শ্রমিক-কর্মচারীদের রক্ত চুষে খাচ্ছে ফুলকলি!
শ্রমিক ও কর্মচারীদের রক্ত ঝরা ঘামে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে মিষ্টি ও বেকারি পণ্য প্রস্তুত এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস। একে একে গড়েছেন চট্টগ্রামের বাকলিয়া, পটিয়া, নাসিরাবাদ, বায়েজিদ, ঢাকা ও সিলেটে পৃথক ছয়টি পণ্য প্রস্তুতকারী কারখানা। যেখানে কর্মরত আছেন সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী।যাদের গলিত রক্তে রঞ্জিত ফুলকলির পাঁচ মালিকের হাত-মুখ। এরা হলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম, পরিচালক মো. আবসার উদ্দিন, মো. ইউনুচ, মো. ফরিদ ও মো. মুজিবুর রহমান। দিনে দিনে গিলে খাওয়া শ্রমিকদের রক্তে বাড়ছে তাদের ভূঁড়ি, ফুলে কলাগাছ হচ্ছে আঙুল।ফলে মো. শাহ আলম ও নিজের দুই সন্তান মিলে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ও সিলেটে ফুলকলির আদলে গড়ে তুলেছেন শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম চুষার আরো দুটি কারখানা। যার নাম পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস। যেখানে অন্তত এক হাজারের মতো শ্রমিক-কর্মচারীর রক্ত ঝরা ঘামে প্রতিদিন প্রস্তুত হচ্ছে কোটি টাকার মিষ্টি ও বেকারি পণ্য। যা বিপণন করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের মুনাফা।আর এসব পণ্য টাকার বিনিময়ে কিনে পেট পুড়ে খাচ্ছেন ভোক্তারা। যারা জানেনই না ফুলকলি ও পিউরিয়ার মালিকপক্ষের রাক্ষুসে চরিত্রের কথা। জানেন শুধু রক্ত পানি করে সামান্য মজুরী ভোগী শ্রমিক-কর্মচারীরা। ভোক্তা অধিকার, জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর স্ব-স্ব আইনে বিভিন্ন সময়ে ফুলকলি ও পিউরিয়ায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের রক্ত চুষার আকুতি কোনো সময় কানে পৌছায়নি কারও।এমন অভিযোগ শ্রমিক ও কর্মচারীদের। তাদের ভাষ্য, চলতি বছরের শেষের দিকে বিষয়টি নজরে আসে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের। তদন্ত শেষে শ্রমিক-কর্মচারীদের রক্ত চুষার প্রমাণ পেয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফুলকলির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর দ্বিতীয় শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। মামলা নং-৬৬/২৬গত রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) জান্নাতুর রাহেলা। তিনি বলেন, গত জানুয়ারি মাসে ফুলকলির বাকলিয়া কারখানা পরিদর্শনের পর থেকে শ্রমবিধি লংঘনের বিষয়টি সংশোধনের নিমিত্তে ফুলকলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক বরাবরে একাধিকবার তাগিদপত্র ও সময় দিয়েও কোন সাড়া মেলেনি।ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা দায়ের করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর দ্বিতীয় শ্রম আদালতে। বিষয়টি এখন সুরাহা হবে আদালতের মাধ্যমে। সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সুফল পাবেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারীরা।সূত্র মতে, কোম্পানি আইনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিতে শ্রমবিধি অনুযায়ী মজুরী কাঠামো থাকলেও ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও সেই বিধি অনুসরণ করেননি মালিকপক্ষ। সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের খাটিয়ে মজুরীর নামে রক্ত চুষে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা শ্রম দেওয়ার নিয়ম থাকলেও চুক্তিভিত্তিক মজুরীতে ১০-১২ ঘন্টা পর্যন্ত শ্রম দিয়ে থাকেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।এরপরও কোন দিন অসুস্থতা বা কোন কারণে যদি কাজ করতে না পারেন, সেদিন ওই শ্রমিক মজুরী পান না। অর্থাৎ নো ওয়ার্ক, নো পে ভিত্তিতে শ্রম দিচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। শ্রমিক-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটিও নেই। সাপ্তাহিক ছুটি কাটালে সেদিনের মজুরী বা বেতন মিলে না। এমনকি মে দিবসেও মিলে না কোন ছুটি।