ভুয়া বিল বানিয়ে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অডিটরসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদক, চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদি হয়ে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।মামলার আসামিরা হলেন—রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।এছাড়া আসামির তালিকায় আরও আছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম মনজুর উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার।এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। তিনি জানান, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয়।২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই চেক ইস্যু করা হয়।পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’র নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়। অনুসন্ধানে রেলওয়ের হিসাব অধিদপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি।এজাহারের বিবরণ মতে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামে এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়। তবে ওই নারী একজন শ্রমিক। অনুসন্ধানে কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে।২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার (পূর্ব) কার্যালয়ের (এফএঅ্যান্ডসিএও) ওই সাত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রথমে বদলি করা হয়। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাত কর্মকর্তা ও কর্মচারী হলেন হিসাব কর্মকর্তা মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক শিমুল বেগম, অডিটর (ডিএফএ) পবন কুমার পালিত, হিসাব কর্মকর্তা (প্রশাসন) মো. আবু নাছের, হিসাবরক্ষক (প্রশাসন ও সংস্থাপন) সৈয়দ সাইফুর রহমান, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম এবং অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমান।জানা যায়, রেল পূর্বাঞ্চলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (সাপ্লাইয়ার) ‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’ ৩ কোটি ৬২ লাখ ৬১ হাজার টাকার কাজের বিল পায়। তাদের গত ১৮ ডিসেম্বর ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৯ ডিসেম্বর ৯০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং ২০ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ও ৭৭ লাখ ৫২ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। চেকগুলো নগদায়ন করা হয় ২১ ডিসেম্বর। এসব চেকের নম্বর ছিল যথাক্রমে আরএ-১১৩৯৩০৪, ১১৩৯৩০৬, ১১৩৯৩০৫ এবং ১১৩৯৩০৭।কিন্তু আরএ-১১৩৯০৮৫ নম্বরের আরেক চেক দিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি বিল আগ্রাবাদের সীমান্ত ব্যাংক থেকে নগদায়ন করা হয়। বিলটি উত্তোলন করেন সোহাগ আলী নামের এক ব্যক্তি। এই বিলটি নগদায়ন করার জন্য ওই ব্রাঞ্চে কসমোপলিটনের নামের একটি নতুন অ্যাকাউন্টও খোলা হয়। যেটিতে শুধুমাত্র ওই পঞ্চম চেকটি নগদায়ন করা হয়।এদিকে দেখা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর উত্তোলন করা চেকের নম্বরটি আগে দেওয়া বিলের চারটি চেকেরও আগের সিরিয়ালের। অথচ চেকের নম্বরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী চারটি চেকের পরের সিরিয়াল অনুযায়ী হওয়ার কথা পঞ্চম চেকটি।এছাড়া পঞ্চম চেকের বিষয়টি রেলের খাতায় রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ নেই, এমনকি প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পূর্ব) দপ্তর থেকেও কোনো বিলের কপি ডিভিশনাল ফাইন্যান্স অফিসে (ডিএফও) ফরোয়ার্ড করা হয়নি।এ ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রেল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বরাবরে ওই পঞ্চম চেকটি ফেরত চেয়ে চিঠি ইস্যু করে। এরপর এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই চেক এখনো ফেরত দেয়নি।
৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র থেকে এবার পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।এর আগে গত মার্চেও শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন আদেশ জারি হয়নি। নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র পদে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে এবার তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো।স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন, আগেও প্রশাসক করার উদ্যোগচসিকের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ ও শাহাদাত হোসেনের দায়িত্ব পালন নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল জাতীয় একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নথির বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।তবে শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালতের আদেশে তার মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়, আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেননি।ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে শাহাদাতকে পূর্ণকালীন প্রশাসক করার প্রস্তাব তৈরি হলেও আদেশ জারি হয়নি। এর আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।যেভাবে মেয়র হয়েছিলেন শাহাদাত২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেছিলেন ডা. শাহাদাত। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত রায় দিয়ে মেয়র পদে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ওই বছরের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।এরপর ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন শাহাদাতের করা মামলার রায় দেন। রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
শ্রমিক ও কর্মচারীদের রক্ত ঝরা ঘামে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে মিষ্টি ও বেকারি পণ্য প্রস্তুত এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস। একে একে গড়েছেন চট্টগ্রামের বাকলিয়া, পটিয়া, নাসিরাবাদ, বায়েজিদ, ঢাকা ও সিলেটে পৃথক ছয়টি পণ্য প্রস্তুতকারী কারখানা। যেখানে কর্মরত আছেন সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী।যাদের গলিত রক্তে রঞ্জিত ফুলকলির পাঁচ মালিকের হাত-মুখ। এরা হলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম, পরিচালক মো. আবসার উদ্দিন, মো. ইউনুচ, মো. ফরিদ ও মো. মুজিবুর রহমান। দিনে দিনে গিলে খাওয়া শ্রমিকদের রক্তে বাড়ছে তাদের ভূঁড়ি, ফুলে কলাগাছ হচ্ছে আঙুল।ফলে মো. শাহ আলম ও নিজের দুই সন্তান মিলে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ও সিলেটে ফুলকলির আদলে গড়ে তুলেছেন শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম চুষার আরো দুটি কারখানা। যার নাম পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস। যেখানে অন্তত এক হাজারের মতো শ্রমিক-কর্মচারীর রক্ত ঝরা ঘামে প্রতিদিন প্রস্তুত হচ্ছে কোটি টাকার মিষ্টি ও বেকারি পণ্য। যা বিপণন করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের মুনাফা।আর এসব পণ্য টাকার বিনিময়ে কিনে পেট পুড়ে খাচ্ছেন ভোক্তারা। যারা জানেনই না ফুলকলি ও পিউরিয়ার মালিকপক্ষের রাক্ষুসে চরিত্রের কথা। জানেন শুধু রক্ত পানি করে সামান্য মজুরী ভোগী শ্রমিক-কর্মচারীরা। ভোক্তা অধিকার, জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর স্ব-স্ব আইনে বিভিন্ন সময়ে ফুলকলি ও পিউরিয়ায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের রক্ত চুষার আকুতি কোনো সময় কানে পৌছায়নি কারও।এমন অভিযোগ শ্রমিক ও কর্মচারীদের। তাদের ভাষ্য, চলতি বছরের শেষের দিকে বিষয়টি নজরে আসে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের। তদন্ত শেষে শ্রমিক-কর্মচারীদের রক্ত চুষার প্রমাণ পেয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফুলকলির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর দ্বিতীয় শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। মামলা নং-৬৬/২৬গত রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) জান্নাতুর রাহেলা। তিনি বলেন, গত জানুয়ারি মাসে ফুলকলির বাকলিয়া কারখানা পরিদর্শনের পর থেকে শ্রমবিধি লংঘনের বিষয়টি সংশোধনের নিমিত্তে ফুলকলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক বরাবরে একাধিকবার তাগিদপত্র ও সময় দিয়েও কোন সাড়া মেলেনি।ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা দায়ের করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর দ্বিতীয় শ্রম আদালতে। বিষয়টি এখন সুরাহা হবে আদালতের মাধ্যমে। সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সুফল পাবেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারীরা।সূত্র মতে, কোম্পানি আইনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিতে শ্রমবিধি অনুযায়ী মজুরী কাঠামো থাকলেও ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও সেই বিধি অনুসরণ করেননি মালিকপক্ষ। সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের খাটিয়ে মজুরীর নামে রক্ত চুষে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা শ্রম দেওয়ার নিয়ম থাকলেও চুক্তিভিত্তিক মজুরীতে ১০-১২ ঘন্টা পর্যন্ত শ্রম দিয়ে থাকেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।এরপরও কোন দিন অসুস্থতা বা কোন কারণে যদি কাজ করতে না পারেন, সেদিন ওই শ্রমিক মজুরী পান না। অর্থাৎ নো ওয়ার্ক, নো পে ভিত্তিতে শ্রম দিচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। শ্রমিক-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটিও নেই। সাপ্তাহিক ছুটি কাটালে সেদিনের মজুরী বা বেতন মিলে না। এমনকি মে দিবসেও মিলে না কোন ছুটি।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর মিষ্টি এন্ড বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং- চট্টঃ ১৬৭৮) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ চলতি বছরের ২৭ এপৃল ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রেরণ করেন। এতে মহান মে দিবসে স্ব-বেতনে সরকারি ছুটি প্রদান ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।স্মারকলিপিতে বলা হয়, ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসে শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা বাস্তবায়ন নাই। প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, পরিচয় পত্র, সার্ভিস বই প্রদান করা হয় না। শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য ও আইন স্বীকৃত ছুটি প্রদান করা হয় না। অতিরিক্ত কাজে দ্বিগুণ মজুরী, বাৎসরিক অর্জিত ছুটির পাওনা নগদায়ন করা হয় না। সরকার ঘোষিত ন্যুনতম মজুরী বাস্তবায়ন নাই, প্রভিডেন্ড ফান্ড (পিএফ) ও কল্যান তহবিল চালু করা হয় নাই।অর্থাৎ শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা প্রদান করা হয় না। সেই সাথে কল্যান তহবিল গঠন বাধ্যতামূলক হলেও এই প্রতিষ্ঠানে কল্যান তহবিল নাই। প্রতিষ্ঠানের কোনো শ্রমিক-কর্মচারী চাকুরি হতে অবসর নিলে বা স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করিলে বা মালিক কর্তৃক চাকুরীচ্যুত হলে আইনানুগ ক্ষতিপূরণ বা সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করা হয় না। সুতরাং উপরোক্ত সুবিধাদি বাস্তবায়ন/প্রদান না করা শ্রম আইনের চরম লংঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।স্মারকলিপিটি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক. শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার এবং ফুলকলির তিনটি কারখানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাবরে অনুলিপি প্রদান করা হয়। আর এই স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে বাকলিয়ায় অবস্থিত ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস কারখানা পরিদর্শন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শকরা। তবে পরিদর্শনের বাইরে থেকে যায় পটিয়া, নাসিরাবাদ, বায়েজিদসহ ফুলকলির অন্য কারখানাগুলো।পরিদর্শন শেষে গত ১৭ আগস্ট ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক/ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী মো. শাহ আলম, পরিচালক মো. ইউনুচ, মো. আবসার উদ্দিন এবং মহাব্যবস্থাপক এম এ সবুরকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর ধারা/বিধি লংঘন ও সংশোধনের বিষয়ে তাগিদপত্র প্রেরণ করা হয়। যার স্মারক নং-৪০.০১.১৫০০.০০০.০০০.১৬.০০০১.২৫.২৭৪;তাগিদপত্রে যা আছেতাগিদপত্রে বলা হয়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকগণ ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লি, শাহ আমানত সংযোগ সড়ক, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম-কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ কারখানায় মোট শ্রমিক সংখ্যা দেখানো হয় ১৫০ জন। কিন্তু কারখানাটিতে কর্মরত রয়েছেন ৫শ‘রও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী। পরিদর্শনকালে পরিলক্ষিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও বিধির লংঘনসমূহ সংশোধনের নিমিত্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ বরাবর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকারী রেজিস্টার্ড ডাকযোগে সূত্রোক্ত পত্র (কপি সংযুক্ত) প্রেরণ করা হয়।উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ অদ্যাবধি নিরুত্তর রয়েছেন এবং লংঘন সংশোধনের কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কি না তা অত্র দপ্তরকে অবহিত করেন নাই। তারই প্রেক্ষিতে উপমহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক গত ৪ আগস্ট তারিখে নিম্নস্বাক্ষরকারী পরিদর্শকগণ পুনরায় সরেজমিনে ফলোআপ পরিদর্শন করা হয়।পরিদর্শনকালে দেখা যায় ২৩ ফেব্রুয়ারি অত্র দপ্তর কর্তৃক বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালার আওতায় যে লংঘনসমূহ সংশোধনের লক্ষ্যে নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল মালিকপক্ষ কর্তৃক উক্ত লংঘনসমূহ অদ্যাবধি সংশোধন করা হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয়, কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রচলিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালা'র প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন।এছাড়া ৪ আগস্ট তারিখে নিম্নস্বাক্ষরকারী পরিদর্শকগণ কর্তৃক পুনরায় সরেজমিনে ফলোআপ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালার আওতায় নিম্নলিখিত আরো কয়েকটি লংঘন সংশ্লিষ্ট শ্রম পরিদর্শকগণের দৃষ্টিগোচর হয়। যা শ্রম আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা, বৃদ্ধাঙ্গুলি ও ধৃষ্টতা প্রদর্শনের সামিল।শ্রম আইনের লংঘিত বিষয়ধারা-৫১ বিধি-৪০,৪১,৪২,৪৩,৪৪ প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য সম্মত ও সকল প্রকার দুর্গন্ধমুক্ত উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য সম্মত ও সকল প্রকার দুর্গন্ধমুক্ত উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ৩ ধারা-৭২, ৬২(৩), ৬২(৩ক), ৬২(৩খ) বিধি-৫৪(১),৫৪(২), ২০ জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তির কর্মস্থানযুক্ত কক্ষসমূহে কমপক্ষে দু'টি করে বহির্গমন পথ রাখা হয়নি। ২০ জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তির কর্মস্থানযুক্ত কক্ষসমূহে কমপক্ষে দু'টি করে বহির্গমন পথ এবং উক্ত বহির্গমন পথ, চলাচলের পথ, সিঁড়ি ও মেঝেসমূহ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখতে হবে।ধারা-৬২(৪), ৬২(৫) বিধি-৫৫ (৮) জরুরী বহির্গমন পথ ও দরজাসমূহ ¯পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি, এবং বহির্গমন পথের নকশা প্রয়োজনীয় স্থানে প্রদর্শন করা হয়নি। জরুরী বহির্গমন পথ ও দরজাসমূহ ¯পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি, এবং বহির্গমন পথের নকশা প্রয়োজনীয় স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ধারা-১০৪ বিধি-১০১,সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করানোর প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের আইনের ক্ষেত্রমত ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি দেওয়া হয় না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করানোর প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের আইনের ক্ষেত্রমতে পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি দিতে হবে।ধারা-১০৮ বিধি-১০২,আইনের বিধান মোতাবেক অতিরিক্ত কাজের হিসাব ও উহার ভাতা পরিশোধ করা হয় না। আইনের বিধান মোতাবেক অতিরিক্ত কাজের হিসাব ও উহার ভাতা পরিশোধ করতে হবে। ধারা-১৪৮, ধারা-১৪৯ বিধি-১১১, বিধি-১৩৩, সরকার নির্ধারিত নিুতম মজুরীর হার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার কর্তৃক ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নিুতম মজুরীর হার বাস্তবায়ন করতে হবে।১১,১৯,২০,২২, ২৩,২৬,২৭ ০৫ ৬১, ৬২ ৫৮ (২) (৮) (১০) ০৬ ৬২(৮) ৫৫(১৪) ०१ ৮০(৩) ৭৩ ০৮ ১১১, ১১ ৩৩৫, ১০৫ ০৯ ১১৮ ১১০(২) শ্রমিক ছাঁটাই, মৃত্যু, ডিসচার্জ এবং চাকুরি হতে অবসর বা অবসান করার ক্ষেত্রে শ্রম আইনও বিধি অনুসরন করা হয় না। সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে গ্রহনকৃত বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এর উপযুক্ততা সনদ এবং মেয়াদান্তে কারখানা। প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ আর্থিং ও ওয়্যারিং পরীক্ষার করে ফলাফলসহ প্রত্যয়ন প্রদর্শন করতে পারেন নাই।পঞ্চাশ বা ততোধিক শ্রমিক/কর্মচারী সম্বলিত কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে প্রতি ৬ মাসে অন্ততঃ একবার নিয়মিত অগ্নিনির্বাপন মহড়ার আয়োজন করা এবং এই বিষয়ে মালিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় একটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ করার আপডেট দলিলাদি পাওয়া যায়নি। শ্রম বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে দূর্ঘটনা সংক্রান্ত লিখিত বিবরণের একটি কপি মালিক প্রত্যেক বৎসর ৩০শে জুন এবং ৩১শে ডিসেম্বর এর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করার যথাযথ তথ্যাদি দেখাতে পারেন নি। প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক ও কর্মচারীদের কাজের সময়ের নোটিশ অনুমোদন গ্রহণ করেন নাই এবং প্রকাশ্যে স্থানে লটকানো নাই। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক যথাসময়ে উৎসব ছটির মঞ্জুরকৃত কপি দেখাতে পারেন নি।যা প্রদর্শন করতে হবেশ্রমিক ছাঁটাই, মৃত্যু, ডিসচার্জ এবং চাকুরি হতে অবসর বা অবসান করার ক্ষেত্রে শ্রম আইন ও বিধি অনুযায়ী গত ৫ বছরের তথ্য অত্র দপ্তরে প্রদান করতে হবে। উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের সঠিকত্ব সনদ গ্রহণ করতঃ এসবের নিয়মিত পরীক্ষা মালিক কর্তৃক করানোর ডকুমন্টে উপস্থাপন করতে হবে। পঞ্চাশ বা ততোধিক শ্রমিক-কর্মচারী সম্বলিত কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে প্রতি ৬ মাসে অন্ততঃ একবার নিয়মিত অগ্নিনির্বাপন মহড়ার আয়োজন করা এবং এই বিষয়ে মালিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় (শ্রম বিধির ফরম ২২ক অনুযায়ী) একটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ করার বিগত ৩ বছরের দলিলাদির ফটোকপি দাখিল করতে হবে।শ্রম বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে দূর্ঘটনা সংক্রান্ত লিখিত বিবরণের একটি কপি মালিক প্রত্যেক বৎসর ৩০শে জুন এবং ৩১শে ডিসেম্বর এর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করার যথাযথ তথ্যাদির কপি দেখাতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক কর্মচারীদের কাজের সময়ের নোটিশ অনুমোদিত হতে হবে এবং উহা প্রকাশ্যে স্থানে লটকানো থাকতে হবে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক যথাসময়ে উৎসব ছটির মঞ্জুরকৃত কপি দেখাতে হবে।১৯ (৪) (৫) সকল শ্রমিকের জন্য মালিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারী গণকে বিধি মোতাবেক নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি এবং নির্ধারিত ফরম-৬ মোতাবেক ছবিসহ পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয় নাই। মালিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারী গণকে নির্ধারিত ফরম-৬ মোতাবেক ছবিসহ পরিচয়পত্র সরবরাহ করতে হবে। ৬.৭,৮ ২১, ২২ সকল শ্রমিকের জন্য নির্ধারিত ফরম ৭ অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য সার্ভিস বইতে সময় সময় প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে শ্রমিক ও মালিকের স্বাক্ষর সংরক্ষন করা হয় নাই। নির্ধারিত ফরম ৭ অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য সার্ভিস বইতে সময় সময় প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে শ্রমিক ও মালিকের স্বাক্ষর সংরক্ষন করতে হবে।১০, ১১৫, ১১৬, ১১৭ ২৪, ১০৮(১) ৯ নং ফরমে মালিক কর্তৃক নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য ছুটির রেজিস্টার ও ছুটির বহি সংরক্ষন করা হয় নাই এবং অর্জিত ছুটির বার্ষিক নগদায়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রদর্শন করতে পারেন নাই। ৯ নং ফরমে মালিক কর্তৃক নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য ছুটির রেজিস্টার ও ছুটির বহি সংরক্ষন করতে হবে এবং অর্জিত ছুটির বার্ষিক নগদায়ন সংক্রান্ত তথ্য অত্র দপ্তরে দাখিল করতে হবে।১০ ১২১ ১১১(১) (৩) ১১ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর ফরম-৩৮ মোতাবেক শ্রমিক ও কর্মচারীদের মজুরী স্লিপ প্রদান এবং মজুরি রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয় না। ২৩২-২৩৪ ১২ কো¤পানীর মুনাফায় শ্রমিক ও কর্মচারীর অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে মুনাফার নির্ধারিত অংশ জমাদানের কপি দেখাতে পারেন নি।কো¤পানীর মুনাফায় শ্রমিক ও কর্মচারীর অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে মুনাফার নির্ধারিত অংশ জমাদানের কপি দেখাতে হবে।৩২৬ ৩৫৩, ৩৫৪ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে হালনাগাদ কারখানার মেশিন লে আউট প্লান অনুমোদন নেই। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর হালনাগাদ কারখানার মেশিন লে আউট প্লান অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।এমতাবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর আওতায় পূর্বে (০৫/০১/২০২৬ খ্রিঃ) প্রাপ্ত লংঘন ও ০৪/০৮/২০২৬ তারিখে ফলোআপ পরিদর্শনে প্রাপ্ত সকল লংঘন দ্রুত সংশোধনের জন্য পুনরায় ১৫ দিনের সময় দিয়ে মালিক বরাবর সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা (ঈড়ৎৎবপঃরাব অপঃরড়হ চষধহ/ঈঅচ)" আকারে এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।এ অবস্থায় 'সংশোধনমূলক কর্ম পরিকল্পনা'র বর্ণিত লংঘনসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদত্ত সুপারিশ মোতাবেক সংশোধন ও হালনাগাদ সংরক্ষণ করার জন্য এবং বাস্তবায়নের প্রমাণকসমূহ (সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, রেজিস্টার, ছবি ইত্যাদি) আইনানুগ পরীক্ষা নিরীক্ষার নিমিত্ত বাংলাদেশ শ্রম আইন ৩১৯(৩) ধারা মোতাবেক অত্র দপ্তরে দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে বলা হলো। ব্যর্থতায় আর কোনো পত্রালাপ ব্যতিরেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মাননীয় শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।এই তাগিদপত্রে স্বাক্ষর করেন জান্নাতুর রাহেলা ও মো. জালাল খাঁন শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) নম্বর: ৪০.০১.১৫০০.০০০.০০০.১৬.০০০১.২৫.২৭৪/১ (২) তারিখ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। এই তাগিদপত্রের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক বরাবরে প্রেরণ করা হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহ আলম মুঠোফোনে বলেন, আদালতে মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পরিচালক আবসার উদ্দিন ও জিএম সবুরের সাথে কথা বলেন। এরা বিষয়গুলো দেখে।আর এ বিষয়ে ফোন করা হলে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের পরিচালক মো. আবসার উদ্দিন বলেন, আমি অসুস্থ। এ বিষয়ে এখন কোন কথা বলতে পারছি না। সুস্থ হলে বলব। এর আগে সরাসরি সাক্ষাতে এ বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, এখানে শ্রমিক-কর্মচারীরা সরকারি বিধি অনুযায়ী ন্যায্য মুজুরী পাই। কাউকে ঠকানো হয় না। আর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণ হলো কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য ও মামলা দায়েরের ঘটনায়।তবে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এম এ সবুর বলেছেন, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের সঙ্গে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের যোগাযোগ রয়েছে। শ্রম বিধির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে জানতে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের পরিচালক মো. ইউনুচ ও মো. মজিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপ-মহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান বলেন, ফুলকলির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং-৬৬/২৬। ফলে এ নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। কারণ বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভূক্ত। আদালতের রায়ে নিশ্চয়ই শ্রমিক-কর্মচারীরা বিধি মোতাবেক তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।(বি: দ্র : শুধু শ্রম বিধি লংঘন নয়, পরিবেশ দুষণ, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য প্রস্তুতকরণ, নিষিদ্ধ রাসায়নিকের ব্যবহার, বিপণনে অনিয়ম, অননুমোদিত পণ্যে বিএসটিআইয়ের ভুয়া লগো ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য প্রস্তুত, অপ্রতুল অগ্নিনির্বাপন, গ্যাস ও পানি চুরিসহ নানা ধরণের অনিয়ম ও দূর্নীতিতে লিপ্ত ফুলকলির মালিকপক্ষ। যার মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন মালিকরা। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দৈনিক ঈশান। এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সরবরাহে প্রিয় পাঠকদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। তথ্য দাতার পরিচয় গোপনীয় হিসেবে গণ্য হবে)
১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর থানাগুলোতে ঘন ঘন সি বদলের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে অন্তত ২০ দফায় অসংখ্য ওসি রদবদলের আদেশ হয়েছে।বারবার ওসি পরিবর্তনের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের পুলিশি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এ নিয়ে থানায় থানায় বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। পলিটিক্যাল স্ক্যামে ওসি বদলির এসব ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির একটি থানার ওসি বলেন, আমরা এখন থানায় পোস্টিংয়ের অর্ডার পেলে দুশ্চিন্তায় থাকি। আদৌ থানায় যোগ দিতে পারব কি না। কখন আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কখন হঠাৎ বদলি হয়ে যাই।ওসি জানান, গত ছয় মাসে সিএমপির পাঁচজন ওসিকে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছিল মাত্র দুই দিন। আরেকজন কোনোমতে মাসখানেক। এটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার চিত্র। নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত এ থানা এলাকা।শুধু খুলশী নয়; এ অস্বাভাবিক চিত্র সিএমপির প্রায় প্রতিটি থানার। কেউ দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে বদলি। কেউ কেউ টিকেছেন কয়েক সপ্তাহ। এমনও ঘটনা ঘটেছে, নিয়োগ দেওয়া ওসি চেয়ারে বসার আগেই করা হয়েছে প্রত্যাহার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির চরম অস্থিরতার কথা প্রকাশ পেলো পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুর রহমানের মুখেও। তিনি বলেন, একজন ওসি পোস্টিং পেয়ে থানায় বসে প্রস্তুতি সেরে কাজ শুরু করতেও তো মাসখানেক লাগে। ছয় মাসে এক থানায় পাঁচবার ওসি বদল করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়; অস্থিরতার লক্ষণ।এ ধরনের বদলির কারণ উল্লেখ করে সুনির্দিষ্টভাবে জনগণকে অবহিত করা উচিত। যদি রাজনৈতিক কারণে হয়, তাহলে সেটি দুঃখজনক। আর ভুল লোককে পদায়নের কারণে যদি বারবার বদল করতে হয়, তাহলে সেটা ইউনিট প্রধানের ব্যর্থতা।তবে এটিকে রুটিন কাজ বললেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। তিনি বলেন, ‘এটি রুটিন কাজ। ওসি হিসেবে বদলির পর পারফরম্যান্স কেমন, চালাতে পারছে কি না— সেটি বিবেচনা করেই বদলি করা হয়। কেউ যদি চালাতে না পারে, তাকে দীর্ঘসময় না রেখে দ্রুততম সময়ে বদলি করে দেওয়া হয়। যে পারবে না তাকে রেখে দিয়ে লাভ কী!’ওসি বদলের কাহিনী চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ শাখা (সিটি এসবি) থেকে খুলশী থানায় ওসি হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম যোগ দিয়েছিলেন গত ২৩ আগস্ট। হত্যা মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়, অর্থাৎ নগর ভবনে অভিযান চালায় খুলশী থানা-পুলিশ।এ নিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উষ্মা প্রকাশ করেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বুধবার রাতে ওসি রহিমকে বদলির আদেশ দেন সিএমপি কমিশনার। যদিও রহিম বলছিলেন, অভিযানের সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। সর্বসাকল্যে ওসি রহিমের মেয়াদ ছিল ১ মাস ১০ দিন।আব্দুর রহিমের আগের ওসি মোজাম্মেল হক। তিনি যোগ দিয়েছিলেন ১৫ জুন। ২ মাস ৮ দিনের মাথায় তাকে পাঁচলাইশ থানায় বদলি করে দেওয়া হয়। ১৩ জুন বাকলিয়া থানা থেকে বদলি হয়ে মোহাম্মদ সোলাইমান যোগ দিয়েছিলেন খুলশী থানায়। মাত্র দুই দিনের মাথায় ১৫ জুন তাকে বদলি করা হয় সিটি এসবিতে।সোলাইমানের আগে খুলশীর ওসি ছিলেন আরিফুর রহমান। তিনি ২৫ মার্চ যোগ দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতার ছেলে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার অভিযোগে ১৩ জুন তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়।সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর জাহিদুল ইসলামকে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছিল। তিনি মোটামুটি সাড়ে ৪ মাস দায়িত্ব পালন করে ২৫ মার্চ পাঁচলাইশ থানায় বদলি হন।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুই দফায় প্রথম ওসি বদলি করা হয়। যদিও সেটি করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর। প্রথম দফায় সিএমপির ১৬ থানার মধ্যে ১৩ ওসিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে থানায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই আমলের আরও তিন থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।এরপর গত দুই বছরে সবচেয়ে খুলশী থানায় আটবার ওসি বদল হয়েছে। চকবাজার, কর্ণফুলী ও চান্দগাঁও থানায় পাঁচবার করে ওসি বদল হয়েছে। কোতোয়ালি, বাকলিয়া, সদরঘাট, ডবলমুরিং, আকবর শাহ ও পাঁচলাইশ থানায় চারবার করে ওসি পদে রদবদল করা হয়েছে। পাহাড়তলী, বায়েজিদ বোস্তামী, হালিশহর, বন্দর ও পতেঙ্গা থানায় তিনবার ওসি বদল হয়েছে। ইপিজেড থানায় অবশ্য মাত্র দুবার ওসি বদল হয়েছে।এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ১৬ থানার ওসি পদে একযোগে রদবদল হয়। সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের আদেশে এটি স্বাভাবিক রদবদল ছিল। এ ছাড়া বাকি সব রদবদলের ঘটনার মধ্যে কোনো না কোনো ‘কিন্তু’ আছে। এই কিন্তুর ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না।তবে ধারণা করা যায়— মেয়র, স্থানীয় এমপি, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের পছন্দ-অপছন্দের ঠেলাঠেলিতে এসব রদবদল। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনাগ্রহী এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার আক্ষেপ, ‘সবাই বলে এই চেয়ারে বসে অনেক এনজয় করা যায়। কিন্তু আমি কোনো এনজয় করতে পারছি না।ওসি বদলি নিয়ে গত ছয় মাসে খুলশীর পর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে সদরঘাট ও কর্ণফুলী থানায়। গত ৫ জুলাই সদরঘাট থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফকে যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় বদলি করা হয়। অন্য জেলার একজন প্রতিমন্ত্রীর আধাসরকারি পত্রের (ডিও) ভিত্তিতে তাকে বদলি করার এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল।১৮ জুন সিটি এসবির পরিদর্শক কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে কর্ণফুলী থানার ওসি পদে বদলির আদেশ দিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার। আদেশ প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির একটি মিছিলে বাধা দেওয়ার ঘটনার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে দেন দলটির নেতাকর্মীরা। যদিও সেই আমলে ‘কোণঠাসা’ হয়ে থাকা পুলিশ পরিদর্শকদের মধ্যে একজন ছিলেন মাসুদ। বিএনপির আপত্তির মুখে তিনি ওসির চেয়ারে বসার আগেই তাকে প্রত্যাহার করে সিটি এসবিতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন সিএমপি কমিশনার।অস্বস্তিতে সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারাবারবার ওসি বদলি নিয়ে অস্বস্তি আছেন সিএমপির শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপকমিশনার বললেন, প্রশাসনিক প্রয়োজন, কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে ওসি বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।কিন্তু পলিটিক্যাল স্ক্যামে বারবার ওসি বদল করা হলে পুলিশের স্বাভাবিক কাজে প্রভাব পড়ে। একজন ওসি তার এলাকার অপরাধ ও অপরাধীদের নিয়ে কাজ শুরুর আগেই যদি তাকে সরে যেতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন।’ সেই সুযোগে নগরজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক দাপট। বাড়ছে হামলা-মামলাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডও।
