প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সময় পুলিশ কর্মকর্তা আটক
চট্টগ্রাম মহানগরের আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সময় মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হাতে-নাতে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে প্রবাসীর স্ত্রীসহ দু‘জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দু‘জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দু‘জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রবাসী জহির একই এলাকার। তাদের সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ ছিল। এ ঘটনায় প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে মহিলাটি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তার ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহির শাহ সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি স্ত্রীকে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। তবে এরপরও তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নুরুন্নবী আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রাত যাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জহির শাহ প্রবাস থেকে তার ভাই নাদিম ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুন্নবী ও প্রবাসীর স্ত্রীকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে প্রবাসীর স্ত্রী তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করেন এবং তার পরিহিত শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সামনে নুরুন্নবী দাবি করেন জহির শাহের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন প্রবাসীর স্ত্রীকে আকবরশাহ থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাসা থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগও করা হয়েছে।