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর মিষ্টি এন্ড বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং- চট্টঃ ১৬৭৮) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ চলতি বছরের ২৭ এপৃল ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রেরণ করেন। এতে মহান মে দিবসে স্ব-বেতনে সরকারি ছুটি প্রদান ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।স্মারকলিপিতে বলা হয়, ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসে শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা বাস্তবায়ন নাই। প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, পরিচয় পত্র, সার্ভিস বই প্রদান করা হয় না। শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য ও আইন স্বীকৃত ছুটি প্রদান করা হয় না। অতিরিক্ত কাজে দ্বিগুণ মজুরী, বাৎসরিক অর্জিত ছুটির পাওনা নগদায়ন করা হয় না। সরকার ঘোষিত ন্যুনতম মজুরী বাস্তবায়ন নাই, প্রভিডেন্ড ফান্ড (পিএফ) ও কল্যান তহবিল চালু করা হয় নাই।অর্থাৎ শ্রমিক কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা প্রদান করা হয় না। সেই সাথে কল্যান তহবিল গঠন বাধ্যতামূলক হলেও এই প্রতিষ্ঠানে কল্যান তহবিল নাই। প্রতিষ্ঠানের কোনো শ্রমিক-কর্মচারী চাকুরি হতে অবসর নিলে বা স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করিলে বা মালিক কর্তৃক চাকুরীচ্যুত হলে আইনানুগ ক্ষতিপূরণ বা সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করা হয় না। সুতরাং উপরোক্ত সুবিধাদি বাস্তবায়ন/প্রদান না করা শ্রম আইনের চরম লংঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।স্মারকলিপিটি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক. শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার এবং ফুলকলির তিনটি কারখানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাবরে অনুলিপি প্রদান করা হয়। আর এই স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে বাকলিয়ায় অবস্থিত ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস কারখানা পরিদর্শন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শকরা। তবে পরিদর্শনের বাইরে থেকে যায় পটিয়া, নাসিরাবাদ, বায়েজিদসহ ফুলকলির অন্য কারখানাগুলো।পরিদর্শন শেষে গত ১৭ আগস্ট ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক/ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী মো. শাহ আলম, পরিচালক মো. ইউনুচ, মো. আবসার উদ্দিন এবং মহাব্যবস্থাপক এম এ সবুরকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর ধারা/বিধি লংঘন ও সংশোধনের বিষয়ে তাগিদপত্র প্রেরণ করা হয়। যার স্মারক নং-৪০.০১.১৫০০.০০০.০০০.১৬.০০০১.২৫.২৭৪;তাগিদপত্রে যা আছেতাগিদপত্রে বলা হয়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকগণ ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লি, শাহ আমানত সংযোগ সড়ক, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম-কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ কারখানায় মোট শ্রমিক সংখ্যা দেখানো হয় ১৫০ জন। কিন্তু কারখানাটিতে কর্মরত রয়েছেন ৫শ‘রও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী। পরিদর্শনকালে পরিলক্ষিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও বিধির লংঘনসমূহ সংশোধনের নিমিত্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ বরাবর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকারী রেজিস্টার্ড ডাকযোগে সূত্রোক্ত পত্র (কপি সংযুক্ত) প্রেরণ করা হয়।উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ অদ্যাবধি নিরুত্তর রয়েছেন এবং লংঘন সংশোধনের কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কি না তা অত্র দপ্তরকে অবহিত করেন নাই। তারই প্রেক্ষিতে উপমহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক গত ৪ আগস্ট তারিখে নিম্নস্বাক্ষরকারী পরিদর্শকগণ পুনরায় সরেজমিনে ফলোআপ পরিদর্শন করা হয়।