ছিলেন ছাত্র, হলেন শহীদ। মহান এই আত্নদানে বলীয়ান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম। মরেও তিনি প্রমাণ করলেন শোষণ বিরোধী আত্নদান কখনো বৃথা যায় না। বরং অনেক সম্মানের। বীরোচিত এই ছাত্রের আত্নবলীদান মুহুর্তে মুহুর্তে স্মরণ করছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ।২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেলা ৩ টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছোড়া গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ তিনিই। যার প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রাম মহানগরীর পরতে পরতে সাইনবোর্ড-ব্যানারে ঝুলছে সেই থেকে।সেই শোকাবহ ঘটনার দু‘বছর পূর্ণ হল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসী ভুলেনি শহীদ ওয়াসিম আকরামকে। দলীয় নেতাকর্মী ও চট্টগ্রামবাসীর পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত ১২ জুন সশরীরে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার গিয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেন।স্থানীয়দের তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার প্রবাসী শফিউল আলমের মেঝ ছেলে ওয়াসিম আকরাম। সর্বশেষ ছাত্র ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের। পড়তেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে। সেই সুবাধে চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকতেন ওয়াসিম। জড়িত ছিলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতিতে।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যখন বিরোধী দল দমনপীড়নে খড়গহস্ত, ঠিক এই অসময়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। আর ক্ষণে ক্ষণে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের মারধর, হামলা-মামলা ও গুলির মুখে পড়েছেন ওয়াসিম আকরাম।এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশে চাঙা হয়ে উঠে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। ঢাকার ছাত্র জনতার সাথে চট্টগ্রামেও এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেন ছাত্ররা। তাদের সর্বাগ্রে থেকে নেতৃত্ব দেন শহীদ ওয়াসিম আকরাম।মধ্য জুলাইয়ে আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংস হয়ে উঠে। তখন পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে। এতে দমে যাননি স্বৈরাচারবিরোধী অকুতোভয় বীর সেনানী ওয়াসিম আকরাম। বরং অন্য সহযোদ্ধাদের মতোই আরো বেশি সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন।ওয়াসিমের সহপাঠি ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলামের মতে, ১৬ জুলাই দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। দুই নম্বর গেট এলাকায় একটি বাস ভাংচুর করে তারা। বিকেল ৩টা থেকে নগরীর মুরাদপুর, ২নং গেট ও ষোলশহরের আশপাশের এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষের শুরুতে লাঠিপেটা করা হলেও, পরে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সাথে সাদা পোষাকে হেলমেট পড়ে কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। বেশ কিছু ককটেলও বিস্ফোরিত হয়। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পরে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এভাবে অনেক্ষণ চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অনেকে অলিগলিতে ঢুকে পড়লে সেখানেও খুঁজে বের করে হামলা করা হয়। সেদিন গুলিবিদ্ধ হন শহীদ ওয়াসিম আকরাম। বাচানোর আশায় সহপাঠিরা যে তাকে হাসপাতালে নিবে সে সুযোগও সেদিন অবরুদ্ধ করে পুলিশ ও অস্ত্রধারী ছাত্রীগ-য়ুবলীগ নেতাকর্মীরা। রাত প্রায় ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ নিয়ে ওয়াসিম আকরামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিসৎকরা।সেদিনের কথা বলতে গিয়ে চোখে একরাশ ক্ষোভ আর হতাশার কান্না নিয়ে সহপাঠী ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর আগের দিন ওয়াসিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়। পোস্টটিতে সে লিখেছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আছে আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এই পরিচয়েই শহীদ হবো। আর এর ঠিক ১৬ ঘণ্টা পরই শহীদ হলেন ওয়াসিম আকরাম। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ এটি।১৭ জুলাই সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার ওয়াসিমের জানাজা হয়। এরপরই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।আক্ষেপ কাটেনি প্রবাসী বাবা ও গৃহীনি মায়েরশহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার প্রবাসী। সেখানে তিনি একটি কোম্পানীতে চাকুরি করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছেলের আত্ন বলীদানের কথা শুনলেও দেশের অরাজক পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারেনি। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ফিরেন তিনি।সেই থেকে ছেলের আত্নবলীদান নিয়ে আক্ষেপ বাড়ছে প্রবাসী শফিউল আলমের। অন্যদিকে দেশে থেকেও মনকে কোনভাবে সাত্ননা দিতে পারছেন না মা জ্যোস্না বেগম। কারণ তাদের অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল শহীদ ওয়াসিম আকরামকে নিয়ে।মুঠোফোনে এসব কথা বলেন ওয়াসিম আকরামের চাচা মাওলানা জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর থেকে বাবা শফিউল আলম প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সেখানেই কাটান।