দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আসামি হয়ে দায়িত্ব থেকে পলায়ন এর অভিযোগে পেলেন বিভাগীয় শাস্তি। এরপর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা চেয়ে করেছেন আবেদনও। সবকিছু ঠেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরেছেন প্রকৌশলী মো. তাকি আল যাওয়াদ। তাকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে ফের পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে তাকি আল যাওয়াদ বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রেলের চায়না এসি কোচের জন্য কন্ডেন্সার মোটর কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা দূর্নীতির মামলার আসামি হন।দুদকের তদন্ত নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে ‘সাপ্লাই অব থ্রি পেইজ ৪০০ ভোল্ট কনডেন্সার মোটর ফর চায়না এসি কোচেচ' প্রকল্পে ৪৪ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে মালামাল কেনার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় মালামাল যথাযথভাবে সরবরাহ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে তাকি আল যাওয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয় দুদক।দুদকের তদন্তে দরপত্র মূল্যায়ন, পণ্য সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রেও অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়। সরবরাহকারীর ইনভয়েস, বিল অব লেডিং, ওয়ারেন্টি সার্টিফিকেট, ইন্সপেকশন সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেট অব অরিজিনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলে তদন্ত সংস্থা। পরে এ ঘটনায় তাকি আল যাওয়াদসহ রেলের কর্মকর্তা ও অর্নব ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক চৌধুরী শরাফত করিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।দুদকের মামলার পর তাকি আল যাওয়াদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিদেশ যাওয়ার অভিযোগে পৃথক বিভাগীয় মামলাও হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের ২১ জুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব থেকে 'পলায়ন' এর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনীত 'পলায়ন' এবং 'পলায়নের দায়ে দোষী' হওয়ার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকি আল যাওয়াদের দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদন্ড দেওয়া হয়। ওই সময়ে তিনি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও বেতন-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেন না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।এর আগে দুদকের দায়ের করা মামলার মুখে প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদ চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আবেদনে তাকি আল যাওয়াদ উল্লেখ করেন, ৩০ অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে ৩২তম বিসিএসের রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে 'সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী' হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিতে স্থায়ী হন। একান্ত পারিবারিক কারণে তিনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে ইচ্ছুক। এ জন্য ১ অক্টোবর ২০২৩ থেকে তার ইস্তফা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রার্থনা করেন। নথিতে তাকি আল যাওয়াদের স্বাক্ষরও রয়েছে। তিনি তখন বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাটের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।এতকিছুর পরও রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় চলতি বছরের গত ৩ আগস্ট বদলি ও পদায়ন আদেশে তাকি আল যাওয়াদকে লালমনিরহাটের সাবেক বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী থেকে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম পদে বদলি করা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকি আল যাওয়াদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা। আমি কখনো চাকুরি থেকে ইস্তফা দেইনি। আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ইচ্ছে করে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করছেন। আমি দেশের বাইরে থাকার কারণে একটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। সেটির তদন্তও শেষ হয়েছে। দুদকের দায়ের করা মামলায় যে আর্থিক অভিযোগ আনা হয়েছিল সেটিও শেষ হচ্ছে।চাকুরি থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও দেখা যায়, তৎকালীন লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম তাকি আল যাওয়াদের করা আবেদনে স্বাক্ষর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের বিভাগীয় প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর কাছে প্রেরণ করেন।বিষয়টি স্বীকারও করেছেন তৎকালীন লালমনিরহাটের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ও বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (প্রকৌশল) মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, বিষয়টি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের দিকের। আমার যতটুকু মনে আছে-তাকি আল যাওয়াদের ইস্তফার একটা আবেদন আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি। এ অবস্থায় প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদের চাকরিতে ফেরা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে রেলজুড়ে। তার বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতির মামলা চলমান, অন্যদিকে বিভাগীয় তদন্তে 'পলায়ন' এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি কার্যকর হয়েছে। চাকুরি থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন করা এই প্রকৌশলী পরবর্তীতে কিভাবে আবার দায়িত্বে ফিরেছের এখন সেটাই আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ মাস ৪ দিন আগে
কমিশন ছাড়া ফাইল ছাড়েন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশন না পেলে ঠিকাদারদের করেন তুলোধুনো হয়রানি। এমন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তারেক মো, সামছ তুষারের সাফ জবাব, জিএম সব জানে, ওনার সাথে কথা বলুন।এমন কথায় বিস্মিত হয়ে ফের প্রশ্ন করা হয়, আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিবেন? তিনিও ফের উত্তর দেন, হ্যাঁ যা বলবেন জিএমকে বলুন, তিনিই এর জবাব দিবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে কি বলল না বলল, আর আপনি তা লিখে দিবেন? এগুলোর কী প্রমাণ আছে?ঠিকাদারদের অভিযোগ ও একাধিক রেকর্ড থাকার কথা জানালে-এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন ইজিপিতে টেন্ডার হয়, কমিশন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের কথা বলেছে তাকে এখানে নিয়ে আসুন। সেরকম কোন নিয়ম না থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে যান।ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ইজিপি টেন্ডার রেলওয়ের জন্য আইওয়াশ। ইজিপি ছাড়া যেমন কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মও দূর্নীতি হয়েছে। ইজিপিতে তার চেয়ে বেশি অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। বরং এ নিয়ে কোন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাদের ইজিপির দোহাই দিয়ে বাচার চেষ্টা করছেন রেলওয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।ঠিকাদাররা জানান, রেলওয়ের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তরের প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারও অবকাঠামো ও মালামাল ক্রয়ের যে কোন ইজিপি টেন্ডার নানা কলা-কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন। সেই সুত্রে তিনি ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত (টেন্ডার ভেদে) কমিশন হাতিয়ে নেন।টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারও কাজ পেয়ে কমিশন দেন। অন্যথায় টেন্ডারের ব্যপ্তি ও মূল্য নির্ধারণে গড়ি মসি করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশনের বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় টেন্ডারের ব্যস্তি ও মালামাল ক্রয়ে বাজার মুল্য অতিরিক্ত ধরে ঠিকাদারদের সুবিধা দেন।শুধু তাই নয়, টেন্ডার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্তরে স্তরে ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় ঠিকাদারদের। আবার কাজ শেষে টেন্ডারের বিল তৈরী থেকে নিয়ে হিসাব শাখা থেকে বিলের চেক নিতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় কমিশন ও ঘুষ।আর কমিশন ও ঘুষ আদায়ে সব দপ্তরের কর্মকর্তারা একাট্টা। এক্ষেত্রে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যে বড় ভুমিকা রাখে বাজার দর কমিটি। যে কমিটিতে রেলের সব কর্মকর্তারা কোন না কোনভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের এমন সিন্ডিকেটে বন্দি রেলওয়ের কাজে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। এরপরও নানা কারসাজির মাধ্যমে লাভ বের করে আনেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, শুধু ইজিপি নয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারের বিভিন্ন ভুয়া নামে একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স আছে। যেগুলোর কোন আস্তিত্ব নেই। এসব লাইসেন্সের নামে কৌশলে চলে যায় বেশিরভাগ ইজিপি টেন্ডার। তবে এসব কাজে প্রধান সহযোগী হলেন এ দপ্তরের একজন কর্মচারী। যা দুদক বা নিরপেক্ষ কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে মিলবে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।ঠিকাদারদের মতে, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল শাখার অধীনে প্রতি অর্থবছরে শত শত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ হয়। যেখান থেকে তিনি ইজিপি টেন্ডারের নামে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার কিছু কিছু টেন্ডার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সে নিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। যা জানা কষ্ঠসাধ্য।দূর্নীতির এসব টাকায় তিনি নিজ জেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী অনেক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের দপ্তরে গেলে বড় বাবু খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান নির্বিঘ্নে বলে দেন, স্যার তো কথা বলে না। কিছু জানার থাকলে জিএমের সাথে যোগাযোগ করেন।কেন? পরিচয় হতেও আপত্তি আছে নাকি- এমন প্রশ্ন করা হলে জানতে তিনি প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের কাছে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে তারেক মো. সামছ তুষার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারব না, কিছু জাসতে চাইলে আপনারা জিএমের কাছে যান, ওনার সাথে কথা বলুন।আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিয়ে নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ-যা বলবেন জিএমকে বলুন। তিনিই এর জবাব দিবেন। এমনভাবে রূঢ় আচরণ করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো, সুবক্তগীন বলেন, প্রকৌশলী সামছ তুষার যদি অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে লিখেন। সেখানে আমাকে পেছাচ্ছেন কেন? আমি কি সামছ তুষারের খাই, না সামছ তুষার আমার খাই। আপনার অভিরুচির মধ্যে পড়লে আমাকে টানেন।প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার আপনাকে টেনে আনছেন, আমি আনছি না-এমন কথায় তিনি বলেন, ঠিক আছে আপনি কাল (৩ আগস্ট, সোমবার) সকাল ১১টার দিকে আসেন। আমি তাকে ডেকে প্রশ্ন করব, সে আমার কথা বলবে কেন? এ কথা বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।
১ মাস ১৬ দিন আগে
কাস্টমসের চাকরি যেন ‘আলাদিনের চেরাগ;। লোকমুখে প্রচলিত এই প্রবাদটির বাস্তব রূপ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। মাত্র ১২ বছর চাকরি করেই বনে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক। নিজ গ্রামে গেড়েছেন রাজপ্রাসাদ। রাজধানীতে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, চড়েন দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের নামেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মিলেছে এই কর্মকর্তার নামে-বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাটের ১৪তম ব্যাচের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আলতাফ হোসেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এনবিআরের এক সাবেক ক্ষমতাধর শীর্ষ কর্মকর্তার সুপারিশে চাকরি পাওয়া আলতাফ, ওই কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়েই কাস্টমসে অদম্য শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলামের মেয়াদে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিলেন আলতাফ। তখনকার মহাপরিচালকের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত এই ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা ক্যাডার অফিসারদেরও তোয়াক্কা করতেন না। ক্ষমতার দাপট আর ঘুষের টাকায় তার পা মাটিতে পড়ত না।নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে একটি পদে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি পদায়নের সুযোগ না থাকলেও, আলতাফের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম খাটেনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা, যার সবকিছুই তৎকালীন শুল্ক গোয়েন্দা প্রধানের নখদর্পণে ছিল বলে জানা যায়।ঢাকায় ফ্ল্যাট-প্লট থেকে গ্রামে ‘রাজপ্রাসাদ’!১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার সরকারি স্কেল অনুযায়ী মাসিক সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৮,৬৪০ টাকা। বিগত ১১-১২ বছরে তার মোট বৈধ বেতন হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। যেখানে ঢাকা শহরে এই বেতনে সাধারণ জীবনযাপন করাই কষ্টকর, সেখানে আলতাফ হোসেনের রয়েছে একাধিক আলিশান ফ্ল্যাট।অনুসন্ধানে প্রাপ্ত আলতাফের স্থাবর সম্পদের তথ্য বলছে, ৩০০/১, পূর্ব রসুলপুর ঠিকানায় রয়েছে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। নির্মাণাধীন একটি ১১ তলা ভবনের ৯ম তলায় রয়েছে আরেকটি বড় ফ্ল্যাট। নিজ গ্রাম বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের ফুলহাতায় গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। এলাকায় তিনি এখন ‘টাকার কুমির’ নামে পরিচিত। স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জমি, প্লট এবং ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (FDR)। কিশোরগঞ্জ, খুলনা ও শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর ঘুরে আলতাফের সর্বশেষ পদায়ন হয় দেশের প্রধান রাজস্ব প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। সেখানে যাওয়ার পর তার দুর্নীতির মাত্রা আরও তীব্র হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—চট্টগ্রাম কাস্টমসে আলতাফের টেবিলে ‘লাখ টাকা’ ছাড়া কোনো ফাইল ছাড় হয় না। নিয়মতান্ত্রিক অনুরোধ করলেও ফাইল আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা তার নিত্যদিনের বিষয়।সম্প্রতি তার এই লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বর্তমান কমিশনার তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করেন। তবে বদলি ঠেকাতে বর্তমানে এনবিআরের উচ্চমহলে জোর তদবির ও লাখ লাখ টাকা ছড়াচ্ছেন বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র!কেবল আর্থিক দুর্নীতিই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে এই কর্মকর্তার গোপন মিশন। সম্প্রতি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে আলতাফ সিন্ডিকেট। বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির করতে এই সিন্ডিকেট প্রায় ‘কোটি টাকা’ বিনিয়োগ করেছে। আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে থেকে আলতাফ হোসেনের নেতৃত্ব দেওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজও এখন গণমাধ্যমের হাতে। সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনরকম সাড়া দেননি।এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ অভিমত, একজন সামান্য সরকারি কর্মকর্তার এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া জরুরি।
১ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি দল বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-১৪৮ এ আগত যাত্রী মোহাম্মদ সোহেলের সঙ্গে থাকা তিনটি ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়।তল্লাশিতে মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫০ কার্টন এবং ইচ্ছে লাইটস ব্র্যান্ডের ৮৫ কার্টনসহ মোট ২৩৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা সিগারেটগুলো ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে চট্টগ্রাম আইসিডি কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা সিগারেটগুলোর শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৬৫ লাখ টাকা। পণ্যটির মোট করভার (টিটিআই) ৬২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ ঘটনায় প্রচলিত কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য মিলেছে। যা বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য মিলাতে এসব সম্পদের বড় অংশ স্ত্রী, মা-বাবা ও শ্বশুরের নামে কিনেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর পল্লবী সেকশন-৬-এর ৮ নম্বর সড়কের সি-ব্লকের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১ হাজার ১৬০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে আহম্মদুল্লাহর। এছাড়া আদাবরে একটি প্লট, মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট এবং কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর আটতলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।দলিল সূত্র মতে, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুর কাছ থেকে প্লটটি ক্রয় করা হয়। দলিলে জমির মূল্য ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে প্লটটির বাজারমূল্য এক কোটি টাকার চেয়েও বেশি। এছাড়া আদাবরের একটি প্লট প্রথমে আহম্মদুল্লাহ তার শ্বশুর অলিউল হকের নামে কিনে পরে সেটি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশালের ঝালকাঠী সদর উপজেলার দিবাকরকাঠী গ্রামে তিনি একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ওই এলাকায় তার ১০ একরেরও বেশি জমি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এছাড়া বরিশাল শহরে একটি ফ্ল্যাট এবং উজিরপুর কলেজসংলগ্ন এলাকায় জমি কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে।অভিযোগ রয়েছে, আহম্মদুল্লাহর স্ত্রী ঢাকা মেট্রো-গ ৪৩-৪৭৬৯ নম্বরের গাড়িটি ব্যক্তিগত হলেও সামনে সরকারি লোগো ব্যবহার করেন। অন্যদিকে আহম্মদুল্লাহ নিজেও দীর্ঘদিন বিপিসি চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, প্রতি মাসে পল্লবীর বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গাড়িভর্তি উপহারসামগ্রী নিয়ে আসতেন। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিপিসির অধীনস্থ আটটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্রয় ও প্রশাসনিক ফাইল চেয়ারম্যানের অনুমোদনের আগে আহম্মদুল্লাহর মাধ্যমে যেত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাইল আটকে রেখে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করতেন তিনি।এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজে জ্বালানি সরবরাহকারী (বাংকার) ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বেসরকারি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শত শত কোটি টাকার বিল দ্রুত অনুমোদনের বিনিময়েও তিনি আর্থিক সুবিধা নিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বিটুমিন বিতরণ, বিদেশি জাহাজের এলসি পেমেন্ট এবং ফিলিং স্টেশন অনুমোদনের ফাইলেও অর্থ লেনদেন ছাড়া ফাইল চেয়ারম্যানের টেবিলে না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাদারীপুরের শিবচরে একটি ফিলিং স্টেশনের অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে প্রায় ছয় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।আহম্মদুল্লাহ ২০১৯ সালে চাকরির আবেদনে নিজের স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করেন। বিপিসির বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদটি নবম গ্রেডের হলেও তিনি ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও টানা সাড়ে ছয় বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বরিশাল অঞ্চলের লোকজনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিপিসির ঢাকা কার্যালয় ও রেস্ট হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বরিশাল অঞ্চলের লোকজনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দেন। তবে মাত্র একদিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিল হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস হিসেবে দায়িত্বে ফিরে আসেন।এদিকে তার অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসের ইনচার্জ মো. শফিউল ইসলাম চাকরি হারান বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ১ মার্চ বিপিসি চেয়ারম্যানের সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগে আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকে স্বজনদের চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব স্থানান্তরের অভিযোগ তোলেন।অভিযোগে বলা হয়, তার দায়িত্বকালে বিপিসির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়। এছাড়া ডিপো ইনচার্জদের বদলির হুমকি দিয়ে মাসোহারা আদায়, তদন্ত প্রতিবেদনে জালিয়াতি এবং ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।বিপিসির উপব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. ইসতিয়াক হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্রে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন, টিএ/ডিএ ও জ্বালানি বিল বাবদ আহম্মদুল্লাহকে ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে আহম্মদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথী জমি ও ভবনের মালিকানার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ভবন নির্মাণে তিনি ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন।
১ মাস ২৫ দিন আগে
৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে ইন্সপেক্টর লেভেলের একজন এনবিআর কর্মকর্তা এসে অকারণে যন্ত্রণা দেয়, ঘুষ নিয়ে তারপর শান্ত হন। ওই শিল্পপতি তো মনোবল হারাবেন। চট্টগ্রামের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের মনোবল বাড়ানোর মতো ইন্সপেক্টর দরকার। এতে সরকারের রাজস্ব আরো বাড়বে।
২ মাস ১ দিন আগে
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকর পূরো নিয়ন্ত্রণ ছিল বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের। গ্রুপটির কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আবদুস সামাদ লাবু দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময়ে লাবুর নেতৃত্বে কেডিএস গ্রুপের খলিলুর রহমান ও তাঁর ছেলে সেলিম রহমান ব্যাংকটির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে পরিচালিত আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে পুনরায় ফিরলেন পুরোনো উদ্যোক্তা-শেয়ারধারীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল রেখে পুরোনো উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জনকে যুক্ত করে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। নতুন যুক্ত হওয়া সদস্যদের অধিকাংশই চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে পূরণোদের মধ্যে নেই শুধু এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করেছিল। প্রায় দুই বছর পর ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আগের উদ্যোক্তাদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেক উদ্যোক্তাকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় তাদেরই পর্ষদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।নতুন পর্ষদে যুক্ত হওয়া ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের কর্ণধার খলিলুর রহমান, তাঁর বড় ছেলে সেলিম রহমান, ছোট ভাই আহামেদুল হক এবং আহামেদুল হকের সম্বন্ধী বদিউর রহমান। বদিউর রহমান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানা যায়, ২০২৩ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।এ ছাড়া কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি হিসেবে মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে শরিফ উদ্দিন তসলিমকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পর্ষদে পুনরায় জায়গা পেয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক মীর গ্রুপের কর্ণধার আবদুস সালাম। তিনি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ছেলের শ্বশুর।এ ছাড়া দুবাইভিত্তিক আল হারামাইন পারফিউমসের মালিক ও এনআরবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসিরের ছেলে ইমাদুর রহমানকে আবার পরিচালক করা হয়েছে। পুরোনো পরিচালকদের মধ্যে আরও রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লাহ।
২ মাস ২ দিন আগে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়ের বাইরে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এ ২৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এছাড়াও পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, রংপুর জেলার ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের ৫ তলা বাড়ি, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি ও রাজধানীর মিরপুর-২ এ ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে বেলাল হোসেনের।এলজিইডিরই এক কর্মকর্তার দুদকে করা অভিযোগে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল হোসেন একজন নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এলজিইডিতে যোগদান করেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশে প্রায় ৪০টি কাজ না করিয়ে শতভাগ বিল উত্তোলন করেন বেলাল হোসেন। পরবর্তীকালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) থাকা অবস্থায় সেসময় না করা রাস্তাগুলোর ওপর পুনরায় বরাদ্দ প্রদান করে কাজ সম্পন্ন করেন। এখনও সেসময়ের অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। এছাড়া বরাদ্দের বিপরীতে তিনি ৫%-১০% কমিশন আদায় করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বেলাল হোসেন দীর্ঘ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে চাকরি করেছেন। সেসময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুপারিশে প্রায় ১১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে এলজিইডিতে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরি প্রদান করেন। সেসময় তাদের কাছে ঘুষ হিসেবে পদ অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে), উপসহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত), উপসহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) পদায়ন করেন। এমনকি কার্য সহকারীকেও তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে পদায়ন করেন। সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘুষ লেদেন করেছেন চট্টগ্রাম েজলা নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়নের ক্ষেত্রে। প্রায় ৬ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের বিনিময়ে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মতিনকে পদায়ন করে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান আলীকে প্রকল্প পরিচালক পদে পদায়ন করেছেন। বিষয়টি স্বীকার করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি চট্টগ্রামের সন্তান মো. হাসান আলী। এভাবে সারাদেশে প্রায় ৪১২ জনকে অবৈধ পদোন্নতি দিয়ে ৫০-৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে ননিয়েছেন বেলাল হোসেন। জনপ্রতি ১০-১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে বদলি বাণিজ্য করার অভিযোগও রয়েছে বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ কারণে এলজিইডির প্রতিটি স্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বেলাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালীন এলজিইডির মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতি স্বর্ণযুগে পৌঁছায়। তার সময় যত ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে তার কোনটিরই তিনি বিভাগীয় মামলা রুজু করেননি। তখন থেকেই, দুর্নীতি দমন কমিশন বাধ্য হয়ে একসাথে একযোগে ৩ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।অভিযোগের বিষয়ে মতামত জানতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকী তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করে মুঠোফোনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর পাঠাননি।
২ মাস ১৪ দিন আগে
বাংলাদেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও ১৯টি স্থলবন্দরে বিদ্যমান মোট ২৯টি স্ক্যানারের মধ্যে ১৩টিই অচল বা নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ মোট স্ক্যানারের ৪৫ শতাংশ-ই বর্তমানে কাজ করছে না। কারণ বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম দামে নিম্নমানের স্ক্যানার সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া দেশের স্থলবন্দরের কয়েকটিতে এখনো স্ক্যানার বসানোই হয়নি। ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা— এনএসআইর এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। সেটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, স্ক্যানারের সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। স্ক্যানার অচলের ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানি হচ্ছেন, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অবৈধ পণ্য আসার ঝুঁকিও আছে। এগুলো ঠিক করা সরকারেরই দায়িত্ব। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের এসব ঠিক করতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য যাচাই ও যথাযথ রাজস্ব নিরূপণে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্যানার বসানো হয়। ফলে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ হয়, অন্যদিকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ, নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক পণ্য দেশে প্রবেশ করতে পারে না।