দুর্নীতির লাগাম টানতে দুই দশক আগে গঠিত হয়েছিল স্বায়ত্তশাসিত দূর্নীতি দমন কমিশন-দূদক। সেই থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পেলে অভিযোগ নিচ্ছে সংস্থাটি। প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণসহ দেওয়া হয় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র। অভিযোগের সত্যতা পেলে করা হচ্ছে মামলাও। এমন আটঘাট বেঁধেই শুরু হয় বিচার। কিন্তু দিন শেষে টিকছে না অর্ধেক মামলা। নির্দোষ প্রমাণে খালাস পাচ্ছেন আসামিরা। না হয় দায় মুক্তি। কালের গর্ভে এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। গত ৫ বছরে নিষ্পত্তি হওয়া এমন মামলাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে ফুটে উঠেছে এ চিত্র। এখন প্রশ্ন— অনিয়মের অভিযোগগুলোই কি মিথ্যা ছিল? আবার মিথ্যা হলে দফায় দাফায় তদন্তে প্রমাণ মিলল কীভাবে? এর উত্তর দুদকের প্রসিকিউটরদের মুখে। তাদের একজন প্রশ্নের শুরুতেই বললেন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রসিকিউটর বলেন, বেশির ভাগ মামলা রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে গতি হারাচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে। একই কারণে অনেক ক্ষেত্রে মামলা হওয়ার আগেই দুদক থেকে পাচ্ছে দায় মুক্তি। এসবের পেছনে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রভাব। এছাড়া পদ্ধতিগত কারণেও অনেক সময় মামলার বিচারে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বিচারের সদিচ্ছার অভাব থাকে। পক্ষান্তরে সরকার দলীয় না হওয়ায় অনেক মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রসিকিউটর আরও বলেন, দুদকের প্রসিকিউটর নিয়োগেও মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রধান্য পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে মামলার প্রতি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য বেশি কাজ করে। এছাড়া সরকার বদলের সঙ্গে মামলার গতিও বদলে যায়। আবার প্রক্রিয়াগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণেও মামলায় সাজা না হওয়ার ঘটনা ঘটছে। দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পেয়ে মামলা করে। কিন্তু ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণে সাক্ষী একমাত্র মানদণ্ড। যদি সাক্ষী ঠিকভাবে উপস্থাপন করা না হয়, সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। দুর্নীতির অনেক মামলা নিষ্পত্তি থেকে ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। এত দীর্ঘ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যায়। কেউ চাকরি থেকে অবসরে চলে যান। আবার কোনো বিচার চলাকালে মারা যান অথবা মামলার বিষয়বস্তু ভুলে যান। সেক্ষেত্রে যথাযথ সাক্ষী বা ডকুমেন্টস উপস্থাপন করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের দুর্বলতায় আসামিরা পার পেয়ে যান। তবে দায়িত্বরত প্রসিকিউটররা মামলার অভিযোগ প্রমাণে কোনো গাফিলতি রাখেন না।দুদকের প্রসিকিউশনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান বা মামলার পর তদন্তে তাদের কোনো গাফিলতি থাকে না। তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত করে থাকেন। সেক্ষেত্রে মামলার সাজা বা খালাসের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, বিচারে আমাদের কোনো ত্রুটি থাকে না। অনেক মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর পর এসব মামলার কার্যক্রম ফের চালু হলে অনেক ডকুমেন্টস পাওয়া যায় না। যার কাছে ডকুমেন্টস জিম্মা ছিল, তার হদিস মেলে না। মূলত ডকুমেন্টসের অভাবে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে ও কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে বিচারের পর্যায়ে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। সাক্ষীকে জেরা করলে তখন সত্য বিষয়টি উঠে আসে। মামলায় যারা দোষী না, তাদের আসামি করা হয়। অথচ যারা প্রকৃত দোষী, তারা বাইরে থেকে যান। যে কারণে বিচার শেষে আসামিরা খালাস পেয়ে যান।সাজার হার নিম্নমুখীসূত্র জানায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫৫ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫টি মামলা। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়েই বাতিল হয়েছে ১৩৫টি। আর রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া ৫৪৮ মামলার সব বিবাদী খালাস। আর ৭৯২টিতে সাজা হয়েছে আসামিদের। ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি ৬১ শতাংশ সাজার হার ছিল। ২০২৩ সালে এই সাজা কমে ৫৭ শতাংশ হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে সবচেয়ে কম ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সাল ও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সাজার হার ৫০ শতাংশে নেমেছে। সাজার হার কমার সঙ্গে মামলার নিষ্পত্তির হারও নিম্নমুখী। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৩৪৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে ৩৪১টি এবং ২০২৪ সালে ২৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। তবে ২০২৫ সালে বিচার শেষ হয়েছে সবচেয়ে কম ২৬৭ মামলার।কমিশনের মামলার পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত চলমান রয়েছে দুর্নীতির ২৭৯৩টি মামলা। তবে ২৯২টির কার্যক্রম স্থগিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২২৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়ে শেষ হয়েছে ১০টি। সাজার রায়ে নিষ্পত্তি ১১৪ এবং খালাস ১০২টিতে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে।অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬৭টি মামলায় নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪টি মামলায় সাজা এবং ১১৮টি মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে ১৪টি মামলা চার্জশিটেই বাতিল হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। একইভাবে ২০২২ সালে ৬১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৫৭ ও ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছে বিবাদীদের।কেস স্টাডিতে যে বার্তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর খালাস পান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ১৭ বছর পর জানা যায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।অবৈধ সম্পদ অর্জনে অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে খালাস দেন আদালত। ১০ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়। আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৫ মার্চ খালাস পান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। ১৮ বছর পর তার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২২ জুন খালাস পান বিএনপির সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ১৮ বছর পর রায়ে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৩ জুলাই খালাস পান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ১১ বছর পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৯ সালে করা মামলায় গত বছরের ৫ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে খালাস দেন আদালত। ১৬ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান।আবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১০টি মামলা হয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে এসব মামলায় শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কয়েকটি মামলায় তাকে অভিযুক্তও করা হয়। তবে কোনো মামলায় তার বিচার হয়নি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এতে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এসব মামলায় দায়মুক্ত হন শেখ হাসিনা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির মামলা হচ্ছে।২০০৭ সালের ১৩ জুন সূত্রাপুর থানায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এতে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে ২৯ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত দুই ধারায় তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে তাকে জরিমানাও করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মায়া। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আবার দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে।চারটি কারণে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, মামলা করার মতো জ্ঞানের অভাব, তদন্তে পারদর্শিতার ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও হয়রানিমূলক মামলা হওয়ার কারণে খালাস পেয়ে যান আসামিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজ্ঞদের অভিমতআদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং কর ফাঁকি ও দুর্নীতির বহু মামলায় অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে দুদক। এসব মামলার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দুদকে যারা প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্ত করেন, এসব ব্যাপারে তাদের আইনি জ্ঞান খুবই অল্প। তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। কিন্তু আইনজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, দুদকের তদন্তে কোন ফাঁফোকর নেই। সংস্থাটি আঁটঘাট বেধেই মামলা দায়ের করে। বরং উল্টো দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ না হলে দেশে কোনভাবেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতিরদুর্নীতিবাজ যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান।সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। গুরুতর ও বৃহৎ দুর্নীতির বিষয়ে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও তিনি বলেন।দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রথম লংমার্চ ঘিরে পথে পথে ছিল নেতাকর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি। রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত কর্মসূচির বিভিন্ন জনসভা ও পথসভা থেকে সরকারকে একের পর এক সতর্কবার্তা দিয়েছেন জোটের নেতারা।তাদের ভাষ্য, ঘোষিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তা এক দফায় রূপ নেবে—আর সেই এক দফা হবে সরকারের পদত্যাগ।শনিবার (সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাপলা চত্বরের সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আয়োজিত পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে জোটের নেতাদের স্বাগত জানান সমর্থকরা।এই লংমার্চে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফেনীর মহীপালের পথসভায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তোলেন।জামায়াত আমির বলেন, তারা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ শুরু করলে ১৫ বছর অপেক্ষা করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেশের ধ্বংস সাধন করবেন, সর্বপর্যায়ে আপনারা বেপরোয়া-নির্লজ্জ-বেহায়াপনা করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে?’তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে, যেখানেই জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে, সেখানেই গর্জন করা, সেখানেই বাধা দেওয়া, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আপনারা জনগণের অধিকার নিয়ে টান দিলে বিরোধী দল কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করবে।’জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দেন, আমরা দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামি নাই। দেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।’তিনি জুলাই গণহত্যা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, গত ছয় মাসে বড় বড় গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি এবং অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া কয়েকটি বিচারও বন্ধ হয়ে গেছে।গণভোট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সবাই দুটি ভোট দিয়েছি। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট; অন্যটি বাংলাদেশকে সংস্কার এবং মেরামত করার গণভোট। সরকারি দল এবং আমরা উভয়ে বলেছি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে আমরা তা মেনে নেব এবং তা বাস্তবায়ন করব। সরকার এখন গণভোটের রায় না মেনে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। জনগণের এ দাবি মেনে নেওয়া জনগণের প্রতি কোন অনুগ্রহ নয়, এটি ওয়াদার বাস্তবায়ন।’মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এখন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের পকেটে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের আয় বাড়েনি, বরং দায় ও ব্যয় বেড়েছে। মানুষের টাকা কোথায় যায়? চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিবাজদের পকেটে যায়। এসব পকেট বন্ধ করতে হবে।’এর আগে ঢাকার উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও জামায়াত আমিরের মতো একই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সরকার লংমার্চে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।ফেনীর পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ছয় দফা দাবি না মানলে বর্তমান সরকারকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে সংসদে বসে দেশ পরিচালনা করলে জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না। আমরা দেশের মানুষের সঙ্গে আছি।অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায়কে বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।কুমিল্লার পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকারকে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছয় দফা এক দফায় রূপ নেবে এবং সেই এক দফা হবে সরকারের পদত্যাগ।’জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।জোটের নেতারা চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ জনজীবনের বিভিন্ন সংকটের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকেও দায়ী করছেন। এসব সংকটের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়াত ও সমমনা দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে জোটের আমির শফিকুর রহমান ঢাকার সঙ্গে রংপুর, খুলনা ও সিলেটের লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।এদিকে শনিবারের লংমার্চের গাড়িবহর ও বিভিন্ন স্থানে পথসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি এলাকায় যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। জোটের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, সাধারণ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে লংমার্চের বহর চলবে।সব মিলিয়ে প্রথম লংমার্চে পথে পথে নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি এবং জোটের নেতাদের ‘ছয় দফা থেকে এক দফা’ যাওয়ার হুঁশিয়ারি রাজপথের আন্দোলনে নতুন বার্তা দিয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে চাপের মুখে ফেলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির দিকেও এগোচ্ছে বিরোধী এই জোট।
১৩ দিন আগে
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে মূলমন্ত্র বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভীকতা এবং নিরপেক্ষতা- বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তা আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে।সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা সাংবাদিকতার জগতের সেই ক্ষতটিকে আবারও উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে মনের গভীরে তীব্র দহন তৈরি করছিল। শরীয়তপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির প্রতিনিধি এ বি এম ইসরাফিল, নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর সাথে ঘটে যাওয়া হামলা, ধারাবাহিক হেনস্তা ও আইনি হয়রানি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আসলে বর্তমান বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এক নির্মম ও বাস্তব প্রতিচ্ছবি।সাংবাদিক নেতারা যখন সরাসরি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবধারিতভাবেই সংকট তৈরি হয়। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং স্বয়ং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে মাঠপর্যায়ের সৎ সাংবাদিকরা আজ সম্পূর্ণ অসহায় ও অভিভাবকহীন।এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তাদের রোষানল, প্রকাশ্য হুমকি কিংবা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শরীয়তপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যদি পুরো দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে ত্রিমুখী চাপ রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসনের কারণেই সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।রক্ষক যখন ভক্ষকশরীয়তপুরের ঘটনার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ক্ষমতার তিনটি স্তর- স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক নেতৃত্ব একযোগে সাধারণ ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ও তিনটি দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রেসক্লাবের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এই জায়গাটির উন্নয়ন করেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ পার্ক সম্প্রসারণের নামে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের দিনের আলো এড়িয়ে রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান প্রথম ধাক্কাটি দেয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময় ও ক্ষোভের জায়গাটি তৈরি হয় তখন, যখন জেলা প্রশাসক দাবি করেন যে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে খোদ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতে।এখানেই মফস্বল সাংবাদিকতার আসল ট্র্যাজেডি স্পষ্ট । প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন একই সাথে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। একজন সাংবাদিক নেতার যখন এমন দ্বৈত ও সাংঘর্ষিক পরিচয় থাকে, তখন তিনি আর সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার অভিভাবক থাকেন না, বরং নিজের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে, প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদকে মেনে নেওয়া হয়, যা সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।মব-জাস্টিস ও প্রকাশ্য ফ্যাসিবাদের দোসর ট্যাগিংএমন প্রশাসনিক অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন এবং প্রতিবাদী পোস্ট দেন, তখন ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা জুড়ে দিয়ে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। প্রেসক্লাব চত্বরেই সেই ক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ ও তার দলবল ইসরাফিলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, নিজেদের প্রাণের প্রেসক্লাব উচ্ছেদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে হামলার শিকার হন সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা।এই হামলার মূল অভিযুক্ত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা যখন প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’ তখন তা আর কোনো সাধারণ অপরাধীর হুমকি থাকে না। এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে রাজনৈতিক ক্ষমতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন এ দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ দেখছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের এই ক্যাডারভিত্তিক মব-জাস্টিস এবং গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি আরেকটি উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থান ঘটে, তাহলে রাষ্ট্রের মৌলিক গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই দাঁড়াতে পারবে না। বিগত আওয়ামী আমলেও দেখা গেছে, প্রত্যন্ত উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতা-নেত্রীরা সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলীয় পদধারী এই নেতারা ভিন্নমতের সাংবাদিকদের যেমন কোণঠাসা করেছেন, একই সঙ্গে যখন ভিন্নমতের সাংবাদিকরা হামলা কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন তখন তারা প্রতিবাদ না জানিয়ে বরং জুলুমে সঙ্গত দিয়ে গেছেন।হামলা, পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানিশরীয়তপুরে সাংবাদিকতায় নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হয় কাউন্টার ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি মামলা বা পাল্টা মামলার সংস্কৃতি। সাংবাদিক ইসরাফিল ও আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা যখন থানায় অভিযোগ করতে যান, তখন পুলিশ তা নিতে গড়িমসি করে। অপরদিকে সাংবাদিকদের দমনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটভিত্তিক কৌশল। যখনই কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অপরাধ বা দাপটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আইনি পদক্ষেপ নেন, তখনই তাদের কণ্ঠ রোধ করতে পাল্টা চাঁদাবাজি বা মানহানির মামলা দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সাংবাদিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আপস বা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা হয়, তখন সাধারণ সাংবাদিকরা মার খায়।’ এমন একটি বাক্য বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূঢ় সত্য। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক নেতৃত্ব থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে অবস্থান করে। তখন পেশাগত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপকে নির্দেশ করে। স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত হলো যেকোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা দলীয় এজেন্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কিন্তু বাংলাদেশে জেলা-উপজেলার প্রেসক্লাবগুলো বহুদিন ধরেই সাংবাদিকতার চেয়ে স্থানীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদগুলো পেতে এখন মেধা বা পেশাদারির চেয়ে রাজনৈতিক লবিং ও দলীয় পরিচয় বরাবরই বেশি গুরুত্ব পায়।যখন একজন সাংবাদিক নেতা একই সাথে বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হন, তখন তার প্রথম আনুগত্য থাকে দলের প্রতি, সাংবাদিকতার প্রতি নয়। ফলে দলের কোনো নেতা-কর্মী যখন সাধারণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তখন এই নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রশাসন বা পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে উল্টো আক্রান্ত সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। শরীয়তপুরেও আমরা দেখছি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিনও আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেননি। এই দলীয় লেজুড়বৃত্তি মফস্বলের সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের ভেতর থেকে একা ও নিঃসঙ্গ করে দিচ্ছে।প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের উদাসীনতা এবং কর্পোরেট অবহেলাকোনো সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ হওয়ার পরে অনেক ক্ষেত্রেই বলতে শোনা যায় আমরা আমাদের কর্মস্থল থেকে কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। এটি বাংলাদেশের মিডিয়া হাউসগুলোর এক অন্ধকার দিক। ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যেসব গণমাধ্যম মালিক ও নীতি-নির্ধারকরা বড় বড় বুলি আওড়ান, মফস্বলের প্রতিনিধিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান প্রায় শূন্য। মফস্বলের একজন সাংবাদিককে প্রতিদিন অত্যন্ত সীমিত বেতনে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে, কেবল লাইনেজ বা সংবাদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া অংকের বিনিময়ে কাজ করতে হয়। তারা যখন স্থানীয় ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ আমলা বা রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন, তখন মিডিয়া হাউসগুলো সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাঠক, টিআরপি বা ভিউ বাড়ায়। কিন্তু সেই প্রতিবেদনের কারণে যখন ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে অবরুদ্ধ ও আক্রান্ত হন, তখন কেন্দ্রীয় অফিস অনেক সময়ই দূরত্বের অজুহাতে বা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয়।শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিক তো আক্ষেপ করে বলেছেন, এই বিপদে নিজের প্রতিষ্ঠানকেই পাশে পাননি তিনি। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা মফস্বল সাংবাদিকদের মানসিকভাবে আরো বেশি পঙ্গু করে দেয়। যখন একজন সাংবাদিক দেখেন যে আক্রান্ত হওয়ার পর তার নিজের প্রতিষ্ঠান, তার নিজের প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় প্রশাসন কেউ তার পাশে নেই, তখন তার পক্ষে ক্ষমতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ধরন একইশরীয়তপুরের এই ঘটনাটি যদি আমরা সমগ্র বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মানচিত্রে স্থাপন করি, তাহলে দেখব যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নির্যাতনের একটি সাধারণ প্যাটার্ন, ধরন বা ছক রয়েছে। এই ছকের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে প্রথমে তথ্য পাওয়ার অধিকারের টুঁটি চেপে ধরা। অর্থাৎ সরকারি বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়মের তথ্য চাইতে গেলে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা বর্তমানের সাইবার নিরাপত্তা আইন বা সরকারি গোপনীয়তা আইনের ভয় দেখানো হয়। নোটিশ ছাড়া প্রেসক্লাবের দেয়াল ভাঙা যেমন প্রশাসনিক স্বৈরাচার, ঠিক তেমনি সরকারি প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়াও একই সংস্কৃতির অংশ।দ্বিতীয়ত, বিশেষ করে মফস্বলে পুলিশ প্রশাসন সাধারণত স্থানীয় ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ইশারায় চলে। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দিলেও ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে অজুহাত দেখায়। অথচ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি মিথ্যা মামলা দিলে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তা গ্রহণ করে।প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এখন রাজনৈতিক দলের মতো প্রেসক্লাবগুলোও আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী- এমন সব ধারায় বিভক্ত। এই বিভক্তির কারণে এক পক্ষের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ খুশি হয় বা চুপ থাকে। সাংবাদিকদের এই নিজেদের ভেতরের ঐক্যহীনতাকেই পুঁজি করে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।সাংবাদিকতায় যে সংস্কার অপরিহার্যঅন্ধকূপ থেকে সাংবাদিকতাকে টেনে তুলতে হলে এবং সাংবাদিকদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কিছু মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন বাধ্যতামূলক। যেমন প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকদের যেকোনো ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে যেকোনো ব্যক্তি যদি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেন বা কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী হন, তবে তিনি কোনোভাবেই সাংবাদিক সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচন বা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। সাংবাদিকতা এবং সক্রিয় দলীয় রাজনীতি কখনো একসাথে চলতে পারে না।ঢাকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে তাদের মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল গঠন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি পেশাগত কারণে আক্রান্ত বা মামলার শিকার হলে, কেন্দ্রীয় আইনি দল দিয়ে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা সরাসরি জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা হয়রানিমূলক মামলা হলে এই কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা দিতে যেসব হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা বা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়, সেগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল থাকা উচিত। তদন্ত ছাড়া কোনো সাংবাদিককে এসব মামলায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা যাবে না- এমন আইনি বিধিমালা তৈরি করতে হবে।শরীয়তপুরের মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ্, বিধান মজুমদার, এ বি এম ইসরাফিল কিংবা জাহিদ হাসান রনিরা যে লড়াইটা লড়ছেন, তা কেবল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই নয়, তা মূলত বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক শেষচেষ্টা। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং কর্মস্থলের সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে সাংবাদিকরা আজ যেভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন, তা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ না হলে এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের কর্মীদের পক্ষে ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে সর্বস্তরেই একদিন বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ডেস্কে বসে সাজানো সংবাদের চেয়ে মাঠের সত্য উন্মোচন করায় যে সাংবাদিকরা নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, তাদের এই একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং স্বয়ং সাংবাদিক সমাজকেই নিতে হবে। ক্ষমতার কাছে সাংবাদিকদের এই অসহায় আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি যদি আজ ভাঙা না যায়, তাহলে আগামী দিনে কোনো অন্যায়, অত্যাচার বা দুর্নীতির কথা আর কখনো মূলধারার গণমাধ্যমে উঠে আসবে না।লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক এদিন
১৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মোহাম্মদ করিম খুনের একদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমনকি কারা কীভাবে খুন করেছে এ বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা পায়নি পুলিশ। নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তারও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।অথচ বাজারে সবার সামনে খুন হয়েছেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম। কিন্তু কেউ কোন কথা বলছে না। সবার মধ্যে আতঙ্ক। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন নিজেই বলছেন, এ ঘটনায় কেউ আমাদের কোনো তথ্য দিচ্ছে না। সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত করে ৩-৪টা নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে পারলে খুনের মোটিভসহ সবকিছু পরিস্কার হবে। নিহত মোহাম্মদ করিম (৩৭) রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার রাতে করিমের বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে কেরানীহাট বাজারে তাকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে নিহত করিমের স্ত্রী মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ওসি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে করিমের শরীরে তিনটি গুলি লাগার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পেট, উরু ও নিতম্বে। একটি গুলি কোমরের পাশ দিয়ে ঢুকে পেট দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলি ছাড়াও মাথা-ঘাড়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করিম যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে পদ-পদবি ছিল না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশে ফেরেন। এরপর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দুই বছরে বেশকিছু অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। অন্তত ১০ মামলার আসামি। গত দুই মাস ধরে এলাকায় ছিলেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকায় ফিরেই খুনের শিকার হন মোহাম্মদ করিম।
১৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে দু‘গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সীতাকুন্ড পৌরসভা গেট এলাকায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও যুবদল নেতা কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে একটি ওষুধ কো¤পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের জন্য পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা সীতাকুন্ড পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে এবং কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হন। দুই নেতার অনুসারীরা মিছিল নিয়ে যাবার পথে পৌরসদরে মুখোমুখি হলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।তাদের হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াও বাঁশ, লাঠি, লোহার রড ছিল। পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের সামনে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপক্ষ আরেকপক্ষের ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়। তবে পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধাওয়া দিয়ে দুইপক্ষকে তাদের নিজ নিজ কর্মসূচিস্থলে সরিয়ে দেয় পুলিশ।সংঘর্ষের জেরে সীতাকুন্ডে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাহউদ্দিন এবং পৌরসদরে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শত, শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে আছে। বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুন্ড থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আহত হওয়ার মতো সংঘর্ষ হয়নি। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এখন উভয়পক্ষ আলাদা-আলাদা স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছে। রাস্তায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মতো ব্যারিকেড ছিল। অস্ত্রের¿ মহড়ার মতো তেমন কিছু আমাদের চোখে পড়েনি।সীতাকুন্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমরা দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দিয়েছি। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজর রয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশের একটি টিম বাঁশবাড়িয়া মহাসড়কে ব্যারিকেড সরানোর কাজ করছে।উল্লেখ্য, আসলাম চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও কাজী সালাহ উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে সালাহ উদ্দিনকে প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরে সেটা পাল্টে আসলাম চৌধুরীকে দেওয়া হয়। তিনি নির্বাচনে জিতলেও খেলাপি ঋণ জটিলতায় উচ্চ আদালত থেকে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।# ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম। ০১ সেপ্টেম্বর’২০২৬ ইং, ০১৭৯৩২০০০২৪
১৭ দিন আগে
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজানের বাসিন্দা ও প্রবাসী আমির হোসেন (৫৭) মামলাটি করেন। মামলায় আরমান উদ্দিনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহারে বলা হয়, আমির হোসেন লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় দোকান এবং অন্যান্য অংশে ভাড়াটিয়া রেখেছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরার পর কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামিরা তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।বাদীর অভিযোগ, আসামিরা তাকে বলেন, এলাকায় বসবাস করতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। টাকা না দিলে তার মার্কেট ও ভবন দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আসামিরা আমির হোসেনের মার্কেটের নিচতলায় ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেস, আলমারির সিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।মামলায় এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানের ক্যাশ টেবিলসহ ভেতরে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে দোকানের ভাঙা অংশে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদেরও আসামিদের মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় আরিফ উদ্দীন বলেন, ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তারা বাদীর দোকান ও ঘরের দখল ছাড়বেন না।আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে আমির হোসেনকে তাদের কথামতো চলার জন্য চাপ দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরেক আসামি চাঁদা না দিলে আমির হোসেনকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে আসামিরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।আমির হোসেনের দাবি, তিনি লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করলেও মামলা নেওয়া হয়নি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলায় আরমান উদ্দিন ছাড়াও মো. আরিফ উদ্দীন (৩৭), শওকত আলী (৪২), মো. আদিল (৩২), মো. আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩) কে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩৮৪, ৩৮৫, ৩৮০ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এটি আরমান উদ্দিনকে ঘিরে ওঠা প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়, বালু উত্তোলন নিয়ে বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নামে খাল খননের ডিও লেটার এবং প্রশাসন-পুলিশের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার কথোপকথন ফাঁসসহ নানা ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়ের অভিযোগও ওঠে আরমানের বিরুদ্ধে। খোরশেদের অভিযোগ ছিল, তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে মামলা থেকে রেহাই ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের কথা বলে ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা ও চেক দেওয়ার পরও তাকে তুলে নিয়ে মারধর করে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।খোরশেদের আরও অভিযোগ ছিল, তাকে মারধর করে চট্টগ্রাম নগরের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরমান উদ্দিনের সঙ্গে তার দেখা হয় এবং আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরমান উদ্দিন দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
২৫ দিন আগে
২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হয়।নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৪৯, ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ও কর্নেল (অব.) অলি পেয়েছেন ৮৮ ভোট।এর আগে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও।নির্বাচনি কর্মকর্তা ও সিইসি নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করা হবে।বাংলাদেশ সচিবালয় ও সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতির হাতে যত ক্ষমতাবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরকার প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না বা দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।দণ্ড মওকুফের ক্ষমতারাষ্ট্রপতির অন্যতম ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করার ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে এ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা বা কমাতে পারেন।দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে।অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে তার পদ শূন্য হয়।রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।কীভাবে নির্বাচিত হনবাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং অন্য একজন তা সমর্থন করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পাবেন যেসব সুযোগ-সুবিধারাষ্ট্রপতির আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট-এ। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য কিছু সরকারি সুবিধা বহাল থাকে। রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে এবং এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। ভবনটির সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধা দেওয়া হয়। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় সরকার নির্ধারিত হারে ভাতাও তিনি পান।রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন তহবিল বছরে ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যয় করা যায়। রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের বিমাসুবিধা রয়েছে, যার বর্তমান অর্থ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এই সুবিধার পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।
২৯ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১ মাস আগে
নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ে ক্রমেই অচ্যুত হয়ে উঠছেন ড বিসর্গ হাছান মাহমুদ, ডাক পাচ্ছেন না দলীয় অনুষ্ঠানেও। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানেও দলের আমন্ত্রণ পায়নি চিকন চতুর সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাধারণ প্রবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাঁকে অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পের কক্সপ্লেইনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল হক। প্রধান বক্তা সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী রতন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের নেতা খোকন শরীফ, হুমায়ুন মাকসুদ হিমু ও মোশারফ হোসেন বাবু। বেলজিয়ামে অবস্থান করলেও এই অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দলটির ইউরোপে অবস্থানকারী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ হাছান মাহমুদের ওপর বিরক্ত। তাঁদের ভাষায়, দলের কেউ তাকে পছন্দ করছেন না। সবাই তার ওপর বিরক্ত। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সমালোচিত নেতাদের একজন হিসেবে দলীয় কর্মীদের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।গত ১৬ জুলাই বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সহ-আয়োজনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, মানবাধিকার এবং ভূ-রাজনীতি: প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এই আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বেলজিয়ামে থাকা হাছান মাহমুদকে।এ নিয়ে বসে নেই সাইলেন্ট কীলার হাছান মাহমুদও। বেলজিয়ামভিত্তিক একটি সূত্র জানান, অতিথি হিসেবে তাকে রাখা হচ্ছে না— এমন ইঙ্গিত পেয়ে একপর্যায়ে অনুষ্ঠানটিই বানচাল করার চেষ্টা চালান গোপনে।তবে হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ট এক ব্যক্তির দাবি, বেলজিয়াম ছাড়াও যুক্তরাজ্যে যাতায়াত থাকলেও দুই দেশের আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও হাছান মাহমুদ খুব একটা যান না বলে। রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কায় তিনি এসব অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন। লন্ডনে ছেলের সঙ্গে থাকলেও সেখানে অনেকটা আড়ালে থাকছেন তিনি।হাছান মাহমুদের ছেলে সাফওয়ান মাহমুদ লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ আমলে নাফিসা গ্রিন টিভি নামের একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে আবির্ভূত হন। আরেক মেয়ে সাকিলা জুমাইদা মাহমুদ পরিবারের সঙ্গেই আছেন। হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা বর্তমানে বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্য আসা-যাওয়ায় রয়েছেন। বেলজিয়ামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা এক প্রবাসী নেতা বলেন, ব্রাসেলস থেকে হাছান মাহমুদের বাড়ি প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে। তিনি সেখানেই থাকেন। বেলজিয়ামে তাঁর আরও অন্তত চারটি বাড়ি আছে। সম্প্রতি তিনি নতুন করে বেলজিয়ামের পাসপোর্ট নিয়েছেন।লাঞ্ছিত হচ্ছেন ঘাটে ঘাটেগত বছরের ১৯ ডিসেম্বর জার্মানির কোলনের উলিথজক্যাস্টরে আওয়ামী লীগের একটি সভায় উপস্থিত হওয়ার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি দল হাছান মাহমুদের দিকে তেড়ে যায়। তাঁরা আওয়ামী লীগের বর্তমান দুর্দশা ও দুর্নীতির অন্যতম কুশীলব হিসেবে তাঁকে সরাসরি দায়ী করেন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি নীরবে সভাস্থল ছেড়ে যান।