইনার প্রবাহ নিশ্চিত থাকবে। স¤পূর্ণ দেশি মালিকানাধীন হওয়ায় এর লভ্যাংশ দেশেই পুনর্বিনিয়োগ হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবের পেছনেও সাইফ পাওয়ারটেকের হাত রয়েছে। আর অর্থ পাচারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস রাখা হবে আত্নঘাতি। কনোসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে শুভঙ্করের ফাঁকি নতুন কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই রাখার কথা বলা হয়েছে। তারা কেবল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ব্যয়ের দায়িত্ব নিতে চায়। জাহাজ ও কন্টেইনার সংশ্লিষ্ট সব ধরনের মাশুল আদায় করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিনিময়ে প্রতি কন্টেইনার পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ফি পাবে কনসোর্টিয়াম। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বন্দরের রাজস্ব আয় অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ বেসরকারি খাত বহন করবে। এতে বন্দরের আর্থিক চাপ কমবে এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাওয়া প্রস্তাবে প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬৯ ডলার পরিচালন মাশুল চাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দর প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনারে ৯২ ডলার মুনাফা করতে পারবে। এ ছাড়া জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল খাতেও কোনো ব্যয় করতে হবে না। যা এক ধরণের ফাঁদ বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। তবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দরের হাতেই থাকবে। ১৫ বছর ধরে জনবল, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা আমরাই করবো। কোনো ধরনের বিনিয়োগ না করেই বন্দর প্রতি কন্টেইনার ৯২ ডলার আয় করবে।কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, প্রতি একক কন্টেইনার পরিচালন থেকে বন্দর আয় করে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার, বিপরীতে ব্যয় ৫৬ দশমিক ১৫ ডলার। খরচ বাদ দিয়ে নিট আয় কন্টেইনার প্রতি ১০৫ দশমিক ৬৭ ডলার।তাহলে ১০৫ ডলার নিট আয় ছেড়ে কনসোর্টয়িামের প্রস্তাব কেন বন্দর বিবেচনা করবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফ পাওয়ারটেকের ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১৫ বছরে যন্ত্রপাতি সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন করতে বন্দরের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ থেকে বন্দর মুক্ত। আমরাই বন্দরের হয়ে সেটি বিনিয়োগ করবো।বন্দর ব্যবহারকারীদের মতামতবন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কন্টেনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কন্টেনারের প্রায় ৪৫ শতাংশ এই টার্মিনালেই হয়েছে। ফলে টার্মিনালটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।সূত্র মতে, এনসিটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সামনে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে। বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পিপিপি মডেল অথবা পরিচালন সেবাভিত্তিক দেশি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব থেকে যে মডেলই চূড়ান্ত হোক না কেন, তা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের দক্ষতা, সক্ষমতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
৩ মাস ৮ দিন আগে
সাবেক এমপি এম এ লতিফের কাছে দুটি ফ্লোরের তিন বছরের বকেয়া ভাড়া বাবদ সাড়ে ৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার! এই টাকা আদায়ে আইনি নোটিশ দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।মঙ্গলবার (২ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশও দেওয়া হয়। এরপরও বকেয়া ভাড়া আদায় না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে ফ্লোর দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় চট্টগ্রাম চেম্বার।চট্টগ্রাম চেম্বারের তথ্যমতে, দেশের একমাত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দুটি ফ্লোরে ২৬ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন তো দূরের কথা, তিন বছর ধরে ওই জায়গা ব্যবহার করেও কোনো ভাড়া পরিশোধ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ সেখানে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার কোর্স পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।চেম্বার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাড়া পরিশোধ না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন প্রক্রিয়া, অবকাঠামো নির্মাণ, আসবাবপত্র স্থাপন এবং জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্সসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দীর্ঘদিন ফ্লোর দুটি আটকে থাকায় চেম্বার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।চট্টগ্রাম চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সচিব নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ আর সেখানে আসেননি। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লোরও বুঝিয়ে দেননি। দীর্ঘদিন ভাড়া বকেয়া থাকায় আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে বকেয়া পরিশোধ না করায় ফ্লোর দুটি চেম্বারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।