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দুটি সমুদ্রবন্দর ও আটটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি সচল রয়েছে। সমুদ্রবন্দর দুটির মধ্যে চট্টগ্রামে ১০টি কনটেইনার স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ছয়টিই অচল। আর মোংলার দুটি ভেহিকল স্ক্যানারই অচল। আর স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে আইসিডি কমলাপুরে একটি কনটেইনার স্ক্যানার ও পানগাঁও বন্দরে একটি করে স্ক্যানার থাকলেও সেগুলো নষ্ট। বেনাপোলে চারটি লাগেজ স্ক্যানারের দুটিই নষ্ট। আখাউড়ার দুটি লাগেজ স্ক্যানারের একটি অচল। হিলির ছয়টি হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টরের ছয়টিই অচল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বড় বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার স্ক্যানারের ৬০ শতাংশ অচল। দুটি স্ক্যানার পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে এবং জিসিবি ১ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি একই বছরের আগস্ট থেকে অচল রয়েছে। এ ছাড়া কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি ডিসেম্বর মাসে প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেও অবকাঠামোগত কিছু ত্রুটির কারণে এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে সিপিএআর গেটের স্ক্যানারটি ঠিক থাকলেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ বন্দর কর্তৃপক্ষের স্ক্যানারটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু স্ক্যানার বন্দরের, আর কিছু স্ক্যানার কাস্টমসের। অচল স্ক্যানার সচল করতে অর্থ বরাদ্দ দিতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কাজ চলছে। তিনি বলেন, একটি স্ক্যানারের প্রতিমাসে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। যেগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, মেয়াদ বাড়াতে এনবিআর কাজ করছে। তবে বন্দর চাইলে সব স্ক্যানার তারা অপারেট করতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্দরকে আলাদা চার্জ দিতে হবে। এদিকে মোংলা সমুদ্রবন্দরে তিনটি লাগেজ স্ক্যানার ও দুটি আন্ডার-ভেহিকল স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভেহিকল স্ক্যানার দুটি অচল রয়েছে। ফলে বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গামী যানবাহনের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ বন্দরে এখনো কোনো কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করা হয়নি। কমলাপুর আইসিডিতে থাকা একমাত্র মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানারটি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে অচল রয়েছে। ফলে শতভাগ কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করতে হচ্ছে, যা পণ্য ছাড়ে সময় বাড়াচ্ছে এবং কাস্টমসের কার্যক্রমকে ধীর করছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার বেনাপোল স্থলবন্দরে স্থাপিত পাঁচটি ব্যাগেজ স্ক্যানারের মধ্যে দুটি অচল রয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এবং অপরটি ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে যাত্রী ও লাগেজের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া স্ক্যানার দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে তা দ্রুত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আবার বিজিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্ক্যানারও ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে অচল রয়েছে। এতে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্য ও যানবাহনের তদারকিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের (পিআইসিটি) স্ক্যানারটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে অচল। গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ পানগাঁও আইসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও স্ক্যানারটি সচল হয়নি। বর্তমানে স্ক্যানিং ছাড়াই ম্যানুয়াল পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্য ছাড় করা হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। শুধু তাই নয়, হিলি, সোনামসজিদ, তামাবিল, বুড়িমারী, সোনাহাট, গোবরাকুড়া, বিবিরবাজার, দর্শনা, বিলোনিয়া, ভোলাগঞ্জ, শাওলা, টেকনাফ, ধানুয়া-কামালপুর, বাল্লা, নাকুগাঁও বন্দরে স্ক্যানার নেই। ফলে এসব বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলেও রাজস্ব ঝুঁকি ও চোরাচালানের সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ক্যানার নষ্ট হলে মেরামত করতে দীর্ঘসময় লাগে। অচল স্ক্যানার মেরামতের খরচ বেশি বিধায় এনবিআর থেকে বরাদ্দ পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসব কারণে স্ক্যানারগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কনটেইনার স্ক্যানার উচ্চ প্রযুক্তির হওয়ায় এসব স্ক্যানারের খুচরা যন্ত্রাংশ দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। এগুলো চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করতে হয়। আর স্ক্যানার সরবরাহকারী দেশ-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি অনেক সময় নবায়ন করা হয় না বা নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয় না। এ কারণে নষ্ট হলেও মেরামত সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বন্দরের স্ক্যানার অচল থাকার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অবৈধ পণ্য যারা আমদানি করে, তারা সাধারণত আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে বা যোগসাজশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করে নেয়। ফলে এসব চালান অনেক ক্ষেত্রেই কাস্টমসে কার্যকরভাবে পরীক্ষা করা হয় না এবং দ্রুত বন্দর ছাড়িয়ে যায়। স্ক্যানার সচল থাকলেও এ ধরনের চালান সবসময় স্ক্যানিংয়ের আওতায় আসে না। বরং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রকৃত আমদানিকারকরাই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে অবৈধ পণ্য অনেক সময় নির্বিঘ্নে বের হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও সেটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে ঘটে, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির ফলে নয়। অচল স্ক্যানার মেরামত ও নতুন স্ক্যানার স্থাপনে এনএসআইর প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন বন্দরে স্থাপিত কনটেইনার স্ক্যানার মেরামতের দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা এড়াতে এনবিআরকে দ্রুত মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ, যন্ত্রাংশ ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দর, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, তামাবিল, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরে নতুন কনটেইনার বা কার্গো স্ক্যানার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে ক্রমেই বাড়ছে আমদানি পণ্য চৃুরি। গত ১০ মাসের ব্যবধানে দুটি চুরির ঘটনায় গায়ের হয়ে গেছে প্রায় ৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য। এর আগে এক চুরির ঘটনায় গায়েব হয়ে গেছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মুল্যের আমদানিকৃত কাপড়। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার, কাপড় চুরির পরও বন্দরের নিজস্ব ওরাকল সিস্টেমের রেকর্ড বলছে কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে সংরক্ষিত আছে, কিন্তু টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) ও সরেজমিন অনুসন্ধানে সেটির কোনো অস্তিত্বই মেলেনি। ইয়ার্ডটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ তথ্য জানান বন্দর থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুর রহিম। তিনি জানান, বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কাপড়ভর্তি কন্টেইনার পাচার হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। পণ্যগুলো কীভাবে বন্দরের বাইরে গেল এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তিনি জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর দশ মাসের মাথায় ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। ওই কন্টেইনারে প্রায় দুই কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমদানি করা কাপড় ছিল।সিল-স্বাক্ষর জাল করে রাতের আঁধারে সিস্টেমে অবৈধ এন্ট্রি দিয়ে বের করে নেওয়া হয়েছে কাপড়ভর্তি এই কন্টেইনার। এটিই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অল্প কিছু দিনের ব্যবধানে ঘটা দ্বিতীয় কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা। এর দশ মাস আগে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানি করা কাপড়ভর্তি আরেকটি কন্টেইনার গায়েব হয়ে যায়। যেখানে ৮০ লাখ টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হয়, যার এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। এই কন্টেইনারে প্রায় আড়াই কোটি টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। ঘটনায় সম্প্রতি বন্দর থানায় মামলা দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ৯ হিসেবে রুজু হয়, যাতে চুরির অভিযোগে পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওসি বলেন, যে ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনারটি গায়েব হয়েছে সেই ইয়ার্ডের ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও ক্রেন অপারেটর আবু সুফিয়ানকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া যে লং ভেহিকেলে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছে সেই গাড়ির হেলপার রুবেলকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে এবং দুলালকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গায়েব হওয়া আরেকটি কন্টেইনার নিয়েও চলছে তদন্ত।ওসি আবদুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ জুন হালিশহরের আব্বাসপাড়ার গলাচিপা এলাকা থেকে খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরেক ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে পাওয়া গেলে পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য স¤পর্কে জানা যাবে। পণ্যভর্তি কন্টেইনার গায়েবের ঘটনায় মামলাটি দায়ের করেন বন্দরের জেআর ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. আবদুল মান্নান। মামলার এজাহারে পরপর এই তিন ঘটনা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইয়ার্ড তদারকি ও কাগজপত্র যাচাই প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার গাজীপুরের মুয়াজ উদ্দিন টেক্সটাইল নামের একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে একটি ফেব্রিক্স পণ্যবাহী কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪এক্স৪০) আমদানি করেছিল। কন্টেইনারটি গত বছরের ৪ আগস্ট বার্থ অপারেটর বশির আহমেদ অ্যান্ড কো¤পানির মাধ্যমে বন্দরের সংরক্ষিত কন্টেইনার ও পণ্য রাখার জেআর ইয়ার্ডে রাখা হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল কন্টেইনারটি কায়িক পরীক্ষার পর দ্রুত ডেলিভারির জন্য জেআর ইয়ার্ডের অ্যাপ্রেইজ ক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স। দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও কন্টেইনারটির হদিস মেলেনি, পরে ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট বাতিল করা হয়।কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা এখানেই থেমে নেই। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে বন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। গায়েব হওয়া এই কন্টেইনারভর্তি কাপড়ের বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। কাপড়গুলো আমদানি করেছিল ঢাকার খিলক্ষেত সুপার মার্কেটের ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান।এজাহারে বলা হয়, ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. চীন থেকে ফেব্রিক্স পণ্যবাহী ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর কেওসিইউ-৪৮২৯৩৯৯) আমদানি করে। কন্টেইনারটি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের মাধ্যমে জাহাজ থেকে ডিসচার্জ করে চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) রাখা হয়। পণ্যবাহী এই কন্টেইনারটি গত ২৮ এপ্রিল কাস্টমসের পণ্য যাচাইয়ের জন্য অ্যাসাইনমেন্টভুক্ত ছিল, অর্থাৎ এই তারিখে কন্টেইনার নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু সিসিটি ইয়ার্ডের ডায়েরি থেকে জানা যায়, কন্টেইনারটির অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কন্টেইনারের অবস্থান জানতে গত ৬ মে টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ১০ মে সাইফ পাওয়ারটেক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়, গত ২১ জানুয়ারি কন্টেইনারটি জাহাজ থেকে নামিয়ে সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল এবং গত ১৭ মার্চ তা অনডেট অনচেসিস পদ্ধতিতে দ্রুত খালাস প্রক্রিয়ায় ডেলিভারির জন্য নির্ধারণ করা হয়। কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে (টিওএস) অনচেসিস হিসেবে ডেলিভারি দেখানো হয়েছে বলে টিওএসে সংরক্ষিত আছে। তবে একইসঙ্গে বন্দরের ওরাকল সিস্টেমে এখনো কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডেই সংরক্ষিত আছে বলে দেখানো হচ্ছে, অর্থাৎ বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারটির অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।এজাহারে আরও বলা হয়, টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের চিঠি পাওয়ার পর কন্টেইনারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। মামলার বাদী পরিবহন পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত হামিদুর রহমান বলেন, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের ৫০ নম্বর ক্রমিকের কপিতে থাকা সৈয়দ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি নামের সিলের জায়গায় ভুলভাবে সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি অ্যান্ড এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি লেখা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ডকুমেন্টে থাকা সই ও সিল তার নয়, এবং সব কাগজপত্র ও স্বাক্ষর জাল করে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপিতে থাকা পরিবহন পরিদর্শকের স্থলে থাকা টার্মিনাল ম্যানেজার দপ্তরের এফসিএল পরিবহন পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রিপারড বাইয়ের স্থলে থাকা উচ্চমান বহিঃসহকারী এমএইচ সিরাজীর স্বাক্ষরও তাদের নয়। কাগজপত্রে থাকা সিল ও স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) যাচাই করে দেখা যায়, বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন টিওএস সিস্টেমের আইডি ও পাসওয়ার্ড অবৈধভাবে ব্যবহার করে চলতি বছরের ১৭ মার্চ রাত আনুমানিক দুইটা ৫৪ মিনিটে কন্টেইনারের তথ্য টিওএস সিস্টেমে প্রবেশ করান। একই সময়ে কন্টেইনারটি টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তায় নামানো হয়। পরে কন্টেইনারটি বন্দরের গেট দিয়ে বাইরে বের করে নেওয়া হয়, তবে ঠিক কোন সময়ে এটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছিল, তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ১১ হিসেবে রুজু হয়, যাতে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়। এজাহারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।সন্দেহের তীর সাইফ পাওয়ারটেকের দিকেদ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ভূমিকা দ্বিমুখী চরিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। একদিকে কন্টেইনারের অবস্থান জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাবে প্রতিষ্ঠানটি যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সূত্র ধরেই কাগজপত্রের গরমিল ও জালিয়াতি প্রথম ধরা পড়ে। অন্যদিকে এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যে সময়ে বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন অবৈধভাবে অন্যের আইডি ব্যবহার করে রাতের আঁধারে টিওএস সিস্টেমে কন্টেইনারের তথ্য প্রবেশ করান, একই সময়ে সাইফ পাওয়ারটেকের নিজস্ব ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তাতেই কন্টেইনারটি নামানো হয়। অর্থাৎ একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার বন্দরের গেট পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় টার্মিনাল অপারেটরের কর্মী সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারের তথ্যে উঠে এসেছে, যদিও কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই কাজে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন তা এখনও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন তরফদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন উত্তর পাঠাননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নস্বল্প ব্যবধানে ঘটা একের পর এক কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রথম ঘটনায় একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরেই আসেনি, যা ইয়ার্ড পর্যায়ের নিয়মিত মজুত যাচাইয়ে গুরুতর অবহেলার বিষয়টি ওঠে আসে। দ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মতো ¯পর্শকাতর সিস্টেমে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে রাতের আঁধারে এন্ট্রি দেওয়া, একাধিক কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর জাল করা এবং বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারের অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য থাকার বিষয়টি সামনে আসায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথি যাচাই প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা (এনসিটি-সিসিটি) সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সার্বক্ষণিক নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকে। এর মাঝেও দুই একটি ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ঘটনাগুলোর সাথে যারা জড়িত তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। বেআইনি কাজে জড়িত যেই হোক তার রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
২ মাস ১৬ দিন আগে
ট্যাক্স দেয় না সরকার। খোদ ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে আটকে আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স। এর মধ্যে রেলওয়ে, গণপূর্ত, শিক্ষা ও সওজে আটকে আছে প্রায় ১৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা গৃহকর। পরিমাণটা আরও ডাবল হত যদি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ রিপোর্ট লেখার আগের দিন ২৯ জুন সোমবার বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা পরিশোধ না করত। তাহলে কি শুধু খেটে খাওয়া মানুষের পকেট কাটতেই সরকারি ট্যাক্স? যার উত্তর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টাকার অভাবে চসিকও নিয়মিত নাগরিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনাা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন কার্যক্রম ও কর্মচারীদের বেতন ঠিকমত দিতে পারছে না। তবে ১৯৭ কোটি টাকা বকেয়া গৃহকর আদায়ে ২৫ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। যার একটি সূরাহা শীঘ্রই মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চসিকের রাজস্ব বিভাগের নথির তথ্যমতে, মোট ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পাওনার সিংহ ভাগই আটকে আছে মাত্র চারটি বড় মন্ত্রণালয়ের কাছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেনাদার হলো রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট পাওনা ১১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স আটকে আছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। পাওনা প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া ট্যাক্স আটকে আছে শিখা খাতে, যা প্রায় ১৫ কোটি টাকা। চতুর্থ বড় ট্যাক্সদাতা হচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর। তাদের কাছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বাকি ২১টি মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চসিকের আয়ের মূল উৎস পৌরকর। এই টাকা থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, আবর্জনা অপসারণ, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের সিংহভাগ ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তবে পৌরকর আটকে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এর অধীন সরকারি দপ্তরগুলো চসিকের এই বিশাল অঙ্কের কর পরিশোধ করতে যাচ্ছে না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনও। তিনি বলেন, চসিক ও রেলওয়ে দুটোই সরকারি প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে গৃহকর অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। এদিকে চসিকের সবেচেয়ে বড় অঙ্কের গৃহকর বকেয়ার তালিকায় ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা। যা ২৯ জুন সোমবার চেকের মাধ্যমে এই ট্যাক্স পরিশোধ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চেক গ্রহণ করর পর চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একক কোনো খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের নজির স্থাপিত হয়েছে। এটি শুধু একটি রাজস্ব আদায় নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য কর আদায়ের উদ্যোগ নেন।তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন বন্দরের কাছ থেকে কোনো ধরনের কম্পেনসেশন চার্জ গ্রহণ করে না। অথচ বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ টন ধারণক্ষমতার ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের নির্মিত সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কারেই অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই বন্দরের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং আইনি ভিত্তিতে নির্ধারিত ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্সই দাবি করা হয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপৃল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে উভয় প্রতিষ্ঠানের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন (জয়েন্ট অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালিত হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন স¤পন্ন হয়। যৌথ মূল্যায়নে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করায় এটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলেও সিটি করপোরেশন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সিটি কর্পোরেশন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মেয়র জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে চসিকের মোট প্রায় ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া প্রায় ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং চলতি অর্থবছরের দাবি প্রায় ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকারের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই আমরা এই চিঠিগুলো পাঠিয়েছি, যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের বার্ষিক বাজেটে চসিকের এই পৌরকর পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে পারে। যেভাবে আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের পেছনে লেগে থেকে ন্যায্য পাওনা আদায় করেছি। একইভাবে এই ২৫টি মন্ত্রণালয়ের বকেয়া টাকা আদায়েও আমি শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাব। চসিকের রাজস্ব শাখার মতে, হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে সিটি করপোরেশন তার নাগরিকসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও স্বাভাবিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এতে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সরকার শুধু নেয়, দেয় না তেমন কিছুই। হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না করা তারই প্রম্যাণ বহন করে। তিনি বলেন, দেশের অন্য সিটি করপোরেশনেও হয়তো সরকারের ট্যাক্স আটকে আছে। এতে বুঝা যায়, সরকার শুধু খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্যই ট্যাক্স আরোপ করেছে। খোদ সরকারই ট্যাক্স পরিশোধ করে না। যা অত্যন্ত দূ:খজনক।
২ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিচালক এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে বন্দরনগরীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে। ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ, শ্রমিক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে আসছে এনামুল করিমের নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান সবখানেই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি সদ্য এলপিআরে যাওয়া ক্ষমতাধর কর্মকর্তা এনামুল করিম। এমন অভিযোগ বন্দর সংশ্লিষ্টদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিপিং এজেন্ট মেসার্স ইউনিবেঙ্গল কনটেইনার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও সব নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ছাড়পত্র দেন এনামুল করিম। এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব চরম ঝুঁকিতে পড়ে।এই বড় অঙ্কের অনিয়ম নজরে এলে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ করে বন্দরের মাশুল বা রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন এনামুল করিম। আর সেই অর্থ দিয়ে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।গত ৪ জুন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বন্দরের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র তলব করা হয়েছে। আর এই কর্মকর্তার দুর্নীতির খতিয়ান এখানেই শেষ নয়। ২০১৯ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও ১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রহস্যজনক ফাইল গায়েবের অলৌকিক ইশারায় তাঁর পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, অদ্যাবধি সেই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। রহস্যজনকভাবে থমকে আছে সেই ফাইল।এছাড়া বন্দরের সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও এনামুল করিমের পকেটে বন্দি। প্রতিটি নিয়োগের পেছনে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য হয়। এই বিশাল টাকার খেলা এক হাতে সামলান না তিনি। বন্দরে তাঁর একটি নিজস্ব ক্যাডার ও সহযোগী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে নাম এসেছে-বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি মীর নওশাদ, বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর. বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল চৌধুরী। প্রভাবশালী এসব নেতাদের ছত্রছায়ায় বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের খাটিয়ে ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এনামুল করিম। অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুল করিম বর্তমানে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক! এই বিশাল অর্থের একটি বড় অংশ তিনি পাচার করেছেন ইউরোপে। দেশের ভেতরেও বিভিন্ন বেনামে বড় বড় বিনিয়োগ করে রেখেছেন।বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি প্রধান প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে পরিবহন বিভাগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জাহাজ বার্থিং (ভেড়ানো), লাইসেন্স প্রদানসহ বন্দরের মূল চালিকাশক্তি এই বিভাগ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এই বিভাগের প্রধান (পরিচালক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনামুল করিম। তবে অভিযোগ রয়েছে, শুধু পরিচালক হওয়ার পর থেকেই নয়, বন্দরে যোগদানের পর গত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই পরিবহন বিভাগের সব ধরনের অবৈধ লেনদেন ও সিন্ডিকেটের চাবিকাঠি তাঁরই হাতে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এনামুল করিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাজনৈতিক পরিচয় বদল করেন। কখনো নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ওবায়দুল কাদেরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে জাহির করেন। আবার রাজনৈতিক হাওয়া বদল হলে মুহূর্তেই জামায়াত-বিএনপির কট্টর সমর্থক সেজে যান। আবার নির্বাচনের পর বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি সেজে যান। রাজনৈতিক ভোলবদল ও প্রভাবশালী মহলের ব্যাকআপের কারণেই বছরের পর বছর সুরক্ষিত থাকে এনামুল করিমের চেয়ার। এমনকি থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুদকের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি করে মোট চারটি দুর্নীতির মামলা চলছে। মামলার প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র আমাদের হাতে এসেছে। বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই বিষয়ে মতামত নিতে এলপিআরে থাকা এনামুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি ফোন নাম্বারের হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনও বন্ধ পাওয়া যায়।
২ মাস ২৩ দিন আগে
পদ্মা রেল সেতুর সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ব্রডগেজ রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প থেকে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ লুটের মহাকাব্য এখন যার ঝুলিতে, তিনি হলেন- রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতিহাসে এমন অনেক কাব্য সৃষ্টি হলে মহাকাব্য সৃষ্টির উদাহরণ শুধুমাত্র ডিজি আফজাল হোসেনের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য শেখ রেহানার 'কালেক্টর' এবং ওবায়দুল কাদেরের 'পোষ্যপুত্র' হিসেবে পরিচিতি এই প্রকৌশলী। যা আর কারও ঝুলিতে নেই। ২৪ এর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল হলেও সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মধ্যস্থতায় এখনও ডিজি পদে বহালতবিয়তে আছেন আফজল হোসেন। অটুট রেখেছেন দাপট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাইল থেকে শুরু করে নতুন সরকারের নীতিপ্রণেতা—সবখানেই রহস্যজনকভাবে রাতারাতি পরিস্থিতি পাল্টে নিজের করে নেন তিনি। ক্ষমতার দাপটে দুর্নীতির টাকায় দেশে-বিদেশে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। করেছেন বিপুল অর্থপাচার। নৈতিক স্খলনের এসব আদ্যোপান্ত নিয়ে ধারাবহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হলো দৈনিক ঈশানের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে-লজিং মাষ্টার থেকে ম্যানেজ মাষ্টারআফজাল হোসেনের বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইল সদরের চৌবাড়িয়া গ্রামে। স্থানীয় এলাসিন তারক যোগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৪ সালের ২৫ এপৃল সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) হয়ে যোগদান করেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ১৯৬৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিভৃতপল্লীতে জন্ম নেয়া এবং অন্যের বাসায় লজিং থাকা আফজাল হোসেন এখন বাংলাদেশ রেলওয়ের শীর্ষ পদ মহাপরিচালক (ডিজি)। সূত্রমতে, পাউবো থেকে দূর্নীতির হাতেখড়ি প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের। বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগদানের পর বিস্তৃত হয় তার এই অপকর্মের পরিধি। ধাপে ধাপে বাগিয়েছেন পদ-পদবী, নানা ইস্যুতে হয়েছেন সমালোচিত। এর মধ্যে অন্যতম শেখ হাসিনার বাপের টাকায় নির্মিত পদ্মা সেতু রেল-সংযোগ প্রকল্প। এই প্রকল্পের পিডি ছিলেন আফজাল হোসেন। তখন থেকেই আফজাল হোসেন শেখ পরিবারের সদস্য ‘পাওয়ারফুল ওম্যান’ শেখ রেহানার ‘কালেক্টর‘ বনে যান। আফজাল হোসেন তার ফরিদপুরের শ্বশুরকুলের আত্মীয়, কথিত শ্যালিকাসহ পছন্দের নারী কর্মকর্তাদের পদায়ন করে তারই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রকল্পে। এরপর থেকে আসল-নকল কাগজে পদ্মা সেতুতে বরাদ্দের কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে তা দিয়েছেন রেহানার কোষাগারে। নিজের আখের গোছানোতে মনোযোগী ছিলেন তারও আগে থেকেই। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মেন্টর শেখ রেহানা পলায়ন করলেও গরম হাওয়া লাগেনি ম্যানেজ মাস্টার আফজাল হোসেনের গায়ে। হাওয়া বুঝে ছাতা ঘুরিয়ে ধরেন ড. ইউনূস সরকারের দাপিয়ে বেড়ানো দুই সমন্বয়মুখী। প্রথমে আফজালের কর্মে তেলে-বেগুনে জ্বলেছিলেন তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। সে পরিস্থিতি অনুকূলে নিতে আফজালকে সহযোগিতা করেছেন চার সমন্বয়কের একজন যিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই ১৮০ ডিগৃ ঘুরে যান উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। প্রথমে যত গরম হয়েছিলেন, পরে তত শীতল হন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। গণেশ উল্টে যায় যেভাবেপদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। যাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ, তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বিভিন্ন সেক্টরে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশে উপসচিব উজ্জ্বল কুমার ঘোষের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।ডিজি পদ বাগিয়ে নেন যেভাবেরেলের যে কয়েকজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন, তার মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন মো. আফজাল হোসেন। তার সিনিয়র মার্কেটিং অ্যান্ড করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পার্থ সরকার, ট্রেনিং অ্যাকাডেমির প্রধান কর্মকর্তা এসএম সলিমুল্লাহ ওরফে বাহার এবং রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) আহমেদ মাহবুব চৌধুরীদের ডিঙিয়ে ডিজি করা হয়েছে তাকে। তখনই রেলওয়েসহ মন্ত্রণালয়ে চাউর হয় ‘চড়া দামে বিক্রি’ হলো ডিজি পদটি। আর তাতে খরিদদার মো. আফজাল হোসেন। মধ্যস্থতায় ছিলেন ড. ইউনূস সরকারের আমলের প্রভাবশালী দুই সমন্বয়ক ও একজন আমলা। এরপর থেকে আর কোনো সমস্যা হয়নি এ প্রকৌশলীর। পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে লুটপাটের মহাকাব্য রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। সরকারের অডিট বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।সরকারি সূত্র বলছে, প্রকল্পটির বাস্তবিক প্রয়োজন ছিল না। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর রেল সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা ছিল অপ্রয়োজনীয়। ফলে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ব্যয় মূলত উধাও হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর চেয়েও বড় মাত্রায় দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে। শুরুতেই এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে।এরপরও একনেকে অনুমোদনের মাত্র দু’বছরের মাথায় একবারেই ব্যয় ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত সবকিছুই করছে চীনারা। এরসঙ্গে রেলেরও একাধিক কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।