প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম তিন দেশ- সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এই চুক্তির আওতায় এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও এতে যোগ দিতে পারবে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।এসময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ফলে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সবকটি দেশের ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য করা হবে। এছাড়া এই চুক্তি তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রকে আরও জোরদার করার দিকনির্দেশনা দেবে।এদিকে তুরস্কের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও এতে যোগ দিতে পারবে।সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে সামরিক বা নিরাপত্তা সহযোগিতার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি চুক্তিতে।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত জোট গঠিত হলো। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং নিরাপত্তা সংকট তিন দেশকে এক করতে ভূমিকা রেখেছে।এই চুক্তির ফলে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান, ন্যাটো সদস্য ও শক্তিশালী সামরিক শিল্পের অধিকারী তুরস্ক এবং তেলসমৃদ্ধ প্রভাবশালী সৌদি আরব সামরিক ও কৌশলগতভাবে এক কাতারে চলে এলো।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়া এবং ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মুখে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডিফেন্স স্টাডিজ সেন্টারের মনসুর আহমেদ বলেছেন, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে, অন্যদিকে রিয়াদ প্রযুক্তিগত ব্যয়ের মাধ্যমে অবদান রাখতে পারে।
১ মাস ২৪ দিন আগে
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি-কে নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। বর্তমানে তিনি সৌদি নৌবাহিনীর ‘প্ল্যানিং, বাজেট অ্যান্ড ফোর্স ডেভেলপমেন্ট’ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও কৌশলগত পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বহুজাতিক সামরিক সহযোগিতা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং সামরিক ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ ব্যবস্থায় বিশেষভাবে পারদর্শী।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে।এতে বলা হয়, প্রধান কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখভাল, সদস্যরাষ্ট্রগুলো ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ-সমন্বয় এবং জোটের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আগামী ১২-১৩ আগস্ট জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর মধ্যে একটি পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে এবং নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।এর আগে গত ৩০ জুলাই রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠকের পর এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। জোটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। এই জোটের লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি সরবরাহ লাইন সুরক্ষিত করা এবং অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা।জোটের স্বাক্ষরকারী ১৪টি দেশ—বাংলাদেশ, বাহরাইন, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন। সৌদি আরব এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে এর স্থায়ী সদর দফতর বা প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করবে।মূলত ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং লোহিত সাগরে সৌদি তেল ট্যাঙ্কার ও দেশটির ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলার পর এই জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।এদিকে বাংলাদেশের ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে মোট রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য এই লোহিত সাগর ও এর সংলগ্ন সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
১ মাস ২৪ দিন আগে
দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের কারণে ইসরায়েল থেকে রেকর্ড সংখ্যক নাগরিক (ইহুদি) দেশ ছেড়েছেন। দেশ ত্যাগের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এমনটাই উঠে এসেছে তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি নতুন প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ ইসরায়েলি নাগরিক দেশ ত্যাগ করেছেন। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রবণতা ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে অন্তত তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য ৮৬ হাজার ৫০৯ জন ইসরায়েল ত্যাগ করেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ হাজার ৪৯৯ জনে এবং ২০২৫ সালে দেশ ছাড়েন আরও ৯০ হাজার ৯২২ জন।গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট প্রায় দুই লাখ ৬৯ হাজার জন দীর্ঘ সময়ের জন্য ইসরায়েল ছেড়েছেন। অর্থাৎ, বছরে গড়ে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ইসরায়েল ত্যাগ করেছেন।অথচ ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই গড় ছিল বছরে প্রায় ৬০ হাজার। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন, যা সাম্প্রতিক তিন বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।ইয়েদিওথ আহরোনোথ তাদের আগের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক, পিএইচডিধারী, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং উচ্চ আয়ের অন্যান্য পেশাজীবীদের ইসরায়েল ত্যাগও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।পত্রিকাটির মতে, ইসরায়েলের অর্থনীতি মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ, বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি খাত ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দক্ষ জনশক্তির ইসরাইল ত্যাগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানেও দখলদার ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৬৬ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। সরকারি হিসাব বলছে, বর্তমানে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যা প্রায় এক কোটির বেশি।