বকেয়া অর্থ আদায়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সংবেদনশীল। নতুন কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এম এ লতিফ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম চেম্বারে নিজের প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার পর ২০২২ সালে তিনি ‘ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এতে তৎকালীন চট্টগ্রাম চেম্বারের কয়েকজন নেতা, এম এ লতিফের আত্মীয়স্বজন এবং তার তিন ছেলেকে ট্রাস্টি করা হয়।চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বার এবং প্রস্তাবিত ‘ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’ বোর্ড অব ট্রাস্টির মধ্যে ভাড়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মোট ২৬ হাজার ২০৬ বর্গফুট জায়গা প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা হিসেবে মাসিক ১০ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। জামানত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া বাবদ ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জমা দেয়।চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ শেষে ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। চট্টগ্রাম চেম্বারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ছয় লাখ টাকারও বেশি। এ অবস্থায় ফ্লোর দুটি ফেরত এবং তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া ভাড়া আদায়ে আইনি নোটিশ দেয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে এম এ লতিফের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশের জবাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া ফেরতের দাবিও জানানো হয়।এ বিষয়ে জানতে ’ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো গ্র্যান্ডে’র ট্রাস্টি ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ওমর হাজ্জাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
৩ মাস ১৫ দিন আগে
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানো হবে না। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বড় দারোগারহাটে পণ্য পরিবহনের ওজন স্কেল নিয়ে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের আর বৈষম্যের শিকার হতে হবে না বলে বলে নিশ্চিত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়ে নবনির্বাচিত চট্টগ্রাম চেম্বার নেতাদের সাথে দেড় ঘণ্টার বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় এ নিশ্চয়তা দেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর মেহেদিবাগের বাসায় চেম্বারের সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাই আমিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে চেম্বার নেতারা এ অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। গত ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আমিরুল হকের নেতৃত্বে ২৪ জন পরিচালকই জয়ী হন। ২৫ মে তাদের নেতৃত্বে চেম্বারের প্রেসিডিয়াম গঠিত হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরুর সঙ্গে নতুন চেম্বার নেতৃত্বের এটি ছিল প্রথম বৈঠক। বৈঠকে উঠে আসে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ।বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের ৪৬তম সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, বৈঠকটি ছিল অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। একপর্যায়ে আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রূপ নেয় এবং চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো উঠে আসে।বিপিসির সদর দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানোর সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি তিনি তুলে ধরলে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জানান, এটি চট্টগ্রামেই থাকবে, ঢাকায় যাবে না।আমিরুল হক জানান, চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য সহজ করতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ চালু করা, বিমানবন্দর ট্যারিফ কমিয়ে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ফ্ল্যাট রেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আদায়, চট্টগ্রাম কাস্টমসে আধুনিক ল্যাব স্থাপন, চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো, ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছর মেয়াদি করা এবং ডিজিটালাইজেশন এসব বিষয় আলোচনায় আসে। মন্ত্রী বিষয়গুলো আন্তরিকভাবে শোনেন এবং সমাধানের উপায় খুঁজে দেখেন। কিছু বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধানও দেন।চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে ওজন স্কেল সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে হস্তক্ষেপ চান চেম্বারের সহ-সভাপতি মশিউল আলম স্বপন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেন যে. দ্রুতই সমাধান করা হবে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এককভাবে এই ভোগান্তি পোহাতে হবে না।প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর আহমদ দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মন্ত্রীর নজরে আনেন। একটি হলো বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যের তথ্য যেভাবে উন্মুক্ত থাকে, ঠিক সেভাবেই আমদানি পণ্যের তথ্যও উন্মুক্ত করা হোক। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বাজারে ভারসাম্য থাকবে, অপ্রয়োজনীয় আমদানিও কমবে।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে বিদেশি ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামার জন্য বিমানবন্দর ট্যারিফ কমানো, শুল্ক-কর ও অন্যান্য চার্জ মওকুফ এবং কার্গো ভিলেজ চালুর জন্য প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে মংলা বন্দর ব্যবহারে যেভাবে ট্যারিফ কমানো হয়েছিল, সেভাবেই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।অনুষ্ঠানে গাড়ি ব্যবসায়ী সংগঠন বারভিডার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল হাবিবুর রহমান বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান।বৈঠকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের আহ্বায়ক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের নতুন ২২ জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তবে নতুন সিনিয়র সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। উল্লেখ্য, গত ৬ মে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী একটি জরুরি ও জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে তিনি জনস্বার্থে বিপিসির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পাদনের লক্ষ্যে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে প্রশাসনিক রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের প্রকাশ্য আবেদন জানান। একই সঙ্গে তিনি ঢাকায় বিপিসির একটি স্বতন্ত্র ও নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথাও বলেন।সাধারণত যেকোনো জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ বা প্রস্তাবনার ওপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় ও অংশীজনদের সাথে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার নিয়ম থাকলেও, বিপিসির ক্ষেত্রে তা ঘটেছে অলৌকিক গতিতে। সংসদ সদস্যের নোটিশ প্রদানের মাত্র ছয় দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১২ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি আমলে নিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যানকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন। এরপর থেকেই মূলত আড়ালে-আবডালে থাকা স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ‘বিদ্যুৎ গতিতে’ ডানা মেলতে শুরু করে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ১৯৯০ সালে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গুরুত্ব দিতে এবং জ্বালানি খাতের মূল অবকাঠামো কাছাকাছি রাখতে বিপিসি চট্টগ্রামে আনা হয়। কিন্তু গত ৩৫ বছর ধরে সংস্থাটির বড় বড় কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে ঢাকাতেই লিয়াজোঁ অফিস বা অন্য কোনো নাম দিয়ে অবস্থান করে আসছিলেন। সপ্তাহে দু-একদিন অথবা মাঝেমধ্যে লোকদেখানো চট্টগ্রাম সফর করলেও তাদের মূল মনোযোগ ও যাতায়াত ছিল রাজধানী কেন্দ্রিক।চট্টগ্রামে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব আধুনিক বহুতল প্রধান কার্যালয় ভবন যখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়, ঠিক তখন কর্মকর্তাদের এই ‘ঢাকা ছাড়তে না চাওয়ার’ মানসিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই সংসদ সদস্যের এই নোটিশ এবং মন্ত্রণালয়ের এই অতি-তৎপরতা বলে উল্লেখ করেন চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক সৈয়দ সগির আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের শীর্ষ ও প্রভাবশালী কর্মকর্তারা রাজধানীর বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে চান না। আর কর্মকর্তাদের এই ‘ঢাকা ছাড়তে অনীহা’র মানসিকতাকে পুঁজি করেই এবার শুরু হয়েছে স্থায়ীভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার সূক্ষ্ম ও অতি গোপনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক স্বার্থকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করবে।চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহল ও নাগরিক সমাজ এই প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে: যেখানে সরকারের মূল নীতি বিকেন্দ্রীকরণ, সেখানে কর্মকর্তাদের আরাম-আয়েশ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের স্বার্থে একটি পুরো জাতীয় সংস্থাকে ঢাকায় ফেরত নিয়ে যাওয়া চরম বৈষম্যমূলক। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুষ্টিমেয় কিছু কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য দেশের পুরো জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে অপারেশনাল এরিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এই ‘বিদ্যুৎ গতির’ আত্মঘাতী প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে বিপিসির পূর্ণাঙ্গ সদর দপ্তর সদ্য নির্মিত চট্টগ্রামের স্থায়ী ভবনেই কার্যকর করার দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
৩ মাস ১৯ দিন আগে


বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আলোচনা ছড়িয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন আবারও স্থগিত। নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ রিটের শুনানি শেষে দুপুর নাগাদ হাইকোর্ট থেকে রায় আসল ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন ৬ মাসের জন্য স্থগিত। খুশিতে আটখানা এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বধীন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল। কারণ সেই রিটের বাদি ছিলেন তিনি নিজে। রায়ে বিমর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল সেই রায় ঠেকাতে গেলেন চেম্বার জজ আদালতে। দুপুরেই আদালত শুনলেন দু‘পক্ষের বক্তব্য। শুনানি শেষে বিকাল না গড়াতেই রায় আসল হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার! তবে পরবর্তী শুনানির জন্য ৮ জুন সময় বরাদ্দ রেখেছেন আদালত।কিন্তু চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনের সর্বশেষ তারিখ ২৩ মে। মানে দাঁড়ালো যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে উচ্চ আদালতের কোন বাধা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশন শাখা আদেশ দিল চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন যথাসময়েই হচ্ছে। সুষ্টু নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশও দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের আদেশ পেয়ে তড়িঘড়ি করে বিকাল ৪ টায় চেম্বারের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নির্বাচনের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন বোর্ড। যেখানে ১৫০ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের নির্বাচন পর্ববেক্ষণ বোর্ড।চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম বলেন, ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আদালতের রায় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করছি। নির্বাচন হবে ১৮ পরিচালক পদে।গত ১৮ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল, বর্তমান শিডিউলেই নির্বাচন হবে। আর ভোটাররা শুধু অর্ডিনারি ও এসোসিয়েটস গ্রুপের ১৮ পরিচালক পদেই ভোট দেবেন। বাকি ট্রেড ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনের ৬ পরিচালক পদে ৬ জন প্রার্থী তাই সেই দুটি শ্রেণিতে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। এই ৬ পদে আমিরুল হকের নেতৃত্বধীন প্যানেলের ৬ চেম্বার পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পথে আছেন।চেম্বার জজ আদালতের রায়ের পর শেষপর্যন্ত এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন প্যানেল নির্বাচনে থাকবেন কিনা জানতে বেশ কবার ফোন দেয়া হয় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হককে কিন্ত সাড়া মিলেনি।এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হক জানালেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তা আমরা সবসময়ই মেনে চলেছি। আমরা তৃণমুল ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত চেম্বার নেতৃত্ব সবসময় চেয়েছি। এখনও সেই নীতিতেই আছি।
৩ মাস ২৭ দিন আগে
মামলার পর মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার মতো নানা টানাপোড়েন শেষে আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। নগরীর আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান চেম্বারের যুগ্মসচিব নুরুল আবসার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার পরিচালক মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। অর্ডিনারী ও এসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ২৩ মে শনিবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) পুনরায় তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেয় এফবিসিসিআইর সালিশি ট্রাইব্যুনাল। একই আদেশে ২০২৫-২০২৬ এবং ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনী তফসিল বাতিল ঘোষণা করা হয়।গত ২২ এপৃল এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য ছায়েদ আহম্মদ ও এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের ১১ আগস্ট ঘোষিত তফসিলটি আইনগতভাবে সঠিক ছিল না এবং সময়সীমা পার হওয়ায় সেটি কার্যকারিতাও হারিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমসহ সদস্যরা স্বাক্ষরিত এই আদেশে দ্রুত নতুন তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুন তফসিল প্রণয়নে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন হয় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য।এই রায়ের পেছনে ছিল আদালতের সময়সীমা। নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সিভিল পিটিশন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ২৬ এপৃলের মধ্যে বিরোধ নি®পত্তি করতে। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ট্রাইব্যুনাল তাদের সিদ্ধান্ত জানায়।জানা যায়, চেম্বার নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকায় নতুন সংগঠন অন্তর্ভুক্তি এবং আগের তফসিলের বৈধতা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে বিভক্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। যারা দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে ঘোষিত তফসিল বর্তমান বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে আদালত থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।