চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ জাহাজের ভেতরে থাক মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের বিষক্রিয়া। যা শনাক্ত করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ইয়ার্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাল্টি-গ্যাস ডিটেক্টরের মাধ্যমে জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা। আমাদের সমন্বিত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাহাজ থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড অপসারণ করা হবে।তিনি জানান, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস সাধারণত পানিতে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পানি দিয়ে জাহাজের ভেতরের অংশ ধুয়ে গ্যাস অপসারণ করা হবে।এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ কাটার সময় জাহাজের বদ্ধ অংশে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়।যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো এলএনজি জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের একটি বদ্ধ ট্যাংক বা অংশে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে সেখানে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। দু‘জন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যান। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বদ্ধ স্থানে প্রবেশ করায় উদ্ধারকারীরাও গ্যাসে আক্রান্ত হন।শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ইয়ার্ডে ৩৪ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে থাকা দুই শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধারে অন্য শ্রমিকেরা এগিয়ে গেলে তারাও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে একে একে নয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই মনসুর আহমেদ ও নাসির উদ্দিন রয়েছেন। অন্যরা হলেন সানি দাস, পলাশ দাস, রানা মিয়া, হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, আব্দুল আলিম সুজন ও ১৭ বছর বয়সী মতিউর রহমান সাজ্জাদ।ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের কিছু ট্যাংকে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। গ্যাসমুক্ত না করে জাহাজ কাটার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি ইয়ার্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেন।তবে শনিবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জাহাজে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এখন এই গ্যাসের উৎস, কীভাবে এটি জাহাজের বদ্ধ অংশে জমেছিল এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এক যুগে গেল ১৪৮ প্রাণচট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কিংবা জাহাজভাঙা শিল্পে গত এক যুগে দুর্ঘটনায় ১৪৮ জন নিহত এবং ২৭৯ জন আহত হয়েছেন। একসময় ১৬০টি ছোট-বড় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড থাকলেও বর্তমানে তা কমে ২৩টিতে ঠেকেছে। চালু থাকা ২৩টি ইয়ার্ড গ্রিন হিসেবে স্বীকৃত।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজের (বিলস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। বিলস ডিটিডিএ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, গত ১২ বছরে জাহাজভাঙা শিল্পে ১৪৮ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন ২৭৯ জন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত ৪০।২০২৫ সালে দুর্ঘটনায় চার জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হন। ২০২৪ সালে দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হন। ২০২৩ সালে দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ৭ জন নিহত হন। ২০২১ সালে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ১৩ জন নিহত এবং ৪৩ জন আহত হন। ২০২০ সালে দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন।২০১৯ সালে দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হন। ২০১৮ সালে দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হন। ২০১৭ সালে দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। ২০১৬ সালে দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন। ২০১৫ সালে দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামে এসব জাহাজভাঙা কারখানা বা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গড়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগরের পাড় ঘেঁষে সীতাকুণ্ড উপজেলায়।সর্বশেষ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিষাক্ত গ্যাসে বিষক্রিয়া হয়ে মারা যান ৯ শ্রমিক। যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি পরিবহন করতো। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটে।জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, এ জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ কাটার সময় নানাভাবে শ্রমিক আহত-নিহতের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কেউ কাজ করার সময় রাডার ভেঙে পড়া, ম্যাগনেটের হুক লাগাতে গিয়ে আহত, অগ্নি দুর্ঘটনা, ভারী লোহার খণ্ড পড়া, অক্সিজেন টিউবের জয়েন্ট বিস্ফোরণ, জাহাজ কাটার সময় আগুনের ফুল্কি ছিটকে এবং গ্যাসে বিষক্রিয়ায় আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কয়েকজন শ্রমিক দুর্ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘জাহাজটির এলএনজি ট্যাংক কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। জাহাজের তলায় থাকা একটি ট্যাংক কাটার কাজ চলছিল। শুক্রবার সকালেও শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফোরম্যান সাত-আটজন শ্রমিক ও কাটারম্যান নিয়ে একটি ট্যাংকের চারপাশ গোল করে কাটেন।এরপর সেখান থেকে সরে যান। প্রায় ১০ মিনিট পর গর্তটি পুরোপুরি খোলার জন্য সেখানে গেলে প্রথমে দুই শ্রমিক জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুই শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হন। এরপর কাটিং ফোরম্যান তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। কী ঘটেছে, তা দেখতে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুখে মাস্ক পরে সেখানে যান। তিনিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।’শুভ দাস নামে নিহত এক শ্রমিকের ভাই জানান, আহত শ্রমিকরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাননি। কারখানাটিতে নিজস্ব কোনও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। দুর্ঘটনার পর কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়। মালিক পক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে না নেওয়ার কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।শ্রমিক সংগঠনের দাবি জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, ঝুঁকি নিয়ে জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় সমস্যা হয়ে আছে। আজকের এ দুর্ঘটনার জন্য শিপইয়ার্ড মালিকপক্ষের একার অবহেলা নয়, এখানে তদারকিতে দায়িত্বরত সরকারি অনেকগুলো সংস্থা জড়িত আছে। তাদেরও সমান অবহেলা রয়েছে। কোনও ধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যতীত শ্রমিকরা জাহাজ কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমি মনে করি।নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণবাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সহকারী সচিব নাজমুল ইসলাম বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। যদিও আইনে আছে ৭ লাখ টাকা করে। একইভাবে যারা আহত আছেন তাদের সুচিকিৎসা যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্য চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, একসময় সীতাকুণ্ড ছোট-বড় প্রায় ১৬০টি স্ক্র্যাপ জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড ছিল। বর্তমানে ২৩টি ইয়ার্ড চালু আছে। সবকয়টি গ্রিন শিপইয়ার্ড। এসব ইয়ার্ডে কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।
