সিইপিজেডে চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, মূলহোতাদের খুঁজছে পুলিশ
চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (সিইপিজেড) থেকে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বেপজার নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষী টিমের ওপর হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম ইপিজেড থানায় একটি মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করেছে। বাকি চোরসহ মূলহোতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে জানায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সিএমপির গণসংযোগ বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইপিজেড থানার মামলা নং-৮, তারিখ-১৮/০৮/২০২৬খ্রি.,ধারা-৩৪১/৩০৭/৩৩২/ ৩৩৩/৩৫৩/২২৫খ/৩৪ দঃ বিঃ রুজু করার পর ইপিজেড থানার ওসি মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত হতে পরদিন ভোর ৫ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোর্টে প্রেরন করা হয়। অন্য আসামীসহ চোরচক্রের গডফাদারদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ অভিযান চলছে। ধৃত আসামিরা হলেন, মামলার ১ নং আসামি আসলাম শেখ (২৪), ৪ নং আসামি মো. রাসেল আলামিন (২৯), ৫ নং আসামি মো. শাহ জালাল (২৭), ও ৬নং আসামি মো. রাকিব। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও শিল্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিইপিজেড এর বিভিন্ন পোষ্টে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিরাপত্তা ডিউটি পালন করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের নিরাপত্তা প্রহরীদের উপর অর্পিত সরকারী দায়িত্ব কর্তব্যের অংশ হিসাবে ১৭ আগস্ট রাতে ইপিজেড থানাধীন চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন এলাকায় সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আ.ব.ম নাজির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম টহল ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। ডিউটি করাকালে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টায় টহল টিমের সদস্যরা জানতে পারেন যে মেসার্স তারিক আজিম টেক্সটাইল লিঃ নামক শিল্প প্রতিষ্ঠানের একদল চোর চুরি করার জন্য সঙ্গোপনে প্রবেশ করেছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে টহল টিমের ইনচার্জ সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আ.ব.ম নাজির হোসেন সঙ্গীয় নিরাপত্তারক্ষীসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে নিরাপত্তা রক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরের দল দিক-বেদিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাহাদের টহল টিমের সদস্যরা ধাওয়া করে ১নং আসামী আসলাম শেখ (২৪) কে আটক করেন এবং তার সাথে থাকা অপরাপর চোরেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। টহল টিমের ইনচার্জ বিষয়টি বেপজার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্দেশনা মোতাবেক ধৃত আসলাম শেখ'কে সরকারী পিকআপযোগে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করার লক্ষ্যে সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। ধৃত আসলাম শেখ'কে সিইপিজেড ফাঁড়ির পুলিশের নিকট নেয়ার সময় উল্লেখিত আসামীগন অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জন সহযোগীসহ ইপিজেড থানাধীন চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন এলাকার বেপজা সিকিউরিটি গেইট হতে ২০ মিটার উত্তর পূর্ব দিকে বিডি এপ্যারেল্স এর গেইটের সামনের সড়কে তাদের গাড়ী আটকে দিয়ে ভাংচুর করেন এবং আটক আসামী আসলাম শেখ'কে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বেপজা নিরাপত্তারক্ষীরা এতে বাঁধা দিলে আসামীগণ তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ বেপজা নিরাপত্তা রক্ষীদের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। একপর্যায়ে আসামীগন ও তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা বেপজা নিরাপত্তা রক্ষীদের মারধর ও গাড়ী ভাংচুর করে আটক আসলাম শেখ'কে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে বেপজার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও এস্টেট) পাপ্পু দে বাদী হয়ে আসলাম শেখকে (২৪) ১ নং, আব্দুল কাইয়ুমকে (৩২) ২নং, মো. রাশেদকে (৩৮) ৩নং, মো. রাসেল আলামিনকে (২৯) ৪নং, মো. শাহ জালালকে (২৭) ৫নং, মো. রাকিবকে (২৬) ৬নং, মো. আলাল খাঁনকে(২৭) ৭নং, আকাশ বিশ্বাস (২৪) কে ৮নং, মো. সবুজ হোসেনকে (৩৪) ৯নং সহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন। ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, িসইপিজেডে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতা নতুন কিছু নয়। সংঘবদ্ধ একাধিক চোরচক্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। কতিপয় প্রভাবশালী চিহ্নিত ব্যক্তি মূলহোতা হিসেবে এদের পরিচালনা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত চোরেরা কিছু তথ্য দিয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। মূল হোতাসহ চোর চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে জানান ওসি।