ভারত মহাসাগরে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ নৌ সেনাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যমগুলো।
বুধবার (১২ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং মেহর নিউজ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া রণতরীটি একটানা প্রায় ২৬৩ দিন ধরে সাগরে মোতায়েন রয়েছে। এতে যুদ্ধজাহাজটিতে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার নাবিকদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও তাদের পরিবারও ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দিয়ে আসছে।
এ পরিস্থিতিতে নাবিকদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপারের একজন উপদেষ্টা বিমানবাহী রণতরীটিতে যান। তবে নাবিকদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া হয় এবং পানির বোতল ছোড়া হয়। এই ঘটনার পর নাবিকদের নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ছুরি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ৭ জন নৌসেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের এই দাবির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগন, সেন্টকম বা নৌবাহিনী পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিলিটারি টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মোতায়েন, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং খাবার ও পানির সংকটের কারণে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের’ নাবিকদের মধ্যে মানসিক অবসাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি কিছু নাবিক জাহাজ থেকে সাগরে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে ভারত মহাসাগরে মোতায়েন রয়েছে, যেখানে এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে একটি অবৈধ নৌ অবরোধ কার্যকর করা। জুলাই মাসে ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া, বিমানবাহী রণতরীটি একটানা ২০৮ দিন সমুদ্রে কাটিয়েছে, যা আধুনিক যুগে যেকোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘতম একটানা মোতায়েন।