মা জ্যোস্না বেগম এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না যে তাঁর সন্তান নেই। প্রতিটি মুহূর্তে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান, চোখের সামনে ভাসে ওয়াসিমের হাসি, তার কণ্ঠস্বর, তার চলাফেরা। আকস্মিক সন্তান হারানোর আঘাত সইতে না পেরে শোকস্তব্ধ ওয়াসিমের মা হারিয়েছেন শ্রবণশক্তি, একবছর ধরে তিনি বিছানায় শয্যাশায়ী।চাচা মাওলানা জয়নাল জানান, পিতামাতার ৫ সন্তানের মাঝে ওয়াসিম ছিলেন দ্বিতীয়। সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বড় ভাই মহিউদ্দিন চাকুরি করে। ছোট আরো এক ভাই ও দুই বোন পড়াশোনা করে। তাদের সবার স্বপ্ন ছিল ওয়াসিম আকরামও পড়ালেখা শেষ করে সরকারি বড় কোন পদে চাকরি করবে। পরিবারের হাল ধরবে।আবেগাপ্লুত চাচা জয়নাল জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে কেউ কল্পনাও করেনি। তাকে হারিয়ে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে আমাদের পরিবারের ওপর। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। সে স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায় ১৬ জুলাই বিকেলের একটি বুলেটে। ওয়াসিমের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কাছে দাবি জানান চাচা জয়নাল।ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, সেটা যে সন্তান হারিয়েছে শুধু সে-ই বুঝবে। মা হারিয়েছি, দুই মাস পর ছেলেকেও হারিয়েছি। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না। ভাই হারানোর যন্ত্রণা আমার অন্য সন্তানদের মধ্যে। কেউ আমাকে ছাড়তে চায় না। বাকি জীবনটা তাদের বুকে আগলে রেখেই কাটিয়ে দিতে চাই।সহপাঠি ও এলাকাবাসীর ভাষ্যওয়াসিম আকরাম কেবল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না, বরং ছিলেন বিনয়ী ও সবার প্রিয়। গ্রামের মানুষরা জানান, তিনি পড়াশোনার ফাঁকে মাঝেমধ্যে গ্রামে যেতেন এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওয়াসিমের পরিবার এখনো শোকসাগরে ভাসছে ওয়াসিমের পরিবার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে এ কথা কেউ কল্পনাও করেনি। তার মৃত্যুতে পরিবারে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তবে সান্তনার বিষয়, সরকার শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের পাশে আছে।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৩ জুন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার এসে শহীদ ওয়াাসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের খোঁজ-খবর নেন। এসময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন সরকারপ্রধান। এতে পেকুয়া উপজেলাবাসী গর্বিত। এতে মনে হচ্ছে শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্নদান বৃথা যায়নি।চট্টগ্রামে সেদিন আরও আত্ন বলীদান ছিল যাদেরজুলাই অভ্যূত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছাড়াও চট্টগ্রামের রণাঙ্গনে সেদিন জীবন বিলিয়ে দেন ছাত্র শিবির নেতা ফয়সাল হোসেন শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। এই তিন প্রাণের বিনিময়ে সেদিন থেকে চট্টগ্রামে আন্দোলন চুড়ান্ত রুপ পায় বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের তৎকালী সমন্বয়কদের অন্যতম মশিউর রহমান।তিনি বলেন, ১৫ জুলাই প্রথম প্রতিরোধের পর ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মেরে ফেলব, কেটে ফেলব-এ ধরনের পোস্ট দিতে শুরু করে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের ছবি তুলে আমাদের ইনবক্সে পাঠাতে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আমরা যাতে ভয় পেয়ে ষোলশহরে আর না যাই। কিন্তু আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ছাত্রলীগ হামলা করতে এলে জোরালোভাবে প্রতিরোধ করা হবে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সেদিন শান্তিপুর্ণ ভাবেই মুরাদপুর মোড় ও রেলগেট এলাকায় অবস্থান করছিলো। বিনা উস্কানিতেই ছাত্রলীগ আমাদের উপর অস্ত্রসহ হামলা চালায়। জবাবে শিক্ষার্থীরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।প্রথম হামলাতে শিক্ষার্থীরা কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে পরেন। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁরা গুছিয়ে উঠে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই সময়গুলি গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘটনা স্থালে হাজির হয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। এ সময় তাদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম, শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। রক্তে লেখা হয় নতুন ইতিহাস।সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, ওয়াসিমের মতো সেদিন শহীদ হওয়ার আগে শিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ শান্ত তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে রিখেছিল- যে হৃদয় শাহাদাতের উচ্চাকাক্সক্ষা লালন করে, সে হৃদয় কখনো হতাশ হয় না। শান্ত নেই, কিন্তু সেই লেখা এখনো রয়ে গেছে।শহীদ শান্তর মা কোহিনূর বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার ছেলে আমার বুকের ধন। আমার ছেলের কষ্ট হবে, এজন্য আমি শত ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে কোনো কাজে হাত দিতে দিতাম না। আমার ছেলেটাকে ছেড়ে আমাকে দু‘টা বছর কাটাতে হল, সারাজীবন কাটাতে হবে, এ দুঃখ আমি কীভাবে সইব!শান্তকে নিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছেন, তিনি সবসময় ওয়াসিমের কথা বলেন শুধু, বাকি দুজনের কথা বলেনই না। এখন দেখছি সরকারের সবাই একই পথে হাঁটছেন। আমি মনে করি, এটা একটা বৈষম্য!সেদিন আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হামলায় শহীদ হন দোকান কর্মচারী ফারুক (৩২)। মুরাদপুরে কর্মস্থলে ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী সীমা আক্তার স্বামীর মৃত্যুতে আজও শোকে স্তব্ধ। তিনি বলেন, আমার স্বামী তো নেই। আমি আমার স্বামীর হত্যা কারীদের ফাঁসি চাই।
১ মাস ১২ দিন আগে
আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, সমাজে বিদআত পরিহার এবং নৈতিক জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেওয়া তার বক্তব্যকে সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে সেফ এক্সিট দেওয়া নিয়ে বিতর্কে পড়েন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এ ঘটনার পর তাকে সেনা প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলায় সেই বিতর্ক কাটিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান গত সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে সেনাপ্রধান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিদআত ছেয়ে গেছে এদেশে। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত। সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ ইসলামিক সমাজ আমরা চাচ্ছি, এই এডুকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। আমি মনে করি এভাবে যদি আমরা এডুকেশন ইন্সটিটিউশগুলোকে গড়ে তুলি, তাহলে আমরা একটা এডুকেশন সিস্টেম পাব, যেভাবে ইসলামিক ভেল্যুসগুলো থাকবে। মর্ডান এডুকেশন থাকবে। যাতে সোসাইটি লাভবান হয়।আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজ যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী ৩০ বছর পর একটি সুস্থ, আদর্শ ও নৈতিক জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। সুলতান মাহমুদ রুপশ নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় সেনাপ্রধান! আপনাকে যত দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি।জাকিরুল আলম মিলন নামে একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দেশের জন্য এরকম দ্বীনদার সেনাপ্রধান একান্ত কাম্য! আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি! শ্রদ্ধেয় সেনাপ্রধানের জ্ঞানগর্ভ, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী আরো উদ্যমে, সুসংগঠিত এবং নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন! মহান আল্লাহ প্রতিটি সেনা সদস্যকে তার খাস বান্দা হিসেবে কবুল করুন!’ইসমাইল টোলিন নামে একজন লিখেছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার কথা একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে শুনতে সবসময়ই ভালো লাগে। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ইসলামের রীতি-নীতি ও নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরার প্রচেষ্টা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এতে তার প্রতি আলাদা একটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দেশের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। মহান আল্লাহ তাকে ন্যায়, সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন।
১ মাস ১২ দিন আগে
দুবাইয়ে গ্রেফতারের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। দেশে দুর্নীতিসহ বেশ কিছু মামলা চলমান থাকায় গ্রেফতারের পর থেকেই তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। জামিনে মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় তার জামিন বাতিলে দুবাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ল’ ফার্ম নিয়োগে কাজ করছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।বেনজীর আহমেদ জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এখন শুনলাম স্টেজে বসে। সাথে সাথেই আমি হোম সেক্রেটারির সাথে কথা বলেছি। হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে আমাদের যে ইউএই অ্যাম্বাসেডার তার সাথে কথা বলেছেন। আমরা কয়েক দিন আগেই ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি, এই বিষয়টার জন্য শুধুমাত্র। তাকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছে যেন বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য সে পারসু করবে।বেনজীরের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি খবর পেয়েছি তাকে অন কন্ডিশনে এখানে তার ইউএই লিভ না করার শর্তে বেইল দিয়েছে। কী কী শর্ত সেটা আমি সার্টিফাইড কপিটা জোগাড় করতে বলেছি এবং আমাদের যে ল ফার্ম রয়েছে তাদেরকে আমরা ইন্সট্রাকশন দিয়েছি যেন এই বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য তারা পারসু করে।বাংলাদেশ সরকার এখন কোন আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী তার জামিন বাতিল করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা আইনানুগভাবে গিয়েছে আমরা ল ফার্ম নিয়োগ করেছি। আমাদের চেষ্টা আমরা করছি এবং আমরা আশা করছি এগুলা আমরা বেইল ক্যানসেল করতে পারবো এবং দ্রুততম সময়ে তাকে ফেরত নিতে পারবো।এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই করা হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতিমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপৃল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
১ মাস ১৪ দিন আগে
কমিশন ছাড়া ফাইল ছাড়েন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশন না পেলে ঠিকাদারদের করেন তুলোধুনো হয়রানি। এমন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তারেক মো, সামছ তুষারের সাফ জবাব, জিএম সব জানে, ওনার সাথে কথা বলুন।এমন কথায় বিস্মিত হয়ে ফের প্রশ্ন করা হয়, আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিবেন? তিনিও ফের উত্তর দেন, হ্যাঁ যা বলবেন জিএমকে বলুন, তিনিই এর জবাব দিবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে কি বলল না বলল, আর আপনি তা লিখে দিবেন? এগুলোর কী প্রমাণ আছে?ঠিকাদারদের অভিযোগ ও একাধিক রেকর্ড থাকার কথা জানালে-এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন ইজিপিতে টেন্ডার হয়, কমিশন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের কথা বলেছে তাকে এখানে নিয়ে আসুন। সেরকম কোন নিয়ম না থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে যান।ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ইজিপি টেন্ডার রেলওয়ের জন্য আইওয়াশ। ইজিপি ছাড়া যেমন কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মও দূর্নীতি হয়েছে। ইজিপিতে তার চেয়ে বেশি অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। বরং এ নিয়ে কোন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাদের ইজিপির দোহাই দিয়ে বাচার চেষ্টা করছেন রেলওয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।ঠিকাদাররা জানান, রেলওয়ের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তরের প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারও অবকাঠামো ও মালামাল ক্রয়ের যে কোন ইজিপি টেন্ডার নানা কলা-কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন। সেই সুত্রে তিনি ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত (টেন্ডার ভেদে) কমিশন হাতিয়ে নেন।টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারও কাজ পেয়ে কমিশন দেন। অন্যথায় টেন্ডারের ব্যপ্তি ও মূল্য নির্ধারণে গড়ি মসি করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশনের বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় টেন্ডারের ব্যস্তি ও মালামাল ক্রয়ে বাজার মুল্য অতিরিক্ত ধরে ঠিকাদারদের সুবিধা দেন।শুধু তাই নয়, টেন্ডার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্তরে স্তরে ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় ঠিকাদারদের। আবার কাজ শেষে টেন্ডারের বিল তৈরী থেকে নিয়ে হিসাব শাখা থেকে বিলের চেক নিতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় কমিশন ও ঘুষ।আর কমিশন ও ঘুষ আদায়ে সব দপ্তরের কর্মকর্তারা একাট্টা। এক্ষেত্রে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যে বড় ভুমিকা রাখে বাজার দর কমিটি। যে কমিটিতে রেলের সব কর্মকর্তারা কোন না কোনভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের এমন সিন্ডিকেটে বন্দি রেলওয়ের কাজে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। এরপরও নানা কারসাজির মাধ্যমে লাভ বের করে আনেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, শুধু ইজিপি নয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারের বিভিন্ন ভুয়া নামে একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স আছে। যেগুলোর কোন আস্তিত্ব নেই। এসব লাইসেন্সের নামে কৌশলে চলে যায় বেশিরভাগ ইজিপি টেন্ডার। তবে এসব কাজে প্রধান সহযোগী হলেন এ দপ্তরের একজন কর্মচারী। যা দুদক বা নিরপেক্ষ কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে মিলবে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।ঠিকাদারদের মতে, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল শাখার অধীনে প্রতি অর্থবছরে শত শত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ হয়। যেখান থেকে তিনি ইজিপি টেন্ডারের নামে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার কিছু কিছু টেন্ডার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সে নিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। যা জানা কষ্ঠসাধ্য।দূর্নীতির এসব টাকায় তিনি নিজ জেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী অনেক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের দপ্তরে গেলে বড় বাবু খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান নির্বিঘ্নে বলে দেন, স্যার তো কথা বলে না। কিছু জানার থাকলে জিএমের সাথে যোগাযোগ করেন।কেন? পরিচয় হতেও আপত্তি আছে নাকি- এমন প্রশ্ন করা হলে জানতে তিনি প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের কাছে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে তারেক মো. সামছ তুষার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারব না, কিছু জাসতে চাইলে আপনারা জিএমের কাছে যান, ওনার সাথে কথা বলুন।আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিয়ে নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ-যা বলবেন জিএমকে বলুন। তিনিই এর জবাব দিবেন। এমনভাবে রূঢ় আচরণ করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো, সুবক্তগীন বলেন, প্রকৌশলী সামছ তুষার যদি অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে লিখেন। সেখানে আমাকে পেছাচ্ছেন কেন? আমি কি সামছ তুষারের খাই, না সামছ তুষার আমার খাই। আপনার অভিরুচির মধ্যে পড়লে আমাকে টানেন।প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার আপনাকে টেনে আনছেন, আমি আনছি না-এমন কথায় তিনি বলেন, ঠিক আছে আপনি কাল (৩ আগস্ট, সোমবার) সকাল ১১টার দিকে আসেন। আমি তাকে ডেকে প্রশ্ন করব, সে আমার কথা বলবে কেন? এ কথা বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।