২০ দিন আগে
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এনসিটি ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধু নিকায়ন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। কিন্তু জমি, মূল অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে; অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দর বা টার্মিনালের মালিকানা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে না। ১৫ বছর শেষে কনসেশনের আওতায় থাকা ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরার কথা।
২০ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) রক্ষায় ইজারা বাতিলসহ চারদফা দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু ও অন্যান্য শ্রমিক নেতারা এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স¤পদ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্যসচিব অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অত্যন্ত কৌশলগত ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রস্তাবটি মূল এজেন্ডায় না রেখে বিবিধ এজেন্ডায় উপস্থাপন ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।সরকারের এ ধরনের তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে এনসিটি পরিচালনার রাষ্ট্রীয় আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অটোমেশন প্রযুক্তি এবং আর্থিক সুবিধার একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। এছাড়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করা আবশ্যক।নেতারা ¯পষ্ট করেন যে, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী নন। তবে বন্দরের পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রগণ্য। ইতিমধ্যে কালো ও লাল পতাকা মিছিল, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করার পরও সরকারের থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান।বন্দর রক্ষা কমিটির পক্ষে চার দফা প্রধান দাবি পেশ করা হয়:১. এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা।২. সিসিটি ইজারা দিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নির্দেশনামূলক চিঠি প্রত্যাহার করা।৩. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা বাতিল করা।৪. আন্দোলনরত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের ওপর যেকোনো প্রকার প্রশাসনিক হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি স¤পূর্ণ বন্ধ করা।ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার তাদের দাবি বাস্তবায়নে সু¯পষ্ট পদক্ষেপ না নিলে ওই দিন বন্দরের প্রধান ফটকের দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি থেকেই পরবর্তী বৃহত্তর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সভাপতি এস কে খোদা তোতন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি জেলা কমিটির যুগ্ম স¤পাদক ইফতেখার কামাল খান, স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ স¤পাদক তসলিম হোসেন সেলিম।এছাড়া জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র যুগ্ম স¤পাদক আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক স¤পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, বিএফটিইউসির যুগ্ম স¤পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, ডক শ্রমিক দল নেতা আব্দুর রউফ লিটন এবং প্রচার ও প্রকাশনা স¤পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ একাধিক শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন।
২৬ দিন আগে
৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব’—এমন কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি লক্ষ্মীপুর ’বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’-এর (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের বলে জানা গেছে।গত রবিবার রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে বিভিন্ন প্রকল্পের মালামাল, ঠিকাদারি বিল, ক্রস আর্ম, বিল আটকে রাখা এবং অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়।ভিডিওতে আমিনকে বলতে শোনা যায়, এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি ২ কোটি টাকা থেকে নড়ব না।’ এরপর বলা হয়, ৬ কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি ২ কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’ভিডিওতে আরও শোনা যায়, একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’ এরপর একটি কাজের মালামালের হিসাব নিয়ে বলা হয়, ‘৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা।’পরে ৫ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের দাবি করে বলা হয়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।’ ভিডিওর অন্য অংশে কয়েক জন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। তবে তাদের মুখমন্ডল স্পষ্ট নয় বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় নি।ঐ অংশে টাকার অঙ্ক নিয়েও কথোপকথন শোনা যায়। একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে কত?’ অপর ব্যক্তি বলেন, ‘৩৫ স্যার।’ তখন কথিত প্রকৌশলীর কণ্ঠে শোনা যায়, ‘১ লাখ ৩৫।’ ঐ ব্যক্তি বলেন, ‘আগে দিয়েছি ১ লাখ স্যার।’তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা সংবাদ মাধ্যমগুলোর পক্ষে এখনও যাচাই করা সম্ভব হয় নি। ভিডিওটি সম্পাদিত কি না, কথোপকথনের সম্পূর্ণ অংশ কী এবং এতে উল্লেখ করা অর্থের সঙ্গে বাস্তব কোনো লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে কি না—তাও নিশ্চিত হওয়া যায় নি।কণ্ঠস্বরের সত্যতাও কোনো প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় যাচাই করা হয় নি। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর পিডিবির বিরুদ্ধে পুরোনো বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে পিডিবির সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলেন একদল গ্রাহক।ঐ সমাবেশ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে ’লক্ষীপুর বণিক সমিতি‘-র ’ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ গ্রাহকেরা বক্তব্য দেন।বক্তারা অভিযোগ করেন, পিডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ ও অনিয়মের কারণে সাধারণ গ্রাহকেরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, ২০২৫ সালের ২২ জুন হঠাৎ করে দুই শতাধিক প্রিপেইড মিটার লক হয়ে যায়। ঘুষ না দেওয়ার কারণে এসব মিটার লক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।সমাবেশে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ১৬টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সরকারি মিটার ও ট্রান্সফর্মার ব্যবহারের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এলটি সংযোগের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া, সরকারি মালামাল বিক্রি, একই ঠিকাদারকে বারবার কাজ দেওয়া, মিটার পরিবর্তন ও সংযোগের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি এবং সরকারি বিনা মূ্ল্যে সেবার নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।গ্রাহকদের অভিযোগ, পিডিবি অফিসে বিভিন্ন সেবা পেতে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। এক গ্রাহক বলেন, ব্যাটারির সমস্যায় তার মিটার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিন অফিসে ঘোরাঘুরি করেন। পরে তাকে সুমন মজুমদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।তার দাবি, ঐ ব্যক্তির মাধ্যমে ৩টি মিটারের জন্য ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আরেক গ্রাহক আমির হোসেন অভিযোগ করেন, মিটারের ব্যাটারি সংক্রান্ত সমস্যার জন্য রিমন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অস্বীকার করেছেন অভিযোগে সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় এক ঠিকাদার বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ঠিকাদারি করছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের লোক না হওয়ায় বর্তমানে তাঁকে বাদ দিয়ে সবুজ নামের একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারী করছি। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের লোক না হওয়ায় এখন আমার পরিবর্তে অন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে।’অন্যদিকে ভিডিওতে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে উল্লেখ থাকা ঠিকাদার বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ১৫ দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি শয্যাশায়ী আছেন। ভিডিও বা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা জোনে কাজ করেন এবং গত দুই বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাঁর কোনো কাজ নেই বলেও জানান তিনি।অভিযোগ অস্বীকার করে পিডিবির ’উপসহকারী প্রকৌশলী’(এসএই) ইফতে খায়রুল বলেন, গাড়ির জন্য আগে টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেটি ঘুষের টাকা নয়। দালাল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুরুলের দাপ্তরিক নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেন নি।
২৯ দিন আগে
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্নক শাটডাউন কর্মসূচিতে ষষ্ট দিনের মতো আজ রবিবারও অচল রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। দিনের শুরুতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা।গত শনিবারের মতো আজও তারা লালকার্ড প্রদর্শন করছেন নতুন উপাচর্য খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, ক¤িপউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের প্রতি। একইসঙ্গে ক্যা¤পাসের বিভিন্ন দেয়ালে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলছেন প্রতিবাদী গ্রাফিতি ও বৈষম্যবিরোধী নানা চিত্র।ফলে গত ৫ দিনের মতো আজ রবিবারও বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। চলছে না প্রশাসনিক কার্যক্রমও। তবে শিক্ষকরা বলছেন, তারা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করেননি। শিক্ষার্থীরা না আসায় ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না।শাটডাউন কর্মসূচির মুখে গত পাঁচদিন ধরে চুয়েট ক্যা¤পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমও। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি অনলাইন ও ডাকযোগে নতুন উপাচার্যের যোগদানপত্র পাঠান।এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও উত্তাল হয়ে উঠে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এই নিয়োগকে সর্বাত্নকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সমিতি ও অফিসার্স এসোসিয়েশন পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।এ ঘটনায় চট্টগ্রামের সচেতন মহল ও রাজনীতিকদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমে কেন এত ভরসা চুয়েট শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের। আর এ পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের কি সমস্যা?এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শাটডাউডন কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষাথী ও শিক্ষকদের সাথে কথা হয় দৈনিক ঈশানের। এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা ¯পষ্ট জানিয়েছেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যের ব্যক্তিগত বা একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। মূলত কোনো কারণ ছাড়াই অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তাদের এই আন্দোলন।যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব ও শিক্ষার্থী অরিন্দম দেসহ অন্যান্যরা জানান, কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যা সম্পুর্ণ বৈষম্য।স্বল্প সময়ের দায়িত্বে অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে আস্থার স¤পর্ক তৈরি করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থেই তাকে পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় দ্বন্দ্বের সঙ্গে না জড়ানোর জোর দাবি জানান তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন, গণ-অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, উনি (শরীফুল) আমার স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত স¤পর্ক আছে। তবে আমি এখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে একটি ফোরামের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি ফোরামের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না।সূত্র মতে, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। কিন্তু গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পরিবর্তন করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যা¤পাস। গত মঙ্গলবার থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা। সর্বশেষ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও ক্যা¤পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।সরকারের প্রতি দাবি মেনে নিয়ে ক্যা¤পাস সচল করার অনুরোধ করে খোলা চিঠিতে শান্তির বার্তা লিখে পায়রা উড়িয়ে দেন তারা। এর আগে মানববন্ধন ও মশাল মিছিলের কর্মসূচিও পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হয়ে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্নক শাটডাউন চালিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।চুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে সংহতি জানানো হয়েছে। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা থেকে চট্টগ্রামে আসেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বৃহ¯পতিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, আমি ইচ্ছে করলে যে কোনোভাবে জয়েন করতে পারি। কিন্তু জয়েন করাটা তো বড় বিষয় না। আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি দেখছে বলেও জানান তিনি। আন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান তিনি। আর এর মধ্যে গত বৃহ¯পতিবার তিনি ক্যা¤পাসে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান। পরবর্তীতে অনলাইনে প্রশাসনিকভাবে তাঁর এই যোগদান স¤পন্ন হওয়ার খবর জানাজানি হলে ক্যা¤পাসে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। এর প্রতিবাদে ওইদিন রাতে জুম প্ল্যাটফর্মে জরুরি সভা ডেকে সর্বাত্নক কর্মবিরতির ডাক দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি।অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ আরও বলেন, অধ্যাপক সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আবাসিক হল ও জরুরি পরিষেবা বাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে সমিতির সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।শিক্ষকদের ধারাবাহিকতায় জরুরি সাধারণ সভা করে চুয়েট অফিসার্স এসোসিয়েশন এই আন্দোলন কর্মসূচিতে একাত্নতা ঘোষণা করে। সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম এবং সাধারণ স¤পাদক প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষক সমিতির দাবির প্রতি একাত্নতা প্রকাশ করে অফিসার্স এসোসিয়েশনও কর্মবিরতি পালন করবে, তবে জরুরি সেবা কার্যক্রম এর আওতামুক্ত থাকবে।এদিকে অনলাইন যোগদানকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন জোরদার করেছেন শিক্ষার্থীরাও। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, অনলাইনে ডাকযোগে উপাচার্য হিসেবে যোগদানপত্র পাঠানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীরা এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শরীফুল আলম বলেন, বিক্ষোভে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে ক্যা¤পাসের তালা খুলে দিয়ে তাকে সাদরে ক্যা¤পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। শিক্ষক সমিতিতে সিনিয়র যারা আছেন তারা কেউ এ আন্দোলনের সঙ্গে একমত নন। জুনিয়র কিছু টিচার করছে।তিনি বলেন, আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। ইলেকট্রিক্যালের ডিন অধ্যাপক দোলন, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক আবু কাউছারের সঙ্গে কথা বলেছি। ক্লাস-পরীক্ষা যেন বন্ধ না থাকে সেটা বলেছি। কারণ এটার জবাবদিহি কিন্তু পরে শিক্ষকদেরই করতে হবে। নিরাপত্তা শাখাকে বলেছি ক্যা¤পাস যেন অনিরাপদ না থাকে।অধ্যাপক শরীফুল আরও বলেন, আন্দোলন করার অধিকার তাদের আছে। তবে নেগোসিয়েশনের পথ খোলা না রেখে আন্দোলন কাম্য নয়। আমি কুয়েটের টিচার। এজন্য চুয়েটে আমার নিয়োগ তো অবৈধ হতে পারে না। চুয়েট দেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। আমি নিজেও চুয়েটের ছাত্র। সরকার আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই নিয়োগ দিয়েছে। আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক শরীফুল। যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটা খতিয়ে দেখছে।চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ক¤িপউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, উনি (শরীফুল) আমাকে কল করেছিলেন। ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আমরা কী করতে পারি ! আমরা তো এটা বন্ধ করিনি। ছাত্রছাত্রীরা যদি ক্লাসে না আসে আমরা কী করতে পারি! আলোচনার একটা পথ তৈরি করতে হবে। সেটা তো আমি পারব না। যারা দায়িত্বে আছেন তারা পারবেন।চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ক্যা¤পাস অস্থিতিশীল। তবে অনিরাপদ নয়। হোস্টেলগুলোর কার্যক্রম ঠিকঠাকভাবে চলছে। আমরা শিক্ষকরা তো ক্লাসে যাচ্ছি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরেও পরীক্ষার হলে শিক্ষকরা গেছেন। কিন্তু স্টুডেন্টরা বলছেন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
১ মাস ৩ দিন আগে
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের তৃতীয় দিন আজ বৃহ¯পতিবারও সর্বাত্নক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। চলছে না প্রশাসনিক কার্যক্রমও। তবে শিক্ষকরা বলছেন, তারা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করেননি। শিক্ষার্থীরা না আসায় ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না।অন্যদিকে শাটডাউন কর্মসূচির মুখে গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রামে অবস্থান করেও চুয়েট ক্যা¤পাসে যেতে পারছেন না নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্যের দায়িত্বও নিতে পারছেন না।এ ঘটনায় চট্টগ্রামের স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনীতিকদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমে কেন এত ভরসা চুয়েট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। আর এ পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের কি সমস্যা।এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শাটডাউডন কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষাথী ও শিক্ষকদের সাথে একাধিকবার কথা হয় দৈনিক ঈশানের। এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা ¯পষ্ট জানিয়েছেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যের ব্যক্তিগত বা একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। মূলত কোনো কারণ ছাড়াই অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তাদের এই আন্দোলন।যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব ও শিক্ষার্থী অরিন্দম দেসহ অন্যান্যরা জানান, কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। স্বল্প সময়ের দায়িত্বে অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে আস্থার স¤পর্ক তৈরি করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থেই তাকে পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।একই সঙ্গে এই আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় দ্বন্দ্বের সঙ্গে না জড়ানোর জোর দাবি জানান তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন, গণ-অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, উনি (শরীফুল) আমার স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত স¤পর্ক আছে। তবে আমি এখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে একটি ফোরামের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি ফোরামের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না।সূত্র মতে, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। কিন্তু গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পরিবর্তন করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যা¤পাস। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও ক্যা¤পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানববন্ধন করেন চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।সরকারের প্রতি দাবি মেনে নিয়ে ক্যা¤পাস সচল করার অনুরোধ করে খোলা চিঠিতে শান্তির বার্তা লিখে পায়রা উড়িয়ে দেন তারা। এদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলন থেকে সন্ধ্যায় মশাল মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হয়ে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্নক শাটডাউন চালিয়ে যাবার আহ্বান জানানো হয়।চুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও সকালে মিছিল নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে সংহতি জানানো হয়েছে। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, সংবাদ সম্মেলন করে তারা শিক্ষক সমিতির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করবেন।উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা থেকে চট্টগ্রামে আসেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বৃহ¯পতিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, আমি ইচ্ছে করলে যে কোনোভাবে জয়েন করতে পারি। কিন্তু জয়েন করাটা তো বড় বিষয় না। আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি দেখছে। তারা আন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আমি অবশ্যই যাব- বললেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল।সিনিয়র শিক্ষক, ডিনদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দিয়ে অধ্যাপক শরীফুল আরও বলেন, শিক্ষক সমিতিতে সিনিয়র যারা আছেন তারা কেউ এ আন্দোলনের সঙ্গে একমত নন। জুনিয়র কিছু টিচার করছে। আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। ইলেকট্রিক্যালের ডিন অধ্যাপক দোলন, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক আবু কাউছারের সঙ্গে কথা বলেছি। ক্লাস-পরীক্ষা যেন বন্ধ না থাকে সেটা বলেছি। কারণ এটার জবাবদিহি কিন্তু পরে শিক্ষকদেরই করতে হবে। নিরাপত্তা শাখাকে বলেছি ক্যা¤পাস যেন অনিরাপদ না থাকে।অধ্যাপক শরীফুল আরও বলেন, আন্দোলন করার অধিকার তাদের আছে। তবে নেগোসিয়েশনের পথ খোলা না রেখে আন্দোলন কাম্য নয়। আমি কুয়েটের টিচার। এজন্য চুয়েটে আমার নিয়োগ তো অবৈধ হতে পারে না। চুয়েট দেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। আমি নিজেও চুয়েটের ছাত্র। সরকার আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই নিয়োগ দিয়েছে। আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক শরীফুল। যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটা খতিয়ে দেখছে।চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ক¤িপউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, উনি (শরীফুল) আমাকে কল করেছিলেন। ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আমরা কী করতে পারি ! আমরা তো এটা বন্ধ করিনি। ছাত্রছাত্রীরা যদি ক্লাসে না আসে আমরা কী করতে পারি! আলোচনার একটা পথ তৈরি করতে হবে। সেটা তো আমি পারব না। যারা দায়িত্বে আছেন তারা পারবেন।চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ক্যা¤পাস অস্থিতিশীল। তবে অনিরাপদ নয়। হোস্টেলগুলোর কার্যক্রম ঠিকঠাকভাবে চলছে। আমরা শিক্ষকরা তো ক্লাসে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার দুপুরেও পরীক্ষার হলে শিক্ষকরা গেছেন। কিন্তু স্টুডেন্টরা বলছেন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
১ মাস ৬ দিন আগে
নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে আটকা ছিল এমন সাত শতাধিক নামজারি ফাইলে স্বাক্ষর করে কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে সদ্য বিদায়ি এসি-ল্যান্ড দেবব্রত দাশের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগও উঠেছে আরএস খতিয়ানমুলেও নামজারি করে দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে।আর এ কাজের মূল নায়ক ছিলেন খোদ এসি-ল্যান্ডের অস্থায়ী ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম ও অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্ছাঙ্গ্যা সিন্ডিকেট। যাদের অধীনে রয়েছে ভুমি সেবা দাতা হিসেবে সংযুক্ত কতিপয় দালাল চক্র। এ কাজে মোটা অঙ্কের ভাগও পেয়েছেন তারা।এমন অভিযোগ মিলেছে দূর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে দায়ের করা একটি অভিযোগ থেকে। অভিযোগটি করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসে নামজারিসহ বিভিন্ন ভুমি সেবা পেতে নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হওয়া একাধিক ভুক্তভোগী।দুদকে দায়ের করা অভিযোগের তথ্যমতে, দেবব্রত দাশ ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসে এসি-ল্যান্ড হিসেবে যোগদানের পর থেকে ভুমি সমস্যা নিরসনে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ভুমির নামজারিসহ বিভিন্ন ভুমি সেবার কাজ তিনি লাখ টাকা ছাড়া করতেন না। যার কাছ থেকে টাকা পেতেন তার পক্ষে কাজ করতেন।এক্ষেত্রে একজনের জমি অন্যজনের নামে নামজারি করে দিয়ে পারবারিক ও সামাজিক বিরোধ সৃষ্টি করেছেন। যার কারণে ভুমি বিরোধ নিয়ে দিন দিন অস্থিরতা বাড়ছে রাঙ্গুনিয়ায়। তার এ কাজে সহযোগীতায় ছিলেন ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা ও অস্থায়ী ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম।যারা ভুমি সংক্রান্ত খতিয়ান ও নকল সংগ্রহে ৫০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতেন। টাকা না পেলে কাজের ফাইল আটকে রাখতেন অফিস সহকারি সুভাস বসু তঞ্ছাঙ্গ্যা। আর ফাইল ছাড়ার জন্য ভুমি সেবা পেতে আসা লোকজনের সাথে মোটা অঙ্কের চুক্তি করতেন ড্রাইভার ইব্রাহিম।যাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারত তাদের ফাইল উঠত এসি-ল্যান্ডের টেবিলে। এই্ কাজে টাকার অর্ধেক পেতেন এসি-ল্যান্ড দেবব্রত দাশ। বাকি অর্ধেক ভাগবাটোয়ারা করতো ড্রাইভার ইব্রাহিম ও সুভাষ বসু। এর আগে দালাল চক্র মূলত টাকার বিনিময়ে ফাইল নিয়ে সুভাষ বসু বা ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করে দেয় ভুমি সেবা গ্রহিতাদের।আর যারা চাহিদামতো টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করতেন তাদের কাজ অফিস সহকারী সুভাষ বসুর টেবিলেই আটকা থাকত। এভাবে হাজার হাজার ফাইল আটকা আছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসে। যার মধ্য থেকে সাত শতাধিক নামজারি ফাইলে স্বাক্ষর করে নগদ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এসি-ল্যান্ড দেবব্রত দাশ ও সহযোগী চক্র।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত আগস্ট মাসে বদলির অর্ডার পাওয়ার পর এসি-ল্যান্ড দেবব্রত দাশ শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিনেও গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে বসে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি সাত শতাধিক নামজারি ফাইলে স্বাক্ষর করেন। যার মধ্যে আরএস খতিয়ান মুলে নামজারি পর্যন্ত রয়েছে। আর এসব নামজারি ফাইল থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। যেখান থেকে প্রায় ৬-৭ কোটি টাকা লুট করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এসব কাজের মুল হোতা হিসেবে ড্রাইভার ইব্রাহিম ও অফিস সহকারী সুভাষ বসুসহ দালাল সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছাখালি ভুমি অফিস এলাকায় ভুমি অফিসের বিপরীতে কাপ্তাই সড়কের উত্তর পাশে সরকারি খাস জমিতে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এমনকি উপজেলার ইটভাটাগুলো থেকেও প্রতি মৌসুমে ২০ হাজার টাকা হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাঙ্গুনিয়ার অসহায় ও নিরীহ মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা হাতিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন ড্রাইভার ইব্রাহিম ও অফিস সহকারী সুভাষ বসু। অভিযোগের তথ্যমতে, সুভাষ বসু অফিস সহকারী পদে চাকরি করলেও চট্টগ্রাম শহরে কেনা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বাড়িতে বিলাসী জীবন যাপন করছেন।এছাড়া কাপ্তাই রেশম বাগান এলাকায় প্রায় ২৩ একর জমিতে বাগান ও বাড়ি করেছেন। পদুয়ায়ও ১৭ একর জমির উপর বাগান ও বাড়ি রয়েছে। যা সম্পুর্ণ অবৈধ আয়ের টাকায় গড়ে তুলেছেন সুভাষ বসু। একইভাবে ড্রাইভার ইব্রাহিম চট্টগ্রাম শহরে খুলশি এলাকায় ফ্ল্যাট কেনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।অথচ তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা এলাকায়। যেখান থেকে সর্বোচ্চ ৬ কিলোমটারের দূরত্ব রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিস। এরপরও ড্রাইভার ইব্রাহিম রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের কক্ষে স্বপরিবারে বসবাস করেন। এমনকি অফিসের কম্পিউটারে বসে কাজও করেন। যা চাকরির বিধি বহির্ভূত। একইভাবে সুভাষ বসুর বাড়িও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে। সে হিসেবে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজ উপজেলায় চাকরি করছেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, ড্রাইভার ইব্রাহিম ও সুভাষ বসু দু‘জনেই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সক্রিয় দোসর ছিলেন। তৎকালীন রাঙ্গুনিয়ার জালিম এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ডা, হাসান মাহমুদের হস্তক্ষেপে ভৃুমি অফিসে এসি-ল্যান্ডের ড্রাইভার হিসেবে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি পান ইব্রাহিম। আর সাবেক এই মন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ঠ হয়ে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে দখলবাজি-চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেন। ভুমি সেবা গ্রহিতাদের বিভিন্ন কৌশলে ভয়ভীতি দোিখয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠেন।এর আগে বদলির মুহুর্তে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইউনিয়ন ভুমি অফিস সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫ লাখ টাকা লুটে নিলেন এসি-ল্যান্ড দেবব্রত দাশ-এ সংক্রান্ত প্রতিবেদেন-১ প্রকাশের পর নামজারি ফাইলের কাজের দায়িত্ব থেকে সুভাষ বসুকে সরিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সাথে কয়েকটি ভুমি অফিসের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে ভুমি অফিস সংস্কার ও মেরামতের নামে বরাদ্দকুত ১৫ লাখ টাকা লুটে সহযোগীতা বা ফাইলে স্বাক্ষর না করায় পোমরা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার আবু বক্কর সিদ্দিকীর আইডি হ্যাক করে রাখা হয়েছে। যার ফলে তিনি অফিসের স্বাভাবিক কাজ করতে পারছেন না। এ বিষয়ে তহশীলদার আবু বক্কর সিদ্দিকীও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মুঠোফোনে।সূত্র মতে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা, পদুয়া, শিলক, রানির হাট ও টিসির হাট ভুমি অফিসের পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের নামে ৩ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পান এসিÑল্যান্ড দেবব্রত দাশ। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনটিরই কাজ শুরু করা হয়নি।বিস্ময়ের ব্যাপার, এই ৫ ইউনিয়ন ভুমি অফিস ভবনের মধ্যে শিলক ইউনিয়ন ভুমি অফিস ছাড়া সবগুলো ভবনই নতুন। যেখানে সংস্কারের কিছুই নেই। এর সত্যতা উঠে এসেছে ইউনিয়ন ভুমি অফিসে কর্মরতদের কথায়। যা প্রতিবেদন-১ এ প্রকাশ করা হয়েছে।এছাড়া রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও নিয়োগ পান এসিÑল্যান্ড দেবব্রত দাশ। এ সুযোগ পেয়ে সেখানেও ভুমি অফিসের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়েছেন তিনি। পৌরসভায় তার সহযোগী ছিলেন সচিব আল হেলাল, প্রকৌশলী জমির উদ্দিন ও হিসাব রক্ষক মো. এরশাদ।সূত্র মতে, বদলি হওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগে সৈয়দবাড়ি পৌর এলাকায় কথিত বিএনপি নেতার বসতবাড়িতে যাতায়াতের সড়ক নির্মানের জন্য ১৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেন। আর ওই কাজ হাতে পান পৌরসভা বিএনপির টেন্ডারবাজ আরেক নেতা। যার সহযোগীতায় মাত্র দেড় লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ করে পুরো টাকা আত্নসাৎ করে ভাগবাটোয়ারা করেন এই চক্র। এভাবে রাঙ্গুনিয়াকে তিনি দূর্নীতির তীর্থস্থানে পরিণত করেন। যা এর আগে কোন এসিÑল্যান্ড করেননি।এ বিষয়ে জানতে সদ্য বিদায়ী এসিÑল্যান্ড দেবব্রত দাশের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যাও কল রিসিভ থেকে বিরত ছিলেন। তবে ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম তার সব অভিযোগ অম্বীকার করে বলেন, এসিÑল্যান্ডের অর্ডার ছাড়া আমার কোন কাজ করার সুযোগ নেই। এসিÑল্যান্ড যা করতে বলেছেন তাই করেছি।প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এসিÑল্যান্ড বদলি হওয়ার সময় স্বাভাবিকভাবে কাজ একটু বেশি হয়। সে হিসেবে সদ্য বিদায়ী এসিÑল্যান্ড বিদায় নেওয়ার আগে কিছু কাজ করেছেন। এ সময় স্যারের অর্ডার মোতাবেক আমরা কাজ করেছি। এ নিয়ে অন্য কোন মন্তব্য করতে পারব না। আর ইটভাটা থেকে চাঁদাবাজির কোন প্রশ্নই আসে না বলে দাবি করেন তিনি। একই সাথে খুলশীতে ফ্ল্যাট কেনার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের বর্তমান এসিÑল্যান্ড খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু মুঠোফোনে বলেন, আমি যোগদানের পর অভিযোগের কারণে অফিস সহকারী সুভাষ বসুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এমন কোন অভিযোগ থাকলে ড্রাইভার হোক আর যেই হোক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।(বি: দ্র: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২ প্রকাশ করছে দৈনিক ঈশান। তৃতীয় পর্ব প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। প্রিয় পাঠক এ বিষয়ে কোন তথ্য থাকলে তা দৈনিক ঈশানে পাঠিয়ে সহযোগীতা করতে পারেন)এ সংক্রান্ত আরও :বদলির মুহুর্তেও রাঙ্গুনিয়া থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতালেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ
১ মাস ৯ দিন আগে
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী ওরফে ডিসকো শওকত।ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একক ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও শওকত আলী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাংকটির ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণে আছেন—যা একপর্যায়ে ২১ দশমিক ১০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল।এক্ষেত্রে প্রক্সি শেয়ার, বেনামি প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কর্মচারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটির ওপর দীর্ঘদিনের একক কর্তৃত্ব বজায় রাখেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগের একটি বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।চলতি বছরের ১৩ এপৃল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর-৩-এর অনুমোদনক্রমে পরিচালিত এই তদন্তে ব্যাংক সরবরাহকৃত নথি, শেয়ারহোল্ডিং রিপোর্ট, ব্যালেন্স শিট, আয়কর নথি এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নথি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়।তবে তদন্তে জালিয়াতির এমন প্রমাণ মিললেও অজ্ঞাত কারণে দৃশ্যমান আইনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ইবিএল কর্তৃপক্ষ। আর এই সুযোগে তদন্ত চলাকালেই হাতবদল হয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ প্রক্সি শেয়ার।প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে ‘ডামি কোম্পানি’র চমকপ্রদ অর্থনীতি। যেখানে বলা হয়, ২০০১ সালে মাত্র ১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনে নিবন্ধিত হয় মেসার্স আরুসা অ্যান্ড কোং। নিবন্ধনের এক বছরের মাথায়, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ৯১ লাখ টাকায় ইবিএলের ৭ লাখ ১৮ হাজার ৮০টি শেয়ার কেনে।এরপর দীর্ঘ ২৪ বছরে একটি শেয়ারও বিক্রি না করে কেবল বোনাস ও স্টক ডিভিডেন্ড তুলে নিয়ে শেয়ার সংখ্যা দাঁড় করায় ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার ২৯২টিতে—যা প্রাথমিক সংখ্যার প্রায় ২২২ গুণ।কেবল বোনাস শেয়ারের সৌজন্যেই যুক্ত হয়েছে ১৫ কোটি ৮৪ লাখের বেশি শেয়ার। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে এই শেয়ারের ফেসভ্যালুই দাঁড়ায় ১৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যার বাজারমূল্য ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।অর্থাৎ প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রায় ৩৮ গুণ এবং নিবন্ধিত মূলধনের প্রায় ৩০ হাজার গুণ মুনাফা এসেছে এই একটি মাধ্যম থেকে। বোনাস শেয়ারের কারণে প্রতিটি শেয়ারের প্রকৃত ক্রয়মূল্য যেখানে মাত্র ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে, সেখানে বাজারদর ছিল ১৯ টাকা ৩৩ পয়সা।নগদ লভ্যাংশের চিত্রটি আরও ভয়াবহ। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে আরুসা অ্যান্ড কোং ব্যাংকটি থেকে নগদ লভ্যাংশ হিসেবে তুলে নিয়েছে যথাক্রমে ১৫.৩৫ কোটি, ১৭.২৭ কোটি, ১৯.৪৩ কোটি এবং ২৭.৮৫ কোটি টাকা—সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এটি ২০০২ সালে তাদের মূল বিনিয়োগের ১০ গুণেরও বেশি। ২০২৫ সালের লভ্যাংশ যুক্ত হলে এক বছরেই তাদের পকেটে ঢুকবে আরও প্রায় ৩৯.৭৯ কোটি টাকা।সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিলেন স্বয়ং শওকত আলী চৌধুরী ওরফে ডিসকো শওকত। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে লভ্যাংশের হার নির্ধারণের মূল টেবিলে বসেছেন তিনি। আবার পরোক্ষ সুবিধাভোগী (Ultimate Beneficial Owner) হিসেবে কোটি কোটি টাকার লভ্যাংশ জমা হয়েছে তাঁরই স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে।নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আরুসা অ্যান্ড কোং প্রতিষ্ঠাকালে শওকত আলীর শ্যালিকা আনিকা তেহজীব ও নইমুল হক পরিচালনায় ছিলেন। পরবর্তীতে শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১৪ সালে শওকত আলীর কন্যা জারা নামরীনের নামে ৫ হাজার শেয়ার দেওয়া হয়, যা ২০১৭ সালে পুনর্হস্তান্তর করা হয় নইমুল হকের নামে।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দলের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ২০১৭ সালের ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি শওকত আলী চৌধুরীর পরিবারের প্রত্যক্ষ মালিকানাধীন ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আরুসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নইমুল হকের আয়কর বিবরণীতে মাত্র ৯৫০টি শেয়ারের তথ্য দেখানো হয়েছে, যেখানে তাঁর নামে ছিল ৫,৯৫০টি শেয়ার।পরিদর্শন দল ব্যাংকে যোগাযোগ করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপুল শেয়ারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও ইবিএলে আরুসার কোনো প্রতিনিধি নেই এবং নইমুল হক বা এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোনো তথ্য ব্যাংকে সংরক্ষিত নেই। এমনকি ইবিএলের শেয়ার ধারণ করা ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির পোর্টফোলিও বা মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রমও নেই আরুসার।প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, আরুসা থেকে শওকত আলী চৌধুরীকে জমির বায়না বাবদ ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল, যা এক দশকেও জমি হিসেবে বা নগদ ফেরত হিসেবে সমন্বয় করা হয়নি। পাশাপাশি তাঁর মালিকানাধীন এস এন কর্পোরেশনকে ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ন্যাশনাল টি কোম্পানিতে (এনটিসি) ১০ কোটি ৭১ লাখ টাকা স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।অনুসন্ধানে দেখা যায়, আনিকা শেয়ার্সের ৯৮ শতাংশের মালিক মো. জসিম উদ্দিন হলেও বাকি ২ শতাংশের মালিক ডিসকো শওকতের শ্যালিকা আনিকা তাহজীব। আরজেএসসিতে দেওয়া নথিতে আনিকা তাহজীবের যে ঠিকানা (২৮, সুরসন রোড, চট্টগ্রাম) দেওয়া হয়েছে, তা ডিসকো শওকতের পারিবারিক ঠিকানার সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে।প্রতিবেদন তৈরি ও জমা দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়েই রহস্যজনকভাবে শেয়ার নগদায়ন শুরু করে এই ডামি প্রতিষ্ঠানগুলো। তথ্যানুসারে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আনিকা শেয়ারসের হাতে ইবিএলের ১.১৪ শতাংশ শেয়ার থাকলেও মার্চ ২০২৬-এর রিপোর্টে তা নেমে এসেছে মাত্র ০.০৫ শতাংশে।একইভাবে আরুসা অ্যান্ড কোংয়ের ৯.৯৮ শতাংশ হোল্ডিং কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ তদন্ত চলাকালেই অর্ধেকের বেশি বেনামি শেয়ার বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট গভর্নর বরাবর দেওয়া এক আবেদনে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রতিবেদন ফাইলবন্দি থাকার সুবাদে মূল অবৈধ শেয়ার নগদায়ন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।বিএফআইইউ অতীতে দুবার সংশ্লিষ্ট হিসাব অবরুদ্ধ করলেও কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা না নিয়ে গোপনে তা মুক্ত করে দেয়, যার খেসারত রাষ্ট্রকে ২৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে মেটাতে হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ধারা ১৪(ক) অনুযায়ী, ১০ শতাংশের অতিরিক্ত শেয়ার নির্ধারিত সময়ে বিক্রি না করলে তা সরকারের বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শওকত আলী ১৯৯২ সাল থেকেই এই বিধান লঙ্ঘন করে আসছেন।প্রতিবেদনের তথ্যমতে, শওকত আলী চৌধুরী ওরফে ডিসকো শওকত, তাঁর স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারিন, দুই কন্যা জারা নামরীন ও সাবাহ সামরিন, পুত্র জারান আলী চৌধুরী এবং তাঁদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নামরীন এন্টারপ্রাইজ ও জেড এন এন্টারপ্রাইজের নামে ব্যাংকের ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রত্যক্ষ শেয়ার রয়েছে।বাকি ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ পরোক্ষ শেয়ারের মূল কেন্দ্রে রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স আরুসা অ্যান্ড কোং (প্রাইভেট) লিমিটেড এবং আনিকা শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) শওকত আলী চৌধুরীর বিদেশে সম্পত্তি (সিঙ্গাপুরে ৩২ লাখ ডলারের সম্পদ), সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের দ্বৈত নাগরিকত্ব, পুত্র জারান আলী চৌধুরীর অফ ডক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়টি অধিকতর অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছে।আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘনের এই অভূতপূর্ব ঘটনার পেছনে দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা বা তদারকির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ কারণে তার বক্তব্য উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
১ মাস ১১ দিন আগে
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।দুদক প্রধান কার্যালয়ে জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। দুদক জানায়, আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আয়কর ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে তার নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ ও দায়–দেনার তথ্য পাওয়া যায়।অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আ জ ম নাছির উদ্দীনের ২ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টাকার স্থাবর এবং ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১ হাজার ২৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। একই সময়ে তার ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮ টাকার দায়–দেনার তথ্য পাওয়া যায়।দায়–দেনা বাদ দিয়ে ওই সময়ে তার নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ২২ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ১৮৭ টাকা। এছাড়া তিনি পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ১৮ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টাকা ব্যয় করেছেন। ফলে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত তার মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা।বিপরীতে, অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ টাকা। এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকা।দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এসব সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানায় দুদক।
১ মাস ১৫ দিন আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দূর্নীতির মামলায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ক্লারিকাল সুপারভাইজার ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে (৫৭) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ রায় দেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কবির হোসেন।তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে গণ্য করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় আগে কোনো কারাভোগ করে থাকলে তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় জব্দ করা সব আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মালখানার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় নাছির উদ্দিনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।মামলার নথি ও দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মাত্র ২৩০ টাকা মূল বেতনে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে পিয়ন বা অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন নাছির উদ্দিন। পরে ট্যাংক লরি হেলপার থেকে চেকার এবং এরপর ক্লারিকাল সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ও সিবিএর সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করেন নাছির উদ্দিন।দুদকের অভিযোগ, এসব পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ তার বিপুল সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে। ২০১৯ সালের ১২ মে দুদকে সম্পদের বিবরণী জমা দেন নাছির উদ্দিন। সেখানে তিনি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।পরে দুদকের অনুসন্ধানে তার ২ কোটি ১১ লাখ ৭১ হাজার ১৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের তথ্য পাওয়া যায়। একইসঙ্গে ২ কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্যও পাওয়া যায়।এই অভিযোগে ২০২৩ সালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।এই সময়ে গা ঢাকা দেন তিনি। যদিও পদ্মা অয়েল পিএলসি থেকে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। নিয়মিত অফিস না করেও তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। এ কাজে পদ্মা অয়েলে পিএলসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে সহযোগীতা করেছেন। আর এই দীর্ঘ সময়ে সাক্ষ্য, প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার সাজার রায় দেন।
১ মাস ১৬ দিন আগে
ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি, ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, উত্তম চৌধুরী, শাহজাহান কবির ও সিবিএ নেতা মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি এমন অভিযোগ হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবরে। লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন সিইউএফএল এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযোগে মিজান-আরিফ-উত্তম-শাহজান চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।মিজান-আরিফ-উত্তম-শাহজানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগঅভিযোগে বলা হয়, সিইউএফএল’এর ইজিপি নির্দেশিকা অমান্য করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান ও পছন্দের ঠিকাদারকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় প্রদান করে সরকারের ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা চালান এমডি মিজানুর রহমান।পরবর্তীতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ সেই টেন্ডার বাতিল করে এবং নতুন ইজিপি দরপত্রে সরকারের ৫৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়।লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবির সিইউএফএলের আশে পাশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন শাহজাহান কবির। নিজ এলাকায় তিনি বিঘায় বিঘায় জায়গা জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।এছাড়া অচল পরিবহন পুলের গাড়ি সচল দেখিয়ে ভুয়া জ্বালানি খরচ এবং কারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও চোরাই বাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এছাড়া এমডির মদদে মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলাম বিগত দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হাজিরা খাতায় ‘ব্যাক ডেটে‘ ভুয়া স্বাক্ষর এবং ক্যাজুয়াল ছুটির নথি তৈরি করা হয়।অভিযোগে দাবি করা হয়, ২০২২ সাল থেকে সিবিএ নির্বাচন বন্ধ রেখে কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে পছন্দের লোক বসিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে দুই অভিযুক্তই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।নিয়ম ভেঙে সিইউএফএলের বিদ্যুৎ বিক্রি হচ্ছে বাইরেতথ্য সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) নিজস্ব বিদ্যুৎকন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়ম ভেঙে সংলগ্ন বাজারের দোকানপাট ও আবাসিক ভবনে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমতি নেই বলে জানা গেছে। ফলে এই বিদ্যুৎ বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়া বাজারের শতাধিক দোকান ও বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সিইউএফএলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সংযোগ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় হয় বলে জানা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিল বকেয়া রেখেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগের তীর এমডি মিজানুর রহমান, মাস্টার আরিফুর ইসলাম, উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। সিইউএফএল থেকে তিনটি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। পরে ঐ সংযোগ ব্যবহার করে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও বসতঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিইউএফএলের কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। সেখানে দুটি স্টিম টারবাইন জেনারেটর (এসটিজি) ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আর ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্থাপিত বিদ্যুৎকন্দ্রের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাইরে সরবরাহ বা বিক্রি করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু নিয়ম কানুনের ব্যতয় ঘটিয়ে উত্তম চৌধুরী, শাহজাহান কবির, এমডি মিজানুর রহমান ও সিবিএ নেতা আরিফ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন।কার কত সম্পদঅভিযোগের তথ্যমতে, এমডি মিজানুর রহমান ভোলা জেলার চড়পাতা গ্রামে দোতলা বাড়ি এবং নরসিংদী জেলায় একটি ৭ তলা ভবন নির্মাণসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এবং নিজ গ্রামে কাঁড়ি কাঁড়ি জায়গা-জমি কিনেছেন, স্ত্রী নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, এবং দুর্নীতির টাকা সাদা করতে কাছের আত্মীয় স্বজনের নামেও খুলেছেন ব্যাংক একাউন্ট।অন্যদিকে মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামও নিজ গ্রামে পাকা বিল্ডিং ও ঢাকায় নামে–বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনেছেন, তিনিও তার গ্রামের বাড়িতে কিনেছেন জায়গা-জমি, কিনেছেন ফ্ল্যাট, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামে করেছেন এফডিআর।এছাড়া অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবিরও। নিজ এলাকায় তিনি বিঘায় বিঘায় জায়গা জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।যা দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্ট অপরাধ। অনিয়মের তথ্য ফাঁস করায় তাঁদের মিথ্যা অভিযোগে বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিইউএফএল–এর সাধারণ কর্মচারীরা।একচ্ছত্র আধিপত্য আরিফেরজানা গেছে, সিইউএফএলএ আরিফের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর চলছে জুলুম। সিবিএ নির্বাচনে তার সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রবিউল ইসলাম খান ও এমরান খানকে সম্প্রতি বিসিআইসিতে তদবির চালিয়ে অন্যত্র বদলি করিয়ে দেওয়া হয়েছে!সাধারণ শ্রমিকদের দাবি—ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি প্রশ্রয় আর যোগসাজশেই আরিফ আজ এত বেপরোয়া। কারখানার এমডি মিজানুর রহমান নিজে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকায়, আরিফের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এই পুরো সিন্ডিকেটকে পাহারা দিচ্ছেন এবং আরিফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ বিষয়ে কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, ইচ্ছে থাকলেও কিছু করার নেই। তিনি কারখানার অঘোষিত সিবিএ নেতা। তাকে বিসিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমীহ করেন, ফোন করে খোজ খবর নেন। তিনি আরও বলেন, আরিফের কর্মস্থলে না আসার বিষয়টি আমি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছেন, কিছু বিষয় দেখেও না দেখার ভান করতে হয়। তাই অপারগ হয়ে মেনে নিচ্ছি’।অভিযুক্তদের মুখেও মিলল সত্যতাঅভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইউএফএল এর সিবিএ নেতা মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন বঞ্চিত শ্রমিকদের পক্ষ হয়ে কাজ করতেছি, কিছুদিন আগে ১১ জনকে অফিসার পদে এবং ১০০ জনের মত শ্রমিককে পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তারা খুশিমনে যা দিয়েছে তা গ্রহণ করেছি, আরও অনেকে এখনো কিছু দেয়নি। আমি মাঝে মাঝে বিমানে করে ঢাকায় যায়, জরুরি কাজে। আমার চাকরি জীবনে আমরা ৩৬ জন বন্ধু মিলে জায়গা ক্রয় করে ঢাকার বাড্ডায় ১০ তলার ভবন তৈরি করতেছি। সেখানে আমার একটি ফ্ল্যাট আছে। আর কিছু নেই আমার।সিএফইউএলের প্রধান রসায়নবিদ ও উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উত্তম চৌধুরী বলেন, সিএফইউএলের বিদ্যুৎ বাহিরে বিক্রি করার কোন অনুমতি নেই, আমরা ইউরিয়া তৈরি করি, আমার জানমতে এসব দেখাশুনা করেন এমটিএস বিভাগের (জিএম) শাহজাহান সাহেব, উনি এই বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে আছেন, উনি ভালো বলতে পারবেন।কিন্তু এমটিএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি। এমনকি হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোন সদু্ত্তর পাঠাননি।এমডি মিজানের দম্ভ অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে সিএফইউএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, দুদকে আবেদন কে দিয়েছে কারা দিয়েছে। দুদকে আবেদন করেছে দুদক দেখুক, ওরা তদন্ত করে দেখুক। আমরা যদি অনিয়ম করে থাকি অবশ্যই ব্যবস্থা হবে। দম্ভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার অফিসে সব কাগজপত্রের রেকর্ড আছে, দুদক দেখুক সব কিছু। কিছুই হবে না আমাদের।
১ মাস ১৬ দিন আগে
পরকীয়ার অপবাদে সালিশি বৈঠকে অপমানের শিকার হয়ে আত্নহননের চেষ্টা করা গৃহবধু অঞ্জনা দাসের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুস সালেহীন। তিনি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর অঞ্জনা দাসকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু ঘটে। নি:সন্তান অঞ্জনা দাস রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব চন্দ্রঘোনা হিন্দুপাড়ার কাঞ্চন দাস ওরফে লাল সাধুর স্ত্রী। ঘটনা নিশ্চিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিনও। তিনি বলেন, এই ঘটনায় মৃত্যু প্ররোচনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এলাকাবাসী সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে অঞ্জনা দাসের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন তার স্বামী কাঞ্চন দাস। অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় একটি সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকে স্থানীয় সালিশানদের সামনে এক যুবকের সাথে অঞ্জনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়। যার ফলে তাকে চরম সামাজিক ও মানসিক অপমানের মুখে পড়তে হয়।জনসমক্ষে এই অপমান সহ্য করতে না পেরে গত ৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেন অঞ্জনা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহবধূর এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
১ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সন্তান শিশু রায়হান। বয়স সবে মাত্র ১২। সাত মাস আগে চুল কাটাতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রায়হান। সেই ূেথকে ছেলেকে খুঁজেছেন বাবা-মা, স্বজনেরা।তবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ উপজেলার চুনতীতে ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় হঠাৎ ছেলের দেখা পান স্বজনেরা। তবে যে রায়হানকে খুঁজছিলেন, তাকে দেখে আনন্দে নয়, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা। কারণ, রায়হানের একটি পা নেই।পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়হান চুনতি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি হেফজখানার শিক্ষার্থী ছিল বলে জানান লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক।ওসি বলেন, রায়হানের ভাষ্যমতে, সালমা নামেরেএক নারী তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। পরে লোহাগাড়ার চুনতীগামী একটি গাড়িতে তুলে দেন। তাকে বলা হয়, মাহফিল শেষ করে বাড়িতে গিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে।ওসি আরো বলেন, রায়হানকে উদ্ধারের পর তার বাবা থানায় এসে ছেলে পা হারানোর ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন। যেহেতু শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে, তাই সেখানে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ওসির ভাষ্য, শিশু রায়হান ফিরে আসায় পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুরু হয়েছে আরও বড় এক অপেক্ষা—রায়হানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে হারাল তার একটি পা?এছাড়া কীভাবে শিশুটিকে চুনতীতে আনা হলো, কারা তাকে নিয়ে এল এবং ঢাকায় তাকে আটকে রাখার অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।এদিকে সাত মাস ধরে নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর স্বস্তি পাওয়ার কথা ছিল নাজিম উদ্দিনের। কিন্তু সন্তানের শরীরের দিকে তাকিয়ে সেই স্বস্তি যেন প্রতিমুহূর্ত বিষাদে পরিণত হচ্ছে।নাজিম উদ্দিন বলেন, সাত মাস ধরে ছেলেকে কোথায় খুঁজিনি। অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি। অবশেষে ছেলেকে পেলেও সুস্থ অবস্থায় পাইনি। যারা আমার ছেলের এ অবস্থা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচার চাই।’রায়হানের বাবা আরও অভিযোগ করেন, শিশুটিকে আটকে রাখার সময় তার একটি কিডনি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির পেটে ও পিঠে অস্ত্রোপচারের মতো চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।তবে চিকিৎসা পরীক্ষা ছাড়া কিডনি অপসারণের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে শিশুটির পা কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেটিও চিকিৎসা নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।রায়হানকে উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি শিশু সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর এক পা হারানো অবস্থায় ভিক্ষা করতে ফিরে আসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ নুরুচ্ছফা বলেন, ছেলেটির এমন অবস্থা দেখে আমরা মর্মাহত। সে কোথায় ছিল, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে তার পা হারাল—সবকিছু তদন্ত করে বের করা দরকার।পরিবারের ভাষ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চুল কাটানোর জন্য বাবার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়েছিল রায়হান। পথে একটি মিছিলের গাড়িতে ওঠে সে। গাড়িটি কক্সবাজারে চলে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফিরতে পারেনি রায়হান।রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বডি ম্যাসাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত সে। সেখানেই এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। রায়হানের দাবি, ওই ব্যক্তি খাবার ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি একটি টিনের ঘেরা কক্ষে ‘সালমা’ নামের এক নারীর কাছে তাকে দেওয়া হয়।রায়হানের অভিযোগ, ওই নারী ও তার সহযোগীরা তাকে সেখানে আটকে রেখে ভিক্ষা করতে বাধ্য করতেন। ওই কক্ষে আরও ১৫ থেকে ২০ জন ছেলে-মেয়ে ছিল। তাদের কারও হাত, কারও পা কাটা ছিল বলেও সে জানায়। রায়হানসহ অন্য শিশুরা ওই নারীকে ‘নানী’ বলে ডাকত।সেখানে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্রও দেখেছে বলে দাবি রায়হানের। তার ভাষ্য, ভিক্ষা করে আয় কম হওয়ায় দুই থেকে তিন মাস পর এক রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি পা কেটে দেওয়া হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের একটি পা না থাকার বিষয়টি দেখতে পায় রায়হান। পরে তাকে বলা হয়, ট্রেন দুর্ঘটনায় তার পা কাটা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে তাকে আবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিক্ষা করতে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে জানায় সে।চট্টগ্রামের আইনজীবী নওশাদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, শিশুটির বক্তব্যের পাশাপাশি তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য, পরিবারের করা জিডি বা মামলা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং তাকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। কিডনি অপসারণের অভিযোগ সত্য কি না, চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা দরকার।
১ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মাদকাসক্ত একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও মা কল্পনা দাশের (৫৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)কেও আটক করেছে পুলিশ।গত ২৫ জুলাই দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতা মোহন ধরকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত পুত্র রিটন ধর।নগরীর নন্দনকাননেও মাত্র একশ টাকার জন্য শিশুর গলায় ব্লেড দিয়ে পোচ মেরে হত্যার চেষ্টা করে মো. হেলাল নামে এক মাদকাসক্ত কিশোর। কাজির দেউড়িতে রঞ্জন বড়ুয়ার প্রাণ যায় পুত্র রবিন বড়ুয়ার ছুরিকাঘাতে। কাট্টলীতে প্রতিবেশী সন্ধ্যা রাণীকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত সত্যজিৎ ঘোষ।চান্দগাঁও এলাকায় বড় ভাই সাজুর কাছে ১০টি ইয়াবা রেখে তা ফেরত না পেয়ে কুপিয়ে খুন করেন ছোট ভাই মুন্না। সর্বনাশা নেশার ছোবলে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে রিটন ধর, মো. হেলাল, রবিন বড়ুয়া, সত্যজিৎ ঘোষ, মুন্নারা। তারা প্রিয়জনদের খুন করছে।সর্বনাশা মাদক এভাবে মা-বাবা-ভাই-স্ত্রীসহ পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করছে। নেশার ঘোরে বেঘোরে মানুষ মারছে মাদকাসক্তরা। পুড়িয়ে দিচ্ছে নিজের ঘরবাড়ি। পরিবার-সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। ছাড়খার হচ্ছে সংসার ও পরিবার।বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণসহ নানা অপরাধসিএমপির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো যেসব অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্তের কারণে। মাদক কেনার জন্য কিশোর-যুবক থেকে পথশিশুরা পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ে লিপ্ত হচ্ছে।সিএমপির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৮৬টি। তবে মে ২০২৬-এ কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩৮০টি-তে নেমে আসে। বিগত ১৭ মাসে সিএমপিতে মাদক সংক্রানমশ মামলা দায়েরের হার প্রায় ৩৭.৪৮ শতাংশ কমেছে। কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির কারণে এই প্রবণতা কমতির দিকে। সাম্প্রতিক অপরাধ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে সিএমপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, মহানগরী এবং জেলায় প্রতিনিয়তই মাদকাসক্তের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনায় জড়িতদের বিরাট অংশ মাদকাসক্ত। নেশার সাথে অপরাধের গভীর স¤পর্ক রয়েছে। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা জোগাতে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারেও চলছে খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদক বহনকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে যারা তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন প্রতিরোধ পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।সূত্র মতে, দেশে মাদকের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল। ইয়াবার ট্রানজিট রুট এখন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমার সীমান্তে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য কারখানা। সেখানে উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এদেশে। সাগর, সড়ক আর পাহাড়ি পথে ইয়াবার চালান আসছে। সরকারি তরফে ভারতীয় ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করা হয়েছে দাবি করা হলেও পরিস্থিতি তার উল্টো। কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই ফেনসিডিলের চালান ঢুকছে চট্টগ্রামে।র্যাব-পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিলের চালান। তবে উদ্ধার মাদকের অন্তত ১০ গুণ নিরাপদে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। নিত্যনতুন কৌশলে হচ্ছে মাদক পাচার। বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাত বাড়ালেই মিলছে নেশা। আর তাতে বেড়েই চলেছে আসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। নিকট অতীতেও মহানগরীর বস্তি এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত দেখা যেত। এখন পল্লীগাঁয়েও মাদকাসক্তদের দাপট।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। ইয়াবা ফেনসিডিল দুটোই সীমান্ত হয়ে আসছে। মাদকের উৎস বন্ধ করা না গেলে সর্বনাশ বন্ধ করা যাবে না। আর এজন্য সব সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র্যাব-পুলিশ মাঝে মধ্যে ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কিছু মাদকসেবীকে জরিমানা করা হলেও সবকিছু চলে আগের মত। মাদকাসক্তদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও তেমন উদ্যোগ নেই। মাদকাসক্তদের নিরাময়ে সরকারি একটি এবং বেসরকারি ১৬টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপবিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, হতদরিদ্রের বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশা ইয়াবা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিলসহ নানা ধরণের মাদক। মাদকের আগ্রাসন রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ারে মারা গেছে অসংখ্য মাদকের কারবারি। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াল আগ্রাসন। বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।তিনি বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোরেরা বিপথে যাচ্ছে। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে। চাকরি পেতেও ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে যুবসমাজের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ হতাশা থেকে অনেকে মাদকাসক্ত হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচারের সাথে মাদক যুক্ত হওয়ায় কম বয়সে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু মাদকের বিস্তার স¤পর্কে বলেন, মাদকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির গভীর স¤পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান কম। এ কারণে বেকার যুবকেরা হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মাদকের প্রতি ঝুঁকছেন। ফলে বাংলাদেশ এখন মাদকের রমরমা বাজার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
১ মাস ১৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাদক কারবারির অন্যতম গডফাদার হচ্ছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। যারা তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছে কিশোর গ্যাঙকে। মাদক বেচাকেনার ¯পটগুলোতে প্রকাশ্যে ক্ষমতা প্রদর্শন করে তারা।মাদক বিক্রির ¯পট নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপকে দমন, স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বাধা দেওয়াসহ নানা অপরাধে সব সময় সক্রিয় থাকে বিশোর গ্যাঙ। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে অনেক এলাকায় পুলিশি অভিযানের তথ্য আগেভাগেই পৌছে যায় কিশোর গ্যাঙয়ের কাছে। এতে নিয়মিত অভিযানের বদলে আলোচিত ঘটনার পরই অভিযান জোরদার হতে দেখা যায়।জানা গেছে, নগরীর বেশিরভাগ মাদক ¯পট বস্তিকেন্দ্রিক। বহিরাগত কেউ এসব এলাকায় ঢুকলে কিশোর গ্যাঙয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। মোবাইল ফোনে অর্ডার দিলেও নাকি কারবারিরা যথাস্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।চান্দগাঁও থানার ৮ নম্বর রেললাইন সংলগ্ন বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের হট¯পট হিসেবে পরিচিত। সেখানে সাজু ও সেলিম নামে দু‘জন মাদক কারবারে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একই এলাকায় সাজুর পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার বহু প্রমাণ আছে। এদিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় ঝর্ণা নামে এক নারী ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কাজীর হাটের কুমারপাড়ায় আলোচনায় রয়েছে ফারুক মেম্বারের নামও।অনুসন্ধানে জানা যায়, টাইগারপাস আমবাগান এলাকায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি মাদক কারবারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাঙয়ের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানার বটতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন কুমিরা বাস এলাকায় হোসেন ও সাহিদা, আগ্রাবাদ এলাকায় মনা বেগম, শাহ আলম ও রুবির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের প্রমাণ আছে। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাঙকে ব্যবহার করে মাদক ¯পট নিয়ন্ত্রণ করা হয়।জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে কিশোর গ্যাঙয়ের সদস্যরা হামলা, ইট-পাথর নিক্ষেপ, পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ এবং গ্রেপ্তার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সম্প্রতি নগরীর খুলশী ও টাইগারপাসের আমবাগান এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন ও এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে চিহ্নিত মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তারের সময় কিশোর গ্যাং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন। পাথর নিক্ষেপে আহত হন আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। হামলার সময় পুলিশের ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।ডবলমুরিং থানার এএসআই বাবলু বলেন, আলমগীরকে গ্রেপ্তারের পর কিশোর গ্যাং সদস্যরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন গুরুতর আহত হন।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) জনাব মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, অভিযানে আলমগীরকে দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকিসহ কয়েকটি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের আজকের মধ্যে মাদক ব্যবসা ছাড়তে হবে। নইলে কাল তাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক, আর কোনো ছাড় নয়।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরেরা বিপথগামী হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাঙয়ের মাধ্যমে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। মাদকের উৎস বন্ধ, মাদকাসক্তের চিকিৎসা এবং সর্বোপরি মাদক বিরোধী ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সময় মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হাতে-নাতে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে প্রবাসীর স্ত্রীসহ দু‘জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দু‘জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দু‘জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রবাসী জহির একই এলাকার। তাদের সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ ছিল। এ ঘটনায় প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে মহিলাটি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তার ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহির শাহ সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি স্ত্রীকে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। তবে এরপরও তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নুরুন্নবী আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রাত যাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জহির শাহ প্রবাস থেকে তার ভাই নাদিম ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুন্নবী ও প্রবাসীর স্ত্রীকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে প্রবাসীর স্ত্রী তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করেন এবং তার পরিহিত শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সামনে নুরুন্নবী দাবি করেন জহির শাহের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন প্রবাসীর স্ত্রীকে আকবরশাহ থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাসা থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগও করা হয়েছে।
১ মাস ২০ দিন আগে
প্যারোলে মুক্তির পেয়ে পরলোকগত মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অঝোরে কাঁদলেন সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কারাগার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি শেষকৃত্যে উপস্থিত হন। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। এর আগে মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য তার ভাই অঞ্জন কুমার ধর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আবেদনটি অনুমোদন করেন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ৫ ঘন্টার জন্য তাকে কারাগার থেকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে বেলা ৩ টা ৪০ মিনিটে তাকে কারাগার থেকে বের করা হয় এবং বিকাল ৫ টা ৫ মিনিটে তাকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ পুণ্ডরীক ধামে আনা হয়। পরে তার মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬ টা ৩২ মিনিটে পুণ্ডরীক ধাম থেকে পুনরায় চট্টগ্রাম কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাটহাজারীর উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাতা ক্যান্সার আক্রান্ত সন্ধ্যা রাণী ধর (৭০) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১ মাস ২০ দিন আগে
মদ-গাজা, গাম, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ-আইস, হেরোইনসহ কি নেই। সব ধরণের মাদকে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা। যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। শুধু ভাসছে না, এসব মাদক বিক্রয় ও সেবনে পুরো অস্থির চট্টগ্রাম।মাদকসেবি কারা ও মিলছে কোথায়প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, বয়স ও শ্রেণি ভেদে এসব মাদক সেবন হয়। যেমন মদ-গাজা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল সেবন করে নিম্ন শ্রেণি থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণি পর্যন্ত। যা মিলছে নগরীর আিলগলি থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবে। সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর অন্তত ৫০০ স্পট ও জেলার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিলছে এসব মাদক।আর বিদেশি মদ উচ্চবিত্তদের সুপেয় খাবার, যা মিলে নগর ও জেলার বিভিন্ন অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্লাবে। একই সাখে হেরোইন ও ক্রিস্টাল মেথ-আইসও সেবন করছে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই। একমাত্র ইয়াবা সেবনে নেই কোন শ্রেণি বিভেদ। সহজলভ্য হওয়ায় ইয়াবা এখন সব শ্রেণি পেশার মাদক সেবির খাবার।অনেক নিংস্ব বেকার যুবকেরাও এই ইয়াবা সেবন করে থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে-শিশু-কিশোররা পর্যন্ত বাদ নেই মাদক সেবন থেকে। বিশেষ করে নগরীর মোড়ে মোড়ে পথশিশুরা এক ধরণের গাম সেবন করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।আর এই মাদক কিনতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। ডাকাতির মতো ঘটনার সাথেও জড়িত হচ্ছে তরুণ-কিশোর ও পথশিশুরা। এমনকি নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যার প্রভাবে জর্জরিত শহর-বন্দর ও সমাজ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক বিক্রয় ও সেবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি জড়িত। এরপর রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। বাকি অন্যান্য সম্প্রদায়ও মাদক বিক্রয় ও সেবনে জড়িত। অথচ ইসলামসহ সব ধর্মে মাদক সেবন হারাম বা নিষিদ্ধ।রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্যতম পেশা মাদক ব্যবসাপ্রত্যন্ত এলাকার সচেতন মানুষের মতে, সমাজের সবচেয়ে হতদরিদ্র বেকার যুবকরা এক সময় দেশে তৈরি চোলাই মদ ও গাজা বিক্রি করত। যা তাদের আয়ের একমাত্র পথ ছিল। অত্যন্ত গোপনে আড়ালে আবডালে থেকে মদ ও গাজা বিক্রি করতেন তারা।আর যারা সেবন করতেন তারাও এক সময় আয়ের পথ হিসেবে মদ-গাজা বিক্রি শুরু করে। আর এ কাজ করতে গিয়ে নিকটস্থ থানা পুলিশকে মাসোহারা হিসেবে নিদিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতেন। দিতে হতো মদ গাজাও। যা সেবন করতেন থানা পুলিশও। এই সহজ পথ সুগম হওয়ায় মাদকের বিস্তৃতি ঘটে নগর-বন্দর থেকে অলিগলি পর্যন্ত।যা নজরে পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। যারা মাদক বিক্রেতাদের সাথে মিশে শুরু করে মাদক ব্যবসা। যার প্রসার এখন দিগন্ত ছোঁয়া। ব্যবসার সুবিধার্থে তারা ব্যবহার করে দলীয় পদ-পদবি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে এখন চলছে মাদক ব্যবসা। এর মধ্যে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা। ক্রিস্টাল মেথ-আইস ও হেরোইন বেচাকেনা।রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে দিনের বেলায় টেন্ডারবাজী, দখলবাজী করলেও গোপনে করছে মাদক ব্যবসা। দলীয় নেতাকর্মীদের সিংহভাগের পেশা এখন মাদক ব্যবসা। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকে দেশের অসৎ লোকেরা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসায়ী, বাহক ও বিক্রির নেটওয়ার্কে প্রতি বছরই লোকসংখ্যা বাড়ছে। এদের সাথে দারুণ সখ্যতা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে। এতে অসহায় সাধারণ মানুষ।সিএমপির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত ৯০ জনের একটি তালিকা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরেকটি তালিকা করা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকদের। এই তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনীতিক ও থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নামও আছে।এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নাম রয়েছে এ তালিকায়। রয়েছে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন, শৈবাল দাস সুমন, এসরারুল হক এসরার, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুর নামও।যারা নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত শত শত নেতাকর্মী দিয়ে মাদক বিক্রয় ও পাচার করেন। একই পথে রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শত শত প্রভাবশালী নেতাকর্মী। নতুন তালিকা না হওয়ায় যাদের নাম এখনো পর্যন্ত তাািলকাভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম মাদক পরিবহনের প্রধান রুট। এর সঙ্গে কিছু গডফাদার যুক্ত। গডফাদার ও ব্যবসায়ীদের তালিকা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাদক পাচার ও সেবনে খোদ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীদেশে মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অর্ধিদপ্তর, পুলিশ-আনসার-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকলেও মূলত সংস্থাগুলোর সদস্যরাও লিপ্ত মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয়ে। যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।মাদকের সাথে জড়িত থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। যার মধ্যে পুলিশ ও আনসার সদস্য বেশি। যারা চাকরি হাারিয়েও ছাড়েনি মাদক বিক্রয়, পাচার ও সেবন। বরং উল্টো আঁকড়ে ধরেছেন মাদক ব্যবসাকে। ফলে থেমে নেই মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়।গত ২০ আগস্ট এক অভিযানে মিলেছে এর প্রমাণ। সেদিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবার আসর থেকে চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমান আদালত। আদালত তাদের তিন মাসের কারাদন্ড দেন।নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। ইয়াবা পাচারের দায়ে দু‘বছর আগে চাকরি হারান তিনি। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ডিবি-দক্ষিণ), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শেখ শরীফুল ইসলামের তথ্য মতে, গত কয়েকবছরে মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসার সদস্যের চাকরি গেছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছেন।তবে অভিযোগ উঠেছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়-তখন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ঠিক তেমনি পরিস্থিতি এখন চট্টগ্রামের। নগরবাসীর ভাষ্য, সন্ধ্যা থেকে রাত দূরের কথা, দিনে-দুপুরেও অনেক পুলিশ সদস্য মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশই হয় ইয়াবা আসক্ত, নয় তো মদ্যপ। যারা মানুষের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করে। মানুষ যখন বুঝতে পারে তিনি নেশাগ্রস্ত তখন সেদিকে কান না দিয়ে চলে যায় নিজ গন্তব্যে। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছে।চট্টগ্রামে মাদকের স্পটনগরবাসীর মতে, চট্টগ্রাম শহরের সবগুলো প্রধান সড়ক ও উড়াল সড়কের নিচে বসে দিনে দুপুরে মদ-গাজা সেবন করে কিশোর থেকে উঠতি যুবকরা, এমনকি মধ্যবয়সী লোকজনও। রেল স্টেশন, বাস স্টেশনগুলো যেন মদ গাজা সেবনের নিরাপদ জায়গা।এছাড়া বরিশাল কলোনি, চট্টগ্রাম কদমতলী বাস টার্মিনাল, মতিঝরনা, এনায়েতবাজার গোয়ালপাড়া, বায়েজিদ শের শাহ কলোনি, অক্সিজেন মোড়, ফিরোজ শাহ কলোনি, অলংকার মোড়, পাহাড়তলী, টাইগারপাস, বাটালি হিল চান্দগাঁও মাদকের সবচেয়ে বড় বাজার।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ৪-৫ বছর বয়সী পথশিশুরা পর্যন্ত মদ গাজা ও গাম জাতীয় মাদক সেবন করে। তাদের এসব দেখে না কোনসময়। পুলিশ এদের পাশ দিয়ে হেটে যায়, আর গালি দিয়ে বলে খা, খানকির পোলারা, খেয়ে মর। অলি গলি পেরিয়ে এবার চোখ দেয়া যাক চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টের দিকে।নগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় অবস্থিত অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লু-বে, চট্টগ্রাম ক্লাব, জিইসির মোড়ে অবস্থিত পেনিনসুলা, আগ্রাবাদে অবস্থিত হোটেল আগ্রাবাদ, হোটেল সেন্টমার্টিন, পতেঙ্গা বোট ক্লাব, নন্দনকানন পুলিশ প্লাজাসহ থ্রি স্টার থেকে ফাইভ স্টার মানের সবগুলো হোটেলে দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য সেবনের নিরাপদ স্পট।এসব হোটেলের বারগুলো যেন একেকটা পাপপুরি। ইয়াবা থেকে নিয়ে সব ধরণের দেশি-বিদেশি মাদক মিলে এসব হোটেলে। দেশের শিল্পপতি ও রাজনীতিকরা এসব পাপপুরির খদ্দের। আর এসব হোটেলে মাদক বিক্রয় ও সেবনের লাইসেন্স দেয় মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর। ফলে এসব হোটেলের দিকে চোখ তুলে থাকায় না প্রশাসনের কেউ।মাদক ব্যবসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, মাদক বেচাকেনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ খাতে ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স ও জোত পারমিট দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেগুলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মাদক সরবরাহ করা হয়।এক্ষত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খাতগুলোর তালিকা প্রকাশ করলেও লাইসেন্স বা জোত পারমিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম গোপন রেখেছে। যার কারণে প্রতিষ্টানগুলোর নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর খাতগুলো হলো :১. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) ব্যবহারের পারমিট২. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স৩. প্রিকারসর কেমিক্যাল/ সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স আমদানী রপ্তানী লাইসেন্স৪. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণলাইসেন্স৫. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স মজুদ ও পাইকারী বিক্রয় লাইসেন্স৬. প্রিকারসর কেমিক্যাল খুচরা বিক্তির লাইসেন্স৭. প্রিকারসর কেমিক্যাল ব্যবহারের পারমিট৮. বিলাতীমদের বন্ধেত পণ্যাগার লাইসেন্স৯. বিলাতীমদের আমদানী/রপ্তানী লাইসেন্স১০. বিলাতীমদের ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশন১১. বিলাতীমদ মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স১২, বিলাতীমদ মজুদ ও খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স (অফ শপ)১৩. হোটেল, বেস্তোরা, হোটেল কাম রেস্তোরা, বিনোদন কেন্দ্র, বিমান কন্দর, রিসোর্ট থিমপার্ক ইত্যাদি স্থানে বারও বিলাতী মদ খুচরা বিক্রম/পরিবেশন লাইসেন্সঃ১৪. বিলাতীমদের ক্লাব লাইসেন্স১৫. বিলাতীমদ ডিউটি ফি শপ১৬. বিলাতীমদের লেট ক্লোজিং লাইসেন্স (রাত ১০ টার পর সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা)১৭. দেশীমদ খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স১৮. ইথানল আমদানি লাইসেন্স১৯. ইবানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২০. ইথানল ব্যবহার২১. ইবানল খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২২. মিথানল আমদানি২৩. মিথানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২৪. মিথানল ব্যবহার২৫. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) আমদানি লাইসেন্স২৬. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) ব্যবহারের লাইসেন্স২৭. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২৮. বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট।এ্যাবসলিউট ২৯. এ্যালকোহল/ইখাইল এ্যালকোহল/স্ট্রং এ্যালকোহল (এইচ এস কোড-২২০৭) মজুদ ও ব্যবহারের পারমিট৩০. হোামিওপ্যাথিক ঔষধ প্রসম্মুতের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট/স্টং এ্যালকোহল ইবাইল এ্যালকোহল (ইবাইল)(এইচ এস কোড -২২০৭) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ঔষধ (মাদার টিংচার) তৈরীর উপাদান হিসেবেব্যবহারের পারমিট।৩১. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কর্তৃক ঔষধ শক্তিকরণ (ডাইলুশন) এর জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট মজুম৩২. ডিফোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (মহানগর এলাকা)৩৩. ডিকোর ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (অন্যান্য এলাকা)৩৪. ডিনেচার্য ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (মহানগর এলবাম)৩৫. ডিকোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (অন্যান্য এলবাম)৩৬. ডিকোর্ড ¯িপরিট ব্যবহারের পারমিট৩৭. মাদকাসক্তির পরামর্শ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের লাইসেন্সদেশের ১০৫ পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে বিদেশি মাদকওদেশের সীমান্ত, বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকাগুলো দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদক। এমনকি আকাশপথ ও কুরিয়ার সার্ভিস দিয়েও আসছে নিত্যনতুন মাদক। ১৮টি সীমান্ত জেলার ১০৫টি পয়েন্টকে মাদকের সেফ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তারা বলছে, এ পয়েন্টগুলো দিয়েই ২৭ ধরনের মাদক আসছে নানা কায়দায়। ফলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি স্থানেই মাদকের বিস্তার ঘটেছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অ্যানুয়াল ড্রাগ রিপোর্ট বাংলাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেও উচ্চমূল্যের মাদক আসছে।জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং অরক্ষিত সীমান্তের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।বাংলাদেশ পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, উত্তরে আসাম, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম দ্বারা বেষ্টিত। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের (বার্মা) সঙ্গে সীমানা রয়েছে। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি ভারত থেকে গাঁজা ও ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও আইস স্রোতের মতো দেশে প্রবেশ করছে। দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের ১৭ শতাংশ ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় আসছে। আর বাকি ৮৩ শতাংশ মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন ১৮টি জেলার ১০৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এগুলো হচ্ছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গী ও পলাশপুর; যশোর জেলার বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা এবং আশপাশের এলাকা; চুয়াডাঙ্গা জেলার কারপাশডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর; মেহেরপুর জেলার দারিয়াপুর ও বুড়িপটা; রাজশাহী জেলার মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদা, ইউছুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ি, বাঘা ও রাজশাহী সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট; জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি (প্রধান প্রবেশপথ);দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আকাশকারপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম ও বনতারা; সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিংগারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর; কুমিল্লা জেলার জগন্নাথ দিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপশাহ, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবিরবাজার এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।দেশের উত্তরাঞ্চল সীমান্তের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, বাশজানি, বলারহাট, বলাবাড়ি, কুটি চন্দ্রকোনা, পাথরডুবি ও নাখারগঞ্জ; লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী; শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী; ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা।দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সীমান্তের কক্সবাজার জেলার জালিয়াপাড়া, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং, সাউথপাড়া, ধুমধুমিয়া, জদিপাড়া, সাউথ হ্নীলা, লেদাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, তুমরু উখিয়া, কাটাখালী, বালিখালী, ঘুমধুম ও কাটাপাহাড়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধারকৃত মাদক, আসামি ও মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ২৬ হাজার ৯০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৭৮৯ কেজি হেরোইন, ২২৭ কেজি কোকেন, আফিম ৩৭৮ কেজি, ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫৩ বোতল ফেনসিডিল, অ্যা¤পুল ইনজেকটিং ড্রাগ ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৬টি, ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৫২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৮টি মামলায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৫১ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশলধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ইয়াবা পাচারকারীরা অভিনব কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে আসছেন। পেটের ভেতর, পেঁয়াজ ও কুমড়ায়, মোটরসাইকেল ও গাড়ির জ্বালানির ট্যাংক, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে বিশেষ বাক্সে করে আসছে ইয়াবা।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মানজুরুল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন কৌশলে নগরে মাদক ঢুকছে। সম্প্রতি নগরীর কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে দুজন ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পেটের ভেতর ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন তাঁরা। তাঁদের পেট থেকে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবা বের করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশে সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিদিনই ইয়াবা পাচার হচ্ছে। আবার প্রতিদিনই ধরাও পড়ছে। কিন্তু পাচারের তুলনায় জব্দ হচ্ছে খুব কম।সচেতন মহলের প্রশ্ননগরীর পুলিশ যেখানে মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িত সেখানে মাদক সেবন, বিক্রয় ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন?। মাদকের সাখে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারনে চট্টগ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খোদ মাদক ব্যবসায় জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলে মাদক ব্যবসা। এ অবস্থায় মাদক নিয়ন্ত্রণ হাস্যকর।তবে সিএমপির ভাষ্য, মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে গত কয়েক বছরে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসান সদস্যের চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মাদকসেবি ও পাচারকারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।যাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেছে। কারাগারে বন্দি আটকের ৭০ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। তবে কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে তারা আবার মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানান চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) জনাব মো. রইছ উদ্দিন।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যএ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মাদকসহ যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে। মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে চেক পোষ্ট বসিয়ে প্রায় সময় অভিযান চালানো হচ্ছে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশের ভেতরে মাদক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর রেল স্টেশন, বাস স্টেশনসহ উড়াল সড়কের নিচে এবং সড়কের মোড়ে মোড়েও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম বিপিএম বলেন, সীমান্তের কোন কোন পথে মাদক আসছে সেটা আমরা চিহ্নিত করেছি। মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেক সময় লোভ-লালসায় পড়ে এজেন্সির লোকজন মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। যেসব বাহিনীর সদস্যরা এসব কাজে জড়াচ্ছে, জানতে পারলে তাদের শাস্তিও হচ্ছে। মাদক প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সবসময় সজাগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। চলতি বছরেই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতেও প্রেরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরকারি বিধি মোতাবেক কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও জোত পারিিমট দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামে এমন ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেখান থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব যোগ হয়। বৈধ এই জোত পারমিট ছাড়া অবৈধ যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জ পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, মাদক সম্পৃক্ততায় প্রমাণিত আনসার সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে আনসার সদস্যরা এখন অনেক সুগঠিত। মাদক সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ এখন অনেকাংশে কমে গেছে আনসার সদস্যদের।