২ মাস ২৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় লিক হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) অন্তত আরও ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার পথে তিনজন এবং দুই শ্রমিক হাসপাতালে মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৫ জন। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার পর ১০ শ্রমিককে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় গ্যাস লিক হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃুমিরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে ভাটিয়ারী ফেরদৌস স্টিল নামক শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে বলে শুনেছি। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ শ্রমিককে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। একই কথা বলেছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান। তিনি বলেন, আমরা ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছে শুনেছি।তবে ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল নয়টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজে একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়। এতে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে গিয়ে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কয়েকজন। কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় শতাধিক বিক্ষুব্দ লোক ইয়ার্ডে গিয়ে ভাংচুর করেছে। অনেক মালামাল নিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, সীতাকুন্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কাজটি অনিরাপদ পরিবেশে করা হয় বলে অভিযোগ বহুদিনের। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে যারা মারা গেছে ও আহত হয়েছে তারা সবাই ইয়ার্ডের শ্রমিক। বহিরাগত লোক তো ইয়ার্ডে ঢুকতে পারে না। বহিরাগত মারা যাবে কোথা থেকে। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) মতে, সীতাকুন্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে শুক্রবারও গোপনে কাজ চলে। শিপইয়ার্ড মালিকরা শ্রমিকদের দিয়ে যেমন ইচ্ছা তেমন করে কাজ করায়। যা দেখার দায়িত্ব কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই)। কিন্তু তারা তা দেখে না। ফলে শ্রমিকরা ইয়ার্ডগুলোতে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে কাজ করে।
২ মাস ২৫ দিন আগে
ভারত মহাসাগরে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ নৌ সেনাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যমগুলো। বুধবার (১২ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং মেহর নিউজ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া রণতরীটি একটানা প্রায় ২৬৩ দিন ধরে সাগরে মোতায়েন রয়েছে। এতে যুদ্ধজাহাজটিতে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার নাবিকদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও তাদের পরিবারও ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে নাবিকদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপারের একজন উপদেষ্টা বিমানবাহী রণতরীটিতে যান। তবে নাবিকদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া হয় এবং পানির বোতল ছোড়া হয়। এই ঘটনার পর নাবিকদের নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ছুরি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ৭ জন নৌসেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের এই দাবির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগন, সেন্টকম বা নৌবাহিনী পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিলিটারি টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মোতায়েন, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং খাবার ও পানির সংকটের কারণে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের’ নাবিকদের মধ্যে মানসিক অবসাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি কিছু নাবিক জাহাজ থেকে সাগরে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।প্রসঙ্গত, আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে ভারত মহাসাগরে মোতায়েন রয়েছে, যেখানে এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে একটি অবৈধ নৌ অবরোধ কার্যকর করা। জুলাই মাসে ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া, বিমানবাহী রণতরীটি একটানা ২০৮ দিন সমুদ্রে কাটিয়েছে, যা আধুনিক যুগে যেকোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘতম একটানা মোতায়েন।
২ মাস ২৭ দিন আগে
বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার পর ক্যাম্পাসের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। চুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন- ২৪ ব্যাচের অর্ণব চন্দ (২২) ও শান্ত দেব (২৩)। নিহত অর্ণব চন্দ কম্পিউটার ও সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট ও শান্ত দেব থ্রিপলি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী। তারা দুজনই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তাদের দুইজনের বাড়ি সিলেট বলে জানা গেছে। তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ক্যাম্পাসের মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অর্ণব ও শান্ত হলের পাশের পুকুরে গোসল করতে যান। একপর্যায়ে তারা পুকুরের মাঝামাঝি অংশে সাতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর অর্ণবকে এবং ৪৫ মিনিট পর শান্তকে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। গত কিছুদিন আগেও চুয়েটে খেলাশেষে গোসল করতে নেমে আরো এক শিক্ষাথী পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
২ মাস ২৭ দিন আগে
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ট্রাক-পিকআপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা পিকআপ চালক, হেলপার এবং যাত্রী ছিলেন।শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া- নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম লুৎফর রহমান। পেশায় মাছ ব্যবসায়ী লুৎফর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠানো হয়েছে। নিহত বাকিদের নামপরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপ নওগাঁয় মাছ বিক্রি করে ফিরছিল। সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কের কাজিপাড়া এলাকায় অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় নওগাঁগামী মালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক-হেলপার ও দুইজন মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৩ মাস ৭ দিন আগে