১ মাস ১৪ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিদিন আহতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এ থথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দু‘বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের বহু আহত জুলাই যোদ্ধা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শরীরে বাসা বাঁধা গুলির স্পিøন্টার, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা অঙ্গহানির কারণে প্রতিনিয়ত শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তারা।তিনি বলেন, আন্দোলনে আহত অনেকের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি তদারকি প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন আসা রোগীদের অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাদের উন্নত বা জটিল অস্ত্রোপচার দরকার, তাদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী আহতদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে সরকার। এর মধ্যে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা অতি-গুরুতর এ ক্যাটাগরিতে আছেন ৬ জন। গুরুতর বি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন। কম গুরুতর সি ক্যাটাগরিতে আছেন ৫০৫ জন।দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনে গঠিত এই বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন আহতকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন। বোর্ডে চিকিৎসাধীনদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নির্দেশনা, ওষুধ দেওয়া ছাড়াও অর্থোপেডিক প্লেট অপসারণ এবং জটিল চোখের রোগীদের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
১ মাস ১৬ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে আয়োজিত কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে।বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান সিএমপির কোতোয়ালি থানার এসআই মাসুম বিল্লাহ।তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছিল এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। সমাবেশ শেষের দিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের টানা-হেঁচড়া ও হাতাহাতি শুরু হয়।এতে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে। এতে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কর্মসূচি শেষের দিকে বিএনপি নেতা শাহেদ বক্সের নেতৃত্বে একদল কর্মী এসে আমাদের ঘিরে ধরে। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে হাতাহাতি শুরু হয়।একপর্যায়ে বিএনপি নেতা শাহেদ বক্স আমাদের ওপর চড়াও হন এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বললে লাশ ফেলার হুমকি দেন। আমরা পরিষ্কার বলেছি, কর্মসূচি পালন করা ও সমালোচনা করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম স¤পাদক শাহেদ বক্স জানান, আমি জিমে যাওয়ার পথে প্রেস ক্লাবের কাছে ছাত্রদলের কিছু সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গাড়ি থেকে নামি।তারা জানায়, এনসিপি নেতারা তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করছেন। আমি তাদের নিবৃত্ত করি এবং জানাই যে প্রতিবাদ জানাতে হলে পরদিন আলাদাভাবে কর্মসূচি করা হবে। আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছি। তা না হলে সেখানে বড় ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারত।
১ মাস ১৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যুর কয়েক মাস পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত খামেনির জানাজাকে ঘিরে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।কর্মকর্তারা তেহরান, কোম ও মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালা জুড়ে কয়েক দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন। ইরান সরকার জানাজায় উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জানাজাকে একটি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি।ইরাক নিশ্চিত করেছে, রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়াদের দুটি পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ইউনিটস এই অনুষ্ঠানগুলো কভার করার জন্য স্থানীয় ও বিদেশি গণমাধ্যমকে স্বীকৃতিপত্রের জন্য নিবন্ধন করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানাজা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের একটি সময়সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুসারে, ৩ জুলাই তেহরানে বিদেশি নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানীর ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় প্রকাশ্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।