বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (বাচশিস) ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন; তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইটার ও প্রযোজক আরমান পেয়েছেন ১৪৩ ভোট। অন্যদিকে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে এফডিসিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। ফলাফলে সহ-সভাপতির দুই পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডি এ তায়েব ও ইলিয়াস কোবরা। ডি এ তায়েব সর্বোচ্চ ২৬০ ভোট এবং ইলিয়াস কোবরা ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেত্রী রোজিনা ১৫২ এবং নূতন ২০৪ ভোট পেয়েছেন।এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্ন পেয়েছেন ১৮৩ ভোট। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১ ভোট পেয়েছেন জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী রাসেল মিয়া ১৯৫ ভোট পেয়েছেন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ খান পেয়েছেন ৭২ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে কামরুজ্জামান কমল ২২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদে বিজয়ীরা হলেন- চিত্রনায়ক কায়েস আরজু, আলীবরাজ, নাসরিন, জেসমিন আক্তার, সুশান্ত, শিপন মিত্র, শামীম খান (চিকন আলী), রাকা, শিরিন শিলা, কাবিলা ও ফরহাদ। তাদের মধ্যে ৩২৪ ভোট পেয়ে প্রথম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু। কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের একটি বিবরণীতে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৮০ জন। ভোট গণনায় ৪১৬টি ব্যালট বৈধ এবং ৬৪টি বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মাঝে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচন ঘিরে এক মাস ধরে চলচ্চিত্রশিল্পীদের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল এফডিসি প্রাঙ্গণ।
২ মাস ২৫ দিন আগে
সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ডানা মেলছে নানা আলোচনা। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে লড়াইয়ের জন্য অনেকেই গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন। রঙ-বেরঙের পোস্টারও শোভা পাচ্ছে দেয়ালে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও যুগ্ম সংগঠনের নেতারা সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। ব্যালটের লড়াই মাঠে গড়ানোর আগেই মাঠ দখলে নেমেছেন দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। একই সাথে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও। যারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক অতীত-বর্তমান, ভালো-খারাপ কাজ ও অপরাধ-নিরপরাধের খতিয়ান নোট করছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) কর্মকর্তারা এলাকায় গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা নোট করার কথা জানিয়েছেন। যদিও সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী তার অধীন গোয়েন্দাদের এসব কার্যক্রমের বিষয়টি আড়াল করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে জরিপ করলে করতে পারে। পুলিশের কার্যক্রমের বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে এই বিভাগে দায়িত্বে থাকা উপকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম রুহুল কুদ্দুস গোয়েন্দা কার্যক্রমের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একেবারেই আমাদের নিজেদের বিষয়। বাইরে কীভাবে গেল জানি না। রুটিন ওয়ার্ক। নিয়মিত আমরা করে থাকি।’তিনি জানান, গত ২০ জুন সিটিএসবির উপকমিশনার ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্যাদি প্রেরণ’-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। এতে সব জোনের পরিদর্শকদের দুটি ছক সরবরাহ করা হয়। ২৭ জুনের মধ্যে তাদের সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে সিটিএসবির রাজনৈতিক শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরবরাহ করা ফরমে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম-ঠিকানা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। প্রার্থীর ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক ভাবমূর্তি, মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা কেমন, মামলার আসামি কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পিএস-এপিএস ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীর আমলনামা জানতে চাওয়া হয় এতে। প্রার্থীর রাজনৈতিক অনুসারীদের বিবরণও দিতে বলা হয়। বাদ যায়নি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণের তথ্যও। এমনকি কার ফেসবুকের কয়টি আইডি এবং সেসব আইডি থেকে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেটিও তুলে ধরতে বলা হয় রিপোর্টে।নির্বাচনী জরিপ নিয়ে আলাপ হয় সিটিএসবির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগেভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি নিখুঁত ডেটাবেজ তৈরি করে রাখতে তাদের এ তৎপরতা। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ যেন রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে নির্বাচনের মাঠে পুনর্বাসনের সুযোগ না পান, সেটিও নিশ্চিত করা।এছাড়া যিনি প্রার্থী হবেন তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা কোন আমলে হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে নাকি পরে, এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। এলাকায় প্রার্থী কোনো বাহিনী গড়ে তুলেছেন কি না, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং লালনের মতো অপরাধে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে নির্ধারিত ২৭ জুনের মধ্যে জরিপ শেষ না হওয়ায় গত শুক্রবার আশুরার বন্ধের দিন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন সিটিএসবির উপকমিশনার। সেই বৈঠক থেকে গোয়েন্দাদের আরও সময় দেওয়া হয়েছে, জানালেন এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরিপ কাজ শেষ করার নির্দেশনাও।গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াগোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেদ বকস্ বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য নেওয়ার জন্য এসেছিল। আমি দিইনি। আমাকেই জিজ্ঞেস করছে এলাকায় আমার জনসমর্থন কেমন। আমি হাসলাম। কোনো প্রার্থী কি বলবে যে তার জনসমর্থন খারাপ? আমি বললাম, আমার গোয়েন্দা রিপোর্টের দরকার নেই। আমার দরকার জনগণের ভোট।চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেছেন, গোয়েন্দা দিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এমন খবরও পাচ্ছি, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে নাকি সরকারি দল তাদের প্রার্থী ঠিক করবে। গোয়েন্দা সংস্থানির্ভর রাজনীতি আমরা প্রত্যাখ্যান করি। প্রার্থীর জনপ্রিয়তা নির্ধারণ করবে জনগণ। রাজনীতির কাজে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে তাদের পেশাদারিত্ব নষ্ট করা হচ্ছে।জামায়াতে ইসলামী অবশ্য গোয়েন্দা কার্যক্রমকে পাত্তাই দিচ্ছে না। দলটির ঘোষিত মেয়র প্রার্থী ও নগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী বলেই বসলেন, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার জরিপ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের জরিপের ওপর আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে না।শেষ যবে হয়েছিল চসিক নির্বাচনচসিকের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে যান। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে করা এক মামলার রায় পেয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর থেকে এখনো মেয়রের চেয়ারে আছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন নারী কাউন্সিলর পদ শূন্য ঘোষণা করে। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ। সে হিসেবে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বর্তমান মেয়র শাহাদাতের দাবি, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর।
২ মাস ২৭ দিন আগে
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে একটি নতুন থানা এবং তিনটি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। রোববার (২৮ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন তিনটি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।সভায় আরও আলোচনা হবে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন ৮টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে। সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরো কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সুবিধাজনক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তরের দাবিতে সড়ক অবরোধএদিকে নতুন উপজেলা সদর দপ্তর সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। উপজেলার দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের হেয়াকো, বালুটিলা ও নারায়ণহাট বাজার এলাকায় একযোগে মানববন্ধনও হয় বলে জানান স্থানীয় ভুজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে। তিনি বলেন, ‘নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব এখনো পাস হয়নি। সদর দপ্তর কোথায় হবে, সেই সিদ্ধান্ত তো আরও পরে হবে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি পৌঁছে দিতেই তিন ইউনিয়নের লোকজন বিক্ষোভ করেছেন।’
২ মাস ৩০ দিন আগে
স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মহাযজ্ঞ।ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা শেষে আগস্টের দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্য সব নির্বাচন আয়োজন হবে।শুক্রবার (৬ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, ৮০ ভাগ নিশ্চিত যে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগে হবে। আবার পৌরসভা ও ইউনিয়ন দুটো একসঙ্গেও আমরা করতে পারি। নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন না করলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করা যাবে না। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এক্স অফিসিও মেম্বার অব উপজেলা পরিষদ। এই কারণে নিয়ম অনুযায়ী আগে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এটাই বাস্তবতা। এরপর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করা যাবে। কিন্তু জেলা পরিষদের নির্বাচন একবারেই করা যাবে না। এটা হবে সবার শেষে। তফসিল ঘোষণা কবে করা হবে জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অক্টোবর তো ভোট হয়েই যাবে। আর তফসিল ঘোষণা হতে পারে আগস্টে।’ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা কর্মীদের নির্বাচনের বাইর রাখতে কোনো অঙ্গীকারনামার বিধান নতুন করে যুক্ত হচ্ছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের হলফনামায় আলাদা কোনো অঙ্গীকারনামা থাকবে না। হলফনামায় ফরমের সঙ্গে একটা ঘোষণাপত্র থাকবে। প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলবেন-ঘোষণাপত্রে এমন একটি লাইন যুক্ত হবে।সূত্রমতে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইসির আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটির দুটি বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সংশোধনের মধ্যে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা আচরণ বিধিমালার পরিবর্তে একটি অভিন্ন আচরণ বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তাও তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন হবে সেজন্য ভোটার সমর্থন হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে প্রার্থীর জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, বিলবোর্ডে প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারসহ নানা বিষয়ে বিধিনিষেধ যুক্ত করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের আইন-বিধান সংস্কার করা হবে। আচরণবিধিতে কী কী সংশোধন আনা হচ্ছে- জানতে চাইলে এ কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রার্থীদের জামানত জমা দেওয়ার সীমা বাড়বে, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে না, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ সমর্থনের বিধান থাকছে না, পোস্টার থাকছে না, ইভিএমের ব্যবহার থাকছে না, পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান থাকছে না।ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে চার হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে তিন হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে আরও ৩৪৯টি। ৪৭৭টি আইনি জটিলতা, মেয়াদপূর্ণ না হওয়াসহ নানা কারণে অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সে হিসাবে দেশে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় দেশের উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।নতুন উপজেলাগুলো হলো— বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে।এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে আরও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।
৩ মাস ২৩ দিন আগে

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আলোচনা ছড়িয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন আবারও স্থগিত। নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ রিটের শুনানি শেষে দুপুর নাগাদ হাইকোর্ট থেকে রায় আসল ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন ৬ মাসের জন্য স্থগিত। খুশিতে আটখানা এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বধীন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল। কারণ সেই রিটের বাদি ছিলেন তিনি নিজে। রায়ে বিমর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল সেই রায় ঠেকাতে গেলেন চেম্বার জজ আদালতে। দুপুরেই আদালত শুনলেন দু‘পক্ষের বক্তব্য। শুনানি শেষে বিকাল না গড়াতেই রায় আসল হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার! তবে পরবর্তী শুনানির জন্য ৮ জুন সময় বরাদ্দ রেখেছেন আদালত।কিন্তু চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনের সর্বশেষ তারিখ ২৩ মে। মানে দাঁড়ালো যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে উচ্চ আদালতের কোন বাধা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশন শাখা আদেশ দিল চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন যথাসময়েই হচ্ছে। সুষ্টু নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশও দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের আদেশ পেয়ে তড়িঘড়ি করে বিকাল ৪ টায় চেম্বারের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নির্বাচনের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন বোর্ড। যেখানে ১৫০ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের নির্বাচন পর্ববেক্ষণ বোর্ড।চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম বলেন, ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আদালতের রায় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করছি। নির্বাচন হবে ১৮ পরিচালক পদে।গত ১৮ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল, বর্তমান শিডিউলেই নির্বাচন হবে। আর ভোটাররা শুধু অর্ডিনারি ও এসোসিয়েটস গ্রুপের ১৮ পরিচালক পদেই ভোট দেবেন। বাকি ট্রেড ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনের ৬ পরিচালক পদে ৬ জন প্রার্থী তাই সেই দুটি শ্রেণিতে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। এই ৬ পদে আমিরুল হকের নেতৃত্বধীন প্যানেলের ৬ চেম্বার পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পথে আছেন।চেম্বার জজ আদালতের রায়ের পর শেষপর্যন্ত এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন প্যানেল নির্বাচনে থাকবেন কিনা জানতে বেশ কবার ফোন দেয়া হয় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হককে কিন্ত সাড়া মিলেনি।এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হক জানালেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তা আমরা সবসময়ই মেনে চলেছি। আমরা তৃণমুল ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত চেম্বার নেতৃত্ব সবসময় চেয়েছি। এখনও সেই নীতিতেই আছি।
