কোম্পানিগুলোর হাতে ৫১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, অলস ও অনিষ্পন্ন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গ্রাহকদের ৪ হাজার ৪০৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বৈধ বীমা দাবি। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, প্রগতি লাইফ, পপুলার লাইফ, মেঘনা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, এনআরবি লাইফ, রুপালী লাইফ, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ, হোমল্যন্ড লাইফ, ডেল্টা লাইফ, সান লাইফসহ প্রায় সবকটি বীমা কোম্পানি। এমনকি জীবন বীমা করপোরেশন, আমেরিকান লাইফ ও মেটলাইফ বাংলাদেশের মতো বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকের বীমা দাবি ঝুলিয়ে রেখে নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে। করছে চরম অনিয়ম। এতে তৈরি হচ্ছে অর্থ সংকট। যার দায় বইতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
দেশের বীমা (লাইফ ইন্স্যুরেন্স) খাতে চলছে চরম অরাজকতা। বছরের পর বছর প্রিমিয়ামের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠছে বীমা কোম্পানিগুলো। আর ঢাকা পড়ে আছে এ খাতের প্রায় ১২ লাখ ভুক্তভোগী পরিবারের কান্না।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে চূড়ান্ত আর্থিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলোর হাতে ৫১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, অলস ও অনিষ্পন্ন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গ্রাহকদের ৪ হাজার ৪০৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বৈধ বীমা দাবি।
এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, প্রগতি লাইফ, পপুলার লাইফ, মেঘনা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, এনআরবি লাইফ, রুপালী লাইফ, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ, হোমল্যন্ড লাইফ, ডেল্টা লাইফ, সান লাইফসহ প্রায় সবকটি বীমা কোম্পানি।
এমনকি জীবন বীমা করপোরেশন, আমেরিকান লাইফ ও মেটলাইফ বাংলাদেশের মতো বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকের বীমা দাবি ঝুলিয়ে রেখে নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে। করছে চরম অনিয়ম। এতে তৈরি হচ্ছে অর্থ সংকট। যার দায় বইতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকার অঙ্কে বীমা দাবি নিষ্পত্তির গড় হার মাত্র ৬৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ হলেও পলিসির সংখ্যার দিক থেকে তা ৫৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ গ্রাহকই মেয়াদ শেষে বা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পরও তাদের প্রাপ্য টাকা সময়মতো পাচ্ছেন না।
নিয়মের তোয়াক্কা না করে কোম্পানিগুলোর সীমাহীন ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় এ সংকটের মূল কারণ। এমনটাই উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনডিপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) অনুমোদিত সীমার বাইরে শতকোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করায় খালি হয়েছে সাধারণ গ্রাহকের আমানত বা ‘লাইফ ফান্ড’। ফলে সম্পদ দৃশ্যমান হলেও মেয়াদপূর্তিতে গ্রাহককে দেওয়ার মতো নগদ অর্থের তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে এই খাত, যা ধসিয়ে দিচ্ছে পুরো বীমা ব্যবস্থার ওপর জনমানুষের আস্থার ভিত।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা করপোরেশনই অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে সর্বোচ্চ ২৪৬ কোটি ৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো গ্রাহকদের বীমা দাবির প্রাপ্য টাকা ফেরত দিতে পারছে না।
এভাবে প্রায় সবগুলো বীমা প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। কোন কোন বীমা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের প্রিমিয়ামের টাকা গোপনে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এরমধ্যে দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম নিয়ন্ত্রিত বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সবার শীর্ষে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন বলেছেন, অনেক বীমা কোম্পানির আর্থিক বিবরণী দেখলে দেখা যায় স্থায়ী সম্পদ, বহুতল ভবন এবং বিনিয়োগের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলো, সাধারণ গ্রাহকের পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাদের বীমা দাবি পরিশোধের হার সেই অনুপাতে বাড়ছে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা স্থবির বা নিম্নমুখী।
এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর হস্তক্ষেপের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আইডিআরএ’র উচিত কোম্পানিগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের পাশাপাশি কত শতাংশ বীমা দাবি সফলভাবে এবং সময়মতো পরিশোধ করছে, তার ভিত্তিতে রেটিং বা লাইসেন্স নবায়ন করা। যে কোম্পানিগুলো সম্পদ বাড়াচ্ছে, কিন্তু দাবি পরিশোধে গড়িমসি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ’র মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেছেন, ‘বীমা খাতে আস্থার সংকট কাটাতে আইডিআরএ মনিটরিং ব্যবস্থা আগের চেয়ে জোরদার করেছে। যেসব কোম্পানির ক্লেইম সেটেলমেন্ট রেশিও (সিএসআর) সন্তোষজনক নয়, তাদের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের জমানো টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।