ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে বাজার নিয়ন্ত্রণের খেলায় জড়িত দেশের ৮ কোম্পানি। তবে এতে ধরা খেয়েছে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এই কোম্পানিকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।
ওই মামলার শুনানি শেষে আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আপিল বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।
কমিশনের রায়ের মতামতে বলা হয়েছে, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত রাখে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।
এর ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ঘটনায় প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর দফা (ক)-এর উপদফা (অ) ও দফা (খ) লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে কমিশন উল্লেখ করেছে। কমিশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশের ৯(৩) ধারা অনুযায়ী সরবরাহ আদেশের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন এবং তা কোনো অবস্থাতেই বাড়ানো যায় না। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহও নিষিদ্ধ।
কিন্তু শবনম ভেজিটেবল অয়েলের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ (এসও) ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এবং ওই সময়ে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অনুসন্ধান চালিয়ে সরবরাহ সংকট সৃষ্টির প্রমাণসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা এডিবল অয়েল লিমিটেড, ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, এস আলম এডিবল অয়েল লিমিটেড ও টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
প্রতিযোগিতা কমিশনের গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান দলের তথ্য মতে, কারসাজির কারণে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এ কারণে প্রতিযোগিতা আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পরে কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে অন্য ৭ কোম্পানি এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে বলে জানিয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন।