রেলের অনবোর্ড কর্মীদের বেতন মেরে খাচ্ছে শাহ আলম
রেলওয়ের অনবোর্ড কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের টাকা মেরে খাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী রেলের মাফিয়া ও রক্তচোষা খ্যাত শাহ আলম। অনবোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুকুলে রেলওয়ে থেকে প্রতিমাসে বেতন প্রদান করা হলেও সেই টাকা জুটে না কোন কর্মচারীর। উল্টো শাহ আলমকে টাকা দিয়ে রেলের ডিউটি নিতে হয় তাদের।ফলশ্রুতিতে রেলের মাধ্যমে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ পাচার, গেস্ট পরিচয়ে বিনা টিকিটে তোলা শত শত যাত্রীর ভাড়া হাতিয়ে সরকারের রাজস্ব গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নিরুপায় অনবোর্ড কর্মচারীরা। এমন তথ্য মিলেছে রেলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে।সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠানামার ফাঁকে কথা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, রেলওয়েতে জনবল সংকটের অজুহাতে অনবোর্ডে ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনার।মজুরী কাঠামোর আওতায় এসব কর্মচারীর মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয় ক্লিনার পদের জন্য। আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা বেতন ধরা হয় ম্যানেজারে পদের জন্য। বাকি পদগুলোর অনুকুলে প্রদত্ত বেতনের মধ্যে ২-১ হাজার টাকা তারতম্য রয়েছে।সুনির্দিষ্ট জনবলের অনুকুলে প্রতিটি রেলের জন্য প্রতিমাসে ৬-৭ লাখ টাকা বেতন প্রদান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এভাবে ৫টি ট্রেনের অনবোর্ড থেকে পাওয়া ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনকে।ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধুলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর এসব ট্রেনে কর্মরত অনবোর্ড কর্মচারীদের একজনও সেই বেতনের এক টাকাও পাই না। উল্টো টাকা দিয়ে ট্রেনে ডিউটি নিতে হয় অনবোর্ড কর্মচারীদের। ফলে বেতন জোগাড় করতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা।এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার অন্যতম। গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত বছর ২৯ মার্চ এই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর রেলওয়ে স্টেশনেও ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা একই সুত্রে গাথা বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন।র্যাবের এই কর্মকর্তার মতে, স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান যেহেতু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী, সে হিসেবে এই ইয়াবা বা মাদক পাচারের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা ট্রেনের চালক থেকে নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।শুধু ইয়াবা বা মাদক পাচার নয়, চলন্ত ট্রেনে বান্দরবানের ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী। এরা হলেন মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয় তারা।এছাড়া শাহ আলমের গেস্ট পরিচয়ে শত শত যাত্রী বিনা টিকিটে প্রতিটি ট্রেনে তোলা হয়। এসব যাত্রীর টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেয় শাহ আলমের অনবোর্ড কর্মচারীরা। এভাবে প্রতিদিন অনবোর্ডের ৫টি ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের ২টি ট্রেন থেকে গেস্ট যাত্রীর ভাড়া বাবদ ৫-৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শাহ আলম। যা মাসে দেড় কোটি টাকারও বেশি। ক্যাটারিংয়ের ট্রেনগুলো হলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস।আর সরকারি রাজস্বের এসব টাকার একটি অংশ দিতে হয় শাহ আলমকে। বাকি অংশ ভাগাভাগি হয় অনবোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকোমাষ্টার, টিটি, স্টেশন ম্যানেজার, রেলওয়ের কমার্শিয়াল চীফ, আরএনবি ও জিআরপির মধ্যে। ভাগবাটোয়ারা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের শ্যালক (বউয়ের ভাই) সম্রাট ও ওরফে কালোবাজারী সম্রাট।কর্মচারী নিয়োগেও কোটি টাকার বানিজ্যচাকরি যখন সোনার হরিণ, সেখানে রেলওয়ের চাকরির কথা শুনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লাখো বেকার তরুণ-তরুণী। যাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেছে শাহ আলম। নিয়োগের সময় বেতনের লোভ এবং দৈনিক ৫-১০ হাজার থেকে লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেন, লাখো তরুণ-তরুণী থেকে লাখ টাকা হিসেবে কোটি কোাটি টাকা আদায় করলেও সবার ভাগ্যে জুটেনি চাকরি। যাদের অনেকেই এখনো কেঁদে ফিরছে। এর মদ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আনিছুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক এবং চট্টগ্রামে বসবাসকারী কুমিল্লা জেলার নুসরাত জাহান অন্যতম।আনিছুর রহমান জানান, ২০২২ সালে রেলে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে এস এ কর্পোরেশন। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি আমি। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। যোগাযোগ করলে বলে, রেলে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সাথে অনেকের চাকরি হয়েছে, আমার হলো না কেন? পরে বুঝতে পারলাম, আমার সাথে প্রতারণা করেছে এস এ কর্পোরেশন। টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ না রাখায় রেল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগও নিচ্ছেন না। আইনগত কোন ব্যবস্থাও আমি নিতে পারছি না।