৪ মাস ৮ দিন আগে
মামলার পর মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার মতো নানা টানাপোড়েন শেষে আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। নগরীর আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান চেম্বারের যুগ্মসচিব নুরুল আবসার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার পরিচালক মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। অর্ডিনারী ও এসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ২৩ মে শনিবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) পুনরায় তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেয় এফবিসিসিআইর সালিশি ট্রাইব্যুনাল। একই আদেশে ২০২৫-২০২৬ এবং ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনী তফসিল বাতিল ঘোষণা করা হয়।গত ২২ এপৃল এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য ছায়েদ আহম্মদ ও এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের ১১ আগস্ট ঘোষিত তফসিলটি আইনগতভাবে সঠিক ছিল না এবং সময়সীমা পার হওয়ায় সেটি কার্যকারিতাও হারিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমসহ সদস্যরা স্বাক্ষরিত এই আদেশে দ্রুত নতুন তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুন তফসিল প্রণয়নে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন হয় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য।এই রায়ের পেছনে ছিল আদালতের সময়সীমা। নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সিভিল পিটিশন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ২৬ এপৃলের মধ্যে বিরোধ নি®পত্তি করতে। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ট্রাইব্যুনাল তাদের সিদ্ধান্ত জানায়।জানা যায়, চেম্বার নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকায় নতুন সংগঠন অন্তর্ভুক্তি এবং আগের তফসিলের বৈধতা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে বিভক্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। যারা দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে ঘোষিত তফসিল বর্তমান বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে আদালত থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।নির্বাচন স্থগিতের নেপথ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থার নেপথ্যে যে নামটি বারবার সামনে এসেছে, তিনি হলেন গার্মেন্টসের পণ্য সরবরাহকারী মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। সালিশী ট্রাইব্যুনালের রায়ে বেলালের এসব কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ অভিহিত করে খারিজ করে দেওয়া হয় আবেদনটি। এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব সালিশী ট্রাইব্যুনালে বেলালসহ তিনজনের আবেদন নি®পত্তি করে উচ্চ আদালতকে অবহিত করতে দেওয়া হয় নির্দেশ। তারপর সালিশী ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে মামলাটির বিষয়ে দেওয়া হয় এই পর্যবেক্ষণ। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে আরো যে বিষয়টি ওঠে আসে, এই আবেদন করার কোনো আইনগত অধিকার নেই বেলালের। আদালতের এরকম পর্যবেক্ষণের পরও মুহাম্মদ বেলালের মন খারাপ হয়নি। তার দাবি, আবেদন খারিজ করলেও আমার প্রকৃত চাওয়া উপলব্ধি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলা খারিজ হয় যেভাবে মামলার নথিপত্র ও ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, নিজেকে চট্টগ্রাম চেম্বারের একজন সাধারণ সদস্য এবং হার্বিস কনভার্টিং লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন মুহাম্মদ বেলাল। তবে মামলার শুনানিতে তার সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে পাওয়া গেছে স্ব-বিরোধী তথ্য। কখনও নিজেকে সাধারণ সদস্য, আবার কখনও একটি নির্দিষ্ট ট্রেড গ্রুপের (চট্টগ্রাম গার্মেন্ট এক্সেসরিজ গ্রুপ) সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। একই ব্যক্তি দুটি ভিন্ন শ্রেণির সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না এই যুক্তিতে তার আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্যারাগ্রাফে বেলালের আবেদন খারিজের কারণ উল্লেখ করেছে। ট্রাইব্যুনাল দেখেছে, টাউন অ্যাসোসিয়েশন বা ট্রেড গ্রুপের যে ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করেছেন বেলাল, নিজে সেই গ্রুপগুলোর সদস্য নন তিনি। ফলে সেখানে তার কোনো সরাসরি আইনি স্বার্থ নেই। এছাড়া বেলাল চট্টগ্রাম চেম্বারের বিরুদ্ধে প্রথম মামলায় নিজের পরিচয় দেন সাধারণ সদস্য হিসেবে। পরে আরেক মামলায় অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রেড গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। এভাবে বারবার পরিচয় পরিবর্তন করে সুবিধা নেয়ার প্রবণতাকে আদালত একই ব্যক্তির দুই শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে করেছেন সমালোচনা।