ওই সময় বার্লিন থেকে যাওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা হাছান মাহমুদের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলেন, আপনাদের লোভ আর দুর্নীতির কারণেই দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। হুমকির মুখে আছে সবার জীবন। আহত-নিহত নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজখবর আপনি রাখেন নাই। যাকে ইচ্ছা তাকে দলে ঢুকিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির কারণে দল আজ বিপর্যস্ত, দিশেহারা।গত বছরের ৩০ মার্চ ছেলেসহ তাঁকে প্রথম দেখা যায় লন্ডনের গ্যাংসহিল এলাকার আল-কালাম মসজিদের ঈদের জামাতে। এরপর ওই বছরের ২০ এপৃল লন্ডনের ওটু এলাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের ছেলে ডা. সৈয়দ ফাইয়াজ রহমানের বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে অংশ নিতে দেখা যায়।শেখ হাসিনার সাক্ষাতেও অস্বস্তিবেলজিয়ামে থাকলেও হাছান মাহমুদ দু‘বার ভারতে গিয়ে অনেক চেষ্টার পর একবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন হাছান মাহমুদ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় প্রধানের প্রশ্নবাণে ওই সাক্ষাৎ খুব স্বস্তিকর ছিল না।দলীয় একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন হাছান মাহমুদ। তবে ওই আয়োজনে দলের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে রাখা হয়। গণ আন্দোলনের মুখে বেলজিয়ামেগণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাছান মাহমুদ পালিয়ে যান বেলজিয়ামে। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে ঢাকার বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে বলে খবর বের হয়েছিল। এরপর তিনি সেনা হেফাজতে ছিলেন বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় জার্মানি হয়ে তিনি নিরাপদে বেলজিয়ামে পৌঁছান। এরপর থেকে তিনি বেলজিয়ামের লিমবুর্গ প্রদেশের হ্যাসেল্ট সিটিতে নিজের বাড়িতেই আছেন। এর আগে ওই সালের ৪ আগস্ট রাতে হাছান মাহমুদের স্ত্রী ও মেয়েরা বাংলাদেশ বিমানের ইকে-৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। তাঁদের গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। দুবাই, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বেলজিয়ামেও হাছান মাহমুদ বিপুল অংকের টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আওয়ামী লীগ বেচে কুঁড়েঘর থেকে রাজপ্রাসাদে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর হাছান মাহমুদের রাজনৈতিক ভাগ্য বদলাতে শুরু করে। পরে ২০০৯ সালের মহাজোট সরকারের প্রথম ছয় মাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে জলবায়ু তহবিলের বিপুল অংকের টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সর্বশেষ তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।গত বছরের ১৬ জানুয়ারি হাছান মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমা, মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদসহ তাঁদের ছয়টি কোম্পানির নামে থাকা মোট ৮১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। হাছান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাইরে যে ছয়টি কোম্পানির ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়, সেগুলো হলো দ্য বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস লিমিটেড, একাডেমি অব মেরিন এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস, জেএএস লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেড এবং অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সোলারস পাওয়ার লিমিটেড।ওই বছরের ২৩ জুন হাছান মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে তার আগেই তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ওই বছরের ১৬ জুলাই হাছান মাহমুদের মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদের নামে চারটি এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ১২১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ঝুলছে একাধিক মামলাগত ৩০ জুন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাসহ অন্তত ৩০টি মামলা ঝুলছে। এছাড়া দখলবাজি, চাাঁদাবাজি, নির্যাতনসহ অারও ১০টি মামলার আসামি হাছান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদ-এরশাদ মাহমুদ প্রকাশ নব্য এরশাদ শিকদার।
১ মাস ৪ দিন আগে
দেশের রাজনীতির ভেতরে-বাইরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭৭ বছরের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি কখনো ছিলেন শ্রেণিকক্ষে অর্থনীতির পাঠ দেওয়া প্রিয় শিক্ষক, কখনো ছিলেন সচিবালয়ে কর্মরত দক্ষ কর্মকর্তা। আবার কখনো প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সামলেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর।তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে বড় ক্যানভাসটি রচিত হয়েছে পিচঢালা রাজপথে। বহু হামলা-মামলা, আর দফায় দফায় কারাবাসের নির্মম নির্যাতন সয়েও অটল ধৈর্যে যিনি সামলেছেন রাজনীতির কঠিন আন্দোলন ও প্রতিকূল সময়। সবশেষ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবার বসতে যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ বঙ্গভবনে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।দলীয় ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচার বজায় রেখে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পরপরই তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় এখন তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়ার আনুষ্ঠানিকতাটুকুই কেবল বাকি।মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদে আনার এই সিদ্ধান্তকে দলমত-নির্বিশেষে সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের মতে, রাজনীতিবিদ হিসেবে ফখরুলের রুচিবোধ, প্রজ্ঞা, চরম বৈরী পরিবেশেও দলকে আঁকড়ে রাখা এবং সততারই এক সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এই বঙ্গভবনযাত্রা।রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দীর্ঘ দুই যুগ পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ বঙ্গভবনে একজন উপযুক্ত ও ব্যক্তিত্ববান আসীন হতে যাচ্ছেন। বহুবছর পর আমরা পেতে যাচ্ছি এই পদের জন্য সবদিক দিয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে।শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে মির্জা ফখরুলের অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি ব্যক্তিত্ববান, সুশিক্ষিত, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর প্রায় ছয় দশকের পথচলা। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী।মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর রাজনীতির পাঠ শুরু। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নেতৃত্ব দেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রারম্ভিক অধ্যায় ছিল বামপন্থী রাজনীতিকে ঘিরে। পরে তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।রাজনীতির পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের কর্মজীবনও ছিল বৈচিত্র্যময়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।পরবর্তীতে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজেও শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সাধারণ মানুষের রাজনীতির আকর্ষণে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। পরবর্তীতে কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি ও দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব সামলান। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে টানা দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নতুন সরকারে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে অধিষ্ঠিত হন।রাজনীতির ময়দানে মির্জা ফখরুলের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনে বারবার বিপর্যয় ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছিল বিএনপি। সেই চরম দুর্দিনে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালে দেশে মূল কাণ্ডারি হিসেবে রাজপথের আন্দোলন সামলাতে হয়েছে মির্জা ফখরুলকেই।এ আন্দোলন চালাতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। জীবনের নানা সময়ে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিন দফায় গ্রেপ্তার হয়ে জীবনের প্রায় সাড়ে তিন বছর তাঁকে কাটাতে হয়েছে কারাগারে। তবে কোনো গ্রেপ্তার বা নির্যাতন তাঁকে আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।২০১৮ সালে বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ভোট কারচুপির প্রতিবাদে দলের সিদ্ধান্তে শপথ না নিয়ে বিরল রাজনৈতিক নজির স্থাপন করেছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে বিনয়ী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল। তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁদের বড় মেয়ে ড. মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
১ মাস ৬ দিন আগে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে— এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে। আলোচনায় রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মহলের আলোচনা ও সম্ভাব্য রদবদরের গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে। এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়টি খালি হয়েছে। এ কারণেই দুই মন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনা থাকলেও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন। তাই ‘সালাহউদ্দিন এলজিআরডি, এ্যানি স্বরাষ্ট্র’—এই সমীকরণটি আপাতত সম্ভাব্য রদবদরের আলোচনায় থাকলেও এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই দফতর—স্বরাষ্ট্র ও এলজিআরডিতে পরিবর্তনের এই আলোচনা সরকারের পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।দুই নেতার নাম মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের আলোচনায় আসার পেছনে শুধু প্রশাসনিক কারণ নয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমীকরণও বিবেচনায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। দলের জাতীয় কাউন্সিল ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় এর আগে সালাহউদ্দিন আহমদ ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি—দু’জনের নামই গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এসেছে।তবে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পরিবর্তনকে দলের সাংগঠনিক পদ-পদবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনো সরকারি বা দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি এবং এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হলে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি রাজনৈতিক বার্তা যেতে পারে।প্রথমত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে এটি দেখা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব এনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন গতি আনার চেষ্টা হিসেবে বিষয়টি ব্যাখ্যা হতে পারে।তবে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছুই বিবেচনায় আসে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমদকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক সহিংসতা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিয়মিতভাবে তাকে সামনে আসতে হয়েছে।সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যেও আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার সক্রিয় অবস্থান দেখা গেছে। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাকে এলজিআরডিতে দেওয়া হলে সরকারের তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।অন্যদিকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সংসদে সরকারি বিভিন্ন আইন ও নীতিগত বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যেও তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে আনা হলে সেটি হবে তার জন্য বড় ধরনের দায়িত্ব পরিবর্তন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় সামলাতে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমি যেখানে আছি ভালো আছি। এখানে বেশ কয়েকটি বড় কাজ রয়েছে। এগুলো দেশের উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না সেটি আমার জানা নেই।
১ মাস ৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৫১ নং হিলাগাজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক যায়যায়দিনের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জিয়া মঞ্চের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আর নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি হলেন পোমরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি, ইউএনও মো. নাজমুল হোসেন ও সদস্য সচিব, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিপি রাণী গোপ এ কমিটির অনুমোদন দেন। পদাধিকার বলে অনুমোদিত কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মুনিরুজ্জামান চৌধুরী। নবগঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা এসএম আব্দুল কাদের, জমিদাতা আবুল হাসেম চৌধুরী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি রেখা সুলতানা, অভিভাবক সদস্য জাফর আহমদ, সাগর দেবনাথ, ইয়াসমিন আক্তার, পারভীন আক্তার, লাকি আক্তার। দায়িত্ব পেয়েই কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব যখন পেয়েছি তা সঠিকভাবে পালন করা হবে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর ও আধুনিক করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবই পড়ানোর প্রতিষ্ঠান নয়; শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা যাতে নির্বিঘ্নে পাঠদান করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে কমিটির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
১ মাস ৬ দিন আগে
সাকিব আল হাসানের নামে ঝুলছে একাধিক মামলা। তিনি দেশে ফিরে এসব মামলা লড়তে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন রয়টার্সকে। তবে দেশে ফেরার আগে সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তবে আমি আনন্দের সাথেই দেশে ফিরতে, আদালতে মামলার মুখোমুখি হতে এবং যা কিছু করা দরকার তা করতে প্রস্তুত। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের পতন এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলেও ব্রাত্য হয়ে আছেন সাবেক এই এক নম্বর অলরাউন্ডার। কয়েকবার তাকে দেশে এবং দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। সাকিবও বেশ কয়েকবারই দেশে ফিরতে চেয়েছেন, ঘরের মাটিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।দেশে ফেরার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে সাকিব রয়টার্সকে জানান, আমাকে নিশ্চিত করার পর বিমানে উঠেছিলাম, কিন্তু ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কী পরিবর্তন হলো জানি না! মাঝপথে দুবাইয়ে নামার পর আমাকে দেশে ফিরতে বারন করা হয়। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।নিজের নামে থাকা হত্যা মামলার বিষয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে সাকিব বলেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর একটি মামলা। আমি গত ১০ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ করদাতা, সব কর ঠিকমতো পরিশোধ করেছি, অথচ তদন্তের নামে দেড় বছর ধরে আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্তে কিছু না পেলে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত। এদিকে গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণমাধ্যমে সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাকিবও। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনা বা দল থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে সাকিব রয়টার্সকে বলেন, ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনা) যা বলবেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।
১ মাস ১২ দিন আগে
এবার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চট্টগ্রামের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিভিয়ে ফেলেছেন স্থানীয়রা। নওফেলের ভাইয়ের অভিযোগ, তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল।বৃহ¯পতিবার (৬ আগস্ট) দিনগত গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানার চশমাহিল এলাকার মেয়র গলির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছন পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রাত ২টার দিকে ওই বাড়ির সামনে সাতজন তরৃুণ-যুবককে দেখা গেছে। তারা আগুন ধরানোর চেষ্টা করে।পরে বাসার সামনে একটি পাইপলাইনে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এলে তারা চলে যায়। পরে আগত স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানান সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপন। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও সঠিক জানি না। আমরা তদন্ত করে দেখছি।স্থানীয়রা জানান, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট ভারতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে অংশ নেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। একই অনুষ্ঠানে ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।সংবাদ সম্মেলনের পর মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পাশাপাশি আগুন দেওয়া হয়। একই ঘটনার জেরে মহিউদ্দিন পূত্র নওফেলের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয় লোকজনের।তবে নওফেলের ছোট ভাই বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন ফেসবুকে লিখেছেন, বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে আবারও আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সহিংসতা কখনোই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ভাষা হতে পারে না।উল্লেখ্য, চশমাহিলের মেয়র গলির বাড়িটি এখনো প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের মানুষের কাছে। ওই বাড়িতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগপর্যন্ত মহিউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ওই বাড়িতে কয়েকদফা হামলার ঘটনা ঘটে।এরপর থেকে বাড়িটি খালি পড়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বাড়িটিতে কয়েকবার হামলা করা হয়। মহিবুল হাসান চৌদুরী নওফেল চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য।
১ মাস ১২ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিদিন আহতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এ থথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দু‘বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের বহু আহত জুলাই যোদ্ধা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শরীরে বাসা বাঁধা গুলির স্পিøন্টার, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা অঙ্গহানির কারণে প্রতিনিয়ত শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তারা।তিনি বলেন, আন্দোলনে আহত অনেকের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি তদারকি প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন আসা রোগীদের অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাদের উন্নত বা জটিল অস্ত্রোপচার দরকার, তাদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী আহতদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে সরকার। এর মধ্যে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা অতি-গুরুতর এ ক্যাটাগরিতে আছেন ৬ জন। গুরুতর বি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন। কম গুরুতর সি ক্যাটাগরিতে আছেন ৫০৫ জন।দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনে গঠিত এই বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন আহতকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন। বোর্ডে চিকিৎসাধীনদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নির্দেশনা, ওষুধ দেওয়া ছাড়াও অর্থোপেডিক প্লেট অপসারণ এবং জটিল চোখের রোগীদের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। সেই বিবেচনায় বিএনপির উচিত হবে এমন লোককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা, যিনি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য এবং আনুগত্যশীল ও প্রাজ্ঞ। এমন ব্যক্তিকে বাছাই করতে হবে, যিনি জিয়া পরিবারের প্রতি তো বটেই, দলের প্রতি অবশ্যই আনুগত্যশীল থাকতে হবে। এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই বাছাই করতে হবে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এই ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম সমাধিস্থলকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে আধুনিকায়ন করা হবে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলাস্থ জিয়ানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে নেতাকর্মী এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে পু®পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি একথা বলেন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে সমাধিস্থলটি সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা হবে। এতে নতুন প্রজন্ম শহীদ জিয়া ও দেশের ইতিহাস স¤পর্কে জানার সুযোগ পাবে।১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে নির্মম হত্যাকান্ডের পর প্রথমে জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গুনিয়ার এই স্থানে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে স্থানান্তর করা হলেও এই প্রথম সমাধিস্থল ইতিহাসের অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে।দীর্ঘদিন নানা কারণে এই ঐতিহাসিক স্থানটি অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে শামীম বলেন, এমনকি বহু বছর সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্যও এখানে অবাধে আসার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ আবারও এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, যা প্রমাণ করে এই স্থানটির প্রতি জনগণের আবেগ ও গুরুত্ব আজও অটুট রয়েছে।মাহবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের স¤পত্তি নয়; ইতিহাস একটি জাতির স¤পদ। তাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলকে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই স্থানকে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে একটি নান্দনিক ও দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধে পরিণত করা হবে।এখানে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ইতিহাস-অনুসন্ধানীদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস স¤পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবে।দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আব্বাস, নাজমুল মোস্তফা আমিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকত আলী নূর, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সাবেক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, মেজবাহ উদ্দীন জাহেদ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দীন রাজু, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসীম, সাধারণ স¤পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ স¤পাদক মোজাম্মেল হক, সহ স¤পাদক আলম খান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক মোহাম্মদ মহসিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুদ্দিন সবুজ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ২১ দিন আগে