১ মাস ২০ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি একটি বড় কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সংঘটিত এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে বন্দরজুড়ে। আমদানি-রপ্তানিমুখি কনটেইনার চুরির এমন ঘটনা একের পর এক চলছে। ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেই দায় সারছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।কনটেইনার চুরির বিষয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকের মাঝে ধারণা থাকলেও তাদের কারও কিছুই বলার সুযোগ নেই। সামগ্রিক ব্যবসায় ক্ষতির ভয়ে মুখ বন্ধ ব্যবসায়ীদের। তাদের মুখে এখন শুধুই প্রশ্ন। যেখান থেকে মিলছে উত্তরও। কিন্তু এ নিয়ে কারো কোন মাথা-ব্যাথা নেই। এ অবস্থায় আমদানি-রপ্তানি নিয়ে চরম আতঙ্কে ভূগছেন ব্যবসায়ীরা।ব্যবসায়ীদের ধারণা, কনটেইনার চুরির নেপথ্যে জড়িত খোদ বন্দরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক লোকজন। তাদের মুখে প্রশ্ন, বন্দর চত্বরের মতো সুরক্ষিত ও সিসিটিভি ক্যামেরার ভেতর থেকে বিশাল আকৃতির কনটেইনার চুরি করা একার পক্ষে কীভাবে সম্ভব? এর পেছনে টার্মিনাল অপারেটর, বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে।কিন্তু তারা কারা তা বলার সুযোগ নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সিসিটিভি ব্যবস্থার কারসাজিকে দায়ী করে ব্যবসায়ীরা বলছেন. এর আগেও বন্দর থেকে এ ধরনের বেশ কয়েকটি কনটেইনার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা গায়েব হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ ধরণের প্রায় ২৫০টি কনটেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না। যা বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি ফুটিয়ে তোলে।সূত্র মতে, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি-২ বার্থে কনটেইনার খালাস করে এমভি এমসিসি ডানাং। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে (কনটেইনার নং- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) আসে সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স (কাপড়ের রোল)।আমদানিকারকের পক্ষে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান। অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৩০ আগস্ট কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ গোল্ড স্টার গার্মেন্টেসের আমদানিকৃত কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনারটি কিপডাউন দিতে পারেননি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফাঁস হয় কনটেইনারটি গায়েব হওয়ার ঘটনা। এ নিয়ে বন্দরজুড়ে তোলপাড় চলছে।সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে তা পাওয়া যায়নি। কনটেইনারটিতে আসা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে আমাদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য বায়ারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।তিনি বলেন, আমাদের অভিযোগের পর শুনেছি বন্দর কর্তৃপক্ষের ছয় সদস্যের কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কনটেইনারটির কোন হদিস দিতে পারছে না। বারবার কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে। একটি ঘটনায় দু‘জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।কনটেইনার চুরির ঘটনা একের পর এককনটেইনার চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়, চলতি বছরে অন্তত চারটি কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢ-৮১-০০০৩ নম্বরের একটি ট্রেইলার ব্যবহার করে মেসার্স প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সাবেক জেটি সরকার সাইফুল ইসলাম মজুমদারের যোগসাজশে বন্দর থেকে বের করে নেয়া হয় তিন কোটি টাকা মূল্যমানের এক পণ্যের কনটেইনার।তার সহযোগী হিসেবে কাজটি করেন একই সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের আরও দুই জেটি সরকার মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমান। এতে বিপদে পড়েন আমদানিকারক ও লোকাল সিএন্ডএফ এজেন্ট। মূলত রাতের এই সময়টিতে বন্দরের নিরাপত্তা তদারকি তুলনামূলক শিথিল থাকার সুযোগেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলার নথিপত্র থেকে মিলেছে এ তথ্য।বন্দর থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযোগের তীর যার দিকে, সেই সাইফুল ইসলাম মজুমদারকে ঘিরে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৭ সালেই তার জেটি সরকার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় কীভাবে বন্দরে প্রবেশ করছেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এছাড়া তার নাম মামলার কপিতে না থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।এ বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও সাড়া মেলেনি।তদন্তের নামে ভাওতাবাজিচট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ওঠানামা করে হাজার হাজার কনটেইনার। এগুলো হ্যান্ডলিং নিয়ন্ত্রণ করেন জেটি সরকার। যাদের দায়িত্ব বন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময় সিএন্ডএফ এজেন্টের পক্ষে সমন্বয় করা। কিন্তু এই দায়িত্বই এখন পরিণত হচ্ছে অনিয়মের হাতিয়ারে। ঘটছে অহরহ চুরির ঘটনা।যা নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও ফলাফল শূন্য। যা পুরো ভাওতাবাজি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বরং ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, কাস্টমসের ডিউটি ও বন্দরের সব চার্জ পরিশোধের পরও কনটেইনার গায়েব হয়, এটা কীভাবে সম্ভব? ভুয়া ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে বা ডিজিটাল কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেমে কারসাজি করছে কারা?জেটি সরকারের কার্যক্রম তদারকির সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, প্রবেশ-বাহিরের বায়োমেট্রিক নজরদারি এবং লাইসেন্স বাতিলের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা কার্যকরেও পরামর্শ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, বন্দরকর্মী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের স¤পৃক্ততা ছাড়া একটি কনটেইনার ছাড়ার সুযোগ নেই। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার কোনো যুক্তি নেই বলেও জানান তিনি।চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমিন বলেন, সাধারণত একটি কনটেইনার বন্দর থেকে বের হওয়ার আগে একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। কাস্টমসের পরিদর্শনসংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস গ্রুপ ঘোষিত পণ্যের মূল্য, এইচ এস কোড এবং প্রযোজ্য আইন যাচাই করে শুল্ক ও কর নির্ধারণ করে।শুল্ক-কর পরিশোধের পর শিপিং এজেন্ট ডেলিভারি অর্ডার দেয় এবং পণ্যের কাস্টডিয়ান হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেলিভারি প্রক্রিয়া স¤পন্ন করতে সহায়তা করে। একটি কনটেইনার ছাড়পত্র পাওয়ার আগে বিভিন্ন ধাপে এবং একাধিক চেকপয়েন্টে কাগজপত্র যাচাই করা হয় বলে জানান তিনি।তিনি আরও জানান, বন্দর থেকে পণ্য বের হওয়ার আগে কাস্টমস চূড়ান্ত যাচাই করে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কোন পর্যায়ে কথিত অনিয়ম ঘটেছে, তা তদন্ত করে বের করতে হবে বলে জানান তিনি। কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা শিপিং এজেন্টের স¤পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।জালিয়াতি হচ্ছে যেভাবেএমভি এমসিসি ডানাং জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি এনসিটি-২ জেটিতে খালাস করা হয়। পরে এটি সাইফ পাওয়ার টেক এলটিডি পরিচালিত সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়। কাস্টমসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট সেটি সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কনটেইনারটির সেখানেই থাকার কথা।কিন্তু মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১১ আগস্ট এন-৪ সিস্টেমে কনটেইনারটির অন-ডেট, অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়। সিস্টেমে দেখা যায়, বন্দরের ম্যানিফেস্ট শাখার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের হাই এক্সটার্নাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নেয়ামুল হক সরকার ১৪৫৩২ নম্বর কর্মী আইডি ব্যবহার করে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে এন্ট্রিটি করেন।তবে এজাহারে নেয়ামুল হক নিজে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কোনো অভিযোগ নেই। শুধু বলা হয়েছে, তার কর্মী আইডি ব্যবহার করে ডিজিটাল এন্ট্রি করা হয়েছে। কে প্রকৃতপক্ষে এন্ট্রিটি করেছেন এবং কার নির্দেশে করেছেন, এখন সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে আরও একটি বড় অসঙ্গতি পাওয়া যায়।বন্দর কর্মকর্তারা অন-ডেট, অন-চ্যাসিস অ্যাসাইনমেন্টের একটি কপিতে ৪০ নম্বর সিরিয়ালের বিপরীতে থাকা স্বাক্ষর পরীক্ষা করে দেখেন। সেটি সিসিটি-এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. ইস্কান্দার ফারুকের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছিল।এজাহারে আরও বলা হয়েছে, কাগজপত্র আসল বলে দেখাতে ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। এতে তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে: স্বাক্ষর যদি জাল হয়, তাহলে সেই কাগজের ভিত্তিতে বন্দরের ডিজিটাল সিস্টেমে কীভাবে মুভমেন্ট এন্ট্রি তৈরি হলো এবং সেই এন্ট্রির ভিত্তিতে কনটেইনারটি কীভাবে বাস্তবে বন্দর থেকে বেরিয়ে গেল? তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।আতঙ্কে ব্যবসায়ীরাচট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে একের পর এক কনটেইনার চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এ পর্যন্ত সংঘটিত স কয়টি চুরি সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল থেকে হয়েছে। যা পরিচালনা করছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক।ভ্যবসায়ীদের ভাষ্য,কনটেইনার চুরির ঘটনা শ্রমিকদের রক্তঝরা ঘাম আর দেশের ব্যাংকিং লোনে পরিচালিত ব্যবসায় কোটি টাকার বড় ধাক্কা। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ মজুর ও অর্থনীতি। যা সামলাতে মাশুল গুণতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।এমন কথা বলেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিমাসে কনেটইনার গায়েবের ঘটনা ঘটছে, যা সত্যিই উদ্বেগ ও আতঙ্কের।সম্প্রতি গায়েব হওয়া কনটেইনারের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, একের পর এক কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সত্যিই আতঙ্কিত। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনও এ ধরণের প্রায় ২৫০টি কন্টেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না বলে জানান তিনি।বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, কনটেইনারগুলো কীভাবে বন্দর থেকে বের হচ্ছে এবং বন্দর বা টার্মিনালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব ঘটনার সাথে জড়িত আছে কি না, তা নজরে রাখছে পুলিশ।
১ মাস ২১ দিন আগে
নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে এলপিআরে যাওয়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মনি লাল দাস। তবে অবসরে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তার ও স্ত্রী সেপিকা দাসের।দুদকের জালে ধরাশায়ী হচ্ছেন বিপিসির দুরন্ধর এই কর্মকর্তা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শেষে এ সক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখসহ স্বামী-স্ত্রী দু‘জনের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, বিপিসির কর্মকর্তা মনি লাল দাস ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তালিকাসহ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে আলোচ্য সম্পদগুলোর জন্য পৃথকভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, চাকরির নিয়োগে জালিয়াতিসহ মনি লাল দাসের সব ধরণের অনিয়মের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিপিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। হয়েছে অভিযোগও। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।ইতোমধ্যে বিপিসির চাকরি থেকে এলপিআরে যাওয়ার পর তার নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলোও গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিপিসি জুড়ে। যার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা।দুদক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মনি লাল দাস ও তার স্ত্রী সেপিকা দাসের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় সংস্থাটি।দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে, মনি লাল দাসের দায় বাদে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮০৪ টাকা। পাশাপাশি তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয় ৯৪ লাখ ১০ হাজার ৪০৩ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩ টাকা। বাকি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।অন্যদিকে মনি লাল দাসের স্ত্রী সেপিকা দাসের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ পাওয়ায় যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২৭ টাকার। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় মাত্র ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭২ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ টাকা আয়ের উৎস কম পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।বিপিসি সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সাল থেকে ১৩ আগষ্ট ২০২৬ সালের অবসরে যাওয়ার আগে তিনি আরও রমরমা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন, তার হিসাব মিলালে শত কোটি টাকা তিনি সরকারের ক্ষতি করেছেন। এসব করে তিনি ভারতে টাকা পাচার করেছেন।অবৈধ আয় বৈধ করতে স্ত্রীকে বানানো হয় মাছ ব্যবসায়ীমনি লাল দাস সরকারি চাকুরিজীবী হলেও তার স্ত্রী সেপিকা দাস একজন গৃহিণী। কিন্তু তিনি ২০১০ ও ২০১১ করবর্ষ হতে সরকারের একজন নিবন্ধিত করদাতা। সকল সম্পদের হিসেবে তার আয়কর নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তাতে নিজেকে কমিশন ব্যবসা হতে আয়, সঞ্চয়পত্রের সুদ, এফডিআরের সুদ, শেয়ার ব্যবসা ও মাছ চাষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, সেপিকা দাস নিজেকে কমিশন ব্যবসায়ী কিংবা মৎস্য চাষী হিসেবে উল্লেখ করলেও বান্তবে তিনি কখনোই কোন প্রকার কমিশন ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া মৎস্য চাষী হিসেবে দাবি করলেও দুদকের কাছে মৎস্য চাষের স্বপক্ষে কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনও করতে পারেননি। কিংবা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রও তিনি দাখিল করতে পারেননি। বরং স্বামীর অবৈধ অর্থ তার নামে আয়কর নথি খুলে বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন।চাকরির নিয়োগেও মনি লাল দাসের জালিয়াতিবিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মনি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না। কিন্তু নিয়োড় পেয়েছেন সেই মনি লাল দাস।আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেননি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দিলে কপাল খুলে যায় মনি লাল দাসের। অভিযোগ উঠে, তিনি বিপিসির পেছনের দরজা দিয়ে আসীন হয়ে সামনের দরজা দিয়ে অবসরে চলে গেছেন।এ বিষয়ে জানতে মনি লাল দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জোরে এসএমএসে খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনরকম সদুত্তর পাঠাননি।উল্লেখ্য, মনি লাল দাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন শেষে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) বা অবসর প্রক্রিয়ায় আছেন।তিনি বিপিসিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং পূর্বে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক (এমআইএস) হিসেবে বিপিসিতে কর্মজীবন শুরু করেন, বিপিসির তথ্য অনুযায়ী ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালে তার অবসর সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়।
১ মাস ২২ দিন আগে
‘চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, রোগীদের রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগের জটিলতা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম পর্যন্ত তীব্র হর্নের শব্দ পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’
১ মাস ২৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের লালদীঘির শান্ত জলের মাঝখানে ভাসছে ছোট ছোট শত শত শোলা। মাচায় বসে থাকা শিকারির চোখ ওই শোলার ওপর। চোখের পাতা যেন পড়ছে না। হঠাৎ মৃদু কাঁপুনি, শোলা ডুবছে আর উঠছে। টুপ করে শোলাটা অতলে হারিয়ে যেতেই শিকারি দুই হাতে ওপরের দিকে দেন ছিপের টান। বড়শির কাটায় বিঁধল মাছে। অমনি সাবমেরিনের মতো জলের গভীরে মোচড় দিল এক অদৃশ্য শক্তি। রিলের সাঁইসাঁই শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা চুরমার করে মাচা থেকে চিৎকার উঠল, ধরেছে রে, ধরেছে! সুতো ছাড়, সুতো ছাড়! শুরু হলো মানুষ আর জলের মাছের লড়াই।চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘিতে এভাবে বড়শিতে মাছধরা প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছেন শত শত মাছ শিকারি। এরা আসলে জুঁয়াড়ি। বড়শি প্রতিযোগীতার নামে লাখ টাকা পুরস্কারের লোভে মাছ ধরার জুঁয়া খেলা এদের নেশা। যার ছোবল পড়েছে শতবর্ষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন পুকুরটিতে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা কিংবা একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো সবকিছুর মুখরিত সাক্ষী এই প্রাঙ্গণ। শতবর্ষী জব্বারের বলীখেলারও সাক্ষী এই লালদীঘির ময়দান। সেই লালদীঘির বুক চিরেই শুক্রবার রাত দশটা থেকে শনিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত হয়ে গেল মাছধরার জুঁয়ার উৎসব।বড়শি প্রতিযোগীতার নামে মাছ ধরার এই জঁুয়া খেলার আয়োজক হায়দার আলী। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়ে দিঘিতে প্রায় বিভিন্ন সাইজের ৩০ মণ মাছ ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ আলম গং। অন্য একটি জলাশয় থেকে এনে লালদীঘিতে ছাড়া হয়েছিল মাছগুলো। ওই মাছ এখন আরও বড় হয়েছে। সেই মাছগুলো শিকারেই চারপাশ ঘিরে তৈরি করা হয় ১৮টি মাচা। প্রতিটি মাচায় চারজন করে বসার সুযোগ, আর প্রতিটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা।শিকারিদের এই লড়াইয়ে বড়শির চেয়েও বড় ছিল টোপের রসায়ন। কাতলা মাছকে টানতে কেউ মেখেছেন সুগন্ধি লাড্ডু, রুই-মৃগেলের জন্য বানিয়েছেন সাদা রুটি আর পিঁপড়ার ডিমের চারা, আবার পাঙাশ শিকারে ছিল ভিন্ন উপাদান। সেই অপেক্ষার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। দিঘিতে সর্বনিম্ন এক-দেড় কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত মাছ ছিল। খালি চোখে যেটাকে ১২ কেজি মনে হয়েছিল, দাঁড়িপাল্লায় তুলে দেখা গেল ১৪ কেজির এক ব্ল্যাক কার্প! এছাড়া বড়শিতে উঠেছে ১১ কেজির বেশি ওজনের কাতলা, ৫ কেজির পাঙাশসহ ঝাঁকে ঝাঁকে রুই ও মৃগেল। অনেকের মাচায় জমা হয়েছে এক মণেরও বেশি মাছ।বকশির হাটের বাসিন্দা এবং দীর্ঘ ৩৫-৩৬ বছর ধরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকা মোহাম্মদ টিপু জানান, তার মাছ শিকারের হাতেখড়ি হয়েছিল এই লালদীঘির পানিতেই। চুয়েটের কর্মকর্তা রিয়াদ কিংবা তরুণ উদ্যোক্তা আরাফাত হোসেনের মতো শিকারিরাও এসেছিলেন কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে।বড়শি প্রতিযোগীতার এই রোমাঞ্চ দেখতে দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত কৌতূহলী মানুষ। তাদের মতে, এই প্রতিযোগিতা কোন উৎসব নয়। এটি ছিল পুরুস্কারের লোভ। এই প্রতিযোগীতায় প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৭ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা।
১ মাস ২৫ দিন আগে
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রথম লংমার্চ ঘিরে পথে পথে ছিল নেতাকর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি। রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত কর্মসূচির বিভিন্ন জনসভা ও পথসভা থেকে সরকারকে একের পর এক সতর্কবার্তা দিয়েছেন জোটের নেতারা।তাদের ভাষ্য, ঘোষিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তা এক দফায় রূপ নেবে—আর সেই এক দফা হবে সরকারের পদত্যাগ।শনিবার (সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাপলা চত্বরের সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আয়োজিত পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে জোটের নেতাদের স্বাগত জানান সমর্থকরা।এই লংমার্চে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফেনীর মহীপালের পথসভায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তোলেন।জামায়াত আমির বলেন, তারা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ শুরু করলে ১৫ বছর অপেক্ষা করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেশের ধ্বংস সাধন করবেন, সর্বপর্যায়ে আপনারা বেপরোয়া-নির্লজ্জ-বেহায়াপনা করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে?’তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে, যেখানেই জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে, সেখানেই গর্জন করা, সেখানেই বাধা দেওয়া, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আপনারা জনগণের অধিকার নিয়ে টান দিলে বিরোধী দল কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করবে।’জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দেন, আমরা দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামি নাই। দেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।’তিনি জুলাই গণহত্যা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, গত ছয় মাসে বড় বড় গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি এবং অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া কয়েকটি বিচারও বন্ধ হয়ে গেছে।গণভোট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সবাই দুটি ভোট দিয়েছি। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট; অন্যটি বাংলাদেশকে সংস্কার এবং মেরামত করার গণভোট। সরকারি দল এবং আমরা উভয়ে বলেছি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে আমরা তা মেনে নেব এবং তা বাস্তবায়ন করব। সরকার এখন গণভোটের রায় না মেনে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। জনগণের এ দাবি মেনে নেওয়া জনগণের প্রতি কোন অনুগ্রহ নয়, এটি ওয়াদার বাস্তবায়ন।’মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এখন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের পকেটে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের আয় বাড়েনি, বরং দায় ও ব্যয় বেড়েছে। মানুষের টাকা কোথায় যায়? চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিবাজদের পকেটে যায়। এসব পকেট বন্ধ করতে হবে।’এর আগে ঢাকার উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও জামায়াত আমিরের মতো একই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সরকার লংমার্চে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।ফেনীর পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ছয় দফা দাবি না মানলে বর্তমান সরকারকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে সংসদে বসে দেশ পরিচালনা করলে জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না। আমরা দেশের মানুষের সঙ্গে আছি।অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায়কে বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।কুমিল্লার পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকারকে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছয় দফা এক দফায় রূপ নেবে এবং সেই এক দফা হবে সরকারের পদত্যাগ।’জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।জোটের নেতারা চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ জনজীবনের বিভিন্ন সংকটের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকেও দায়ী করছেন। এসব সংকটের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়াত ও সমমনা দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে জোটের আমির শফিকুর রহমান ঢাকার সঙ্গে রংপুর, খুলনা ও সিলেটের লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।এদিকে শনিবারের লংমার্চের গাড়িবহর ও বিভিন্ন স্থানে পথসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি এলাকায় যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। জোটের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, সাধারণ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে লংমার্চের বহর চলবে।সব মিলিয়ে প্রথম লংমার্চে পথে পথে নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি এবং জোটের নেতাদের ‘ছয় দফা থেকে এক দফা’ যাওয়ার হুঁশিয়ারি রাজপথের আন্দোলনে নতুন বার্তা দিয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে চাপের মুখে ফেলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির দিকেও এগোচ্ছে বিরোধী এই জোট।
১ মাস ২৫ দিন আগে
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে মূলমন্ত্র বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভীকতা এবং নিরপেক্ষতা- বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তা আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে।সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা সাংবাদিকতার জগতের সেই ক্ষতটিকে আবারও উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে মনের গভীরে তীব্র দহন তৈরি করছিল। শরীয়তপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির প্রতিনিধি এ বি এম ইসরাফিল, নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর সাথে ঘটে যাওয়া হামলা, ধারাবাহিক হেনস্তা ও আইনি হয়রানি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আসলে বর্তমান বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এক নির্মম ও বাস্তব প্রতিচ্ছবি।সাংবাদিক নেতারা যখন সরাসরি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবধারিতভাবেই সংকট তৈরি হয়। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং স্বয়ং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে মাঠপর্যায়ের সৎ সাংবাদিকরা আজ সম্পূর্ণ অসহায় ও অভিভাবকহীন।এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তাদের রোষানল, প্রকাশ্য হুমকি কিংবা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শরীয়তপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যদি পুরো দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে ত্রিমুখী চাপ রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসনের কারণেই সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।রক্ষক যখন ভক্ষকশরীয়তপুরের ঘটনার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ক্ষমতার তিনটি স্তর- স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক নেতৃত্ব একযোগে সাধারণ ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ও তিনটি দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রেসক্লাবের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এই জায়গাটির উন্নয়ন করেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ পার্ক সম্প্রসারণের নামে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের দিনের আলো এড়িয়ে রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান প্রথম ধাক্কাটি দেয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময় ও ক্ষোভের জায়গাটি তৈরি হয় তখন, যখন জেলা প্রশাসক দাবি করেন যে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে খোদ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতে।এখানেই মফস্বল সাংবাদিকতার আসল ট্র্যাজেডি স্পষ্ট । প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন একই সাথে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। একজন সাংবাদিক নেতার যখন এমন দ্বৈত ও সাংঘর্ষিক পরিচয় থাকে, তখন তিনি আর সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার অভিভাবক থাকেন না, বরং নিজের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে, প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদকে মেনে নেওয়া হয়, যা সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।মব-জাস্টিস ও প্রকাশ্য ফ্যাসিবাদের দোসর ট্যাগিংএমন প্রশাসনিক অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন এবং প্রতিবাদী পোস্ট দেন, তখন ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা জুড়ে দিয়ে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। প্রেসক্লাব চত্বরেই সেই ক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ ও তার দলবল ইসরাফিলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, নিজেদের প্রাণের প্রেসক্লাব উচ্ছেদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে হামলার শিকার হন সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা।এই হামলার মূল অভিযুক্ত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা যখন প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’ তখন তা আর কোনো সাধারণ অপরাধীর হুমকি থাকে না। এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে রাজনৈতিক ক্ষমতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন এ দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ দেখছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের এই ক্যাডারভিত্তিক মব-জাস্টিস এবং গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি আরেকটি উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থান ঘটে, তাহলে রাষ্ট্রের মৌলিক গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই দাঁড়াতে পারবে না। বিগত আওয়ামী আমলেও দেখা গেছে, প্রত্যন্ত উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতা-নেত্রীরা সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলীয় পদধারী এই নেতারা ভিন্নমতের সাংবাদিকদের যেমন কোণঠাসা করেছেন, একই সঙ্গে যখন ভিন্নমতের সাংবাদিকরা হামলা কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন তখন তারা প্রতিবাদ না জানিয়ে বরং জুলুমে সঙ্গত দিয়ে গেছেন।হামলা, পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানিশরীয়তপুরে সাংবাদিকতায় নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হয় কাউন্টার ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি মামলা বা পাল্টা মামলার সংস্কৃতি। সাংবাদিক ইসরাফিল ও আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা যখন থানায় অভিযোগ করতে যান, তখন পুলিশ তা নিতে গড়িমসি করে। অপরদিকে সাংবাদিকদের দমনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটভিত্তিক কৌশল। যখনই কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অপরাধ বা দাপটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আইনি পদক্ষেপ নেন, তখনই তাদের কণ্ঠ রোধ করতে পাল্টা চাঁদাবাজি বা মানহানির মামলা দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সাংবাদিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আপস বা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা হয়, তখন সাধারণ সাংবাদিকরা মার খায়।’ এমন একটি বাক্য বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূঢ় সত্য। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক নেতৃত্ব থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে অবস্থান করে। তখন পেশাগত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপকে নির্দেশ করে। স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত হলো যেকোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা দলীয় এজেন্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কিন্তু বাংলাদেশে জেলা-উপজেলার প্রেসক্লাবগুলো বহুদিন ধরেই সাংবাদিকতার চেয়ে স্থানীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদগুলো পেতে এখন মেধা বা পেশাদারির চেয়ে রাজনৈতিক লবিং ও দলীয় পরিচয় বরাবরই বেশি গুরুত্ব পায়।যখন একজন সাংবাদিক নেতা একই সাথে বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হন, তখন তার প্রথম আনুগত্য থাকে দলের প্রতি, সাংবাদিকতার প্রতি নয়। ফলে দলের কোনো নেতা-কর্মী যখন সাধারণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তখন এই নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রশাসন বা পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে উল্টো আক্রান্ত সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। শরীয়তপুরেও আমরা দেখছি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিনও আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেননি। এই দলীয় লেজুড়বৃত্তি মফস্বলের সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের ভেতর থেকে একা ও নিঃসঙ্গ করে দিচ্ছে।প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের উদাসীনতা এবং কর্পোরেট অবহেলাকোনো সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ হওয়ার পরে অনেক ক্ষেত্রেই বলতে শোনা যায় আমরা আমাদের কর্মস্থল থেকে কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। এটি বাংলাদেশের মিডিয়া হাউসগুলোর এক অন্ধকার দিক। ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যেসব গণমাধ্যম মালিক ও নীতি-নির্ধারকরা বড় বড় বুলি আওড়ান, মফস্বলের প্রতিনিধিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান প্রায় শূন্য। মফস্বলের একজন সাংবাদিককে প্রতিদিন অত্যন্ত সীমিত বেতনে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে, কেবল লাইনেজ বা সংবাদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া অংকের বিনিময়ে কাজ করতে হয়। তারা যখন স্থানীয় ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ আমলা বা রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন, তখন মিডিয়া হাউসগুলো সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাঠক, টিআরপি বা ভিউ বাড়ায়। কিন্তু সেই প্রতিবেদনের কারণে যখন ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে অবরুদ্ধ ও আক্রান্ত হন, তখন কেন্দ্রীয় অফিস অনেক সময়ই দূরত্বের অজুহাতে বা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয়।শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিক তো আক্ষেপ করে বলেছেন, এই বিপদে নিজের প্রতিষ্ঠানকেই পাশে পাননি তিনি। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা মফস্বল সাংবাদিকদের মানসিকভাবে আরো বেশি পঙ্গু করে দেয়। যখন একজন সাংবাদিক দেখেন যে আক্রান্ত হওয়ার পর তার নিজের প্রতিষ্ঠান, তার নিজের প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় প্রশাসন কেউ তার পাশে নেই, তখন তার পক্ষে ক্ষমতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ধরন একইশরীয়তপুরের এই ঘটনাটি যদি আমরা সমগ্র বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মানচিত্রে স্থাপন করি, তাহলে দেখব যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নির্যাতনের একটি সাধারণ প্যাটার্ন, ধরন বা ছক রয়েছে। এই ছকের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে প্রথমে তথ্য পাওয়ার অধিকারের টুঁটি চেপে ধরা। অর্থাৎ সরকারি বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়মের তথ্য চাইতে গেলে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা বর্তমানের সাইবার নিরাপত্তা আইন বা সরকারি গোপনীয়তা আইনের ভয় দেখানো হয়। নোটিশ ছাড়া প্রেসক্লাবের দেয়াল ভাঙা যেমন প্রশাসনিক স্বৈরাচার, ঠিক তেমনি সরকারি প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়াও একই সংস্কৃতির অংশ।দ্বিতীয়ত, বিশেষ করে মফস্বলে পুলিশ প্রশাসন সাধারণত স্থানীয় ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ইশারায় চলে। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দিলেও ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে অজুহাত দেখায়। অথচ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি মিথ্যা মামলা দিলে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তা গ্রহণ করে।প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এখন রাজনৈতিক দলের মতো প্রেসক্লাবগুলোও আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী- এমন সব ধারায় বিভক্ত। এই বিভক্তির কারণে এক পক্ষের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ খুশি হয় বা চুপ থাকে। সাংবাদিকদের এই নিজেদের ভেতরের ঐক্যহীনতাকেই পুঁজি করে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।সাংবাদিকতায় যে সংস্কার অপরিহার্যঅন্ধকূপ থেকে সাংবাদিকতাকে টেনে তুলতে হলে এবং সাংবাদিকদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কিছু মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন বাধ্যতামূলক। যেমন প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকদের যেকোনো ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে যেকোনো ব্যক্তি যদি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেন বা কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী হন, তবে তিনি কোনোভাবেই সাংবাদিক সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচন বা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। সাংবাদিকতা এবং সক্রিয় দলীয় রাজনীতি কখনো একসাথে চলতে পারে না।ঢাকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে তাদের মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল গঠন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি পেশাগত কারণে আক্রান্ত বা মামলার শিকার হলে, কেন্দ্রীয় আইনি দল দিয়ে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা সরাসরি জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা হয়রানিমূলক মামলা হলে এই কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা দিতে যেসব হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা বা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়, সেগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল থাকা উচিত। তদন্ত ছাড়া কোনো সাংবাদিককে এসব মামলায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা যাবে না- এমন আইনি বিধিমালা তৈরি করতে হবে।শরীয়তপুরের মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ্, বিধান মজুমদার, এ বি এম ইসরাফিল কিংবা জাহিদ হাসান রনিরা যে লড়াইটা লড়ছেন, তা কেবল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই নয়, তা মূলত বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক শেষচেষ্টা। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং কর্মস্থলের সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে সাংবাদিকরা আজ যেভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন, তা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ না হলে এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের কর্মীদের পক্ষে ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে সর্বস্তরেই একদিন বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ডেস্কে বসে সাজানো সংবাদের চেয়ে মাঠের সত্য উন্মোচন করায় যে সাংবাদিকরা নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, তাদের এই একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং স্বয়ং সাংবাদিক সমাজকেই নিতে হবে। ক্ষমতার কাছে সাংবাদিকদের এই অসহায় আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি যদি আজ ভাঙা না যায়, তাহলে আগামী দিনে কোনো অন্যায়, অত্যাচার বা দুর্নীতির কথা আর কখনো মূলধারার গণমাধ্যমে উঠে আসবে না।লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক এদিন
১ মাস ২৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মোহাম্মদ করিম খুনের একদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমনকি কারা কীভাবে খুন করেছে এ বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা পায়নি পুলিশ। নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তারও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।অথচ বাজারে সবার সামনে খুন হয়েছেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম। কিন্তু কেউ কোন কথা বলছে না। সবার মধ্যে আতঙ্ক। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন নিজেই বলছেন, এ ঘটনায় কেউ আমাদের কোনো তথ্য দিচ্ছে না। সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত করে ৩-৪টা নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে পারলে খুনের মোটিভসহ সবকিছু পরিস্কার হবে। নিহত মোহাম্মদ করিম (৩৭) রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার রাতে করিমের বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে কেরানীহাট বাজারে তাকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে নিহত করিমের স্ত্রী মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ওসি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে করিমের শরীরে তিনটি গুলি লাগার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পেট, উরু ও নিতম্বে। একটি গুলি কোমরের পাশ দিয়ে ঢুকে পেট দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলি ছাড়াও মাথা-ঘাড়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করিম যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে পদ-পদবি ছিল না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশে ফেরেন। এরপর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দুই বছরে বেশকিছু অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। অন্তত ১০ মামলার আসামি। গত দুই মাস ধরে এলাকায় ছিলেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকায় ফিরেই খুনের শিকার হন মোহাম্মদ করিম।
১ মাস ২৬ দিন আগে
সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
১ মাস ২৭ দিন আগে
স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যেটি পেয়েছিল চট্টগ্রামের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডও। কিন্তু সেখানে এমটি রাসি নামক জাহাজটি কাটতে গিয়ে ট্যাংক থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। শুধু ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নয়, বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের সাগর উপকুল সীতাকুন্ডে স্থাপিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে একের পর এক বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বা বিস্ফোরণে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার দায় পুরোপুরি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের হলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই কারও। এ নিয়ে আসল তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে না কোনো গণমাধ্যমেওএমন অভিযোগ শিপব্রেকিং শ্রমিক-কর্মচারীদের। একই অভিযোগ মালিকদেরও। তাদের মতে, শিপিব্রেকিং ইয়ার্ডে কোন দূর্ঘটনা হলে যেন সব দায় মালিকের। সব দোষ শ্রমিকের। কিন্তু এ জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর যে শতভাগ দায়ী তা কারও নজরে আসছে না। এমনকি প্রকৃত সত্য কোনো মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারূী ও মালিকরা জানান, স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যা নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে হয়। কিন্তু কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়ে দেয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এ জন্য নানা হয়রানির ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের ঘুষও। আর পরিশেষে পরিণতি গ্যাসের বিস্ফোরণ অথবা নির্গমনে শ্রমিকদের মৃত্যু। এ যেন গ্যাসমুক্ত সনদ নয়, শ্রমিকদের মৃত্যু পরোয়ানা। ঠিক এমন ঘটনা ঘটেছে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডেও। গত ১৪ আগস্ট সকালে এমটি রাসি জাহাজটির তিন নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। আর ওই জাহাজের গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এরপরও বিষাক্ত গ্যাস ছড়াল কীভাবে? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের মাঝে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে এ দূর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে। তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গত ৩১ আগস্ট সোমবার তাদের প্রতিবেদন শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের গ্যাসমুক্ত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যার উত্তরে কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই গ্যাসমুক্ত সনদ প্রদানের তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। এমনকি এই সনদ পেতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টিও উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। যেখানে উঠে এসেছে, ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ঘাটতি এবং উদ্ধারকাজের অদক্ষতার প্রসঙ্গও। একই দিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম মেনজামিন রিয়াজীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের আরেক কমিটিও জমা দিয়েছে প্রতিবেদন। ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের উৎস, প্রকৃতি নিরূপণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে ১৬ আগস্ট গঠন করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। যার প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান। সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পরিচালক মো. শোয়েব আহমেদ ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান।বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা জানান, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট জাহাজ এবং সংলগ্ন এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেন তারা। কথা বলেন প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে। জাহাজের বিভিন্ন ব্যালাস্ট ট্যাংক, ডিপ ট্যাংক, কফারডাম, দুর্ঘটনাস্থলের বাতাস, পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দেখা যায়, বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে গ্রীন সনদধারী প্রতিষ্ঠান ফেরদৌস স্টিল শিপিব্রেকিং ইয়ার্ড এক বছর আগে স্ক্র্যাপ জাহাজ রাসির গ্যাস ফ্রি সনদ পান। সনদ দেওয়ার আগে জাহাজটির কম্পার্টমেন্টসহ অন্যান্য জায়গা পরীক্ষা করেছিল। কিন্তু তখন ব্যালাস্ট ট্যাংক পরীক্ষা হয়নি। এরপর থেকে এক বছর ধরে জাহাজটি কাটতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমটি রাসির ব্যালাস্ট ট্যাংকের জন্য গ্যাসমুক্ত সনদ চাওয়া হয়নি বলে দাবি কমিটির সদস্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খানের। তিনি বলেন, যে জায়গায় গ্যাসের উৎস সেই ব্যালাস্ট ট্যাংকের গ্যাসমুক্ত সনদ এক বছর আগে চাওয়া হয়নি। জাহাজের অন্যান্য অংশ দেখে গ্যাস ফ্রি সনদ দেওয়া হয়েছিল। যতটুকু সনদ চাওয়া হয়, ততটুকুই দেওয়া হয়েছিল।যদিও গোটা জাহাজ পরীক্ষা করেই গ্যাসমুক্ত সনদ দেওয়ার কথা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। কোনো বিশেষ অংশের জন্য আলাদা করে এই সনদ চাওয়ার বা দেওয়ার নিয়ম নেই।প্রতিবেদনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হাইড্রোজেন সালফাইডের কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাসের উৎস এবং মৃত্যুর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্থির পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছিল। ট্যাংকের নিচের প্লেটে ছিদ্র করে পানি নিষ্কাশনের সময় আশপাশের বায়ুতে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশন এলাকায় উচ্চমাত্রার গ্যাসটির কারণে বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকরা স্বল্প সময়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্রহণ করে গুরুতর বিষক্রিয়ার শিকার হন। দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন, যা পরে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের পানি স্থির অবস্থায় থাকলে সেখানে কাদা, জৈবপদার্থ এবং বিভিন্ন অণুজীব জমা হয়। ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে অক্সিজেন স্বল্পতা সৃষ্টি হয়। নমুনা পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অক্সিজেন স্বল্প পরিবেশে ট্যাংকের তলানিতে উপস্থিত অণুজীব সামুদ্রিক পানিতে বিদ্যমান সালফেটকে বিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে সালফাইডে রূপান্তর হতে পারে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে যেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কম, সেখানে পানি কিছুটা অম্লীয় এবং সালফাইডের উপস্থিতি অনেক বেশি। উপস্থিত এ সালফাইডের একটি অংশ দ্রবীভূত বা আবদ্ধ অবস্থায় পানি ও সেডিমেন্টে জমা থাকতে পারে, যা পানি থেকে সহজে বের হয়ে নিষ্কাশন পয়েন্টের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।এছাড়া ফেরদৌস স্টিলে ট্যাংক কাটার সময় পর্যাপ্ত সরঞ্জামের ব্যবহার করা হয়নি বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গ্যাস পরিমাপের মনিটর থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামও ছিল না শ্রমিকদের। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অদক্ষতার পরিচয় দেওয়া হয়। পেশাদার উদ্ধারকারী দলকেও সঠিক সময়ে ডাকা হয়নি।সূত্র মতে, এমটি রাসি জাহাজটিতে মোট চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিল। এর মধ্যে ৪ নম্বরটি আগে কাটা হয়। ৩ নম্বরটি কাটার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড বিষক্রিয়া হয়। ১ ও ২ নম্বর ট্যাংকের মধ্যেও একই বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই দুটি কাটার সময় বিশেষ সতর্কতা বা ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি নিষ্কাশন কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ডি-ব্যালাস্টিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যালাস্ট ট্যাংকের ইতিহাস, ধারণক্ষমতা, পানির পরিমাণ ও স্থায়িত্বকাল এবং সম্ভাব্য হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্যান্য গ্যাসের উপস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। ট্যাংকের ওপর, মধ্য ও নিচের অংশের বাতাসে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড এবং পানির বিভিন্ন স্তরে পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।তদন্ত কমিটির ৯ দফা সুপারিশের মধ্যে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে এ ধরনের গ্যাসযুক্ত ট্যাংক কাটার সময় কী করা দরকার, তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ইয়ার্ডটিতে গ্যাস মনিটর ছিল। কিন্তু ট্যাংকের পানি নিষ্কাশনের সময় তা ব্যবহার করা হয়নি। পানি নিষ্কাশনের সময় যদি গ্যাসের উপস্থিতি মনিটরের মাধ্যমে ধরতে পারত, তাহলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি না-ও হতে পারত। এ ছাড়া জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থারও ঘাটতি ছিল।অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান আরও বলেন, ট্যাংক থেকে পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি সাবধানতার সঙ্গে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতিতে করতে হবে। পোস্ট ভেন্টিলেশন অর্থাৎ ছোট ছিদ্র করে বাতাসে তা ধীরে ছাড়তে হবে। বাতাস ও ট্যাংকে গ্যাসের উপস্থিতি সার্বক্ষণিক পরিমাপ করার জন্য মনিটর লাগবে। জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঝুঁকি মনে হলে ওই স্থান দ্রুত ত্যাগ করতে হবে।এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের সময় শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। তলার প্লেটে ছোট ছিদ্র করে ডি-ব্যালাস্টিং করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাতে তা করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা, কাটার আগে এবং পানি নিষ্কাশনের সময় গ্যাস পরিমাপ করার জন্য মনিটর ব্যবহার করতে হবে। গ্যাস অ্যালার্ম ব্যবহারের সুপারিশও এসেছে। সেই সঙ্গে পরিবেশে কী পরিমাণ গ্যাস যুক্ত হয়েছে, তা দেখতে এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, সীতাকুন্ডে গত ১২ বছরে বিষাক্ত গ্যাস বিস্ফোরণ ও নির্গমনে ১৪৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের শ্রমিক পক্ষ, মালিক পক্ষ উভয়েরই দায় থাকে অনেক সময়। শ্রমিকরা অনেক সময় সাবধানতা অবলম্বন না করে কাজ করে, সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোনো মালিক পক্ষ থেকেও ল্যাপস থাকতে পারে। তবে সরকারি সংস্থাগুলোর যেন কোন দায় নেই।
১ মাস ২৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম শহরে খাওয়ার পানিতে রাজত্ব গেড়েছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। প্রতি ফোঁটায় শনাক্ত হয়েছে হাজার হাজার জীবাণু। ফিল্টার বা ফোঁটানোর পরও কমছে না ক্ষতিকর নানা জীবাণু। উল্টো বাড়ছে ভাসমান কণা। যা পান করে কোন না কোন জটিল রোগে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারা।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম মালয়েশিয়া পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উদ্বেগজনক এই তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (সিডিএ)। সংস্থাটির খসড়া মহাপরিকল্পনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।সিডিএর খসড়া পরিকল্পনা ও গবেষণা প্রতিবেদনের মতে, চট্টগ্রাম শহরে ৭০ লাখ লোকের বাস। যাদের তৃষ্ণা মেটাতে ওয়াসা, নলকূপ ও বাণিজ্যিক জার থেকে খাবার পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই তিন উৎসের প্রতি ফোঁটা পানিতে ৫০০-৭০০ ব্যাকটেরিয়াসহ হাজার হাজার ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।যেখানে বলা হয়েছে জীবন বাঁচানোর জন্য এসব উৎসের ওপর ভরসা করলেও তা মোটেও নিরাপদ নয়। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, নগরীর বাসাবাড়িতে ২০-৩০ মিনিট ধরে ফোটানো বা ফিল্টারে শোধন করার পরও প্রতি ফোঁটা পানিতে থেকে যাচ্ছে ক্ষতিকর প্রায় ৫০০-৭০০ উপাদান। এমনকি শোধনের পর পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ কমার বদলে উল্টো বেড়ে যাওয়ার প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকরা।গত ২ আগস্ট প্রকাশিত সিডিএর খসড়ায় স্ট্রাকচার প্ল্যান অংশে সুপেয় পানির মান নিয়ে রাখা হয়েছে একটি বিশেষ অধ্যায়। সেখানে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী হেলিওন-এ প্রকাশিত একটি যৌথ গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের সব উৎসের পানিতেই অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত জীবাণুর উপস্থিতি।মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম মালয়েশিয়ার পাঁচ গবেষক। তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কোতোয়ালি, হালিশহর, বায়েজিদ, চান্দগাঁও, বন্দর ও সরাইপাড়া এলাকা থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পানির ৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করেন ল্যাবরেটরিতে। পাশাপাশি মান নিয়ে মতামত জানতে নেওয়া হয় ১৪৯ বাসিন্দার মতামত।গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার রিসার্চের গবেষক ও চবি অধ্যাপক ড. শ্যামল কর্মকার বলেছেন, গবেষণায় পাওয়া ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিকের উপস্থিতি দেশেই পরীক্ষা করা সম্ভব। এর বাইরেও মিলেছে অসংখ্য অজানা অজৈব দূষক। যা হয়তো শনাক্তই করতে পারছি না।গবেষণা কার্যক্রমের বিবরণগবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়টি শোধনাগার ও ৪৬টি নলকূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, সুপেয় বা পানের পানিতে ক্ষতিকর উপাদান বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শূন্য থাকতে হবে।কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে এলাকাভেদে প্রতি মিলিলিটারে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে ৯ হাজার ২৫০ থেকে ১৪ হাজার পর্যন্ত। বাসাবাড়িতে শোধন করার পরও থেকে যাচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ১০ হাজার ৩০০ পর্যন্ত।একইভাবে নলকূপের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় ৬৮০ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ এবং শোধনের পর ৬৮০ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। জারের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় ১৫০ থেকে ১ হাজার এবং শোধনের পর ১০০ থেকে ৬৫০টি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে।গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মিলিলিটার পানিতে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তা এক ফোঁটা পানির হিসাবে আনলে চিত্রটি আরও ভয়াবহ। সাধারণত এক মিলিলিটার পানিতে প্রায় ২০ ফোঁটা ধরা হয়। অর্থাৎ এক ফোঁটা পানির পরিমাণ প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিলিলিটার।এই হিসাবে চান্দগাঁও এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১৪ হাজার ব্যাকটেরিয়া মিলেছে। অর্থাৎ এক ফোঁটায় থাকছে ৭০০। বন্দর এলাকার নলকূপের অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১৩ হাজার ৫০০ ক্ষতিকারক উপাদান। এক ফোঁটা পানিতেই থাকছে প্রায় ৬৭৫। শোধনের পরও সেই পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১০ হাজার ব্যাকটেরিয়া থেকে যাওয়ায় প্রতি ফোঁটায় দূষণের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০০টি। একইভাবে কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি ফোঁটায় মেলে প্রায় ৫০০টি ব্যাকটেরিয়া।শোধনের পর উল্টো বাড়ছে ভাসমান কণাপরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, খাবার পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার (এসএস বা টিএসএস) গ্রহণযোগ্য সীমা প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ১০ মিলিগ্রাম। কিন্তু ওয়াসা ও নলকূপের পানিতে তা ৪০ থেকে ১ হাজার ৮৮৮ মিলিগ্রাম। কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার পানি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে শোধন করার পর আরও বেড়ে গেছে ভাসমান কণার পরিমাণ।গবেষকদের ধারণা, বাসাবাড়ির ফিল্টারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে এই চিত্র। একই বিধিমালা অনুযায়ী, পানিতে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের (টিডিএস) আদর্শ মান প্রতি লিটারে ১ হাজার মিলিগ্রাম। কিন্তু বন্দর ও হালিশহর এলাকার নলকূপের পানিতে তা বেশি পাওয়া গেছে।পানি পানে জটিল রোগে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারাগবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন উৎস্যের পানি পানে ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিসসহ নানা জটিল রোগে বুগছেন নগরের বাসিন্দারা। জরিপে অংশ নেওয়া ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীদের ৭৬ শতাংশ মানুষের কাছ থেকে এ তথ্য মিরেছে।তাদের মতে, এই পানি পানের অনুপযোগী। তাদের মূল অভিযোগ দুর্গন্ধ (৫৬ শতাংশ) এবং ভাসমান কণার উপস্থিতি (১৭ শতাংশ)। অন্যদিকে নলকূপ ব্যবহারকারীদের ৫৮ শতাংশ পানিতে অস্বাভাবিক বাদামি রঙের কথা জানিয়েছেন।শোধন করে পান করার পরও ওয়াসার গ্রাহকদের ১১ শতাংশ এবং নলকূপের গ্রাহকদের ৯ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া উভয়ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশিই শিশু।যে কারণে দূষিত হচ্ছে পানিগবেষকরা বলছেন, কর্ণফুলী ও হালদা নদী থেকে পানি শোধনের পর সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কিন্তু পাইপলাইনের ফুটো এবং ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনার কারণে গ্রাহকপর্যায়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দূষিত হয়ে পড়ছে সেই পানি। অন্যদিকে অনিবন্ধিত কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জারের পানি প্রক্রিয়াজাত করায় সেখানেও থেকে যাচ্ছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে দূষণের দায় নিতে নারাজ চট্টগ্রাম ওয়াসা।সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেছেন, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারব, ওয়াসার পানিতে কোনো ব্যাকটেরিয়া নেই। প্রতি মাসে ২৪০টি স্পট থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যেখানে পাওয়া যায় না দূষণের অস্তিত্ব। মূলত গ্রাহকপর্যায়ে গিয়ে পানি দূষিত হচ্ছে।কারণ, সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর পরও পানির রিজার্ভার ও ট্যাংক পরিষ্কার রাখে না মানুষ। ঘরের পানির জগ যেমন পরিষ্কার রাখা হয়, তেমনি পানি জীবাণুমুক্ত রাখতে হলে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে রিজার্ভার ও ট্যাংক। এছাড়া অনেক সংস্থা উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে পাইপ ফাটিয়ে ফেলে। তখন ময়লা পানি ঢুকে দূষণ হতে পারে। তবে আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা মেরামত করে ফেলি।এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র বৈজ্ঞানিক ও টেকসই সমাধান হলো বাসাবাড়ির পাশের নালা থেকে শুরু করে ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠের পানির উৎসগুলোকে দূষণমুক্ত করা বলে মত দেন ওয়াসার এই প্রধান প্রকৌশলী। একি মত দিয়েছেন চট্টড়্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনও।