তাদের অন্যতম হলেন মো. আফজাল হোসেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট লুটেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার পছন্দের কর্মকর্তা এই আফজাল হোসেন পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।এই আফজাল হোসেনের হাত দিয়েই প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় ও ভুয়া হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আফজাল হোসেন নিজেও চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতিটি বিল পরিশোধের ওপর বড় অংকের কমিশন পেয়েছেন। এছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অর্থ।এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তখন পদ্মা রেল সেতু এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের পর পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের কোনোই প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, প্রকল্প ব্যয়ের পুরো ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকাই জলে গেছে। প্রকল্পটি মূলত হাতে নেয়া হয়েছিল লুটপাটের ধান্দাকে সামনে রেখেই।এর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রকল্পের অধীন একটি রেল স্টেশন নির্মাণের চিত্র থেকেই। চিত্রে দেখা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ই যথেষ্ট ছিল সেই রেল স্টেশনে ব্যয় করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। মূল প্রকল্পে এখানে বিপুল ব্যয়ে রেল স্টেশন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনই অন্য কৌশলে এটিকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অবাক করা ব্যাপার হলো, প্রকল্পটির অপব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট হলেও প্রকল্প পরিচালক, দুর্নীতির মূল হোতা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।প্রকল্পটির নজিরবিহীন উচ্চ ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট সবকিছুই হয়েছে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনের পরিকল্পনায়। এই প্রকল্পের সুবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গেও আফজাল হোসেনের যোগাযোগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রকল্পের ওপর পুরো প্রভাব তাঁর বরাবরই বজায় ছিল। প্রকল্পের সাব-কন্ট্রাক্টররা প্রায় সবাই ছিল তাঁর নিয়োজিত। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পিডি পদে ছিলেন।আরও যেসব প্রকল্পে লুটপাটশুধু পদ্মা নয়, যমুনা রেলওয়ে সেতু ডাবল লাইনের সমান্তরাল সেতু হিসেবে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে আধুনিকায়ন। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনটি পুরোপুরি সচল করা, রেলওয়ে লাইন উন্নয়ন (পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চল) ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহ করাসহ বহু কাজ হয়েছে টেন্ডারে। প্রায় ৫৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার কাজের বেশিরভাগই হয়েছে এবং হচ্ছে আফজালের টেবিলে ঘোরা ফাইলের মাধ্যমে। রেলের পিয়ন থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত জানেন, ডিজির আফজালের পিসি ৫%। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছে বেনামি যৌথ ব্যবসা। একইভাবে ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকেও এক তৃতীয়াংশ সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করা হয়। আর প্রকল্প কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে পুরো রেলপথকে ঝুঁকিতে ফেলা হয়। বলতে গেলে এটিও ছিল সরকারের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে এ পর্যন্ত তিন কর্মকর্তা পিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যারা প্রকল্পের অর্থ লুটেপুটে পাহাড়সম সম্পদ গড়েছেন। পেয়েছেন পদোন্নতিও। জানা গেছে, এই গুরুতর অনিয়মও এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এটি মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে। এতো অপকর্মের পরও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে প্রকল্প পরিচালক থেকে কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে সরাসরি ডিজি পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। অথচ রেল কর্মকর্তারা বলছেন, দুদক যদি যথাযথ তদন্ত চালাত, আফজাল হোসেন ফেঁসে যেতেন এবং এতে উপদেষ্টা-সচিবও সমস্যায় পড়তে পারতেন। কিন্তু তারা তখনকার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশের প্রচেষ্টায় হাসিনা-রেহানার হাজার কোটি টাকার মেগা দুর্নীতির খতিয়ান ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতা চলে। এ লক্ষ্যে রেল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে আনঅফিসিয়ালি একটি টিম গঠন করা হয়, যারা ডিজি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে কাজ করছে। অডিট প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে কতটা দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে তা সর্বশেষ সরকারের অডিট বিভাগের প্রতিবেদনেই কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে মর্মে মহাপরিচালক, অডিট অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে।অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মীমাংসা যোগ্য নয় এমন গুরুতর অনিয়মগুলোর মাধ্যমে সরকারের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে মূল চুক্তির বাইরে ৫৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে তা আত্মসাত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১.৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাট ও অন্যান্য আইটেম কম হলেও ঠিকাদারদের অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। রেল লাইন নির্মাণে বালির স্তরও মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিমি কম হলেও ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।এ ছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রগ্রেস রিপোর্টের তুলনায় কাজ বেশি দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত’ কাজ হিসেবে দেখিয়ে চুক্তি করা হয়েছে প্রাক্কলনের ১৭.১৫% উচ্চমূল্যে (ইপিসি/টার্নকি), যার মাধ্যমে আত্মসাত হয়েছে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এভাবে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে সরকারের ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা ক্ষতি ও অর্থ আত্মসাত হয়েছে।জানা গেছে, দুদকের এক কর্মকর্তাকে আফজাল হোসেনের অলিখিত ব্যবসায়িক পার্টনারও বলা হয়ে থাকে। আফজাল হোসেন এখন একেতো অগাধ অবৈধ অর্থের মালিক, তার ওপর আবার মহাপরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। তার ছাতা হিসেবে রয়েছেন খোদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব। আর দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার সরাসরি দায়িত্বে রয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অডিট বিভাগ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। এ কাজের জন্য তাদের হাতে বরাদ্দ আছে বড় অংকের ফান্ডও। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই প্রতিবেদনই নয়, ইতিপূর্বে প্রকল্পটির শুরু থেকেই প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি হয়েছে। যার অনেকাংশই মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন।বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর একই পথে আবার পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে শুধুমাত্র সরকারি অর্থ আত্মাসাতের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই। বাস্তবে হয়েছেও তাই। চীনা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে এবং তাদের পরামর্শে অনেকটা হঠাৎ করেই এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি তৈরি, একনেক অনুমোদন প্রভৃতি কাজগুলো হয়েছে অত্যন্ত দ্রুততা এবং গোপনীয়তার সঙ্গে। এমনকি একনেক অনুমোদনের পরও অনেক কিছুতে রাখঢাক ছিল।দুর্নীতিবাজ বলে চিহ্নিত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এটা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চীন সরকারের উচ্চহার সুদের ঋণে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের যেসব ভুয়া হিসাবকে সামনে রেখে এই বৃহৎ প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে তা আদৌ কখনো বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন কখনোই সম্ভব হবে না। তাও রেল পরিচালনা বাবদ প্রতি মাসে বড় অংকের লোকসান দিতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। পদ্মা সেতুর কারণে সড়ক পথেই এখন সবাই মালামাল পরিবহনে আগ্রহী। একেতো অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। তারওপর যা কিছু নির্মাণ হয়েছে সেটাও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার করা যাচ্ছে না।যত সম্পদের মালিক আফজাল টাঙ্গাইলের নিরেট পল্লীতে অন্যের বাসায় লজিং থেকে পড়ালেখা করা আফজাল হোসেন এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। ঝামেলা এড়াতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের নাম। গ্রামের বাড়িতে দুর্নীতির নিশানা না থাকলেও রাজধানীর বনানীতে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। দেশে দুর্নীতির টাকা পাচার করেছেন অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানে কেনা বাড়িসহ রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে তার সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আফজাল হোসেনের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে রেলওয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে রেল কর্মকর্তারাই। এদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন। যিনি লুটপাটের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠছেন প্রতিনিয়ত। গড়েছেন পাহাড়সম সম্পদ। নিজে দূর্নীতিবাজ হওয়ায় রেলওয়ের অন্য দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেন না ডিজি আফজাল। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে দূর্নীতির মহোৎসব চললেও একেবারে নীরব আফজাল হোসেন। এসব বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের বক্তব্যের জন্য তাঁর সরকারি মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করে এবং তাঁর এ ব্যাপারে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের মুঠোফোন ও অফিসফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপ মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনরকম সাড়া দেননি। তাঁর দপ্তরে গেলেও তিনি নেই বলে জানান। তবে রেল ভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, তিনি সাধারণত সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ দেন না, ফোনও রিসিভ করেন না।
২ মাস ২৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় যখন বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম ঘুরে ফিরে আসছে, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠেছে দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর ‘রেড সী গেইটওয়ে’ কী করেছে। সৌদিআরবভিত্তিক এ অপারেটর প্রতিষ্ঠান গত আড়াই বছর ধরে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মনাল (পিসিটি) পরিচালনা করছে। এই সময়ে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব এনসিটি পরিচালনায় আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ে বিরোধীতাকারীরা। এ বিষয়ে বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতা ইব্রাহিম খোকন বলছেন, ‘রেড সী’র সঙ্গে এক কনসেশন চুক্তিতে আমরা ধরা খেয়েছি। আবারো একই ভুল আমরা এনসিটিতে করতে চাই না।’ সে কারণে আমরা এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে ইজারায় বিরোধীতা করছি। ইব্রাহিম খোকন বলেন, সৌদি আরবে বিপুল প্রবাসী শ্রমিকের চাকরি নিশ্চয়তার অজুহাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সৌদি আরবের একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে এই পিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। তখন বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত, দক্ষতা বাড়ানো, অতিমাত্রায় গতিশীলতার কথা বলেছিলেন তখনকার মন্ত্রীরা। কিন্তু বাস্তবে বন্দরের জিসিবির মতোই ধীরগতি দক্ষতা দেখাচ্ছে এখন পিসিটি।কনসেশন চুক্তির কারণেই টার্মনাল পরিচালনার প্রায় সব শর্ত গোপন রাখা হয়েছে। যেটাকে বলা হয় নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ)। কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী পুরো টার্মিনাল একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করবে। সব ধরনের আয় ও মাশুল তারা সংগ্রহ করবে। এ আয় থেকে চুক্তি অনুযায়ী বন্দরকে তার পাওনা পরিশোধ করবে। এতে পিসিটিতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ খুব একটা নেই। কিন্তু এনসিটি, সিসিটি এবং জিসিবির ক্ষেত্রে বন্দর নিজেই সব মাশুল আদায় করে। আর দেশীয় অপারেটরদের চুক্তি অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করে বন্দর।সূত্র মতে, বিদেশি এ অপারেটর চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর পিসিটি পরিচালনার চুক্তি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপিয়ে দেয়া সেই কনসেশন চুক্তি নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক। আড়াই বছরে দেশি অপারেটরের তুলনায় কতটা গতিশীল হলো তারা। লক্ষ্যমাত্রার কতটা পূরণ করতে পেরেছে। এই সেবা বন্দর ব্যবহারকারীরাই বা কতটা সন্তুষ্ট। এসব আলোচনা এখন প্রাসঙ্গিক।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রথম বিদেশি এ অপারেটর পিসিটিতে কতটা সফল। তাদের এ সাফল্যের ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে।নিজস্ব ফান্ডের ১২শ কোটি টাকায় পিসিটি নিজেরাই তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু সেখানে যন্ত্রপাতি সংযোজন করেনি। অবস্থানগত দিক থেকে এনসিটির আগে পিসিটি। বঙ্গোপসাগর থেকে কর্ণফুলীর নদীর মোহনা পেরিয়ে প্রথমে পিসিটি সেকারনে এর অবস্থান ভালো। এই টার্মিনালে তিনটি কন্টেইনার পণ্য নামানোর জেটি আছে। রয়েছে তেলের জাহাজ ভেড়ার ডলফিন জেটিও।চুক্তি অনুযায়ী, রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা। চুক্তির শুরুতে কনসেশন ফি ১৮.৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বন্দরকে। ইতোমধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে।২২ বছর মেয়াদি চুক্তির ২ বছর পার হলেও পণ্য উঠানামার সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্র ‘কী গ্যান্ট্রি ক্রেন’ যুক্ত করতে পারেনি রেড সী। ফলে তাদের পারফরম্যান্স এখনো এনসিটি-সিসিটির স্টান্ডার্ডে পৌঁছেনি। কী গ্যান্ট্রি ক্রেন না থাকায় ক্রেনবিহীন বা গিয়ারলেস জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারছে না। এতে বিশ্বমানের পণ্য উঠানামার সেবা এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে।এসব বিষয় জানতে রেড সী গেইটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী এরউইন হেজিকে প্রশ্ন পাঠিয়ে ইমেইল করা হয়। কোন সাড়া দেননি। পরে হেড অফ কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ খুরশিদের সাথে ফোনে কথা বলে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয় ব্যক্তিগত নাম্বারে। তাকে তাগাদা দিলে উত্তর দেয়ারও আশ্বাস দেন। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরেও জবাব দেননি তিনি। ১৬ জুন সকালে তাকে পুনরায় উত্তর দেয়ার তাগাদা দিলেও কোন সাড়া মিলেনি।শিপিং ও লজিস্টিক সেক্টরে ৩৮ বছরের অভিজ্ঞ এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানালেন, ‘তাদের অফিস পরিবেশ যতটা স্মার্ট, সার্ভিস অতটা সন্তোষজনক না। তারা শুধু মায়ের্সক লাইনকে সেবা দিচ্ছে। অন্যদের জন্য সেবা দিতে না পারলে সেটি তো আর বন্দর থাকলো না। মায়ের্সক টার্মিনাল হয়ে গেলো। এতে ট্রেডের উপকার হলো না।’বন্দরের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচমাসে পিসিটিতে মোট কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার একক। এরমধ্যে ৩১ শতাংশই খালি কন্টেইনার। ৫০ শতাংশ আমদানি কন্টেইনার। ১৯ শতাংশ রপ্তানি কন্টেইনার। প্রতিমাসে এখন ১১/১২টি কন্টেইনার জাহাজ পিসিটিতে ভিড়ে আর গড়ে ২৮ হাজার ৭১১ একক কন্টেইনার উঠানামা হয়। কিন্তু বছরে ৫ লাখ একক কন্টেইনার উঠানামার লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে হলে মাসে গড়ে ৪১ হাজার ৬৬৬ একক কন্টেইনার উঠানামা করতে হবে। সে হিসেবে কন্টেইনার উঠানামা লক্ষমাত্রা থেকে অনেক দুরে আছে বিদেশি এই প্রতিষ্ঠান।পিসিটিতে জাহাজ ভিড়া, জাহাজ উঠানামার দক্ষতা এখনো বন্দরের আধুনিক এনসিটি, সিসিটির মতো নয়। ফলে অন্যদের সাথে দক্ষতা তুলনার সুযোগ নেই। পিসিটির প্রেক্ষাপট বন্দরের অন্য যেকোন জেটি-টার্মিনালের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। পিসিটিতে এখনো কী গ্যান্ট্রি ক্রেন নেই। জাহাজের নিজস্ব ক্রেন দিয়ে পণ্য উঠানামা হয়; যেমনটা হয় বন্দরের সনাতন জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি)।পিসিটির তিনটি জেটিতে জাহাজ ভিড়ার নিয়মও অন্য জেটির চেয়ে ভিন্ন। বন্দরের অন্য জেটিতে বার্থং মিটিংয়ে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পিসিটির জন্য সেই নিয়মের বালাই নেই। এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাহাজ জেটিতে ভিড়ে, মিটিং পারমিশনের দরকার হয় না। শুধুমাত্র অবহিত করে। এই যে ভেড়ার বাড়তি বা বিশেষ সুবিধা পায় এমন সুযোগ বন্দরের অন্য কোন জেটি-টার্মিনালে এখনো কার্যকর হয়নি।বন্দরের বহিনোঙর থেকে পিসিটির দুরত্ব ১০ মাইল। আর এনসিটির দুরত্ব ১৬ মাইল। এনসিটির তুলনায় দুরত্ব কম থাকায় জ্বালানি সাশ্রয়ের সুবিধা পাচ্ছে তারা। এখানকার তিনটি জেটিতে সবচেয়ে বড় ড্রাফট বা গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। অন্য জেটিতে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার এনে তোলার সুযোগ থাকলেও পিসিটিতে এ কন্টেইনার এনে রাখতে হবে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে।পিপিপি কাঠামোয় কনসেশন চুক্তিতে এই রকম অসংখ্য অযৌক্তিক ‘বিশেষ সুবিধা’ রেড সী গেইটওয়েকে দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে অন্য অপারেটরদের সাথে তৈরি হয়েছে বৈষম্য। তাই আলোচিত এনসিটিতেও দুবাইভিত্তিক ডিপিওয়ার্ল্ডও একই কনসেশন সুবিধা চাইছে বন্দরের কাছে।
৩ মাস আগে
চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মী দশা থেকে ফেরাতে সংস্কার কাজের উদ্যোগে বেদিশায় পড়েছেন লুটেরারা। এর মধ্যে বন্দরের অভ্যন্তরীণ দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে জড়িত বহিরাগত সিন্ডিকেটও। যারা রাজনৈতিক বা বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়ে এই সংস্কার কাজের বিরোধীতা করে আসছেন। এমনকি দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বহিরাগতরা কর্মবিরতি কর্মসূচি দিয়ে বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ের। যারা এসব করছেন তারা দেশের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন মন্তব্য করেছেন বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগে সমর্থিত বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি চট্টগ্রামের ৯৯ ভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। কিন্তু সিন্ডিকেট চক্রের মতো সংঘবদ্ধ না থাকায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রামের মানুষের কথা কেউ শুনছে না। বন্দর সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি সমর্থিতদের ভাষ্য, সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতাকারীরা চট্টগ্রামের বাইরের লোক। যাদের বেশিরভাগ মাদারিপুর, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লাা ও নোয়াখালীর বাসিন্দা। যাদের বিরুদ্ধে বন্দর লুটে-পুটে খাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এরপরও সংঘবদ্ধ হয়ে হয়ে তারা বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতা করে আন্দোলন কর্মসুচি পালন করছে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল থেকে জেটি এবং বহিঃনোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজে নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে ২০০৮ সালের পর থেকে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর।এ সৃুবাধে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সুকৌশলে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংগঠেনের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছেমতো বন্দরের অর্থ ও সম্পদ লুটপাট করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার ছাড়, রপ্তানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার পাচার, কন্টেইনার চুরিসহ নানা কলাকৌশল করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব মেরেছে। আবার এই রাজস্ব বিদেশে পাচারও করেছে। যা নতুন অপারেটর নিয়োগে বড় ধরণের হোঁচট খাবে এই লুটেরা সিন্ডিকেট। যার কারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন অপারেটর নিয়োগে একাধিকবার দরপত্র প্রকাশ করলেও বন্দরে কর্মরত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছলচাতুরতায় কঠিন কিছু শর্তের কারণে নতুন কোন কো¤পানি এই খাতে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রতিযোগিতা না থাকায় সেবার মানে ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে অপারেটর সংখ্যা বাড়াতে। কিন্তু তার বিরোধীতা করছে লুটেরা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। সূত্র মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বন্দরে ২৩ প্রতিষ্ঠানকে অপারটের নিয়োগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে আরও ২৩ অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়। এখন বিএনপি সরকার পুনরায় নতুন অপারেটর নিয়োগে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার বিরোধীতা করছেন বর্তমান অপারেটররা। এমনকি অপারেটররা উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়। এই অবস্থায় নতুন অপারেটর প্রক্রিয়া শেষপর্যস্ত কতটা সফল হয় তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।তবে নতুন অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সচিব নাসির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। আগে যারা আবেদন করেছেন, এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তাদের নতুন করে আবেদনের দরকার নেই। আর কতজনকে দেয়া হবে সেটি কমিটিই নির্ধারণ করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলমান রাখবে বলে জানান তিনি। বন্দরের এই প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও ২৩টি দলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। এখন আবারো বিএনপিদলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা চলছে। ঢালাওভাবে লাইসেন্স দেয়া হলে এই কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।একইভাবে বিরোধীতা করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা একটি বিশেষায়িত কাজ। এখানে যন্ত্রপাতি এবং শ্রমিকদের সমন্বয়ে জটিল কাজ করতে হয়। এখানে নতুন-অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কত লাইসেন্স দেয়া প্রয়োজন সেটিও আগে নিশ্চিত হতে হবে, স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসতে হবে। আর অনভিজ্ঞরা কাজ পেলে বন্দরের এখনকার যে সেবা সেটি দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।আরেক শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, লাইসেন্সিয়ে একটির আবেদন ফি এক লাখ টাকা। আগে তিনশ আবেদন জমা পড়েছে। এখন আরো একশসহ মোট ৪০০ আবেদন জমা পড়লে বন্দর চার কোটি টাকা আয় করবে। পুরো টাকাই নন-রিফান্ডেবল। বন্দর কর্তৃপক্ষ এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার টন খোলা ও কন্টেইনারজাত পণ্য (কার্গো) উঠানামা করেছে। আর জেটি, টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে। পুরো কাজ করেছে ৪৬ অপারেটর। জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য উঠানামা, ইয়ার্ডে রাখাসহ নানা খাতে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কাগো বার্থের (জিসিবি) ১২ জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ করছে ১২ প্রতিষ্ঠান। দুটি টার্মিনাল চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টামিনাল (এনসিটি)তে কাজ করছে দেশি প্রতিষ্ঠান। আর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালতে (পিসিটি) কাজ করছে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বহির্নোঙর সাগরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর (লাইটারিং) কাজে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে কাজ করছে ৩৩ প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে ৪৮টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ বিষয়ে বন্দরের বার্থ অপারেটর পারভেজ আহমেদের বক্তব্য, লাইসেন্স দিলেই যে সবাই পণ্য উঠানামা বা অপারেটিংয়ের কাজ পাবে বিষয়টি এমন নয়। জেটিতে কাজ পেতে তো নির্দিষ্ট যোগ্যতা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সেটা যে প্রতিষ্ঠানের আছে সেই প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে। সুতরাং পূরনো যারা আছে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তারাই কাজ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
৩ মাস ২ দিন আগে
জাতীয় রাজস্ব (এনবিআর) বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। দুই বছর চেয়ারম্যান থাকার পর তার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ নতুন রাজনৈতিক সরকারের নীতি-কৌশলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না তিনি। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও শোনা যায়— তিনি কারও কোনো পরামর্শ শোনেন না। তাহলে প্রশ্ন আসে কে হচ্ছেন এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান। এ প্রশ্নের উত্তরে জানা গেছে, এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হতে রেস বা প্রতিযোগীতা শুরু করেছেন ৭ জন। এরা হলেন, রাজস্ব বোর্ডের সদস্য কর প্রশাসন আহসান হাবিব। তার বাড়ি বরিশাল। সরকারঘনিষ্ঠ দুজনের মাধ্যমে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যাট-অডিট ও নিরীক্ষা সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমেই চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য তদবির করছেন তিনি। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর, আবার শ্বশুরবাড়ি বরিশাল। তিনি একসময় বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংক এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) চাকরি করতেন। রেসে আছেন শুল্ক প্রশাসনের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলে। বুয়েটে দুবছর পড়ার পর বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে পড়ার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ব্যাচমেট ছিলেন বলে শোনা যায়। এছাড়া রয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের করনীতির সদস্য মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। বাড়ি জামালপুরে। তার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি নিজেই ঘনিষ্ঠজনদের বলছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ পুরনো।সৈয়দ আবু দাউদ রাজস্ব বোর্ডের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। চট্টগ্রামের কানেকশনে তিনি এ পদের জন্য আগ্রহী। সরকারের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ীও তার বিষয়ে লবিং করছেন বিভিন্ন মহলে।ভূমি অ্যাপিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আবদুল্লা হিল বাকী। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর ছোট ভাই।সমাজকল্যাণ সচিব আবু ইউসুফের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। পরিশ্রম করতে পারেন। উদ্যমী হয়ে কাজ করার মানসিকতা রয়েছে তার। তার চ্যানেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে তিনিও।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন উইংয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসা-শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে রোষাণলে পড়তে পারেন অথবা নিজের ক্ষতি হতে পারে এই ভয়ে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কারণ রাজস্ব বোর্ড এমন শক্তিশালী সরকারি সংস্থা চাইলে যখন-তখন যে কারোর ওপর চড়াও হতে পারে। বিষয়টি জানার জন্য ভ্যাট-অডিট ও নিরীক্ষা সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বলছেন, ‘এসব নিয়ে অহেতুক মিথ্যা ট্রল হয়। এ নিয়ে আমরা খুবই বিব্রত।’তবে একই পদমর্যাদার আরেকজন জানালেন, কেউ চেয়ারম্যানের দৌড়ে আছেন এ খবর এলেই তো ৩০০/৪০০ কোটি টাকা খরচের ট্রল শুরু হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রশ্ন করতে থাকে, সত্যি আমরা এ নিয়ে বিব্রত হই। কারও যদি এতো টাকা থেকেই থাকে, তাহলে সে পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা গিয়ে অবকাশযাপন না করে কেন সাধারণ মানুষের গালি শুনবে, মন্ত্রীর ঝাড়ি খাবে।শুল্ক প্রশাসনের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন জানালেন, ‘চেয়ারম্যান হতে চাই না। এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’ চাকরির মেয়াদ আছে আর ৬ মাস।আরেক কর্মকর্তা বললেন, ‘পদটা একটা ‘হাবিয়া দোজখ। ঢাকা-চট্টগ্রামে যেসব খনিতে যে সময়ে চাকরি করেছি, তখন টাকার দাম ছিল বেশি, জমির দাম ছিল কম। এখন জমির দাম অনেক বেশি। কিন্তু সে পথে হাঁটিনি কখনো।’রাজস্ব বোর্ডের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু দাউদ জানালেন ভিন্ন কথা, ‘চাকরির মেয়াদ আছে আরও ১১ মাস। একটু শান্তিতে থাকতে চাই।’অন্য একজন কর্মকর্তা নিজের পরিচয় গোপন করে জানালেন, এই রেস থেকে ৩ মাস আগেই সরে এসেছি। এ পদে যারা কাজ করছেন বা করেছিলেন তাদের অনেকেই এখন ঝামেলায় আছেন। এ পদ এখন একটি বিরাট বোঝা মনে হয়। বুদ্ধিমানদের কেউই এ পথে হাঁটবেন না। সূত্রমতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে শীর্ষ পর্যায়ে কারা কোন পদ পাবেন এ নিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বরিশালের মধ্যে প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। এসব এলাকার অন্তত ৭ জন নতুন চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। নানা উপায়ে চেষ্টা-তদবিরও করছেন তারা। যদিও এদের অনেকে তা অস্বীকার করছেন। এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান কাকে বানাবেন সে বিষয়ে খুবই সতর্ক ও সংবেদনশীল। বোর্ড প্রধানের ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আহরণের গতি ও সাফল্য। আগামী অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে অন্তত ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ঘোষিত বাজেটে।এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদার, ব্যবসাবান্ধব ও সৎ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে না পারলে পদে পদে অর্থনীতি হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ চেয়ারম্যানের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আয়ে সফলতা-ব্যর্থতা। কোনো কারণে রাজস্ব আদায়ের ১ শতাংশও হেরফের হলে ৬ হাজার ৪০ কোটি টাকা কম আদায়ের আশঙ্কা থেকে যায়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কমকর্তা জানান, এনবিআর চেয়ারম্যানের কোনো পদক্ষেপে ভুল করা যাবে না। তাকে রাজস্ব আদায়ে মনোযোগী একই সঙ্গে উদ্যোগী হতে হয়। যাদের কাছ থেকে কর আদায় হয়, তাদেরকে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করে নতুনভাবে বিস্তৃত করতে হবে কর জাল। অর্থাৎ খুঁজে বের করতে হবে নতুন করদাতা।প্রায় ২০ বছর পর বিএনপি সরকার এবারের বাজেট ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট। বিশ্বের টালমাটাল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ সরকারের জন্য অর্থনীতি সচল রাখা ও উজ্জীবিত করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এরকম পটভূমিতে কাকে করা হবে বা কে হতে যাচ্ছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান? এটা এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ যাকে বলা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রধান রক্ষক।
৩ মাস ৫ দিন আগে
ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে বাজার নিয়ন্ত্রণের খেলায় জড়িত দেশের ৮ কোম্পানি। তবে এতে ধরা খেয়েছে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এই কোম্পানিকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার শুনানি শেষে আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আপিল বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।কমিশনের রায়ের মতামতে বলা হয়েছে, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত রাখে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ঘটনায় প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর দফা (ক)-এর উপদফা (অ) ও দফা (খ) লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে কমিশন উল্লেখ করেছে। কমিশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশের ৯(৩) ধারা অনুযায়ী সরবরাহ আদেশের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন এবং তা কোনো অবস্থাতেই বাড়ানো যায় না। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহও নিষিদ্ধ। কিন্তু শবনম ভেজিটেবল অয়েলের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ (এসও) ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এবং ওই সময়ে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অনুসন্ধান চালিয়ে সরবরাহ সংকট সৃষ্টির প্রমাণসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়।প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা এডিবল অয়েল লিমিটেড, ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, এস আলম এডিবল অয়েল লিমিটেড ও টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।প্রতিযোগিতা কমিশনের গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান দলের তথ্য মতে, কারসাজির কারণে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এ কারণে প্রতিযোগিতা আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে অন্য ৭ কোম্পানি এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে বলে জানিয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন।
৩ মাস ৬ দিন আগে
বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর প্যাকেট হুবহু নকল করে নিম্নমানের তামাক দিয়ে তৈরি করা সিগারেট। এই কারসাজির সাথে জড়িত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণকর্তা হিসেবে পরিচিত চসিকের সাবেক মেয়র, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিদেশ থেকে অবৈধ সিগারেট আমদানির সাথে জড়িত থাকার দায়ে এই সিন্ডিকেটের অনেকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কাস্টমস মামলা দায়ের করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে সাবেক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন ও শিক্ষামন্ত্রী নওফেল।
৩ মাস ৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ঠেকাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের পর এবার কোমড় বেঁধে নেমেছে লুটপাটের কারিগর খ্যাত সাইফ পাওয়ারটেক। তিন কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত নতুন দেশীয় প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় দেওয়া হয়েছে লোভনীয় প্রস্তাব। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য দুটি কোম্পানি হচ্ছে কসমস ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস। আর নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। এনসিটি যাতে কোনোমতেই হাতছাড়া না হয় এবং বন্দরের বিশাল রাজস্ব যাতে লুটপাট করতে পারে তার জন্য এমন কৌশল নিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। তবে তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে কেবল ডিপি ওয়ার্ল্ড এর প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে সরকার। যা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক গত ২০০৬ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনা হাতিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব চুরি ও পাচার করেছে। অর্ন্তবর্তী সরকার আসার পর এনসিটি পরিচালনা আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চাইলে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে সাইফ পাওয়ারটেক। প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে মাঠে নামিয়ে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মর্সূচি দিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটায়। যা এখনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর প্রতিষ্টান ড্রাইডক লিমিেিটড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে। এরপর থেকে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। এতে একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়ে সাইফ পাওয়ারটেক। ফলে নতুন গঠিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় লোভনীয় অফার দিচ্ছে। গত ২৮ এপৃল নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে টার্মিনাল পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয় সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। যা সম্প্রতি প্রকাশ পায়।এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নতুন প্রস্তাব এখনই সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যাচ্ছে না। কারণ এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই।তবে বন্দর সূত্র জানায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি অন্যান্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন এই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবও বিবেচনায় আসতে পারে।এনসিটি পেতে একের পর এক প্রস্তাবচট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক রাজস্ব আয় ৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা একাই জোগান দেয় এনসিটি। বন্দরের হৃৎপিন্ড হিসেবে পরিচিত এনসিটিতে মোট কন্টেইনার ওঠা-নামা করে ৪৫ শতাংশ। সবচেয়ে বড় জাহাজও ভিড়ে এই টার্মিনালে। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকায় ৪৮ ঘণ্টায় জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস শেষ হয়।সেই রেডিমেড টার্মিনাল পরিচালনা করতে একের পর এক প্রস্তাব দিচ্ছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তার সূত্রপাত হয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব থেকেই। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রথম প্রস্তাব আসে এই ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে। সেই প্রস্তাবে বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসলে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে উন্নীত হয়। আর এ নিয়ে শুরু হয় বন্দরে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আন্দোলন। কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচির মুখে বন্দর অচল হলে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার সেই চুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে সেই প্রক্রিয়া নীরবে এগোয়। ৪ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয় ডিপি ওয়ার্ডের প্রস্তাব নিয়ে নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে। সেই প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।যা আছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবে পিপিপি ও সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এতে টার্মিনাল পরিচালনা, মাশুল আদায় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব থাকবে এই অপারেটরের হাতে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে বন্দর নির্ধারিত রাজস্ব পাবে। সেই রাজস্ব কত হবে সেটি নির্ধারণ হবে আলোচনা সাপেক্ষে। তবে ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ম অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশের পুরো টাকাই বিদেশে নিয়ে যাবে।এ নিয়ে বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তার ভাষ্য, ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বমানের অপারেটর। বিশ্বজুড়ে শিপিং কানেকটিভিটি আছে তাদের। সে হিসেবে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে। সেই রাজস্ব নির্ধারণের এখন আলোচনা চলছে। বেশি আয় এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের পর গত ২৮ এপৃল দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর ভিত্তিতে প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতি কন্টেইনারে ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় পাঁচ ডলার বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। একইভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ২০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ গ্রুপ ২৫ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম ফি দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের ১.৫৪ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ-এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হবে প্রায় ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার।এমজিএইচ-এর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনিস আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেক স্তরেই আমরা বন্দরকে বেশি রেভিনিউ দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। এতে দেশ ও বন্দর লাভবান হবে। আমরাও ব্যবসা পাব। টাকাও দেশে থাকবে। পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল বিদেশি দিয়ে চালিত, আজ পর্যন্ত তারা চট্টগ্রাম পোর্টের সাথে অঙ্গীকার করা ৫০ শতাংশ প্রডাক্টিভিটি ডেলিভার করতে পারেনি। তারপরও আরেক বিদেশি অপারেটরের সাথে আলাপ, আমাদেরকে বাদ দিয়ে? সূত্রমতে, এমজিএইচ-এর নিজস্ব আইসিডি রয়েছে এবং ৭টি বিদেশি শিপিং লাইনের সাথে চুক্তি থাকায় প্রথম দিন থেকেই টার্মিনালে কন্টেইনার প্রবাহ নিশ্চিত থাকবে। স¤পূর্ণ দেশি মালিকানাধীন হওয়ায় এর লভ্যাংশ দেশেই পুনর্বিনিয়োগ হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবের পেছনেও সাইফ পাওয়ারটেকের হাত রয়েছে। আর অর্থ পাচারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস রাখা হবে আত্নঘাতি। কনোসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে শুভঙ্করের ফাঁকি নতুন কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই রাখার কথা বলা হয়েছে। তারা কেবল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ব্যয়ের দায়িত্ব নিতে চায়। জাহাজ ও কন্টেইনার সংশ্লিষ্ট সব ধরনের মাশুল আদায় করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিনিময়ে প্রতি কন্টেইনার পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ফি পাবে কনসোর্টিয়াম। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বন্দরের রাজস্ব আয় অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ বেসরকারি খাত বহন করবে। এতে বন্দরের আর্থিক চাপ কমবে এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাওয়া প্রস্তাবে প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬৯ ডলার পরিচালন মাশুল চাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দর প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনারে ৯২ ডলার মুনাফা করতে পারবে। এ ছাড়া জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল খাতেও কোনো ব্যয় করতে হবে না। যা এক ধরণের ফাঁদ বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। তবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দরের হাতেই থাকবে। ১৫ বছর ধরে জনবল, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা আমরাই করবো। কোনো ধরনের বিনিয়োগ না করেই বন্দর প্রতি কন্টেইনার ৯২ ডলার আয় করবে।কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, প্রতি একক কন্টেইনার পরিচালন থেকে বন্দর আয় করে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার, বিপরীতে ব্যয় ৫৬ দশমিক ১৫ ডলার। খরচ বাদ দিয়ে নিট আয় কন্টেইনার প্রতি ১০৫ দশমিক ৬৭ ডলার।তাহলে ১০৫ ডলার নিট আয় ছেড়ে কনসোর্টয়িামের প্রস্তাব কেন বন্দর বিবেচনা করবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফ পাওয়ারটেকের ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১৫ বছরে যন্ত্রপাতি সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন করতে বন্দরের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ থেকে বন্দর মুক্ত। আমরাই বন্দরের হয়ে সেটি বিনিয়োগ করবো।বন্দর ব্যবহারকারীদের মতামতবন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কন্টেনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কন্টেনারের প্রায় ৪৫ শতাংশ এই টার্মিনালেই হয়েছে। ফলে টার্মিনালটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।সূত্র মতে, এনসিটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সামনে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে। বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পিপিপি মডেল অথবা পরিচালন সেবাভিত্তিক দেশি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব থেকে যে মডেলই চূড়ান্ত হোক না কেন, তা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের দক্ষতা, সক্ষমতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
৩ মাস ৯ দিন আগে
কোম্পানিগুলোর হাতে ৫১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, অলস ও অনিষ্পন্ন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গ্রাহকদের ৪ হাজার ৪০৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বৈধ বীমা দাবি। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, প্রগতি লাইফ, পপুলার লাইফ, মেঘনা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, এনআরবি লাইফ, রুপালী লাইফ, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ, হোমল্যন্ড লাইফ, ডেল্টা লাইফ, সান লাইফসহ প্রায় সবকটি বীমা কোম্পানি। এমনকি জীবন বীমা করপোরেশন, আমেরিকান লাইফ ও মেটলাইফ বাংলাদেশের মতো বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকের বীমা দাবি ঝুলিয়ে রেখে নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে। করছে চরম অনিয়ম। এতে তৈরি হচ্ছে অর্থ সংকট। যার দায় বইতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
৩ মাস ১০ দিন আগে