নির্বাচনের আগে বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, কিন্তু নির্বাচনের পরে কর্মকাণ্ডে ‘সবার আগে বিএনপি’—এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গ্রেডে উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ করেছে জামায়াত।দলটির দাবি, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান আবিরকে মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবকেও ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ৩১ দফার নবম দফায় ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে’ উঠে রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিএনপি বিভিন্ন সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির সদস্য ছিলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।‘বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় এত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’,-বলে মন্তব্য করেন তিনি।সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, এই নিয়োগ বহাল থাকলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিরোধী দলগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি তালিকাও তুলে ধরে জামায়াত।দলটির দাবি, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হককে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেককে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপুকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানকে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের বসানোর মাধ্যমে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে দেখা দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি। নাম পরিবর্তন হলেও, চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠছে।
১ মাস ২২ দিন আগে
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া অনেক আগে শেষ হলেও এর নেপথ্যের পরিকল্পনা, সহায়তাকারী ব্যক্তি কিংবা সম্ভাব্য বৃহত্তর ষড়যন্ত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে আজও।সম্প্রতি মামলার পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, তার জিজ্ঞাসাবাদে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে, যা শুধু তার ব্যক্তিগত ভূমিকা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে সংঘটিত নানা ঘটনার নতুন ব্যাখ্যা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে।সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনের মতে, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কীভাবে এত দীর্ঘ সময় পরিচয় গোপন রেখে বিদেশে অবস্থান করতে সক্ষম হন এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরে প্রায় তিন দশক আত্মগোপনে থাকতে পেরেছিলেন। এই পুরো সময়ে তার যোগাযোগ, আশ্রয়, অর্থায়ন এবং সহযোগীদের পরিচয় উদঘাটন করাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফরের কাছ থেকে তার দীর্ঘ পলাতক জীবন, বিদেশে অবস্থান, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং ঘটনার সময়কার সামরিক যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ আরও স্পষ্ট হতে পারে।জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর দাবি করেছেন, ১৯৯৮ সালে তিনি গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মপরিচয়ে বসবাস করেন। পরে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখেন। তদন্তকারীরা এখন অনুসন্ধান করছেন, এত বছর তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলেছেন এবং এই সময়ে তাকে কারা সহযোগিতা করেছে। মোজাফফরের বিরুদ্ধে নতুন করে সামারি অব এভিডেন্স, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং পরবর্তী কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, বিচার চলাকালে অনেক অমীমাংসিত বিষয় সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, পলাতক থাকার পেছনের সহযোগিতা, তৎকালীন সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন বিতর্কিত প্রশ্ন আদালতের আলোচনায় উঠে আসার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে সুচতুর মোজাফফর কৌশলে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। সে সময় ‘বিপ্লব সরকার’ এবং ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে আসেন এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমল থেকে নির্বিঘ্নে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। কললিস্টের সূত্র ধরেই দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত বুধবার রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।এরপর গত শুক্রবার মোজাফফরকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের সামরিক আদালতের হেফাজতে নেওয়া হয়। যেহেতু চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের কয়েকজন বিপথগামী অফিসারের নেতৃত্বে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং সেখানেই ওই ঘটনার বিচার হয়েছিল তৎকালীন সময়ে, তাই নিয়মানুযায়ী তাকে সেখানে পাঠানো হয়।রোববার (১৯ জুলাই) রাতে মিলিটারি পুলিশ (এমপি) এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের (এএসইউ) তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর বিমানে তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়েছে। সেখানে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এককভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, নাকি সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি পুলিশ কিংবা এসবি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে কোন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট অনেকে জানিয়েছেন, পলাতক মেজর মোজাফফরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ইতিহাসের দায়মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি নেপথ্য কুশলী যারা রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের অপ্রকাশিত মাস্টারমাইন্ড কারা? টাস্কফোর্স কিংবা কমিশন গঠনের মাধ্যমে মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তা বেরিয়ে আসবে। ফলে দেশের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ককে কীভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের এমন একটি অধ্যায়, যার অনেক প্রশ্নের এখনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। ফলে মোজাফফরের গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া প্রতিটি তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই, প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। কারণ একটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটন কেবল রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি ও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকা, তৎকালীন সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সেনা কর্মকর্তা স্বাধীনতার পর জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পান। পরে বিতর্কিত রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে একীভূত হলে তিনি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।
১ মাস ৩০ দিন আগে
চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ দিতে এসে নেতাদের চাপে মঞ্চ ধসে পড়লেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। এ সময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ আরও তিন এমপি সাথে ছিলেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে মঞ্চে ওঠার সময় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি এলাকা ত্যাগ করে সাতকানিয়ার দিকে চলে যান। মন্ত্রী স্থান ত্যাগ করার পরপর স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা ত্রাণ বিতরণ করার সময়ও হুড়োহুড়ি করেন। এসময় ঠেলাঠেলিতে ত্রাণ নিতে আসা নারী-পুরুষসহ ১০ জন আহত হয়ে। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে মঞ্চ ধসে পড়ে গেলেও মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা কোন রকম জখম বা আহত হননি বলে জানান চন্দনাইশ ইউএনও) মো. আবদুর রহমান। তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় ত্রাণ বিতরণের জন্য মঞ্চ উঠলে মঞ্চ ধসে উপস্থিত সবাই নিচে পড়ে যান। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ত্রাণ নিতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে আহত হওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। তখন আমি ঘটনাস্থল থেকে চলে এসেছি। এর আগে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বন্যার্তদের পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জেলার মধ্যে প্রায় ৭ লাখের ওপরে মানুষ পানিবন্দি। ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত আছে। এটা চলতে থাকবে।তিনি বলেন, পরে পুনর্বাসন কার্যক্রম আরম্ভ হবে। বন্যার পরে সাধারণত রোগবালাইয়ের একটা প্রকোপ দেখা যায়। সেজন্য ওষুধ প্রস্তুত আছে। কোনো সংক্রামক রোগ দেখা দিলে, তার জন্য সরকার স¤পূর্ণভাবে প্রস্তুত আছে। এরপর অর্থমন্ত্রী নগরীর পতেঙ্গা মাইজপাড়ার মাহমুদুন নবী চৌধুরী স্কুলের সামনে, হাদি পাড়া ও খেজুর তলি এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ অনেকেই। পরে জেলার চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, সাতকানিয়া উপেজলার নলুয়া, লোহাগড়া উপজেলার আধুনগর এবং বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রওনা হন অর্থমন্ত্রী।
২ মাস ২ দিন আগে
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবার চালুর সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় এনেছে। ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এ ঘোষণাটি এমন এক সময় এলো, যার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগেই বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষমতাগ্রহণের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর, যেখানে ঢাকাকে একটি 'নতুন যুগের কৌশলগত অংশীদারত্ব' উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা একটি নাগরিক অধিকারের বিষয়কে ঠিক বেইজিং সফরের পরদিনই তড়িঘড়ি করে কার্যকর করা এবং ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে একজন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়ে ঢাকায় দূত হিসেবে পাঠানো—এই দুটি ঘটনাকে নিছক 'রুটিন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া' বলে মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ব্যবচ্ছেদ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এর পেছনে মূলত ভারতের নিজস্ব সুদূরপ্রসারি রাজনৈতিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে। মূলত বেইজিংয়ের প্রভাব ঠেকানো ও দিল্লির মনস্তাত্ত্বিক 'চীনভীতি' থেকেই এ ভিসা চালুর ঘোষণা দেয়া হয়। কারণ ভারতের এই আচমকা ভিসা চালুর পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো বেইজিংকে ঘিরে তৈরি হওয়া দিল্লির মনস্তাত্ত্বিক চাপ বা 'চীনভীতি'। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২২-২৬ জুনের চীন সফর এবং সেখানে তিস্তা নদী চুক্তি ও বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে ঢাকার আগ্রহ প্রকাশ, ব্রহ্মপুত্র নদের জলতাত্ত্বিক তথ্য আদান-প্রদান এবং ২৪টি ফাইটার জেট ক্রয়ের গুঞ্জনসহ ২১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সাউথ ব্লককে এক প্রকার নাড়িয়ে দিয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের নীতিনির্ধারকরা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারা যদি ঢাকাকে একঘরে করে রাখার বা ভিসা ব্লকেডের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল অব্যাহত রাখে, তবে বাংলাদেশ দ্রুত বেইজিং ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়বে। গত ৩ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও স্বীকার করেছেন, তারা বাংলাদেশের এই চীন সফরের গতিপ্রকৃতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভারত বাংলাদেশকে নিজের প্রভাব বলয়ে রাখার জন্য এতদিন যে নেতিবাচক বা ব্লকেড কূটনীতি ব্যবহার করছিল, তা বেইজিংয়ের 'নিউ ইরা’ বা ‘নতুন যুগ’ ঘোষণার পর অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। দিল্লি বুঝতে পেরেছে, ঢাকাকে সম্পূর্ণ অবহেলা করলে কৌশলগতভাবে ভারত নিজেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একাকী ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এই আকস্মিক ভিসা চালু মূলত বেইজিংয়ের প্রভাব ঠেকানোর একটি ড্যামেজ কন্ট্রোল পলিসি বা প্রতিরক্ষামূলক কৌশল।পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উত্থানকে রুখে দিয়ে ঢাকাকে তার নিয়ন্ত্রণে রাখার শেষ অস্ত্র হিসেবে ভারত এখন 'পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট' বা জনগণের যাতায়াতের কার্ডটি খেলছে। দীনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন ঝানু ও প্রবীণ রাজনীতিবিদকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে পাঠানোর উদ্দেশ্যই হলো ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ছাড়াই সরাসরি রাজনৈতিক বোঝাপড়া করা এবং ভারতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।তবে এ ছাড়া কলকাতার ব্যবসায়ীদের মরণদশা ও ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্বার্থ বিষয়টিও ভিসা চালুর অন্যতম কারণ বলে ধরা হচ্ছে। কারণ, এই ভূ-রাজনৈতিক চালের পাশাপাশি ভারতের একটি বড় স্বার্থ লুকিয়ে ছিল তার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট মোচনের মধ্যে। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় গত দুই বছর ধরে ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলোর, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন ধস নেমেছিল, যা মোদি সরকারের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।কলকাতার ফেডারেশন অব ট্রেডার্স অর্গানাইজেশনসের এক সাম্প্রতিক তথ্যমতে, কলকাতার নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, সুডার স্ট্রিট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের প্রায় ৭০% ব্যবসা বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই বছরে এ অঞ্চলের খুচরা ব্যবসা এবং মাঝারি ও বাজেট হোটেলগুলোর ব্যবসা প্রায় ৬০-৬৫% হ্রাস পেয়েছিল। একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম খাতেও। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ৫৪% ছিলেন বাংলাদেশি। চেন্নাই, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বড় হাসপাতালগুলোর সিংহভাগ আয় গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়, যা ভারতের করপোরেট মেডিকেল খাতের জন্য ছিল বড় ধাক্কা।কলকাতার নিউ মার্কেটের একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী আনন্দ পোদ্দার মুঠোফোনে জানান, বাংলাদেশি ক্রেতারা না আসায় কলকাতার ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিলেন। বহু হোটেল এবং রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো রাজ্য সরকার ও দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বারবার স্মারকলিপি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছিল। ফলে নিজের দেশের ভেতরের এই তীব্র অর্থনৈতিক ক্ষোভ ও ক্ষতি প্রশমন করাও ছিল ভারতের ভিসা চালুর অন্যতম প্রধান স্বার্থ।তবে ভিসা চালু হলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ‘ভিসা পেলেও বাংলাদেশিরা আমরা কি ভারতে নিরাপদ?’। বিগত দিনে ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে, বিশেষ করে সোসাল মিডিয়ায় ছড়ানো প্রোপাগান্ডার জেরে বাংলাদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ওপর নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার একাধিক ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান পেয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হেনস্তা করা হয়।নিরাপত্তার এই মনস্তাত্ত্বিক সংকট নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘসময় ধরে বাংলাদেশ-বিরোধী যে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে, তার ফলে সাধারণ ভারতীয়দের একটি অংশের মধ্যে উগ্রতা তৈরি হয়েছে। ভিসা চালু করা এক বিষয়, আর বাংলাদেশি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্য বিষয়। ভারত সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে, তারা বর্ণবাদ বা জাতীয়তাবাদী উগ্রতা বরদাশত করবে না।যদিও দিল্লি অবশ্য দাবি করছে, তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে যাতে কোনো বিদেশি পর্যটক হেনস্তার শিকার না হন। নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতের পরম বন্ধু এবং তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা ভারত সরকারের পরম দায়িত্ব। তবে বাংলাদেশের সচেতন মহল মনে করছে, ভারতের মাটিতে যতদিন না পর্যন্ত দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ ও হয়রানি বন্ধের নজির তৈরি হচ্ছে, ততদিন বাংলাদেশিদের মধ্যে এই ভীতি পুরোপুরি কাটবে না। এবারের ঘটনাটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেয় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে 'স্থায়ী কোনো বন্ধু বা শত্রু নেই, স্থায়ী কেবল নিজের দেশের স্বার্থ'।ভারত যে আজ আচমকা উদারতা দেখিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল, তা কোনো নিঃস্বার্থ প্রতিবেশী সুলভ আচরণ নয়; বরং এটি তাদের আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চীনের কাছে হেরে যাওয়া ঠেকাতে এবং ঢাকাকে চীনের বলয়ে সম্পূর্ণরূপে চলে যাওয়া থেকে আটকানোর একটি বাধ্যবাধকতার কৌশল। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়ও বটে, কারণ বেইজিং কার্ডটি সফলভাবে খেলতে পারায় দিল্লি বাধ্য হয়েছে তার নীতি পরিবর্তন করতে। -সংগৃহীত
২ মাস ১৩ দিন আগে
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (বাচশিস) ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন; তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইটার ও প্রযোজক আরমান পেয়েছেন ১৪৩ ভোট। অন্যদিকে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে এফডিসিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। ফলাফলে সহ-সভাপতির দুই পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডি এ তায়েব ও ইলিয়াস কোবরা। ডি এ তায়েব সর্বোচ্চ ২৬০ ভোট এবং ইলিয়াস কোবরা ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেত্রী রোজিনা ১৫২ এবং নূতন ২০৪ ভোট পেয়েছেন।এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্ন পেয়েছেন ১৮৩ ভোট। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১ ভোট পেয়েছেন জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী রাসেল মিয়া ১৯৫ ভোট পেয়েছেন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ খান পেয়েছেন ৭২ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে কামরুজ্জামান কমল ২২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদে বিজয়ীরা হলেন- চিত্রনায়ক কায়েস আরজু, আলীবরাজ, নাসরিন, জেসমিন আক্তার, সুশান্ত, শিপন মিত্র, শামীম খান (চিকন আলী), রাকা, শিরিন শিলা, কাবিলা ও ফরহাদ। তাদের মধ্যে ৩২৪ ভোট পেয়ে প্রথম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু। কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের একটি বিবরণীতে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৮০ জন। ভোট গণনায় ৪১৬টি ব্যালট বৈধ এবং ৬৪টি বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মাঝে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচন ঘিরে এক মাস ধরে চলচ্চিত্রশিল্পীদের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল এফডিসি প্রাঙ্গণ।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে গুলি করে মাদকসেবী এক যুবককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বন্ধু পরিচয় দেওয়া এক যুবককে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মাদক সেবনের সময় এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে পুলিশের ধারণা।বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানার ফরেস্ট গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত মোহাম্মদ আজাদ (২৫) নগরীর হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা। আটক সমবয়সী ইসহাক আলমের বাসাও একই এলাকায় বলে জানান সিএমপির উত্তর জোনের উপকমিশনার মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপন।উপকমিশনার মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপনের ভাষ্য, বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ইসহাক আলম আহত অবস্থায় আজাদকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। চিকিৎসক পরীক্ষার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। এ সময় ইসহাক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের জানান, ফরেস্ট গেটের সামনে রাস্তার পাশে হাঁটার সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত লোক গুলি করে তাকে খুন করেছে। এ সময় ইসহাকের কথাবার্তা অসংলগ্ন ও সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে। উপকমিশনার মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, ইসহাক গুলিবিদ্ধ যুবককে হাসপাতালে নেওয়ার পরেই পুলিশ ঘটনার কথা আমরা জানতে পারে। এরপর ইসহাককে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ফরেস্ট গেটের ভেতরে একটি ছোট্ট বাসার মতো কক্ষ। সেখানেই এ ঘটনা ঘটেছে। এটা আজাদ বা ইসহাক কারও বাসা নয়। তাদের বাসা হামজারবাগ।কক্ষটিকে মাদক সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ধারণা পুলিশের। আটক ইসহাকের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে উপকমিশনার স্বপন বলেন, ঘটনার সময় আজাদ, ইসহাক এবং আরও এক যুবক ওই কক্ষে ছিলেন। ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা যুবক পালিয়ে যায়। আমাদের ধারণা, তারা মাদক সেবন করছিল। অজ্ঞাত যুবক গুলি করে আজাদকে খুন করে পালিয়ে যায়।