১ মাস ২৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে দু‘গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সীতাকুন্ড পৌরসভা গেট এলাকায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও যুবদল নেতা কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে একটি ওষুধ কো¤পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের জন্য পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা সীতাকুন্ড পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে এবং কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হন। দুই নেতার অনুসারীরা মিছিল নিয়ে যাবার পথে পৌরসদরে মুখোমুখি হলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।তাদের হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াও বাঁশ, লাঠি, লোহার রড ছিল। পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের সামনে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপক্ষ আরেকপক্ষের ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়। তবে পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধাওয়া দিয়ে দুইপক্ষকে তাদের নিজ নিজ কর্মসূচিস্থলে সরিয়ে দেয় পুলিশ।সংঘর্ষের জেরে সীতাকুন্ডে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাহউদ্দিন এবং পৌরসদরে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শত, শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে আছে। বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুন্ড থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আহত হওয়ার মতো সংঘর্ষ হয়নি। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এখন উভয়পক্ষ আলাদা-আলাদা স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছে। রাস্তায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মতো ব্যারিকেড ছিল। অস্ত্রের¿ মহড়ার মতো তেমন কিছু আমাদের চোখে পড়েনি।সীতাকুন্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমরা দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দিয়েছি। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজর রয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশের একটি টিম বাঁশবাড়িয়া মহাসড়কে ব্যারিকেড সরানোর কাজ করছে।উল্লেখ্য, আসলাম চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও কাজী সালাহ উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে সালাহ উদ্দিনকে প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরে সেটা পাল্টে আসলাম চৌধুরীকে দেওয়া হয়। তিনি নির্বাচনে জিতলেও খেলাপি ঋণ জটিলতায় উচ্চ আদালত থেকে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।# ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম। ০১ সেপ্টেম্বর’২০২৬ ইং, ০১৭৯৩২০০০২৪
১ মাস ২৯ দিন আগে
রেলওয়ের কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ পারসোনাল অফিসার (সিপিও) লুৎফা বেগম। এই দপ্তরে টানা ২৩ বছর বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। এ সুবাধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বাড়ি আর গাড়িতে বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে এখন নানা আলোচনা চলছে তাকে নিয়ে।রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সিপিও (পূর্ব) দপ্তরে যোগ দেন লুৎফা বেগম। এরপর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো বদলি ছাড়াই তিনি একই দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই অবস্থানে রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার আধিপত্যর কাছে সবাই হার মানে। এমনকি রেলওয়ে মহাপরিচালক দপ্তরের বিশেষ সহায়তায় তিনি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদও ভাগিয়ে নেন। আর স্বপদে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়েতে স্বল্প বেতনের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লুৎফা বেগমের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি। চট্টগ্রামের হালিশহর থানা এলাকার কৃষ্ণচূড়া অ্যাপার্টমেন্টে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। নগরীর নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রয়েছে আরো কয়েকটি ফ্ল্যাট। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। গ্রামেও তিনি ‘অঢেল সম্পদের’ মালিক বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রেল সূত্রে জানা যায়, লুৎফা বেগম নিয়মিত নিজস্ব গাড়ি ও চালক নিয়ে অফিসে আসেন। রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা আছেন অনেকে রিক্সা নিয়ে এসে অফিস করেন। কিন্তু একজন কর্মচারী কিভাবে বিলাসী জীবন যাপন করে সে প্রশ্ন রেল অঙ্গনে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ক্ষমতা আর আয়ের উৎস কি? কিভাবে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন তার সবকিছু বেড়িয়ে আসবে যদি দুদক অনুসন্ধান করে।রেল কর্মকর্তাদের মতে, রেলওয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ এত বছর কোনো কর্মচারী বদলি ছাড়াই একই দপ্তর আঁকড়ে রেখেছেন। এবং একজন কর্মচারী হিসেবে তার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে যায় না। এছাড়া, দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে থাকার কারণে লুৎফা বেগম একটি শক্তিশালী নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন হয়রানির মতো অনিয়মগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এই দপ্তরে।রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের নীরবতার কারণে লুৎফা বেগমদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাদের চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। এটা চাকরিবিধির চরম পরিপন্থী। এগুলো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।জানা গেছে, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এ নেত্রীর সঙ্গে সিআরবি জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং রেলওয়ের অঘোষিত টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমন দাবী রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের। তাদের দাবী, লুৎফা গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।সিপিও (পূর্ব) কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, লুৎফা বেগমের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্বপরায়ণ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে দাপট দেখানো, চিৎকার-চেঁচামেচি, শাসানো-এসব তার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অফিসে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে তার বিরুদ্ধে।জানা গেছে, বর্তমানে পুরো অফিসে বদলি বাণিজ্য, পেনশন বাণিজ্য, সাসপেন্ড ফাইল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সম্পর্কিত ফাইল ও টিএলআর নিয়োগ, সবকিছুতেই তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তারা লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দু‘বার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী বছরের পর বছর অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএ’র ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফা বেগম বলেন, আমি জানি কে এসব পাঠিয়েছে, আমি দুইটা লোককে টার্গেট করছি। কারণ একজনের পদোন্নতি হবে, সে চাচ্ছে এখান থেকে কোনো ক্রমেই আমাকে সরাইতে। কোনো অশুভ শক্তিই আমাকে সরানো সম্ভব না ভাই, আল্লাহর অলৌকিক শক্তি ছাড়া। আমি কি কাজ করি না করি আমার প্রশাসন আমাকে খুব ভালো জানে। আমিতো আর হেহেহে করে লম্বর লম্বর করে হাঁটি না।
২ মাস আগে
সাজানো-গোছানো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিপাটি পরিবেশ, ব্র্যান্ডও বেশ পরিচিত— যা দেখে পণ্যের মান নিয়ে আস্থা রাখেন ভোক্তারা। কিন্তু সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে ভোক্তাদের সাথে পুরোপুরি প্রতারণায় লিপ্ত সুপারশপ ‘উৎসব’। মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ-বিক্রি, নষ্ট মসলা ও চকোলেট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ, যথাযথ লেবেল ও আমদানিকারকের তথ্য ছাড়া খাদ্যপণ্য বিক্রির মতো একের পর এক অনিয়মের মধ্যে এবার নকশা বহির্ভূত নির্মাণ ও পর্যাপ্ত পার্কিং না রাখার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে গুণতে হয়েছে ৮ লাখ টাকা জরিমানা।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এক্সেস রোডে উৎসব সুপারমার্কেটের আউটলেটে অভিযান চালিয়ে নকশা বহির্ভূত স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এই জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ।সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অভিযানের সময় উৎসব সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেনি। পরিদর্শনে দেখা যায় বাণিজ্যিক ভবন হলেও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধা নেই।তানজিব হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষ রাস্তার জায়গায় গাড়ি পার্কিং করার কথা জানিয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিষ্ঠানটিকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।তিনি আরও জানান, ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। তারা অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যত্যয়কৃত অংশ সংশোধন এবং পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, উৎসবে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোসসহ নষ্ট মরিচ, মসলা ও চকোলেট পাওয়া যায়। আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যে লেবেল ও আমদানিকারকের তথ্য না থাকা এবং শিশুখাদ্য ও খাদ্য সম্পূরক বিক্রিতে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমোদনের ঘাটতির বিষয়ও উঠে এসেছে।আরও গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে একই সরঞ্জাম দিয়ে গরু ও খাসির মাংস প্রক্রিয়াকরণ। এতে খাদ্যদূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। এছাড়া পণ্যের পুষ্টিতথ্য আড়াল করে নিজস্ব স্টিকার ব্যবহারের বিষয়টিও আদালতের কার্যক্রমে এসেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এসব ঘটনায় ৮ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি আদালত আমদানিকৃত ফলমূলের ক্রয়মূল্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় পুষ্টিতথ্য ও অনুমোদন ছাড়া আচার এবং ‘হোমমেড’ পণ্য বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট এসব বিষয়ে আদালতে তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ রয়েছে।এর আগে গত এপৃলে হালিশহরের বড়পোল এলাকায় উৎসবের একটি শাখায় বন্যপ্রাণী প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে সাপ, বানর ও টিয়াসহ বিভিন্ন প্রাণী উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে ওই ঘটনাটি খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে পৃথক।এদিকে বিনিয়োগের টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত চাওয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একজন ব্যবসায়ীর অভিযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি একটি অভিযোগ; আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটিকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।উৎসব সুপারশপের একের পর এক অভিযোগ ও অভিযানের বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বারবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানছে না। উৎসবের ক্ষেত্রে যেন আইন না মানার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তারা নিয়মনীতি কোনোভাবেই তোয়াক্কা করছে না।তিনি বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থে উৎসবের কার্যক্রম সামনে থেকে ফলোআপ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুধু সুপারশপের চাকচিক্য দেখে পণ্য না কিনে কেনার আগে পণ্যের মেয়াদ (ডেট), লেবেলসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য যাচাই করে পণ্য কেনার আহ্বান জানান তিনি। এতে ভোক্তারা যেমন প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন, তেমনি সবার জন্যই বিষয়টি আরও ভালো হবে।অভিযোগগুলোর বিষয়ে উৎসব সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোনে কল করলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
২ মাস ২ দিন আগে
কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়। পরে আহত অবস্থায় চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হলে সকালে তার মৃত্যু হয়।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দোতলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে এবং ওই যুবকরা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সোলাইমানকে স্থানীয় লোকজন মারধরের পর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
২ মাস ২ দিন আগে
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজানের বাসিন্দা ও প্রবাসী আমির হোসেন (৫৭) মামলাটি করেন। মামলায় আরমান উদ্দিনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহারে বলা হয়, আমির হোসেন লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় দোকান এবং অন্যান্য অংশে ভাড়াটিয়া রেখেছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরার পর কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামিরা তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।বাদীর অভিযোগ, আসামিরা তাকে বলেন, এলাকায় বসবাস করতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। টাকা না দিলে তার মার্কেট ও ভবন দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আসামিরা আমির হোসেনের মার্কেটের নিচতলায় ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেস, আলমারির সিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।মামলায় এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানের ক্যাশ টেবিলসহ ভেতরে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে দোকানের ভাঙা অংশে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদেরও আসামিদের মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় আরিফ উদ্দীন বলেন, ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তারা বাদীর দোকান ও ঘরের দখল ছাড়বেন না।আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে আমির হোসেনকে তাদের কথামতো চলার জন্য চাপ দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরেক আসামি চাঁদা না দিলে আমির হোসেনকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে আসামিরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।আমির হোসেনের দাবি, তিনি লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করলেও মামলা নেওয়া হয়নি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলায় আরমান উদ্দিন ছাড়াও মো. আরিফ উদ্দীন (৩৭), শওকত আলী (৪২), মো. আদিল (৩২), মো. আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩) কে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩৮৪, ৩৮৫, ৩৮০ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এটি আরমান উদ্দিনকে ঘিরে ওঠা প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়, বালু উত্তোলন নিয়ে বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নামে খাল খননের ডিও লেটার এবং প্রশাসন-পুলিশের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার কথোপকথন ফাঁসসহ নানা ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়ের অভিযোগও ওঠে আরমানের বিরুদ্ধে। খোরশেদের অভিযোগ ছিল, তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে মামলা থেকে রেহাই ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের কথা বলে ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা ও চেক দেওয়ার পরও তাকে তুলে নিয়ে মারধর করে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।খোরশেদের আরও অভিযোগ ছিল, তাকে মারধর করে চট্টগ্রাম নগরের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরমান উদ্দিনের সঙ্গে তার দেখা হয় এবং আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরমান উদ্দিন দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
২ মাস ৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের বর্তমান আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। আর সেই আয়তন বিস্তৃত হয়ে আট গুণ বড় হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর। এর আওতায় আসছে নগরীর আশপাশের সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা। এতে চট্টগ্রাম মহানগরের আয়তন বেড়ে দাড়াবে প্রায় ১,২৫৫ বর্গকিলোামিটারে।২৫ বছর মেয়াদি এমন একটি নতুন মাস্টার প্ল্যানের খসড়া চুড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।তিনি জানান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২৫-২০৫০ এর আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সঙ্গে আশপাশের পৌরসভা, উপজেলা মিলিয়ে আগামী ২০৫০ সালের জনসংখ্যা এবং চাহিদাকে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ নগরায়ণের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোকে সিডিএর আওতায় আনা হচ্ছে। ২৫ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামকে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের বদলে একটি আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা।তিনি বলেন, খসড়ার ওপর নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণের জন্য গত ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে। যেকোনো নাগরিক এই মাস্টার প্ল্যান স¤পর্কে নিজের মতামত জানাতে পারবেন। অনলাইনেও মতামত জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এই উদ্যোগের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে নগরীর বর্তমান অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ। পাহাড় কাটা, জলাশয় ও খাল ভরাট, আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা, যানজট, জলাবদ্ধতা এবং আবাসন সংকট-এসব সমস্যা শুধু বর্তমান সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নগরীর চারপাশে দ্রুত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে এখনই পরিকল্পনার আওতায় আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।নতুন মহাপরিকল্পনায় তাই শুধু রাস্তা বা ভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, আবাসন, পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা-সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় ১৫টি খাতে ৭৭টি নীতিগত প্রস্তাব এবং ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কথা রয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ উন্নয়নে ২১টি প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে নগরকেন্দ্রিক চাপ কমানো। এজন্য ওয়ান সিটি, টু টাউনস ধারণা সামনে আনা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের উন্নয়নকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি আনোয়ারার জন্য পৃথক ডিটেইলড অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকলিয়া ও আগ্রাবাদ এলাকাকেও পৃথক পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা রয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, নগরীর উপর সবকিছুর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এখন শহরের বাইরে সীতাকুন্ড কিংবা হাটহাজারীতে যদি পরিকল্পিতভাবে একটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বহু মানুষের নগরীতে আসার প্রয়োজন হবে না। আমরা নগরীর উপর চাপ কমানোর জন্য কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।খসড়া প্রস্তাবে যা আছেসিডিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। নতুন মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরের বিস্তৃত এলাকাকে ভবিষ্যৎ নগরায়ণ কিংবা স্যাটেলাইট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিডিএ একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।পরিকল্পনায় নগরীর যানজট কমাতে নতুন বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন এলাকায় উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল নগরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে একাধিক কেন্দ্রভিত্তিক নগরায়ণ বা স্যাটেলাইট টাউন মডেল অনুসরণের কথা বলেন তিনি। এতে কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও নাগরিক সুবিধা নগরের কেন্দ্র থেকে বাইরের পরিকল্পিত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা। নতুন মাস্টার প্ল্যানে খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু খাল-নালা পরিষ্কার নয়, নগরায়ণের ধরন, জলাধার সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের বিষয়টিকেও পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার পুকুর ও অন্যান্য জলাধার চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।পাহাড় ও জলাধার রক্ষায়ও কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় নগরীর প্রায় ১৮ বর্গকিলোমিটার অক্ষত পাহাড় এবং পুরো পরিকল্পনা এলাকার প্রায় ১৮৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ঢাল ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেখানে নির্মাণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে। নগরীর পাহাড়গুলোকে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।চট্টগ্রামের জন্য নতুন এই পরিকল্পনায় ভূমিক¤প ঝুঁকি বিবেচনায় ভূমি ব্যবস্থাপনা সংযোজন করা হয়েছে। খসড়া মাস্টার প্ল্যানে চট্টগ্রামের প্রথম সয়েল লিকুইফ্যাকশন রিস্ক ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকা বাদ দিলে পরিকল্পনা এলাকার ৩০ শতাংশের বেশি জায়গা এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভূমিক¤েপর সময় পানিসিক্ত মাটি শক্তি হারিয়ে ফেললে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ নগরায়ণে এ ঝুঁকি বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনায় বড় আকারের উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক তৈরির কথাও রয়েছে। জাতীয় উদ্যানের আদলে দুই থেকে তিনটি বড় পার্ক, জাতীয় কবরস্থানের আদলে একটি বড় কবরস্থানের জন্য জমি সংরক্ষণ এবং একটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত নগরায়ণের মধ্যেও খোলা জায়গা, সবুজ এলাকা ও জনসাধারণের বিনোদনের সুযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।ব্যয় ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকাসরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নতুন মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সিডিএ।সূত্র মতে, চট্টগ্রামের জন্য ১,২৫৫ বর্গকিলোমিটারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু নগরীর আবাসন বা সড়ক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পাঞ্চল, বন্দর, পর্যটন, কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, নদী-খাল, পাহাড় ও পরিবহন অবকাঠামো-সবকিছুর ভবিষ্যৎ বিন্যাস এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।অর্থাৎ ১৫৫ বর্গকিলোমিটারের বর্তমান নগরকে ঘিরে আগামী ২৫ বছরের জন্য প্রায় আট গুণ বড় একটি মহানগর পরিকল্পনা এলাকা তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উক্ত এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে সিডিএ থেকে ডিজাইন এবং ড্রয়িং অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।উল্লেখ্য, সিডিএ ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২০-২০৪১ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় জরিপ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ নেওয়া হয়েছিল। নতুন ২০২৫-২০৫০ পরিকল্পনা মূলত আগামী ২৫ বছরে নগরীর বিস্তার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত চাহিদাকে সামনে রেখে আরো বিস্তৃত পরিসরে তৈরি করা হচ্ছে।
২ মাস ৬ দিন আগে
গ্যাস সংকটের অজুহাতে চট্টগ্রাম মহানগরে গ্যাসচালিত গণপিরবহনগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর পথে পথে সাধারণ যাত্রীদের সাথে চালক-হেলপারের নিত্য ঝগড়া-বিবাদ লাগছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে নগরীর জনসাধারণের মনে।যাত্রীদের মতে, চট্টগ্রামের গণপরিবহনগুলোতে যাতায়াতে যেখানে উঠানামায় ন্যুনতম ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেখানে ১০ টাকা করে আদায় করা হত অনেক আগে থেকেই। সেই স্থলে এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি বাড়া আদায় করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট দূরত্বের পর আদায় করা হচ্ছে আরও অতিরিক্ত ভাড়া।যাত্রীদের প্রশ্ন গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সরকারি বা প্রশাসনিক কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না? কিন্তু সেই উত্তর না দিয়ে চালক-হেলপারের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে গ্যাস সংকট। তাতে মৌন সম্মতি পরিলক্ষিত হচ্ছে গণপরিবহন মালিক সংগঠনের লোকজনের কথায়ও। যদিও ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তারা কিছুই জানে না বলে জানান।মালিক সংগঠনের লোকজনের মতে, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে এমনিতেই তেলবাহী গণপরিবহনের তুলনায় গ্যাসচালিত গণপিরবহনে ভাড়া কম আদায় করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাস সংকটের মধ্যে গণপরিবহনগুলোর আয় কমে গেছে। এ অবস্থায় যৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।চালক ও হেলপাররা জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামের পাম্প স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাসের সংকট চলছে। গাড়িতে গ্যাস নিতে সকালে গেলে বিকেলেও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসচালিত বাস, মিনিবাস, টেম্পো, সিএনজি অটোরিক্সা ও প্রাইভেট কারের কয়েক কিলোমিটার লাইন নগরীর প্রতিটি পাম্প স্টেশনের এখন নিত্য দৃশ্যমান বিষয়। ফলে গণপরিবহনগুলোতে আয় রোজগার একেবারে কমে গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক-হেলপাররাও।চালক-হেলপাররা বলেন, আমাদের পরিবার-পরিজন আছে। তাদের খাবার জোগাড় করতে হয় আমাদের। যা করতে কিছু ভাড়া বাড়তি নেয়া হচ্ছে। যা সিএনজি অটোরিক্সার তুলনায় অনেক কম। সিএনজি অটোরিক্সাগুলো ১০০ টাকা ভাড়ার কমে আধা কিলোমিটার পথও যায় না। আগে যেখানে ১০০ টাকা ভাড়া নিত, সেখানে ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে তারা।এ নিয়ে আবার কোন প্রতিবাদ নেই সিএনজি অটোরিক্সাচালকদেরও। তারাও বলছেন, গ্যাস সংকেটর কারণে দিনের তিনভাগের দুই ভাগ সময় পাম্পগুলোতে লাইন ধরে থাকতে হয়। যে সময় পাই তাতে ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ নিলেও দিনশেষে মালিকের টাকা দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় সংসার খরচ জোগাতে এখন হিমিশম খেতে হচ্ছে।যাত্রীরা জানান, নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক কালুরঘাট-বিমানবন্দর সড়ক। এ সড়কে চলাচলকারী ১০ নম্বর বাসগুলোতে আগে উঠানামায় ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হত। তার স্থলে এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। একই রুটের একই নম্বরের মিনিবাসগুলোও একই হারে ভাড়া আদায় করছে।নগরীর আরেক ব্যস্ততম সড়ক নতুন ব্রিজ ও বহদ্দারহাট সড়ক। এই সড়কেও উঠানামায় ১৫ টাকা এবং বহদ্দারহাট পর্যন্ত ১৫ টাকার স্থলে ২৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বহদ্দারহাট-নিউমার্কেটে সড়কেও ১০ টাকার স্থলে ২০ টাকা ভাড়া আদায় করছে বাস, মিনিবাস ও টেম্পোগুলো। অক্সিজেন মোড়-চকবাজার সড়কেও ১০ টাকার স্থলে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে আপত্তি জানালেও অনেক চালক ও কর্মচারী তা আমলে নিচ্ছেন না। ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন গাড়িতে চালক, হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটছে। গণপরিবহনে যাতায়াত করতে গিয়ে একজন যাত্রীকে যেখানে নির্ধারিত ভাড়া দেওয়ার কথা, সেখানে তাকে প্রতিনিয়ত ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষি কিংবা তর্কে জড়াতে হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, গ্যাস সংকট চলছে এটা ঠিক আছে। কিন্তু সরকার তো গ্যাসের দাম বাড়ায়নি। এমনকি গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির কোন ঘোষণাও সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তাহলে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কীভাবে।তিনি বলেন, সরকার ঘোষণা ছাড়া গণপরিবহনে নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোটাই চাঁদাবাজির মতো। বিষয়টি তাদের খোলাসা করতে হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরব ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন সংস্থার এই নেত্রি। একই সাথে বিষয়টি সরকারকে খতিয়ে দেখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বাংরাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিচালক মানুদ আলম বলেন, গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি। এ অবস্থায় ভাড়া বৃদ্ধি অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, গ্যাসচালিত বাস, মিনিবাস ও টে¤েপার পরিচালন ব্যয় তেলচালিত যানবাহনের তুলনায় কম। এই তুলনামূলক কম জ্বালানি ব্যয়ের সুবিধার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এসব যানবাহনের ভাড়াও তেলচালিত পরিবহনের তুলনায় কম রাখা হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে গ্যাসচালিত যানবাহনের সার্বিক ব্যয়ের কথা বিবেচনা করলে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসে। আমাদের দাবি, এ বিষয়ে যৌক্তিক উদ্যোগ নেওয়া হোক।সচেতন মহলের ভাষ্য, গ্যাস সংকওটর প্রভাব পরিবহন খাতে পড়তে পারে এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সংকটের পুরো বোঝা সাধারণ যাত্রীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে গ্যাসচালিত যানবাহনের তুলনামূলক কম জ্বালানি ব্যয়ের সুবিধা যদি এতদিন যাত্রীদের জন্য কম ভাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সংকটের অজুহাতে সেই ভাড়া একলাফে বাড়ানোর আগে বিষয়টি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও যৌক্তিকতার আওতায় আসা উচিত।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন রুটে বর্তমানে কী হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, তা জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হোক। গ্যাসচালিত ও তেলচালিত যানবাহনের প্রকৃত পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা এবং যাত্রীদের সামর্থ্য সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভাড়ার যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
২ মাস ৭ দিন আগে
বিএসআরএম কোম্পানির ১৩ টন রডের চালানসহ বহনকারী ট্রাক চুরির ঘটনা ঘটেছে গত ১৪ আগস্ট। তবে চুরি হওয়া রড থেকে ১২ টন ১০০ কেজি উদ্ধার করেছে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে রড বহনকারী চুরি হয়ে যাওয়া ট্রাকটিও উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার হাফিজ মোল্লার ছেলে ট্রাকের হেলপার মো. হাদিছ মোল্লা এবং নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর থানার মৃত কাঞ্চন শেখের ছেলে আবুল বাশার ওরফে বাঁশি।শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম। তিনি বলেন,গত ১৪ আগস্ট বিকেলে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড একটি ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথে ট্রাকবোঝাই রড চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে নওগা জেলার মোহাম্মদপুর বাজারস্থ ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামক দোকান থেকে চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রড বহনকারী চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং চুরি হওয়া বাকি রডের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া রড ও ট্রাক পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. রিয়াদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দু’জনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান ওসি আব্দুল হালিম।
২ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (সিইপিজেড) থেকে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বেপজার নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষী টিমের ওপর হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম ইপিজেড থানায় একটি মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করেছে। বাকি চোরসহ মূলহোতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে জানায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সিএমপির গণসংযোগ বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইপিজেড থানার মামলা নং-৮, তারিখ-১৮/০৮/২০২৬খ্রি.,ধারা-৩৪১/৩০৭/৩৩২/ ৩৩৩/৩৫৩/২২৫খ/৩৪ দঃ বিঃ রুজু করার পর ইপিজেড থানার ওসি মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত হতে পরদিন ভোর ৫ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোর্টে প্রেরন করা হয়। অন্য আসামীসহ চোরচক্রের গডফাদারদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ অভিযান চলছে। ধৃত আসামিরা হলেন, মামলার ১ নং আসামি আসলাম শেখ (২৪), ৪ নং আসামি মো. রাসেল আলামিন (২৯), ৫ নং আসামি মো. শাহ জালাল (২৭), ও ৬নং আসামি মো. রাকিব। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও শিল্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিইপিজেড এর বিভিন্ন পোষ্টে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিরাপত্তা ডিউটি পালন করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের নিরাপত্তা প্রহরীদের উপর অর্পিত সরকারী দায়িত্ব কর্তব্যের অংশ হিসাবে ১৭ আগস্ট রাতে ইপিজেড থানাধীন চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন এলাকায় সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আ.ব.ম নাজির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম টহল ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। ডিউটি করাকালে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টায় টহল টিমের সদস্যরা জানতে পারেন যে মেসার্স তারিক আজিম টেক্সটাইল লিঃ নামক শিল্প প্রতিষ্ঠানের একদল চোর চুরি করার জন্য সঙ্গোপনে প্রবেশ করেছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে টহল টিমের ইনচার্জ সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আ.ব.ম নাজির হোসেন সঙ্গীয় নিরাপত্তারক্ষীসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে নিরাপত্তা রক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরের দল দিক-বেদিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাহাদের টহল টিমের সদস্যরা ধাওয়া করে ১নং আসামী আসলাম শেখ (২৪) কে আটক করেন এবং তার সাথে থাকা অপরাপর চোরেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। টহল টিমের ইনচার্জ বিষয়টি বেপজার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্দেশনা মোতাবেক ধৃত আসলাম শেখ'কে সরকারী পিকআপযোগে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করার লক্ষ্যে সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। ধৃত আসলাম শেখ'কে সিইপিজেড ফাঁড়ির পুলিশের নিকট নেয়ার সময় উল্লেখিত আসামীগন অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জন সহযোগীসহ ইপিজেড থানাধীন চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন এলাকার বেপজা সিকিউরিটি গেইট হতে ২০ মিটার উত্তর পূর্ব দিকে বিডি এপ্যারেল্স এর গেইটের সামনের সড়কে তাদের গাড়ী আটকে দিয়ে ভাংচুর করেন এবং আটক আসামী আসলাম শেখ'কে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বেপজা নিরাপত্তারক্ষীরা এতে বাঁধা দিলে আসামীগণ তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ বেপজা নিরাপত্তা রক্ষীদের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। একপর্যায়ে আসামীগন ও তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা বেপজা নিরাপত্তা রক্ষীদের মারধর ও গাড়ী ভাংচুর করে আটক আসলাম শেখ'কে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে বেপজার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও এস্টেট) পাপ্পু দে বাদী হয়ে আসলাম শেখকে (২৪) ১ নং, আব্দুল কাইয়ুমকে (৩২) ২নং, মো. রাশেদকে (৩৮) ৩নং, মো. রাসেল আলামিনকে (২৯) ৪নং, মো. শাহ জালালকে (২৭) ৫নং, মো. রাকিবকে (২৬) ৬নং, মো. আলাল খাঁনকে(২৭) ৭নং, আকাশ বিশ্বাস (২৪) কে ৮নং, মো. সবুজ হোসেনকে (৩৪) ৯নং সহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন। ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, িসইপিজেডে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতা নতুন কিছু নয়। সংঘবদ্ধ একাধিক চোরচক্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। কতিপয় প্রভাবশালী চিহ্নিত ব্যক্তি মূলহোতা হিসেবে এদের পরিচালনা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত চোরেরা কিছু তথ্য দিয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। মূল হোতাসহ চোর চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে জানান ওসি।
২ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবা আসরে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। আর ওই আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ বায়েজিদ খান আখন্দ। অভিযানে পুলিশ সদস্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) সহ তাদের তিন মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাদের ২০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান লোহাগাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হুদা। তিনি জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল নিউটন সিকদার অনেক আগে বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বাড়িতে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসত।খবর পেয়ে বুধবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে দু‘জনকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ বায়েজিদ বিন আখন্দ। ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার দু‘জনকে বৃহস্পতিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের তিন মাস করে কারাদন্ড ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করেন।এসআই জিয়াউল হুদা আরও জানান, অভিযানে পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল আংশ নেয়। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যান। নিউটনকে আটক করতে গেলে তিনি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। অন্যদিকে রাজেশ পাশের পুকুরে লাফ দেন। পরে সামান্য আহত অবস্থায় দু‘জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
২ মাস ১০ দিন আগে
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাড়িও মশার প্রজননক্ষেত্র। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক জরিপে নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ড. ইউনুসের নিরিবিলি বাড়ির আঙিনাসহ মোট ১৫৫টি স্থানকে এডিস মশার হটস্পট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।এছাড়া হট¯পটের তালিকায় রয়েছে নগরীর বেশ কয়েকটি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এছাড়া কাতালগঞ্জের পরিত্যক্ত ভবন, এগারো ডাইমের বিল্ডিং, টুপিওয়ালা পাড়া, মীর নাসির গলি, মুন্সিপুকুর পাড় এবং চকবাজার কাঁচাবাজারের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি। তিনি বলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের কীটতত্ত্ববিদদের জরিপ অনুযায়ী নগরের ৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হট¯পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা সম্ভাব্য ১৫৫টি প্রজননক্ষেত্র বাছাই করে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ ও প্রজননস্থল ধ্বংস করেছি।তিনি বলেন, আমাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে গৃহপালিত বা ভিআইপি মশা বলা হয়, কারণ এটি ডমেস্টিক পর্যায়ে বেশি থাকে। দিনের বেলা বা রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিন দিনের বেশি বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।চসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত রোগীর বাসস্থান চিহ্নিত করে আঙিনা ও আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত নয়া হাট বাজার, কুয়াইশ রোড, বকশি নগর, চালিতাতলী (নির্মাণাধীন ভবন ও বাজার), চালিতাতলী শীলবাড়ি মন্দির, পাঁচলাইশ উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর আবাসিক, গুলবাগ আবাসিক, আহমদীয়া হাউজিং সোসাইটি, পশ্চিম শহীদনগর, মধ্যম শহীদ নগর (নির্মাণাধীন আবদুস ছত্তার টাওয়ার), অক্সিজেন আবাসিক এলাকা, পাঠানপাড়া এবং আতুরার ডিপো (জাহানপুর ও হাসেমপাড়া বাজার) এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ২ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে প্রজননস্থলের তালিকায় আছে কে বি গ্রামার স্কুল, বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাইনিং জুয়েল স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, অন্ধ হুজুরের মাজার ও আশপাশের ডোবা, আগুন ফকিরের মাজার, খন্দকীয়া হাট, চন্দননগর বাজার, শেরশাহ সংলগ্ন বাজার-কলোনি ও হাউজিং, অক্সিজেন মোড়ের পাশের আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট গেটের বিপরীতের দোকানসমূহ, বালুছড়া আবাসিকের শুরুর দিকের নির্মাণাধীন ভবন, শীতল ঝর্ণা আবাসিক, জেলা পরিষদ আবাসিক, ওয়াপদা গলি কলোনি, আলপনা ক¤িপউটারের উত্তর পাশ, খাজা টাওয়ার এলাকা, কুঞ্জছায়া আবাসিক, ডেবারপাড় এলাকা, চন্দননগর আবাসিক, শ্যামল ছায়া আবাসিক, বিহারি কলোনি, সড়ক ও জনপদ কোয়ার্টার, জামশেদ শাহ রোডের আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা এবং সেনা কল্যাণ মিলের সামনের রাস্তার ফুলের টবকে মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আছে বি.এড কলেজ, বাকলিয়া স্কুল (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), মৌসুমী আবাসিক এলাকা, কালাম কলোনি (আব্দুল লতিফ রোড), চান মিয়া মুন্সির লেইন, তাহের কলোনি, শান্তি নগর এলাকা, মিয়া বাপের মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, মদিনা মসজিদ লেইনের নির্মাণাধীন ভবন এবং সাবেক কাউন্সিলের বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া নগরীর ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে চিহ্নিত প্রজননস্থলের তালিকায় আছে বড় কালি বাড়ি (ঈশান মহাজন রোড), গোলার বাড়ি (সিটি গেট সংলগ্ন), মনসুরাবাদ, সাগরিকা শিল্প এলাকা, কাস্টমস একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল, স্টেডিয়াম সংলগ্ন খেজুরতলা জেলেপাড়া, বিশ্বাস পাড়া, আমানত উল্লাহ শাহ পাড়া, নাজির বাড়ি, মুন্সি বাড়ি, মুকিম তালুকদার বাড়ি, সিডিএ আবাসিকের নালা, প্রশান্তি আবাসিকের নালাসমূহ, আগ্রাপাড়া (ভিক্টোরিয়া জুট মিল), কুতুব বাড়ি, জাকের উল্লাহ সওদাগরের বাড়ি, বশির মোহাম্মদ বাড়ি, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, আচার্য্য পাড়া-জলিল মিস্ত্রি বাড়ি, তমিজুর রহমানের বাড়ি (ওয়ার্ড অফিস সংলগ্ন), পন্ডিত বাড়ি, ছোট কালি বাড়ি, জ্বালাকুমারী মন্দির, কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, চান মিয়া ডাক্তারের বাড়ি, উত্তর সরাইপাড়া (অলংকার), কর্নেল হাটের আশরাফ আলী চৌধুরী বাড়ি, সিরাজ উদ্দিনের বাড়ি ও নুর মোহাম্মদ বাড়ি, পেয়ারি মোহন সেনের বাড়ি, শাহের পাড়া এবং ৩৪ নং ওয়ার্ডের তিলোত্তমা, এমপি সাহেবের ড্রেন, ইসলাম কলোনি ও মনোহর খালি এলাকায়ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।সরেজমিনে জানগে চাইলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসার প্রহরী মো. সায়েম খান জানান, স্যার প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় এখানে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হত। এখন আর সেভাবে ওষুধ ছিটাতে আসেন না। বৃষ্টি হলেই আঙিনায় পানি জমে যায়। মূলত এ কারণেই জায়গাটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।
২ মাস ১০ দিন আগে
ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়েছে ফেয়ারডিলের। দেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢুকছে মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকর এ সিরাপ। এখনো ফেয়ারডিলের বিস্তার রমরমা হয়ে না উঠলেও দ্রুত সহজলভ্য হচ্ছে এটি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ তিথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশে মাদক হিসেবে নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের মতোই কাশির সিরাপ ‘ফেয়ারডিল’। দুটিই কোডিন ফসফেট মিশ্রিত। দেখতেও একই। শুধু মোড়ক আলাদা। গত এক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে এ সিরাপ। কিন্তু গত শনিবার রাতে মিরসরাই থানায় প্রথমবার জব্দ হয়েছে ১০০ বোতল। এটি চট্টগ্রামে জব্দ হওয়া ফেয়ারডিলের প্রথম চালান। যা মাদকের দ্রব্যের অর্ন্তভুক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ফেনসিডিল, ফেয়ারডিলসহ আরও কয়েক ধরনের কফ সিরাপ আছে। এগুলো সব একই। ফেয়ারডিল নামটা বাজারে নতুন। ফেনসিডিল ব্র্যান্ড হয়ে গেছে। সেজন্য এ নামটা বেশি শোনা যায়। সবগুলো সিরাপই ক্ষতিকর কোডিন ফসফেট দিয়ে তৈরি। সাধারণত ১০০ মিলিগ্রাম সিরাপে ১০ মিলিগ্রাম কোডিন ফসফেট থাকে।কর্মকর্তাদের ধারণা, ফেনসিডিল বেশি পরিচিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি আছে এ মাদকের প্রতি। এ ছাড়া উচ্চমূল্যের কারণেও নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বিকল্প বাজার তৈরি হয়েছে দেশে। র্যাব-পুলিশের দৃষ্টি এড়িয়ে সেই বিকল্প বাজার ধরতে একই সিরাপের বোতলে ফেয়ারডিল মোড়ক লাগিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে মাদক কারবারিরা।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ পর্যন্ত দেশে ২৪ ধরনের মাদক জব্দ হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াবা-হেরোইনের মতো মরণনেশা যেমন আছে, কোডিন ফসফেট মিশ্রিত কাশির সিরাপও আছে। গত এক দশকে এস্কাফ, এমকে, ফেনসিগ্রিপ, চকো প্লাস, উইন কোরেক্স, ব্রনোকফ সিসহ আরও কিছু কাশির সিরাপ জব্দ হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। যেগুলো মূলত ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে ফেয়ারডিল।২০২৫ সালের জুনে নওগাঁয় বিজিবির হাতে ৭৪ বোতল ফেয়ারডিলের একটি চালান ধরা পড়ে। এর পর থেকে গত এক বছরে কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট ও কুমিল্লার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জব্দ হয়েছে ফেয়ারডিলের অর্ধশতাধিক চালান।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মানজুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে কোডিন বেজড সিরাপ নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে গণ্য। সুতরাং দেশে ফেয়ারডিলের মতো সিরাপ উৎপাদনের সুযোগ নেই। আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছি, আমাদের দেশের সীমান্তসংলগ্ন ভারতের এলাকায় কিছু কিচেন ল্যাব বা ছোট ছোট মাদক কারখানা আছে। সেখানে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত সিরাপ তৈরি হয়। বর্ডারে বিক্রির পর চোরাচালানিরা সেগুলো আমাদের দেশে নিয়ে আসছে।’ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তপথ। মিয়াননমারের সঙ্গে আছে ২৭১ কিলোমিটার। উভয় দেশ থেকেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটে মাদকের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে দেশের সীমান্তসংলগ্ন ৩২ জেলাকে মাদক পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী ও নওগাঁয় ফেনসিডিল প্রবেশের কথাও বলা হয়। তবে ভারত সীমান্তের ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ফেনসিডিল এবং এটি তৈরির উপকরণ সরবরাহ, বহন ও উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে।মানজারুল ইসলামের ভাষ্য, ফেনসিডিল নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ হলেও ভারতে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত সিরাপ লিগ্যাল আইটেম (আইনিভাবে বৈধ)। আমাদের দেশে ফেয়ারডিল কিংবা অন্য যেসব কাশির সিরাপ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো শুধু ভারত থেকেই আসছে। মিয়ানমার থেকে আসে ইয়াবা, হেরোইন আর ক্রিস্টাল মেথ। ফেয়ারডিল সিরাপ ভারতের বৈধ কোনো কারখানায় উৎপাদন হয় কি না, সেটি আমরা এখনো নিশ্চিত নই। কিচেন ল্যাবের সিরাপগুলো বিভিন্ন নামে লেবেল লাগিয়ে পাচার করা হয়।ফেয়ারডিল কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার কথা জানালেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, মিরসরাইয়ে ১০০ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার হয়েছে। আমাদের জানামতে চট্টগ্রামে আগে ফেয়ারডিল উদ্ধার হয়নি। নতুন এ মাদক কোথা থেকে কীভাবে, কাদের মাধ্যমে আসছে এবং চট্টগ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।জনস্বাস্থ্য গবেষক ডা. এ কে এম আরিফ উদ্দিন আহমেদ জানান, অনিয়ন্ত্রিত কফ সিরাপ সেবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, লিভার-কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত এবং মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
২ মাস ১১ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২ মাস ১১ দিন আগে
রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে পর্ন ভিডিও তৈরি, প্রচার ও বিক্রয় চক্রের এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী হলেন, সুমাইয়া সাঈদ ও তার প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুক।ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নগ্রাফি কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। জব্দকৃত মুঠোফোনগুলো ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং অন্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব ব্যবহার করা হতো।তিনি জানান, এমন তথ্যের ভিক্তিতে ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করি আমরা। এরপর গত ১১ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি আইফোন ও একটি ওয়ানপ্লাস ব্রান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এরপর ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরির সঙ্গে জড়িত তার এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে একই দিন বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ওই নারীর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
২ মাস ১১ দিন আগে
‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমার গোলাপী উঠেছিল ট্রেনের কামরায়। ১৯৭৮ সালের কথা এটি। আর ২০২৬ সালে এসে অন্য গোলাপী উঠেছে সড়কের বাসে। সেই বাসটিও গোলাপি। বাসটি দেখা যাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের সড়কে।দুটি দৃশ্যের মধ্যে প্রায় পাঁচ দশকের ব্যবধান। একটি সিনেমার পর্দায়, অন্যটি রাস্তায় চলমান বাসে। দুই চরিত্রের নামই ‘গোলাপী’,। তবু দুটির মাঝখানে কোথাও যেন বাংলাদেশের সমাজের দীর্ঘ এক যাত্রার রেখা টানা যায়। একটিতে ছিল জীবিকার জন্য পথে নামা এক দরিদ্র নারী। অন্যটিতে আছে এমন এক শহর, যেখানে লাখো নারী প্রতিদিন জীবিকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হন; কিন্তু সেই বেরিয়ে পড়ার পথটি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক কিংবা সমান হয়ে ওঠেনি।তাই ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ থেকে ‘গোলাপী এখন সড়কে বাসে’— এটি কোনো চরিত্রের গল্পের পুনরাবৃত্তি নয়; বরং একটি সমাজের বদলে যাওয়ার গল্পের সঙ্গে তার পুরনো সমস্যাগুলোর ফিরে আসার গল্প। আমজাদ হোসেনের গোলাপী এখন ট্রেনে চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৮ সালে। তার নিজের উপন্যাস ‘দ্রৌপদী এখন ট্রেনে’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিটির কেন্দ্রে ছিল গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের মেয়ে গোলাপী। জীবনের টানাপড়েনে তাকে নানা কাজ করতে হয়; একসময় ট্রেন হয়ে ওঠে তার কর্মক্ষেত্র; কিন্তু সে শুধু দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়েনি, লড়েছে সমাজের চোখের সঙ্গেও। তার কাজ, চলাফেরা, জীবনযাপন— সবকিছুকেই সমাজের প্রচলিত মানদণ্ডে বিচার করা হয়েছে। সেই অর্থে ট্রেনটি ছিল শুধু একটি যানবাহন নয়।ট্রেন ছিল গোলাপীর জীবিকার পথ। আর গোলাপী ছিল সেই সময়ের প্রান্তিক মানুষের প্রতিচ্ছবি। ছবিটির শক্তি এখানেই— একজন মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখের ভেতর দিয়ে একটি সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও ক্ষমতার সম্পর্ককে দেখা। আমজাদ হোসেনের চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনাতেও তার কাজের সমাজবাস্তবতা ও বঞ্চিত মানুষের জীবনকে তুলে ধরার বিষয়টি বারবার এসেছে।প্রায় অর্ধশতক পরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাস্তায় গোলাপি রঙের বাস নেমেছে। সেই বাসের গোলাপীও একটি চরিত্র। বাসের ভেতরে যে নারীরা উঠবেন, তাদের জীবনের সঙ্গে ১৯৭৮-এর গোলাপীর দূরত্ব যতটা মনে হয়, বাস্তবে বাসের গোলাপী তার চেয়ে অনেকটা কাছে। বাসে প্রতিদিন যত নারী ওঠেন তাদের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। কেউ পোশাক কারখানার কর্মী। কেউ ব্যাংকের কর্মকর্তা। কেউ হাসপাতালের নার্স। কেউ স্কুলশিক্ষক। কেউ দোকানে কাজ করেন। কেউ গৃহকর্মী। কেউ ছোট ব্যবসা করেন। কেউ সন্তানের চিকিৎসার জন্য শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যান। তাদের সামাজিক অবস্থান আলাদা। আয় আলাদা। স্বপ্ন আলাদা; কিন্তু একটি জায়গায় তাদের মিল— ‘তাদের চলতে হয়।’এই ‘চলা’টাই আজকের নারীর অর্থনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ১৯৭৮-এর সিনেমার গোলাপী ট্রেনে উঠেছিল জীবনের প্রয়োজনে। ২০২৬-এর গোলাপীরাও সড়কের বাসে উঠেছে সেই প্রয়োজনটিকে একটু স্বীকৃতি দিতে। বদল হয়েছে ট্রেন থেকে বাস।নারী ঘরের বাইরে কাজ করবেন কি না, এই প্রশ্নটি এখন আর শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের আয়, সন্তানের শিক্ষা, নগর অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। একজন নারী চাকরি করেন মানে শুধু তার নিজের আয় নয়; একটি পরিবারের আয় বাড়ে। একটি মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় মানে শুধু তার নিজের শিক্ষা নয়; পরবর্তী প্রজন্মের সম্ভাবনাও বদলায়।কিন্তু সেই নারী যদি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন একটি অনিরাপদ গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করেন, তাহলে তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে পরিবহনব্যবস্থার একটি অদৃশ্য সম্পর্ক তৈরি হয়। দেশের শহর বড় হয়েছে। নারীর কর্মক্ষেত্র বড় হয়েছে। শিক্ষা ও চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে; কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গণপরিবহন কতটা বদলেছে— সেটি বড় প্রশ্ন।ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের বাসে জায়গা পাওয়া কঠিন। ওঠা কঠিন। নামা কঠিন। ভিড়ের মধ্যে নিজের শরীরটুকু নিরাপদ রাখা অনেক সময় কঠিন। নারী যাত্রীদের হয়রানির অভিজ্ঞতার কথাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ব্র্যাকের এক গবেষণা বলছে, গণপরিবহনে চলাচলের সময় দেশের ৯৪ শতাংশ নারী কোনো না কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হন।অর্থাৎ নারীকে আমরা বলেছি— বেরিয়ে এসো, কাজ করো, পড়াশোনা করো, নিজের পায়ে দাঁড়াও। কিন্তু শহরের রাস্তা সব সময় বলেনি—‘এসো, তোমার জন্য জায়গা আছে।’ বরং বাসে ওঠার সময় উল্টোও শোনা যায়, ‘জায়গা নেই’। যদিও এই জায়গা শুধু নারীর জন্যই থাকে না।এই বৈপরীত্যটাই গোলাপি বাসের প্রয়োজনীয়তার সামাজিক পটভূমি। এবার যে গোলাপি বাস নামছে, তার আগে ঢাকার রাস্তায় নারীদের জন্য বাস চলেছে। ১৯৯৮ সালে বিআরটিসি পরীক্ষামূলকভাবে মহিলা বাস সার্ভিস চালু করেছিল। ২০০১ সালে তা ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়। পরে সেবাটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে আবার তা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে বেসরকারি উদ্যোগে ‘দোলনচাঁপা’ নামে চারটি বাসও চালু হয়েছিল; কিন্তু প্রায় চার বছর পর ২০২২ সালের অক্টোবরে সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। এখানেই নতুন গোলাপি বাসের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি দাঁড়িয়ে আছে। আগেরগুলো টেকেনি কেন?শুধু বাস নামালেই কি নারী যাত্রী তৈরি হয়? নাকি নারী যাত্রীর জন্য এমন সেবা তৈরি করতে হয়, যা তার জীবনযাত্রার সঙ্গে মেলে? একজন অফিসগামী নারী সকাল ৮টায় বাস পেলেন; কিন্তু সন্ধ্যা ৭টায় ফেরার সময় বাস পেলেন না— তাহলে সেবা কতটা কার্যকর?একজন পোশাককর্মী কম ভাড়ায় কর্মস্থলে যেতে চান। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী চান নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে। একজন নার্সের ডিউটি হয়তো রাতেও। তাদের প্রয়োজন এক নয়। নারীর জন্য বাস মানেই শুধু আলাদা বাস নয়। নারীর সময়কে বোঝা, তার অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে বোঝা এবং তার নিরাপত্তাকে পরিবহন পরিকল্পনার অংশ করা।নতুন উদ্যোগের আরেকটি তাৎপর্য এখানেই। এই বাসে শুধু যাত্রীই নারী নন; চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবেও নারীরা থাকবেন। ঢাকায় প্রাথমিকভাবে ১০টি গোলাপি বাস চালুর কথা জানিয়েছে বিআরটিসি। আর চট্টগ্রামে দুটি। তবে ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।এটি শুধু নারী যাত্রীর নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়। এটি শ্রমবাজারেরও একটি ছবি। যে পেশাগুলো দীর্ঘদিন পুরুষের বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, সেখানে নারী ঢুকছেন। স্টিয়ারিংয়ের সামনে বসছেন। গণপরিবহনের কর্মী হচ্ছেন। অর্থাৎ গোলাপি বাসের ভেতরে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে— নারীর যাত্রী হওয়া এবং নারীর পরিবহনকর্মী হওয়া।তবে এখানেও সাফল্য মাপার জন্য উদ্বোধনের দিনের ছবি যথেষ্ট নয়। নারীচালকরা কতদিন এই পেশায় থাকবেন? তাদের কর্মপরিবেশ কেমন হবে? তাদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হবে? যাত্রীদের আচরণ কেমন হবে? সেবাটি নিয়মিত থাকবে তো? এসব প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে, গোলাপি বাস আসলে পরিবর্তনের বাহন হবে, নাকি কিছুদিন পর আরেকটি স্মৃতি।গোলাপি রঙটি তাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ— আবার খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়ও। গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাস্তায় দূর থেকেই বাসটিকে আলাদা করে চেনা যাবে। গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ শেষ পর্যন্ত একটি বাসের সাফল্য তার রঙে নির্ধারিত হয় না। বাস গোলাপি হতে পারে; কিন্তু সময়মতো না এলে সেটি নারীর জীবনকে সহজ করবে না। বাসে নারীচালক থাকতে পারেন; কিন্তু রুট যদি কর্মজীবী নারীর প্রয়োজনের সঙ্গে না মেলে, তাহলে সেই উদ্যোগ পূর্ণতা পাবে না। বাস সুন্দর হতে পারে; কিন্তু সেবা অনিয়মিত হলে রঙটি একসময় শুধু বিজ্ঞাপনের অংশ হয়ে থাকবে। তাই আসল পরিবর্তন বাসের গায়ে নয়। পরিবর্তন হতে হবে ব্যবস্থাপনায়।১৯৭৮-এর গোলাপীকে সমাজ কাজ করতে দেখেছিল সন্দেহের চোখে। তার জীবিকার পথ ছিল কঠিন। দরিদ্র মানুষের জন্য বেঁচে থাকার পথ কতটা সংকীর্ণ— সিনেমাটি সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছিল। ২০২৬-এর নারী অনেক দূর এগিয়েছেন। তিনি অফিসে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। হাসপাতাল চালান। কারখানায় কাজ করেন। ব্যবসা করেন। প্রশাসনে যান। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সংবাদপত্রে কাজ করেন। আদালতে যান। কিন্তু তারও একটি ট্রেন, একটি বাস, একটি রিকশা, একটি রাস্তা দরকার। কারণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ঘরের দরজা পেরোলেই শেষ হয় না। অর্থনৈতিক স্বাধীনতারও একটি যাতায়াতব্যবস্থা লাগে।একজন নারী চাকরি পেলেন; কিন্তু অফিসে যাওয়া যদি অনিরাপদ হয়, সেই চাকরি তার কাছে কতটা টেকসই? একজন ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন— কিন্তু প্রতিদিন যাতায়াতের ভয় যদি তাকে ক্লান্ত করে, সেই শিক্ষার সুযোগ কতটা পূর্ণ? একজন মা কাজ করতে চান— কিন্তু সন্তানকে রেখে দীর্ঘ ও অনিরাপদ যাত্রা করতে হলে তার সিদ্ধান্ত কতটা সহজ?এই ছোট ছোট প্রশ্নগুলোর যোগফলই আসলে একটি দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা। গোলাপি বাস তাই একা কোনো সমাধান নয়। এটি একটি দরজা খুলতে পারে; কিন্তু দরজার ওপাশে পথটিও তৈরি করতে হবে। নারীর জন্য নিরাপদ গণপরিবহন দরকার। একই সঙ্গে দরকার সাধারণ গণপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা। কারণ সব নারী সবসময় গোলাপি বাসে উঠবেন না, উঠতে পারবেনও না। একটি শহরের অধিকাংশ নারী প্রতিদিন যে সাধারণ বাসে চলেন, সেই বাসও নিরাপদ হতে হবে।এ কারণে গোলাপি বাসের সাফল্য শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র কয়েকটি বাসের যাত্রীসংখ্যা দিয়ে মাপা উচিত নয়। মাপা উচিত— কতজন নারী নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ পেলেন। কতজন নারী কর্মক্ষেত্রে যেতে পারলেন। কতজন শিক্ষার্থী নিরাপদে ক্লাসে পৌঁছালেন। কতজন নারী পরিবহন খাতে কাজ পেলেন। এবং সবচেয়ে বড় কথা— কতটা বদলাল সেই ধারণা, যে শহরের রাস্তায় নারীর চলাচল যেন একটি বাড়তি ব্যবস্থা, স্বাভাবিক অধিকার নয়।‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি ট্রেনের কামরার ভেতরেও একটি দেশের শ্রেণি, দারিদ্র্য, ক্ষমতা ও বঞ্চনার গল্প লুকিয়ে থাকতে পারে। আজ গোলাপি বাস রাস্তায় নামছে। এই বাসের ভেতরেও তাই একটি শহরের গল্প থাকবে। কেউ উঠবেন জীবিকার জন্য। কেউ শিক্ষার জন্য। কেউ সংসারের জন্য। কেউ নিজের স্বপ্নের জন্য।বাসটি যখন যানজট পেরিয়ে এগোবে, তখন হয়তো বাইরে দেখা যাবে সেই একই ঢাকা— উঁচু ভবন, ফুটপাতের ভিড়, দোকানপাট, কর্মব্যস্ত মানুষ, ছুটে চলা গাড়ি। শুধু বাসটির ভেতরে থাকবে একটি ছোট পরিবর্তনের সম্ভাবনা। একটি মেয়ে হয়তো জানালার পাশে বসে ভাববে— এই শহরে তারও একটি জায়গা আছে। একজন গোলাপী চালকের আসনে বসে স্টিয়ারিং ঘোরাবেন—এবং হয়তো তার উপস্থিতিই কোনো আরেকজন মেয়েকে ভাবাবে, এই পেশাটিও তার হতে পারে। তখন গোলাপি রঙটি আর শুধু রঙ থাকবে না।তবে তার আগে অনেক পথ। কারণ বাস নামানো সহজ। বাস চালু রাখা কঠিন। আর একটি সেবাকে মানুষের জীবনের অংশ করে তোলা আরও কঠিন। এবার দেখার বিষয়— গোলাপি বাস শুধু রঙ বদলাবে, নাকি রাস্তায় নারীর চলার বাস্তবতাটাও একটু বদলাবে। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কোনো গোলাপীর নয়, কোনো গোলাপি বাসেরও নয়। প্রশ্নটি— এই শহরের রাস্তা আসলে কার জন্য?
২ মাস ১২ দিন আগে
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মহানগরে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। গোলাপি রঙের এই বাসের শুধু যাত্রীরা নারী নয়, চালক-হেলপার সবাই নারী।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে বাস সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৪ চান্দগাঁও আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ড. মো. কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এ সময় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন। এ বাসের চালক ও হেলপার সবাই নারী। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে দুটি বাস দিয়ে এ সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়েছে। এর একটি দ্বিতল বাস। এতে আসন রয়েছে ৭৫টি। অন্য বাসটিতে আসন রয়েছে ৪৫টি। দ্বিতল বাসে একজন নারী চালক ও দুজন নারী সহকারী থাকবেন। অন্য বাসটিতে থাকবেন একজন নারী চালক ও একজন নারী সহকারী।বাসগুলো প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার রুটে চলাচল করবে। কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। আর কালুরঘাট বা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া ৬৮ টাকা। যাত্রীদের চাহিদা ও কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এ সার্ভিসের পরিধি বাড়ানো কবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।শুধু নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাদের মতে, সাধারণ গণপরিবহনে চলাচলের সময় নারীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। আলাদা বাস চালু হওয়ায় অনাকাঙ্খিত সমস্যা থেকে স্বস্তি মিলবে।নারী যাত্রী শারমীন বলেন, কম্বাইন্ড বাসে অনেক সময় ইভটিজিং ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আবার মেয়ে কম থাকলে বাসে উঠতেও দেওয়া হয় না। এখানে চালক, সহকারী ও যাত্রী সবাই নারী। তাই আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি।কামরুন নাহার নামে আরেক যাত্রী বলেন, অনেক দিন ধরেই আমাদের আকাক্সক্ষা ছিল নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হোক। এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নারীদের জন্য আরও বাস চালু করা উচিত।বাসটির নারী চালক খায়রুন নেছা বলেন, নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী যাত্রী নিয়ে বাসটি পরিচালনা করতে পেরে আমি গর্বিত। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।
২ মাস ১২ দিন আগে