১ মাস ২৭ দিন আগে
আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, সমাজে বিদআত পরিহার এবং নৈতিক জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেওয়া তার বক্তব্যকে সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে সেফ এক্সিট দেওয়া নিয়ে বিতর্কে পড়েন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এ ঘটনার পর তাকে সেনা প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলায় সেই বিতর্ক কাটিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান গত সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে সেনাপ্রধান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিদআত ছেয়ে গেছে এদেশে। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত। সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ ইসলামিক সমাজ আমরা চাচ্ছি, এই এডুকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। আমি মনে করি এভাবে যদি আমরা এডুকেশন ইন্সটিটিউশগুলোকে গড়ে তুলি, তাহলে আমরা একটা এডুকেশন সিস্টেম পাব, যেভাবে ইসলামিক ভেল্যুসগুলো থাকবে। মর্ডান এডুকেশন থাকবে। যাতে সোসাইটি লাভবান হয়।আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজ যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী ৩০ বছর পর একটি সুস্থ, আদর্শ ও নৈতিক জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। সুলতান মাহমুদ রুপশ নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় সেনাপ্রধান! আপনাকে যত দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি।জাকিরুল আলম মিলন নামে একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দেশের জন্য এরকম দ্বীনদার সেনাপ্রধান একান্ত কাম্য! আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি! শ্রদ্ধেয় সেনাপ্রধানের জ্ঞানগর্ভ, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী আরো উদ্যমে, সুসংগঠিত এবং নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন! মহান আল্লাহ প্রতিটি সেনা সদস্যকে তার খাস বান্দা হিসেবে কবুল করুন!’ইসমাইল টোলিন নামে একজন লিখেছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার কথা একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে শুনতে সবসময়ই ভালো লাগে। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ইসলামের রীতি-নীতি ও নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরার প্রচেষ্টা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এতে তার প্রতি আলাদা একটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দেশের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। মহান আল্লাহ তাকে ন্যায়, সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন।
১ মাস ২৭ দিন আগে
আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা x বাণিজ্যি সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।বুহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠকের পর এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। জোটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ ।জোটের স্বাক্ষরকারী ১৪টি দেশ হল—বাহরাইন, বাংলাদেশ, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন। এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে এর স্থায়ী সদর দফতর বা প্রধান কার্যালয় হচ্ছে সৌদি আরবে।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই জোটের লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি সরবরাহ লাইন সুরক্ষিত করা এবং অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা।মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জোটটি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার রিয়াদে ৫১টি দেশ ও সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং একটি ইইউ প্রতিনিধিদল এতে অংশ নিয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৪টি দেশ তাদের সমর্থন নিশ্চিত করেছে এবং বাকিরা এ বিষয়ে এখনো বিবেচনা করছে।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এটি সম্পূর্ণ একটি আত্মরক্ষামূলক নিরাপত্তা জোট এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এটি গঠন করা হয়নি। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন গত সপ্তাহে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি তেল ট্যাঙ্কার ও দেশটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করে। এর ফলে এই রুটে তীব্র নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন-ইরান অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি মূলত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথটি আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ সৌদি অপরিশোধিত তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, বাব এল-মান্দাব প্রণালি মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১০-১২ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো বিশৃঙ্খলা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এক লাফে বাড়িয়ে দিতে পারে।