২ মাস ১৮ দিন আগে
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে একটি নতুন থানা এবং তিনটি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। রোববার (২৮ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন তিনটি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।সভায় আরও আলোচনা হবে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন ৮টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে। সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরো কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সুবিধাজনক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তরের দাবিতে সড়ক অবরোধএদিকে নতুন উপজেলা সদর দপ্তর সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। উপজেলার দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের হেয়াকো, বালুটিলা ও নারায়ণহাট বাজার এলাকায় একযোগে মানববন্ধনও হয় বলে জানান স্থানীয় ভুজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে। তিনি বলেন, ‘নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব এখনো পাস হয়নি। সদর দপ্তর কোথায় হবে, সেই সিদ্ধান্ত তো আরও পরে হবে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি পৌঁছে দিতেই তিন ইউনিয়নের লোকজন বিক্ষোভ করেছেন।’
২ মাস ২০ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রীকে পদের লোভ দেখিয়ে চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলার মদের বারে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করার ঘটনা এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল।অভিযোগকারী পদপ্রত্যাশী নারীকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আফরিন বাদি হয়ে আদালতে মানহানির মামলা করেছেন। গত ২১ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদিপক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেলন হক বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০৬, ১২০ (বি) ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আদালত পিবিআইকে একমাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।মামলার আরজিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৯ জুন সংবাদ সম্মেলন করে পদপ্রত্যাশী এক নারীকর্মী অভিযোগ করেছিলেন, নারীশক্তির পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে পেনিনসুলা হোটেলের মদের বারে নিয়ে যান। সেখানে এনসিপি নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন ছিলেন। সাংগঠনিক বৈঠকের নামে সুজা ‘মদ্যপ অবস্থায়’ তাকে অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেন। আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব। দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠকও তিনি।এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে সাদিয়া আফরিনের করা মামলায় নারীকর্মীর পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উল্লেখ করে এনসিপি ছেড়ে যাওয়া হুজ্জাতুল ইসলামকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।মামলার আরজিতেেআরও উল্লেখ করা হয়েছে, সুজা ও সাদিয়ার ছবিসহ ব্যানার ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করে নারীকর্মী যৌন হয়রানি ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তথ্যউপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় অভিযোগকারীর বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো সঙ্গতি পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নারীকর্মী এমন অভিযোগ তুলেছেন সাদিয়া আফরিন। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে বলে প্রত্যাশা তার।
২ মাস ২৬ দিন আগে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতির মাঠে ফিরতে চায় জামিনে থাকা পাঁচ নেতার কাঁধে ভর করে। এরই মধ্যে তাদের নেতৃত্বে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরুর আভাসও দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ৭ জুন ‘ছয় দফা দিবস’ এবং ১১ জুন শেখ হাসিনার ‘কারামুক্তি দিবস’কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।জামিনে মুক্ত থাকা কয়েকজন শীর্ষ নেতার নির্দেশনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরে আসা পলাতক নেতাকর্মীদের মাধ্যমেও সাংগঠনিক যোগাযোগ সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও প্রচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীদের ফের সক্রিয় করার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অংশ এবং একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত পলাতক নেতাদের কেউ কেউ সীমান্ত দিয়ে দেশে এসে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে বলে অনেকের ধারণা রয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা এবং ক্রমাগত পুশইন চেষ্টার বিষয়টি প্রচার হওয়ায় পলাতক নেতাকর্মীরা দেশে ফিরে আসছেন।নিজেদের এলাকায় না থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।পাঁচ নেতার কর্মকাণ্ডে নজরদারিপুলিশ সদর দপ্তরের সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে জামিনে মুক্ত থাকা কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল (অব.) সালাহ উদ্দিন মিয়াজী, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বলা হয়েছে, এসব নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এফ এম রহমত উল্লাহ এবং তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরেও বেশ সমাগম দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হয়।এর বাইরে ‘দায়মুক্তি’ শিরোনামে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পর্বভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় করার জন্য তাদের উজ্জীবিত করছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অপতথ্য ছড়ানো সংক্রান্ত সাইবার প্যাট্রলিং ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ বিটিআরসির মাধ্যমে অপতথ্য দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে গোপনীয় প্রতিবেদনে।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকেই সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন। দেশের আরও অনেক এলাকায় একই ধরনের তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে।চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৬৭৮টি কর্মসূচির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, বিক্ষোভ, লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা, মিছিল, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ বা অনলাইন প্রচারণার তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সামনের দিনগুলোয় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের তৎপরতা, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী পলাতক নেতাকর্মী এবং জামিনে থাকা শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।৬ জেলায় সেনা মোতায়েনএদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে তিন মহানগর এলাকা ও তিন জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সোমবার থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এলাকাগুলো হলো— ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা।পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুলিশের সব ইউনিটে। তারা এপিবিএন, র্যাব সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবির সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে আমাদের ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দু-এক জায়গায় দেখেছি। তাতে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটি অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এ বিবেচনায় আমরা আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।পুলিশ কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না— এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘গত ১৫ জুন সারা দেশ থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর মাঠে ছিল, ইনটেরিম গভর্নমেন্টের সময় থেকে। আমরা নির্বাচিত সরকার আসার পর যত দ্রুত সম্ভব তাদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা কয়েকটা জায়গায় ডেপ্লয় করতে যাচ্ছি, সেটার সঙ্গে ওই পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। এটা ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার।’
২ মাস ২৮ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও চট্টগ্রামের নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন দলটির পদপ্রত্যাশী নারী কর্মী। তার অভিযোগ, পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া তাকে চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেল পেনিনসুলার বারে সুজার কাছে নিয়ে যান। সেখানে সুজা ‘মদ্যপ অবস্থায়’ তাকে অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেন।শুক্রবার (১৯ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিভিন্ন অভিযোগ করেন তিনি। এতে সাংগঠনিক বৈঠকের নামে প্রতারণা করে আবাসিক হোটেলের বারে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনেন ওই নেতার বিরুদ্ধে।নিজের নাম ও পরিচয় লুকাতে হিজাব পড়ে মুখ ঢেকে সংবাদ সম্মেলনে আসা এই তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী ও চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী বলে উল্লেখ করেন।তরুণীর বর্ণনা মতে, পূর্বপরিচিত সাদিয়া নারীশক্তির কমিটির বিষয়ে সাংগঠনিক আলোচনার কথা বলে তাকে চট্টগ্রামের পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। সাদিয়া আমাকে পেনিনসুলা হোটেলের টপ ফ্লোরে যেতে বলেন। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, সেটা একটি মদের বার। সেখানে সুজা উদ্দিন একটি টেবিলে বসা ছিলেন। তার সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ এবং একমাত্র নারী সাদিয়া বসা ছিলেন।’তরুণী জানান, তিনি সেখানে বসার পর সুজা তাকে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করেন। সুজাকে এ সময় তার কাছে মদ্যপ মনে হয়েছে। তবে সুজা তাকে কীভাবে মদপানে উৎসাহিত করেছেন জানতে চাইলে তরুণী বললেন, ‘আমাকে ড্রিংকস অফার করা হয়েছে। কী ড্রিংকস আমি নেব, সেটা জানতে চেয়েছিলেন তিনি।’তরুণী অস্বস্তিবোধ করলে সাদিয়া তাকে ‘সুজা উদ্দিন যেভাবে বলেন, সেভাবে চলার’ জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে সাদিয়া চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে উঠে যান বলে জানান ওই তরুণী। তার ভাষ্য, সুজা কয়েকবার আমাকে তার পাশে গিয়ে বসার জন্য বলেছেন। তার তাকানো এবং অঙ্গভঙ্গি ছিল যথেষ্ট আপত্তিকর, অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক। অস্বস্তির মধ্যে তরুণী সেখান থেকে উঠে যান বলেও জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, আমি যখন প্রস্তাবে সাড়া দিইনি, তখন সুজা উদ্দিন আমাকে বলেন— ডিল অর ডেথ। রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলে আমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।তরুণীর ভাষ্য, হোটেল থেকে বেরিয়ে তিনি সাদিয়াকে কল দিয়ে তাকে হোটেলের বারে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করেন। তখন সাদিয়া তাকে বলেছেন, ‘রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবিধারীদের পার্সোনাল সময় দিতে হয়। এটাই রাজনৈতিক কালচার।’এ ঘটনায় সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে গত ১৭ জুন চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন অভিযোগকারী তরুণী। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেছেন, ‘থানায় জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এখনো পর্যন্ত সত্য কিংবা অসত্য— এটা বলার মতো পরিস্থিতি হয়নি।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেনিনসুলা হোটেলের ব্যবস্থাপক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) কামাল হোসেন জানিয়েছেন, হোটেলের ১৫ তলায় রুফটপটি বার হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘটিত কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোটেলের এক কর্মকর্তার মন্তব্য, ‘পুলিশ বারে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।’অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের মোবাইলে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাদিয়া আফরিনের মোবাইল নম্বর সচল থাকলেও তিনি সাড়া দেননি।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় সেখানে যান। তিনি অভিযোগকারী তরুণী এবং সঙ্গে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তার ছোট বোনের সঙ্গে কথা বলেন।অভিযোগটি অসত্য এবং সুজা উদ্দিন ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন রিদুয়ান হৃদয়। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারী পেনিনসুলা হোটেলে সুজা ভাইয়ের সামনে মাত্র তিন মিনিটের মতো ছিলেন। এর মধ্যে কীভাবে শ্লীলতাহানি করা যায়, কীভাবে যৌন হয়রানি করা যায়, আমি জানি না। এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত একজন এই মেয়েটিকে দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। অনেকেই চান না সুজা ভাইয়ের রাজনীতি শক্তিশালী হোক। কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পেছনে লেগেছেন।’সাংগঠনিক আলাপের জন্য একজন নারী কর্মীকে মদের বারে কেন ডেকে নেওয়া হলো— এমন প্রশ্নে রিদুয়ান বলেছেন, ‘ওখানে ভালো মানুষও যায়, খারাপ মানুষও যায়। মন্ত্রী-এমপিও যায়, হাজার কোটি টাকার মালিকও যায়। সুজা ভাইয়ের সঙ্গে তার শ্যালক এবং একজন বন্ধুও সেখানে ছিলেন। শ্যালকের সামনে তিনি মদ খাবেন আর কোনো মেয়েকে যৌন হয়রানি করবেন, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? উল্লেখ্য, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন। সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব। দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক পদেও আছেন।
৩ মাস আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে দেখা গেছে ভিডিও ফুটেজে। পুলিশ তাদের সবার পরিচয় শনাক্ত করেছে। পুলিশের ভাষ্য, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী ‘রায়হান বাহিনীর ক্যাডাররা মাসুদকে খুন করেছে। বড় সাজ্জাদ দুবাইয়ে পলাতক থাকলেও সেখানে বসে হত্যার হুমকি দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর চট্টগ্রাম মহানগর থেকে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় যে ২৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, সবকটি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বড় সাজ্জাদের ক্যাডার বাহিনী। কর্ণফুলী নদীর বালুর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব হত্যাকান্ড হয়েছে তার বাইরে আরও হত্যাকান্ডের ঘটনা অপেক্ষমান রয়েছে। সন্ত্রাসীরা গোপনে নয়, প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আরও কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে রেখেছে বড় সাজ্জাদ বাহিনী। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) গুলি করে খুন করা হয়। এর আরও এক মাস আগে তাকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। যা প্রকাশ্যে গুলি করে হুমকির বাস্তবায়ন করেন সন্ত্রাসীরা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা নিয়ে বিবাধে জড়িয়ে পড়ে রাউজানের আরেক সন্ত্রাসী ফজল হক গ্রুপ ও বড় সাজ্জাদ গ্রুপ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ গত ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর ফজল হক গ্রুপের পক্ষে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু তোলার সাথে জড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বেতাগি এলাকায় মজুত করা বালুর অর্ধেক ভাগ চাই বড় সাজ্জাদ। কিন্তু বিপরীতে হুঙ্কার ছাড়ায় প্রাণ দিতে হয়েছে মাসুদকে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপনের ভাই। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন স্থানীয় রাজনীতিতে।হত্যাকান্ডের পর পাহাড়তলি বাজারের সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত হত্যাকান্ডের দৃশ্য যাচাই-বাছাই করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অস্ত্র হাতে পাঁচজনকে দেখা গেছে। এর বেশি থাকতে পারে। তবে যে পাঁচজনকে দেখা গেছে, তাদের সবার পরিচয় আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে তারা বড় সাজ্জাদ গ্রুপের রায়হান বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এটা নিশ্চিত। যদিও তাদের মধ্যে রায়হানকে দেখা যায়নি।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদ গ্রুপের রায়হান বাহিনীতে রাউজানের স্থানীয় সন্ত্রাসী ছাড়াও যোগ দিয়েছে ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ তৈয়ব বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। যারা মিলেমিশে রাউজান-রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রাম মহানগরকে আতঙ্কের জনপদ বানিয়ে ফেলেছে। সূত্র জানায়, হত্যার ঘটনাস্থল পাহাড়তলি চৌমুহনী বাজারের আধা কিলোমিটারের মধ্যেই পুলিশের রাঙ্গুনিয়া সার্কেল কার্যালয়। ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে, হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া পাঁচজনই ছিলেন সশস্ত্র। কালো মুখোশ পরা একজনের হাতে শটগান দেখা গেছে। তিনজনের হাতে পিস্তল এবং আরও একজনের হাতে শটগান ছিল।ফেসবুকে রবিবার সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণের মুখে মাসুদ দৌড়ে একটি দোকানের সামনে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তিন অস্ত্রধারী পেছন থেকে এসে লুটিয়ে পড়া মাসুদকে আবারও গুলি করে। এর ২০ সেকেন্ড পর মুখোশ পরা এক অস্ত্রধারী এসে আবার মাসুদকে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে অস্ত্রধারীরা একটি অটোরিকশায় উঠে দ্রুত চলে যায়।প্রকাশ্য অস্ত্রধারীদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তারা হলেন-দিদার, ধামা ইলিয়াছ, আবছার ও ইউছুফ। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হত্যাকারীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের একটি ব্যাকআপ টিমও ছিল বলে তাদের সন্দেহ। তারা দূরে অবস্থান করায় ভিডিওতে ধরা পড়েনি।মাসুদ টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানালেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, নিহত ব্যক্তি বালু উত্তোলনের ব্যবসা করতেন। রাজনীতিও করতেন। আমরা প্রাথমিক তদন্তে বালু ব্যবসার বিরোধে হত্যাকান্ড বলে জানতে পেরেছি। তবে রাজনৈতিক কোনো বিরোধের তথ্য পাইনি। আরও তদন্ত চলছে। লোকজন খুবই আতঙ্কগ্রস্ত। কেউই মুখ খুলছে না।নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানালেন, মাসুদ রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার বড় ভাই মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাদের অভিযোগ, এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় মাসুদকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে খুন করা হয়েছে।মাসুদকে যে স্টাইলে খুন করা হয়েছে একইভাবে রাউজানে আরও হত্যাকান্ড ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টেরহাট বাজারে খুন হন উপজেলা যুবদল নেতা মুহাম্মদ সেলিম। বোরকা পরা দুই যুবকসহ চার-পাঁচজন অটোরিকশায় এসে সেলিমকে প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে গুলি করে খুন করেন। এরপর অটোরিকশায় করে দ্রুত চলে যান।গত ২৬ এপৃল কদলপুর ইউনিয়নের শমসেরপাড়ায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন তালুকদারকে রাতের আঁধারে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাউজানে নাসির হত্যার জেরে গত ৭ মে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় ২৪ বছরের যুবক মোহাম্মদ হাসান রাজুকে গুলি করে একই কায়দায় খুন করা হয়।একই স্টাইলে প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের সঙ্গে সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডারদের স¤পৃক্ততা আছে বলে পুলিশের ভাষ্য।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে রাউজান। সর্বশেষ যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদসহ ২৬টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২১টিই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে এই বালু তোলার কাজ চালিয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া আসনের এমপি ড. হাসান মাহমুদ। হাসান মাহমুদের ছোট ভাই এরশাদ মাহমুদ ও খালেদ মাহমুদ এই বালু তেলা নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ সময় এ ধরণের খুনোখুনি বা সংঘর্ষের কোন ঘটনা ঘটেনি।
৩ মাস ৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের একজনের হাতে দেখা গেছে দুটি পিস্তল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।শনিবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে গুলি করে মাসুদকে হত্যা করা হয়। মাসুদ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই। ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হামলাকারীদের তিনজনের হাতে মোট চারটি পিস্তল ছিল। একজনের কাছে ছিল জোড়া পিস্তল। অপর দুজনের একজনের হাতে ছোট বন্দুক এবং অন্যজনের হাতে ছিল একনলা বন্দুক। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচজনই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশ নেয় এ হত্যাকাণ্ডে । এরপর তারা পাহাড়তলী বাজারে দাড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে দ্রুত পালিয়ে যায়। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়াত হোসেন বলেন, ‘ভিডিওচিত্র যেটা ছড়িয়ে পড়েছে সেটা এই হত্যাকাণ্ডেরই। আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। ওই ভিডিওচিত্রে আপাতত পাঁচজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তার মধ্যে একজনের হাতে দুটি পিস্তল ছিল। একটি একনলা বন্দুকও দেখা গেছে। ঘটনার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাসুদুল হককে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে আসে হামলাকারীরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ওঁৎ পেতে থাকে।ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল দুই অস্ত্রধারী। তাদের একজনের পরনে ছিল কালো এবং অন্যজনের পরনে ধূসর রঙের টি-শার্ট। জলপাই রঙের টি-শার্ট পরা একজনকে একটি দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। কালো টি-শার্ট পরা ব্যক্তি ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে যেতেই শোনা যায় প্রথম গুলির শব্দ। এরপর গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ছোট বন্দুক হাতে বের হয়ে পরপর তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলি করতে করতে অটোরিকশার পেছনের দিকে এগিয়ে যান তিনি। পরে জলপাই রঙের টি-শার্ট ও মাথায় টুপি পরা আরেকজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। তার হাতে ছিল দুটি পিস্তল। একই সময়ে অটোরিকশার সামনের আসন থেকে এক ব্যক্তি একনলা বন্দুক হাতে বের হয়ে আসে।ভিডিওচিত্রে আরও দেখা যায়, কালো, ধূসর ও গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরিহিত তিন ব্যক্তি কয়েক সেকেন্ড পর আবার অটোরিকশার দিক থেকে পেছনের দিকে ফিরে আসে। তখন আরও চারটি গুলির শব্দ শোনা যায়, যদিও সেগুলো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। দুপুর ১টা ২২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড থেকে ১টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত প্রায় এক মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের মধ্যে থেমে থেমে এক ডজনেরও বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে গুলি করার সময় মাসুদুল হককে ভিডিওচিত্রে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ধূসর রঙের টি-শার্ট পরা দুজন তাকে গুলি করে। কারণ ভিডিওচিত্রে তাদের পিস্তল হাতে অটোরিকশার দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
৩ মাস ৬ দিন আগে
বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি। এর আগে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের গ্যারান্টি দেই, যেখানে তারা পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি ওয়াদা ছিল যে আমরা সরকার গঠন করতে পারলে দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানো এবং সেই অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য করার জন্য আপনারা উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আমাদের প্রত্যাশা এই যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব।এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে স্বস্ত্রীক কক্সবাজারে পৌঁছান। সেখানে তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা পাতলীখাল পুনঃখননকাজ উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি পাশেই একটি পথসভায় যোগ দেন। পথসভায় দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ৬০টি পণ্যের কর বাতিল করায় অন্যবারের মতো এবার বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। দেশকে অস্থিতিশীল করে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তারাই মূলত এই গণমুখী বাজেটের সমালোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, এই দেশই বিএনপির শেষ ঠিকানা, তাই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।
৩ মাস ৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুল-ভাল কথা বলেন দাবি করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন- প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত ভুল-বাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা এতই ভাগ্যবান যে, এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়-এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে নেতাকর্মীরা এ সময় ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও পদ্মলোচন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য সত্যিই আমার কষ্ট হয়। ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে বলেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে। এগুলো সব মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চুষবে না।সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চোর, ছিনতাইকারী, নারী-শিশু ধর্ষণকারী ও অন্যান্য অপরাধীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।অলি আহমেদ বলেন, মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, পার¯পরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করতে হবে। অন্যের সমালোচনার আগে নিজেদের সংশোধন এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যার পর মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।তিনি বলেন, ডাকাতদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও চোর ও ছিনতাইকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আওয়ামী ডাকাতরা কলকাতায় পালিয়ে গেছে। চোররা এখানে রয় গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।সরকার প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো দায়িত্বেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বানও জানান তিনি।অলি আহমেদ বলেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো অপচেষ্টা ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ¯পষ্ট। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানান এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হবে বলে মনে করি না। এ সময় ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভীত রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে। শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি আপনারা সেটি করতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রমাণ হবে ইসলাম, মুসলমান ও মদিনার ইসলামের কথা বলা কেবল ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা করে বলেন, দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে স্বাধীনতার সূর্য বাংলার আকাশ থেকে অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ হচ্ছে। সীমান্তে হত্যাকানন্ডকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। আমরা এ ধরনের বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। সীমান্তে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে মামুনুল হক বলেন, আপনাকে ব্যক্তি হিসেবে সম্মান জানাই। বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে আপনার প্রতি বিশেষ সম্মান রয়েছে। তবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার শেখ হাসিনার রাজনীতি করবেন না।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।তিনি বলেন, পার্লামেন্ট থেকে সচিবালয় সব জায়গায় হুতুমপেঁচা বসেছে। তারা সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত। কিন্তু আমাদের দল চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।ভারত সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, আমরা বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো হত্যাকান্ড সমর্থন করি না। যেদিন সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে অবৈধভাবে হত্যা করা হবে না, সেদিনই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত অর্থে ন্যায্য ও স্বাভাবিক স¤পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এটি কোনো বাজেট নয়, বরং দলীয় লোকজনের জন্য তৈরি একটি গেজেট। এর মাধ্যমে দেশে চাঁদাবাজিকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এই বাজেটে শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম কিংবা মুগ্ধের আত্নত্যাগের প্রতিফলন নেই। তাই এই বাজেটের প্রতি ধিক্কার জানাই।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, গত ১৭ বছরে দিল্লির গোলামি আপনারা কম করেননি। আপনাদের মন্ত্রী-নেতারা অমিত শাহের পায়ে অর্ঘ্য দিয়ে এসেছেন, মাথানত করে সেজদা করে এসেছেন। তারপরও দিল্লি আপনাদের বিশ্বাস করেনি। অতীত থেকে যদি শিক্ষা না নেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনারা বদলাননি। ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আমাদের ধারণা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির মন্ত্রীদের নিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা তাদের অতীত ভোগান্তি থেকে শিক্ষা নেবেন বা নিয়েছেন। কেন তারা এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় আসতে পারেননি, কী কী কারণে গত ২০ বছর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হারিয়ে দেশ প্রায় একটি ভ্যাসাল স্টেটে পরিণত হয়েছিল, এবং কী কারণে বাংলাদেশের জনগণ গত ১৭ বছর আপনাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি এসব বিষয় তারা উপলব্ধি করেছেন বলে আমাদের ধারণা ছিল।আমরা ধারণা করেছিলাম, আপনাদের ফোনের অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের আইওএস যেমন আপডেট হয়েছে, তেমনি আপনাদের চিন্তাভাবনাও আপডেট হয়েছে। কিন্তু আপনাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য ও কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে, ২০০৬ সালে ক¤িপউটার বন্ধ করে গ্যারেজে রেখে গিয়েছিলেন; সেই ক¤িপউটারে এত বেশি ধুলাবালি জমেছে যে, এখন আর মুছেও সেটিকে সংশোধন করা যাচ্ছে না, বলেন ফুয়াদ।তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলে গেছে, কিন্তু আপনাদের স্বভাব বদলায়নি। আওয়ামী লীগেরও ১৭ বছরে লেজ সোজা হয়নি। আমরা জানি কীভাবে সেই লেজ সোজা করতে হয়। বাংলাদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতির বাইরে যেতে বাধ্য করবেন না। এটি সরকারের জন্যও ভালো হবে না, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও কল্যাণকর হবে না।
৩ মাস ৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।সমাবেশকে ঘিরে দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে লালদিঘী ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেন জনস্রোতে রূপ নিয়েছে। দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গণরায়ের বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মহাসমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, নির্বাচনসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।সমাবেশ ঘিরে লালদিঘী ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সমাবেশের কার্যক্রম চলমান ছিল এবং একে একে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেবেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরের নেতারা।সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।সমাবেশকে সফল করতে জোটের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কয়েকদিন ধরে চালানো হয় প্রচার-প্রচারণা। ফলে সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
৩ মাস ৬ দিন আগে
আগামী ১৩ জুন শনিবার চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বৃহ¯পতিবার (১১ জুন) থেকে চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং চলছে বলে জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, সমাবেশকে ঘিরে ১১ দলীয় ঐক্যের অনেক শীর্ষ নেতা এখন চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ররয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগরী আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন। জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, এলডিপির মহানগরী সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগরী সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, খেলাফত মজলিসের মহানগরী সাংগঠনিক স¤পাদক মোস্তফা কামাল। নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল হক ও জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা মুবিনুল হক, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মো. আফসার উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতা বিবর্জিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না। বরং এটি সরকারের উচ্চাভিলাষী বাজেট। তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি। তারই অংশ হিসেবে লালদিঘীর ময়দানে এই সমাবেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনগণের আত্নত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার সংকট জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি আরও বলেন, বাজেট-পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
৩ মাস ৭ দিন আগে
চট্টগ্রামসহ দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যাদের সবাই ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় বিএনপির অনুসারি নেতাকর্মী। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ।খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (খুউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এস এম শফিকুর আলম। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে রেজাউল হাসান লোদী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মো. সামসুজ্জামান সামু, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মোতাহার হোসেন তালুকদার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে উদবাতুল বারী আবু এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মাশুকুল ইসলাম রাজিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সবকটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে আগামী ১ বছরের জন্য নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্রেখ করা হয়। যাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং নগর-মহানগর পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া এই ৮ চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাদের এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউকে) বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার।
৩ মাস ৭ দিন আগে
`গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা' শিরোনামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এ বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এবং নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম। বিগত সরকারের আমলের অর্থনৈতিক বিপর্যয়, দুর্নীতি লাগামহীন লুটপাটের ধ্বংসস্তূপ থেকে সামষ্টিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতই ভরসা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া চেনা সংকটের সঙ্গে অস্থির বিশ্ব বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে আনতে চান। এ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলার করতে তুলে ধরেছেন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে নতুন অর্থনৈতিক নীতির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেট পেশের পর এটিকে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতি, উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে এ বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। স্বস্তির বার্তা সাধারণ মানুষের জন্যনতুন বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।এছাড়া খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় প্রতিবার ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে বলে সরকারের দাবি।তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানিতে প্রায় সব ধরনের শুল্ক ও কর তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কর কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।এসব উদ্যোগের ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হলেও সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।কিছু খাতে বাড়বে ব্যয়স্বস্তির পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। সিগারেটের সব স্তরে ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি করায় এর দাম বাড়বে। নিকোটিন পাউচ ও নিকোটিন গ্র্যানুলসের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনচালিত মধ্যম সারির গাড়ির করভার বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়তে পারে। বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, পাঙাশ মাছের ফিলে, কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রড, টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও কিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতিবাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো এর ঘাটতি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকেই নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, অতীত সরকারের সময় ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বর্তমানে সুদ ও ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, উচ্চ রিটার্নসমৃদ্ধ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে এই ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।ব্যবসায়ীদের ইতিবাচক মূল্যায়নঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর হ্রাস, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর সুবিধা এবং অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।তবে তিনি করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখার সমালোচনা করে বলেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি অন্তত ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন ছিল।ডিসিসিআইর মতে, ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তাবিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মানবিক অর্থনীতি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং যুব উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক কাঠামো এখনো দুর্বল। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাস্তবায়ন সক্ষমতার তুলনায় বড় বাজেট ঘোষণার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ফলে ঘোষিত বাজেটের পুরোটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে কিছু ক্ষেত্রে কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সমন্বিত ও কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।তার মতে, মূল্যস্ফীতি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জেও পরিণত হয়েছে। তাই রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় জরুরি।রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও মিশ্রপ্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও ভিন্নমত দেখা গেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বাজেটটি অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর এবং এতে দরিদ্র মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তার অভিযোগ, এই বাজেটে ধনীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে, অথচ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের করের চাপ কমেনি।অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলে প্রকৃত ঘাটতি সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হবে।বাস্তবায়নের পথে সাত বড় বাধাবিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের সামনে অন্তত সাতটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ ও সুদের বাড়তি চাপ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ হার আরও কমে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, এবারের বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।তবে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস বলছে, বড় বাজেট ঘোষণা করাই সাফল্যের মাপকাঠি নয়। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো সেই অর্থ দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করা, রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া।সেই অর্থে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে একদিকে স্বস্তির প্রতিশ্রুতির বাজেট বলা যায়, অন্যদিকে এটি নতুন সরকারের সক্ষমতা যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা। আগামী এক বছরে বাজেটের ঘোষণাগুলো কতটা বাস্তবে রূপ পায়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে কি না।