৬ জুলাই রাজধানীতে একটি জানাজা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৭ই জুলাই কোমে, ৮ই জুলাই নাজাফ ও কারবালায় এবং ৯ই জুলাই মাশহাদে আরও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেটিকে ইরানের শিয়াদের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরটি খামেনির নিজ শহর এবং তাকে সেখানেই ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে, যা শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান এবং একটি প্রধান তীর্থস্থান।খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ইরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে এ জানাজার নামাজে অংশ নেবেন এবং এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ২ জুলাই তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনসিপির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনিই তেহরান যাচ্ছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে ইরান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো ভিসা না পাওয়ায় বিমানের টিকিট কাটতে পারেননি। ফলে তিনি কবে এবং কোন ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দলও যাচ্ছে তেহরানে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী ও ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। আগামী ৩ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবে এ দলটি। প্রতিনিধিদলটি ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান সফর করবে।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।সমাবেশকে ঘিরে দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে লালদিঘী ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেন জনস্রোতে রূপ নিয়েছে। দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গণরায়ের বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মহাসমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, নির্বাচনসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।সমাবেশ ঘিরে লালদিঘী ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সমাবেশের কার্যক্রম চলমান ছিল এবং একে একে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেবেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরের নেতারা।সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।সমাবেশকে সফল করতে জোটের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কয়েকদিন ধরে চালানো হয় প্রচার-প্রচারণা। ফলে সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
৩ মাস ৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে দীর্ঘ বছর ধরে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক সমিতির সদস্যদের মধ্যে দুই দফা হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় চমেক জরুরি বিভাগের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ দুইপক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে দুই পক্ষই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর মধ্যরাতে বিবদমান এনসিপি ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেছে। এর আগে দুপুরের দিকে প্রথম দফায় হাতাহাতি হয়। এতে এনসিপির দু‘জন আহত হয়। আহতরা হলেন— শাহাদাত হোসেন ও এম এ আলী।এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, ১০ বছর ধরে চমেক হাসপাতাল কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই সিন্ডিকেট মৃত মানুষ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জিম্মি করে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে। এক বছর আগে একটি ভাড়া নির্ধারণী বৈঠক হয়েছিল। এরপর এক মাস ঠিক ছিল। পরবর্তী সময়ে আবারও ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় শুরু করে।এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয় কমিটির সদস্য রিদুয়ান হৃদয় জানান, দুপুরে নোয়াখালীগামী এক রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্সে পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স শ্রমিক ও মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। তখন থেকে ঘটনার সূত্রপাত।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন এই এনসিপি নেতা।এদিকে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ বলছেন, ভাড়া যদি বেশি নিয়ে থাকে, তবে সেই অভিযোগ নিয়ে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে আসা উচিত ছিল। সে কেন ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চায়? ৫ আগস্ট কারো বাপের না। ৫ আগস্টের দোহাই এখন আর খাটে না।সমিতির দাবি, এনসিপির কোনো এক নেতার অ্যাম্বুলেন্সকে এই সমিতির অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টার কারণে এই বিরোধের সূত্রপাত।তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপি নেতা রিদুয়ান। তিনি বলেন, এনসিপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অ্যাম্বুলেন্স অন্তর্ভুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ দিতে পারবে না। এটা মিথ্যা অভিযোগ।এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি থাকায় উত্তেজনা ছিল। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।
৩ মাস ৮ দিন আগে