মালয়েশিয়ায় দেহব্যবসার মূলে বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী, আটক ২৩
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেহব্যবসা সিন্ডিকেটের মূল হোতা বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রীসহ ২৩ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জনসাধারণের দেওয়া গোপন তথ্য এবং সিন্ডিকেটটি সম্পর্কে দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এবং জালান গেলুগোর এলাকার দুটি ভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। আর এই চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা একজন বাংলাদেশি পুরুষ এবং তার স্ত্রী একজন থাই নারী। এছাড়াও স্থানীয় এক মালয়েশিয়ান নাগরিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করত। ধারণা করা হচ্ছে, সিন্ডিকেটটি গত দুই মাস ধরে এই তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া আরও জানান, যাচাইয়ে দেখা গেছে যে আটককৃত কারো কাছেই বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস ছিল না। অভিযানে আটতকৃতদের কাছ থেকে কর্মকর্তারা চারটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি থাই পাসপোর্ট, একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, কনডম এবং নগদ ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত জব্দ করেছেন, যা দেহব্যবসা থেকে অর্জিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, এই চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তাদের অনৈতিক কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন দিত। এর মাধ্যমে তারা আবাসিক চত্বরের ভেতরে থাকা গ্রাহকদের আকর্ষণ করত, যাদের একটি বড় অংশই হলো ক্ল্যাং ভ্যালিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী।তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটককৃত ওই বিদেশি দম্পতি (বাংলাদেশি পুরুষ ও থাই নারী) সেখানে কর্মরত কর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের জিম্মায় রেখে দিত। নারী কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রেখে তাদের গতিবিধি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হতো এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।