পরিদর্শনকালে দেখা যায় ২৩ ফেব্রুয়ারি অত্র দপ্তর কর্তৃক বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালার আওতায় যে লংঘনসমূহ সংশোধনের লক্ষ্যে নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল মালিকপক্ষ কর্তৃক উক্ত লংঘনসমূহ অদ্যাবধি সংশোধন করা হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয়, কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রচলিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালা'র প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন।এছাড়া ৪ আগস্ট তারিখে নিম্নস্বাক্ষরকারী পরিদর্শকগণ কর্তৃক পুনরায় সরেজমিনে ফলোআপ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালার আওতায় নিম্নলিখিত আরো কয়েকটি লংঘন সংশ্লিষ্ট শ্রম পরিদর্শকগণের দৃষ্টিগোচর হয়। যা শ্রম আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা, বৃদ্ধাঙ্গুলি ও ধৃষ্টতা প্রদর্শনের সামিল।শ্রম আইনের লংঘিত বিষয়ধারা-৫১ বিধি-৪০,৪১,৪২,৪৩,৪৪ প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য সম্মত ও সকল প্রকার দুর্গন্ধমুক্ত উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য সম্মত ও সকল প্রকার দুর্গন্ধমুক্ত উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ৩ ধারা-৭২, ৬২(৩), ৬২(৩ক), ৬২(৩খ) বিধি-৫৪(১),৫৪(২), ২০ জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তির কর্মস্থানযুক্ত কক্ষসমূহে কমপক্ষে দু'টি করে বহির্গমন পথ রাখা হয়নি। ২০ জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তির কর্মস্থানযুক্ত কক্ষসমূহে কমপক্ষে দু'টি করে বহির্গমন পথ এবং উক্ত বহির্গমন পথ, চলাচলের পথ, সিঁড়ি ও মেঝেসমূহ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখতে হবে।ধারা-৬২(৪), ৬২(৫) বিধি-৫৫ (৮) জরুরী বহির্গমন পথ ও দরজাসমূহ ¯পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি, এবং বহির্গমন পথের নকশা প্রয়োজনীয় স্থানে প্রদর্শন করা হয়নি। জরুরী বহির্গমন পথ ও দরজাসমূহ ¯পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি, এবং বহির্গমন পথের নকশা প্রয়োজনীয় স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ধারা-১০৪ বিধি-১০১,সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করানোর প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের আইনের ক্ষেত্রমত ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি দেওয়া হয় না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করানোর প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের আইনের ক্ষেত্রমতে পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি দিতে হবে।ধারা-১০৮ বিধি-১০২,আইনের বিধান মোতাবেক অতিরিক্ত কাজের হিসাব ও উহার ভাতা পরিশোধ করা হয় না। আইনের বিধান মোতাবেক অতিরিক্ত কাজের হিসাব ও উহার ভাতা পরিশোধ করতে হবে। ধারা-১৪৮, ধারা-১৪৯ বিধি-১১১, বিধি-১৩৩, সরকার নির্ধারিত নিুতম মজুরীর হার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার কর্তৃক ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নিুতম মজুরীর হার বাস্তবায়ন করতে হবে।১১,১৯,২০,২২, ২৩,২৬,২৭ ০৫ ৬১, ৬২ ৫৮ (২) (৮) (১০) ০৬ ৬২(৮) ৫৫(১৪) ०१ ৮০(৩) ৭৩ ০৮ ১১১, ১১ ৩৩৫, ১০৫ ০৯ ১১৮ ১১০(২) শ্রমিক ছাঁটাই, মৃত্যু, ডিসচার্জ এবং চাকুরি হতে অবসর বা অবসান করার ক্ষেত্রে শ্রম আইনও বিধি অনুসরন করা হয় না। সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে গ্রহনকৃত বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এর উপযুক্ততা সনদ এবং মেয়াদান্তে কারখানা। প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ আর্থিং ও ওয়্যারিং পরীক্ষার করে ফলাফলসহ প্রত্যয়ন প্রদর্শন করতে পারেন নাই।পঞ্চাশ বা ততোধিক শ্রমিক/কর্মচারী সম্বলিত কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে প্রতি ৬ মাসে অন্ততঃ একবার নিয়মিত অগ্নিনির্বাপন মহড়ার আয়োজন করা এবং এই বিষয়ে মালিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় একটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ করার আপডেট দলিলাদি পাওয়া যায়নি। শ্রম বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে দূর্ঘটনা সংক্রান্ত লিখিত বিবরণের একটি কপি মালিক প্রত্যেক বৎসর ৩০শে জুন এবং ৩১শে ডিসেম্বর এর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করার যথাযথ তথ্যাদি দেখাতে পারেন নি। প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক ও কর্মচারীদের কাজের সময়ের নোটিশ অনুমোদন গ্রহণ করেন নাই এবং প্রকাশ্যে স্থানে লটকানো নাই। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক যথাসময়ে উৎসব ছটির মঞ্জুরকৃত কপি দেখাতে পারেন নি।যা প্রদর্শন করতে হবেশ্রমিক ছাঁটাই, মৃত্যু, ডিসচার্জ এবং চাকুরি হতে অবসর বা অবসান করার ক্ষেত্রে শ্রম আইন ও বিধি অনুযায়ী গত ৫ বছরের তথ্য অত্র দপ্তরে প্রদান করতে হবে। উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের সঠিকত্ব সনদ গ্রহণ করতঃ এসবের নিয়মিত পরীক্ষা মালিক কর্তৃক করানোর ডকুমন্টে উপস্থাপন করতে হবে। পঞ্চাশ বা ততোধিক শ্রমিক-কর্মচারী সম্বলিত কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে প্রতি ৬ মাসে অন্ততঃ একবার নিয়মিত অগ্নিনির্বাপন মহড়ার আয়োজন করা এবং এই বিষয়ে মালিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় (শ্রম বিধির ফরম ২২ক অনুযায়ী) একটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ করার বিগত ৩ বছরের দলিলাদির ফটোকপি দাখিল করতে হবে।শ্রম বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে দূর্ঘটনা সংক্রান্ত লিখিত বিবরণের একটি কপি মালিক প্রত্যেক বৎসর ৩০শে জুন এবং ৩১শে ডিসেম্বর এর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করার যথাযথ তথ্যাদির কপি দেখাতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক কর্মচারীদের কাজের সময়ের নোটিশ অনুমোদিত হতে হবে এবং উহা প্রকাশ্যে স্থানে লটকানো থাকতে হবে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক যথাসময়ে উৎসব ছটির মঞ্জুরকৃত কপি দেখাতে হবে।১৯ (৪) (৫) সকল শ্রমিকের জন্য মালিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারী গণকে বিধি মোতাবেক নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি এবং নির্ধারিত ফরম-৬ মোতাবেক ছবিসহ পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয় নাই। মালিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারী গণকে নির্ধারিত ফরম-৬ মোতাবেক ছবিসহ পরিচয়পত্র সরবরাহ করতে হবে। ৬.৭,৮ ২১, ২২ সকল শ্রমিকের জন্য নির্ধারিত ফরম ৭ অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য সার্ভিস বইতে সময় সময় প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে শ্রমিক ও মালিকের স্বাক্ষর সংরক্ষন করা হয় নাই। নির্ধারিত ফরম ৭ অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য সার্ভিস বইতে সময় সময় প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে শ্রমিক ও মালিকের স্বাক্ষর সংরক্ষন করতে হবে।১০, ১১৫, ১১৬, ১১৭ ২৪, ১০৮(১) ৯ নং ফরমে মালিক কর্তৃক নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য ছুটির রেজিস্টার ও ছুটির বহি সংরক্ষন করা হয় নাই এবং অর্জিত ছুটির বার্ষিক নগদায়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রদর্শন করতে পারেন নাই। ৯ নং ফরমে মালিক কর্তৃক নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য ছুটির রেজিস্টার ও ছুটির বহি সংরক্ষন করতে হবে এবং অর্জিত ছুটির বার্ষিক নগদায়ন সংক্রান্ত তথ্য অত্র দপ্তরে দাখিল করতে হবে।১০ ১২১ ১১১(১) (৩) ১১ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর ফরম-৩৮ মোতাবেক শ্রমিক ও কর্মচারীদের মজুরী স্লিপ প্রদান এবং মজুরি রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয় না। ২৩২-২৩৪ ১২ কো¤পানীর মুনাফায় শ্রমিক ও কর্মচারীর অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে মুনাফার নির্ধারিত অংশ জমাদানের কপি দেখাতে পারেন নি।কো¤পানীর মুনাফায় শ্রমিক ও কর্মচারীর অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে মুনাফার নির্ধারিত অংশ জমাদানের কপি দেখাতে হবে।৩২৬ ৩৫৩, ৩৫৪ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে হালনাগাদ কারখানার মেশিন লে আউট প্লান অনুমোদন নেই। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর হালনাগাদ কারখানার মেশিন লে আউট প্লান অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।এমতাবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর আওতায় পূর্বে (০৫/০১/২০২৬ খ্রিঃ) প্রাপ্ত লংঘন ও ০৪/০৮/২০২৬ তারিখে ফলোআপ পরিদর্শনে প্রাপ্ত সকল লংঘন দ্রুত সংশোধনের জন্য পুনরায় ১৫ দিনের সময় দিয়ে মালিক বরাবর সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা (ঈড়ৎৎবপঃরাব অপঃরড়হ চষধহ/ঈঅচ)" আকারে এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।এ অবস্থায় 'সংশোধনমূলক কর্ম পরিকল্পনা'র বর্ণিত লংঘনসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদত্ত সুপারিশ মোতাবেক সংশোধন ও হালনাগাদ সংরক্ষণ করার জন্য এবং বাস্তবায়নের প্রমাণকসমূহ (সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, রেজিস্টার, ছবি ইত্যাদি) আইনানুগ পরীক্ষা নিরীক্ষার নিমিত্ত বাংলাদেশ শ্রম আইন ৩১৯(৩) ধারা মোতাবেক অত্র দপ্তরে দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে বলা হলো। ব্যর্থতায় আর কোনো পত্রালাপ ব্যতিরেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মাননীয় শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।এই তাগিদপত্রে স্বাক্ষর করেন জান্নাতুর রাহেলা ও মো. জালাল খাঁন শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) নম্বর: ৪০.০১.১৫০০.০০০.০০০.১৬.০০০১.২৫.২৭৪/১ (২) তারিখ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। এই তাগিদপত্রের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক বরাবরে প্রেরণ করা হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহ আলম মুঠোফোনে বলেন, আদালতে মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পরিচালক আবসার উদ্দিন ও জিএম সবুরের সাথে কথা বলেন। এরা বিষয়গুলো দেখে।আর এ বিষয়ে ফোন করা হলে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের পরিচালক মো. আবসার উদ্দিন বলেন, আমি অসুস্থ। এ বিষয়ে এখন কোন কথা বলতে পারছি না। সুস্থ হলে বলব। এর আগে সরাসরি সাক্ষাতে এ বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, এখানে শ্রমিক-কর্মচারীরা সরকারি বিধি অনুযায়ী ন্যায্য মুজুরী পাই। কাউকে ঠকানো হয় না। আর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণ হলো কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য ও মামলা দায়েরের ঘটনায়।তবে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এম এ সবুর বলেছেন, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের সঙ্গে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের যোগাযোগ রয়েছে। শ্রম বিধির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে জানতে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের পরিচালক মো. ইউনুচ ও মো. মজিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপ-মহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান বলেন, ফুলকলির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং-৬৬/২৬। ফলে এ নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। কারণ বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভূক্ত। আদালতের রায়ে নিশ্চয়ই শ্রমিক-কর্মচারীরা বিধি মোতাবেক তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।(বি: দ্র : শুধু শ্রম বিধি লংঘন নয়, পরিবেশ দুষণ, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য প্রস্তুতকরণ, নিষিদ্ধ রাসায়নিকের ব্যবহার, বিপণনে অনিয়ম, অননুমোদিত পণ্যে বিএসটিআইয়ের ভুয়া লগো ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য প্রস্তুত, অপ্রতুল অগ্নিনির্বাপন, গ্যাস ও পানি চুরিসহ নানা ধরণের অনিয়ম ও দূর্নীতিতে লিপ্ত ফুলকলির মালিকপক্ষ। যার মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন মালিকরা। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দৈনিক ঈশান। এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সরবরাহে প্রিয় পাঠকদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। তথ্য দাতার পরিচয় গোপনীয় হিসেবে গণ্য হবে)