আদালতেও বেলালের ডিগবাজিগত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তার অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য প্রথম আবেদন করেন তিনি। কিন্তু নাটকীয়ভাবে মাত্র তিন দিন পর ২৬ অক্টোবর পুনরায় আবেদন করে জানান, ভুলবশত প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া একই বিষয় নিয়ে তিনি একদিকে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে ১২/২০২৫ নং মামলা করেন, অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগে ১৬৯৭৬/২০২৫ নং রিট এবং আপিল বিভাগে ৫৭/২০২৬ নং লিভ টু আপিল দায়ের করেন।বেলালের উদ্দেশ্য মূলত ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলেন বেলাল। কিন্তু চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড খারিজ করে দেয় তার আবেদনটি। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই উচ্চ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে একের পর এক আইনি লড়াই শুরু করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, চেম্বারের ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী তফসিল নিয়ে। দাবি, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুসরণ না করেই প্রণয়ন করা হয়েছে ভোটার তালিকা। এ অভিযোগের সূত্র ধরেই বারবার থমকে যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া।এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বেলাল বলেন, আমি তো নির্বাচন করছি না। কাকে বাড়তি সুবিধা দিব? কিন্তু বেলালের বড় ভাই এস এম মোহাম্মদ আইয়ুব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন নুরুল হকের ব্যানারে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বেরাচারি আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে চট্টগ্রাম চেম্বারও দখলদারমুক্ত হয়। কিন্তু সেই দখলদাররা শুরু করে মামলা-মামলা খেলা। ফলে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়ে হতে পারেনি চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। সর্বশেষ ঘোষিত শিডিউল অনুযায়ী চট্টগ্রাম চেম্বারে চার ক্যাটাগরিতে ২৪ পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল ৪ এপৃল। আর সেই পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। কিন্তু এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ ২২ এপৃলের রায়ে সেই তফসিল বাতিল করে দিয়েছে নতুন তফসিলে সরাসরি নির্বাচনের নির্দেশনা। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম চেম্বারে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে দুটি প্যানেল। একটি এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্ব ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। আরেকটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সমমনা পরিষদ।
৪ মাস ১০ দিন আগে
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে এর প্রতিবাদে ঘৃণা মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বাধার অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগপন্থি সাধারণ আইনজীবী ফোরাম থেকে সভাপতি প্রার্থী সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবী সমিতি ভবনে বার লাইব্রেরিতে মনোনয়ন ফরম নিতে যান আওয়ামী লীগপন্থী একদল আইনজীবী। তারা এবার সাধারণ আইনজীবী ফোরাম নামে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন ফরম তুলতে আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ভেতর থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আমাদের বাধা দিয়েছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক চেষ্টা করেও সাধারণ আইনজীবী ফোরামের কেউ ফরম সংগ্রহ করতে পারেননিফরম না পেয়ে সাধারণ আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা ভোট চোর, ভোট চোর, তুমি কে আমি কে, আইনজীবী আইনজীবী, ভোট চোরের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে, ভুয়া ভুয়া ¯ে¬াগান দিতে থাকেন। তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে গেলে উভয়পক্ষে উত্তেজনা ও হট্টগোল হয়। পরে তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে আদালত প্রাঙ্গনে ঘৃণা মিছিল করেন বলে জানান আবদুর রশিদ। অভিযোগের বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়া অ্যাডভোকেট রওশন আরা জানিয়েছেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারাই মনোনয়ন ফরম নিতে গেছেন, সবাইকে দেওয়া হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর অনুষ্ঠিত জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগপন্থীদের অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ উঠেছিল। শেষপর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।
৪ মাস ২৫ দিন আগে