২ মাস আগে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৯৮তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অফিসার ক্যাডেট পদে নিয়োগের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। প্রার্থীকে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অথবা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। তবে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট/সমমান উত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ও লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ন্যূনতম ২টি এ গ্রেড, ৩টি বি গ্রেড ও ১টি সি গ্রেড এবং এ লেভেলে ২টি বিষয়েই ন্যূনতম বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ২০২৬ সালের এইচএসসি/এ লেভেল পরীক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।অন্যান্য যোগ্যতা :-উচ্চতা- পুরুষ: ১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি). নারী: ১.৫৫ মিটার (৫ ফুট ১ ইঞ্চি)ওজন- পুরুষ: ৫৪.০০ কিলোগ্রাম (১২০ পাউন্ড), নারী: ৪৭.০০ কিলোগ্রাম (১০৪ পাউন্ড)বুকের মাপ- পুরুষ: স্বাভাবিক-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) ও প্রসারিত-০.৮১ মিটার (৩২ ইঞ্চি)নারী: স্বাভাবিক-০.৭১ মিটার (২৮ ইঞ্চি) ও প্রসারিত-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি)বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত/অবিবাহিতা (বিপত্নীক/বিধবা/বিবাহ বিচ্ছেদকারী/তালাকপ্রাপ্ত নয়)জাতীয়তা: জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়. চাকরির ধরন: সরকারি, ফুল টাইমদায়িত্বসমূহ :-বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ৩ বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ।বিএমএ-তে সফল প্রশিক্ষণ শেষে 'লেফটেন্যান্ট' পদে কমিশন লাভ।দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং নির্ধারিত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা।সেনাবাহিনীর নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্ব পালন করা।প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষবয়সসীমা: ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স সাড়ে ১৬ থেকে ২১ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৮-২৩ বছর।বেতন: সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ীঅন্যান্য সুবিধা: বিদেশে প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা, উচ্চশিক্ষা সুবিধা এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুব্যবস্থা।কর্মস্থল: বাংলাদেশ ও বিদেশে (প্রয়োজন অনুযায়ী)আবেদন যেভাবে: অনলাইন, আবেদন ফি: ১,০০০ টাকাআবেদন শুরু: ২৬ জুলাই ২০২৬, আবেদনের সময়সীমা: ১৭ অক্টোবর ২০২৬নির্দেশনা :- প্রাথমিক নির্বাচনী (স্বাস্থ্য ও মৌখিক) পরীক্ষা আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ হতে ১২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হবে।লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৭ নভেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বর ২০২৬ মাসের ২য় সপ্তাহে।আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
২ মাস ১ দিন আগে
ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলেই সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শর্তের কথা প্রকাশ করেন। পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, চুক্তি কেবল বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য। বর্তমানে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আরও কয়েকটি দেশের এ ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর। এই চুক্তির মাধ্যমে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’।তিনি আরও বলেন, চুক্তির আওতায় সৌদি আরব কোনোভাবেই পরমাণু পদার্থ বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। এটি কেবল অসামরিক বা বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হবে। এর আগে সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুবিধা দিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন বলা হয়, এই চুক্তিটি মূলত ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ইরানের সাথে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছুটা সময় নিচ্ছিলেন ট্রাম্প। কারণ চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।জানা গেছে, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য বেশিরভাগ দেশ সাধারণত অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজের জন্য নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রযুক্তিগত আইনি অধিকার পাবে। এটি মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সৌদিতে পারমাণবিক কাঁচামাল ও বেসামরিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি আইনি কাঠামো মাত্র।এদিকে ট্রাম্পের এই নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান হলো— একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।অন্যদিকে ট্রাম্পের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হবে।প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও সক্রিয় উদ্যোগে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মূল লক্ষ্যই ছিল ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর কয়েক দশকের কূটনৈতিক ও ঐতিহাসিক দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হোয়াইট হাউজে এই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম দফায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে মরক্কো এবং সুদান-ও এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়। তবে সৌদি আরবসহ অনান্য আরবদেশগুলো এখনো এতে যোগ দিতে অস্বাকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এতে ফিলিস্তিন সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান বা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে সৌদি আরবকে এই চুক্তির আওতায় এনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক লক্ষ্য, যা এখন পারমাণবিক চুক্তির শর্তের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
২ মাস ৮ দিন আগে
ইরানে টানা বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরাকের সীমান্তবর্তী শালামচেহ ক্রসিংয়ের কাছে অন্তত দু‘জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার বদলা হিসেবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বুশেহরে মার্কিন হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এ এলাকায় থাকায় এটি বেশ স্পর্শকাতর। প্রদেশটির গভর্নর জানিয়েছেন, শহরে থাকা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এছাড়া ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজগান প্রদেশে সিরিক এবং জাস্কেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই শহরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের জন্য এখান থেকেই ইরান জলপথটিতে নজর রাখে।হরমোজগানের উপকূলে মার্কিন হামলায় নৌবাহিনীর দুটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়েছে, ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকা শালামচেহর একটি যাত্রীবাহী স্টেশনের কাছে। বিস্ফোরণের কারণে ফলে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। নতুন করে চালানো মার্কিন হামলায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফার হামলা শুরু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরের বিবৃতিতে সেন্টকম নতুন দফার হামলা শেষ করার কথা জানায়। এতে বলা হয়, বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও কমানোর জন্য আরেক দফা হামলা সম্পন্ন করা হয়েছে।সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ দফায় তাদের বাহিনী সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।এদিকে লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়টি সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলের সময় সৌদি মালিকানাধীন জাহাজ ‘এনসিলিয়া’ হামলার শিকার হয়েছে। জেনারেল ট্রান্সপোর্ট অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন লেগে যায়।সূত্রটি জানিয়েছে, জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এর আগে লোহিত সাগরে এনসেলিয়াসহ দুটি জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্য জাহাজটির নাম ‘লায়লা।’আজ ভোরে আইআরজিসি দাবি করেছে, ওমানের উপকূল দিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টার পর হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে গেছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বিস্ফোরণের পর আরও দুটি জাহাজ দ্রুত ফিরে গেছে।আইআরজিসির ভাষ্য, জাহাজ তিনটি মার্কিন নির্দেশে কাজ করছিল এবং হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা পথ দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সংস্থাটির নৌবাহিনী জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যতদিন এই অঞ্চলে আমেরিকার ‘অপকর্ম’ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এতে কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ১.৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৪৪ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.২৭ ডলারে লেনদেন শুরু হয়েছে।
২ মাস ৮ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এবার সর্বাত্মক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিন ইরানে হামলা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘সর্বাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান’ চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী। শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। রেজায়ী বলেছেন, ‘এখন থেকে ইরান আর সমান জবাব দেওয়ার নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না। ফলে যুদ্ধ চলাকালে আলোচনার নীতিরও অবসান হয়েছে।’ তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ইরানের লক্ষ্য ছিল সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রতিরোধ গড়ে তুলে যুদ্ধ থামানো। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে ইরান। শনিবার এ ঘোষণা দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্সের খবরে বলা হয়, গারিবাবাদির অভিযোগ, সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কার্যত স্থগিত করেছে চুক্তির বাস্তবায়নও। এর জবাবে তেহরানও চুক্তির অধীন নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্থগিত করেছে বলে জানান তিনি। তেহরানের প্রধান মনোযোগ এখন দেশের প্রতিরক্ষায়।এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলেন। হামলা অব্যাহত থাকলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্ক করেছিলেন তারা। তবে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান জানাল, সমঝোতা স্মারক কার্যত আর বহাল নেই এবং এর কোনো ধারাই আর বাস্তবায়ন করবে না ইরান।পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক হুমকি এবং সমঝোতা স্মারক স্থগিতের ঘোষণা এই দুই ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হয়ে এসেছে। সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাই বাড়াচ্ছে।
২ মাস ১৩ দিন আগে

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে জাপানের দেওয়া পাঁচটি উচ্চগতির পেট্রোল বোট। দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে এই পেট্টোল বোট যুক্ত করা হয়েছে নৌবাহিনীর বহরে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাপানের অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচির আওতায় দেওয়া এসব পেট্রোল বোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি। এছাড়া জাপানের প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাঁচটি উচ্চগতির পেট্রোল বোট সংগ্রহে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হয়। একই বছরের নভেম্বরেই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বানৌজা নির্ভীকে নৌবাহিনীর সদস্যদের বোট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বোটের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ১৫ মিটার, প্রস্থ ৩ দশমিক ৫৩ মিটার, গভীরতা ১ দশমিক ৭৮ মিটার এবং ধারণক্ষমতা ১৩ দশমিক ৫ টন। বোটগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। কম গভীরতার জলপথে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় নদী, মোহনা ও উপকূলীয় এলাকার সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।আইএসপিআর বলছে, নতুন এসব পেট্রোল বোট দেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল ও নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এছাড়া ওএসএ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
২ মাস ২৮ দিন আগে