চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে দীর্ঘ বছর ধরে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক সমিতির সদস্যদের মধ্যে দুই দফা হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় চমেক জরুরি বিভাগের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ দুইপক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে দুই পক্ষই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর মধ্যরাতে বিবদমান এনসিপি ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেছে। এর আগে দুপুরের দিকে প্রথম দফায় হাতাহাতি হয়। এতে এনসিপির দু‘জন আহত হয়। আহতরা হলেন— শাহাদাত হোসেন ও এম এ আলী।
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, ১০ বছর ধরে চমেক হাসপাতাল কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই সিন্ডিকেট মৃত মানুষ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জিম্মি করে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে। এক বছর আগে একটি ভাড়া নির্ধারণী বৈঠক হয়েছিল। এরপর এক মাস ঠিক ছিল। পরবর্তী সময়ে আবারও ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় শুরু করে।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয় কমিটির সদস্য রিদুয়ান হৃদয় জানান, দুপুরে নোয়াখালীগামী এক রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্সে পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স শ্রমিক ও মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। তখন থেকে ঘটনার সূত্রপাত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন এই এনসিপি নেতা।
এদিকে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ বলছেন, ভাড়া যদি বেশি নিয়ে থাকে, তবে সেই অভিযোগ নিয়ে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে আসা উচিত ছিল। সে কেন ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চায়? ৫ আগস্ট কারো বাপের না। ৫ আগস্টের দোহাই এখন আর খাটে না।
সমিতির দাবি, এনসিপির কোনো এক নেতার অ্যাম্বুলেন্সকে এই সমিতির অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টার কারণে এই বিরোধের সূত্রপাত।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপি নেতা রিদুয়ান। তিনি বলেন, এনসিপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অ্যাম্বুলেন্স অন্তর্ভুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ দিতে পারবে না। এটা মিথ্যা অভিযোগ।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি থাকায় উত্তেজনা ছিল। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।