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধে, যা সামগ্রিক আর্থিক চাপ আরও বাড়াবে।এমন ভোগের বাজেট দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতি বিশ্লেষক এম হেলাল আহমেদ জনি। তিনি বলেন, এ বাজেট হবে ভোগের, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ‘উচ্চভিলাষী’ এবং কাঠামোগতভাবে অনেকাংশে ‘গতানুগতিক’। কেননা বাজেটের আকার, উন্নয়ন ব্যয়, পরিচালন ব্যয় এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস করার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এবার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে পারে। বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় যা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিপরীতে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন খাতের তুলনায় পরিচালন ব্যয়ই বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। এই বড় ব্যয় মেটাতে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।আসন্ন বাজেটে যে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে, তা মূলত ব্যয় করা হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের পেনশন ও গ্র্যাচুইটির টাকা এই পরিচালন ব্যয় থেকেই পরিশোধ করা হয়। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, কৃষি (সার, বীজ) এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স খাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ও নগদ প্রণোদনা দিতে হয়। সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য গাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি খরচ, স্টেশনারি, অফিসের বিদ্যুৎ ও পানির বিল, আপ্যায়ন এবং প্রচার-প্রচারণা বাবদ খরচ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিশেষ করে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং দুস্থদের মাঝে ভিজিডি-ভিজিএফের চাল বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নগদ অর্থায়ন করা হয়।এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি খরচ করা হয়, তাকে উন্নয়ন ব্যয় বলে। বাংলাদেশে এটি মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি নামে পরিচিত। এতে যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন করা হয়। এসব উন্নয়নের ফলে সরকারি-বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিচালন ব্যয়ের ধারাবাহিক উল্লম্ফনের কারণে উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, সরকারি বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় সংকুচিত হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাদের ভাষ্য, একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করছেন, সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধন নীতি কার্যকর না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর, বিলাসবহুল গাড়ি কেনা এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কার এবং এডিপি বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশ বর্তমানে নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্র থাকলে নীতি স্পষ্ট হতো, কিন্তু এমন উদ্যোগ নেই। অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও অতিরিক্ত উন্নয়ন ব্যয়ের পরিকল্পনা অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে। দেশ বর্তমানে নানা অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার তিন-চার মাস পার হলেও অর্থনীতিকে কী অবস্থায় পেয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি। সরকার ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড বা খাল খননের মতো কর্মসূচি নিয়ে বেশি আলোচনা করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা কিংবা কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়গুলো মনোযোগে আসছে নাতিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে স্বল্পমেয়াদি একটি অর্থনৈতিক কৌশলপত্র দিতে পারত, যাতে নীতির ধারাবাহিকতা ও সংকট উত্তরণে করণীয় স্পষ্ট হতো। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এডিপির ৪০-৫০ শতাংশই বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাকে আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দিয়ে বাস্তবায়নের কথা বলছেন। সেখানে যে দেড় হাজার প্রকল্প আছে তার থেকে আপনি নোংরা পরিস্কার করলেন না। এটার মাধ্যমে আপনি পুরোনো পরিস্থিতিকেই আবার নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। আয়ের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে রাজস্ব বোর্ডকে তা পরিপালন করার সুযোগই তার নেই। সরকারের উচিত ছিল স্থিতিশীলতা কর্মসূচির মধ্যে থেকে যতটুকু আয় হবে, সেই সীমার মধ্যেই ব্যয় নির্ধারণ করা।অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির এক কঠিন রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নেমে আসা এবং যুব বেকারত্বের হার ১১.৫ শতাংশে পৌঁছানো দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া বাজেটের পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়াতে না পারলে সরকারকে ক্রমাগত ঋণের পরিমান বাড়াতে হবে। যেটি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র ৫৭.২৩ শতাংশ। আসন্ন বাজেটের লক্ষ্যপূরণে রাজস্ব আদায়ের দিকে ঝুকতে পারে সরকার। এতে সামগ্রিক আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
৩ মাস ২৯ দিন আগে
চালুর আগেই জংয়ে গিলে খাচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্মিত এই রেলপথ উদ্বোধন করা হয় প্রায় আড়াই বছর আগে। কিন্তু রেলপথটি এখনো কার্যত অচল । এতে প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) এমন মন্তব্য করেছেন আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এই রেলপথে একাধিকবার পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক দুদেশের কুটনৈতিক টানাপড়েনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হয়নি বাণিজ্য কার্যক্রম। কবে নাহাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বা বাণিজ্য চালু হবে— সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘অলস অবকাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।আর নিম্নমানের লোহার যন্ত্রাংশ দিয়ে এই রেলপথ তৈরি করায় ধরেছে জং। নেই কোন সংরক্ষন ও তদারকি। এতে প্রকল্পটি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে জানান রাজীব ভুঁইয়া। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। এই রেলপথ চালু হলে তারা নিজেদের রাজ্য থেকেই কম খরচে পণ্য আনতে পারবে। এতে করে আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ার।’তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সীমিত পরিসরে রড, সিমেন্ট ও পাথর রপ্তানি হয়, যা মূলত ত্রিপুরার বাজারে যায়। কারণ, ভারতের অন্য রাজ্য থেকে এসব পণ্য আনতে খরচ বেশি পড়ে। কিন্তু নতুন রেলপথ চালু হলে সেই নির্ভরশীলতা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী।আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসিবুল হাসান মনে করেন, রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও সুযোগ রয়েছে আমদানি বাড়ার। ‘সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ দিলে ব্যবসায়ীরা কম খরচে রেলপথে পণ্য আনতে পারবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলে জানান তিনি।কবে এই আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালু হবে— এই প্রশ্নে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার জবাব, ‘কখন ট্রেন চলবে, সেটা পুরোপুরি সরকারি সিদ্ধান্ত। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। উদ্বোধনের প্রায় আড়াই বছর পরেও ট্রেন চলাচলে না থাকা, বাণিজ্য শুরু না হওয়ায় আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ এখন অনিশ্চয়তার প্রতীক। কবে এটি চালু হবে, কতটা বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়া যাবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা।রেলওয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে রয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। প্রায় ২৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ অংশের কাজ বাস্তবায়ন করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীসহ নানা জটিলতায় কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় বছরেরও বেশি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে রেলপথটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।উদ্বোধনের আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই রুট দিয়ে আমদানি-রপ্তানির অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ভারত থেকে অর্ধশতাধিক পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর জন্য নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবন, প্ল্যাটফর্ম এবং সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর।এরপর একাধিকবার পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক দুদেশের কুটনৈতিক টানাপড়েনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হয়নি বাণিজ্য কার্যক্রম। কবে নাহাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বা বাণিজ্য চালু হবে— সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘অলস অবকাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সুফল নিয়ে শুরু থেকেই আশাবাদী ছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনেক ব্যবসায়ী বলছেন ভিন্ন কথা। এই রেলপথ বাস্তবে ভারতের বাণিজ্যিক সুবিধাই বেশি নিশ্চিত করবে বলেই তাদের মত।বিশ্লেষকদের মতে, এই রেলপথের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্ব হলো ভারতের ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা চিকেনস নেক নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন। ফলে ভারতের জন্য এটি একটি বড় লজিস্টিক সম্ভাবনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এতে বাংলাদেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা কতটুকু মিলবে?
৪ মাস ২১ দিন আগে
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে বসানো হয়েছে নতুন ৯৮ ইঞ্চির টেলিভিশন! যার দাম সাত লাখ টাকা। একনেকের বৈঠকে এলে প্রধানমন্ত্রী যেন টেলিভিশনটি চোখে পড়ে এটাই ছিল উদ্দেশ্য। আর সুদূর চীন দেশ থেকে এই টেলিভিশন উড়িয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এনইসি সম্মেলন কক্ষে দেখা যায় টেলিশিনটি। এটি কক্ষের প্রবেশ পথের বাম দিকের দেয়ালে লাগানো হয়েছে। একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় যেটি প্রধানমন্ত্রীর চোখেও পড়ার কথা নয়। কিন্তু গত ৬ এপৃল তিনি পরিকল্পনা কমিশনে একনেক সভায় যোগ দেবেন। তাই তড়িঘড়ি করে টেলিভিশনটি বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সূত্রমতে, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একটি টেলিভিশন আগেই ছিল। যেটি পরিকল্পনা বিভাগের নাজিয়া-সালমা সম্মেলন কক্ষ থেকে এনে লাগানো হয়েছিল। সেটি দিয়েই কাজ চলছিল। কোনো কারণে টেলিভিশনটির এক কোনা ভেঙে যায়। আর ব্যস, তাতেই অজুহাত মিলে গেল টেলিভিশন কেনার। বসানো হলো চকচকে নতুন টেলিভিশন। কোনাভাঙা টেলিভিশন যেন প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়াও নিষেধ। তাই পুরনো সেই টেলিভিশনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে নাজিয়া-সালমা সম্মেলন কক্ষে। জানা গেছে, সাত লাখ টাকার এই টেলিভিশন কিনতে করা হয়েছিল নিড অ্যাসেসমেন্ট কমিটি ও ক্রয় কমিটি। এমনকি বোকাবাক্সটি বুঝে নিতেও নাকি করা হয়েছিল একটি কমিটি। এসব কমিটির পেছনে ব্যয় সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) গোলাম মোছাদ্দেক বললেন, ‘আমরা সব ধরনের নিয়ম মেনে ইজিপিতে টেন্ডারের মাধ্যমে সরকারি সংস্থা টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) থেকে এটা কিনেছি। প্রায় সাত লাখ টাকা দাম পড়েছে। দুই দফায় দাম কমিয়ে বাজার যাচাই করে তার পরই কেনা হয়েছে।’চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার যেখানে সবদিকে ব্যয় সাশ্রয়ের পথে হাঁটছে, সেখানে এমন বিলাসী কেনাকাটার কেন প্রয়োজন পড়ল, সে প্রশ্ন রাখি তার কাছে। জবাবে তিনিই জানালেন, টেলিভিশন কেনার জন্য কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরাই নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে কেনা প্রয়োজন।এই অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্যদের নাম জানতে চাইলে তিনি বললেন, পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও এসডিপি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন আহমেদ এবং মেইনটেন্যান্স শাখার রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী মো. মইনুল হাসান।তবে নিড অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবে যাদের নাম বলা হলো তারা অবশ্য জানালেন ভিন্ন কথা। বললেন, এ বিষয়ে নাকি তারা কিছুই জানেন না। তমিজ উদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘আমি কোনো কমিটির সদস্য নই। এমনকি টিভি কেনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মইনুল হাসান জানতে পারেন।অবশ্য কিছু নাকি জানেন না মইনুল হাসানও। তার দাবি, কত টাকায় টিভি কেনা হয়েছে, তা জানাতে পারবেন গোলাম মোছাদ্দেক। নানা হাত ঘুরে জানা গেল কেনাকাটার দায়িত্ব পালন করেছেন প্রশাসন বিভাগের সাধারণ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। তার কাছে সাত লাখ টাকা কম, কারণ এর আগে নাকি আরও বেশি দামে টিভি কেনা হতো।রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আগে যারা এমন টিভি কিনেছিলেন সেগুলো ১৪ লাখ টাকা দাম ছিল। আমরা তো প্রায় সাত লাখ টাকায় কিনেছি। এজন্য কোনো কমিশন নেওয়া হয়নি, দুর্নীতি হয়নি এক টাকারও।সরকার যখন নানাভাবে ব্যয় কমানোর কথা বলছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও অতিথিদের আপ্যায়নে কাটছাঁট করা হচ্ছে মাছ-মাংস। সেখানে তার চোখে পড়বে কি পড়বে না— এমন স্থানে লাগানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশন কিনছে সাত লাখ টাকার টেলিভিশন।এ বিষয়ে কথা হয় পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মামুন-আল-রশীদের সঙ্গে। বৈশ্বিক এ পরিস্থিতিতে এমন বিলাসী ব্যয় মোটেও উচিত হয়নি বলে মত তার। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের টিভি কেনার আগ্রহের পেছনে কমিশন বাণিজ্য বা অন্য কোনো লাভ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে সামনের দিনে এ ধরনের বাহুল্য ব্যয় বন্ধ করা যায়।
৪ মাস ২৫ দিন আগে
কাস্টমসের নিলাম পণ্যের ভাগ চায় চট্টগ্রাম বন্দর। ইতোমধ্যে এই হিস্যায় ১৬৭ কোটি টাকা দাবি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্ধ শতাধিক চিঠি দিলেও কর্ণপাত করছেন নাা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও আলোচিত হয়েছে। তাতেও কোন সুরাহা না মেলায় বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বছরের পর বছর ধরে বন্দরের জায়গা দখল করে পড়ে থাকা পণ্যগুলো নিলাম হলেও পুরো টাকা জমা হয় কাস্টমসে। বন্দরের জায়গা ব্যবহারের মাশুল হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাকার একটি ন্যায্য হিস্যা দাবি করে আসছে অনেকদিন ধরে।কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি হয় সেগুলোর অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়। চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া এই অর্থ বের করে বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এতে সরকারের সম্মতিসহ অনুমোদন লাগে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ বলে মন্তব্য করেন তারা। বন্দর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিলামে বিক্রিত পণ্যের উপর আমাদের হিস্যাটা আইনগতভাবে স্বীকৃত। এটি আমাদের পাওনা। তারা পণ্য নিলামে বিক্রির সময় দুটি পে–অর্ডারের (একটি কাস্টমস ও অন্যটি বন্দর কর্তৃপক্ষ) মাধ্যমে পরিশোধ করলে এমন জটিলতা তৈরি হতো না। এই ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বন্দরের পাওনা প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বন্দরের তথ্যমতে, বিশ্বের নানাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়ে থাকে। এসব পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক ডেলিভারি না নিলে নিলামের জন্য কাস্টমসকে চিঠি দেয়া হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাচাই–বাছাই করে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অনেক সময় মামলা ও নিলাম প্রক্রিয়া যথাযথ সময়ে করতে না পারলে কিছু পণ্য ধ্বংসও করা হয়। তবে অপচনশীল বেশিরভাগ পণ্য নিলামে বিক্রি হয়। পচনশীল পণ্যগুলোর মধ্যেও যেগুলোর গুণগত মান ভালো থাকে, যেমন খেজুর, কমলা, আঙুর, আপেল ও মাল্টা এগুলো প্রায়ই নিলামে বিক্রি হয়ে থাকে।অন্যদিকে গাড়ি ও বিভিন্ন লৌহজাতসামগ্রী নিলামে বিক্রি হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পণ্য নিলাম করে থাকে। আবার নানা ধরনের জটিলতায় বহু পণ্য বন্দর থেকে খালাস করা হয় না। এসব পণ্য বছরের পর বছর বন্দরের ইয়ার্ড দখল করে পড়ে থাকে।সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি করে সেগুলো নিলাম গ্রহিতা চালানগুলো অর্থ পরিশোধ করে খালাস করে নিয়ে যান। বন্দর এসব পণ্য থেকে কোন অর্থ আদায় করতে পারে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো মধ্যে এফসিএল (পুরো কন্টেনার একজন আমদানিকারকের) কন্টেনার থেকে নিলামে বিক্রয়লব্ধ অর্থের ২০ শতাংশ এবং এলসিএল (একাধিক আমদানিকারকের পণ্যবোঝাই) কন্টেনার পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১৫ শতাংশ অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রদানের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাস্টমস পণ্য নিলাম করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা করলেও বন্দরের হিস্যা প্রদান করা হচ্ছে না। গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নিলামে বিক্রিত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিস্যা বাবদ ১৬৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ টাকা পাওনা হয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় পত্র দিলেও এই ব্যাপারে কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোন সাড়া দেয়া হচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সভায় উল্লেখ করা হয়। বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত ৬০টির বেশি চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব চিঠির ব্যাপারে কোন সাড়া দেয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
৪ মাস ২৬ দিন আগে