নির্বাচন স্থগিতের নেপথ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থার নেপথ্যে যে নামটি বারবার সামনে এসেছে, তিনি হলেন গার্মেন্টসের পণ্য সরবরাহকারী মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। সালিশী ট্রাইব্যুনালের রায়ে বেলালের এসব কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ অভিহিত করে খারিজ করে দেওয়া হয় আবেদনটি। এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব সালিশী ট্রাইব্যুনালে বেলালসহ তিনজনের আবেদন নি®পত্তি করে উচ্চ আদালতকে অবহিত করতে দেওয়া হয় নির্দেশ। তারপর সালিশী ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে মামলাটির বিষয়ে দেওয়া হয় এই পর্যবেক্ষণ। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে আরো যে বিষয়টি ওঠে আসে, এই আবেদন করার কোনো আইনগত অধিকার নেই বেলালের। আদালতের এরকম পর্যবেক্ষণের পরও মুহাম্মদ বেলালের মন খারাপ হয়নি। তার দাবি, আবেদন খারিজ করলেও আমার প্রকৃত চাওয়া উপলব্ধি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলা খারিজ হয় যেভাবে মামলার নথিপত্র ও ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, নিজেকে চট্টগ্রাম চেম্বারের একজন সাধারণ সদস্য এবং হার্বিস কনভার্টিং লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন মুহাম্মদ বেলাল। তবে মামলার শুনানিতে তার সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে পাওয়া গেছে স্ব-বিরোধী তথ্য। কখনও নিজেকে সাধারণ সদস্য, আবার কখনও একটি নির্দিষ্ট ট্রেড গ্রুপের (চট্টগ্রাম গার্মেন্ট এক্সেসরিজ গ্রুপ) সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। একই ব্যক্তি দুটি ভিন্ন শ্রেণির সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না এই যুক্তিতে তার আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্যারাগ্রাফে বেলালের আবেদন খারিজের কারণ উল্লেখ করেছে। ট্রাইব্যুনাল দেখেছে, টাউন অ্যাসোসিয়েশন বা ট্রেড গ্রুপের যে ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করেছেন বেলাল, নিজে সেই গ্রুপগুলোর সদস্য নন তিনি। ফলে সেখানে তার কোনো সরাসরি আইনি স্বার্থ নেই। এছাড়া বেলাল চট্টগ্রাম চেম্বারের বিরুদ্ধে প্রথম মামলায় নিজের পরিচয় দেন সাধারণ সদস্য হিসেবে। পরে আরেক মামলায় অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রেড গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। এভাবে বারবার পরিচয় পরিবর্তন করে সুবিধা নেয়ার প্রবণতাকে আদালত একই ব্যক্তির দুই শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে করেছেন সমালোচনা।আদালতেও বেলালের ডিগবাজিগত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তার অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য প্রথম আবেদন করেন তিনি। কিন্তু নাটকীয়ভাবে মাত্র তিন দিন পর ২৬ অক্টোবর পুনরায় আবেদন করে জানান, ভুলবশত প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া একই বিষয় নিয়ে তিনি একদিকে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে ১২/২০২৫ নং মামলা করেন, অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগে ১৬৯৭৬/২০২৫ নং রিট এবং আপিল বিভাগে ৫৭/২০২৬ নং লিভ টু আপিল দায়ের করেন।বেলালের উদ্দেশ্য মূলত ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলেন বেলাল। কিন্তু চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড খারিজ করে দেয় তার আবেদনটি। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই উচ্চ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে একের পর এক আইনি লড়াই শুরু করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, চেম্বারের ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী তফসিল নিয়ে। দাবি, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুসরণ না করেই প্রণয়ন করা হয়েছে ভোটার তালিকা। এ অভিযোগের সূত্র ধরেই বারবার থমকে যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া।এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বেলাল বলেন, আমি তো নির্বাচন করছি না। কাকে বাড়তি সুবিধা দিব? কিন্তু বেলালের বড় ভাই এস এম মোহাম্মদ আইয়ুব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন নুরুল হকের ব্যানারে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বেরাচারি আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে চট্টগ্রাম চেম্বারও দখলদারমুক্ত হয়। কিন্তু সেই দখলদাররা শুরু করে মামলা-মামলা খেলা। ফলে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়ে হতে পারেনি চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। সর্বশেষ ঘোষিত শিডিউল অনুযায়ী চট্টগ্রাম চেম্বারে চার ক্যাটাগরিতে ২৪ পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল ৪ এপৃল। আর সেই পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। কিন্তু এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ ২২ এপৃলের রায়ে সেই তফসিল বাতিল করে দিয়েছে নতুন তফসিলে সরাসরি নির্বাচনের নির্দেশনা। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম চেম্বারে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে দুটি প্যানেল। একটি এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্ব ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। আরেকটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সমমনা পরিষদ।
৩ মাস ২৯ দিন আগে