৩ মাস ৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে দীর্ঘ বছর ধরে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক সমিতির সদস্যদের মধ্যে দুই দফা হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় চমেক জরুরি বিভাগের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ দুইপক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে দুই পক্ষই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর মধ্যরাতে বিবদমান এনসিপি ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেছে। এর আগে দুপুরের দিকে প্রথম দফায় হাতাহাতি হয়। এতে এনসিপির দু‘জন আহত হয়। আহতরা হলেন— শাহাদাত হোসেন ও এম এ আলী।এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, ১০ বছর ধরে চমেক হাসপাতাল কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই সিন্ডিকেট মৃত মানুষ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জিম্মি করে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে। এক বছর আগে একটি ভাড়া নির্ধারণী বৈঠক হয়েছিল। এরপর এক মাস ঠিক ছিল। পরবর্তী সময়ে আবারও ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় শুরু করে।এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয় কমিটির সদস্য রিদুয়ান হৃদয় জানান, দুপুরে নোয়াখালীগামী এক রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্সে পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স শ্রমিক ও মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। তখন থেকে ঘটনার সূত্রপাত।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন এই এনসিপি নেতা।এদিকে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ বলছেন, ভাড়া যদি বেশি নিয়ে থাকে, তবে সেই অভিযোগ নিয়ে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে আসা উচিত ছিল। সে কেন ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চায়? ৫ আগস্ট কারো বাপের না। ৫ আগস্টের দোহাই এখন আর খাটে না।সমিতির দাবি, এনসিপির কোনো এক নেতার অ্যাম্বুলেন্সকে এই সমিতির অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টার কারণে এই বিরোধের সূত্রপাত।তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপি নেতা রিদুয়ান। তিনি বলেন, এনসিপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অ্যাম্বুলেন্স অন্তর্ভুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ দিতে পারবে না। এটা মিথ্যা অভিযোগ।এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি থাকায় উত্তেজনা ছিল। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।
৩ মাস ১১ দিন আগে
স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মহাযজ্ঞ।ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা শেষে আগস্টের দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্য সব নির্বাচন আয়োজন হবে।শুক্রবার (৬ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, ৮০ ভাগ নিশ্চিত যে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগে হবে। আবার পৌরসভা ও ইউনিয়ন দুটো একসঙ্গেও আমরা করতে পারি। নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন না করলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করা যাবে না। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এক্স অফিসিও মেম্বার অব উপজেলা পরিষদ। এই কারণে নিয়ম অনুযায়ী আগে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এটাই বাস্তবতা। এরপর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করা যাবে। কিন্তু জেলা পরিষদের নির্বাচন একবারেই করা যাবে না। এটা হবে সবার শেষে। তফসিল ঘোষণা কবে করা হবে জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অক্টোবর তো ভোট হয়েই যাবে। আর তফসিল ঘোষণা হতে পারে আগস্টে।’ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা কর্মীদের নির্বাচনের বাইর রাখতে কোনো অঙ্গীকারনামার বিধান নতুন করে যুক্ত হচ্ছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের হলফনামায় আলাদা কোনো অঙ্গীকারনামা থাকবে না। হলফনামায় ফরমের সঙ্গে একটা ঘোষণাপত্র থাকবে। প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলবেন-ঘোষণাপত্রে এমন একটি লাইন যুক্ত হবে।সূত্রমতে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইসির আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটির দুটি বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সংশোধনের মধ্যে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা আচরণ বিধিমালার পরিবর্তে একটি অভিন্ন আচরণ বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তাও তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন হবে সেজন্য ভোটার সমর্থন হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে প্রার্থীর জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, বিলবোর্ডে প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারসহ নানা বিষয়ে বিধিনিষেধ যুক্ত করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের আইন-বিধান সংস্কার করা হবে। আচরণবিধিতে কী কী সংশোধন আনা হচ্ছে- জানতে চাইলে এ কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রার্থীদের জামানত জমা দেওয়ার সীমা বাড়বে, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে না, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ সমর্থনের বিধান থাকছে না, পোস্টার থাকছে না, ইভিএমের ব্যবহার থাকছে না, পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান থাকছে না।ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে চার হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে তিন হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে আরও ৩৪৯টি। ৪৭৭টি আইনি জটিলতা, মেয়াদপূর্ণ না হওয়াসহ নানা কারণে অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সে হিসাবে দেশে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় দেশের উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।নতুন উপজেলাগুলো হলো— বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে।এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে আরও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।
৩ মাস ১৩ দিন আগে
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সিওও অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। একই কমিটিতে অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পুকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সহ সাধারণ সম্পাদকের পদমর্যাদাসম্পন্ন।পাপ্পু চৌধুরী বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন-এর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।দলীয় সূত্রে জানায়, বিগত সরকারের সময় বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় ও সাহসী মুখ। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা হিসেবে রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর অনুসারীদের দাবি, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হয়েছিল।২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার দিন ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব ও জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু। তার নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় তার নেতৃত্বে।পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে নিজ এলাকার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সরকারের পতনের একদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সম্মুখসারির একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু বলেন, তোষামুদির রাজনীতি নয়, আদর্শিক রাজনীতির পথ ধরে এগিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ সময় রাজপথে সক্রিয় থেকে বহুবার প্রত্যাশিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কিন্তু কখনো হতাশ হইনি। মানুষের ভালোবাসা ও মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায় সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নবীনগরবাসী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভাকাঙ্ক্ষীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে ঋণী করেছে।নিজ এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পদ-পদবি বড় বিষয় নয়, মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের এই ভালোবাসা ও আস্থা ধারণ করেই মা মাটি মানুষের দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে। আমৃত্যু মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যেতে চাই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্বগুণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পুর অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। -তথ্যসূত্র : যায়যায়দিন
৩ মাস ১৪ দিন আগে
কারাগারে থাকার সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়মিত গান শোনাতেন সংগীতশিল্পী ও মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি মমতাজ বেগম। জামিনে কারামুক্তির পর নিজ বাড়িতে পৌঁছে জেলজীবনের নানা কথার প্রসঙ্গে আইভী নিজেই ফাঁস করেছেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে আইভীর সাথে দেখা করতে এসেছিলেন তার স্কুল জীবনের পুরোনো বন্ধুরা। তাদের সাথে গল্পের ছলে আইভী জানান, কারাগারে প্রায়ই সময় কাটত মমতাজের গানের আসরে এবং সেখানে মূল পারফর্মার ছিলেন মমতাজ নিজেই।গানের আসরে একটি বিশেষ গান গাইতে আইভী সরাসরি বারণ করেছিলেন মমতাজকে। ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’—এই গানটির লাইনগুলো শুনলে আইভীর মনে পড়ে যেত তার সদ্য প্রয়াত ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা। গত ২০২৫ সালের ৭ এপৃল মাত্র ৫৫ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তার ভাই এবং তার ঠিক এক মাস পরই আইভীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ভাইয়ের স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাদের এতিম ৩ সন্তান আইভীর কাছেই বড় হচ্ছে, তাই এই গান শুনলেই কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি।আইভী মমতাজকে বলেছিলেন যে, তিনি যেদিন জেল থেকে বের হবেন সেদিন এই গান গাইলে কোনো অসুবিধা নেই। কাকতালীয়ভাবে আইভীর মুক্তি পাওয়ার দিন বিকেলেই জেলের গানের আড্ডায় মমতাজ গেয়ে শোনান সেই গানটি। তখনও আইভী জানতেন না যে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় তিনি শেষ পর্যন্ত দেওভোগের বাসায় পৌঁছালে আত্মীয়স্বজন আর শুভানুধ্যায়ীদের ভিড়ে এক নির্ঘুম রাত কাটে তার।জেলে বসে আইভী লিখেছেন চমৎকার একটি কবিতা এবং লোকসংগীতের জনপ্রিয় সম্রাজ্ঞী মমতাজ দিয়েছেন সেই কবিতায় সুর এক দারুণ গান তৈরির জন্য। মুক্তি পেলে মমতাজ গাইবেন এই গান জনসমক্ষে এমনটাই জানা গিয়েছে বিশ্বস্ত সূত্রে। সাংবাদিকরা সেই কবিতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই আইভী হেসে বলেন যে, ধুর, তিনি কি আর কবিতা লিখতে পারেন! তার মতে, কবিতাটি হয়েছে খুবই বাজে কিন্তু মমতাজ গুণী শিল্পী বলেই সেটাকে গান বানিয়েছেন।বিকেল সাড়ে চারটায় আইভীর বাসায় এসেছিলেন সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ভাইয়ের কথা মনে করে আইভী ভেঙে পড়েন কান্নায়। সকাল থেকেই তার বাসায় চলছিল ‘গাদিরে খুম’ দিবস স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আইভী জানান যে, জেলে বসে তিনি দোয়া করেছিলেন যেন এই পবিত্র দিবসের আগেই বাসায় ফিরতে পারেন এবং আল্লাহ তার সেই আকুতি কবুল করেছেন। জেলের অবসরে তিনি অনেক ধর্মীয় আমলও করেছেন।গত বছরের ৯ মে ভোরে নিজ বাসা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে আইভী কারামুক্ত হয়ে বাসায় ফেরার আগ মুহূর্তে জেলা পুলিশ বসিয়েছে তার গেটের সামনে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। পুলিশ অবশ্য দাবি করছে যে, কিশোর গ্যাং দমনের অংশ হিসেবেই তারা লাগিয়েছে এই ক্যামেরা।জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান যে, সাবেক মেয়রের সঙ্গে মানুষজন দেখা করতে পারবে স্বাভাবিক নিয়মেই। তবে আইভী কোনো পলিটিক্যাল কর্মকাণ্ড বা সভা করছেন কিনা, সেটি পুলিশ নজরদারি করবে খুব কড়াভাবে। তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ নেবে আইনগত ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, টানা তিনবারের এই সফল সাবেক সিটি মেয়র হাইকোর্টের দেওয়া সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন কারাগার থেকে। মুক্তির পর তিনি আদালতের বিচারককে কৃতজ্ঝতা প্রকাশ করেন। একই সাথে বর্তমান সরকারকেও ধন্যবাদ জানান আইভি।
৩ মাস ১৪ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে বিস্ময়কর উদাহরণ সৃষ্টি করলেন সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি ২৯৯ আসনে দীপেন দেওয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পহেল চাকমা ও আবুল বাশার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাজনীতি করা পহেল চাকমা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে এম এ আবুল বাশার অংশ নেন। এদের মধ্যে পহেলা চাকমাই ছিলেন দীপেন দেওয়ানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।আর এই দুই প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করা দীপেন দেওয়ানকে স্বপদে পুনর্বহাল করে, তারই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাও আবার গোপনে বা কোনো বিবৃতি দিয়ে নয়, প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেই এই দাবি জানিয়েছেন তারা! বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনায় বিস্মিত হন শহরবাসী। আলোচনার জন্ম দিয়েছে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনেও। প্রশ্ন উঠেছে, দীপেন দেওয়ান কি মীর হেলালের অন্তঃকোন্দলের কারণেই পদত্যাগ করেছেন। এই প্রশ্নের জবাবে এখনো মুখ খুলেননি দীপেন দেওয়ান। তবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠে পহেল চাকমা বলেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি হয়। সেই মোতাবেক পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাহাড়ের মানুষ ছিল আনন্দিত। তবে একই সঙ্গে ছিল হতাশাও। কারণ পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে একজনকে প্রতিমন্ত্রী দেওয়ার কারণে। এটি ছিল পার্বত্য চুক্তি ও আইনের পরিপন্থি। এ নিয়ে অন্তঃকোন্দলের জেরে দীপেন দেওয়ানকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে পুনরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জোর দাবি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। একই সঙ্গে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিধি-বহির্ভূতভাবে নিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কামনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন, পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শাসনব্যবস্থা কার্যকরকরণ এবং অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ।সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃহস্পতিবার এই সংবাদ সম্মেলন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে আহ্বান করার কথা জানানো হলেও বাস্তবিক অর্থে বাকি চার প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন শুধু পহেল ও বাশারই।এ প্রসঙ্গে পহেল চাকমা বললেন, ‘সবারই আসার কথা ছিল, কিন্তু আবু বকর হজ্ব করতে সৌদি, চন্দনাইশ গেছেন অশোক তালুকদার, জুঁই চাকমা আসবেন বলে আসেন নাই। আর জসীম ভাই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও আসেননি।’দীপেন দেওয়ানের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পহেল চাকমা জানান, দীপেন দেওয়ান আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তিনি একজন নিপাট ভদ্রলোক। তার পদত্যাগে রাঙামাটি তথা পার্বত্যবাসীর ক্ষতি হলো। রাঙামাটির একজন সন্তান হিসেবে তার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য মনে করেছি। সবখানে তো আর রাজনীতি চলে না। আমরা দেশের প্রচলিত রাজনীতির বাইরে এসে ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে দীপেন দেওয়ান ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪২ ভোট। ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার পেয়েছিলেন ৪৪৯ ভোট।
৩ মাস ১৫ দিন আগে

লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান জোরদারের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘বদ্ধ পাগল’ এবং ‘সবাই তাকে ঘৃণা করে’ বলেছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈরুতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন ট্রাম্প।
৩ মাস ১৭ দিন আগে
এমন মানুষ বছরে বছরে গন্ডায় গন্ডায় জন্মায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী অপেক্ষা করতে হয় জাতির এমন একজন মহানায়কের জন্য। সমকালের গড়পড়তা সাধারণ মানুষের মতো নন; এরা সময়ের সেরা সন্তান; শতাব্দীর বিস্ময়। ইতিহাস তাদেরকে কুর্নিশ করে; কৃতজ্ঞতায় নত হয় দেশ, বিশ্ব জানায় অভিবাদন। ক্ষুদ্র ও কৃতঘ্ন নরাধমেরা তাদের নামে যত বেশি কুৎসা রটায়, মানুষের হৃদয়ে ততই উজ্জ্বল, ভাস্বর ও দেদীপ্যমান হয়ে ওঠে তাদের অম্লান স্মৃতি।আমাদের জাতির তেমন একজন দিশারীর কথাই বলছি। এটা কোনো বীরপূজা বা ব্যক্তিবন্দনা নয়। জন্মভূমির যোগ্য সন্তানের, দুঃসময়ের এক দুঃসাহসী ত্রাতার সত্যিকারের মূল্যায়ন। তিনি আমেরিকায় জন্মালে হতেন জর্জ ওয়াশিংটন, গ্রেট ব্রিটেনে জন্মালে চার্চিল, ফ্রান্সে জন্মালে দ্য গল, রাশিয়ায় জন্মালে মার্শাল জুকভ, চীনে জন্ম নিলে মার্শাল চু তে। কুর্দি হলে তিনি হতেন গাজী সালাহ্উদ্দীন, তুরস্কে জন্মালে মোস্তফা কামাল, প্রাচীন পারস্যে জন্মালে সাইরাস দ্য গ্রেট, আলজিরিয়ান হলে হতেন তারেক ইবনে জিয়াদ, মহিসুরে জন্মালে হতেন হায়দার আলী, মিসরে জন্মালে জামাল নাসের, মুঘল হলে তিনি হতেন বাবর আর আফগান হলে শের শাহ্ সুরি।বিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে তিনি হয়েছেন জিয়াউর রহমান। তিনি আমাদের জাতীয় পরিচয় ও আদর্শের পতাকা। আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনের পথপ্রদর্শক। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে কর্মচঞ্চল জনস্রোতে মিশে জনপদ থেকে জনপদে ক্ষিপ্রগতি চারণের বেশে ছুটে চলা সেই কর্মী রাষ্ট্রনায়কের ছবি বাংলাদেশের স্মৃতিপটে হয়ে আছে অক্ষয়। নদীমেখলা শস্যশ্যামলা এই বাংলাদেশকে তিনি ধ্যানে-জ্ঞানে তার প্রথম ও শেষ তীর্থভূমি বলে নির্ধারণ করেছিলেন। জীবনে এবং মরণেও বাংলাদেশকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে। এই মৃত্তিকা পবিত্রতর হয়েছে তারই শহীদি রক্তে। অবিনাশী আপন কীর্ত্তিরাজি পশ্চাতে ফেলে তার জীবনের রথ দিগন্তে পৌঁছে গেলে এখানেই রচিত হয়েছে তার অন্তিম শয়ান। সামান্য সমাধিতলে নশ্বর দেহ রেখে সেই অসামান্য মহাপ্রাণ জাতিকে এখনও দেন পথের নির্দেশ।বিস্ময়কর ঐন্দ্রজালিক এক সহজাত ক্ষমতা নিয়ে ক্ষণজন্মা জিয়া জাতির প্রয়োজনের মুহূর্তে বারবার দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন। জীবন বাজি রেখে ইতিহাস-নির্ধারিত দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করে আবার তিনি নিজেই সরে গেছেন যবনিকার অন্তরালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ইতিহাসের পৈশাচিক গণহত্যার ভয়াবহতায় দেশবাসী যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সেই সময় ইথার কম্পনে ভেসে এলো একটি নাম, একটি কণ্ঠস্বর। কালুরঘাটের বেতার-তরঙ্গ মারফত ছড়িয়ে পড়ল সেই বরাভয় : ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। বঙ্গশার্দুল জিয়া ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দুর্জেয় ভূখণ্ডে পাকিস্তানি শাসন-কর্তৃত্বের অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। প্রিয় স্বদেশভূমি যখন আক্রান্ত, দেশবাসী বিপন্ন; সেই ঘোর দুঃসময়ে দেশরক্ষার সৈনিককে কোনো পিছুটান ফিরিয়ে রাখতে পারেনি সুকঠিন কর্তব্য পালন থেকে। প্রিয়তম পত্নীর সকাতর চাহনি, প্রাণপ্রতিম সন্তানদের মায়াডোর উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে সদর্পে, স্বকণ্ঠে তিনি স্বাধীনতার যুগান্তকারী দুঃসাহসী ঘোষণা দেন।কিন্তু কেবল বেতার সম্প্রচার কেন্দ্রের ঘোষণার মধ্যেই জিয়া তার দায়িত্ব ও কর্তব্যকে সীমিত করে রাখেননি। প্রতিরোধের লড়াইকে স্বাধীনতার যুদ্ধে উন্নীত করা এবং সেই যুদ্ধে প্রথমে সেক্টর ও পরে ব্রিগেড অধিনায়ক হিসেবে তিনি রণাঙ্গনে বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আবার দেশবাসী শুনল সেই একই কণ্ঠস্বর। সেও আরেক অনিশ্চিত সময়। একদল অভ্যুত্থানকারী সেনাপ্রধান জিয়াকে বন্দি রেখে তাকে পদচ্যুত বলে ঘোষণা দিয়েছিল। তবে এ অভ্যুত্থান শেষ অব্দি শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়।৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহর থেকেই সারা দেশের সেনা ছাউনিগুলোর চেহারা বদলে যায়। সাধারণ সৈনিকরা অস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে ছুড়তে বেরিয়ে আসে ব্যারাক থেকে। বন্দি সেনাপ্রধান জিয়াকে মুক্ত করে কাঁধে তুলে তারা নেমে আসে রাজপথে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, কুচক্রীরা নিপাত যাক, জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ ধ্বনি দিয়ে সৈনিকরা ৭ নভেম্বর সুবেহ্ সাদেকের সময় রাস্তায় নামলে তাদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাতে সারা দেশের সাধারণ মানুষও বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আবালবৃদ্ধবনিতা দেশরক্ষায় সৈনিকদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে স্লোগান তোলে। সেনাদলগুলোকে বিপুল করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করতে থাকে রাজপথের দুই পাশে অপেক্ষমাণ লাখো জনতা। জনসমুদ্র থেকে বর্ষিত পুষ্পবৃষ্টিতে ছেয়ে যায় ট্যাংক, সাঁজোয়া যান। কামানের নলে মালা পরায় সাধারণ মানুষ। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য!১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর আর কখনও এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়নি। ৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার জাগৃতি ছিল ইতিহাসের এক মাইলফলক। এই বিপ্লবী অভ্যুত্থানের নায়ক কোনো জাঁদরেল সেনাপতি নন, সাধারণ সিপাহিরা। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনতা। তারাই সেদিন বন্দি জিয়াকে মুক্ত করে এনে এক অরাজক ও নেতৃত্বশূন্য পরিস্থিতিতে তার হাতে তুলে দিয়েছিল দেশ পরিচলনার দায়িত্ব। প্রকাশ্য রাজপথে সৈনিক-জনতার মহাসমুদ্রে অবিরত পুষ্পবর্ষণের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে তার রাষ্ট্রক্ষমতার।৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে রাজনীতি, গঠিত হয় রাজনৈতিক দল, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় জনগণের নির্বাসিত মৌলিক অধিকার, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে চক্রান্ত মুক্ত হয়ে সশস্ত্র বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ নামের জাতিরাষ্ট্র বা নেশনস্টেটটি অর্জন করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব। এই রাষ্ট্রের নাগরিকরা রাষ্ট্রভিত্তিক, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত এক জাতীয় পরিচয় অর্জন করে। আর আত্মপরিচয় লাভের মাধ্যমে নবোদ্দীপ্ত এবং আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে নবোত্থিত এই বাংলাদেশি জাতিসত্তাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, স্বকীয়তা, মর্যাদা, নিজস্ব সংস্কৃতি, স্বাধীন অর্থনীতি ও গৌরব নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে চলার প্রশস্ত নতুন মহাসড়ক গড়ে দেন জিয়াউর রহমান।১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে বদলে ফেলেছিলেন জিয়াউর রহমান। পশ্চাদমুখী ও সংকীর্ণ সামন্তচিন্তার অর্গল ভেঙে তিনি বাংলাদেশকে স্থাপন করেছেন সম্মুখপ্রসারী, উদার ও আধুনিক ধারায়। আজ এদেশের যেখানেই উৎপাদন, উন্নয়ন ও নির্মাণের স্বাক্ষর রয়েছে, সেখানেই মিলবে তার গণমুখী ও কল্যাণকর পরিকল্পনার ছোঁয়া। কেবল তার সমকালেই নয়, জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শন কালোত্তীর্ণ হয়ে আজ এদেশের জাতীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ইতিহাস নির্ধারিত যুগান্তকারী দায়িত্ব পালন শেষে তিনি আবার ফিরে গেছেন যবনিকার অন্তরালে। তবে তার এবারকার যাত্রা অন্তিম এবং আর কখনোও তিনি সশরীরে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। কেবল তার কালজয়ী আদর্শ এ জাতিকে পথ দেখাবে।লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখকবিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব
৩ মাস ২০ দিন আগে
মাছের ঘের, লবণ মাঠ, বলগেট ঘাট ও শত শত একর জমির অবৈধ জবর দখলই তাঁর নেশা এবং পেশা। তিনি হলেন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার ৯নং উজানটিয়া ওয়ার্ডের মেম্বার জাফর আলম। যিনি বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে রাজকীয় কায়দায় এসব অপরাধ কর্মকান্ড করায় আওয়ামী দস্যুচক্র দিয়ে। সে হিসেবে তিনি এসব অপরাধ জগতের অঘোষিত রাজা! তাঁর মাথার ওপরও রয়েছে আর্শীর্বাদের ছায়া। যাকে বলা হয় রাজার রাজা। তিনি হলেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ। যার প্রভাবে মেম্বার জাফর আলমের অপরাধের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিতে পারছেন না পুলিশ প্রশাসন। যার প্রমাণ মিলেছে পেকুয়া থানা পুলিশের মুখেও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেকুয়া থানা পুলিশের এক এসআই বলেন, মেম্বার জাফর আলমের বিরুদ্ধে মাছের ঘর, লবণ মাঠ, বলগেট ঘাট, অবৈধভাবে জমি জবরদখল, সাগর পথে চোরাচালান-দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে তিনি। বাইরে কেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তারা তো এখন ক্ষমতাসীন। মেম্বার জাফর আলম পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার এবং উজানটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ স¤পাদক। এ কারণে ক্ষুব্দ জনতা মেম্বার জাফর আলমের অপরাধ কর্মকান্ডের বিচারের দাবিতে একের পর এক মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। ক্ষুব্দ জনতার তথ্যমতে, মেম্বার জাফর আলম ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চকরিয়ার সাবেক এমপি কুখ্যাত বাইট্টা জাফর ও পেকুয়া অঞ্চলের আলোচিত গরু চোর জাহাঙ্গীর ওরফে গরু জাহাঙ্গীর-এর সহযোগিতায় সাধারণ মানুষের জায়গা-জমি দখল করেছেন। এসব দখলকৃত জমি থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতেন।এছাড়া উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া মৌজায় ছগির মেম্বারের রেজিস্ট্রারভুক্ত প্রায় ৯২ একরের মাছের ঘের দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গরু জাহাঙ্গীর ও তার লোকজন দিয়ে জবরদখল করে রাখে। এই দখল প্রক্রিয়াও মেম্বার জাফর আলমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর গরু জাহাঙ্গীর আত্নগোপনে চলে গেলে ওই মাছের ঘের দখলে প্রকাশ্যে আসে জাফর আলম মেম্বার। যেখানে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত ছগির মেম্বারের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর ওয়ারিশ গিয়াসউদ্দিন মাস্টার কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ছিলেন।মেম্বার জাফর আলমের জমি জবর দখলের ঘটনা এখানে শেষ নয়, করিয়ারদিয়া এলাকায় ১২ জনের নামে বন্দোবস্তি থাকা ১২০ একর জমিও সুকৌশলে দখলে নিয়েছেন মেম্বার জাফর আলম। তাদের নিয়োগকৃত মোক্তারকে হুমকি দিয়ে এই জমি জবর দখল করেন। বন্দোবস্তি প্রাপ্তরা জানান, গত ১২-১৩ বছর আগে তারা করিয়ারদিয়া এলাকায় ১২০ একর জমি বন্দোবস্তি পান। তখন এসব জমি ছিল অনাবাদি। আবাদি করার শর্তে এসব বন্দোবস্তি দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এরপর চাষাবাদ করতে মোক্তার হিসেবে নিযুক্ত করা হয় মোক্তার হোসেন নামে একজনকে। বিগত সময়ে তিনি জমি চাষাবাদ থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে আসছিল। কিন্তু ৫ আগষ্টের পর মোক্তার হোসেনকে হুমকি দিয়ে সেই আয়ের অর্থ লুটে নিচ্ছে মেম্বার জাফর আলম। মোক্তার হোসেনও প্রাণভয়ে মেম্বার জাফর আলমের পক্ষ নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন মোক্তার হোসেন। তাকে পেকুয়ার মানুষ ডাকাত মোক্তার হিসেবে চিনে। এছাড়া চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১নং ঘোনা এলাকায় জাকের হোসেন গং-এর ৫২ একর জমিও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাইট্টা জাফরের সঙ্গে মিলিতভাবে দখলে নেয় মেম্বার জাফর আলম। এছাড়াও এ ধরনের আরও বহু মানুষের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়ভাবে।শুধু জমি দখল নয়, পেকুয়ার লবণ মাঠ, বলগেট ঘাট দখল করেও চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মেম্বার জাফর আলমের বিরুদ্ধে। এমনকি সাগর পথে ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ চোরাই মালামাল পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সাগরে মাছ ধরা নৌকা ডাকাতির সাথেও জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা। উজানটিয়ার বাসিন্দা করিম উল্লাহ (৬১) বলেন, আওয়ামী লীগ আমল থেকে পেকুয়ায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও অপরাধ কমেনি একটুও। বরং আরও বেড়েছে। মেম্বার জাফর আলম অনেক আগে থেকে বিএনপি করলেও তার অপরাধ চক্রের সহযোগী সব আওয়ামী লীগের দস্যু। যারা এখনো সক্রিয়। পেকুয়ায় অপরাধের মুলে এই মেম্বার জাফর আলম। বদরখালী এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, মেম্বার জাফর আলম উজানটিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার হলেও বিএনপি নেতা পরিচয়ে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করেছে। চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ এমন কোন অপরাধ নেই তিনি অনুসারি লোক দিয়ে করাচ্ছেন না। ফলে পুরো পেকুয়া অশান্ত হয়ে উঠেছে। আমিনুর রহমান জানান, মেম্বার জাফর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন। ফলে নিরূপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি করছে। তাতেও কোন প্রতিকার মিলছে বলে মনে হচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে মেম্বার জাফর আলমের মুঠোফোনে কল করা হয়। কল রিসিভ করার পর একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দস্যুরা যদি আমার সহযোগী হয়, তাহলে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে এরা কারা?। মানববন্ধনকারীরা তো আওয়ামী লীগের লোক নয়, ওরা তো ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে তো বিএনপিও রয়েছে। যারা অপনার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে-এ প্রসঙ্গে মেম্বার জাফর আলম বলেন, এ নিয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না। এ কথা বলেই ফোন কল কেটে দেন তিনি। এ বিষয়ে কথা বলতে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে পেকুয়া থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনিও কল রিসিভ করেননি। (নোটিশ :- মেম্বার জাফর আলমের অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হলো। দ্বিতীয় পর্বে আসছে ‘‘সাগরে চোরাচালান ও দস্যুতা নিয়ে। প্রিয় পাঠক বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন, মাল্টিমিডিয়া ও পৃন্ট ভার্সনে)
৩ মাস ২৮ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের বাসভবনের বিপরীতে অবস্থিত পৌর কালেক্টর জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর এ হামলার ঘটনা ঘটে।হামলার শিকার হওয়ার পর বেলা ৩টার দিকে এনসিপির এই নেতা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন।ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এই নেতা লিখেছেন, ‘ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা শুরু করে।’হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রথমে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। কিলঘুষিও মারা হয়। এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। এতে আমাদের তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা আমাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।’আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পোস্টে বলেছেন, ঘটনার পর আমরা বর্তমানে থানায় অবস্থান করছি। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকজন আহত হন, তবে গুরুতর নয়। আহতদের পক্ষে থেকে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন। সেসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে কথা বলতে যান। এক পর্যায়ে পেছন দিক থেকে কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে এবং হামলা চালায়। এতে আহত হন এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী। এ ঘটনার পর বিক্ষোভ করেন দলটির নেতারা। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ এ বিষয়ে জানান, নামাজ পড়ে বের হয়ে দেখা করি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে। সেসময় তাকে অনুরোধ করি বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতাদের চরিত্রহনন যেন না করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা নাসীরুদ্দীনসহ তার কর্মীদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।হামলার ঘটনায় এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, ‘ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তারেক রেজাসহ এনসিপি নেতাদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।’অন্যদিকে এনসিপির আরেক নেতা সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ‘ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।’ তিনি জানান, হামলায় কয়েকজন রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
৩ মাস ২৮ দিন আগে
মামলার পর মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার মতো নানা টানাপোড়েন শেষে আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। নগরীর আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান চেম্বারের যুগ্মসচিব নুরুল আবসার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার পরিচালক মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। অর্ডিনারী ও এসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ২৩ মে শনিবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) পুনরায় তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেয় এফবিসিসিআইর সালিশি ট্রাইব্যুনাল। একই আদেশে ২০২৫-২০২৬ এবং ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনী তফসিল বাতিল ঘোষণা করা হয়।গত ২২ এপৃল এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য ছায়েদ আহম্মদ ও এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের ১১ আগস্ট ঘোষিত তফসিলটি আইনগতভাবে সঠিক ছিল না এবং সময়সীমা পার হওয়ায় সেটি কার্যকারিতাও হারিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমসহ সদস্যরা স্বাক্ষরিত এই আদেশে দ্রুত নতুন তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুন তফসিল প্রণয়নে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন হয় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য।এই রায়ের পেছনে ছিল আদালতের সময়সীমা। নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সিভিল পিটিশন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ২৬ এপৃলের মধ্যে বিরোধ নি®পত্তি করতে। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ট্রাইব্যুনাল তাদের সিদ্ধান্ত জানায়।জানা যায়, চেম্বার নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকায় নতুন সংগঠন অন্তর্ভুক্তি এবং আগের তফসিলের বৈধতা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে বিভক্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। যারা দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে ঘোষিত তফসিল বর্তমান বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে আদালত থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।নির্বাচন স্থগিতের নেপথ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থার নেপথ্যে যে নামটি বারবার সামনে এসেছে, তিনি হলেন গার্মেন্টসের পণ্য সরবরাহকারী মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। সালিশী ট্রাইব্যুনালের রায়ে বেলালের এসব কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ অভিহিত করে খারিজ করে দেওয়া হয় আবেদনটি। এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব সালিশী ট্রাইব্যুনালে বেলালসহ তিনজনের আবেদন নি®পত্তি করে উচ্চ আদালতকে অবহিত করতে দেওয়া হয় নির্দেশ। তারপর সালিশী ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে মামলাটির বিষয়ে দেওয়া হয় এই পর্যবেক্ষণ। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে আরো যে বিষয়টি ওঠে আসে, এই আবেদন করার কোনো আইনগত অধিকার নেই বেলালের। আদালতের এরকম পর্যবেক্ষণের পরও মুহাম্মদ বেলালের মন খারাপ হয়নি। তার দাবি, আবেদন খারিজ করলেও আমার প্রকৃত চাওয়া উপলব্ধি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলা খারিজ হয় যেভাবে মামলার নথিপত্র ও ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, নিজেকে চট্টগ্রাম চেম্বারের একজন সাধারণ সদস্য এবং হার্বিস কনভার্টিং লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন মুহাম্মদ বেলাল। তবে মামলার শুনানিতে তার সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে পাওয়া গেছে স্ব-বিরোধী তথ্য। কখনও নিজেকে সাধারণ সদস্য, আবার কখনও একটি নির্দিষ্ট ট্রেড গ্রুপের (চট্টগ্রাম গার্মেন্ট এক্সেসরিজ গ্রুপ) সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। একই ব্যক্তি দুটি ভিন্ন শ্রেণির সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না এই যুক্তিতে তার আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্যারাগ্রাফে বেলালের আবেদন খারিজের কারণ উল্লেখ করেছে। ট্রাইব্যুনাল দেখেছে, টাউন অ্যাসোসিয়েশন বা ট্রেড গ্রুপের যে ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করেছেন বেলাল, নিজে সেই গ্রুপগুলোর সদস্য নন তিনি। ফলে সেখানে তার কোনো সরাসরি আইনি স্বার্থ নেই। এছাড়া বেলাল চট্টগ্রাম চেম্বারের বিরুদ্ধে প্রথম মামলায় নিজের পরিচয় দেন সাধারণ সদস্য হিসেবে। পরে আরেক মামলায় অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রেড গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। এভাবে বারবার পরিচয় পরিবর্তন করে সুবিধা নেয়ার প্রবণতাকে আদালত একই ব্যক্তির দুই শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে করেছেন সমালোচনা।আদালতেও বেলালের ডিগবাজিগত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তার অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য প্রথম আবেদন করেন তিনি। কিন্তু নাটকীয়ভাবে মাত্র তিন দিন পর ২৬ অক্টোবর পুনরায় আবেদন করে জানান, ভুলবশত প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া একই বিষয় নিয়ে তিনি একদিকে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে ১২/২০২৫ নং মামলা করেন, অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগে ১৬৯৭৬/২০২৫ নং রিট এবং আপিল বিভাগে ৫৭/২০২৬ নং লিভ টু আপিল দায়ের করেন।বেলালের উদ্দেশ্য মূলত ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলেন বেলাল। কিন্তু চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড খারিজ করে দেয় তার আবেদনটি। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই উচ্চ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে একের পর এক আইনি লড়াই শুরু করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, চেম্বারের ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী তফসিল নিয়ে। দাবি, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুসরণ না করেই প্রণয়ন করা হয়েছে ভোটার তালিকা। এ অভিযোগের সূত্র ধরেই বারবার থমকে যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া।এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বেলাল বলেন, আমি তো নির্বাচন করছি না। কাকে বাড়তি সুবিধা দিব? কিন্তু বেলালের বড় ভাই এস এম মোহাম্মদ আইয়ুব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন নুরুল হকের ব্যানারে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বেরাচারি আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে চট্টগ্রাম চেম্বারও দখলদারমুক্ত হয়। কিন্তু সেই দখলদাররা শুরু করে মামলা-মামলা খেলা। ফলে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়ে হতে পারেনি চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। সর্বশেষ ঘোষিত শিডিউল অনুযায়ী চট্টগ্রাম চেম্বারে চার ক্যাটাগরিতে ২৪ পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল ৪ এপৃল। আর সেই পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। কিন্তু এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ ২২ এপৃলের রায়ে সেই তফসিল বাতিল করে দিয়েছে নতুন তফসিলে সরাসরি নির্বাচনের নির্দেশনা। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম চেম্বারে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে দুটি প্যানেল। একটি এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্ব ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। আরেকটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সমমনা পরিষদ।
৪ মাস আগে
জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে হঠাৎ শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপ থেমে গেল চট্টগ্রামে। রাজপথে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে এসে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেছেন। এনসিপি আঁকছেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এমন সমঝোতায় মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপি সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় মেয়র শাহাদাত হোসেন গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন। এ সময় বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অংশ নেন।এ ছাড়া এনসিপি নেতাকর্মীরাও তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা থেকে টাইগারপাস এলাকায় জড়ো হয়ে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করে। দু‘পক্ষের মধ্যে এমন সমঝোতার পর উত্তেজনা কমে এসেছে। তাই মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিএমপি। এর আগে নগরীর টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনের প্রবেশমুখে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চারটি পিলারে সাদা-হলুদ রঙ করে সিটি করপোরেশন। রবিবার বিকাল থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।এ নিয়ে রাতে এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগারপাসে বিক্ষোভ শুরু করলে মেয়র শাহাদাতের অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তাদের দুদিকে সরিয়ে দেয়। রাত ১২টার দিকে মেয়র শাহাদাত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।এরপর সোমবার সকালে সিএমপি নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু সিএমপির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে একদল তরুণ-তরুণী টাইগারপাসে গ্রাফিতি আঁকতে যান।এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রতিবাদে এনসিপি সংবাদ সম্মেলন করে দুদিনের গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় পুলিশ বা^ধা দিলে গ্রাপিতি অঙ্কনকারীদের সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের শরীরে পুলিশের হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা। এরপর সোমবার বিকাল থেকে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সিএমপি গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে মেয়র শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, দুপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের ভিডিও দেখে তিনি সিএমপি কমিশনারকে ফোন করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন।মেয়রের ভাষ্য, আমার বিরুদ্ধে গ্রাফিতি মুছার যে অভিযোগ, সেটা ডাহা মিথ্যা। যারা গ্রাফিতি করতে আগ্রহী তারা অবশ্যই করবে। তবে সেটা যেন দৃষ্টিনন্দন হয়। সিটি করপোরেশন এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় পাশে থাকব। প্রয়োজন হলে আর্থিক সহযোগিতাও করব। কাউকে অযথা দোষারোপ বা মিথ্যাচার নয়। আমরা সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাম্যের শহর গড়তে চাই। কোনো ধরনের অনিরাপত্তা বা বিভাজনের রাজনীতি আমরা চাই না।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির প্রচার ও প্রকাশনা স¤পাদক রিদুয়ান হৃদয় বললেন, মেয়র সাহেব নিজেই গ্রাফিতি আ^ঁকছেন। সেটা ভালো লাগছে। তবে উনার মতো করে উনি গ্রাফিতি আঁকছেন। আমরা আমাদের মতো করে আঁকছি। সোমবার রাতের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেও গ্রাফিতি অঙ্কন চলছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের রক্তে কেউ যেন হাত দেওয়ার সাহস না করে, সেটাই প্রত্যাশা করব।
৪ মাস ১ দিন আগে