প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে এস এ কর্পোরেশন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন ডকুমেন্টস দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। টাকা ফেরত চাইলে বলছে, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে। অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের মতো শত শত তরুণ-তরুণী এস এ কর্পোরেশনের প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ বানিজ্য তো হয়েছে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও যারা নিয়োগ বঞ্চিত তাদের কান্না দেখলে আপনিও সইতে পারবেন না। আর যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের কাউকে নিয়োগপত্র দেয়নি এস এ কর্পোরেশন। তাদের কেউ বেতনও পায় না। তারা আকাম-কুকাম করে চলে।তিনি বলেন, আকাম-কুকাম থেকে উল্টো টাকা দিতে হয় শাহ আলমকে। অন্যথায় ট্রেনে উিউটি পায় না তারা। এ জন্য অনবোর্ড টেন্ডারে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত করে রেখেছে শ্রমিকের রক্তচোষা শাহ আলম। যা অনবোর্ড টেন্ডারের শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। শাহ আলমের এসব কাজে রেলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অনবোর্ডে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি এসব বলে বিপদে পড়তে চাই না। আপনি কমার্শিয়াল চিফের সাথে যোগাযোগ করুন।তবুও কালো নয়, রেল কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স এস এ কর্পোরেশনঅনবোর্ড, ক্যাটারিং ছাড়াও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন।এসব অপরাধে যেখানে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা, সেখানে ভাগবাটোয়ারার প্রভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চোখে সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। ফলে অনবোর্ড-ক্যাটারিংসহ রেলওয়ের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশন ছাড়া আর কারও ভাগ্যে জুটে না বলে মন্তব্য করেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, গত ৩০-৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের সব বিভাগের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশনের কব্জায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠলেও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় আদালতের স্ট্রে-অর্ডার নিয়ে টেন্ডার হাতছাড়া করেনি শাহ আলম।নাছির উদ্দিন মোহন নামে এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাম করে বলেন, শাহ আলম আর আমি রেলওয়েতে একই সময়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করি। কিন্তু আজ শাহ আলম কোথায় আর আমি কোথায়। শাহ আলম কোটি টাকার প্রাডো গাড়ি দৌড়ায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে খুলনায় শাহ আলমের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে ফ্লাইটে যাতায়াত করে। শাহ আলম এখন রেলের রাজা খ্যাত। কিন্তু সে যা করে তা মাফিয়া ডনকেও হার মানায়। রেলের বুকে এমন কোন অপরাধ নেই সে জড়িত নেই। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে সে জড়িত। দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এরপরও থেমে নেই শাহ আলম।যা বললেন শাহ আলমএ বিষয়ে জানতে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। পরে হোয়াট্স অ্যাপ মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা লিখে পাঠালে প্রতি উত্তরে তিনি লিখেন, অপরাধের সাথে যারা জড়িত তারা তো ব্যক্তি। তাদের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিভে কেন? নিয়োগ তো প্রতিষ্ঠানের দায়ভার কেন নয়-এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি না বলে এড়িয়ে যান।অনবোর্ড-ক্যাটারিং কর্মচারীরা বেতন পায় না, উল্টো টাকা দিয়ে ডিউটি নিতে হয়-এমন অভিযোগের জবাবে শাহ আলম লিখেন, আমি এখন ঢাকায় যাচ্ছি, ফ্লাইটে উঠতেছি। নেটওয়ার্ক নাই। ২-৩ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আসবো। আপনার সাথে বসব। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতএস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের নানা অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাইতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সঞ্জিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গত ১৬ আগস্ট রবিবার ও ১৭ আগস্ট সোমবার দু‘দিন অফিসে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. শওকত জামিল মোহসীও অফিসে ছিলেন না। দু‘দিনেই তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারীরা।পরে এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) মুঠোফোনে বলেন, ইয়াবা পাচার, তরুণী ধর্ষণসহ যেসব ঘটনা ঘটছে তা রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূতি প্রশ্নবিদ্ধ,-এটা নিসন্দেহে স্বীকার করতে হয়। তবে এসব ঘটনায় জড়িতরা কিন্তু রেলওয়ের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এসব অপরাধী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়ুক্ত লোক। এক্ষেত্রেও ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নিবে কেন-এমন প্রশ্ন আসতে পারে।এসব অপরাধের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক যে জড়িত নয়, এটা বলা যায় কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। এটা খতিয়ে দেখার বিষয়। এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম নিজেই দখলবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখাশুনা করেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম। আপনি উনার সাথে কথা বলুন। কিন্তু অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামের (অপারেশন) মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।(বিশেষ দ্রষ্টব্য : রেলের মাফিয়া খ্যাত ঠিকাদার শাহ আলমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩ প্রকাশ হলো। চতুর্থ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে)এ সংক্রান্ত আরও :ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১ । ট্রেনে ইয়াবা পাচারে এস এ কর্পোরেশন, অধরা মূলহোতা শাহ আলম!ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার এসোসিয়েশনের কোটি টাকার চাঁদাবাজি